এই ‘পেপ্যাল’ সেই পেপ্যাল নয়

মো: শফিউল আলম, ইলেক্ট্রনিক পেমেন্ট ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস বিশেষজ্ঞ : গত ২০১৫ সালের শেষভাগে পেপ্যালের (ইন্টারনেট পেমেন্ট গেইওয়ে) জুম ইনকরপোরেশন (ক্রসবর্ডার অনলাইন মানি ট্রান্সফার কোম্পানি) একুইজিশন ঘোষণার পর থেকেই বাংলাদেশে পেপ্যাল আগমন এবং জুমকে একীভুত করে ‘বিভ্রান্তিমুলক সংবাদ’ পরিবেশন হতে থাকে । যদিও ইন্টারনেট পেমেন্ট গেটওয়ে এবং অনলাইন মানি ট্রান্সফারের সেবার ধরন, প্রকৃতি এবং গ্রাহক চাহিদা ভিন্নতর।

পেমেন্ট গেটওয়ের ( পেপ্যাল, স্ক্রিল ইত্যাদি ) মৌলিক বৈশিষ্ট হচ্ছে ই-ওয়ালেট, অর্থ জমা (ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড, প্রি-পেইড, মানি-প্যাক), পিয়ার টু পিয়ার মানি ট্রান্সফার, অনলাইন মার্চেন্ট পেমেন্ট এবং অর্থ উত্তোলন (ব্যাংক একাউন্ট, ক্রেডিট,ডেবিট, প্রি-পেইড, চেক)। পেমেন্ট গেটওয়ের লাইন্সেন্স ব্যাংক সেন্ট্রিক।

অনলাইন মানি ট্রান্সফারের ( জুম, ট্রান্সফারওয়াইজ ইত্যাদি ) মৌলিক বৈশিষ্ট হচ্ছে এটা সরাসারি সুইফেটের মাধ্যমে ক্রসবর্ডার ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার করে, অর্থ জমা (ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড বা ওটিসি), অর্থ উত্তোলন (ব্যাংক একাউন্ট, ওভার দি কাউন্টার-ওটিসি), অনলাইন মানি ট্রান্সফার লাইসেন্স লোকেশন সেট্রিক।

বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোতে বিইএফটিএন ( বাংলাদেশ ইলেক্ট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার নেটওয়ার্ক) এর মাধ্যমে ইন্টার-ব্যাংক ফান্ড ট্রান্সফার সুবিধাটি কয়েক বছর ধরে বিদ্যমান আছে। যদিও এসিএইচ ( অটূমেটিক ক্লিয়ারিং হাউজ) এবং আরটিজিএস ( রিয়েলটাইম গ্রস সেটেলমেন্ট ) ইলেক্ট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে রিয়েলটাইম প্রযোজ্য হয়নি ( নিশ্চিত নই )।  যার ফলে দুই-একদিন সময় নেয় সেটেলম্যান্টের জন্য।

অনলাইন মানি ট্রান্সফারের অফলাইন ( ব্রিক- মর্টার ) মডেলই অনলাইন ভার্সন। তাই অনলাইন মানি ট্রান্সফারের মানি অপারেটিং লাইসেন্স এক্সচেঞ্জ হাউজ স্টেইট টূ স্টেইট বা কান্ট্রি টূ কান্ট্রি আলাদা নিতেই হয় ।

এখানে উল্লেখিত যে, সম্ভবত একমাত্র জুম গ্রাহকরা (সেন্ডার/পেয়ার) পেপ্যাল দিয়ে লগইন করে পেপ্যাল ব্যালেন্স থেকে ফান্ড ট্রান্সফার  করতে পারেন। পেপ্যাল যেহেতু ব্যাংক নয় তাই তাদেরও ক্যাশইন করতে হয় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড, প্রি-পেইড, মানি-প্যাক থেকে। তাই এখানে অন্য অনলাইন মানি ট্রান্সফার সেবার সাথে জুমের মৌলিক কোনো পার্থক্য নেই।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশে পেপ্যাল সেবা চালু

Md. shofiul alam

জুম পেপ্যালকে কিনে নেয়ার অন্যতম কারণ অফলাইন (ব্রিক অ্যান্ড মর্টার) এবং অনলাইন রেমিট্যান্সের  বাজার ধরা কারণ পেপ্যালের কাস্টমাররা সাধারনত অনলাইন ক্রেতা এবং বিক্রেতা। যার ফলে মার্চেন্ট সার্ভিস মনোপলি করেছে পেপ্যালের মৌলিক সেবা ই-ওয়ালেট। যেহেতু পিটুপি বা ক্যাশ-আউট অনেক ব্যয়বহুল এবং লেনদেন তুলনামুলক অনেক কম।

পেপ্যাল ক্যাশ-ইন ফ্রি কিন্তু ক্যাশ-আউটে বা পিয়ার টু পিয়ার লেনদেনে অনেক ফি (২.৫-৪%) দিতে হয় যার ফলে কাস্টমাররা অ্যাভয়েড করে থাকেন বা হাই ভ্যালু পিটুপি ট্রাঞ্জেকশন পেমেন্ট গেটওয়ে দিয়ে করেন না। সেক্ষেত্রে  জুমের মত অনলাইন মানি ট্রান্সফার বা মানি অপারেটিং লাইসেন্স নিয়ে এক্সচেঞ্জ হাউজগুলো দিয়ে সুইফট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে করেন। এক্ষেত্রে যে কোনো অ্যামাউন্টের জন্য জুমের ওয়ানঅফ ৪-৭ ডলার চার্জ করে থাকে।

বাংলাদেশের ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স কাস্টমার প্রধানত তিন ধরনের। এক. অনলাইন ওয়ার্কার (প্রধানত ফ্রিল্যন্সার, রিমোট ওয়ার্কার)।  দুই. অফলাইন ওয়ার্কার (শ্রমিক শ্রেণী) এবং তিন. মার্চেন্ট সার্ভিস ( অনলাইন/অফলাইন পণ্য ব্যবসায়ী)।

ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স চ্যানেল চার ধরনের। এক. এক্সচেঞ্জ হাউজ ( ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন, মানিগ্রাম, আল-রাজী, প্রভু, সোনালী এক্সচেঞ্জ ইত্যাদি )। দুই. অনলাইন মানি ট্রান্সফার ( ট্রান্সফারওয়াইজ, জুম , ইউএই এক্সপ্রেস) । তিন. অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে (পেপ্যাল, স্ক্রিল, পেওনিয়ার ইত্যাদি) এবং চার. হুন্ডি (মানি লন্ডারিং)।

আরও পড়ুন: অনুমতি পেপ্যালে, সেবা জুমে

paypal-3

                                                                                                                      চিত্র : রেমিট্যান্সের প্রক্রিয়া

আমরা উপরের কাস্টমার রেমিট্যান্সের চ্যানেলাইজ ধরনের চিত্রটি খেয়াল করলে দেখতে পাই কিভাবে এই অনলাইন/অফলাইন মানি ট্রান্সফার প্রক্রিয়াটি কাজ করে।

প্রথমেই বলে রাখা ভাল জুম অনেক বছর ধরে রুপালী ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক এবং প্রভু মানি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে বাংলাদেশে সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

সোনালী ব্যাংকের মত বিশাল একটি রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাংক বছর ধরে বলছে পেপ্যাল নিয়ে আসছে। কিন্তু কীভাবে জুমের মাধ্যমে পেপ্যাল সেবা দেবে তা কখনও পরিষ্কার করে প্রকাশ করেনি, এতে এক ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে।

paypal-4

আমরা যদি ইন্টারনেট পেমেন্ট এবং অনলাইন মানি ট্রান্সফারের টেকনিক্যাল এবং রেগুলেটরি পার্সপেক্টিভ যাচাই করি তাহলে সহজেই বুঝতে পারি এটি ভিন্ন সেবা এবং ধরণ হিসেবেও দুটি আলাদা কোম্পানি।

অন্যান্য অনলাইন মানি ট্রান্সফার বা আগের জুম এবং বর্তমান জুমের মাঝে একটিই পার্থক্য যে, কারও পেপ্যাল অ্যাকাউন্ট থাকলে তা দিয়ে জুমে অথেনটিকেশন বেইজড লগইন করা যায় (গ্লোবাল লগইন করা যায় কিনা পরীক্ষা করা হয়নি) এবং পেপ্যাল ব্যালেন্স থেকে ফান্ড ট্রান্সফার করা যায়।
যদিও পেপ্যাল নিজেই ক্যাশ-ইন করে কার্ড বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ড ডিপোজিট করে। তাই মৌলিক পার্থক্য খুব বেশি হচ্ছে না যতদিন পেপ্যাল বাংলাদেশে অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগটি না দিচ্ছে। পেপ্যালের ওয়েবসাইটে এখনও বাংলাদেশের নাম নেই।

পেপ্যালের ২০৩ টি দেশের কাজ করার লিস্টিং থাকলেও প্রকৃতপক্ষে মাত্র ২৫ বা ২৯ টি দেশে পেপ্যাল লোকালি ফোল সার্ভিস ফাংশনাল রয়েছে। তার মধ্যে মাত্র ১০৭ টি দেশ তাদের অর্থ লোকাল ব্যাংকে উইথড্রো করতে পারে। বাকি ৯৬টি দেশ ( নেপাল, ভুটান সহ ) থেকে অ্যাকাউন্ট ওপেন করতে পারলেও গ্রাহকরা লিমিটেড বা কোনো ভ্যারিফাইড অ্যাকাউন্ট পাচ্ছেন না।

প্রকৃতপক্ষে এসব ক্ষেত্রে কান্ট্রি ইনডেক্স ছাড়া আর তেমন কিছুই নেই। এখনকার মতই ইউএস অ্যাকাউন্ট ( মাস্টার কার্ড / পেওনিয়ারের মতো) ভ্যারিফাইড মাস্টার কার্ড লাগবেই। তাই টাকা উইথড্রো করতে গেলে সেই একই পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে যা এখন আমাদের ফ্রিল্যান্সাররা করছে পেওনিয়ার বা অন্যান্য মাস্টার কার্ড দিয়ে।

আরও পড়ুন: পেপ্যাল প্রপাগান্ডা : বিভ্রান্তি, বাস্তবতা ও করণীয়

paypal-5

                                                                          চিত্র :এশিয়ার যে গুলোতে পেপ্যাল সাপোর্ট করে ( আপডেট ২৪ মে ২০১৭)

এখন জুম দিয়ে পেপ্যাল চালানো আর ব্লগ দিয়ে ইন্টারনেট চালানোর মতই মনে হয়, কারণ বাংলাদেশকে যতদিন ইন্ডেক্সই না করছে ততদিন আমরা পেপ্যালের প্রকৃত সেবা পাচ্ছি না। তাই ফ্রিল্যান্সার বা অনলাইন মার্চেন্টরা পেপ্যাল সেবা থেকে বঞ্চিত থাকছেন।

তাহলে পেপ্যালের বিকল্প কি? বাংলাদেশের প্রায় সব আইটি কোম্পানিগুলো আউটসোর্সিং কাজ করছে এবং নরমাল ব্যাংকিং চ্যানেলেই প্রতি মাসে কোনো বাধা ছাড়াই লাখ লাখ ডলার নিয়ে আসতে পারছে । ফ্রিল্যান্সাররাও সহজেই টাকা উঠাতে পারছেন লোকাল ব্যাংকে, স্ক্রিল, পেওনিয়ার, নেটেলার বা আরও অনেক সেবাদাতা ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি যারা মাস্টার কার্ড প্রভাইড করছে। পেপ্যাল অনেক সহজলভ্য এবং সুবিধা আছে কিন্তু ব্যায়বহুলও বটে। আমাদের প্রয়োজন নিজেদের পেপ্যাল বা লোকাল পেমেন্ট গেটওয়ে যা ই-কমার্সের জন্য বা পি টু পি, ইন্টার-ব্যাংক ফান্ড ট্রান্সফার করা যাবে ।

আসলে পেপ্যাল বাংলাদেশে না আসার ক্ষেত্রে সরকারের আইসিটি ডিভিশন, বাংলাদেশ ব্যাংক, বেসিস বা তথ্যপ্রযুক্তি খাতসংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের ব্যর্থতা নয়। পেপ্যাল সম্পূর্ণ স্বাধীন একটি প্রাইভেট কোম্পানি যারা তাদের প্লান, পলিসি, রোডম্যাপ, ফিজিবিলিটি, রিস্ক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়ে কর্ম-পরিকল্পনা করে থাকে।

এখন আমাদের নিজেদের প্রিপারেশনটা জরুরি।  ব্যাংকিং টেকনিক্যাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার আরও প্রস্তুত করতে হবে। আমাদের ক্রেডিট কার্ড ইউজার অনেক কম, অনলাইন ব্যাংকিং এখনও ঠিকমত শুরুই হয়নি। তবে পলিসি সাপোর্টের কোনো সমস্যা আছে বলে মনে হয় না। বাংলাদেশে পেপ্যাল বা এই ধরনের অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে নিয়ে কাজ করতে গেলে সবার আগে এটার স্টেক হোল্ডারকে অগ্রণী ভুমিকা নিত হবে।

পেপ্যাল আনার ক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক’ হচ্ছে প্রধান স্টেক হোল্ডার। তাই বাংলাদেশ ব্যাংককেই দায়িত্ব নিতে হবে, পলিসি ঠিক করতে হবে। সেক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত যে চ্যালেঞ্জগুলো আছে তাতে আমাদের সকল ব্যাংক, আইসিটি ডিভিশন, বেসিস ও সংশ্লিষ্টরা একসঙ্গে-একযোগে কাজ করলে পেপ্যাল আসাটা খুব বেশি দূরে নয়।

লেখক  ইলেক্ট্রনিক পেমেন্ট, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস, মোবাইল রেমিট্যান্স, টেলকো ভিএএস এবং মার্কেটপ্লেস নিয়ে ১০ বছরেরও বেশি সময়  ধরে দেশে-বিদেশে কাজ করছেন। বাংলাদেশের প্রথম মার্কেটপ্লেস বিল্যান্সারের উদ্যোক্তা । কানাডীয় কোম্পানি ফার্স্ট গ্লোবাল ডাটা ইনকরপোরেশন এবং সিঙ্গাপুরের এফওয়ান সফট ইন্টারন্যাশনালের সাবেক কান্ট্রি প্রধান। দেশের এসএসএল ওয়্যারলেস, আইপে লিমিটেডের মতো বিভিন্ন অর্থ লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্বও দিয়েছেন।

বাংলাদেশে ‘পেপ্যাল সেবা’ চালু

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেশে পরীক্ষামূলকভাবে পেপ্যালের সেবা(জুম) চালু করেছে সোনালী ব্যাংক।

ব্যাংকটির সবগুলো শাখায় সেবাটি দেয়ার জন্য বৃহস্পতিবার একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে। এতে  শুরুতে বৈদেশিক রেমিট্যান্স আহরণ ও বিতরণ কার্যক্রম চালুর কথা বলা হয়।

তবে ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিংয়ের অর্থ লেনদেনের সুবিধা এখনই মিলছে না।

ব্যাংকটি ইতোমধ্যেই ইলেক্ট্রনিক পেমেন্ট প্লাটফর্ম (ইপিপি) নামে একটি সফটওয়্যার তৈরি করেছে। এটি পুরোপুরি চালু হলে পেপ্যাল ও বাংলাদেশে মধ্যস্থতাকারী কোম্পানি ‘টোয়োন্টিফোর মি’ এর সঙ্গে আইটি ডেভেলমেন্ট সম্পন্নের পর ফ্রিল্যান্সাররা তাদের লেনদেন করতে পারবেন।

চলতি বছরের শেষ নাগাদ এই প্রক্রিয়াটি শেষ হতে পারে।

paypal-bangladesh.-techshohor

দেশে পেপ্যাল চালু নিয়ে দীর্ঘ জল্পনা কল্পনার শেষ নেই। ২০১৬ সালের মাঝামাঝি হতে এখন পর্যন্ত  ‘পেপ্যাল আসছে’, ‘বাংলাদেশের ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি’, ‘নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ঘোষণা’ ‘পাঁচটি ব্যাংককে বাংলাদেশ ব্যাংকের চুক্তির অনুমতি’ ইত্যাদি খরব নিয়ে আলোড়ন-আলোচনা আশাই থেকেছে।

তবে পেপ্যাল নিয়ে এসবের বাস্তব ফলাফল হচ্ছে -পেপ্যালের জুম মাধ্যমে দেশে এর সেবা চালু হওয়া।  আর এর অনুমতিই দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

সোনালী ব্যাংকও সম্প্রতি যে চুক্তি করেছে তার বিবরণে বলা হয়েছে, ‘বিশ্বের স্বনামধন্য ও বৃহত্তম রেমিট্যান্স সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান পেপ্যাল ইনকরপোরেশন, ইউএসএ (জুম কর্পোরেশন ইউএসএ) এর সাথে ড্রয়িং ব্যবস্থার আওতায় প্রাপক/উপকারভোগীকে সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের সকল শাখায় এ/সি (অ্যাকাউন্ট) ট্রান্সফার পদ্ধতিতে বৈদেশিক রেমিট্যান্স গ্রহণের সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে এ ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে।’

এসব বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য-প্রমাণ টেকশহরডটকমের কাছে রয়েছে। এছাড়া সোনালী ব্যাংকের ফরেন রেমিট্যান্স ম্যানেজমেন্ট ডিভিশনের একাধিক সূত্র বিষয়গুলো নিশ্চিত করেছেন।

2

ব্যাংকটি এ সেবার জন্য ঢাকার দিলকুশার ওয়েজ আনার্স কর্পোরেট শাখাকে নিয়ন্ত্রণকারী শাখা করেছে। এখানে পেপ্যাল (জুম) নিয়ে গ্রাহক সেবার দিতে সহায়ক ইউনিট হিসেবে দুই কর্মকর্তাকে মনোনয়ন করা হয়েছে।

এর মধ্যে ফরেন রেমিট্যান্স ডিভিশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার দেবশ্রী মিত্র টেকশহরডটকমকে জানান, সোনালী ব্যাংকই প্রথম পেপ্যাল (জুম) সেবা চালু করল। পরীক্ষামূলক সেবা সবগুলো শাখায় চালু হয়েছে। শুরুতে রেমিট্যান্স আহরণ ও বিতরণ। আর অদূর ভবিষ্যতে আউটসোর্সিং অর্থ লেনদেনের সেবাও পাওয়া যাবে এতে।

সোনালী ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের ফরেন রেমিট্যান্স ম্যানেজমেন্ট ডিভিশন হতে বৃহস্পতিবার দেশের সব জায়গায় সব ধরনের সকল শাখায় সেবাটি চালু করতে পাঠানো পরিপত্রে বলা হয়, ‘নিজেদের উদ্ভাবিত ইলেক্ট্রনিক পেমেন্ট প্লাটফর্ম (ইপিপি) এর আওতায় ডিরেক্ট ক্রেডিট সার্ভিসের মাধ্যমে বৈদেশিক রেমিট্যান্স আহরণ ও বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে এক নতুন অধ্যায়ের শুরু হয়েছে।’

‘ব্যাংকের সকল শাখায় পেপ্যাল ইনকরপোরেশন ইউএসএ (জুম কর্পোরেশন ইউএসএ) এর মাধ্যমে রেমিট্যান্সআহরণ ও বিতরণ কার্যক্রম ১৮ মে ২০১৭ তারিখ হতে প্রাথমিক পরীক্ষামূলক কার্যক্রম এর লাইভ অপারেশন (পাইলট অপারেশন) শুরু হবে। অদূর ভবিষ্যতে আউটসোর্সিংয়ের অর্থ জুম-এ পেপ্যাল সার্ভিসের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের সকল শাখায় পরিশোধ করা যাবে।’

শুরুতে দেশে পেপ্যাল ইনকরপোরেশন ইউএসএ (জুম কর্পোরেশন ইউএসএ) এর কী সেবা কীভাবে পাওয়া যাবে :

এক. রেমিট্যান্স আহরণের জন্য সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় গ্রাহক বা সুবিধাভোগীর অবশ্যই একটি সঞ্চয়ী বা চলতি হিসাব থাকতে হবে।

দুই. রেমিট্যান্স কেবলমাত্র অ্যাকাউন্ট ট্রান্সফার পদ্ধতিতে আহরণ ও বিতরণ করা যাবে। রেমিট্যান্সের অর্থ চেক বা ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে গ্রাহক ও সুবিধাভোগী পাবেন।

তিন. কেওয়াইসি নীতিমালা অনুসরণ করে সুস্থ, স্বাভাবিক বাংলাদেশী গ্রাহক, সুবিধাভোগী এই রেমিট্যান্স সুবিধা পাবেন।

চার. বিশ্বের যেকোনো দেশ হতে রেমিট্যান্স আহরণ করা যাবে।

পাঁচ. কোর ব্যাংকিং পদ্ধতিতে রেমিট্যান্স সরাসরি গ্রাহক বা সুবিধাভোগীর অ্যাকাউন্টে জমা হবে।

1

চলতি বছরের মার্চে সোনালী ব্যাংক,  অগ্রণী, রূপালী ব্যাংকের সঙ্গে সোশ্যাল ইসলামী এবং ডাচ-বাংলা ব্যাংককে এ সেবার জন্য অনুমতি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

যে মাধ্যমে পেপ্যালের সেবা সেবা চালু হল যে জুম পেপ্যালের অধিগ্রহণ করা একটি কোম্পানি। এক সঙ্গে হওয়ার আগে এটি আমেরিকাভিত্তিক অনলাইন রেমিট্যান্স কোম্পানি হিসেবে সুপরিচিত ছিল।

তবে উদ্যোগটির অন্যতম উদ্দেশ্য রেমিট্যান্স আহরণ এবং আউটসোর্সিংয়ের অর্থ সহজে দেশে আনা।

পেপ্যাল জুম সেবা চালু নিয়ে চলতি বছরের মার্চ-এপ্রিলে  যুক্তরাষ্ট্রে জুমের সঙ্গে বৈঠকে তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক তাদেরকে বাংলাদেশে কার্যক্রম দ্রুত শুরুর আহ্বান জানান।  পেপ্যাল-জুম কর্তৃপক্ষ শিগগিরই এ কার্যক্রম শুরুর কথা জানিয়েছিল।

আরও পড়ুন: 

অনুমতি পেপ্যালে, সেবা জুমে

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সরাসরি পেপ্যাল নয়, সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে  চালু হচ্ছে জুমের সেবা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক পেপ্যালের সেবা চালুর অনুমোদন দিলেও সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে সরাসরি সেবা কার্যক্রম হবে জুমের।

জুমের আর্থিক লেনদেন সেবা বাংলাদেশে চালু আছে অনেক দিন হতেই। তবে সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তিতে জুমের সেবার পরিধি ঠিক কতটুকু আর কীভাবে বাড়বে তা জানা যায়নি।

ফ্রিল্যান্সাররা যেভাবে সরাসরি পেপ্যালকে চেয়ে আসছেন সেভাবে চালুর বিষয়টি এই পেপ্যাল-সোনালী ব্যাংক চুক্তির সঙ্গে আপাতত সম্পর্কিত নয় বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।

তবে পেপ্যালের সঙ্গে কার্যক্রম শুরুর এই অনুমতি অদূর ভবিষ্যতে সরাসরি পেপ্যাল সুবিধা চালুর জন্য একটি মাইলফলক অগ্রগতি।

ফ্রিল্যান্সারদের দীর্ঘ দিনের আশা, ভারতে পেপ্যাল যেভাবে ফ্রিল্যান্সারদের টাকা দেশীয় ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি পাঠায় সেভাবে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররাও সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পেপ্যাল লেনদেন করতে পারবেন।

পেপ্যাল সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে ২০১৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে যে এমওইউ স্বাক্ষর করে তা জুম সেবা চালুর জন্য। ওই এমওইউ অনুয়ায়ী সেখানে শুধু রেমিট্যান্স সংগ্রহের বিষয়টি উল্লেখ ছিল। আর সেটিই নানা পর্যবেক্ষণ শেষে অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

পেপ্যাল তখন ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের সঙ্গেও একই ধরনের এমওইউ স্বাক্ষর করে। তবে ডাচ-বাংলা অনুমোদন পেয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

paypal-techshohor (2)

তথপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বৃহস্পতিবার এক সাক্ষাতকারে টেকশহরডটকমকে জানান, পেপ্যাল নিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। মার্চের শেষ সপ্তাহে আবারও সিলিকন ভ্যালিতে যাচ্ছি। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পেপ্যাল নিয়ে সুখবর দেয়ার আশাবাদ জানান তিনি।

এর অাগে এক অনুষ্ঠানে পলক বলেন, পেপ্যাল নিয়ে তিনি আশা ছাড়ছেন না  সরকার পেপ্যাল চালুতে আন্তরিক চেষ্টা করছে। পেপ্যালের সহযোগী জুমের সঙ্গে এমওইউ হয়েছে। দেশের চার-পাঁচটি ব্যাংকে পরীক্ষামূলক লেনদেনের কথাও জানান তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রে পেপ্যালের ভাইস প্রেসিডেন্টের সাথেও বৈঠক করেছেন প্রতিমন্ত্রী। বছর দুই আগে ওই বৈঠকে পেপ্যাল না আনা গেলেও তার বদলে মানি ট্রান্সফার কোম্পানি জুম বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর কথা জানানো হয়েছিল। পলক ওই বৈঠকে বাংলাদেশে ব্যবসায়িক সুযোগ-সুবিধা ও পলিসি সাপোর্টের বিষয়ে পেপ্যালকে আশ্বস্ত করেন।

পেপ্যালের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে সোনালী ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সব ধরণের পর্যবেক্ষণ শেষে ২০১৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে খসড়া চুক্তি প্রস্তুত করে তাতে সই করে পেপ্যালের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল। পেপ্যাল কর্তৃপক্ষও সেই খসড়ায় সই করে তা পাঠিয়ে দিয়েছেন। আমরা সেই খসড়া অনুযায়ী চুড়ান্ত চুক্তির জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতির অপেক্ষা করছিলাম।

জুম পেপ্যালের অধিগ্রহণ করা একটি কোম্পানি। এক সঙ্গে হওয়ার আগে এটি আমেরিকাভিত্তিক অনলাইন রেমিট্যান্স কোম্পানি হিসেবে সুপরিচিত ছিল। যেহেতু জুম এখন পেপ্যালের সেবা তাই সোনালী ব্যাংকের ওই চুক্তিও হচ্ছে পেপ্যালের সঙ্গে। কিন্তু সে চুক্তিতে সরাসরি পেপ্যাল সেবা দেবে তা উল্লেখ নেই।

অনলাইন আর্থিক লেনদেন বিশেষজ্ঞ এক শীর্ষ ব্যাংক কর্মকর্তা জানান , জুমের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে প্রথমে জুম ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশন প্রয়োজন হয়। রেজিস্ট্রেশনের ইমেইল ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে জুমের ওয়েবসাইটে গিয়ে টাকা পাঠাতে হয়। সেখানে টাকা পাঠানোর ‘উৎস’  ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের নম্বর(যেকোনো ব্যাংক ইস্যু ভিসা বা মাস্টার কার্ড) লাগে। অর্থ পাঠাতে বাংলাদেশের যেকোনো ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা যায়। জুমে টাকা পাঠানোর উৎস ‘পেপ্যাল অ্যাকাউন্ট’ করা যায় না। আর জুমের কোনো সরাসরি এজেন্টও নেই যে সেখানে ক্যাশ দেয়া যাবে।

এখন পেপ্যাল ও জুমের সিস্টেমের মধ্যে সমন্বয় করে জুমের ওয়েবসাইটে টাকার উৎসে পেপ্যাল অ্যাকাউন্ট না নেয়া হলে তা ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বিশেষ কিছু হবে না।

এছাড়া ফ্রিল্যান্সাররা বাংলাদেশে বসে অর্থ আয় করে থাকেন তাই এ টাকা রেমিট্যান্স বলে ধরা হয় না। সেক্ষেত্রে জুম মাধ্যমে পাঠানো ফ্রিল্যান্সারদের ওই পেপ্যাল অ্যাকাউন্টের অর্থ রেমিট্যান্স হিসেবে বিবেচনা না করা হলেও ফ্রিল্যান্সাররা খুব একটা উপকৃত হবেন না।

আল-আমীন দেওয়ান

কার্যক্রম শুরু করবে পেপ্যাল, সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি নিশ্চিত

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দীর্ঘ জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশে পেপ্যালের কার্যক্রম শুরুর ক্ষেত্রে বড় অগ্রগতি হয়েছে। এ দেশে সেবা দিতে সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি করেছে বিশ্বব্যাপী ফ্রিল্যান্সারদের অর্থ লেনদেনের জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠানটি। টেকশহরডটকমকে চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিদার মো. আব্দুর রব।

কার্যক্রম চালুর বিষয়ে খোঁজ খবর নিতে পেপ্যালের একটি দল কিছুদিন আগে ঢাকা ঘুরে গেছেন।  দেশে এ সেবা চালুর বাস্তব পরিস্থিতিসহ নানা পর্যালোচনা ও অনুসন্ধানে ফিল্ড ওয়ার্কও করেছে তারা। তাদের হয়ে দেশে এ কাজ অব্যাহত রেখেছে ‘টোয়োন্টিফোর মি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান।

পেপাল বাংলাদেশে আসছে বুধবার বিকালে টেকশহর ডটকমে এমন খবর প্রকাশের পর এ নিয়ে অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অনেকে মনে করছেন এবারও আগের মতো এটি শুধু কথার কথা। তবে এ চুক্তির মাধ্যমে কার্যক্রম শুরুর ক্ষেত্রে একধাপ অগ্রগতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, পেপালের প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশ ব্যাংক, সোনালী ব্যাংকসহ সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলাপ-আলোচনাও করে গেছে।

paypal-techshohor (2)

সোনালী ব্যাংকের এমডি দিদার মো. আব্দুর রব টেকশহর ডটকমকে জানান, ‘সব ধরণের পর্যবেক্ষণ শেষে খসড়া চুক্তি প্রস্তুত করে তাতে সই করে পেপ্যালের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল। সম্প্রতি পেপ্যাল কর্তৃপক্ষ আমাদের নিশ্চিত করেছে তারাও চুক্তিতে সই করে তা পাঠিয়ে দিয়েছেন। আশা করছি শিঘ্রই চুক্তিপত্রটি পেয়ে যাবো আমরা।’

সোনালী ব্যাংকের পক্ষে ওই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন ব্যাংকটির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) পর্যায়ের এক কর্মকর্তা।

এর ফলে বাংলাদেশে পেপ্যালের কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে আর সংশয় থাকছে না। এ চুক্তির পর কার্যক্রম শুরুর প্রক্রিয়া হাতে নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

এর আগে বুধবার বিকালে তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক দেশে পেপ্যালের কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে খুব তাড়াতাড়ি সুখবর দেওয়ার কথা টেকশহরডটকমকে জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন,”আমাদের ফ্রিল্যান্সারদের দীর্ঘদিনের দাবি পেপ্যালকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নেতৃত্বে ও তত্ত্বাবধানে আমরা দীর্ঘদিন ধরে পেপ্যালের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। আলোচনায় অনেক অগ্রগতি হয়েছে। আমরা আশাবাদী কিছুদিনের মধ্যে হয়তো একটা সুখবর দিতে পারবো।”

পেপ্যাল আসছে বিকালে এমন খবর প্রকাশের পর টেকশহর ডটকম চুক্তির বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে খোঁজ খবর নেওয়া শুরু করে। তখন দেশে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে পেপ্যাল তাদের কার্যক্রম শুরু করবে এটি নিশ্চিত করেছে সূত্র।

এর আগে বুধবার দুপুরে পেপ্যালের সঙ্গে সোনালী ব্যাংকের চুক্তির বিষয়ে এক যুগ্ম-সচিবের স্ট্যাটাসের পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। চুক্তির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কোনো দপ্তরই নিশ্চিত করছিল না। ফলে বিষয়টি নিয়ে নানা মতভেদ শুরু হয়।

স্যোশাল মিডিয়ায় এ তথ্যের যর্থাথতা নিয়ে নানা বিতর্ক চলতে থাকে। ফ্রিল্যান্সারসহ তথ্যপ্রযুক্তি খাত সংশ্লিষ্টদের অনেকেই এটিকে বরাবরের মতো আশ্বাস হিসেবে সংশয় প্রকাশ করছিলেন।

Paypal-2-techshohor

এর আগে ২০১৫ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পেপ্যালের ভাইস প্রেসিডেন্টের সাথে বৈঠক করেন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সদ্য বিদায়ী বেসিস সভাপতি শামীম আহসানও।

ওই বৈঠকে পেপ্যাল না আনা গেলেও তার বদলে মানি ট্রান্সফার কোম্পানি জুম বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর কথা জানানো হয়। প্রতিমন্ত্রী ওই বৈঠকে বাংলাদেশে বর্তমান ব্যবসায়িক সুযোগ-সুবিধা ও পলিসি সাপোর্টের বিষয়ে পেপ্যালকে আশ্বস্ত করেন।

পেপ্যালও বাংলাদেশ কার্যক্রম চালুর বিষয়ে নিজেদের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা ও বাংলাদেশে ব্যবসায়িক সম্ভাবনার বিষয়টি খতিয়ে দেখবে বলে তখন জানিয়েছে।

পলক তখন বলেছিলেন, পেপ্যালকে যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশে নিয়ে আসতে আমাদের নিরবিচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা থাকবে।

অবশেষে সেই আশ্বাস ও প্রচেষ্টা বাস্তবে রূপ নিচ্ছে।

আরও পড়ুন: 

সোনালী ব্যাংকের ৫০২ শাখায় এসএমএস ব্যাংকিং চালু

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সোনালী ব্যাংক লিমিটেড কোর ব্যাংকিংয়ের আওতায় ৫০২টি শাখায় এসএমএস ব্যাংকিং সার্ভিস চালু করেছে। আর এই এসএমএস ব্যাংকিংয়ে তাদের সহায়তা করছে এসএসএল ওয়্যারলেস।

সম্প্রতি সোনালী ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠান দুটির মধ্যে এ নিয়ে একটি চুক্তি হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, সোনালী ব্যাংকের ৫০২টি শাখার ৩২ হাজার গ্রাহককে এসএমএস ব্যাংকিং সেবা দেবে এসএসএল ওয়্যারলেস।

sonali bank

এসএমএস ব্যাংকিংয়ে গ্রাহকরা যে কোনো সময় তাদের নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর থেকে এসএমএসের মাধ্যমে সর্বশেষ ৪টি লেনদেনসহ অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স সংক্রান্ত তথ্য জানতে পারবেন।

অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠান দুটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ইমরান হোসেন মিলন

সোনালী ব্যাংকের ওয়েবসাইটে সাইবার হামলা

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : মঙ্গলবার সোনালী ব্যাংকের ওয়েবসাইট হ্যাক করে বেশ কয়েক ঘণ্টার জন্য এর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় হ্যাকাররা।

বুধবার সকালে সাইটটিতে একটি সাইনবোর্ড ঝুলতে দেখা যায়। কালো হুডিপার এক যুবকের ছবি দিয়ে সাইনবোর্ডের নিচে লিখে দেয়া হয়, ‘Hacked By K1nGnCa’, যেখানে হ্যাকারদের পরিচয় দেওয়া হয় ‘Muslim Hacker’ নামে।

Sonali Bank website hacked

তবে ওইদিন সকাল ১০টার দিকে সাইটটি আবার স্বাভাবিক চেহারায় ফিরে আসে।

এর আগে ২০১৩ সালে দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকটির একটি হিসাবের পাসওয়ার্ড হ্যাক হয়। পরে সেই হিসাব থেকে প্রায় আড়াই লাখ ডলার হাতিয়ে নেয় হ্যাকাররা।

ইমরান হোসেন মিলন