বাড়ছে ক্লিক বাণিজ্য, বেআইনি আউটসোর্সিংয়ে জব্দ হচ্ছে সাইট

ইমরান হোসেন মিলন, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : চটকদার শিরোনাম ও আকর্ষণীয় ছবি দেখে লিংকে গেলেন। আসল ঘটনা জানতে আরও কয়েকটি ক্লিক করতে হলো। এরপরও মূল জিনিস অজানাই থেকে গেল। কেননা আপনি তখন হয়ত পৌঁছে গেছেন ‘নিষিদ্ধ’ কােনো ওয়েসবাইটে। এ ফাঁকে অবশ্য বেশ ক্লিক বাণিজ্যে পকেট গরম হয়ে গেছে অন্য কারও।

ব্যাপারটা যে কয়েকটি ক্লিকেই শেষ হয় এমনও নয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ভেসে আসা অনেকটাই নিখুঁত সম্পাদনার ছবি বা ভিডিও দেখতে প্রায়ই নিজের ই-মেইল ঠিকানাও জানাতে হয়। যারা এ ফাঁদে পা দেন, তারা নিজের অজান্তে তার ই-মেইলকেও অবৈধ এসব ফ্রিল্যান্সারদের ব্যবসার হাতিয়ার বানিয়ে দিলেন।

এই বেআইনি কাজকেই তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ‘ফ্রিল্যান্সিং’ কিংবা ‘আউটসোর্সিং’ হিসেবে প্রচার করে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়াতে কাজ করছে একটি চক্র। বিভ্রান্ত হয়ে নগদ লাভের আশায় এ পথে পা বাড়াচ্ছেন অনেকেই। তবে শেষ পর্যন্ত খুব একটা সুবিধা করতে পারছেন না গুগল ও সাইবার নিরাপত্তাদানকারী প্রতিষ্ঠান এসব ওয়েবসাইট জব্দ করে দেওয়ায়। এতে ফ্রিল্যান্সিং পেশা নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠছে ‘আসল-নকলের’, তেমনি ক্ষতি হচ্ছে দেশের আউটসোর্সিং খাতের।

Illigal-outsourching

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ফেইসবুক ব্যবহার করেই এসব লিংক ছড়ানো হয়। বিভিন্ন গ্রুপে স্প্যামিং করা হয় আকর্ষণীয় ছবি কিংবা ভিডিওর এসব লিংক। বানানো খবর পরিবেশন করেও অশ্লীল ছবি বা ভিডিওর শেয়ার করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশে বেশকিছু সাইটও এ ধরনের বেআইনি আউটসোর্সিংয়ে জড়িয়ে পড়ছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে পেপারসবিডি ডটনেট, আপটুবিডি ডটকম, ম্যাঙ্গোটল ডটকম, সুব্রত ডটকম, নিউজআপডেট২৪বিডি ডটকম, ডিএলনিউজ২৪ ডটকম, বিডিটিপসঘর ডটকম, হটসেলব ডটকম, এইজীবন ডটকম, ডেইলিহেরথটিউনস ডটকমের মতো অসংখ্য সাইট।

এগুলোর বেশিরভাগই দেখা যায় দু-তিন মাস কাজের পর জব্দ হয়ে যায়। ইদানিং এমন ওয়েবসাইট জব্দ হওয়ার সংখ্যাও বাড়ছে। চক্রটি তখন আবার নতুন ওয়েবসাইট তৈরি করে।

অনেক ক্ষেত্রে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রেও অনেকে মৌলিক কনটেন্টের বদলে কপি পেস্ট করে কাজ করেন। ইউটিউবি চ্যানেলও অন্যের ভিডিও দিয়ে মার্কেটিং বা আয়ের চেষ্টা চালান। তবে কিছু দিন পরেই তা ধরা পড়ে যাওয়ায় সাইট বন্ধ হয়ে যায়।

illegal outsourcing-techshohor

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, চটকদার শিরোনাম দেখে এগুলোতে ঢুকলেও শিরোনামের সঙ্গে কোনো মিল থাকছে না। আরও কয়েক ক্লিকের পর মেলে কোনো পর্ন সাইটের ঠিকানা। এটুকুতেই অবশ্য কাজ হয়ে যায় ওই চক্রের।

সংশ্লিষ্টদের মতে, কেননা একদিকে আপনার অ্যাকটিভিটির ওপর নির্ভর করে ফেইসবুক আবারও ওই ব্যক্তির আইডি থেকে শেয়ার করা নতুন লিংক যেমন ওয়ালে দেখায়, তেমনি চক্রটি ই-মেইল ও ক্লিক থেকে আয় করে ফেলে নিমিষেই।

তবে কাজটিকে সরাসরি বেআইনি (ই-লিগ্যাল) আউটসোর্সিং বলছেন ফিল্যান্সিং পেশায় যুক্ত ব্যক্তিরা। মূলত কিছু ব্যক্তি টাকার লোভ দেখিয়ে তরুণদের এ কাজে ভিড়িয়ে অশ্লীল ছবি বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে।

বিষয়টি অনেক দিন থেকে নজরে রেখেছেন এমন অনেকের অভিযোগ, একটি সক্রিয় চক্র রংপুর ও দিনাজপুর থেকে এ কাজ বেশি মাত্রায় করছে। তবে সম্প্রতি চক্রটি ঢাকাসহ অন্যান্য এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়েছে।

এ বেআইনি আউটসোর্সিং করা হচ্ছে সিপিএ বা কস্ট পার অ্যাকশনের সুবিধা কাজে লাগিয়ে। এর মাধ্যম প্রতি ক্লিক থেকে অর্থ আয় হয়। ক্ষেত্র বিশেষে একটি ভিডিও একবার দেখা হলেই ৭০-৮০ সেন্ট পর্যন্ত আয় হয়।

আবার দেখা যায় প্রকৃত ই-মেইল আইডির বিপরীতে এক ডলার সমপরিমাণ অর্থও হাতিয়ে নিচ্ছে ওই চক্র।

একটি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী রাফায়েত হোসেন রাফু টেকশহরডটকমকে বলেন, ওই চক্রটি টার্গেট করে উঠতি বা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়া তরুণদের। ফ্রিল্যান্সিং কাজ দেবে বলে চক্রটি গোপনে কিছু ফটোশপ ও লিংক কপি-পেস্টের কাজ শেখাচ্ছে।

মূলত সাইটে ট্রাফিক বাড়ানো ও বিভিন্ন পণ্যের বিজ্ঞাপন দেখানো তাদের উদ্দেশ্য। এ ছাড়াও ভিজিটরদের ই-মেইল আইডি নেওয়াও একটি উদ্দেশ্য থাকে বলে জানান রাফায়েত।

সাইবার সিকিউরিটি নিয়ে কাজ করা এ নির্বাহী বলেন, গোপনে কাজ করতে ব্রাউজার হিসেবে ভিপিএন বা প্রক্সি আইপি ব্যবহার করে তারা। মার্কেটিং পলিসি হিসেবে সিপিএ, এসইওর পাশাপাশি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংও কাজে লাগায়।

অনলাইন পেশাজীবীদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্টারনেট প্রফেশনাল কমিউনিটির (বিআইপিসি) সাবেক আহবায়ক আবুল কাশেম টেকশহর ডটকমকে বলেন, “এ ধরনের কাজকে ‘গ্রে মার্কেটের’ সঙ্গে তুলনা করা হয়। তবে এটা সম্পূর্ণ ই-লিগ্যাল কাজ। এক ধরনের ক্রাইমও বলা চলে।”

Illigal-outsourching2

ফ্রিল্যান্সিং ও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে অভিজ্ঞ এ ফ্রিল্যান্সার বলেন, সরকারের সঙ্গে মিলে যখন দেশে ফ্রিল্যান্সিং পেশার একটা ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে। তখন ফ্রিল্যান্সিংয়ের নামে এ ধরনের বেআইনি কাজ মেনে নেওয়া যায় না।

বিডিহায়ারের প্রধান নির্বাহী কাশেম বলেন, যেসব এলাকায় এটা হচ্ছে সেখানকার প্রসাশনকে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে প্রযুক্তি খাতের ফ্রিল্যান্সিং পেশার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে বাধ্য।

আউটসোর্সিং কাজের দেশীয় মার্কেটপ্লেস বিল্যান্সারের প্রতিষ্ঠাতা শফিউল আলম বলেন, অনেকেই এটিকে আউসোর্সিং হিসেবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এটা আউটসোর্সিং বা ফ্রিল্যান্সিং নয় বরং সম্পূর্ণ অবৈধ এক কাজ। এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে এখনই ব্যবস্থা না নিলে দেশের ফ্রিল্যান্সিং খাতে নেতিবাচক প্রভাব জোরালো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন: 

বিশ্বসেরা হওয়ার প্রত্যয়ে দ্বিতীয় বছরে মার্কেটেভার

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দ্বিতীয় বর্ষে পা দিল অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে কাজ করা দেশীয় উদ্যোগ মার্কেটেভার। এক বছর আগে অ্যামাজনে বিক্রির জন্য দেওয়া পণ্যের গুণগত মানের রিভিউ, ওয়েবসাইট রিভিউ ও সফটওয়্যার তৈরির কাজ শুরু করে মার্কেটেভার।

মঙ্গলবার পথচলার এক বছর পূর্ণ করল মার্কেটেভার। এক বছরের ব্যবধানেই মার্কেটেভার প্রযুক্তিপ্রেমীদের কাছে পরিচিত ও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

ইতোমধ্যে স্থানীয়ভাবে অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মিটআপ নামে কয়েকটি অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে মার্কেটেভার। শিগগিরই আন্তর্জাতিক পরিসরে অ্যাফিলিয়েট মিটআপ করা হবে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা আল আমিন কবির।

marketever

মার্কেটেভার অ্যাফিলিয়েটে আগ্রহীদের শুধু কর্মশালার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের সহযোগিতা এবং কাজের জন্য প্রয়োজনীয় রিসোর্সেরও যোগান দেয়।

এ ব্যাপারে আল আমিন কবির জানান, মার্কেটেভারের পোর্টফোলিওকে আরও সমৃদ্ধ করার চেষ্টা চলছে। এক বছর খুব বেশি সময় নয়। দেশের তরুণদের এ বিষয়ে জানাতেও নানা চিন্তাভাবনা চলছে।

তিনি আরও জানান, আশার কথা, দেশে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে আগ্রহী তরুণদের সংখ্যা অনেক। তারা কাজও করছে। সবাই মিলেই বিশ্ববাজারে মার্কেটেভারকে প্রথম সারিতে নিয়ে যেতে চান বলেও জানান আল আমিন কবির।

মার্কেটেভার আগ্রহীদের জন্য অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে বাংলায় টিউটোরিয়ালও তৈরি করেছে। টিউটোরিয়ালগুলো আজনরকস্টার নামে পাওয়া যায়।

ইমরান হোসেন মিলন

ল্যাপটপ মেলায় অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে কর্মশালা

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো কর্মশালার আয়োজন করছে মার্কেটেভার। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের (বিআইসিসি) মিডিয়া বাজারে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হবে।

‘এডুমেকার ল্যাপটপ মেলা ২০১৫’ উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনার ও কর্মশালার অংশ হিসেবে অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট বাংলাদেশ মিটআপ অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে শুরু হওয়া কর্মশালাটি পরিচালনা করবেন বাংলাদেশে মার্কেটেভারের প্রতিষ্ঠাতা আল আমিন কবির।

ফ্রিল্যান্সিংয়ে মার্কেটপ্লেসে বিশ্বসেরা হতে চায় বাংলাদেশ অ্যাফিলিয়েট মার্কেটাররা। সেই লক্ষ্যে দেশে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে পরামর্শ, দিক-নির্দেশনামূলক কাজ করছে মার্কেটেভার।

amazon affiliate bangladesh

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে কর্মশালাটিতে মোট ১৫০ জন অংশ নিতে পারবেন। তবে কর্মশালায় অংশ নিতে ১০০ টাকার টিকিট প্রয়োজন হবে। বিক্রিত টিকিট থেকে পাওয়া অর্থ দৈনিক কালের কণ্ঠের সাব-এডিটর লতিফুল হকের চিকিৎসায় প্রদান করা হবে।

কর্মশালা আয়োজন নিয়ে আল আমিন কবির বলেন, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে ধারাবাহিক আয়োজনের এটা দ্বিতীয় কর্মশালা। গত মাসের শেষে প্রথম কর্মশালা করেছিলাম আমরা। এছাড়াও ডিসেম্বরে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে আন্তর্জাতিক কর্মশালা করার চিন্তা করছি।

ল্যাপটপ মেলায় তিনটি সেমিনার ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ছাড়াও শুক্রবার বিকেল তিনটায় ‘বিশেষ স্কলারশিপে মালয়েশিয়ায় স্পট অ্যাডমিশন’ এবং ‘ই-কমার্স স্টার্টআপ’ শিরোনামে প্রযুক্তিবিষয়ক প্রশিক্ষণদাতা প্রতিষ্ঠান এডুমেকার সেমিনার দুটি করবে।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে কর্মশালা আয়োজনে সহযোগিতা করছে মেলার আয়োজক এক্সপো মেকার ও টাইটেল স্পন্সর এডুমেকার।

কর্মশালাটির মিডিয়া পার্টনার হিসেবে রয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি ও টেলিকম বিষয়ক অনলাইন নিউজ পোর্টাল টেকশহর ডটকম।

ইমরান হোসেন মিলন

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের ভিডিও টিউটোরিয়াল আনছে মার্কেটেভার

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বিশ্বব্যাপী অনলাইন পেশাজীবীদের মধ্যে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের বিপুল জনপ্রিয়তা রয়েছে। সম্প্রতি আমাদের দেশেও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। তবে এ নিয়ে ভালোভাবে জানাশোনার সুযোগ কম।

আর দেশের আগ্রহীদের জন্য ধারাবাহিকভাবে অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের ভিডিও টিউটোরিয়াল শিগগিরই বাজারে আনার ঘোষণা দিয়েছে মার্কেটেভার। প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিকভাবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটারদের জন্য সফটওয়্যার এবং রিসোর্স তৈরির কাজ করে।

অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে ভিডিও টিউটোরিয়ালের উদ্যোগ এটিই দেশে প্রথম।

marketever

মার্কেটেভার প্রতিষ্ঠাতা আল-আমিন কবির টেকশহরকে জানান, অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে কাজ করার সময় একটা সমস্যা লক্ষ্য করেছি, বাংলায় তো নয়ই, ইংরেজিতেও আমাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে ভাল কোনো স্টেপ বাই স্টেপ ভিডিও টিউটোরিয়াল নেই। এরপর মার্কেটেভার থেকে অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের স্ট্রাটেজি নিয়ে একটা ভিডিও টিউটোরিয়ালের পরিকল্পনা করি।

‘আজন রকস্টার’ নামে আমরা এই অনলাইন ভিডিও লেসন নিয়ে কাজ করছি গত ছয়মাস। কাজ করার সময় একটা জিনিস মাথায় রেখেছি, বাংলাদেশীদের প্রাধান্য দিতে হবে। তাই আন্তর্জাতিক অডিয়েন্সের জন্য ইংলিশ টিউটোরিয়াল করলেও বাংলাদেশীদের জন্য বাংলা সংস্করণ থাকছে।

স্ক্রিপ্ট এবং স্ট্রাটেজি ও ম্যাইটেরিয়াল একই থাকবে, কেবল ভাষা দুটি থাকবে। তবে বাংলা ভাষার সংস্করণটিই প্রথমে রিলিজ করা হবে বলে জানান আল-আমিন কবির।

রেকর্ডিংয়ের কাজ অনেকটাই শেষ। আগামী মাসেই এটি বাজারে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অনলাইন এই ভিডিও প্রশিক্ষণে অংশ নিতে কেমন খরচ হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপাতত একটা সাভর্ে করছি। একই সঙ্গে পুরো কোর্স প্লানে আরও কিছু ভ্যালু যোগ করার চেষ্টা চলছে। এখনও তাই মূল্য নির্ধারণ করা হয়নি।

তবে অনলাইন এই প্রশিক্ষণটির খরচ সবার হাতের নাগালে থাকবে বলে নিশ্চিত করেন তিনি।

‘আজন রকস্টার’ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে এখান থেকে

আহমেদ মনসুর

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং মিটআপ ৩০ অক্টোবর

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেশে দিন দিন বাড়ছে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের বাজার। এই খাত থেকে আয় আরও বাড়াতে প্রয়োজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে সঠিক ধারণা ও জ্ঞান। আর তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে ধারণা ও দিক নির্দেশনা দিতে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট বাংলাদেশ মিটআপ’।

এই মিটআপের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো ভার্চুয়াল থেকে বাস্তবে এই খাত নিয়ে সব ধরনের অভিজ্ঞতা ও স্ট্রাটেজি বিনিময় করবে অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট বাংলাদেশ কমিউনিটি।

৩০ অক্টোবর রাজধানীর মিরপুরে এই মিটআপ অনুষ্ঠিত হবে।

amazon affiliate bangladesh meetup

মিটআপে দেশের শীর্ষস্থানীয় অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিয়াররা আলোচনা করবেন এবং একই সাথে নতুনদের এ সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেবেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে থাকছে র্যা ফেল ড্র, সেলফি কনটেস্টসহ নানা আয়োজন।

মিটআপে বক্তব্য ও অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেবেন মার্কেটএভারের প্রতিষ্ঠাতা আল-আমিন কবির, পেওনিয়ারের বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর রিফাত আহমেদ, এক্সপোনেন্টের প্রতিষ্ঠাতা আবুল কাশেম, ডেভসটিম লিমিটেডের সিইও তাহের চৌধুরী সুমন এবং ইউটিউব মার্কেটিং এক্সপার্ট জাফর হোসেন জাফি।

২১০ টাকা বিকাশ করে সোমবার থেকে নিবন্ধন শুরু হয়। তবে মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে ১২০ আসনে নিবন্ধ শেষ হয়ে গেছে বলে জানান আল-আমিন কবির।

প্রথমবারের মতো অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং মিটআপে পৃষ্ঠপোষকতা করছে পেওনিয়ার। এছাড়াও সহযোগী হিসেবে থাকছে হোস্টমাইট, হাবঢাকা, জিরো ডিগ্রি কমিউনিকেশন, মার্কেটএভার, ক্যাম্পাস ক্যারিয়ার ২৪ ডটকম।

অনুষ্ঠানটিতে মিডিয়া পার্টনার হিসেবে থাকছে দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি ও টেলিকম বিষয়ক নিউজ পোর্টাল টেকশহর ডটকম।আয়োজনটি সরাসরি  দেখা যাবে টেকশহর ডটকম থেকেই।

ইমরান হোসেন মিলন

অ্যাফেলিয়েট মার্কেটিংই ওয়েবের সবচেয়ে স্মার্ট ক্যারিয়ার!

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : অ্যামাজন ডটকমে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটাররা প্রমোশন চালাতে পারেন এমন ১০ মিলিয়নেরও বেশি পণ্য রয়েছে। এই পণ্যগুলো থেকে দ্রুত বিক্রি হয় এমন পণ্যই বেছে নিতে হবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হিসাবে সফল হওয়ার জন্য। পণ্য প্রমোশনের ক্ষেত্রে অবশ্যই উক্ত পণ্যের সার্চ ভলিউম এবং কমপিটিশন বিবেচনা করতে হবে। একই সঙ্গে নিজের আগ্রহ কিংবা ধারণা নেই এমন পণ্য তৈরি করে সফল হওয়া যাবে না।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হওয়া ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের তৃতীয় দিনে ‘ক্যারিয়ার অ্যাজ অ্যান অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার’ নামের এক সেমিনারে ডেভসটিমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আল-অমিন কবির এসব কথা বলেন।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটারদের পরামর্শ দানকালে কবির বলেন, কাজ করার সময় পণ্য এবং কি-ওয়ার্ড রিসার্চে মনযোগী হতে হবে। একটি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং প্রজেক্ট সফল করার ক্ষেত্রে কিওয়ার্ড রিসার্স এবং কমপিটিশন অ্যানালাইসিস সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। আর পণ্য বাছাই করার ক্ষেত্রে বায়াররা যেসব পণ্য ইনস্টান্ট কেনাকাটা করে সেগুলো নিয়েই কাজ করা উচিৎ। আর পণ্যের দামের ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বন করতে হবে, কোনোভাবেই কমদামের পণ্য বিক্রির কথা ভাবা যাবে না। একই সঙ্গে বেশি দামের পণ্য বিক্রির চেষ্টা করলেও সফল হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

affiliate marketing

তিনি বলেন, কিওয়ার্ড ফাইনাল করার পরই ওয়েব সাইট তৈরিতে যেতে হবে। ডোমেইন নির্বাচনের ক্ষেত্রে অবশ্যই ডটকম অথবা ডটনেটকে বেছে নিতে হবে। ওয়েবসাইট তৈরির পর জরুরী বিষয় হচ্ছে কনটেন্ট দেওয়া। প্রতিটি নিশ সাইটে কম করে হলেও ৬০০ শব্দের ২৫টি কনটেন্ট রাখতে হবে। যেহেতু ক্লায়েন্ট যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক, তাই তাদের উপযোগী কনটেন্ট দিতে হবে। এক্ষেত্রে ফিলিপাইনের লেখক এবং মার্কেটপ্লেসে কাজ করেন এমন যুক্তরাষ্ট্রের একজন এডিটর নিয়োগ করা যেতে পারে বলেও পরামর্শ দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে পেওনিয়ারের কান্ট্রি ম্যানেজার এবং অ্যাফিলিয়েট মার্কেটারস বিডির প্রতিষ্ঠাতা রিফাত আহমেদ বলেন, ডিজিটাল প্রোডাক্ট অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে পণ্য বিক্রিতে ৫০ শতাংশ থেকে কমিশন শুরু হয়।

তিনি বলেন, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে ক্যারিয়ার গড়তে হলে ‘ডু অর ডাই’ মানের মানসিকতা দরকার। তবে শুরুতেই ফুলটাইম হিসেবে না নিয়ে পার্টটাইম হিসেবে শুরু করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে কমপক্ষে ৫০০ ডলারের সমপরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে। বিনিয়োগের আগে অবশ্যই নিশ ও ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কে গবেষণা করতে হবে বলেও পরামর্শ দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে আলোচকরা বলেন, অ্যাফেলিয়েট মার্কেটিংই ওয়েবের সবচেয়ে স্মার্ট ক্যারিয়ার! বিলিয়ন ডলারের এই ইন্ডাস্ট্রিতে আমাদের দেশের তরুণদের বিশাল কাজের সুযোগ রয়েছে।

সেমিনারে অ্যাফিলিয়েট নিয়ে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী ৩০০ জন অংশ গ্রহণ করেন।

ফখরুদ্দিন মেহেদী

ইন্টারনেট মার্কেটিংয়ে সফল হওয়ার কিছু দিক

তুসিন আহমেদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ইন্টারনেট এখন বহুবিধ ব্যবহারের ক্ষেত্র। শুধু তথ্য আদান প্রদান নয় এটি এখন ব্যবসারও অন্যতম মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। পণ্য বেচাকেনা ছাড়াও ইন্টারনেট ব্যবহার করে চলে প্রচারণাও। প্রচারণার এ ধরণটিই পরিচিত ইন্টারনেট মার্কেটিং নামে।

বর্তমানে ই-কর্মাস সাইটগুলোর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে পণ্যের বিপণনেও মনোযোগ বাড়ছে। পণ্যের প্রচারে বহুলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে ইন্টারনেট মার্কেটিং। এ কাজে নিয়োজিতদের সংখ্যাও বাড়ছে। ইন্টারনেট মার্কেটিং হয়ে উঠছে ফ্রিল্যান্সারদের অনলাইন আয়ের অন্যতম প্রধান উৎসে।

অনেকে অনলাইনে এ মাধ্যম থেকে আয় করছেন। নতুন করে অনেকে আগ্রহী হচ্ছেন এ কাজে নামতে। তবে বেশিরভাগের এ বিষয়ে সঠিক ধারণা নেই। ইন্টারনেট মার্কেটিংয়ের বিভিন্ন দিক তুলে ধরতে এ প্রতিবেদন।

আরও পড়ুন: অ্যাপসের মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং

ইন্টারনেট-মার্কেটিং-সোশ্যাল মিডিয়া-টেকশহর

পণ্যের ইন্টারনেট মার্কেটিং করার আগে নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে। কিছু বিষয়ে পরিস্কার ধারণা রাখতে হবে। সাধারণ কয়েকটি বিষয় হলো-

১. প্রথমে প্রতিষ্ঠানের পণ্য ও সেবার বিষয়ে পুরোপুরি জানতে হবে। এরপর এগুলোর গ্রাহক কারা, ব্যবহারকারী ও ব্যবহারের ধরণ অনুযায়ী বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে।

২. পণ্যটির সম্ভাব্য বাজার খুঁজে বের করতে হবে। বিশেষ করে অনলাইনে বিভিন্ন কমিউনিটি গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য কাজে লাগানো যেতে পারে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমকে।

৩. প্রচারণার জন্য সব সময় ফ্রি মাধ্যমগুলো সুফল বয়ে আনে না। কিছু অর্থ ব্যয় করার মানসিকতা থাকবে হবে। পণ্যের প্রচারণার জন্য প্রয়োজনে বিজ্ঞাপন দিতে হবে।

৪. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং নিজেদের পরিচিতি বাড়াতে হবে।

সমাজিকে যোগাযোগ মাধ্যমের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছে ফেইসবুক। ইন্টারনেট মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে এখন শীর্ষ এ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটির সুফল পাচ্ছেন অনেকেই।

ফেইসবুককে কেন্দ্র করে ইন্টারনেট মার্কেটিংয়ে সফল হওয়ার ক্ষেত্রে নিচের কৌশলগুলো মনে রাখতে হবে।

নিজের বা পণ্যের প্রোফাইল তৈরিতে গুরুত্ব দিতে হবে। ব্যক্তির ক্ষেত্রে আইডি ও পণে বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে পেইজের সঠিক পরিচিতি তুলে ধরতে হবে প্রোফাইলে। কেননা প্রোফাইল যদি দেখতে বিশ্বাসযোগ্য মনে না হয়, কেউ যদি ফেইক মনে করে তাহলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।

তখন পণ্যের প্রসার বাড়াতে ব্যাপক প্রচারণা চালালেও অনেকেই তা বিশ্বাস করবে না বা গুরুত্ব দেবে না। তাই প্রোফাইল ছবি হিসেবে সুন্দর হাসিখুশি ছবি নির্বাচন করতে হবে। ফেইসবুকের ব্যক্তিগত তথ্যগুলো সঠিক দিতে হবে।

internet-marketing-cloud

ফেইসবুক বন্ধু সার্কেল তৈরির ক্ষেত্রে কিছু কৌশল অবলম্বন করতে হবে। যে পণ্যের মার্কেটিং করা হবে সে অনুযায়ী বন্ধু নির্বাচন করতে হবে। তবে শুধু মার্কেটিং করলে হবে না সব সময় নজর রাখতে ফেইসবুকের বন্ধুরা তাতে সাড়া দিচ্ছে কিনা।

ফেইসবুকে স্ট্যাটাস কিংবা পোস্ট করার ক্ষেত্রে নিয়মিত ভালো পোস্ট শেয়ার করতে হবে। যেন অডিয়েন্সকে প্রভাবিত করে মনোযোগ আকর্ষণ করা যায়।

ফ্রি কিছু দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে যেমন টিপস অথবা ডাউনলোড লিংক। যে বিষয়ে মার্কেটিং করা  হবে তার ওপর পোস্ট দিতে হবে। তার ভালো মন্দ নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে স্ট্যাটাসে দিয়ে| শুরুতে বিক্রির অফার না দেওয়াই ভালো। কেননা এতে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং
ইন্টারনেট মার্কেটিংয়ের একটি বড় বিষয় অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। এটি কি? তা অনেকের জানা নেই। সহজভাবে বলতে গেলে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হলো এমন একটি বিষয় যার মাধ্যমে প্রথমত কারো বা কোনো প্রতিষ্ঠানের পণ্য বা সেবা প্রমোট করা হয়।

এখন কোনো ভিজিটর যদি ওই অ্যাফিলিয়েট লিংকের মাধ্যমে ওই পণ্য বা সেবা কেনে তাহলে একটি নির্দিষ্ট পরিমান কমিশন পাওয়া যাবে।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে ভালো করার উপায়
অনেকে অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামের অনেক পণ্য নির্বাচন করে এবং সেগুলোর প্রচারণা চালিয়ে থাকেন। তবে তা যেনতেন ভাবে করলে খুব বেশি লাভ হবে না। কোন পণ্যটি অ্যাফিলিয়েট করতে হবে এবং বাজারে সেটির প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জানতে হবে এবং পণ্যটি সঠিকভাবে সাইটে উপস্থাপন করতে হবে ।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটাররা সাইটে বিজ্ঞাপন দেয়ার পাশাপাশি গুগল অ্যাডওয়ার্ল্ড করতে পারেন। এক্ষেত্রে বিজ্ঞাপনটি যাতে আকর্ষণীয় হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। অ্যাফিলিয়েট লিংকের মাধ্যমে টার্গেট গ্রুপের কাছে তা পৌঁছোতে সহায়তা করবে।

বর্তমানে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং খুবই প্রতিযোগিতামূলক মার্কেটিংয়ে পরিণত হয়েছে। অভিজ্ঞ মার্কের্টাররা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কৌশল নিয়ে হাজির হন । তাই প্রত্যেককে নতুন কৌশল নির্বাচনে কাজ করতে হবে।

গ্রাহকদের মধ্যে সাড়া তৈরি করে তাদের পকেট থেকে অর্থ বের করে পণ্য কিনতে আগ্রহী করা খুব সহজ নয়। তাই যেমন কৌশলী হতে হবে তেমনি চিন্তাধারায় নতুনত্ব আনতে হবে। সেজন্য নতুন কিছু করার পরিকল্পনা করতে হবে। তাহলেই ইন্টারনেট মার্কেটিংয়ে সফল হওয়া যাবে।

আরও পড়ুন:

দ্রুতগতির ইন্টারনেটের নতুন রেকর্ড

অনলাইন মার্কেটিংয়ে দেশ সেরা ৩ স্বপ্নবান ফ্রিল্যান্সার

অনলাইনে নিরাপদে আয় করার চার উপায়

হাতে কলমে শেখানো হলো অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের সঙ্গে জড়িতদের হাতে কলমে শেখাতে দিনব্যাপী এক কর্মশালা শুক্রবার রাজধানীর ধানমণ্ডিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কর্মশালায় অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি, কিভাবে কাজ শুরু করতে হয়, এ জন্য যা প্রয়োজন, নিশ বাছাই, ডিজিটাল প্রোডাক্ট ১০১, অ্যাফিলিয়েট টার্মস ও ক্লিকশিউর মার্কেটপ্লেসে কাজ করার পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হয়।

এতে বিশেষজ্ঞরা নতুন দুটি মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পাশাপাশি ল্যান্ডিং পেজ ১০১, বিনামূল্যে সাইটে ট্রাফিক পদ্ধতি এবং পেইড ট্রাফিক পদ্ধতি, লাইভ ক্যাম্পেইন তৈরির বিষয় নিয়ে নতুনদের ধারণা দেন।

আরও পড়ুন : অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শেখার ১০ ওয়েবসাইট

techshohore

ধানমণ্ডির এমানুল্লা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এ কর্মশালায় অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শিখতে আগ্রহী দুই শতাধিক অনলাইন প্রফেশনাল অংশ নেন। আগামী শুক্রবার চট্টগ্রামে আরেকটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে।

কর্মশালায় বিশেষজ্ঞ হিসাবে বক্তব্য দেন ইল্যান্স-ওডেস্কের বাংলাদেশ কান্ট্রি ম্যানেজার সাইদুর মামুন খান। পরিচালনা করেন কমিউনিটির প্রতিষ্ঠাতা এবং পেওনিয়ার বাংলাদেশ অ্যাম্বাসেডর রিফাত আহমেদ।

এটির আয়োজন করে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার্স বিডি। ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস ইল্যান্স-ওডেস্ক এবং পেমেন্ট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান পেওনিয়ার পৃষ্ঠপোষকতা করে।

বক্তারা বলেন, অ্যাফেলিয়েট মার্কেটিং এমন একটি ক্ষেত্র, যেখানে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ অনেক। যারা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে ক্যারিয়ার গড়তে চান তাদের এ বিষয় সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা দেওয়া হয়।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার্স বিডি ২০১৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে একটি ফেইসবুক গ্রুপের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে। ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যটিতে তাদের ৫৭ হাজারেরও বেশি সক্রিয় সদস্য রয়েছে।

এ গ্রুপটি এক বছর ধরে ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিংয়ে আগ্রহীদের বিভিন্ন সেবা দিচ্ছে। এ ছাড়া এ কমিউনিটি নিয়মিত ইউটিউবে ফ্রি ভিডিও টিউটোরিয়ালও প্রকাশ করে। এসব টিউটোরিয়াল দেখে ইতোমধ্যে অনেকেই স্বাবলম্বী হয়েছেন বলে জানিয়েছেন রিফাত আহমেদ।

– তুসিন আহমেদ

আরও পড়ুন

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের ৫ ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগইন

পাঁচ জেলার সেরা ৫ ফ্রিল্যান্সারের সফলতার কথা

 

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শেখার ১০ ওয়েবসাইট

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : অনলাইনে আয় করার অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম হলো অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। চুক্তিভিত্তিকভাবে কোনো কোম্পানি কিংবা প্রতিষ্ঠানের পণ্য বা সেবা বিক্রির মাধ্যমে আয় করাকেই সাধারণত অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বলা হয়।

ধরুণ, আপনার কোনো সমস্যায় আপনি ডাক্তারের কাছে গেলেন। ডাক্তার বিভিন্ন পরীক্ষা করানোর জন্য প্রেসক্রিপশন দিলেন। খেয়াল করলে দেখবেন ডাক্তার এসব পরীক্ষা করানোর জন্য একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার কিংবা হাসপাতালের নাম বলবে। আপনি যদি ডাক্তারের বলা ঐ ডায়াগনস্টিক সেন্টার কিংবা হাসপাতাল থেকে আপনার পরীক্ষা করান তাহলে ডাক্তার একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিশন পাবেন। ডাক্তার রোগী পাঠানোর মাধ্যমে যে আয় করলেন এই বিষয়টিকে সহজ ভাষায় অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বলা হয়।

Affiliate-Marketing-Money-TechShohor

ই-কমার্স সাইটের বাইরে অনলাইনে বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে পণ্য কিনতে গেলে দেখবেন সেটি আপনাকে একটি লিংকের মাধ্যমে অ্যামাজন, ইবেসহ এ ধরণের বিভিন্ন ওয়েবসাইটে নিয়ে যাবে। আপনি যদি ঐ লিংকের মাধ্যমে কোনো পণ্য কেনেন তাহলে ওয়েবসাইটের মালিক একটা কমিশন পাবেন। অনলাইনে ঠিক এমনিভাবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে ব্লগার ও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটাররা হাজার হাজার ডলার আয় করছেন।

তবে একজন সফল অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হতে গেলে প্রথমত আপনার ধৈর্য্য থাকতে হবে। আপনাকে অবশ্যই বেশ কিছু বিষয় জানতে হবে। সফল অ্যাফিলিয়েট মার্কেটারদের বিভিন্ন পরামর্শ শুনতে ও জানতে হবে। যারা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হতে চান তাদের জন্য অনলাইনে অনেক রিসোর্স ওয়েবসাইট রয়েছে।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এ সফলতার বিভিন্ন টিপস, পরামর্শ জানার এমনই দশটি ওয়েবসাইট এখানে উল্লেখ করা হলো।

১. মি গ্রিন

২. অ্যাফিলিয়েট সামিট

৩. হোয়াট ডাজ জো থিংক

৪. ফিঞ্চ সেলস

৫. মিসি ওয়ার্ড

৬. মার্কেটিং গরিলা

৭. শোয়েমানি

৮. আই ওয়ার্ক ইন মাই পাজামাস

৯. ডুকেও

১০. জন চো

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের ৫ ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগইন

তুহিন মাহমুদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : অ্যাফিলিয়েট ওয়েবসাইট তৈরির জন্য ওয়ার্ডপ্রেস একটি সহজ সমাধান। কারণ ওয়ার্ডপ্রেসে প্রয়োজনীয় সব ফিচারের জন্য প্লাগইন পাওয়া যায়, যার অধিকাংশই বিনামুল্যের। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের জন্য বেশ কিছু প্লাগইন রয়েছে। তবে এত্তসব প্লাগইনের ভিড়ে কাজেরটি খুঁজে পাওয়া দুস্কর। তাই টেক শহরের পাঠকদের জন্য অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের জনপ্রিয় ও বিনামুল্যের ৫ ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগইন সম্পর্কে জানানো হলো।

অ্যামাজান অ্যাফিলিয়েট লিংক লোকালাইজার
অ্যাফিলিয়েটের জন্য আরেকটি অসাধারণ প্লাগইন এটি। এই প্লাগইনটি ইনস্টল করে অ্যাডমিন ড্যাশবোর্ডের সেটিং এরিয়াতে অ্যামাজান অ্যাফিলিয়েট আইডি অ্যাড করতে হয়। এরপর যখন সাইটটিতে কোনো অ্যামাজান প্রোডাক্ট লিংক ব্যবহার করা হয়, প্লাগইনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই লিংকে অ্যাফিলিয়েট লিংক হিসেবে রুপান্তর করে এবং লোকেশন অনুযায়ি অ্যামাজনের নির্দিষ্ট জায়গায় নিয়ে যায়। ফলে ব্যবহারকারীকে আলাদাভাবে অ্যাফিলিয়েট লিংক অ্যাড করার প্রয়োজন পড়ে না।

WordPress-Affiliate-Plugins-TechShohor

ডুপ্লিকেটর
আপনি যদি একাধিক অ্যাফিলিয়েট সাইট তৈরি করতে চান সেক্ষেত্রে প্রতিটি সাইটে থিম সেটআপ, প্লাগইন ব্যবহার, কাস্টোমাইজ করাসহ বিভিন্ন ধরণের কাজ থাকে। যা অনেক সময় নষ্ট করে ও ভোগান্তি দেয়। এক্ষেত্রে সহজ সমাধান এনে দিয়েছে ডুপ্লিকেটর প্লাগইন।

আপনি একটি ওয়েবসাইট তৈরি করার পর সেটি এই প্লাগইন এর মাধ্যমে কপি করে সহজেই আরেকটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন। প্লাগইনটির মাধ্যমে সহজেই নিয়মিত ওয়েবসাইট ব্যাকআপ ও এক হোস্টিং থেকে আরেক হোস্টিংয়ে সাইটকে মুভ করা যায়।

পিন্টারেস্ট প্লাগইন
ইমেজ পিন করার মাধ্যমে সাইটে ট্রাফিক আনার ক্ষেত্রে অসাধারণ সামাজিক যোগাযোগ সাইট পিন্টারেস্ট! আর যেহেতু অ্যাফিলিয়েট সাইটে প্রথমত ইমেজের মাধ্যমে ক্রেতাদের আগ্রহী করে তোলা যায় তাই অ্যাফিলিয়েটের জন্য পিন্টারেস্ট অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। পিন্টারেস্ট প্লাগইনের মাধ্যমে ওয়েবসাইটের কোনো পোস্টের ইমেজের উপর মাউস নিলে এটি সরাসরি পিন্টারেস্টে পিন করার সুযোগ দেয়, যা সাইটে ট্রাফিক বৃদ্ধি করে।

প্রিটি লিংক লাইট
যারা বড় ধরণের কিংবা দেখতে খারাপ লিংক নিয়ে চিন্তিত তারা ‘প্রিটি লিংক লাইট’ প্লাগইনটি ব্যবহার করতে পারেন। এটি আপনার অ্যাফিলিয়েট লিংককে এমনভাবে রুপান্তর করবে যে মনে হবে লিংকটি আপনার সাইটের অভ্যন্তরীন কোনো লিংক। প্লাগইনটি প্রতিটি লিংকে ক্লিকের সংখ্যা প্রকাশ করে।

পি৩ প্রোফাইলার
অনেকসময় সাইটে প্লাগইন ব্যবহারের ফলে সাইট খুব স্লো হয়ে যায়। একাধিক প্লাগইন ব্যবহার করলে কোন প্লাগইনটির কারণে এই সমস্যা হচ্ছে তা খুঁজে বের করা কঠিন হয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে কাজের একটি প্লাগইন পি৩ ‘প্রোফাইলার’। এই প্লাগইনটির মাধ্যমে কোন প্লাগইন কি সমস্যা করছে বা সঠিকভাবে সেটিং করা আছে কিনা সেটি জানা যায়। এছাড়া সাইটের স্পিড ও পারফরমেন্স বৃদ্ধিতে সহায়তা করে প্লাগইনটি।