খেলার ছলে শিশুদের শেখার অ্যাপ

তুসিন আহমেদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ছোট শিশুদের এখন খেলার নিত্য সঙ্গী স্মার্টফোন কিংবা ট্যাব। বেশিরভাগ শিশু স্মার্ট ডিভাইসে কার্টুন দেখা ও গেইম খেলে সময় কাটাতে পছন্দ করে। শিশুরা যেন এ স্মার্ট ডিভাইসেই লেখাপড়ায় হাতে খড়ি নিতে পারে সেজন্য রয়েছে বিভিন্ন অ্যাপ।

শিশুদের জন্য তেমন একটি অ্যাপ তৈরি করেছেন ওয়েব স্যালুশন এমবি নামের একটি স্টার্টআপ ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান। এটির নাম শিশু শিক্ষা।

ওয়েব স্যালুশনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মো. তারেক আহমদ টেক শহর ডটকমকে বলেন, অ্যাপটির থিম তৈরি করতে সময় লেখেছে এক মাস। চার জন মিলে শিশুদের জন্য মজার এ অ্যাপ তৈরি করেছেন।

 

apps-techshohor

এক নজরে অ্যাপটির ফিচারগুলো
এতে স্বরবর্ণ, ব্যঞ্জনবর্ণগুলো ধারাবাহিকভাবে দেখানো রয়েছে। কোনো বর্ণের উপর শিশু আঙ্গুল দিয়ে স্পর্শ করলেই নিজে থেকেই উচ্চারণ করে বর্ণটি শোনা যাবে।

শিশুদের উপযোগী ৫০টির বেশি ছড়া রয়েছে এতে। ছড়াগুলো পড়ার পাশাপাশি শুনতেও পারবে শিশুরা।

অ্যাপটিতে বাংলা ও ইংরেজি নম্বর গণনা শেখার সুবিধা রয়েছে।

সহজ সরল ইন্টারফেস হওয়ার করণে শিশুরা সহজে ব্যবহার করতে পারবে।

ইন্টারনেট ছাড়াও সম্পূর্ণ অফলাইনে কাজ করে অ্যাপ্লিকেশনটি।

৪.৫ রেটিং প্রাপ্ত অ্যাপ্লিকেশনটি ৫০ হাজারের বেশি ডাউনলোড হয়েছে। এটি এ ঠিকানা থেকে ডাউনলোড করা যাবে।

আরও পড়ুন 

আই লাইফ কিডস ট্যাব ৭: সাধারণ হলেও বিশেষ ফিচারে দারুণ

এস এম তাহমিদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : প্রথম আইপ্যাড বাজারে আসার পর থেকেই দেখা গেছে শিশুদের মাঝে ট্যাবলেট বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। গেইমসের পাশাপাশি পছন্দের কার্টুন, বই, ইন্টারঅ্যাকটিভ পড়াশোনার অ্যাপ নিয়ে খেলার সুবিধা থাকায় অভিভাবকরা প্রায়ই তাদের ট্যাবটি বাচ্চাদের হাতে দেন।

আইপ্যাডের সফলতার পথ ধরে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান মূলত বাচ্চাদের জন্যই ট্যাব বানানো শুরু করেছে, যার একটি হচ্ছে আই-লাইফ কিডস ট্যাব ৭। বাচ্চাদের জন্য উপযোগী এটির বিশেষ কিছু ফিচার অন্য ট্যাব থেকে এটিকে আলাদা করেছে।    

একনজরে আই-লাইফ কিডস ট্যাব ৭

  • ৭ ইঞ্চি ডিসপ্লে, রেজুলেশন ১০২৪x৬০০ 
  • ১.৩ গিগাহার্জ ডুয়াল-কোর প্রসেসর
  • মালি ৪০০ জিপিউ
  • ১ গিগাবাইট ডিডিআর ৩ র‌্যাম
  • ৮ গিগাবাইট স্টোরেজ, মাইক্রো-এসডি কার্ড স্লট
  • ওয়াই-ফাই ও থ্রি-জি ইন্টারনেট
  • অ্যান্ড্রয়েড ৪.৪ কিটক্যাট অপারেটিং সিস্টেম
  • ১ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ও ৩ মেগাপিক্সেল ব্যাক ক্যামেরা
  • ৩২০০ এমএএইচ ব্যাটারি
  • ব্লুটুথ, জিপিএস, এফএম রেডিও

4

ডিজাইন
শিশুদের উপযোগী এ ট্যাবে ব্যবহার করা হয়েছে উজ্জ্বল নীল বা গোলাপী প্লাস্টিক, যা বেশ ভাল পরিমাণে আঘাত সহ্য করতে সক্ষম। ট্যাবটির চারটি কোনায় আঘাত সামলানোর জন্য দেওয়া হয়েছে রাবারের বাম্পার।

সামনে রয়েছে স্পিকার, হোম, এসওএস ও ব্যাক বাটন এবং ফ্রন্ট ক্যামেরা। মাঝের বাটনগুলো রয়েছে স্ক্রিনের ডান পাশে, স্পিকার রয়েছে বাম পাশে ও ক্যামেরা স্ক্রিনের ওপরে।

ডান পাশে রয়েছে হেডফোন জ্যাক, মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট যার মাধ্যমে চার্জ করা ও ওটিজি সুবিধা দুটিই পাওয়া যাবে। এর সাথে রয়েছে মেমরি কার্ড স্লটটি।

ট্যাবটির ওপরে রয়েছে পাওয়ার ও ভলিউম বাটনগুলো। এটি পুরোপুরি প্লাস্টিকের তৈরি হলেও বেশ শক্তভাবেই তৈরি করা হয়েছে, যাতে করে শিশুদের হাতে সহজে নষ্ট না হয়।1

পারফরমেন্স
১.৩ গিগাহার্জ গতির ডুয়াল কোর ট্যাবটির পারফরমেন্সের দিক থেকে তাক লাগিয়ে দেবে না। তবে সাধারণ ওয়েব ব্রাউজ, ভিডিও দেখা, ছোট-খাট গেইম খেলা ও অন্যান্য কাজের জন্য এর পারফরমেন্স যথেষ্ট ভালো। যদিও ট্যাবটির স্পেসিফিকেশন ২০১১-১২ সালের মাঝারি মানের ট্যাবের মতো।

সাধারণ কাজের ক্ষেত্রে বেশ চলনসই হলেও এইচডি গেইম বা অনেকগুলো ওয়েব পেইজ এক সঙ্গে খোলার মত কাজ করার জন্য এটিতে যথেষ্ট পরিমাণ র‌্যাম নেই।

ট্যাবলেটটির সবচাইতে বড় অসুবিধা বলা যেতে পারে এর স্টোরেজ স্বল্পতা। মাইক্রো এসডি কার্ড ব্যবহারের সুবিধা থাকলেও প্রায় সব অ্যাপ্লিকেশনই অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেম স্টোরেজ ব্যবহার করায় খুব তাড়াতাড়ি স্টোরেজ ভর্তি হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়ে যায়।

তবে শিশুদের উপযোগী করে তৈরি হবার ফলে খুব বেশি অ্যাপ্লিকেশন ইন্সটল করার প্রয়োজনীয়তা কম। তাই সকল ভিডিও ও গান মেমরি কার্ডে রাখলে এটি নিয়ে তেমন সমস্যা হবে না।

6

ট্যাবটির ডিসপ্লে রেজুলেশন ও কালার দুটিই বেশ নিম্নমানের হলেও দামের বিবেচনায় খারাপ নয়। ক্যামেরা, স্পিকার ও মাইক্রোফোনের ক্ষেত্রেও একই কথা বলা যেতে পারে।

ব্যাটারি লাইফের দিক থেকেও বলা যেতে পারে এটি খেলনা পর্যায়েই রয়ে গিয়েছে। কেননা ৪-৫ ঘন্টার বেশি টানা ব্যবহার করা যাবে না, যা থ্রিজি ইন্টারনেট ব্যবহারে ৩ ঘন্টাতেও নেমে যেতে পারে।

কানেক্টিভিটির দিক থেকে ট্যাবটি বেশ অবাক করেছে। ওয়াই-ফাই, থ্রিজি, জিপিএস, ব্লুটুথ, ইউএসবি ওটিজি প্রায় সবকিছুই রয়েছে এতে।

5

বিশেষ ফিচার
শিশুদের হাতে দেয়া ট্যাবে অভিভাবকের বেশ ভাল পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন – এমন চিন্তা করে এটি তৈরি করা হয়েছে। এর মাঝে হার্ডওয়্যারের দিক থেকে এসওএস বাটনটি দিয়ে তিনটি প্রোগ্রাম করা নম্বরে কল করা যাবে।

এতে ঠিক কোন অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করা যাবে সেটি নির্ধারণ করে বাকিগুলো লক করা যাবে। একই সঙ্গে ট্যাবটি কোথায় রয়েছে সেটিও অভিভাবক সবসময় জানতে পারবেন।

এতে শিশুদের জন্য একটি বিশেষ ব্রাউজার ব্যবহার করা হয়েছে, যা নিজ থেকেই শিশুদের অনুপযোগী ওয়েবসাইট ও কনটেন্ট ব্লক করে দেবে।

এ ছাড়াও বাচ্চারা ঠিক কি কাজ করছে ট্যাবে সেগুলোর পরিসংখান দেখার সুবিধাও রয়েছে।

2

মূল্য
বাজারে ৪০০০-৪৫০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে ট্যাবটি।

একনজরে ভাল

  • বডি বেশ শক্ত ডিজাইনের। এ কারণে শিশুদের হাতে দিলেও ভাঙ্গার আশংকা কম
  • শিশুতোষ কন্টেন্ট ফিল্টারিং ও প্যারেন্টিং সুবিধা
  • থ্রিজি ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ
  • উজ্জ্বল ও সুন্দর রঙ

এক নজরে খারাপ

  • ব্যাটারি লাইফ বেশ কম
  • অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ বেশ পুরাতন
  • স্টোরেজ স্বল্পতা

শিশুদের সার্চ ইঞ্জিন কিডল

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : শিশুদের জন্য নিরাপদ একটি সার্চ ইঞ্জিন চালু হয়েছে। কিডল নামের এই সার্চ ইঞ্জিনটি শিশুদের জন্য বিভিন্ন কনটেন্ট ফিল্টার করে সরবরাহ করবে।

সার্চ ইঞ্জিনটি দেখতে অনেকটাই গুগল সার্চের মতোই। তবে সার্চ জায়ান্ট গুগলের সঙ্গে এর কোনো সংযোগ নেই।

কিডলের লোগোটি দেখতে অনেকটা গুগলের লোগোর মতো। তবে ব্যাক গ্রাউন্ড আলাদা। ব্যাকগ্রাউন্ডে রয়েছে বন্ধু সুলভ একটি রোবট। ব্যবহার করা হয়েছে মহাশূন্যের থিম।

kiddle

শিশুবান্ধব এই ওয়েবসাইট শিশুদের জন্য উপযোগী বিভিন্ন কনটেন্ট সরবরাহ করছে। এজন্য তারা গুগলের সার্চ বার ব্যবহার করছে।

অ্যাডাল্ট কনটেন্ট, বীভৎস ছবি বা ভিডিও, আত্মহত্যায় প্ররোচনামূলক তথ্য, ছবি বা ভিডিওসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদান ফিল্টার করে তার সরবরাহ করছে কিডল।

সাইটটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কিডল-এ অনুসন্ধানের মাধ্যমে যেসব ফলাফল পাওয়া যাবে, সেগুলো পারিবারিকভাবে গৃহীত হওয়ার মতো।

বিবিসি ও মিরর অবলম্বনে শামীম রাহমান

আরও পড়ুন: 

শিশুরাও পর্দায় আসক্ত!

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : প্রতিনিয়ত নতুন নতুন প্রযুক্তি পণ্য আসছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। নতুন উদ্ভাবনে চমকিত হচ্ছে মানুষ। সেই সঙ্গে প্রাত্যহিক জীবনে বাড়ছে প্রযুক্তির ব্যবহার।

৯০ দশকের শুরু থেকে মানুষের হাতে আসা প্রযুক্তিগুলো স্কিন বা পর্দা নির্ভর। সেকারণে প্রযুক্তিপণ্য ব্যবহার বা উপভোগ যাই বলি না কেন সব ক্ষেত্রেই ব্যবহারকারীকে চোখ রাখতে হবে ডিভাইসের পর্দায়।

আর সেটা করছেনও সব বয়সের মানুষ। দিনের একটি বড় সময় ঝুঁকে পড়ছেন ডিভাইসের পর্দায়। এটি বর্তমানে আসক্তিতে পরিণত হয়েছে।

bbc

বন্ধুদের আড্ডা, প্রেমিক যুগলের একান্ত সময়, অফিস শেষে পরিবারকে সময় দেওয়া সব ক্ষেত্রেই ঢুকে পড়েছে প্রযুক্তি পণ্য। আর এই ঘরে বাইরে প্রযুক্তিতে চোখ রেখে স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তবে শিশুদের বেলায় এই ক্ষতির পরিমাণ বহুমূখী। সবার সঙ্গে তাল রেখে শিশুদেরও পর্দায় চোখ রাখার সময় বেড়েছে অনেক। যা অভিভাবকদের উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাজ্য ভিত্তিক চাইল্ডওয়াইজ নামের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান তাদের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, ৫ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিশুরা দিনে ৬ ঘন্টা সময় ব্যয় করছে ডিভাইসের পর্দায় চোখ রেখে। যে সমটা দিনের চার ভাগের এক ভাগ।

শিশুদের পর্দা আসক্তির বিষয়ে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুরা গড়ে প্রতিদিন সাড়ে ৬ ঘন্টা, কিশোররা ৮ ঘন্টা আর ৮ বছর বয়সী মেয়ে শিশুরা সাড়ে ৩ ঘন্টা পর্দায় সময় থাকে।

১৯৯৫ সাল থেকে গত দুই দশকে বিভিন্ন ডিভাইসের পর্দায় সময় ব্যয় করার হার প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। সেসময় শিশুদের কাছে পর্দা ছিলো শুধু টেলিভিশন।

তবে তখনকার শিশু-কিশোররা টেলিভিশনের চেয়ে কমিক ম্যাগাজিনই বেশি পছন্দ করতো। সেসময় শিশুরা গড়ে সাড়ে ৩ ঘন্টা সময় ব্যয় করতো টেলিভিশনে।

কিন্তু এখনকার শিশুদের হাতে স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, গেইমিং কনসোল, সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন সাইটসহ বিভিন্ন ডিভাইস এসেছে। ফলে পর্দায় সময় ব্যয় বেড়েছে।

এ পরিস্থিতি শিশুদের মানুষিক ও শারীরিক বিকাশ বাঁধাগ্রস্ত করছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে চাইল্ডওয়াইজের প্রতিবেদনে।

বিবিসি অবলম্বনে সৌমিক আহমেদ

সাইবার হয়রানি : অভিভাবকদের জানা জরুরি

শাহরিয়ার হৃদয়, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ইন্টারনেটের অগ্রযাত্রার পাশাপাশি গত কয়েক বছরের ব্যাপক হারে বেড়েছে সাইবার অপরাধ। আর এ অপরাধের বড় অংশ জুড়ে আছে সাইবার হয়রানি। প্রযুক্তির বিস্তারে বিভিন্ন ধরনের ডিভাইস শিশুদের নাগালে চলে আসায় তারাও এর শিকার হতে শুরু করেছে। প্রাচ্য কিংবা পাশ্চাত্য সবখানেই নির্বিশেষে চলছে এ ঘটনা।

প্রতিনিয়ত নিজের অজান্তে শিশুরা মারাত্মক এ হয়রানির শিকার হচ্ছে তুলনামূলক ‘শক্তিশালী’দের দ্বারা। অথচ এ বিষয়টি এখনও অনেক অভিভাবক উপেক্ষা করেন। এটি শিশুর মানসিক বিকাশের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

কোথা থেকে শুরু হয় সাইবার হয়রানি, এর ফলাফল কি হতে পারে? ইয়াহুর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে তার বিস্তারিত :

সাইবার-হয়রানি-শিকার-শিশু-অভিভাবক-টেকশহর

সবকিছুই হয়রানি নয়
বিভিন্ন ধরনের হয়রানি নিয়ে সচেতনতা বাড়ার পাশাপাশি এটি নিয়ে ভুল বোঝা বোঝাবুঝিও বেড়েছে। অনেক ছোটখাটো বিষয়কে না বুঝে হয়রানির পর্যায়ে ফেলা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যখন কেউ তার চেয়ে তুলনামূলক দুর্বল কারও ওপর ক্ষমতা প্রয়োগের চেষ্টা করে এবং বারবার অপব্যবহার করে, সেটিই হয়রানি। এটি শারীরিক, মৌখিক থেকে শুরু করে ফেইসবুকে ফটো শেয়ার- সবরকম হতে পারে।

কিন্তু ফেইসবুকে একজন আরেকজনকে কুৎসিত বলল বা গোপন কিছু ফাঁস করে দিলো। সেটি হয়রানি নয়।

বাস্তবে হয়রানির সংখ্যা বেশি
৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ শিশু বাস্তব জীবনে একবার হলেও হয়রানির শিকার হয়ে থাকে। অনলাইনে এর হার ২৫ শতাংশ। অন্য কোথায়, সাইবার হয়রানির চেয়ে বাস্তব জীবনে দুই থেকে তিনগুণ বেশি হয়রানির শিকার হয় শিশুরা। যদিও অনলাইনের ব্যাপারটিই সবার আগে ফোকাসে আসে।

সাইবার-হয়রানি-শিকার-শিশু-অভিভাবক-টেকশহর

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইনে আসার চেয়ে স্কুলে যাওয়াতে শিশুদের হয়রানি হওয়ার সুযোগ বেশি।

প্রতিক্রিয়া ভয়াবহ হতে পারে
বাস্তবে হয়রানির শিকার হলে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া বেশি হয়। কিন্তু সাইবার হয়রানির প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী। শিশুদের মনে এটি এমন প্রভাব ফেলতে পারে যা তাদের সারাজীবন ভোগাবে। এবং একবার ছড়িয়ে পড়লে লাখ লাখ মানুষের কাছে অপমানিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

সব মাধ্যমে সাইবার হয়রানি
ইন্টারনেটের প্রতিটি প্ল্যাটফর্মেই এখন হয়রানি উপস্থিত। ফেইসবুক, ইন্সটাগ্রাম হোক কিংবা এক্সবক্স লাইভ, স্ন্যাপচ্যাট, মাইনক্রাফট গেইম, মোবাইল এসএমএস- সব প্ল্যাটফর্মে নিজস্ব কায়দায় হয়রানির ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অভিভাবকরা এ ব্যাপারে কিছু জানেন না। কেবল একটি সোশ্যাল নেটওয়ার্ক বা প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করে তাই হয়রানির সুরাহা করা সম্ভব নয়।

হয়রানির লক্ষণ
বয়সন্ধিকালের সাধারণ মানসিক টানাপোড়েন ও দ্বন্দ্ব থেকে হয়রানিকে আলাদা করতে পারেন না বেশিরভাগ অভিভাবক। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর চরিত্রের আকস্মিক পরিবর্তনকে এক্ষেত্রে গুরুত্বের সাথে নিতে হবে।

সাইবার-হয়রানি-শিকার-শিশু-অভিভাবক-টেকশহর

তাদের মতে, স্কুলে যেতে ভালোবাসে এমন শিশু যদি হঠাৎ স্কুলে যেতে না চায়, সেটি হয়রানির শিকার হওয়ার লক্ষণ হতে পারে। ফোন বা ল্যাপটপে সময় কাটাতো কিন্তু হঠাৎ এসব ব্যবহার করে দিয়েছে- এটিও পূর্বাভাস হতে পারে। এমন সময় সতর্ক হতে হবে।

আপনার শিশুও ‘বুলি’ হতে পারে
শুধু হয়রানির শিকার না হয়ে আপনার শিশুও অন্যকে হয়রানি করতে পারে, অর্থাৎ ‘বুলি’ হতে পারে। এটি বোঝার জন্যেও শিশুর আচার-আচরণের দিকে কড়া নজর রাখতে হবে।

হঠাৎ বেশি আবেগপ্রবণ বা সংবেদনশীল হয়ে যাওয়া, বড় কাউকে দেখলে ফোন বা কম্পিউটার লুকিয়ে ফেলা, অনেকগুলো নামে সোশ্যাল নেটওয়ার্কে অ্যাকাউন্ট চালানোর মানে হতে পারে আপনার শিশু অন্য কাউকে হয়রানি করছে।

শিশুর সাথে আলাপ করতে হবে
১৭ বছরের কম বয়সী শিশুরা তাদের চেয়ে বড় কারও সঙ্গে জীবনযাত্রার খুঁটিনাটি শেয়ার করতে চায় না। সাইবার হয়রানির ক্ষেত্রে এ সমস্যা আরও প্রকট। কিন্তু তারপরও অভিভাবকদের চেষ্টা করতে হবে শিশুর কাছাকাছি আসার। প্রযুক্তি নিয়ে ইতিবাচকভাবে কথাবার্তা বলে এর সমস্যাগুলো নিয়ে আলাপ করতে হবে।