সাইবার নিরাপত্তায় শুরুতে প্রচারণা, পরে সমন্বয় বৈঠক

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সাইবার নিরাপত্তা ইস্যুতে সচেতনতা বাড়াতে প্রচারণা শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসি। এরপর সরকারি সংস্থাগুলোর কাজের মধ্যে সমন্বয়হীনতা কাটাতে একটি উচ্চ পর্যায়ের সমন্বয় বৈঠক করা হবে।

দেশে ও বিশ্বজুড়ে র‍্যানসমওয়্যার আক্রমণের প্রেক্ষিতে টেলিযোগাযাগ বিভাগে এক বৈঠকে এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে বিটিআরসিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব সুবীর কিশোর চৌধুরী।

খুব দ্রুতই প্রচারণার কাজ শুরু করতে বৈঠক থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ইতোমধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ র‌্যানসমওয়্যার হতে নিরাপদ থাকতে ও ক্ষতি এড়াতে ৬টি পরামর্শ দিয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে।

এতে বলা হয়, পেন ড্রাইভ, সিডি, হার্ডডিস্কে সংরক্ষণ করে নিয়মিত ডেটা ব্যাকআপ রাখতে হবে।

উইন্ডোজ কম্পিউটারে ms17-010 প্যাচ (patch) দিয়ে হালনাগাদ করা, নিয়মিত উইন্ডোজ আপডেট এক্ষেত্রে উইন্ডোজ অটোমেটিক হালনাগাদ চালু রাখা।

কোনো অনিরাপদ বা অবিশ্বস্ত সোর্স হতে র‌্যানসমওয়্যার রিমুভ্যাল টুল ডাউনলোড না করা। কারণ এটি নতুন হামলা হতে পারে।

মেইলের সোর্স যাচাই না করে সেগুলো ক্লিক করা যাবে না। এগুলোতে দেয়া লিঙ্কগুলোতেও না। এছাড়া সিস্টেমে অ্যান্টি-ভাইরাস ব্যবহার করা।

ransomware

এদিকে সাইবার  নিরাপত্তায় দেশে বিভিন্ন সংস্থা নানাভাবে কার্যক্রম চালালেও কাজের মধ্যে সমন্বয় নেই বলে বৈঠকে অনেকেই মত প্রকাশ করেন। এতে করে যে কোনো সাইবার আক্রমণ হলে দেশের তথ্য প্রযুক্তি ও ডিজিটাইজেশন কার্যক্রম বড় ধরণের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলেও মন্তব্য করেন কেউ কেউ।

টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের সভাপতিত্বে সোমবারের বৈঠকে টেলিযোগাযোগ বিভাগ, তথ্য প্রযুক্তি বিভাগ, বিটিআরসি, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

গত শুক্রবার থেকে র‍্যানসমওয়্যার পৃথিবীজুড়ে আক্রমণ শুরু করে, যার খানিকটা প্রভাব বাংলাদেশেও লেগেছে।

দেশে ইতিমধ্যে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কয়েক ডজন কম্পিউটার র‍্যানসমওয়্যার আক্রমণের শিকার হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দু’এক দিনের মধ্যেই সব টেলিভিশন এবং অন্যান্য সংবাদ মাধ্যমে সচেতনতামূলক বার্তা দিয়ে প্রচারণার কাজ শুরু করবে বিটিআরসি।

বৈঠকে সকল সংস্থার কাজের মধ্যে সমন্বয় রাখতে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি সমন্বয় বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব করা হয়। ওই বৈঠকে সকলের কাজের অগ্রগতি ও সমন্বয়ের বিষয়ে আলোচনা করার কথা বলা হয়।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় এ বিষয়ে টেলিযোগাযোগ বিভাগ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে চিঠি লেখা হবে, যাতে তারা বৈঠকটি আয়োজন করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

জামান আশরাফ

র‍্যানসমওয়্যারের বিরুদ্ধে জেগে ওঠার আহ্বান মাইক্রোসফটের

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বিশ্বব্যাপী গত শুক্রবারের সাইবার হামলাকে সকর্তবার্তা হিসেবে নিয়ে এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন দেশকে এখনি জেগে ওঠার আহ্বান জানিয়েছে সফটওয়্যার জায়ান্ট মাইক্রোসফট।

গত শুক্রবার থেকে এখন পর্যন্ত এই সাইবার হামলার শিকার হয়েছে দেড় শতাধিক দেশের দুই লাখের বেশি কম্পিউটার।

এই হামলায় বিভিন্ন দেশের সরকারের কাছ থেকেও হ্যাকাররা মুক্তিপণ আদায় করতে বার্তা দিয়েছে। এমনকি বিভিন্ন রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল অনেক তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে এই হ্যাকাররা।

এটি বলছে, সর্বশেষ ভাইরাস মাইক্রোসফট উইন্ডোজের মাধ্যমে সনাক্ত করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা।

আরও পড়ুন: র‌্যানসমওয়্যার আক্রমণ হতে যেভাবে নিরাপদ থাকবেন

hack-nsa-techshohor

তবে র‍্যানসমওয়্যার অাক্রান্তের খবর সোমবারও পাওয়া গেছে। সোমবার সকালে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যখন সকালে কাজ শুরু করে তখন তাদের কম্পিউটারে এমন র‍্যানসমওয়্যার আক্রমণ করেছে বলেও জানায় মাইক্রোসফট।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সপ্তাহের মাঝামাঝিতে এসে ভাইরাস আগের চেয়ে ধীর গতিতে ছড়াচ্ছে। শেষ দিকে এটি আরও দুর্বল হয়ে পড়বে।

সোমবার দক্ষিণ কোরিয়া বলেছে, দেশটিতে তারা মাত্র নয়টি র‍্যানসমওয়্যার আক্রমণের খবর পেয়েছে। তবে সেগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

অস্ট্রেলিয়া সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা বেশ কয়েকটি ক্ষুদ্র ও মাঝারি মানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে র‍্যানসমওয়্যার আক্রমণে সিস্টেম বন্ধ হওয়ার খবর পেয়েছে।

অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশটিতে সাইবার আক্রমণে কয়েকটি ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আক্রান্ত হয়েছে। তবে সেগুলো নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

জাপানে গাড়ি তৈরির প্রতিষ্ঠান নিশান এবং ইলক্ট্রনিক পণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হিটাচি র‍্যানসমওয়্যার আক্রমণের শিকার বলে বলছে প্রতিষ্ঠানগুলো।

অন্যদিকে চীনের এনার্জি জায়ান্ট পেট্রোচাইনা বলছে, কিছু পেট্রোল স্টেশনের গ্রাহকরা পেমেন্ট করতে গিয়ে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন।

মাইক্রোসফটের বিবৃতি

সাইবার আক্রমণে নিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে মাইক্রোসফট। বিবৃতিতে মাইক্রোসফটের চিফ লিগ্যাল অফিসার ব্র্যান্ড স্মিথ বিভিন্ন দেশের কম্পিউটার সিস্টেমের নিরাপত্তা সংক্রান্ত ত্রুটিগুলি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের উপায়গুলি নিয়ে সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, আমরা উইকিলিকসকে নিয়ে সিআইএ-এর দুর্বলতা দেখেছি। যেকারণে এমন ঘটনা ঘটার ক্ষেত্র তৈরি হওয়ার সুযোগ পেয়েছে।

এনএসএ ভাইরাসে আক্রমণ এবং বিভিন্ন সংবেদনশীল তথ্য চুরি করার ঘটনা বিশ্বব্যাপী গ্রাহকদের মধ্যে আস্থাহীনতার জন্ম দেবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী সব রাষ্ট্র এ সরকারকে এটা বুঝতে হবে যে এটা আমাদের জন্য জেগে ওঠার সময়। এছাড়া আমরা সামনের দিনগুলোতে আরও বড় সমস্যার সম্মুখীন হবো।

ইমরান হোসেন মিলন  

আরও পড়ুন: 

র‍্যামসনওয়্যারের শিকার ১৫০ দেশের ২ লাখ কম্পিউটার!

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : গত শুক্রবার চালানো সাইবার আক্রমণে বিশ্বের ১৫০ দেশের ২ লাখ কম্পিউটার আক্রান্ত হয়েছে বলে বলছে ইন্টারপোল প্রধান।

ইউরোপোলের প্রধান রব ওয়েইনরাইট বলেছেন, যে মাত্রায় এই সাইবার আক্রমণ হয়েছে তা আগে কখনো ঘটেনি।

এর আগে অবশ্য বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খবর বেরিয়েছিল যে এই সাইবার আক্রমণে বিশ্বের ১০০টি দেশ আক্রান্ত হয়েছে এবং প্রায় ৭৫ হাজার থেকে এক লাখ এমনকি দেড় লাখ কম্পিউটার এতে আক্রান্ত হয়েছে।

তবে সর্বশেষ খবরে ইন্টারপোলের প্রধানের বরাতে বিবিসি বলছে, র‍্যামসনওয়্যার আক্রান্ত কম্পিউটারের সংখ্যা বিশ্বে এখন দুই লাখ ছাড়িয়েছে।

hack-nsa-techshohor

ব্রিটেনের আইটিভিতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বিশ্ব এক ক্রমবর্ধমান হুমকির সম্মুখীন এবং সোমবার অফিস-আদালত খোলার পর আক্রমণের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।

যে দেশগুলো সবচেয়ে বেশি আক্রমণের শিকার হয়েছে তার মধ্যে যুক্তরাজ্য এবং রাশিয়া রয়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, আরো আক্রমণ হতে পারে এবং সেগুলো হয়তো ঠেকানো সম্ভব হবে না।

ওয়েইনরাইট বলেন, হ্যাকাররা বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কর্পোরেশনগুলোকে ম্যালওয়্যার দিয়ে টার্গেট করেছে।
আক্রান্ত কম্পিউটারে ব্যবহারকারীরা কোন ফাইল খুলতে পারছেন না এবং সেগুলো আটকে দিয়ে কম্পিউটারের পর্দায় একটি বার্তার মাধ্যমে ‘মুক্তিপণ’ হিসেবে টাকা দাবি করা হচ্ছে।

ওয়েইনরাইট বলেন, এই র‍্যানসমওয়্যারটি নতুন ধরণের, কারণ এটা একটা ভাইরাসের সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করছে; যার ফলে একটি কম্পিউটার সংক্রমিত হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুরো সিস্টেমে ছড়িয়ে পড়ছে।

বিবিসির বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, এই হ্যাকিংয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট বিটকয়েন অ্যাকাউন্টগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, হ্যাকাররা শতাধিক ক্ষেত্রে অর্থ আদায় করে নিয়েছে এবং তার পরিমাণ প্রায় ৩০ হাজার ডলার হবে।

ওয়েইনরাইট বলেন, আক্রমণের ব্যাপকতার সঙ্গে তুলনা করলে বলতে হবে এই অর্থের পরিমাণ ‘অনেক কম’।

রোববার বেশ কয়েকজন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ অবশ্য সতর্ক করে দিয়ে জানিয়েছেন, সোমবার বিশ্বে আরও বড় ধরনের সাইবার হামলার ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। তাই সবাইকে সতর্ক হওয়ার পরামশ দিয়েছেন তারা।

এই আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য অবশ্য কয়েকটি দিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন তারা। জরুরি ফাইল ব্যাকআপ রাখা, অপরিচিত মেইল না খোলা, অপারেটিং সিস্টেম আপডেট দেওয়া, ইন্টারনেট ব্রাউজিংয়ে সতর্ক থাকা, বিভিন্ন সফটওয়্যার ডাউনলোডে সতর্কতা এবং অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে।

বিবিসি বাংলা অবলম্বনে

আরও বড় সাইবার হামলা সোমবার!

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : গত শুক্রবারে ঘটে যাওয়া সাইবার হামলার চেয়ে আরও বড় হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করে সতর্ক হওয়ার কথা বলেছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

এরপর সোমবার-ই আবার বড় ধরনের সাইবার হামলার আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করছেন ওই বিশেষজ্ঞরা।

শুক্রবারের ঘটনায় বিশ্বব্যাপী সর্বশেষ এক হিসাবে এক লাখ ২৫ হাজারের বেশি কম্পিউটার সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও বলা হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা গবেষক যিনি ‘ম্যালওয়্যারটেক’ নামে নিজেকে পরিচয় দিচ্ছেন তিনি র‍্যানসমওয়্যারের আক্রমণকে সীমাবদ্ধ করতে কাজ করেছেন। আর তিনিই পূর্ব ধারণা করে বলছেন, এই আক্রমণ খুব শিগগিরই হবে। এমনকি সোমবার-ই আবারও একটি বড় ধরনের আক্রমণের আশঙ্কা করছে তারা।

এই ভাইরাসের সাহায্যে স্পেন, ফ্রান্স, রাশিয়াসহ প্রায় ১০০ দেশের ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন ফাইলের নিয়ন্ত্রণ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

hack-techshohor

আর ইংল্যান্ডের ৪৮ এনএইচএস ট্রাস্ট এই আক্রমণের শিকার হয়েছে। যার মধ্যে ১৩টি এনএইচএস স্কটল্যান্ডের।

এমনকি বেশকিছু হাসপাতালের ডাক্তারদের অ্যাপয়েনমেন্ট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। আর অ্যাম্বুলেন্স সেবা নেওয়ার জন্য শেষ পর্যন্ত পাশের যেসব হাসপাতালের কম্পিউটার এই ভাইরাসে আক্রান্ত নয় তাদের দ্বারস্থ হতে হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব আম্বর রুড শনিবার বলেন, সমস্যাটি মূলত সমাধান করা হয়েছিল। কিন্তু কম্পিউটার ভাইরাস থেকে রক্ষা করার জন্য ‘আরও বেশি কিছু’ করার রয়েছে।

‘ম্যালওয়্যারটেক’ নাম ধারণ করা ওই ব্যক্তি এমন ভাইরাস ছড়িয়ে দেওয়া রুখে দিয়ে ’দুর্ঘটনাবশত হিরো’ বনে গেছেন। তিনি মূলত ‘কিল সুইচ’ নামের একটি দুর্বলতা খুঁজে পায় সেই র‍্যানসমওয়্যারে এবং এর মাধ্যমেই তা রুখে দিতে তাদের নিবন্ধিত ডোমেইন বন্ধ করে দেন।

২২ বছর বয়স্ক ওই ব্যক্তি বলেন, আক্রান্ত ব্যবহারকারীরা এখন তাদের সিস্টেম কিছুটা হলেও জোড়াতালি দিয়ে চালাতে পারছেন এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

নাম প্রকাশ না করা ওই ব্যক্তি বলেন, আমরা এটা থামাতে পারলেও সামনে যে আক্রমণ আসছে সেটা থামানো সম্ভব হবে না।

কারণ এর মধ্যে অনেক অর্থের ব্যাপার রয়েছে। তাই তারা নিজেরা এটা থামাবে এমন কোনো কারণ নেই। এমনকি এটা হাতিয়ে নিতে তাদের যে কোডিং সেটা করাও তাদের জন্য খুব বেশি কষ্টসাধ্য বলে মনে হচ্ছে না বলে জানান ম্যালওয়্যারটেক।

পরের এমন সাইবার আক্রমণ খুব সম্ভবত সামনের সোমবার সকালে হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন ওই বিশেষজ্ঞ।

রোববার তিনি সতর্ক করে বলেন, হ্যাকাররা হয়তো আমাদের এই থামাতে চাওয়ার ফলে তাদের ভাইরাস আরও আপগ্রেড করতে পারে।

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান প্রুফ পয়েন্টের নিরাপত্তা গবেষক ড্যারেন হুস ম্যালওয়্যারেটেকের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে বলেন, তার সন্দেহ হয় যে, অনেক লোক এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে এরই মধ্যে সাহায্যও করেছে।

তবে ড্যারেন তার দীর্ঘ গবেষণা অভিজ্ঞতা থেকে এটাও বলছেন যে, এই হামলায় কোনো রাষ্ট্র জড়িত থাকতে পারে।

তবে তার পরক্ষণে তিনি এটাও বলছেন যে, হামলা রাষ্ট্র বা একক কোনো ব্যক্তি যেই করুক না কেনো এটা খুবই অপেশাদার আচরণ।

এটা প্রথম ধরতে সক্ষম হয় যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা। আর এটা যে মাইক্রোসফট উইন্ডোজের জন্য বেশি গুরুত্বর সেটাও উল্লেখ করেন তিনি।

তবে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির কর্মকর্তা অলিভার গাওয়ার বলছেন, সাইবার অপরাধীরা মনে করতে পারে তারা অজ্ঞাত। কিন্তু আমরা তাদের খুঁজে বের করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাবো। আর খুঁজে পেলে এর মাশুল তাদের দিতে হবে।

বিবিসি অবলম্বনে ইমরান হোসেন মিলন

র‌্যানসমওয়্যার আক্রমণ হতে যেভাবে নিরাপদ থাকবেন

তুসিন আহমেদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : র‌্যানসমওয়্যারে হামলায় আক্রান্ত হয়েছে সাইবার জগত। বিশ্বের ১০০টির বেশি দেশ এই হামলার শিকার হয়েছে। এই আক্রমণে বিভিন্ন খাতের অনেক বড় প্রতিষ্ঠানসহ হাজার হাজার কম্পিউটার সিস্টেম অচল করে দিয়েছে র‌্যানসমওয়্যারটি। তারপর আক্রান্ত কম্পিউটারে বার্তা দিয়ে হ্যাকাররা ৩০০ ডলারের বিনিময়ে নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দেওয়ার কথা জানায় হ্যাকাররা।

এই সাইবার হামলার পরে অনেকের মনে নানা প্রশ্ন র‌্যানসমওয়্যার নিয়ে। এটি কী এবং কিভাবে আক্রমণ থেকে বাঁচা যায়। এই এই টিউটোরিয়ালে সেই বিষয়টিই তুলে ধরা হলো।

র‍্যানসমওয়্যার কী?
র‍্যানসমওয়্যার হল এক ধরনের ম্যালওয়্যার। যা কম্পিউটারে আক্রান্ত করার পর ব্যবহারকারীকে তার মেশিনে প্রবেশ করা থেকে বিরত রাখে। এটি ব্যবহারকারীর প্রবেশগম্যতা সীমাবদ্ধ করে দেয় এবং এই সীমাবদ্ধতা দূর করার জন্য ব্যবহারকারীর কাছ থেকে মুক্তিপণ দাবি করে।

hack-techshohor

কিছু র‍্যানসমওয়্যার আছে যা সিস্টেমের হার্ড ড্রাইভে অবস্থিত সকল ফাইল একটি বড় কি দিয়ে এনক্রিপ্ট করে ফেলে। এনক্রিপশন কি এতটাই বড় হয় যে, মুক্তিপণ না দিয়ে একে ভেঙে ফেলা প্রযুক্তিগত দিক থেকে প্রায় অসম্ভব। এছাড়াও কেউ কেউ সরল একটি প্রোগ্রামের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর সিস্টেম লক করে দেয় এবং ডিসপ্লেতে বার্তার মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে মুক্তিপণ দিতে প্রলুব্ধ করে থাকে।

জরুরি ফাইল ব্যাকআপ রাখুন 
র‍্যানসমওয়্যার আক্রমণ হলে সবচেয়ে বেশি ঝামেলায় পড়তে হয় কম্পিউটারের থাকা জরুরি ফাইল, ছবি ও ভিডিও নিয়ে। কথায় আছে ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ ভালো’ তাই র‍্যানসমওয়্যার আক্রান্তের আগেই কম্পিউটারের যাবতীয় ফাইল ব্যাকআপ রাখা উচিত। এক্ষেত্রে ব্যাকআপ এমন ডিভাইস রাখতে হবে যেন সেখানে ইন্টারনেট সংযোগ না থাকে। সবচেয়ে ভালো উপায় হলো পোর্টবেল হার্ডড্রাইভে ব্যাকআপ রাখা।

ই-মেইল ব্যবহারে সর্তকতা 
বেশিরভাগ র‍্যানসমওয়্যার আক্রমণ মেইলের মাধ্যমে করা হয়ে থাকে। হ্যাকাররা সুন্দর এবং আকর্ষনীয় মেইল ক্ষতিগ্রস্তদের পাঠায়। মেইলগুলোর বিষয়স্তু এমনভাবে লেখা, যা দেখে মনে হয় সত্যিকারের কোনো মেইল। সেখানে থাকা কোনো লিঙ্কে ক্লিক বা ফাইল ডাউনলোড করলেই কম্পিউটারের র‍্যানসমওয়্যার ইন্সটল হয়ে যায় ব্যবহারকারীদের অজান্তে। তাই ই-মেইল বার্তা আসলে তা ভালো করে যাচাই করতে হবে। বিশেষ করে মেইল আসা কোনো লিঙ্কে ক্লিক এবং ফাইল ডাউনলোডের সময় আরও বেশি সর্তক থাকতে হবে। মেইল যাচাই করে দেখতে হবে তা স্প্যামিং বা ভুয়া।

অপারেটিং সিস্টেম আপডেট
অপারেটিং সিস্টেম নিমার্তা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিমুহূর্তে নানা নিরাপত্তামূলক আপডেট দিয়ে থাকে। ফলে র‍্যানসমওয়্যার আক্রমণ ঠেকানো সম্ভব। তাই সব সময় কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেম আপডেট রাখতে হবে। উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারকারীরা Settings গিয়ে System মেনুতে গিয়ে About এ ক্লিক করলে দেখে নিতে পারবেন নতুন আপডেটের বিষয়গুলো।

ব্রাউজিংয়ে সময় সর্তক থাকা
ইন্টারনেটের এই যুগে আমাদের প্রতিনিয়ত নানা ওয়েবসাইট ব্রাউজার করতে হয়। তাই লোভনীয় ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ফাঁদ পেতে বসে আছে হ্যাকাররা। ধরুণ আপনি কোনো গান বা ভিডিও ডাউনলোড করতে গুগলের সার্চ করলেন। তারপর একটি ওয়েবসাইটে গেলেন সেখানে ডাউনলোড বাটনে ক্লিক করলেন। সাথে সাথে ডাউনলোড শুরু হলো। এরপর দেখা গেলো এটি আপনার খোঁজা গান বা ফাইলটি নয়। হ্যাকাররা একই নাম ও ছবির আড়াঁলে র‍্যানসমওয়্যার সফটওয়্যার আপনার কম্পিউটার ইন্সটল করিয়ে নিলো। তাই ব্রাউজিং ও কোনো কিছু ডাউনলোডে সর্তক থাকতে হবে।

ransomware-Nicescene-techshohor

সফটওয়্যার থেকে সাবধান
নতুন কোনো সফটওয়্যার ডাউনলোড করার সময় সতর্ক থাকা খুবই জরুরি। কেননা কাঙ্খিত ইন্টারনেট সফটওয়্যারটির আড়ালে ক্ষতিকারক র‍্যানসমওয়্যার থাকতে পারে। এগুলো ভুলক্রমে ডাউনলোড করলে হ্যাকিংয়ের শিকার হতে পারেন। তাই কম্পিউটারে কোনো সফটওয়্যার ডাউনলোড করতে হলে সফটওয়্যারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করা উচিত।

অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার
কম্পিউটারের আপডেট অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করা উচিত। অ্যান্টিভাইরাস কোনো ফাইল কম্পিউটারে প্রবেশ করলে তা চেক করে। যদি তাতে ক্ষতিকর কিছু থাকে তাহলে তা নোটিফিকেশনের মাধ্যমে জানায়। তাই অ্যান্টিভাইরাস কম্পিউটারের ব্যবহার করা উচিত ফলে র‍্যানসমওয়্যার কম্পিউটারে প্রবেশ করা মাত্রই নোটিফিকেশন জেনে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

সাইবার নিরাপত্তায় এশিয়ার পরিস্থিতি বেশ ‘দুর্বল’

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান বছরব্যাপী পরিচালনা করা তদন্ত থেকে বলেছে, এশিয়ার বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানেরই সাইবার আক্রমণের বিরুদ্ধে নেওয়া প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওই প্রতিষ্ঠান ম্যানডিয়ান্ট ইন্ডিকেটস তাদের ফলাফলে জানিয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠানের সাইবার নিরাপত্তা লঙ্ঘনের শিকার হওয়া এবং তা আবিষ্কারের মধ্যে এশিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলোর গড়ে ৫২০ দিন সময় লাগে। যা আন্তর্জাতিক গড়ের প্রায় তিনগুণ বলে জানিয়েছে সংবাদ মাধ্যম বিবিসি।

এছাড়াও প্রতিবেদনটিতে দেখানো হয়েছে, অন্যান্য যেকোনো দেশের তুলনায় এশিয়াতে হ্যাকাররা ৮০ শতাংশ বেশি আক্রমণ চালানোর লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নিয়েছে। আর এক একটি হামলায় গড়ে প্রায় ৩ দশমিক ৭ জিবি করে ডাটা হাতিয়ে নিয়েছে আক্রমণকারীরা।

cyber-crime_techshohor
সাইবার নিরাপত্তায় আইনের দুর্বলতার কারণেই এমন হামলা হয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনটিতে।

ফায়ারআই যা ম্যান্ডিয়েন্টের মূল প্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা গ্র্যাডি সামার্স বলেছেন, তদন্তের ফল খুব উদ্বেগজনক। এশিয়ায় হওয়া সাইবার ঘটনাগুলো যে ঢাকা পড়ছে সেটি তারা জানতেন তবে এতো বেশি পরিমাণে হয় এটা তারা ধারণা করতে পারেননি।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ কতটুকু লঙ্ঘন করা যায় তা পরীক্ষা করতে ম্যান্ডিয়েন্ট একটি প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্ক তাদের অনুমতি ব্যতিরেকেই হ্যাক করে ফেলে।

গ্র্যাডি জানান, তারা মাত্র তিন দিনেই ওই প্রতিষ্ঠানের সাইবার হামলা চালাতে সক্ষম হন। যদি তিন দিনেই এটা করা সম্ভব হয় তাহলে ৫২০ দিনে কতোটুকু করা সম্ভব হবে তাও ভেবে দেখার বিষয় বলে জানান তিনি।

শুধু তাই নয় এমন ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে রাখলে যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে বলেও জানান তিনি।

তবে এই অঞ্চলে অনেক সাইবার আক্রমণ রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় হচ্ছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে। যেখানে অনেক ক্ষেত্রেই দক্ষিণ চীন সাগরের মতো তীব্র ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বিদ্যমান এমন এলাকাগুলোকে লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেওয়া হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হ্যাকাররা বেছে নেয় সরকারি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা ও গবেষণা, মহাকাশযান, শক্তি, প্রতিরক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের মতো বিষয়।

তবে গ্র্যান্ডি বলেন, চীনা হ্যাকাররা এখন লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করেছে এশিয়াকে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপে এই আক্রমণ কমে এসেছে।

বিবিসি বাংলা অবলম্বনে ইমরান হোসেন মিলন

বাংলাদেশকে সাইবার নিরাপত্তায় সহায়তা করবে ফিলিপাইন

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ফিলিপাইন বাংলাদেশকে সাইবার নিরাপত্তায় সহায়তা করতে চায়। এজন্য দেশটির নাও কর্পোরেশন এবং এশিয়ান ইন্সটিটিউট অব জার্নালিজম অ্যান্ড কমিউনিকেশন (এআইজেসি) প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সরকার, এখানকার প্রযুক্তি, শিক্ষা, বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং (বিপিও)সহ বেশ কয়েকটি খাতে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিংয়ের (বাক্য) একটি প্রতিনিধি দল ফিলিপাইন সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণে ফিলিপাইন ঘুরে আসেন। সেই সফরেই ফিলিপাইনের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের সঙ্গে বিপিও সেক্টরে কাজের পাশাপাশি সরকারের বিভান্ন খাতে সাইবার নিরাপত্তায় সহায়তা করবে বলে জানিয়েছে।

বাক্যের ওই সফরের উদ্দেশ্য ছিল বিপিও খাতের নানা ধারণা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতবিনিময় এবং আগামীতে পারস্পরিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ করা। যার মধ্যে সাইবার সিকিউরিটি বিষয়টিও মুখ্য ছিল।

Hacker
প্রতিনিধি দল ফিলিপাইনে গিয়ে নাও কর্পোরেশনসহ বেশ কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ঘুরে আসেন।

সেসময় একটি সেমিনারে নাও কর্পোরেশন এবং এশিয়ান ইন্সটিটিউট অব জার্নালিজম অ্যান্ড কমিউনিকেশন (এআইজেসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেল ভালেস্কো ভিলার্ডি বিশ্বের বেশ কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের সাইবার নিরাপত্তার দিক তুলে ধরেন। বিশেষ করে ফেইসবুক, ইনস্টাগ্রামসহ বড়বড় প্রযুক্তি জায়ান্টদের সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে একটি উপস্থাপনা দেন মেল ভালেস্কো।

ভালেস্কো তার উপস্থাপনায় সাংগঠনিকভাবে একটি ‘যুক্তিসংগত নিরাপত্তা’র উপর জোর দেন। যেখানে একসঙ্গে কাজ করে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাইবার নিরাপত্তায় এজেন্সি হিসেবে কাজ করা যায়।

নাও এর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সাইবার নিরাপত্তা প্রদানে রিয়েল টাইম ডায়গনিস্টিক, মনিটর টুলস, কাউন্টার অ্যাটাক টুলস, কর্মী এবং প্রযুক্তিগত সেবা সহায়তা দিয়ে থাকে বলে বলেন ভালেস্কো।

সেখানে ভালেস্কো বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে এখন সাইবার হামলা হতে পারে বলে তিনি এর মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান।

আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সেক্টরে বিশ্বে এখন প্রায় ৮১ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হচ্ছে শুধু সাইবার নিরাপত্তায়। বিষয়টি নিয়ে ফিলিপাইনের ম্যানিলায় ২৭ জুলাই বাংলাদেশের দূতাবাস সাইবার সিকিউরিটি নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক ফোরাম আয়োজন করছে।

ইমরান হোসেন মিলন

আরও পড়ুন: 

সর্ববৃহৎ হ্যাকিংয়ের পেছনে চার ব্যক্তি

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চালানো ইতিহাসের সর্ববৃহৎ সাইবার হামলার ঘটনায় জড়িত থাকা চার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন দেশটির সরকারী আইনজীবীরা। অভিযুক্তরা ২০১২ ও ২০১৫ সালের মধ্যে সাইবার হামলা চালিয়ে ১০০ মিলিয়ন মানুষের ব্যক্তিগত তথ্যে প্রবেশ করে।

জিপি মরগ্যান চ্যাজ, ডো জোনস ও ফেডালিটি ইনভেস্টমেন্টসের মতো প্রায় ১২ টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এই চার সাইবার অপরাধী হামলা চালায়।

সরকারী আইনজীবীরা জানিয়েছেন, ওই চার সাইবার অপরাধীর মধ্যে দুইজন ইসরাইলের এবং দুইজন খোদ যুক্তরাষ্ট্রের। ইসরাইলের দুইজনের নাম হল গেরি শ্যালন ও জিভ অরেনস্ট্যাইন এবং যুক্তরাষ্ট্রের দুইজনের নাম হল জশুয়া সামুয়েল অ্যারেন ও অ্যান্টনি মার্গিও।

Charges brought in largest US financial cyber-hacking

আইনজীবীদের পক্ষ জানানো হয়েছে, অ্যারেন পালিয়ে বেড়াচ্ছে। খুব সম্ভব তাকে মেক্সিকোতে পাওয়া যাবে। শ্যালন ও অরেনস্ট্যাইন ইসরাইলের কাস্টডিতে আছে। আর মার্গিওকে সম্প্রতি ফ্লোরিডায় গ্রেফতার করা হয়।

অপরাধীরা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ছাড়াও বিভিন্ন প্রকাশক প্রতিষ্ঠান, অনলাইন শেয়ার ব্রোকার ও সফটওয়্যার ফার্মে হামলা চালায়।

ইকোনোমিকস টাইমস ও বিবিসি অবলম্বনে আহমেদ মনসুর

আরও পড়ুন: 

সাইবার হামলায় বাতিল ফ্লাইট

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : পোল্যান্ডের ন্যাশনাল এয়ারলাইন্স এলওটির কম্পিউটার ব্যবস্থায় এবার সাইবার হামলা চালিয়েছে একদল হ্যাকার। এতে এয়ারলাইনের প্রায় ১ হাজার ৪০০ যাত্রীকে বিমান থেকে নামিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।

রোববার পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশের চোপিন বিমানবন্দরে এই ঘটনা ঘটেছে।

রোববার বিকেলে চোপিন বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড কম্পিউটার সিস্টেমে এই হামলা হলে সিস্টেমটিকে স্বাভাবিক করতে সময় লাগে প্রায় ৫ ঘণ্টা। এতে এই সময় এলওটি এয়ারলাইন্সের ডজনখানেক ফ্লাইটের যাত্রা বিঘ্নিত হওয়াসহ ১০টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়।

LOT

কে বা কারা এই হামলা চালিয়েছে তা জানা যায়নি। তবে এ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ।

এ ব্যাপারে এলওটি মুখপাত্র আদ্রিয়ান কুবিককি জানান, ফ্লাইটগুলোর নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে যাত্রীদের বিমান থেকে নামিয়ে নেয়া হয়। অন্য কোনো বিমানবন্দরে এ ঘটনার প্রভাব পড়েনি। অন্যান্য বিমানবন্দর থেকে আসা বিমানগুলোও নিরাপদে অবতরণ করেছে।

রয়টার্স ও বিবিসি অবলম্বনে আহমেদ মনসুর

মার্কিন সেনাদের সেক্স, মিথ্যা ফাঁস করল হ্যাকাররা

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : এক মার্কিন সেনা তার কলেজের রুমমেটের স্ত্রীর সঙ্গে ২০ বছর ধরে গোপনে সম্পর্ক রেখেছেন। অবশ্যই সেটা যৌণ সম্পর্ক। দুই দশক ধরেই ওই মার্কিন সেনা এ সম্পর্কের কথা গোপন রেখেছেন তার স্ত্রী ও পরিবারের কাছে।

বর্তমানে ৫১ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি সেনাবাহিনী থেকে অবসরে আছেন। এতো দিন হয়তো বিগত জীবনের কথা ভেবে ভেবে সুখেই জীবন পার করছিলেন। তবে এ গল্প এখানেই শেষ হতে পারতো। যদি না বাধা হয়ে দাঁড়াতো হ্যাকার বা সাইবার হামলাকারীরা।

গত সপ্তাহে মার্কিন সেনাবাহিনীর ওয়েবসাইটে চালানো সাইবার হামলার পর তার এই গল্প শুধু তার পরিবার নয়, পুরো বিশ্বই জেনেছে।

শুধু তার নয়, ৪০ মিলিয়ন মার্কিন সেনার এমন হাজারো গোপন অভিসার, ব্ল্যাকমেইল, মিথ্যাচার, ঋণ, হুমকি দেওয়ার মতো বিভিন্ন অপকর্মের ইতিহাস ফাঁস হয়েছে।

 

the-nsa-trained-edward-snowden-to-be-an-elite-hacker-800x600

মার্কিন সরকারি চাকুরির নিয়ম অনুযায়ী নিয়োগ পাওয়ার আগে ইউএস সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স নিতে হয়। এতে চাকুরি প্রার্থীর ব্যক্তি জীবনের অনেক বিষয় আলোচনায় আসে। ওই সময় এ ব্যক্তি তার গোপন সম্পর্কের কথা গোয়েন্দা সংস্থার কাছে স্বীকার করেন।

বিষয়টি নিয়ে মার্কিন আদালত একটি রুলও জারি করেন। যা মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়। আদালতের ওই রুলে বলা হয় যেহেতু ওই ব্যক্তি সরকারের কাছে তার গোপন সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছে তাই সে সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স পেতে পারে।

বিষয়টি আদালতে গড়ালেও কখনোই ওই ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা হয়নি। সরকার ও তার মধ্যে গোপনই ছিল রুমমেটের স্ত্রীর সঙ্গে চলা অভিসারের গল্প।

হ্যাকারদের রসবোধ বোধকরি একটু বেশিই। আর এই রসবোধ বার বারই বিব্রত করেছে মার্কিন সাম্রাজ্যকে। বিগত বছরগুলো বাদ দিলেও চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে মার্কিন সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন ওয়েবসাইটে সাইবার হামলা ছিল সাধারণ ঘটনা।

মার্কিন পর্ণগ্রাফির সাইট থেকে শুরু করে হলিউডের সুন্দরীরা কেউই বাদ যায়নি হ্যাকাদের আক্রমণ থেকে।

এসব সাইবার হামলার পর ইরান, উত্তর কোরিয়া, চীন বা রাশিয়াকে ঘুরে ফিরে দায়ী করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু হ্যাকের ঘটনা কমেনি, বেড়েছে। হ্যাকিং রোধে কার্যকর কোন পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ পরাশক্তি দেশটি।

টাইমস অব ইন্ডিয়া অবলম্বনে সৌমিক আহমেদ

অর্থ খরচ করেও মুক্তি নেই সাইবার হামলা থেকে

ফখরুদ্দিন মেহেদী, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বর্তমানে তথ্য জ্ঞানের জায়গাটা দখল করেছে। তাই এখন আর জ্ঞানকে শক্তি না বলা হয় না, বরং তথ্যকেই বলা হয় শক্তি। তবে এই তথ্য চুরি হলে শক্তিটা ভয়েই রূপ নেয়!

সাইবার হামলা একুশ শতকের সবচেয়ে বড় ভয়ের নাম। সাইবার অপরাধকে মাদকের চেয়েও বিপদজনক হিসেবে মানছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্বব্যাপী প্রতি সেকেন্ডে দুইটি করে সাইবার হামলার হুমকি তৈরি হচ্ছে। এর মাত্রাটা এতটাই ভয়াবহ হয়ে উঠেছে যে, এই একটা কারণে ৯০ শতাংশ কোম্পানি ম্যালওয়্যারের মতো ভাইরাসে আক্রান্ত হয়।

tech summit

 

এর চেয়েও ভয়াবহ তথ্য হলো এসব হামলা সম্পর্কে সচেতন হতেই কোম্পানিগুলোর কমপক্ষে ২১০ দিনের মতো সময় লেগে যায়! আর এ থেকে রক্ষা পেতে কোম্পানিগুলোর প্রতি বছর এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশি খরচ করতে হয়। তাও এর হাত থেকে মুক্তি মেলে না।

এসব তথ্য দিয়েছেন টেন্ড মাইক্রোর ইন্ডিয়া ও সার্কের টেকনোলজি সেলস অ্যান্ড সার্ভিসের ডিরেক্টর শাশি কে ভালা। রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁয়ে সিটিও ফোরাম বাংলাদেশ ও ইনফোকমের আয়োজনে অনুষ্ঠিত টেক সামিট ২০১৫ -তে ‘দ্য ফিউচার অব সাইবার সিকিউরিটি’ নামের সেমিনারে এসব তথ্য দেন তিনি।

দক্ষ লোকবল দ্বারা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, বিশ্লেষণ এবং সনাক্তকরণের মাধ্যমে এসব সাইবার হামলা থেকে রক্ষা পাওয়া যেতে পারে বলেও তিনি মনে করেন।

অনুষ্ঠানে সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ংয়ের অংশীদার ও সাইবার স্পেশালিস্ট বার্গেস কুপার বলেন, প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের দ্বারাই সাইবার হামলা হয়। ১০ হাজার কর্মকর্তার মধ্যে কেবল একজন যদি হ্যাকারদের সহযোগিতা করে, তবে ওই কোম্পানির সর্বনাশ অবধারিত হয়ে যায়।

এছাড়া মনভোলানো বিভিন্ন বিজ্ঞাপন দিয়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত নিয়েও সাইবার অপরাধীরা হামলা করে থাকে।
হ্যাকাররা চাইলে একটি দেশের সরকারের সমস্ত ডাটা চুরি করে নষ্ট দিতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বর্তমান সময়ে অ্যাপ ও গেইমিং সারা বিশ্বে জনপ্রিয়। ২০১৪ সালে সর্বমোট ৭৭ বিলিয়ন অ্যাপ ডাউনলোড হয়েছে। আর এটিকে টার্গেট করেই ব্যক্তিগত নেটওয়ার্কের ৬০ ভাগ তথ্য সাইবার অপরাধীরা নিয়ে যায় বলে জানান নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সিসকো সিস্টেমের ইন্ডিয়া ও সার্কের সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট কৌশিক নাথ।

তিনি বলেন, ক্লাউড কম্পিউটিং, বিড় ডাটা এবং ইন্টারনেট অব থিংকস হবে আগামীর সবচেয়ে বড় ব্যবসায়িক হাতিয়ার। তাই ইন্টারনেট ব্যবহারে আইএসপি ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে।

এছাড়া ব্যক্তিগত ডিভাইসগুলোতে অ্যান্টি ভাইরাস ও মোবাইল সিকিউরিটির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে বলেও জানান তিনি।

সাইবার হামলা আতংকে কাঁপছে গোটা বিশ্ব। কিন্তু এ নিয়ে বাংলাদেশ কি ভাবছে তা জানালেন একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআইয়ের) টেকনোলজি স্পেশালিস্ট মোঃ আরফে এলাহি মানিক।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ক্লাউড কম্পিউটিংসহ নতুন নতুন প্রযুক্তি-সেবা গ্রহণে বিনিয়োগ করছে। সাইবার সিকিউরিটি নিয়েও সরকারের সতর্ক নজর রয়েছে।
এ জন্য এটুআই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সাথে মিলে ইথিক্যাল হ্যাকার, দক্ষ জনবল তৈরি এবং সিকিউরিটি সল্যুশনের সরকারী-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সচেতন করছে।

এছাড়া সরকার শিগগিরই সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট এবং দেশের প্রতিটি জেলায় সাইবার সিকিউরিটি কেন্দ্র খুলবে বলেও জানান তিনি।