পানির মতো ইন্টারনেটেও ফিল্টার করতে হবে : পলক

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, পানির অপর নাম জীবন হলেও সব পানি আমরা খাই না। বিশুদ্ধ পানি খাই। এজন্য দরকার ফিল্টারিং। তেমনি ইন্টারনেটও ফিল্টার করে ব্যবহার করতে হবে। তা না হলে জীবন হুমকীর মুখে পড়বে।

বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট মিলনায়তনে ‘সাইবার সিকিউরিটি অ্যাওয়ারনেস ফর উইমেন এমপাওয়ারমেন্ট’ শীর্ষক এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এই কর্মসূচীর আওতায় দেশব্যাপী আট বিভাগের ৪০টি স্কুল ও কলেজের প্রায় ১০ হাজার ছাত্রীকে সাইবার সিকিউরিটি নিয়ে সচেতন করা হবে। সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের আওতাধীন কন্ট্রোলার অফ সার্টিফায়িং অথোরিটিজ (সিসিএ) দেশব্যাপী এই কর্মশালার আয়োজন করেছে।

Internet-Filter-Techshohor

জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান না থাকলেও, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যৌথ আলোচনায় দেখা গেছে, দেশে সাইবার অপরাধের শিকার মানুষের বড় অংশটি অল্পবয়সী নারী বা কিশোরীরা। এসব অল্প বয়সী মেয়ের আক্রন্ত হবার ঝুঁকিও থাকে বেশি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, অল্প বয়সী মেয়েরা যখন কেউ সাইবার অপরাধের শিকার হয়, অনেক সময় তারা বুঝতে পারেনা কি করবে, কাকে জানাবে। অনেকে এমনকি আদৌ কাউকে জানায়ও না। নীরবে হয়রানির শিকার হতে থাকে। এসব হয়রানি ঠেকাতে এবং সাইবার অপরাধের শিকার হলে করনীয় সম্পর্কে সচেতন করতেই স্কুল ছাত্রীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

কর্মশালা থেকে পাওয়া তথ্য ও উপাত্ত বিশ্লেষণ করে আগামীতে সাইবার অপরাধ মোকাবেলায় নিজেরাই আরো বেশি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে বলে বলেন তিনি।

উদ্বোধন পর্ব শেষে কর্মশালায় বিভিন্ন স্কুল কলেজের ছয় শতাধিক ছাত্রী অংশ নেয়।

সিসিএ-এর নিয়ন্ত্রক আবুল মানসুর মোহাম্মদ সারফ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য প্রফেসর মো. আখতারুজ্জামান, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এস এম ওয়াহিদুজ্জামান এবং ফোর ডি কমিউনিকেশনস লিমিটেডের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক আবদুল্লাহ আল ইমরান। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সিসিএ-এর উপ-নিয়ন্ত্রক আবদুল্লাহ মাহমুদ ফারুক, অধ্যাপক কাজী শরিফুল ইসলাম, বিআইজেএফএর সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ কাওছার উদ্দীন।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা সাইবার অপরাধ ও সংশ্লিষ্ট আইনের ব্যখ্যা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিরাপদে বিচরণের কৌশল সমূহ, অপরাধ সংঘটিত হলে তা থেকে পরিত্রানের উপায়, সহায়তা পাওয়ার জন্য সংশিষ্ট দপ্তর সমুহের নাম্বার, অভিযোগ দাখিল করার সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি এবং পরিত্রাণের উপায় সম্পর্কে সম্মুখ ধারণা লাভ করেন।

কর্মশালা আয়োজনে সহযোগী ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইটি সোসাইটি (ডিইউআইটিএস)।

ইমরান হোসেন মিলন

সাইবার সুরক্ষায় ১৫০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সকল ওয়েবসাইটে সাইবার হুমকি চিহ্নিতকরণ, ব্লকিং, নিয়ন্ত্রণ ও সাইবার সন্ত্রাস হতে জনগণকে সুরক্ষা দিতে প্রায় ১৫০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন করেছে সরকার।

মঙ্গলবার শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ‘সাইবার থ্রেট ডিটেকশন ও রেসপন্স’ নামে এ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সরকারি অর্থায়নে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪৯ কোটি ৫২ লাখ টাকা। ২০১৮ সালের মে মাসের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করা হবে। যদিও প্রকল্পটির শুরুর সময় উল্লেখ করা হয়েছে ২০১৬ সালের মে।

প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যে বলা হয়, ‘সকল ওয়েবসাইটে সাইবার থ্রেট সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ চিহ্নিতকরণ ও ব্লকিং/নিয়ন্ত্রণ, ক্ষতিকর/সন্ত্রাস সাইবার বিষয়াদি হতে জনগণকে সুরক্ষা প্রদান এবং দেশের সামাজিক মূল্যবোধ অক্ষুণ্ন রেখে ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিতকরণ।’

Cyber-security_

প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে, দেশে সক্রিয় ৩২টি আইআইজি’র জন্য ৩২টি এবং ৩টি এনআইএক্সের জন্য ৩টি মোট ৩৫টি ডিপ প্যাকেট ইন্সপেকশন (ডিপিআই) যন্ত্রপাতি সংগ্রহ ও স্থাপন। এর মধ্যে ৪টি অধিক ক্ষমতাসম্পন্ন, ১৪টি মাঝারি ক্ষমতাসম্পন্ন এবং ১৭টি কম ক্ষমতাসম্পন্ন হবে।

প্রকল্পে টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তর ভবন সম্প্রসারণ এবং সম্প্রসারিত অংশে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ সিস্টেম স্থাপনসহ কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ জনবল তৈরীতে প্রশিক্ষণ কর্মসূচীও রয়েছে।

প্রকল্পের পটভূমিতে বলা হয়, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা বিস্তারের ফলে ইন্টারনেট মানুষকে একদিকে যেমন সহজলভ্য শিক্ষা, গবেষণা, স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক ইত্যাদি বিষয়ে সুবিধা দিয়েছে অপরদিকে সন্ত্রাসী ও জঙ্গী কার্যক্রমসহ প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রেও সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে ।

‘অনেক দেশেই ইন্টারনেট ব্যবহার করে তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে জঙ্গী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তাদের ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। ইন্টারনেট প্রযুক্তির অপব্যবহার করে পর্নোগ্রাফি ও আপত্তিকর বিষয়বস্তু প্রদর্শন করে দেশের যুব সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বাংলাদেশেও এসব কর্মকাণ্ড ছড়িয়ে পড়ছে।’

‘এসব অপরাধ ঠেকাতে ও নিয়ন্ত্রণে এই প্রকল্প নেয়া হয়েছে।’

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তর।

আল-আমীন দেওয়ান

সাইবার নিরাপত্তায় প্রশিক্ষণ দেবে ক্র্যাফ

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সাইবার জগতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুই দিনব্যাপী বিশেষ প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে ক্রাইম রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস ফাউন্ডেশন (ক্র্যাফ)।

৩১ মার্চ থেকে ১ এপ্রিল এই প্রশিক্সণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

Cyber security program by CRAF-Techshohor

এই প্রশিক্ষণে থাকবে সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে আলোচনা, ইন্টারনেট ব্যবহারে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নিরাপদে ই-মেইল ব্যবহার করা, ই-কমার্স, ফেইসবুক গ্রুপ, ফেইসবুক পেইজের অ্যাডমিন কিভাবে তাদের সাইট, পেইজ বা গ্রুপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন কতা নিয়ে আলোচনা।

এছাড়াও থাকবে কিভাবে নিজের ডিভাইস সিকিউরড আছে তা জানা,  কিভাবে পাসওয়ার্ড প্রটেক্টেড হবেন, ডিভাইস হারিয়ে গেলে কিভাবে তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় বা তা ট্র্যাক করা যায়, ক্রেডিট কার্ড হ্যাক হলে কি করা দরকার, আইসিটি আইন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা এবং সাইবার ক্রাইমের শিকার হলে কি করতে হবে ইত্যাদি।

 ক্র্যাফের প্রেসিডেন্ট জেনিফার আলম বলেন, এখন সব কিছুই ইন্টারনেট বেইজ। যোগাযোগে ই-মেইল, ফেইসবুক, ভাইবার, মেসেঞ্জার, ইমো, স্কাইপি ইত্যাদি অ্যাপ। আরা এগুলোতে ব্যক্তিগত তথ্য কতোটা নিরাপদ তা নিয়ে কেউ ভাবেন না। তারা এসব সাইবার পরিসরে ব্যক্তির তথ্য এবং তাকে নিরাপদ রাখতেই এমন প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছেন।

প্রশিক্ষণে অংশ নিতে ফি দিয়ে নিবন্ধন করা যাবে এই ঠিকানায়

ইমরান হোসেন মিলন

‘দেশে সাইবার সিকিউরিটির ধারণা পরিস্কার নয়’

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেশে সাইবার সিকিউরিটি নিয়ে সচেতনতার বেশ অভাব রয়েছে। সুরক্ষার বিভিন্ন ধাপে ঝুঁকি রয়েছে। ইন্টারনেট দুনিয়ায় নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে হলে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি এ বিষয়ে সুর্নিদিষ্ট আইন প্রণয়ন করতে হবে। গঠন করতে হবে সাইবার সিকিউরিটি ফোর্স।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে চলতে থাকা বেসিস সফটএক্সপোতে দেশের সাইবার সিকিউরিটি নিয়ে ‘অ্যাড্রেসিং সাইবার সিকিউরিটি ফ্রম গ্লোবাল অ্যান্ড লোকাল পারসপেক্টিভ’ শীর্ষক সেমিনারের এমন অভিমত জানান বক্তারা।

বেসিস পরিচালক সৈয়দ আলমাস কবিরের সঞ্চালনায় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এসএসএল ওয়ারলেসের সিটিও শাহজাদা রেদওয়ান।

cyber.techshohor

শাহজাদা রেদওয়ান তাঁর প্রবন্ধে বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকে বড় ধরণের হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটেছে। এর মাধ্যমে বোঝা যায় আমরা সাইবার ওয়ার্ল্ডে মোটেও সুরক্ষিত নই। আমাদের সুরক্ষিত থাকতে হলে প্রথমেই সাইবার সিকিউরিটি আইন প্রণয়ন করতে হবে। একই সঙ্গে রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট করতে হবে। এজন্য সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। দেশে ডাটা প্রাইভেসির জন্য কোনো অ্যাক্ট নেই। ন্যাশনাল ডেটার সুরক্ষার জন্য এই অ্যাক্ট জরুরি।

সেমিনারে সিটিও ফোরামের সভাপতি তপন কান্তি সরকার বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের প্রত্যেকটি ব্যাংককে আইটি পলিসি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। অনেক ব্যাংক মনে করছে নেটওয়ার্ক সিকিউরিটি হলো সাইবার সিকিউরিটি। কিন্তু সাইবার সিকিউরিটি নেটওয়ার্ক সিকিউরিটি থেকে আলাদা। সাইবার সিকিউরিটি নিশ্চিত করতে হলে সচেতনতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি এ নিয়ে আইন প্রণয়ন জরুরি।

বুয়েটের ক¤িপউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহফুজুল ইসলাম বলেন, সাইবার সিকিউরিটি নিয়ে আমাদের দেশে এখনও পরিস্কার ধারণা তৈরি হয়নি। আমাদের সিকিউরিটি টুলস এবং সিস্টেম থাকলেও পলিসি বা অ্যাক্ট নেই। সিকিউরিটি পলিসি খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই পলিসি বাস্তবায়নও করতে হবে। দেশে ডাটা ম্যানেজমেন্ট এবং ডাটা সিকিউরিটির জন্য কোনো বড় পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এজন্য ফরেনসিক ল্যাব তৈরি করতে হবে।

সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন, ইস্টার্ন ব্যাংকের হেড অব আইটি ওমর ফারুক খোন্দকার, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ড. এম পান্না।

আল-আমীন দেওয়ান

সাইবার সিকিউরিটিতে সতর্ক থাকতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সাইবার সিকিউটিতে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় প্রযুক্তি উৎসব ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ডিজিটালাইজেশনের সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তাজনিত কিছু সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এজন্য সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ে আমাদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।’

সাইবার নিরপত্তায় জনসম্পদ তৈরি এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করা হবে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিশেষ করে আর্থিক খাত এবং গোপনীয় বিষয়ের নিরাপত্তা যাতে কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে । ডিজিটাল সুবিধা ব্যবহার করে যাতে কেউ অপরাধ কার্যক্রম চালাতে না পারে সে ব্যবস্থাও আমাদের নিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে আমাদের সরকার বিগত সাড়ে সাত বছরে আইসিটি খাতে আমূল পরিবর্তন এনেছে। দেশের প্রতিটি উপজেলায় ফাইবার অপটিক্যাল ক্যাবলের আওতায় এসেছে। যে ব্যান্ডউথের দাম ২০০৭ সালে ছিল ৭৬ হাজার টাকা তা কমিয়ে বর্তমানে ৬২৫টাকায় নামিয়ে এনেছি’

‘ইতোমধ্যে প্রায় সব উপজেলাই থ্রিজি পৌঁছে গেছে। আগামী ২০১৭ সালের মধ্যে ফোরজি চালু হয়ে যাবে। দেশে আজ প্রায় ১৩ কোটির বেশি মোবাইল সিম ব্যবহার হচ্ছে। ৬ কোটি ৪০ লাখ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। ৫হাজার ২৫০টি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনগণ ২০০ ধরনের সেবা পাচ্ছেন।’

‘তিন হাজার ডাকঘরেও ডিজিটাল সেবা দেয়া হয়েছে। কয়েকটি উন্নত দেশসহ প্রায় ৪০টি দেশে আমরা সফটওয়্যার ও আইসিটি সেবা রপ্তানি ‍শুরু করেছি।’

‘কালিয়াকৈরে বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটিসহ সারাদেশে আরও ২০টির মতো হাইটেক পার্ক, সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক ও আইটি ভিলেজ আমরা গড়ে তুলছি ।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি সেবা পেতে এখন আর মানুষকে অযথা হয়রানির শিকার হতে হয় না। লাইনে দাঁড়িয়ে ফর্ম জমা দেয়া লাগে না। এক সময় এদেশে হাওয়া ভবন সৃষ্টি করে ঘুষ বাণিজ্যকে যে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া হয়েছিল, আমরা তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে তা বন্ধ করে দিয়েছি । টেন্ডার বাণিজ্য বন্ধ হয়েছে। সরকারি টেন্ডারগুলো এখন ই-জিপিতে চলে এসেছে।’

DWOPEN.techshohor                                                                                                                   ছবি : কাব্য আহমেদ

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘জাতির পিতা যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনর্গঠনের পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে বিশেষ অগ্রাধিখার দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ ১৯৭৩ সালে আর্ন্তজাতিক টেলিযোগাযোগ সংস্থা আইটিইউ এর সদস্যপদ লাভ করে। তিনি ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশে বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ বিসিএসআইআর প্রতিষ্ঠা করেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতা দেশের প্রথম শিক্ষা কমিশনের দায়িত্ব দিয়েছিলেন ড. কুদরত-ই-খুদা’র মতো বিজ্ঞানীর হাতে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করতে তিনি বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশী বিজ্ঞানী ও গবেষকদের দেশে ফিরিয়ে আনারও উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন।’

‘বঙ্গবন্ধু দেশে টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তি বিকাশের জন্য বেতবুনিয়ায় দেশের প্রথম ‍ভূ উপগ্রহ কেন্দ্র স্থাপন করেন। আমাদের দুর্ভাগ্য ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যা করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পালা শুরু হয়। আমাদের অগ্রযাত্রা স্তম্ভিত হয়ে যায়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘দীর্ঘ ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে পুনারায় জনগনের সুযোগ পায়। আমরা সরকার গঠন করে মানুষকে উন্নত জীবন দানের প্রতিজ্ঞা করি। তারই অংশ হিসেবে আমরা টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে ঢেলে সাজাই।’

ফোন করলেও ১০টাকা ধরলেও ১০টাকা, মোবাইল কলের সেই মনোপলি ভেঙ্গে দেয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিতে ব্যাপক পরিবর্তনের ধারা সূচিত হয়। ২০০৮ সালে নির্বাচনী ইশতেহারে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা পেশ করি। জনগনের বিপুল ম্যান্ডেড নিয়ে ২০০৯ সালে সরকার গঠন করার পর বিএনপি-জামাতের রেখে যাওয়া সবত্র লুটপাটের চিহ্ন মুছে ফেলে উন্নয়নের এক মহাপরিকল্পনা আমরা গ্রহণ করি।’

‘তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় সাধনের জন্য আমার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়কে একত্রিত করে একক মন্ত্রণালয় গঠন করি।’

তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তিভিত্তিক উন্নয়নে আমাদের প্রচেষ্টা বিশ্ববাসীর সুনাম অর্জনে সক্ষম হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তিতে অবদানের জন্য আইসিটি ফর ডেভলমেন্ট অ্যাওয়ার্ড-২০১৬ পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের অন্যতম কারিগর। আসলে ওর কাছ হতেই আমার কম্পিউটার শিক্ষা। সবসময়ই শিখছি।

‘মা হিসেবে এবং দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি মনেকরি সজীব ওয়াজেদ জয় যে পুরস্কার পেয়েছে তাতে আমি অবশ্যই মা হিসেবে গর্বিত। এ অর্জন শুধু সরকারের নয়, এর কৃতিত্ব দেশবাসীর, দেশের জনগণের।’

‘বাংলাদেশ আজ বিশ্বের উন্নয়নের রোল মডেল। বর্তমানে প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক শূন্য পাঁচ। প্রকৃতপক্ষে ৭ দশমিক ১ আমরা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। মাথাপিছু আয় এক হাজার ৪৬৬ মার্কিন ডলার। পাঁচ কোটি মানুষ নিম্ন আয়ের স্তর হতে মধ্য আয়ের স্তরে উন্নীত হয়েছে । দারিদ্রের হার ২২ দশমিক ৪ শতাংশে আমরা নামিয়ে এনেছি । ৭৮ভাগ মানুষ আজকে বিদ্যুৎ সুবিধা পায় । ২০২১ এর আগেই ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়া হবে।’

অনুষ্ঠানে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সরকারের বিভিন্ন অর্জন ও লক্ষ্যসমূহ তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

সকালে সাড়ে ১০টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতেই বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন(এটুআই) এর প্রকল্প পরিচালক কবির বিন আনোয়ার।

বক্তব্য রাখেন তথ্যপ্রযুক্তি সচিব শ্যাম সুন্দর শিকদার, বেসিস সভাপতি মোস্তাফা জব্বার, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের পরিচালক এস এম আশরাফুল ইসলাম।

আল-আমীন দেওয়ান