প্রথম প্রান্তিকে গ্রামীণফোনের মুনাফা ৬৬০ কোটি টাকা

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে ৬৬০ কোটি টাকা মুনাফা করেছে গ্রামীণফোন লিমিটেড। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০০ কোটি টাকা বেশি।

রোববার গ্রামীণফোন ২০১৭ সালের প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) হিসাব প্রকাশ করেছে। ২০১৭ সালের প্রথম প্রান্তিকে অপারেটরটি তিন হাজার ৬০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করেছে যা পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১.১ শতাংশ বেশি।

এই আয়ে ডাটা থেকে অর্জিত রাজস্ব বেড়েছে ৬৪.৯ শতাংশ আর ভয়েস কলে রাজস্বও গত বছরের তুলনায় ৭.১ শতাংশ বেড়েছে।

গ্রামীণফোন-টেকশহর

প্রথম প্রান্তিক শেষে গ্রামীণফোনে গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ৯৯ লাখে (মার্চের হিসাব অনুযায়ী)। তবে বর্তমানে গ্রাহক ৬ কোটি ছাড়িয়েছে।

এই প্রান্তিকে ৭ লাখ নতুন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী যোগ হয়ে এখন ২ কোটি ৫২ লাখে দাঁড়িয়েছে। যা অপারেটরটির ৪২.২ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে।

গ্রামীণফোনের সিইও পেটার ফারবার্গ বলেন, বছরের শুরুতে তারা একটি ভালো প্রান্তিক পার করেছেন। ডাটা ও ভয়েস রাজস্বের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত আছে যা থেকে বোঝা যায় যে সেরা মানের নেটওয়ার্ক এবং সহজ সেবার বিষয়ে তাদের যে প্রতিশ্রুতি আছে তা গ্রাহকদের জন্য অধিকতর মূল্য সংযোজন করছে।

তিনি বলেন, এই প্রান্তিকে তারা ভয়েস ট্যারিফে স্থিতাবস্থা এবং ডাটা থেকে আয়ের উন্নতি লক্ষ্য করেছেন। পরিচলন দক্ষতার বিষয়ে তাদের গভীর মনোযোগ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য অধিকতর মূল্য সৃষ্টি করছে।

গ্রামীণফোনের সিএফও দিলীপ পাল বলেন, রাজস্ব প্রবৃদ্ধি এবং পরিচলন দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যােগের ফলে গ্রামীণফোনের ভালো আয় হয়েছে। এই প্রান্তিকেও তারা সাফল্যের ধারা অব্যাহাত রাখতে পেরেছেন।

প্রথম প্রান্তিকে গ্রামীণফোন থ্রিজি নেটওয়ার্ক স্থাপন, টুজি নেটওয়ার্কের উন্নয়নে এবং দক্ষতা বৃদ্ধিতে ৪৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে।

গ্রামীণফোন এই সময় ২৩৮টি টুজি এবং ৭৭৬টি থ্রিজি বেস স্টেশন স্থাপন করেছে যার ফলে কোম্পানির ২জি সাইটের সংখ্যা হয়েছে ১২ হাজার ২২২টি এবং থ্রিজি সাইটের সংখ্যা হয়েছে ১১ হাজার ৩৩২টি।

ইমরান হোসেন মিলন

দিনে সাড়ে ৫ মিনিট কথা বলেন জিপি গ্রাহক

জামান আশরাফ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : পরিসংখ্যানটা পুরনো হলেও চমকপ্রদ। একটি মোবাইল ফোন অপারেটরের গ্রাহকরা বছরজুড়ে কতক্ষণ কথা বলেন তা সাধারণের কাছে কৌতুহলের বিষয়। টেলিযোগাযোগ খাতে এ তথ্যের প্রয়োজনীয়তা বলে বোঝানো যাবে না। আর এটি যদি হয় গ্রাহক বিচারে শীর্ষ অপারেটরের তাহলে কথাই নেই।

গ্রামীণফোন গ্রাহকরা ২০১৫ সালে ১০ হাজার ৮০০ কোটি মিনিট কথা বলেছেন। একই সময়ে দেড় হাজার কোটি এসএমএস লেনদেন হয়েছে অপারেটরটির নেটওয়ার্কে।

এমন তথ্য উঠে এসেছে গ্রামীণফোনের মূল কোম্পানি নরওয়ের টেলিনরের তৈরি প্রথম ‘গ্লোবাল ইমপ্যাক্ট রিপোর্টে’।

Grameenphone-3GInternet-Packages-techshhor

গ্রাহক সংখ্যার হিসেবে ওই এক বছরে অপারেটরটির প্রতিটি সংযোগের বিপরীতে এক হাজার ৯২৯ মিনিট কথা হয়েছে। এ হিসাব অনুযায়ী গ্রামীণফোনের একটি সংযোগে দিনে মাত্র সাড়ে পাঁচ মিনিট কথা হয়।

ওই বছরে প্রতিটি সংযোগের বিপরীতে ২৬৮টি এসএমএস লেনদেন হয়েছে।

মূলত বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গ্রামীণফোনের অবদান ও অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে এ প্রতিবেদন। এশিয়াসহ ১৩ দেশে তাদের সেবার পরিস্থিতি জানতে টেলিনর এ ধরণের প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

প্রতিদেবন তৈরির সময়ে গ্রামীণফোনের মোট কার্যকর সংযোগ ছিল পাঁচ কোটি ৬০ লাখ। এ গ্রাহকরা ২০১১ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিতে মোট ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অবদান রেখেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এরও বাইরে তারা ২০১৫ সালে দেশের অর্থনীতিতে প্রায় ১৫০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্য সংযোজন করেছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এর পরিমান মোট মূল্য সংযোজনের দশমিক ৮ শতাংশ এবং প্রযুক্তি খাতের ৩০ দশমিক ৮ শতাংশ।

২০১৫ সালে দেশে অপারেটরটির প্রতিটি পূর্ণকালীন কর্মীর সরাসরি মূল্য সংযোজন ছিল ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬২৩ মার্কিন ডলার, যা জাতীয়ভাবে একজন পূর্ণকালীন কর্মীর গড় উৎপাদনশীলতার চেয়ে ২৩ গুণ বেশি। দেশে কর্মীপ্রতি গড় জাতীয় উৎপাদনশীলতা ৭ হাজার ৪৯২ মার্কিন ডলার।

অপারেটরটি গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশে ১১৭ দশমিক ৬ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে। এর মধ্যে ২০১৫ সালে বিনিয়োগ হয়েছে ২৪ দশমিক ৮ কোটি ডলার।

২০১৫ সালে গ্রামীনফোন বিল পে সেবার মাধ্যমে সর্বমোট ৩২ কোটি ৫ ডলার সমমূল্যের ৮৮ লাখ ডলার লেনদেন করেছে। আর ২০১৬ সালে গ্রামীণফোনের ক্ষুদ্রবীমা সেবা নির্ভয় লাইফ ইন্স্যুরেন্সে ৫৭ লাখ গ্রাহক যুক্ত করেছে।

প্রতিবেদনের ওই বছরে অপারেটরটির নেটওয়ার্কে ইন্টারনেটে যুক্ত হওয়া হার বৃদ্ধি পেয়েছিল ৪৫ শতাংশ। বছর শেষে ইন্টারনেট গ্রাহক দাঁড়িয়েছিল এক কোটি ৯৭ লাখ।

অপারেটরটি এখন সব মিলে ১০ হাজার ৬৮টি বিটিএস দিয়ে থ্রিজি সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

১৯৯৭ সালে গ্রামীণফোনের লাইসেন্স নিয়ে মোবাইল সেবার ব্যবসা শুরু করে।

২০১১ সালে লাইসেন্স আরও ১১ বছরের জন্য নবায়ন করা হয় এবং ২০১৩ সালে থ্রিজির লাইসেন্স পায়।

থ্রিজির গ্রাহক ৩ কোটির বেশি

জামান আশরাফ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দ্রুতগতির থ্রিজি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা তিন কোটি ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।

চলতি বছরের প্রথম সংসদ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি বলেন, ২০১৬ সালের শেষে দেশে থ্রিজি গ্রাহক সংখ্যা তিন কোটি ১০ লাখ ৯৩ হাজারে দাঁড়িয়েছে।

একই সময়ে মোট ইন্টারনেট সংযোগের সংখ্যা ছিল ছয় কোটি ৬৮ লাখ। প্রতি ১০০ জনের বিপরীতে এ হার ৪১ দশমিক ৫০ শতাংশ।

3G.techshohor

নিয়মানুসারে বছরের প্রথম যেদিন সংসদ অধিবেশন বসে সেদিন সরকারের সাফল্য তুলে ধরে বক্তৃতা করেন রাষ্ট্রপতি।

এর আগে ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশে দুই কোটি ৮৮ লাখ থ্রিজি ব্যবহারকারি ছিল বলে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের ২০১৫-১৬ অর্থবছর বার্ষিক প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়।

২০১৩ সালের একেবারে শেষ দিকে বেসরকারি মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো দেশে থ্রিজি সেবা চালুর অনুমোদন পায়। পরের বছরের জুনের মধ্যেই থ্রিজি সংযোগ ৪৪ লাখ পেরিয়ে যায়।

অবশ্য রাষ্ট্রায়ত্ত অপারেটর টেলিটক অন্যান্য বেসরকারি অপারেটরদের চেয়ে এক বছর আগে এ সেবা চালুর সুযোগ পায়। ফলে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তারা থ্রিজি সংযোগের দিক থেকে অনেকটাই এগিয়ে ছিল।

তবে সে অবস্থা বদলে এখন বেসরকারি অপারেটরগুলোই দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবার এ বাজার দখল করে নিয়েছে। ভয়েসের চেয়ে ডেটা ব্যবহারে প্রবৃদ্ধিও বাড়ছে উল্লেখযোগ্য হারে।

এ দিকে গত সপ্তাহে বৈশ্বিক মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর সংগঠন জিএসএম অ্যাসোসিয়েশনের অঙ্গ সংগঠন জিএসএমএ ইন্টেলিজেন্সের তথ্য অনুযায়ী, থ্রিজি ইন্টারনেট ব্যবহারে ভারতের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রায় ২০ শতাংশ লোক থ্রিজি সেবার মধ্যে রয়েছে। ভারতে এটি ১৮ শতাংশ।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে গড়ে এ হার ২১ শতাংশ। অন্যদিকে বিশ্বের ৩২ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী থ্রিজি প্রযুক্তির ইন্টারনেট ব্যবহার করছে।

রাষ্ট্রপতি গত এক বছরে সরকারের উন্নতির চিত্র তুলে ধরেন যার মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার ব্যক্তিকে তথ্য প্রযুক্তি বিভাগ থেকে প্রশিক্ষন দেওয়া এবং আরও প্রায় দুই লাখ নারী-পুরুষের জন্য প্রশিক্ষনের আয়োজন করা হিসেব তুলে ধরা হয়।

থ্রিজিতে ভারতকে ছাড়িয়ে বাংলাদেশ

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : থ্রিজি ইন্টারনেট ব্যবহারের হারে ভারতের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ।

বৈশ্বিক মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর সংগঠন জিএসএম অ্যাসোসিয়েশনের অঙ্গ সংগঠন জিএসএমএ ইন্টেলিজেন্স বুধবার এ তথ্য প্রকাশ করে।

ওই প্রতিবেদনে সংগঠনটি জানায়, থ্রিজি ইন্টারনেট ব্যবহারের দিক দিয়ে ভারতের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ২০ শতাংশ ইন্টারনেট সংযোগ থ্রিজি সেবার মধ্যে রয়েছে। ভারতে এটি ১৮ শতাংশ।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে গড়ে এটি ২১ শতাংশ। অন্যদিকে বিশ্বের ৩২ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী থ্রিজি প্রযুক্তির ইন্টারনেট ব্যবহার করছে।

3G.techshohor

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের ২৩ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ফোরজি প্রযুক্তিরতে সেবা নিচ্ছে। ভারতে এটি এক দশমিক সাত শতাংশ। যেখানে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে এক দশমিক নয় শতাংশ লোক দ্রুতগতির এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। বাংলাদেশে এই প্রযুক্তির ব্যবহার এখনও শূন্য।

জিএসএমএ ইন্টেলিজেন্স জানায়, বাংলাদেশের ইন্টারনেট ব্যবহারের হার ৩৩ শতাংশ। ভারতের এই হার ৩৫ শতাংশ। আর দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে গড়ে ৩৪ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। পৃথিবীতে এই হার ৪৮ শতাংশ।

বাংলাদেশের বর্তমানে চারটি মোবাইল ফোন অপারেটরের সকলে জিএসএমএ ইন্টেলিজেন্সের সদস্য।

আল-আমীন দেওয়ান

খুলনায় থ্রিজি নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করল বাংলালিংক

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : খুলনায় শেয়ারড ওয়ারলেস অ্যাক্সেস প্রোটোকল প্রযুক্তি স্থাপন করে থ্রিজি নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করেছে বাংলালিংক।

বিশ্বখ্যাত তথ্যপ্রযুক্তি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান জেডটিই’র কারিগরি সহায়তায় এই প্রযুক্তি স্থাপনের ফলে অঞ্চলটির ১৫ জেলার গ্রাহকরা উন্নত নেটওয়ার্ক পাবেন। এছাড়া রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর এবং শরিয়তপুরের গ্রাহকরাও সুবিধা পাবেন।

Banglalink 3g

বাংলালিংকের চিফ টেকনোলজি অফিসার সঞ্জয় ভাঘাশিয়া বলেন, খুলনা অঞ্চলে এই নতুন পদক্ষেপের ফলে গ্রাহকরা দ্রুত গতির ব্রাউজিং অভিজ্ঞতা এবং সেরা মানের নেটওয়ার্ক সুবিধা পাবেন।

জেডটিই বাংলাদেশের চিফ টেকনোলজি অফিসার জং জি কুয়াং বলেন, গ্রাহকদের উচ্চ গতির ইন্টারনেট এবং নেটওয়ার্ক সেবা নিশ্চিত করতে বাংলালিংককে উন্নতর প্রযুক্তি দিতে যুক্ত রয়েছে জেডটিই।

আল-আমীন দেওয়ান

১ বছরে থ্রিজি গ্রাহক বেড়েছে ১ কোটি

জামান আশরাফ, টেকশহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : নতুন প্রযুক্তির মোবাইল সেবার দিকে ঝুঁকছেন গ্রাহক। দ্বিতীয় প্রজন্মের বদলে তৃতীয় প্রজন্মের সেবার ব্যবহার বাড়ছে। এতে এক বছরে এক কোটি আট লাখ থ্রিজি সংযোগ পেয়েছে দেশের পাঁচটি মোবাইল ফোন অপারেটর।

আগের অর্থবছর শেষে সব অপারেটরের থ্রিজি সংযোগ ছিল এক কোটি ৮০ লাখ। ২০১৫-১৬ অর্থবছর শেষে তা দাঁড়িয়েছে দুই কোটি ৮৮ লাখে।

এ সময়ে অপারেটরগুলো দেশব্যাপী থ্রিজি নেটওয়ার্ক বাড়াতে কাজ করে। বড় নগরীর পাশাপাশি ছোট শহরগুলোতেও নেটওয়ার্ক বিস্তার করে। নতুন প্রযুক্তিতে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন অফারও দেয়। এর পাশাপাশি মোবাইল ইন্টারনেটের ব্যবহার বাড়তে থাকায় থ্রিজি গ্রাহক বেড়েছে বলে মনে করেন টেলিযোগাযোগ খাতের সংশ্লিষ্টরা।

3G btrc_techshohor

সম্প্রতি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসির প্রকাশিত প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে থ্রিজি গ্রাহক বৃদ্ধির এ তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদেন অনুযায়ী, গত অর্থবছরের জুন পর্যন্ত সব মিলে পাঁচ কোটি ৯৭ লাখ মোবাইল ইন্টারনেট চালু ছিল, এর মধ্যে ৪৮ দশমিক ২৮ শতাংশ দ্রুতগতির থ্রিজি ইন্টারনেট সেবা ব্যবহার করেছেন।

অবশ্য ওই সময় পর্যন্ত ১৩ কোটি ১৪ লাখ সিম দেশে চালু ছিল।

মাসওয়ারি হিসাবে, গত অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি থ্রিজি গ্রাহক যুক্ত হয়েছে ২০১৫ সালের আগস্টে। ওই এক মাসেই অপারেটরগুলো ২৩ লাখ থ্রিজি গ্রাহক পায়।

বছরজুড়ে অবশ্য টানা দুই মাসেও থ্রিজি সংযোগ কমার উদাহরণও আছে। গত অর্থবছরের ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে যথাক্রমে ২ ও ১ শতাংশ সংযোগ কমে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সুনির্দিষ্ট করে বলতে না পারলেও অপারেটরগুলোর বিভিন্ন সূত্র বলছে, নতুন অর্থবছরের পাঁচ মাস নভেম্বর শেষে ইতিমধ্যে থ্রিজি সংযোগ তিন কোটি পেরিয়ে গেছে।

বিটিআরসি মোট থ্রিজি সংযোগের হিসাব দিলেও এর মধ্যে কোন অপারেটরের থ্রিজি সংযোগ কত সেটি প্রকাশ করা হয়নি।

২০১৩ সালের একেবারে শেষ দিকে বেসরকারি মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো দেশে থ্রিজি সেবা চালুর অনুমোদন পায়। পরের বছরের জুনের মধ্যেই থ্রিজি সংযোগ ৪৪ লাখ পেরিয়ে যায়।

অবশ্য রাষ্ট্রায়ত্ত অপারেটর টেলিটক অন্যান্য বেসরকারি অপারেটরদের চেয়ে এক বছর আগে এ সেবা চালুর সুযোগ পায়। ফলে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তারা থ্রিজি সংযোগের দিক দিয়ে অনেকটাই এগিয়ে ছিল।

তবে দিন দিন অবস্থার পরিবর্তন হয়ে এখন বেসরকারি অপারেটরগুলোই দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবার এ বাজার দখল করে নিয়েছে। ভয়েসের চেয়ে ডেটা ব্যবহারের প্রবৃদ্ধিও বাড়ছে উল্লেখযোগ্য হারে।

টেলিকমের সবচেয়ে বড় প্রকল্প নিচ্ছে টেলিটক

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : মূলত গ্রাম পর্যায়ে থ্রিজি সেবা নিয়ে যেতে তিন হাজার ২৮২ কোটি ২০ লাখ টাকার প্রকল্প সাজিয়েছে রাষ্ট্রায়াত্ত্ব প্রতিষ্ঠান টেলিটক।

এটিই হবে টেলিটক, এমনকি সরকারি অন্য টেলিকম কোম্পানিগুলোর ইতিহাসে টাকার অংকে সবচেয়ে বড় প্রকল্প। এর আগে সরকারের পাঁচটি টেলিকম কোম্পানি বা অন্য কোনো পর্যায়ে টেলিকমের জন্যে এতো বড় প্রকল্প নেওয়া হয়নি।

এমন কি অন্য বেসরকারি টেলিকম কোম্পানির এক প্রকল্পে কখনো এতো টাকা ঢালেওনি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইতিমধ্যে টেলিটকের বোর্ড প্রকল্পটির অনুমোদন দিয়েছে। খুব শিগগিরই তা সরকারের অনুমোদনের জন্যে একনেকে যাবে।

teletalk new logo
প্রকল্পের আরও একটি বড় দিক হলো, এর মধ্যে বিদেশী অনুদানের কোনো বিষয় নেই। এতো বড় প্রকল্পের মধ্যে দুই হাজার ৯৪৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা সরকার দেবে বলে ধরা হয়েছে। বাকি ৩৩৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা আসবে কোম্পানির নিজস্ব তহবিল থেকে।

খবরটি নিশ্চিত করেছেন টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গিয়াস উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, মূলত গ্রামের গ্রাহকদেরকে আরও উন্নত সেবা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে তারা প্রকল্পটি সাজিয়েছেন।

প্রকল্পের মেয়াদকাল ধরা হয়েছে আগমী বছরের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত।

বর্তমানে টেলিটকের সব মিলে তিন হাজার সাতশো বিটিএস আছে। যার মধ্যে থ্রিজি সাইট আছে মাত্র দেড় হাজার।

নতুন প্রকল্পে আরও দেড় হাজার থ্রিজি সাইট রাখার পাশাপাশি টুজি সেবা দেওয়ার জন্যে আরও এক হাজার সাতশো টাওয়ার বসানো হবে।

অন্যদিকে বর্তমানে গ্রামীণফোনের থ্রিজি সাইটের সংখ্যা দশ হাজারের কিছু বেশী। বাংলালিংকের তা সাড়ে ছয় হাজার। রবি’র পাঁচ হাজার এবং এয়ারেটেলের প্রায় দুই হাজার।

গিয়াস উদ্দিন বলেন, প্রকল্পের কাজ শেষ হয়ে গেলে সরকারি কোম্পানিটি অন্য বেসরকারি অপারেটরের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামার মতো অবস্থায় চলে আসবে।

এর আগে গত জুন মাসেও সরকারের কাছ থেকে এমন একটি প্রকল্পের অনুমোদন নিয়েছে টেলিটক। সেখানে পৌনে সাতশো কোটি টাকায় তাদের দেশের উপজেলা পর্যন্ত আরও প্রায় ১২০০ থ্রিজি সাইট এবং পাঁচশো টুজি সাইট স্থাপনের কথা।

দুটি প্রকল্পের কাজ শেষ হলে তারা আরও নতুন এক কোটি গ্রাহক নিতে পারবেন বলেও জানান গিয়াস উদ্দিন আহমেদ।

দৈনিক ৩০ হাজার থ্রিজি সংযোগ বাড়ছে

অনন্য ইসলাম, টেকশহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : প্রতিদিন মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর নেটওয়ার্কে যুক্ত হচ্ছে গড়ে প্রায় ৩০ হাজার থ্রিজি সংযোগ। গত এক বছর ধরে এ হারে বাড়ছে তৃতীয় প্রজন্মের এ প্রযুক্তির ব্যবহার।

ধারাবাহিক এ বৃদ্ধির ফলে গত ২০১৫-১৬ অর্থবছর শেষে দেশে মোট থ্রিজি সংযোগ দাঁড়িয়েছে দুই কোটি ৮৮ লাখ। এ সময়ে পাঁচটি থ্রিজি মোবাইল ফোন অপারেটর মোট এক কোটি ৮ লাখ থ্রিজি সংযোগ বাড়াতে পেরেছে। এ হিসাব অনুসারে গত অর্থবছরে থ্রিজির ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬০ শতাংশ।

অপারেটরগুলো অবশ্য থ্রিজি গ্রাহক সংখ্যার এ হিসাবে মোটেই সন্তুষ্ঠ নয়। কর্মকর্তারা বলছেন, গোটা দেশ থ্রিজি কাভারেজের আওতায় এলেও স্মার্টফোনের অভাবে সংযোগ বাড়ছে না।

3G btrc_techshohor

এ ক্ষেত্রে তারা শুল্ক কমিয়ে হ্যান্ডসেটের দাম সাধারণের ক্রয়সীমার মধ্যে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রকাশের অপেক্ষায় থাকা টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত অর্থবছরে গড়ে প্রতিদিন ২৯ হাজার ৫৮৯ থ্রিজি সংযোগ নিয়েছেন গ্রাহকরা।

২০১৪-১৫ অর্থবছরের শেষে থ্রিজি সংযোগ ছিল এক কোটি ৮ লাখ। এর আগের বছরের জুনে এটি ছিল মাত্র ৪৪ লাখ।

বিটিআরসি’র কয়েক অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, থ্রিজির সঙ্গে সঙ্গে টুজির ইন্টারনেট সংযোগও বাড়ছে। সে কারণে মোট সিমের সংখ্যা প্রতি বছর বাড়লেও ইন্টারনেট সংযোগ নেই এমন সিমের সংখ্যা কমছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, ২০১৩-১৪ অর্থবছর শেষে দেশে ৪৪ লাখ থ্রিজি সংযোগের সঙ্গে তিন কোটি ২০ লাখ সিমে টুজি ইন্টারনেট ব্যবহৃত হয়েছে। ওই বছর ইন্টারনেট সংযোগবিহীন সিম ছিল আট কোটি দুই লাখ।

পরের বছর এক কোটি ৮০ লাখ থ্রিজি সিমের সঙ্গে আরও তিন কোটি চার লাখ সিম চালু ছিল, যেগুলোতে শুধু টুজি ইন্টারনেট সংযোগ ছিল। কোনো ধরনের ইন্টারনেট সংযোগ ছিল না এমন সিম তখন ছিল সাত কোটি ৮৫ লাখ।

গত অর্থবছর শেষে হিসাব দাঁড়িয়েছে, দুই কোটি ৮৮ লাখ সিমে থ্রিজি সংযোগ, তিন কোটি নয় লাখ সিমে টুজি সংযোগ ও সাত কোটি ১৭ লাখ সিম ইন্টারনেট সংযোগবিহীন।

ফোরজি, আর কত দেরি পাঞ্জেরি?

মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক : দ্বিতীয় প্রজন্মের লাইসেন্সের ১৫ বছরের একটা মেয়াদ পেরিয়ে আরও দুই বছর লেগেছিল তৃতীয় প্রজন্মের সেবা হাতে আসতে। আশা করছি, চতুর্থ প্রজন্মের সেবা বা ফোরজির জন্য আমাদের ততটা অপেক্ষা করতে হবে না। কতটা অপেক্ষা করতে হবে- সেই প্রশ্নের উত্তরও কি পাঞ্জেরির কাছে আছে?

ফররুখ আহমেদ পাঞ্জেরিকে এনেছিলেন রূপক অর্থে। যার কাছে ছিল কবির সব প্রশ্ন। রাত পোহাবার আর কতো দেরি পাঞ্জেরি- কবির এ জিজ্ঞাসা আজও অনেক জনপ্রিয়।

আমারাও তো পাঞ্জেরি ছাড়া আর কাউকে দেখছি না হাতের কাছে যাকে, ফোরজি বিষয়ক এ প্রশ্নটা করতে পারি। কতটা অপেক্ষা ও চাওয়ার পর আসবে ফোরজি?

network_techshohor

পাশের দেশ মিয়ানমার, যারা কিনা মাত্র কয়েক বছর আগেও ছিল বিশ্বের পিছিয়ে পড়া দেশের প্রকৃষ্ট উদাহারণ। যে কোনো বিষয়ের তালিকা হলে নিশ্চিতভাবে আমরা তাদের চেয়ে এগিয়ে থাকতাম। আজ তথ্য প্রযুক্তির নানা সূচকেই আমরা তাদের চেয়ে পিছিয়ে পড়ছি। তাদের মোবাইল গ্রাহকও এখন আনন্দের সঙ্গে উপভোগ করছেন চতুর্থ প্রজন্মের সেবা। আর আমরা শান্তি খুঁজছি ডিজিটাল বাংলাদেশের ঢেকুরে।

অথচ এ মিয়ানমারেই কিনা মোবাইল টেলিফোনি সেবা এসেছে আমাদের ১৫ বছরের একটি মেয়াদ শেষ করার পরে! বিস্ময়কর, তাই নয় কি পাঞ্জেরি?

ইউরোপের দেশগুলো এখন মেতেছে ফাইভজি নিয়ে। ২০১৭ সালের মধ্যে কোনো কোনো দেশে চলে আসবে এ সেবা। এরপর ছড়িয়ে পড়বে ইউরোপজুড়ে ফাইভজি’র সুবাস। কয়েক দিন আগে ইইউ কমিশন এ বিষয়ে যৌথ মেনিফেস্টও ঘোষণা করেছে।

দক্ষিণ কোরিয়া কিংবা জাপানের উদাহরণ দিতে চাই না। তারা ফাইভজির জন্য তৈরি। ভারত, পাকিস্তান-এমন কি ভুটানের চেয়েও যদি আমরা টেলিকম সেবায় পিছিয়ে পড়ি তাহলে এ ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ কার কাজে লাগবে?

টেলিযোগাযোগ খাতের নীতি নির্ধারকদের যার কাছে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করবেন, তিনিই বলবেন চলতি বছরের মধ্যে আসবে ফোরজি! কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে কিভাবে?

এখনও স্পেকট্রাম, লাইসেন্স বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। নীতিমালার খবর নেই। এমনকি সরকারি টেবিলগুলোতে চালাচালির জন্য একটি ফাইলও তৈরি হয়নি ফোরজি নিয়ে। তাহলে কিভাবে হবে? এর জবাব কারও কাছে নেই- যদিও বছরের অর্ধেকটা পেরিয়ে গেছে পাঞ্জেরি।

দ্রুত ফোর জি চালুর বড় একটা সুযোগ আইন কাঠামোর মধ্যেই আছে। তৃতীয় প্রজন্মের স্পেকট্রামের নীতিমালার মধ্যেই চতুর্থ প্রজন্মের উল্লেখ আছে। এটাও বলা আছে, ২১০০ ব্যান্ডের ওই স্পেকট্রাম অপারেটরগুলো ব্যবহার করতে পারবে। কিন্তু সেটা নিয়েই বেঁধেছে এক গোল।

4G-techshohor

বিদ্যমান তৃতীয় প্রজেন্মের প্রযুক্তি লাইসেন্সেই মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো চতুর্থ প্রজন্মের সেবা দিতে পারবে নাকি তাদেরকে নতুন করে লাইসেন্স নিতে হবে- সেটি নিশ্চিত করে বলছে না টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন-বিটিআরসি।

জুনের এক কমিশন বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বরং একটি কমিটি করে দেওয়া হয়েছে, যারা তৃতীয় প্রজন্মের লাইসেন্স পর্যালোচনা করে বলবেন ফোরজির জন্য নতুন লাইসেন্সের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি।

এরপর আসছে স্পেকট্রামের প্রশ্ন। অপারেটরগুলো চায় স্পেকট্রামের প্রযুক্তি নিরপেক্ষতা- টেকনোলজিক্যাল নিউট্রালিটি। গোটা দুনিয়ার অধিকাংশ দেশে টেলিকম অপারেটরগুলো এ সুবিধা পায়, যা দিয়ে যে কোনো স্পেকট্রামে যে কোনো সেবা দেওয়া যাবে। এটি আসলে বড় বিনিয়োগের ঝক্কি কিছুটা হলেও কমিয়ে দেয়। তখন সেবায় তারা বেশি বিনিয়োগ করতে পারে ও সেবার মানও হয় ভালো।

বিশ্বের বেশিরভাগ অপারেটর ১৮০০ ব্যান্ড ও ৯০০ ব্যান্ডে ফোরজি চালু করতে পেরেছে। অথচ আমাদের এখানে সেটা এখনও নিষিদ্ধ।

আমাদের দেশে সব সময় সরকারের মনযোগ স্পেকট্রাম থেকে কিভাবে নানা কায়দা কানুন করে বেশি টাকা আদায় করা যায়। সে কারণেই আগের স্পেকট্রামের যথোপযুক্ত ব্যবহার না হতেই সেটা অন্য সেবার জন্য নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে। এখনও সেই চেষ্টা অব্যাহত। ফলে কাজীর গরু গোয়ালেই থেকে যায়, গ্রাহকের হাতে আর সেবাটা ঠিক মতো পৌঁছায় না। নামকাওয়াস্তে তখন সেবা আসে। তাতে গ্রাহকের সুবিধার সঙ্গে নতুন ভোগান্তিও তৈরি হয়।

মোবাইল-ফোন-নেটওয়ার্ক-টেক-শহর

সব সময় সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠাগুলোর কর্তা ব্যক্তিরা বলছেন, স্পেকট্রামের দামটা কম হলে তখন সেবার মান বাড়াতে তারা আরও বেশি বিনিয়োগ করতে পারবেন।

কয়েক দিন আগে কথা হলো চীনের এক প্রযুক্তি সরবরাহকারী কোম্পানির শীর্ষ এক কর্মকর্তার সঙ্গে। তিনি পরিস্কার করেই বললেন, তাদের দেশের বা জাপান সরকারও স্পেকট্রাম থেকে আয় করতে চায় না। এটা জনগনের সম্পদ। জনগনের সেবাতে যেন তা কাজে লাগে এ হলো তাদের নীতি। বরং সেবা থেকে আয় বাড়িয়ে জনগণকে সুবিধা দেওয়ার নীতি তাদের।

এ খাত থেকে সরকারের আয় বাড়ানোর পদ্ধতি তো সেটিই হওয়া উচিৎ। তা ছাড়া আরও একটি যৌক্তিক প্রশ্নও আছে। টেলিকম থেকে সরকার আর কতটা আয় বাড়াতে চায়? এখনই তো গ্রাহকের একশ টাকার সেবা থেকে ২১ টাকা নিয়ে নিচ্ছে সরকার। অপারেটরগুলোর কাছ থেকেও তার ঢের পাচ্ছে। ফলে বছরে ১২ থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা আসছে এ খাত থেকে। পাঞ্জেরির কাছে এ প্রশ্নও থাকছে।

টেলিকম বিশ্বের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত পাঁচশ’র বেশি অপারেটর ফোরজি সেবা দিচ্ছে বিশ্বজুড়ে। দেশের হিসাব করতে গেলে তা দেড়শ’র বেশি হবে। প্রতিনিয়ত নতুন দেশ ও অপারেটরের নাম যোগ হচ্ছে এ তালিকায়। বাংলাদেশে এ সেবা পেতে আর কত রাত পোহানোর অপেক্ষা যে এখনও বাকি তা কি বলতে পারবে পাঞ্জেরি।

এখানে আরেকটা ফুটনোটও আছে। ফোরজি চালু করার ক্ষেত্র তৈরি হলেই যে সবাই নতুন এ প্রযুক্তিতে চলে আসবে তেমনটা ভাবার কারণ নেই। বিশ্বের যেখানে ফোরজি চালু হয়েছে, সেসব জায়গায় কিন্তু ফোরজির সঙ্গে থ্রিজি এমনকি টুজিও রয়ে গেছে। এটাই হচ্ছে টেলিকমের বৈশিষ্ট্য।

আমাদের এখানেও ফোরজি চালু হলে প্রথমে প্রধানত বড় শহরগুলোতেই এ সেবা থাকবে। পরে হয়ত একটু একটু করে তা পেখম মেলবে, আওতা বাড়বে- যেমনটি হয়েছে থ্রিজির বেলাতে।

তিন বছর আগে দেশে থ্রিজি যাত্রা করলেও এমন সংযোগ সংখ্যা দেড় কোটির মতো। অথচ মোট ইন্টারনেট সংযোগ আছে ছয় কোটির বেশি।

লেখক : দ্য ডেইলি স্টারের সিনিয়র রিপোর্টার। টেলিকম রিপোর্টারদের সংগঠন টিআরএনবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

থ্রিজির লাইসেন্সে ফোরজি হবে তো?

অনন্য ইসলাম, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বিদ্যমান তৃতীয় প্রজেন্মের (থ্রিজি) প্রযুক্তি লাইসেন্সেই মোবাইল ফোন অপারেটররা চতুর্থ প্রজন্মের (ফোরজি) সেবা দিতে পারবে, নাকি নতুন করে লাইসেন্স নিতে হবে- সেটি নিশ্চিত করে বলতে পারছে না টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।
ফোরজির জন্য নতুন লাইসেন্স লাগবে কিনা সেটি নিশ্চিত করতে বিটিআরসি এখন রীতিমতো গবেষণা শুরু করেছে। এপ্রিল মাসে রবি ২১০০ ব্যান্ডের স্পেকট্রামেই ফোরজি সেবা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চায়। তারপরই বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে বিটিআরসি।
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, থ্রিজি স্পেকট্রামের নিলামের নীতিমালায় ভাষাগত কিছু অস্পষ্টতা রয়েছে। ওই নীতিমালার এক জায়গায় আছে ২১০০ ব্যান্ডের স্পেকট্রাম দিয়ে অপারেটররা শুধু থ্রিজি সেবা দেবে। অন্য আরেক জায়গায় অবশ্য বলা আছে এই স্পেকট্রামে ফোরজির সেবাও দেওয়া যাবে।
4G
এখন বিটিআরসি আসলে কি সিদ্ধান্ত নেবে সেটির জন্যে কমিশনের আইন বিভাগের তত্ত্বাবধানে সিস্টেম অ্যান্ড সার্ভিস ও ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশনের বিভাগের সমন্বয়ে একটি কমিটি করা হয়েছে। এরাই আগের নীতিমালা পর্যালোচনা করে ও বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কমিশনের আগামী বৈঠকে সুপারিশ উত্থাপন করবে।
২০১৩ সালের থ্রিজি স্পেকট্রাম নিলামে গ্রামীণফোন দশ মেগাহার্জ স্পেকট্রাম নিয়েছে। বাকি তিন  অপারেটর বাংলালিংক, রবি এবং এয়ারটেল নিয়েছে পাঁচ মেগাহার্জ করে স্পেকট্রাম। আর আগে থেকেই সরকারি অপারেটর টেলিটক পেয়েছিল দশ মেগাহার্জ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাঁচ মেগাহার্জ স্পেকট্রাম দিয়ে কোনো অবস্থায় থ্রিজির সঙ্গে ফোরজি সেবা চালু করা যাবে না। সে বিবেচনায় বাংলালিংক, রবি এবং এয়ারটেলের সেই স্বক্ষমতা থাকার কথা নয়।
কিন্তু রবি আর এয়ারটেল যেহেতু একীভূত হতে যাচ্ছে সে কারণে তখন তাদের স্পেকট্রাম দশ মেগাহার্জ হবে এবং তখন তারা ফোরজি সেবা চালু করতে পারবে এই আশাতেই রবি বিষয়টি পরিস্কার হতে এমন আবেদন করে।
পরে রবির আবেদনের পর বাংলালিংক অবশ্য এর বিরোধিতা করে আবার বিটিআরসিকে লেখে। তবে গ্রামীণফোন এখনও বিষয়টিতে পরিষ্কার অবস্থান না নিলেও তারা ভেতরে ভেতরে ফোরজির প্রস্তুতি শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

দেশে থ্রিজি বিটিএস ২৫ হাজার

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সারা দেশ থ্রিজি নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে নিজেদের সব বিটিএসকে দ্রুত থ্রিজিতে রূপান্তর করছে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো।

দেশে সবচেয়ে বেশি এলাকা কাভারেজ দেয়া গ্রামীণফোনের একারই রয়েছে ১০ হাজার থ্রিজি বিটিএস। বাকি চার অপারেটর মিলে সেখানে ১৫ হাজারেরও কম থ্রিজি বিটিএস নিয়ে ব্যবসা করছে। সব মিলে দেশে এখন ২৫ হাজার থ্রিজি সাইট রয়েছে। আর মোট সাইটের সংখ্যা ত্রিশ হাজার।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, বাংলালিংকের মোট বিটিএস ৯ হাজার, যার মধ্যে ৫ হাজার ৮০০টি আছে থ্রিজি সেবা দেওয়ার উপযুক্ত। রবির মোট বিটিএস ৮ হাজার, যার মধ্যে থ্রিজি সেবা দেওয়ার উপযোগী ৪ হাজার ৩৫০টি।

Mobile phone tower

রবির সঙ্গে একীভূত হওয়ার অপেক্ষায় থাকা এয়ারটেলের হাতে রয়েছে ২৮০০ থ্রিজি সাইট। আর তাদের মোট সাইটের সংখ্যা হাজার পাঁচেক।

রাষ্ট্রীয় অপারেটর টেলিটক ২০১২ সালে সবার আগে যাত্রা করেছিল থ্রিজি সেবার। তাদের হাতে আছে মাত্র দেড় হাজার থ্রিজি বিটিএস। আর তাদের মোট বিটিএস সাড়ে ৩ হাজার। তবে আরও ১২’শ থ্রিজি সাইট বাড়াতে সম্প্রতি একটি প্রকল্প নিয়েছে টেলিটক।

টেলিটক ছাড়া বাকি চারটি বেসরকারি অপারেটর ২০১৩ সালে থ্রিজির যাত্রা করেছে। নীতিমালা অনুসারে লাইসেন্স পাওয়ার তিন বছরের মধ্যে সব জেলা শহরে থ্রিজি সেবা নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল অপারেটরগুলো।

জামান আশরাফ

আরও পড়ুন: