ব্যান্ডউইথের দাম কমছে আরও ২০ শতাংশ

জামান আশরাফ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ব্যান্ডউইথের মূল্য পুন:নির্ধারণের কাজ শুরু করেছে। এ দফায় অন্তত ২০ শতাংশ দাম কমছে।

নতুন এ দর দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলের ব্যান্ডউইথ পাওয়ার পর থেকে কার্যকর হবে।

এদিকে দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলটির ল্যান্ডিং স্টেশন দেশের দক্ষিণাঞ্চলে হওয়ায় সেখানে ব্যান্ডউইথের দাম আরও একটু কম করা হবে। এ জন্য খুলনায় একটি পপ (পয়েন্ট অব প্রেজেন্স) তৈরির কাজ শুরু করেছেন।

bsccl-cable-techshohor

তখন বরিশাল, খুলনা, ফরিদপুর, পটুয়াখালী, খুলনা, যশোরসহ দক্ষিণাঞ্চলের ইন্টারনেট সেবা আরও স্বল্পমূল্যে দেওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।

বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিসিএল) শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দাম কমানোর একটি খসড়া প্রস্তাব তারা ইতিমধ্যে তৈরি করেছেন। আগামী বোর্ড সভায় তা অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

বিএসসিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ার হোসেন ব্যান্ডউইথের দাম কমানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কতোটা কমানো হবে তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

বর্তমানে বিএসসিসিএলের একটি অফারের হিসেবে ১০ জিবিপিএস ভলিউমের একটি ব্যন্ডউইথের পাইকারি মূল্য প্রতি এমবিপিএস ৫৬২ টাকা।

নতুন প্যাকেজগুলো অন্তত ১০ জিবিপিএস হবে বলে জানান মনোয়ার।

এমডি জানান, এরই মধ্যে দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দেশ। তবে রাজধানী পর্যন্ত সংযোগ লাইনের কাজ শেষ না হওয়ায় নতুন ব্যান্ডউইথ পেতে আরও একটু সময় লাগবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলের বাণিজ্যিক কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। এ জন্য তার সময়সূচী পেতে এরই মধ্যে আবেদন করা হয়েছে বলে জানান মনোয়ার।

চলতি মাসেই বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর চেষ্টা চলছে। এর মাধ্যমে দেশে ইন্টারনেট সেবা আরও সহজলভ্য ও দ্রুততর হবে বলে মনে করেন এ কর্মকর্তা।

গত ২১ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলে যুক্ত হয় বাংলাদেশ। তবে তখন ঢাকা থেকে কুয়াকাটা ল্যান্ডিং স্টেশনের ট্রান্সমিশন লিংক সম্পূর্ণ না হওয়ায় বাণিজ্যিক কার্যক্রমের জন্য চালু করা যায়নি।

কর্মকর্তারা জানান, নতুন কেবলের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর অতিরিক্ত ব্যান্ডউইডথ রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে এখন রপ্তানির চেয়ে দেশের মধ্যে সেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে আগ্রহ বেশি বিএসসিসিএলের।

এমডি বলেন, ইতোমধ্যে ভুটান, নেপাল, ভারতের সাত রাজ্যসহ মালয়েশিয়া, মিয়ানমারে রপ্তানির চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে রপ্তানির ক্ষেত্রে মূল্য দেশ অনুযায়ী ভিন্ন হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বর্তমানে ভারতে ১০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ রপ্তানি করা হচ্ছে। এর মূল্য ৮০০ টাকা প্রতি এমবিপিএস।

এর বিপরীতে ভারত থেকে বাংলাদেশ প্রায় আড়াইশ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ আমদানি করে। মূলত বেসরকারি ইন্টারনেট সেবা দাতা প্রতিষ্ঠান আমদানি করে, যার গড় মূল্য প্রতি এমবিপিএস তিন থেকে সাড়ে তিনশ টাকা। দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল চালু হলে আমদানির পরিমান নিশ্চিতভাবে কমবে।

২০১৬ সালের শেষ নাগাদ দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলে যুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও নানা কারণে তা চলতি বছরে গড়িয়ে যায়।

দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলে সংযুক্ত হওয়ায় বাংলাদেশ অতিরিক্ত ১ হাজার ৫০০ গিগাবাইটের (জিবি) বেশি ব্যান্ডউইডথ পাচ্ছে। নতুন এ সাবমেরিন কেবলের মেয়াদকাল ২০ থেকে ২৫ বছর।

এর আগে ২০০৫ সালে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো সাবমেরিন ক্যাবল ‘সি-মি-ইউ-৪’ এ যুক্ত হয়, যার মাধ্যমে প্রায় ২০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ পাওয়ার সক্ষমতা রয়েছে।

ইন্টারনেটে গতি ফিরতে আরও অপেক্ষা

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ইন্টারনেটের ধীর গতির সমাধান এখনই হচ্ছে না। এ ভোগান্তি মেনেই আরও কিছু দিন ওয়েসবাইট ব্রাউজ করতে হবে। ভারতের তিনটি সাবমেরিন কেবল কাটা পড়ায় গত এক মাস ধরে বেশ ঝামেলায় রয়েছেন নেট ব্যবহারকারীরা।

সংশ্লিষ্টরা হিসাব কষেছিলেন ২০ জানুয়ারির মধ্যে কেবলগুলোর মেরামত কাজ শেষ হলেই গতি আগের অবস্থায় ফিরবে। তবে সর্বশেষ খবর হলো এ সময়ের মধ্যে একটিরও মেরামত শেষ হয়নি। এ জন্য আরও এক থেকে দেড় সপ্তাহ সময় লাগবে বলে ভারতীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এদিকে সাবমেরিন কেবল কাটা পড়ায় ভারতেও ইন্টারনেটের গতি স্লথ হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে গতি স্বাভাবিক রাখতে এর মধ্যে ভারতীয় এয়ারটেল বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানির (বিএসসিসিএল) কাছ থেকে এক মাসের জন্য ৫০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ নিয়েছে।

internet problem_techshor

ফাইবার অ্যাট হোমের চিফ স্ট্রাটেজিক অফিসার সুমন আহমেদ সাবির বলেছেন, কেবলগুলোর মেরামত শেষ না হলে নেটের সংযোগ থাকলেও গতি আগের পর্যায়ে আসতে আরও সময় লাগবে।

ভারত থেকে যে ছয়টি কোম্পানি দেশের জন্য ব্যান্ডউইথ আমদানি করে ফাইবার অ্যাট হোম তাদের অন্যতম।

এ দিকে সম্প্রতি এক প্রেস বিজ্ঞপিতে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন (আইএসপিএবি) জানায়, দেশে বর্তমানে দৈনিক ইন্টারনেট ব্যবহারের পরিমাণ ৪০০ জিবিপিএস অতিক্রম করেছে।

এরমধ্যে বিএসসিসিএল সরবরাহ করে ১২০ জিবিপিএস। বাকি ২৮০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ ভারত থেকে আমদানি করে ছয়টি কোম্পানি।

ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের প্রায় ৭৫ শতাংশ ভারতমুখী হয়ে পড়ার কারণেই দেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা এ অবস্থায় পড়েছে বলে জানান সুমন।

বকেয়া ৬ লাখ ডলার, আরও ব্যন্ডউইথ চায় ভারত

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বাংলাদেশ থেকে নেওয়া ব্যান্ডউইথের চাহিদা বাড়াচ্ছে ভারতে। ১০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথের জায়গায় দ্বিগুণ পরিমান আমদানি করতে চায় দেশটি।

এদিকে আগের রফতানি আয়ের দুই কিস্তির ৬ লাখ ডলার এখনও বকেয়া রয়েছে। এ অর্থ অবশ্য দ্রুত পরিশোধে প্রতিবেশি দেশটির কর্মকর্তারা গত বুধবার এক বৈঠকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

সূত্র জানায়, নতুন করে বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল লিমিটেডের (বিএসসিসিএল) কাছ থেকে আরও ১০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ নিতে ওইদিন কলকাতায় চুক্তি করেছে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি ভারত সঞ্চার নিগম লিমিটেড (বিএসএনএল)।

bsccl-cable-techshohor

এর আগে ২০১৫ সালে দুই পক্ষের মধ্যে ৪০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ আমদানি-রপ্তানির চুক্তি হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী গত বছরের ফেব্রুয়ারি ব্যান্ডউইথ নেওয়া শুরু করে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। এখন পর্যন্ত তারা ৯ জিবি পর্যন্ত ব্যান্ডউইথ নিচ্ছিল।

ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় ছাড়াও উত্তরপূর্বের সাতটি রাজ্যের জন্য ব্রাক্ষমনবাড়িয়ার আখাউড়া থেকে এই ব্যান্ডউইথ নিচ্ছিল ভারত।

এর মধ্যে ত্রিপুরাসহ উত্তরপূর্ব ভারতে ইন্টারনেট পরিসেবার মোট চাহিদার তুলনায় এর পরিমান অনেক কম। এ কারণে বিএসএনএল বর্তমান চাহিদা বাড়িয়ে দ্বিগুণ করছে।

বুধবার সন্ধ্যায় কলকাতার নবটেল হোটেল বিএসএনএল ও বিএসসিসিএলের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে এক আলোচনায় বিষয়টি চূড়ান্ত হয়।

সূত্র জানায়, বৈঠকে নতুন চাহিদা ও আগের চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশকে সঠিক সময়ে বিল পরিশোধ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। বিএসএফের ইর্স্টান জোনের চিফ জেনারেল ম্যানেজার নিভাস ও বিএসসিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ার হোসেন নিজ দেশের পক্ষে বৈঠকে নেতৃত্ব দেন।

এ বিষয়ে বিএসসিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ার হোসেন বলেন, ‌’এটা সরকারের একটা বড় সাফল্য। এ মুহুর্তে এ থেকে আয় হচ্ছে ১০ কোটি টাকা। বিএসএনএল ব্যান্ডউইথ রফতানি দ্বিগুণ করায় তা চলতি বছরই ২০ কোটি টাকা হবে।’

দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল যুগ শুরু ২১ ফেব্রুয়ারি

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ইন্টারনেট সংযোগে নতুন যুগে প্রবেশ করছে দেশ। নতুন বছরেই দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলের শুভ সূচনা হবে । আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি এ সংযোগে যুক্ত হওয়ার দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়েছে।

সিম-মি-উই-৫ বা দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলে সংযোগের কাজ এর আগেই সম্পন্ন হবে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন টেলিযোগাযোগ সচিব মো. ফায়েজুর রহমান চৌধুরী।

এ কেবলে যুক্ত হলে দেশ আরও এক হাজার ৪০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ পাবে।

telecom-techshohor

সিম-মি-উই-৫ কেবলটি ইতিমধ্যে পটুয়াখালির কুয়াকাটার কাছাকাছি আনা হয়েছে বলে জানান ফায়েজুর, যিনি রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলের (বিএসসিসিএল) চেয়ারম্যানও।

ওই দিন বিএসসিসিএল এ কেবলে যুক্ত হলেও ঢাকায় বা দেশের অন্যান্য স্থানে ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করতে ট্রান্সমিশন লিংক এখনও তৈরি হয়নি। তবে নানা জটিলতা কাটিয়ে ফেব্রুয়ারির মধ্যে সেটিও হয়ে যাবে বলে জানান বিএসসিসিএল চেয়ারম্যান।

২০১৪ সালের মার্চে বিএসসিসিএল সিম-মি-উই-৫ কনসোর্টিয়ামে যুক্ত হওয়ার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়।

গত ১৩ ডিসেম্বর সিম-মি-উই-৫ কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছে সমুদ্রের তলদেশে কেবল স্থাপনের কাজ শেষ করেছেন তারা।

এদিকে সম্প্রতি কারিগরি উন্নতির মাধ্যমে বিদ্যমান সিম-মি-উই-৪ কেবলের ক্ষমতা ১০০ জিবিপিএস বাড়ানো হয়েছে। আগে এর পরিমান ছিল ২০০ জিবিপিএস।

বর্তমানে চালু থাকা সিম-মি-উই-৪ কনসোর্টটিয়ামটির কিছু কারিগরি উন্নতির মাধ্যমে ব্যান্ডউইথের এ ক্ষমতা করা হয় বলে জানিয়েছেন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ার হোসেন।

এদিকে মোট ব্যান্ডউইথের মধ্যে এখন মাত্র ১৭৬ জিবিপিএস ব্যবহার হচ্ছে। এর মধ্যে ভারতে রফতানি হচ্ছে ১০ জিবিপিএস।

ব্যান্ডউইথের পরিমান বৃদ্ধি ও নতুন ব্রান্ডউইথ যুক্ত হলে তা বিভিন্ন দেশে রফতানি করতে কর্মপরিকল্পনা সাজাচ্ছে বিএসসিসিএল।

তাছাড়া দেশের ভেতরে ব্যান্ডউইথের পাইকারি পর্যায়ে দাম কমিয়ে বিক্রি বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন মনোয়ার। তার মতে, সামনের দিনগুলোতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসবে সেবার গুনগত মানে। ডেটা ও ভয়েস উভয় ক্ষেত্রেই তা পরিলক্ষিত হবে।

নতুন সাবমেরিন কেবলে যুক্ত হওয়ার আগেই সিম-মি-উই-৪ এর সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যান্ডউইথের পাইকারি মূল্য আরও একবার কমানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলেও জানান বিএসসিসিএল এমডি।

সাবমেরিন কেবলের ক্ষমতা বেড়ে ৩০০ জিবিপিএস, দামও কমছে

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : নতুন সাবমেরিন কেবলে যুক্ত হওয়ার আগেই ব্যান্ডউইথ সরবরাহের ক্ষমতা বেড়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলের (বিএসসিসিএল)। কারিগরি উন্নতির মাধ্যমে আগের ক্যাবলের ক্ষমতা ১০০ জিবিপিএস বেড়ে এখন এখন তিনশ জিবিপিএসে উন্নীত হয়েছে।

বর্তমানে চালু থাকা সিম-মি-উই-৪ কনসোর্টটিয়ামটির কিছু কারিগরি উন্নতির মাধ্যমে ব্যান্ডউইথের এ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় বলে জানিয়েছেন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ার হোসেন।

কিছুদিন আগেও বিএসসিসিএলের মোট ব্যান্ডউইথের ক্ষমতা ছিল ২০০ জিবিপিএস। অল্প দিনের মধ্যে বিএসসিসি এলসিম-মি-উই-৫ এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাবে। এটির ল্যান্ডিং স্টেশনের কাজও প্রায় শেষ। এ সংযোগ থেকে পাওয়া যাবে আরও ১৪০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ।

bsccl-cable-techshohor

এদিকে মোট ব্যান্ডউইথের মধ্যে এখন মাত্র ১৭৬ জিবিপিএস ব্যবহার হচ্ছে বলে জানান কোম্পানির এমডি। এর মধ্যে ভারতে রপ্তানি হচ্ছে ১০ জিবিপিএস।

ব্যান্ডউইথের পরিমান বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন দেশে রপ্তানিকেই প্রধান লক্ষ্য নির্ধারণ করে কর্মপরিকল্পনা সাজাচ্ছে বিএসসিসিএল। তাছাড়া দেশের ভেতরে ব্যান্ডউইথের পাইকারি পর্যায়ে দাম কমিয়ে বিক্রি বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন মনোয়ার। তার মতে, সামনের দিনগুলোতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসবে সেবার গুনগত মানে। ডেটা ও ভয়েস উভয় ক্ষেত্রেই পরিলক্ষিত হবে।

নতুন সাবমেরিন কেবলে যুক্ত হওয়ার আগেই সিম-মি-উই-৪ এর সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এটির ওপর নির্ভর করেই ব্যান্ডউইথের পাইকারি মূল্য আরও একবার কমানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলেও জানান বিএসসিসিএল এমডি।

ভারতের দ্বিগুণ মূল্যে ব্যান্ডউইথ যাবে ভুটানে

অনন্য ইসলাম, টেকশহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ভুটানে ব্যান্ডউইথ রপ্তানিতে আরেক ধাপ অগ্রগতি হয়েছে। প্রতিবেশি দেশটিতে ব্যান্ডউইথ বিক্রির দামও মোটামুটি নির্ধারিত হয়েছে।

ভারতে যে দামে ব্যান্ডউইথ রপ্তানি করা হয়েছে তার চেয়ে দ্বিগুণ মূল্যে ব্যান্ডউইথ যাবে পাহাড় বেষ্টিত দেশটিতে। ঢাকা সফররত ভুটানের প্রতিনিধি দলটি এ দাম দিতে আগ্রহী বলে জানা গেছে।

প্রতিনিধি দলটিকে ইতিমধ্যে জানানো হয়েছে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি (বিএসসিসিএল) প্রতি জিবিপিএস ব্যান্ডউইথের মূল্য ২০ হাজার ডলার নির্ধারণ করবে।

bsccl-techshohor

এ প্রস্তাবে সফরকারীরা বেশ খুশি বলেই মনে হয়েছে, বলে উল্লেখ করেন বিএসসিসিএলেল ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ার হোসেন।

এর আগে চলতি বছরের শুরুর দিকে ভারতের ত্রিপুরায় প্রতি জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ ১০ হাজার ডলার দামে রপ্তানি শুরু হয়।

এ সফরে ভুটানের প্রতিনিধি দলকে রপ্তানির বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারকের খসড়া দেওয়া হবে বলেও জানান ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

শীর্ষ এ কর্মকর্তা বলেন, ভুটান এখন ভারত থেকে ৬৫ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ নেয়। প্রতি জিবিপিএস ব্যান্ডউইথের দাম দেয় ৫২ হাজার ডলারে। দামের কারণেও বাংলাদেশ থেকে তাদের ব্যান্ডউইথের চাহিদা বাড়বে।

তবে আপাতত তারা পাঁচ জিবিপিএস দিয়ে শুরু করতে পারে বলে জানিয়েছেন, মনোয়ার।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর ভুটানের প্রতিনিধি দলটি ঢাকায় আসে। বাংলাদেশ থেকে ব্যান্ডউইথ নেয়ার বিষয়ে কারিগরি সম্ভাব্যতা যাচাই, উভয় দেশের মধ্যে টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়ন এবং এ খাতের উভয় দেশের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিভিন্ন বৈঠক ও আলোচনা করে দলটি। শুক্রবার ঢাকা ত্যাগ করে তারা।

internet service providers-techshohor

এর আগে গত মাসের শুরুতে টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের ভুটান সফরের সময় তারা প্রথম বাংলাদেশ থেকে ব্যান্ডউইথ নেওয়ার প্রস্তাব দেয়। এর প্রেক্ষিতে ঢাকা সফরে আসে দেশটির একটি সরকারি প্রতিনিধি দল।

ভুটানিদের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশ থেকে ব্যান্ডউইথ নেওয়ার পাঁচটি বিকল্প রুট নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে বিএসসিসিএল এমডি বলছেন, তাদের সবচেয়ে পছন্দের রুট হলো সিলেট-তামাবিল-শিলং-গোহাটি রুট। এ রুটে ২৩৫ কিলোমিটার দূরত্ব।

বর্তমানে সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানির হাতে আছে ২০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ রয়েছে।

বাংলাদেশ আরও ১৩০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ পেতে যাচ্ছে। আগামী জানুয়ারির মধ্যে কুয়াকাটায় দ্বিতীয় ভূর্গভস্থ সাবমেরিন ক্যাবলের সঙ্গে সংযুক্ত হলে বিএসসিসিএলের হাতে বিপুল এ ব্যান্ডউইথড যোগ হবে।

এর একটি বড় অংশ রপ্তানি করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন বিএসসিসিএলের বিদায়ী ব্যবস্থাপনা পারিচালক।

আটকে আছে দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল সংযোগের কাজ

অনন্য ইসলাম, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর: মে মাসের পর থেকে দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল সংযোগ স্থাপনের কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে আছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাগরে অনেক স্রোত থাকার কারণেই কাজ বন্ধ করা হয়েছে। আগামী নভেম্বর মাস পর্যন্ত তা বন্ধ থাকবে।

বাংলাদেশ দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কাজটি করছে বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল)।

কাজ বন্ধ থাকার কথা স্বীকার করেছেন বিএসসিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ মনোয়ার হোসেনও।

submarine cable-TechShohor

দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল ল্যান্ডিং স্টেশন হবে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায়। আর মে মাস শুরু হতে না হতেই সাগরে ভীষণ স্রোত হয়। সে কারণে কুয়াকাটার দশ কিলোমিটারের মধ্যে কেবল চলে আসলেও বাকি কাজ শেষ করা যাচ্ছে না, বলছেন মনোয়ার হোসেন।

সাউথ ইস্ট এশিয়া-মিডল ইস্ট-ওয়েস্টার্ন ইউরোপ-৫ (এসইএ-এমই-ডব্লিউই-৫) নামের দ্বিতীয় এ সাবমেরিন কেবলে সাগরের নিচ দিয়ে সিঙ্গাপুর থেকে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলংকা ও মায়ানমার হয়ে বাংলাদেশ পর্যন্ত ২৫ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ কেবল স্থাপন করা হচ্ছে।

প্রাথমিক পরিকল্পনা হিসেবে এ বছরের মধ্যেই এসইএ-এমই-ডব্লিউই-৫ কেবলের সঙ্গে বাংলাদেশের সংযুক্ত হওয়ার কথা ছিল বলে জানান মনোয়ার হোসেন।

তবে এখন সেটি আগামী বছরের প্রথম প্রান্তিকে চলে যাচ্ছে, বলেন মনোয়ার। এদিকে গত জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। আরো একবছরের জন্যে মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

৬৬০ কোটি ৬৪ লাখ টাকার প্রকল্পটিতে সরকার দিচ্ছে ১৬৬ কোটি টাকা। বাস্তবায়নকারী সংস্থা বিএসসিসিএল ১৪৪ কোটি টাকা এবং বাকি ৩৫২ কোটি টাকা প্রকল্প সাহায্য থেকে জোগান দেওয়া হবে। কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এসব অর্থ সংস্থানের কাজেও ধীরগতি এসেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

১৪ দেশের ১৬ কোম্পানি নিয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক একটি কনসোর্টিয়ামের অধীনে এ সাবমেরিন কেবল সিস্টেম পরিচালিত হয়, যার মধ্যে রয়েছে ফ্রান্স, ইতালি, আলজেরিয়া, তিউনিশিয়া, মিসর, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমরিাত, পাকিস্তান, ভারত, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মায়ানমার।

প্রকল্পের আওতায় কনসোর্টিয়ামের পক্ষ থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত কেবল সংযোগ স্থাপন করে দেওয়ার পর সেখান থেকে বাড়তি ৩০০ কিলোমিটার কেবলের মাধ্যমে কুয়াকাটা ল্যান্ডিং স্টেশন পর্যন্ত সংযোগ নিয়ে যাওয়া হবে।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটায় ১০ একর জমিতে এ স্টেশন স্থাপনসহ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বিএসসিসিএল।

এর আগে ২০০৫ সালে একই কনসোর্টিয়ামের অধীনে এসইএ-এমই-ডব্লিউই-৪ নামে প্রথম সাবমেরিন কেবলের সঙ্গে যুক্ত হয় বাংলাদেশ। ২০ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ প্রথম সাবমেরিন কেবলের ল্যান্ডিং স্টেশন কক্সবাজারের ঝিলংজাতে।

কোনো কারণে প্রথম সাবমেরিন কেবল সংযোগ বিচ্ছিন্ন বা অকার্যকর হলে দ্বিতীয়টি বিকল্প হিসেবে বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশকে নিরবিচ্ছিন্নভাবে সংযুক্ত রাখবে। আর এখান থেকে মোট ব্যান্ডউইথ পাওয়া যাবে ১,৩০০ জিবিপিএস, যা আশপাশের দেশগুলোতে রপ্তানি করেও অনেক টাকা আয় করা সম্ভব হবে।

আইএসপি লাইসেন্স নিল বিএসসিসিএল

অনন্য ইসলাম, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ব্যান্ডউইথের খুচরা ব্যবসাতেও নামছে দেশের একমাত্র সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি বিএসসিসিএল।

এজন্য বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড(বিএসসিসিএল) ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারের (আইএসপি) লাইসেন্স নিয়েছে।

সম্প্রতি টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের কাছ থেকে এই লাইসেন্স নিয়েছেন বলে টেকশহরকে জানিয়েছেন বিএসসিসিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ার হোসেন।

মঙ্গলবার তিনি বলেন, কারও ব্যবসা নিয়ে নেয়া নয় বরং গ্রাহকদেরকে আরও গুনগত সেবা দেওয়ার জন্যেই আইএসপি লাইসেন্স নেয়া হয়েছে।

এরআগে বিএসসিসিএল ইন্টারনেট গেটওয়ে অপারেটরের (আইআইজি) লাইসেন্স নিয়েছে।

internet-techshohor

ফলে সাবমেরিনের সঙ্গে সংযোগের পর ব্যান্ডউইথের পাইকারি ব্যবসায়ী হিসেবে যেমন বিএসসিসিএল কাজ করছে একইভাবে এখন খুচরা বাজারেও তারা ব্যবসা চালাতে পারবেন।

বাজারে খুচরা পর্যায়ে ব্যবসা শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ব্যবসা শুরু করতে যাচ্ছে বিএসসিসিএল।

চলতি সপ্তাহেই ভারতের সঙ্গে চুক্তির পাশাপাশি ইতালিতেও ব্যান্ডউইথ রপ্তানি করতে যাচ্ছে বিএসসিসিএল।

বর্তমানে বিএসসিসিএলের ক্ষমতায় থাকা ২০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউথের মাত্র ৩২ জিবিপিএস দেশের মধ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে। এক সময় তারা ৪৩ জিবিপিএস পর্যন্ত ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করতো।

আইএসপি লাইসেন্স নেওয়ার মাধ্যমে দেশের বাজারে তাদের সেবার পরিধি আরো বাড়বে বলেও জানিয়েছেন মনোয়ার হোসেন। একই সঙ্গে রপ্তানি থেকেও তাদের আয় আগের চেয়ে বাড়বে।

নামমাত্র মূল্যে ব্যান্ডউইথ রপ্তানি হবে ইতালিতে

অনন্য ইসলাম, টেকশহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : এবার ব্যন্ডউইথ রপ্তানি হচ্ছে ইতালিতে। তবে মূল্য ধরা হয়েছে খুবই কম। ভারতে রপ্তানিতে যে মূল্য ধরা হয়েছে, এর ছয় ভাগের এক ভাগ দামে ইতালির একটি কোম্পানির কাছে ব্যান্ডউইথ বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিএসসিসিএল।

টেলিকম ইতালিয়া স্পার্কালস নামের কোম্পানিটি বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানির (বিএসসিসিএল) কাছ থেকে ১০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ নেবে। এর মূল্য ধরা হয়েছে মাসে ১৪ হাজার মার্কিন ডলার। অথচ সমপরিমান ব্যান্ডউইথ ভারতে রপ্তানি হবে প্রতি মাসে এক লাখ ডলারে।

প্রস্তাবটি সাবমেরিন কেবল কোম্পানির বোর্ডে পাস হয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে গেছে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য। খবরটি নিশ্চিত করেছেন, বিএসসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ার হোসেন।

আরও পড়ুন: ভারতে ব্যান্ডউইথ রপ্তানি চুক্তি মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

bsccl_techshohor

একদম নামমাত্র মূল্যে বিক্রির বিষয়ে মনোয়ার হোসেন বলেন, কোম্পানির কাছে এখন অনেক অব্যবহৃত ব্যান্ডউইথ পড়ে আছে। সেটিকে যতোটা সম্ভব কাজে লাগিয়ে টাকা আয় করার পরিকল্পনা করছেন তারা।

ভারতের সঙ্গে দামের পার্থক্যের বিষয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ভারতের পূর্বাঞ্চালের সাতটি রাজ্যের ক্ষেত্রে সাগর থেকে সরাসরি রপ্তানি হবে না। এ জন্য স্থলভাগে সংযোগের প্রয়োজন হবে। তাই দাম একটু বেশি। অন্যদিকে ইতালিতে রপ্তানির ক্ষেত্রে সাগরের সংযোগ কেবল থেকে সরাসরি দেওয়া যাবে বলে দাম কম ধরা হয়েছে।

এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে ইতালিয়া স্পার্কালস বিএসসিসিএলের আওতাধীন সাবমেরিন কেবলের ক্ষমতার অর্ধেকটা কিনে নিতে প্রস্তাব দিয়েছিল। এর মূল্য ধরা হয়েছিল ১৬ কোটি টাকা। এত কম দামে এত বেশি ব্যান্ডউইথ বিক্রির বিষয়ে সমালোচনা শুরু হলে সেই প্রস্তাব বাতিল করা হয়। এরপর নতুন করে প্রস্তাব দেয় ইতালির কোম্পানিটি।

Submarine_cable_TechShohor

প্রাথমিকভাবে এক বছরের জন্য হবে চুক্তি। পরে সেটি আরও বাড়ানোর সুযোগ থাকছে বলে জানিয়েছেন মনোয়ার হোসেন।

এতে বছরে বিএসসিসিএলের ১ কোটি ৩১ লাখ টাকা আয়ের সুযোগ তৈরি হবে।

বর্তমানে সাবমেরিন কেবলের হাতে আছে ২০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ। এর মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যবহার হচ্ছে মাত্র ৩২ জিবিপিএস।

আরও পড়ুন: 

দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল প্রকল্পের অনুমোদন

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলে যুক্ত হওয়ার কাজ অনেক আগেই শুরু করেছে সরকার। আগামী বছরের শেষ দিকে নতুন এ নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার কাজও চলছে জোরেশোরে। প্রকল্প শুরুর দুই বছরের বেশি সময় পর এবার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হলো।

আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার কাছ থেকে ঋণ পেতে ৬৬০ কোটি টাকার এ প্রকল্প মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়।

শেরে বাংলা নগরে এনইসি’র সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ আরও ১ হাজার ৩০০ জিবিপিএস ব্যান্ডইউডথের মালিক হবে।

আরও পড়ুন: দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের পথে বাংলাদেশ, চুক্তি সই

Submarine_cable_TechShohor

প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৬০ কোটি ৬৪ লাখ টাকা, এর মধ্যে সরকার ১৬৬ কোটি টাকা, বাস্তবায়নকারী সংস্থা বিএসসিসিএল ১৪৪ কোটি টাকা এবং বাকি ৩৫২ কোটি টাকা প্রকল্প সাহায্য থেকে জোগান দেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংকের ( আইডিবি) শর্ত অনুযায়ী দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলে যুক্ত হতে এখন আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের জন্য একনেকে উপস্থাপন করা হলো। সংস্থাটি ৪৪ মিলিয়ন ডলার ঋণ দেবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৩ সালের মার্চে কনসোর্টিয়ামে যুক্ত হতে চুক্তি করে বাংলাদেশ। এরপর অবকাঠামো উন্নয়নের অন্যান্য কাজও শুরু করা হয়।

সাউথ ইস্ট এশিয়া-মিডল ইস্ট-ওয়েস্টার্ন ইউরোপ-৫ (এসইএ-এমই-ডব্লিউই-৫) নামের দ্বিতীয় এ সাবমেরিন কেবলে সাগরের নিচ দিয়ে সিঙ্গাপুর থেকে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলংকা ও মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশ পর্যন্ত ২৫ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ কেবল স্থাপন করা হবে।

এটি ভারত মহাসাগর, বঙ্গোপসাগর, আরব সাগর, লোহিত সাগর এবং ভূ-মধ্যসাগরে অবস্থিত। বাংলাদেশে এটির ল্যান্ডিং স্টেশন হবে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায়।

আঞ্চলিক সাবমেরিন টেলিযোগাযোগ প্রকল্প নামের এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক সাবমেরিন যোগাযোগ ব্যবস্থার বহুমুখীকরণ, দেশের অতিরিক্ত ব্যান্ডউইডথ (ডাটা ও ভয়েসের ক্ষেত্রে) চাহিদা পূরণের পাশাপাশি সফটওয়্যার রপ্তানি, ডাটা এন্ট্রি ও ফ্রিল্যান্সিংসহ তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে উন্নত সেবা নিশ্চিত হবে।

১৪ দেশের ১৬ কোম্পানি নিয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক একটি কনসোর্টিয়ামের অধীনে এ সাবমেরিন কেবল সিস্টেম পরিচালিত হয়, যার মধ্যে রয়েছে ফ্রান্স, ইতালি, আলজেরিয়া, তিউনিশিয়া, মিসর, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমরিাত, পাকিস্তান, ভারত, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মিয়ানমার।

প্রকল্পের আওতায় কনসোর্টিয়ামের পক্ষ থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত কেবল সংযোগ স্থাপন করে দেওয়ার পর সেখান থেকে বাড়তি ৩০০ কিলোমিটার কেবলের মাধ্যমে কুয়াকাটা ল্যান্ডিং স্টেশন পর্যন্ত সংযোগ নিয়ে যাওয়া হবে।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটায় ১০ একর জমিতে এ স্টেশন স্থাপনসহ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল)।

কোনো কারণে প্রথম সাবমেরিন কেবল সংযোগ বিচ্ছিন্ন বা অকার্যকর হলে দ্বিতীয়টি বিকল্প হিসেবে বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশকে নিরবিচ্ছিন্নভাবে সংযুক্ত রাখবে।
২০০৫ সালে একই কনসোর্টিয়ামের অধীনে এসইএ-এমই-ডব্লিউই-৪ নামে প্রথম সাবমেরিন কেবলের সঙ্গে যুক্ত হয় বাংলাদেশ।

২০ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ প্রথম সাবমেরিন কেবলের ল্যান্ডিং স্টেশন কক্সবাজারের ঝিলংজাতে।

আরও পড়ুন: