যা থাকবে শাওমির নতুন ল্যাপটপে

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : চলতি বছর দেখা মিলতে পারে শাওমি এমআই নোটবুক এয়ারের নতুন সংস্করণের। ল্যাপটপটি সম্পর্কে অনলাইনে ফাঁস হয়েছে তথ্য ও ছবি।

ফাঁস হওয়ার ছবি থেকে দেখা যায়, ডিভাইসটির ডিজাইন দেখতে পূর্বের সংস্করণে মতই। তবে হার্ডওয়্যার কিছু পরিবর্তন আনা হতে পারে।

তথ্যমতে, ১৩ ইঞ্চি ডিসপ্লের ল্যাপটপে থাকবে ফিঙ্গার প্রিন্ট রিডার। এটি কোর আই৫ ও কোর আই৭ প্রসেসর সংস্করণে বাজার আসতে পারে। গ্রাফিক্স সুবিধা দিতে থাকতে পারে জিটিএক্স ৯৪০এমএক্স জিপিইউ। এছাড়া থাকতে পারে জিফোরস এমএক্স১৫০।

৮ জিবি র‍্যামের পাশাপাশি ১২৮ ও ২৫৬ জিবির ইন্টারনাল মেমোরি সংস্করণে বাজারে আসতে পারে ডিভাইসটি। ৪ সেলের ব্যাটারিতে থাকতে ফার্স্ট চার্জিং প্রযুক্তি। ফলে মাত্র ৩০ মিনিটের ৫০ শতাংশ চার্জ হবে এটি।

এছাড়া এতে ব্লুটু ৪.০, টাইপ সি, ইউএসবি ৩.০, এইচডিএমআই সুবিধা রয়েছে। ১.৩ কেজির ওজনের ডিভাইসটির সামনে থাকতে ওয়েকক্যাম যার সাহায্যে এইচডি ভিডিও রেকর্ড করা যাবে।

ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছরই দেখা মিলবে ডিভাইসটি। তবে শাওমি কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য জানায়নি।

জিএসএমএরিনা অবলম্বনে তুসিন আহমেদ

দেশে শাওমির প্রথম ফ্ল্যাগশিপ স্টোর

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেশে শাওমি তাদের প্রথম ‘এমআই ফ্ল্যাগশিপ স্টোর’ চালু করেছে। যেখানে শাওমির বিভিন্ন ধরনের পণ্যের অভিজ্ঞতা নিতে পারবেন আগ্রহীরা।

এই ফ্ল্যাগশিপ স্টোরে এক ছাদের নিচে শাওমির সব পণ্যের প্রদর্শন ও বিক্রয় কার্যক্রম চলবে। শাওমির বেশ কিছু পরিবেশবান্ধব ‘ইকো পণ্য’ রয়েছে, যা তাদের গ্রাহকের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং সাশ্রয়ী।

সম্প্রতি রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে এই স্টোর উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সোলার ইলেক্ট্রো বাংলাদেশ লিমিটেডের (এসইবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডি এম মজিবর রহমান ও এসইবিএল-এর প্রধান নির্বাহী দেওয়ান কানন।

MI-FLAGSHIP-Techshohor

দেওয়ান কানন বলেন, এই নতুন ফ্ল্যাগশিপ স্টোর গ্রাহককে শুধু শাওমি পণ্যের অভিজ্ঞতাই নয়, বরং গ্রাহককে দেবে ঘরোয়া পরিবেশে নিশ্চিন্তে শাওমির সব পণ্য কেনার সুযোগ। শুধু ঢাকায় নয়, অন্যান্য বিভাগীয় শহরে তাদের এ ধরনের ফ্ল্যাগশিপ শপ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি জানান, উদ্বোধন উপলক্ষে আগত দর্শনার্থী ও এমআই ভক্তদের জন্য ছিল আকর্ষণীয় গেইমিং, কুইজসহ নানা আয়োজন।

২০১০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে শাওমি বিভিন্ন পণ্য যেমন এমআই এবং রেডমি সিরিজ স্মার্টফোন, এমআই টিভি এবং টিভি বক্স, রাউটার ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের পরিবেশবান্ধব ইকো পণ্য তাদের পণ্যসারিতে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

মরান হোসেন মিলন

দেশের প্রথম এমআই হোম উদ্বোধন শুক্রবার

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : চীনের প্রযুক্তি পণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান শাওমির এমআই হোম উদ্বোধন হতে যাচ্ছে আগামী শুক্রবার। এটি বাংলাদেশে প্রথম এমআই হোম। যেখানে মিলবে শাওমি স্মার্টফোন, স্মার্ট ডিভাইসসহ নানা এক্সেসরিজ।

রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কের লেভেল ৪ (ব্লক ডি) এর ২২ নাম্বার শপে ঐদিন বিকেল সাড়ে ৪টায় উদ্বোধন করা হবে এমআই হোমের। থাকছে নানা আয়োজনও।

Mi-Home-in-bangladesh-TechShohor

শাওমি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সবার জন্য উন্মুক্ত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আকর্ষণীয় পুরস্কারসহ গেইম ও র‍্যাফেল ড্র থাকছে। কুইজ কিংবা গেইমিং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে প্রতিযোগিরা বিনামূল্যে স্মার্টফোন জিতে নিতে পারবেন।

এছাড়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থাকবে মাত্র ১ টাকায় বিভিন্ন পণ্য কেনার সুযোগ। আগ্রহীদেরকে একটি ফর্ম পূরণ করতে হবে। পূরণকৃত ফর্মের মাধ্যমে র‍্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হবে। কয়েকজন ভাগ্যবান বিজয়ী ১ টাকায় পণ্য স্মার্টফোন, গ্যাজেটসহ এমআই পণ্য কিনতে পারবেন।

রুদ্র মাহমুদ

জানা গেল শাওমি এমআই৬সি সম্পর্কে

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : শাওমির ফ্ল্যাগশিপ ফোন এমআই ৬ এর সাশ্রয়ী দামের সংস্করণ নিয়ে হাজির হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। মডেলটির নাম হতে পারে এমআই ৬সি।

সম্প্রতি বেঞ্চমার্ক ওয়েবসাইট ফাঁস হয়েছে ফোনটি সম্পর্কে তথ্য। ফাঁস হওয়ার তথ্য থেকে জানা যায়, ফোনটির ডিজাইন দেখতে এমআই৬ এর মত হলেও কিছু ভিন্নতা থাকছে।

এতে ব্যবহার করা হতে পারে স্ন্যাপড্রাগন ৬৬০ প্রসেসর। ৫.১ ইঞ্চি ডিসপ্লের ফোনটির রেজুলেশন হতে পারে ১৯২০*১০৮০ পিক্সেল। গ্রাফিক্স সুবিধা দিতে যুক্ত হতে পারে অন্ড্রেনো ৫১২ জিপিইউ। ৬ জিবি র‍্যামের ডিভাইসটিতে থাকবে ৬৪ জিবি ইন্টারনাল মেমোরি।

ছবি তোলার জন্য পিছনে থাকতে পারে ১১ এবং সামনে থাকতে পারে ৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা। ডিভাইসটিতে অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে থাকতে পারে অ্যান্ড্রয়েড ৭.১.১।

ফোনটি সম্পর্কে এখনো শাওমির পক্ষ থেকে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছরই দেখা মিলতে পারে ফোনটির। কেননা শাওমি প্রতিবার ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইসের একটি কমদামী সংস্করণ বাজারে আনে। গেলো বছর এমআই৫ এর সাথে বাজারে এনেছিলো এমআই ৫সি এবং ৫ এস।

গত মাসে উন্মুক্ত হওয়া শাওমি এমআই৬ এ রয়েছে ৫.১৫ ইঞ্চি কার্ভ ডিসপ্লে। ফোনটির পিছনের বডিতে কার্ভ গ্লাস দেওয়া হয়েছে।

ডিভাইসটিতে রয়েছে স্ন্যাপড্রাগন ৮৩৫ অক্টা কোর প্রসেসর এবং ৬ জিবি র‍্যাম। উন্নত গ্রাফিক্স সুবিধা দিতে রয়েছে ৫৪০ জিপিইউ। শক্তিশালী এ প্রসেসর বর্তমানে শুধু স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৮ ডিভাইসে ব্যবহার করা হয়েছে।

জিএসএমএরিনা অবলম্বনে তুসিন আহমেদ

এমআই ৬ ফোনে : যে কারণে বাদ যাচ্ছে হেডফোন জ্যাক

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : গত মাসে শাওমি চীনে তাদের পরবর্তী ফ্ল্যাগশিপ ফোন এমআই ৬ ঘোষনা করে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সর্বশেষ আইফোনের মতোই নতুন এই ফোনে বাদ যাচ্ছে হেডফোন জ্যাক।

শাওমিকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে অ্যাপলের মতোই কারণ দেখায় কোম্পানিটি। অ্যান্ড্রয়েড সেন্ট্রালকে দেওয়া মন্তব্যে জানা হয়, অন্যান্য কম্পোনেন্ট বিশেষ করে বড় ব্যাটারি যুক্ত করার জন্যই শাওমির এই ফোনে হেডফোন জ্যাক থাকছে না।

xiaomi-mi6-techshohor

এমআই ৬ এর ৩৩৫০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি থাকছে। যা এমআই ৫ এর ৩০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারির চেয়ে স্বাভাবিকভাবেই বড়।

হেডফোন জ্যাক বাদ দিয়ে নতুন ফোনে ইউএসবি-সি কানেক্টর থাকবে অডিও আউটপুটের জন্য। এছাড়া থাকবে ব্লুটুথও। শাওমি জানায়, ইউএসবি-সি অডিও জনপ্রিয় হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে অধিকতর ভালো অডিও অভিজ্ঞতা পাওয়া যাবে।

জিএসএম এরিনা অবলম্বনে রুদ্র মাহমুদ

২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে শাওমি ফোন

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : চীনের অন্যতম স্মার্টআপ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান শাওমি ইতিমধ্যেই এশিয়ার ও দক্ষিণ আমেরিকার বাজার মাতিয়েছে। এবার যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দখল নিতে প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।

আগামী দুই বছরের মধ্যে অর্থাৎ ২০১৯ সালেই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে নিজস্ব স্মার্টফোন উন্মোচন করবে চীনের শীর্ষস্থানীয় এই মোবাইল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। সিনেটকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে এই তথ্য জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির গ্লোবাল হেড ওয়াং জিয়াং।

xiaomi-mi6-techshohor

যদিও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশ করার পরিকল্পনা দুই বছর আগেই নেওয়া হয়েছিলো, নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে সেটি বাস্তবে রুপ পায়নি। ইতিমধ্যেই শাওমি কমদামে ভালোমানের ফোন তৈরির জন্য বিশ্বব্যাপী বেশ সাড়া ফেলেছে। দু:খজনক হলেও সত্যি যে অধিকাংশ আমেরিকান শাওমির নামই শোনেনি।

শাওমি তাদের ফোন সরাসরি কিংবা ওয়েবসাইটে বিক্রি করে। তবে এটি আমেরিকানদের উপযোগি নয়, কারণ তাদের অধিকাংশই স্থানীয় অপারেটরদের মাধ্যমে কিনে থাকে। তারপরেও যারা হার্ডকোর ফোনের ভক্ত এবং সুলভ ক্রেতা তারা শাওমির জন্য অপেক্ষা করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এর আগে জেডটিই, অ্যালকাটেল, হুয়াওয়ে, ওয়ানপ্লাস প্রবেশ করলেও তাদের সফলতা-বিফলতা সবই রয়েছে। এখন দেখার পালা শাওমির ভাগ্যে কি ঘটে!

সিনেট অবলম্বনে রুদ্র মাহমুদ

শাওমি ওয়াই-আই ফোরকে : মান ও বাজেটে ‘মাঝারি’ অ্যাকশন ক্যামেরা

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : শাওমি ক্যামেরা বানায় এমন তথ্য সাধারণের সবার খুব বেশি জানা নেই। সবাই মূলত এ ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন নিয়েই মাতামাতি করে বেশি। এরই মাঝে অন্যান্য ডিভাইসও বানাচ্ছে চীনা অ্যাপল খ্যাত কোম্পানিটি।

এরই অংশ হিসেবে অ্যাকশন ক্যামেরা গো-প্রো’র প্রথম সফল স্বল্পমূল্যের প্রতিদ্বন্দ্বী তৈরি করে শাওমির ওয়াই-আই টেকনোলজিস বেশ সাড়া ফেলেছে। সেই ক্যামেরাটির নতুন সংস্করণ ওয়াই-আই ফোরকে বাজারে এসেছে বেশ কিছুদিন আগে।

সর্বশেষ আপডেটের পর সেটি গো-প্রো’র তুলনায় কতটুকু সুবিধা করতে পেরেছে সেটাই এখন দেখার বিষয়। নতুন এ অ্যাকশন ক্যামেরার ফিচারগুলোর পাশাপাশি ভালো মন্দের বিচার বিশ্লেষণ থাকছে এ রিভিউতে।

এক নজরে শাওমি ওয়াই-আই ফোরকে

  • ১৫৫ ডিগ্রি ওয়াইড অ্যাঙ্গেল লেন্স
  • ১২ মেগাপিক্সেল সনি আইএমএক্স ৩৭৭ সেন্সর
  • ফোর-কে ৩০ এফপিএস, ১০৮০পি ১২০ এফপিএস ও ৭২০পি ২৪০ এফপিএস পর্যন্ত ভিডিও করার সুবিধা
  • ব্লুটুথ ও ডুয়াল-ব্যান্ড ওয়াই-ফাই সুবিধা
  • ২.২ ইঞ্চি টাচ স্ক্রিন ডিসপ্লে
  • মাইক্রো এসডি কার্ড স্লট
  • সরাসরি ক্যামেরায় চিত্র ও ভিডিও ধারণের সুবিধা ছাড়াও ফোনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের সুবিধা

4k-Yi-Action-Camera-Menu-techshohor

ডিজাইন
ক্ষুদ্রাকৃতির এ ক্যামেরার ডিজাইন বেশ সাধারণ। সামনে একটু পাশে রয়েছে এর লেন্স, ওপরে শাটার বাটন, পেছনের পুরোটা জুড়ে টাচ স্ক্রিন। ডান পাশে রয়েছে চার্জিং পোর্ট ও মাইক্রো এসডি স্লট ও নিচে স্ক্রু মাউন্ট ও ব্যাটারি ডোর।

বেশ শক্তপোক্ত প্লাস্টিকে তৈরি ম্যাট ব্ল্যাক ক্যামেরাটি হাতে নিলেই বোঝা যাবে এটি টুকটাক আঘাতও অনায়াসে সহ্য করে নিতে পারবে, এটি বলে দিতে হবে না।

ক্যামেরার বাটনটি কিছুটা অদ্ভুত স্থানে দেওয়ার ফলে ছবি তুলতে একটু অন্যরকম লাগবে। তবে সেটা অভ্যাসের ব্যাপার। ডিজাইনের মূল সমস্যা বলা যেতে পারে, ক্যামেরাটি পানি-নিরোধক নয়।

তাই পানির নিচে বা ভেজা অবস্থায় ব্যবহারের জন্য ওয়াটার প্রুফ কেস কেনা বাধ্যতামূলক।

Xiaomi-Yi-4K-Action-Camera-2-Harga-24-Jutaan

ব্যবহার
ক্যামেরাটির মূল প্রতিদ্বন্দ্বী বলা যেতে পারে গো-প্রো হিরো৪। অ্যাকশন ক্যামেরার মূল আকর্ষণ বলতে যা বোঝায় সেটির  প্রায় সবকিছুই ওয়াই-আই ৪কে ক্যামেরাটিতে করা যাবে। তবে দামের দিক থেকে গো-প্রো’র চাইতে এটি অনেক কম।

চলার পথে ভিডিও ধারণ, দ্রুত ঘটে যাওয়া ঘটনার স্লো-মোশন ভিডিও করাসহ সাধারণ ক্যামেরা যেখানে অচল – যেমন হেলমেট মাথায় থাকলে বা সাঁতার কাটার সময় – সেসব স্থানে ভিডিও করার জন্য ক্যামেরাটি অদ্বিতীয়।

টাচ স্ক্রিনের মাধ্যমে সহজেই ক্যামেরাটির প্রায় সব ফিচার ব্যবহার করা গেলেও ফোনের অ্যাপের সঙ্গে সংযুক্ত না করে আসলে এটির সম্পূর্ণ মজা পাওয়া যাবে  না।

ওয়াই-ফাই বা ব্লুটুথের মাধ্যমে ফোনের সঙ্গে একবার পেয়ারিং করার পর ফোন থেকেই সবটুকু নিয়ন্ত্রণ করে নেওয়া যাবে। তখন ক্যামেরাটি মনোপড, হেলমেট মাউন্ট, ইত্যাদির সঙ্গে জুড়ে অনেক ভিন্ন অবস্থানের ভিডিও ও চিত্র ধারণ করা সম্ভব হবে।

পারফরমেন্স
ক্যামেরার মূল পরিচয় নির্ভর করে ছবি ও ভিডিওর মানের উপর।  সেদিক থেকে ওয়াই-আই ৪কে অনেক বেশি এগিয়ে রয়েছে। স্ট্যাবিলাইজেশন থাকার ফলে প্রতিটি ফুটেজেই কাঁপুনি নেই বললেই চলে। অ্যাকশন ক্যামেরার জন্য যা খুবই গুরত্বপূর্ণ।

গো-প্রো হিরো৪-এর তূলনায় এ ক্যামেরায় ধারণ করা সব ফুটেজের ডিটেইলস তূলনামূলক কম। কন্ট্রাস্টের ঘাটতিও কিছুটা বেশি। তবে তূলনামূলকভাবে অন্ধকারেও কম নয়েজ পাওয়া গিয়েছে।

মূলত ভিডিওর জন্য তৈরি ক্যামেরাটি স্থিরচিত্র ধারণেও বেশ এগিয়ে রয়েছে। যারা সেলফি তুলতে ভালবাসেন তাদের কাছে ক্যামেরাটি ব্যবহারের পর বেশিরভাগ ফোনের ক্যামেরাই অপ্রতুল মনে হবে। শুধু সেলফি তোলার জন্য ক্যামেরাটি কেনার কোনোও মানে নেই।

এদিক থেকেও গো-প্রো’র পরিবর্তনযোগ্য ভিউইং অ্যাঙ্গেল আরও ভালো কাজ করে।

ফোরকে ছাড়াও ১০৮০পি ৬০এফপিএস ভিডিও মোডটি অ্যাকশন ভিডিও ধারণের জন্য বেশ কাজের। ২৪ এফপিএস মোড না থাকায় সিনেম্যাটিক ফুটেজ পাওয়া কিছুটা দুষ্কর।অবশ্য স্লো-মোশন মোডগুলো বেশ কাজের।

তবে গো-প্রো’র মতো ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল মোড বদলের সুযোগ না থাকায় সাবজেক্টের ওপর ফোকাস আনা বেশ কষ্টকর।

এসব শুনে মনে হবার কোনও কারণ নেই যে, ক্যামেরাটি খারাপ। গো প্রো হিরো৪ যেখানে ৪০ হাজার টাকার ওপরে বিক্রি হয়ে থাকে, সেখানে এটির ৭০ শতাংশ পারফরমেন্সের ক্যামেরা ২৪ হাজার টাকায় খুবই ভালো।

yi4k_vs_hero4black_first_impressions

ব্যাটারি লাইফ
গো-প্রো হিরো৪ এক চার্জে টানা ৩৮ মিনিট ভিডিও ধারণ করতে সক্ষম। সেখানে ওয়াই-আই ফোরকে সহজেই ৪৮ মিনিট ভিডিও ধারণ করতে পারে। এদিক থেকে ক্যামেরাটি বেশ এগিয়ে রয়েছে।

এর বিপরীতে গো-প্রো’র মতো এটির ব্যাটারি সহজে পাওয়া না যাওয়ায় দুটি-তিনটি ব্যাটারি অতিরিক্ত রাখলে চার্জ নিয়ে সমস্যাই পড়তে হবে না। কেননা এটিতে আলাদা চার্জ করার সুবিধাটি ঠিক নেই।

অ্যাপ
অ্যাকশন ক্যামেরার মূল বলা যেতে পারে এর অ্যাপ। এ দিক থেকে অনান্য চীনা প্রস্তুতকারদের চেয়ে ওয়াই-আই বেশ এগিয়ে রয়েছে।

ক্যামেরাটিতে ডুয়াল ব্যান্ড ওয়াই-ফাই থাকায় পেয়ারিং করতে কোনও দেরি হবে না। ভিডিও ধারণ করার পর সেটি ফোনে নিতেও খুবই কম সময় লাগবে।

অ্যাপটিতে যদিও এডিটিং বা শেয়ারিংয়ের সুবিধা গো-প্রো’র চাইতে বেশ কম। ফলে সেদিক থেকে কিছুটা মার্কস কাটা যাবেই।

পরিশেষ
সবদিক বিবেচনায় নিয়ে বলা যেতে পারে, অ্যাকশন ক্যামেরার রাজা গো-প্রো’র চীনা সংস্করণ এ ক্যামেরা। তবে হ্যা, মূল্য বিচারে এটিকে বাদ দিয়ে গো-প্রো কেনার কথা কোনও ভাবেই বলা যাবে না।

4k-Yi-Action-Camera-Menu-techshohor (2)

যেখানে ২৪ থেকে ২৫ হাজার টাকায় ওয়াই-আই ফোরকে কেনা যাবে, সেখানে মাত্র ৩০ শতাংশ বেশি ফিচারের জন্য ৪০ হাজারের বেশি টাকা ব্যয় করার কথা বলা খুবই কষ্টকর।

মূল্য : শুধু ক্যামেরা ও মনোপড ২৪ থেকে ২৫ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

এক নজরে ভালো

  • ছবি ও ভিডিওর মান
  • ব্যাটারি লাইফ
  • গো-প্রো’র সব অ্যাকসেসরিজ ব্যবহারের সুবিধা

এক নজরে খারাপ

  • অ্যাপের আরও উন্নতি প্রয়োজন
  • পানি-নিরোধক নয়
  • বেশ কিছু ভিডিও মোড নেই

এ রিভিউ তৈরি করেছেন টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর এস. এম. তাহমিদ

৭৭ লাখ ডলারের পেটেন্ট কিনলো স্ন্যাপচ্যাট

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : স্ন্যাপ ইনকর্পোরেশন ৭৭ লাখ ডলারের বিনিময়ে অধিগ্রহণ করেছে লোকেশন ভিত্তিক ফটোফিল্টারের ‘জিওফিল্টার’ পেটেন্ট। এই পেটেন্টের মালিক ছিলো ইসরায়েলি উদ্যোক্তা মোশে হোগেগ এর মোবলিই প্রতিষ্ঠান।

২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত মোবলিই এক সময় ইন্সটাগ্রামের সাথে পাল্লা দিয়েছিল ছবি শেয়ারিং অ্যাপের বাজারে। কিন্তু এতে এগিয়ে থাকে ইন্সটাগ্রাম।

snapchat-mllnnl-techshohor
ইসরায়েলি ইতিহাসে কোনো পেটেন্টের জন্য এটিই সর্বোচ্চ লেনদেন। মোশে হোগেগ এই পেটেন্ট বিক্রির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানালেও সংবাদ মাধ্যম টেকক্র্যাঞ্চ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ইতোমধ্যে মোবলিই ১০০ শেয়ার হোল্ডারকে বিক্রির বিষয়টি জানিয়ে ই-মেইল করা হয়েছে বলে জানানো হয় টেকক্র্যাঞ্চের প্রতিবেদনে।

জিওফিল্টার মূলত লোকেশন অনুযায়ী ছবি ফিল্টার করে থাকে। ২০১২ সালে এই পেটেন্টটি নিজেদের দখলে নিয়েছিলো মোবলিই। মূলত মোবলিই অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস অ্যাপ স্টোরে ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত। এই অ্যাপে লাইভ ব্রডকাস্টিং, লুপিং ভিডিও, স্ট্যাটাস, চেক ইন, লাইভ প্লেব্যাক এবং আরও অনেক ফিচার সুবিধা দিয়ে থাকে। এছাড়া প্রিমিয়াম সাবসক্রিপশনে ব্যবহারকারীরা মোবলিই কনটেন্ট বিজ্ঞাপন ছাড়াই ব্রাউজ করতে পারে।

এদিকে ‘ভারত বা স্পেনের মত গরীব দেশের জন্য স্ন্যাপচ্যাট নয়’ বলে স্ন্যাপ ইনকর্পোরেশন প্রধান নির্বাহী ইভান স্পিগ্যালের এমন বক্তব্যের পর ভারতের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচিত হন ইভান।

ক্ষোভ জানাতে অ্যাপস্টোর ও গুগল প্লেতে স্ন্যাপচ্যাটের রেটিং কমিয়ে দিচ্ছেন ভারতীয়রা।

টেকক্র্যাঞ্চ অবলম্বনে তুসিন আহমেদ

১১ রঙে পাওয়া যাবে শাওমি এমআই ৬

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : গত সপ্তাহে উন্মোচিত হয়েছে শাওমির নতুন ফোন এমআই ৬ । ৬ গিগাবাইট র‍্যাম ও স্ন্যাপড্রাগন ৮৩৫ প্রসেসর নিয়ে স্মাটফোনটিতে রয়েছে ৫.১৫ ইঞ্চির ডিসপ্লে। ফোনটির শিগগিরই বাজারে আসবে। তাই শাওমিপ্রেমীদের নানা উৎসাহ রয়েছে ফোনটি নিয়ে।

চীনের টিনা ডকুমেন্টেশনে নতুন তথ্য বেরিয়ে এসেছে। অনেকগুলো রঙে আসবে নতুন এই ফোন। যার মধ্যে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চারটি রঙের ফোন সামনে আনা হবে।

xiaomi-mi6-techshohor

টিনা লিস্টিংয়ে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফোনটি প্রাথমিকভাবে চীনের বাজারে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইসাথে ফোনে স্ক্রিণ রেজ্যুলেশন, আকার, ব্যাটারির আকার, রঙসহ বিভিন্ন তথ্য রয়েছে তাতে।

ঘোষিত রঙগুলোর মধ্যে রয়েছে কালো, সাদা, নীল ও সিলভার। এছাড়া পরবর্তীতে গোল্ড, গ্রে, পিং, ডার্ক গ্রে, চেরি ব্লুসম, ফ্রস্টেড ব্ল্যাক ও শ্যাম্পেন গোল্ড রঙে ফোন বাজারে আনা হবে। যদিও অধিকাংশ রঙের ফোনই শুধুমাত্র চীনের বাজারে বিক্রি করা হবে।

জিএসএম এরিনা অবলম্বনে রুদ্র মাহমুদ

এলো শাওমি এমআই ৬

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : অবশেষে নানা গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে উন্মুক্ত হলো চীনের অ্যাপন খ্যাত শাওমির ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইস এমআই ৬।

এতে ব্যবহার করা হয়েছে শক্তিশালী স্ন্যাপড্রাগন ৮৩৫ প্রসেসর। তবে ডিজাইনে তেমন কোনো বড় পরিবর্তন চোখে পড়েনি ফোনটিতে।

৫.১৫ ইঞ্চি কার্ভ ডিসপ্লের ডিভাইসটির রেজুলেশন ১০৮০*১৯২০ পিক্সেল। যা ৪২৮ পিপিআই পিক্সেল ডেনসিটি সমৃদ্ধ। ফোনটির পিছনের বডিতে কার্ভ গ্লাস দেয়া হয়েছে। ডিজাইন অনেকটা গত বছরের ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইস এমআই ৫’য়ের মতই।

ডিভাইসটিতে রয়েছে স্ন্যাপড্রাগন ৮৩৫ অক্টা কোর প্রসেসর এবং ৬ গিগাবাইট র‍্যাম। উন্নত গ্রাফিক্স সুবিধা দিতে রয়েছে ৫৪০ জিপিইউ। শক্তিশালী এই প্রসেসরটি বর্তমানে শুধু মাত্র স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৮ ডিভাইসে ব্যবহার করা হয়েছে।

xiaomi-mi6-techshohor

ইন্টারনাল মেমোরির উপর নির্ভর করে ডিভাইসটি ৬৪ ও ১২৮ জিবি সংস্করণে পাওয়া যাবে।

ছবি তোলার জন্য ডিভাইসটি পিছনে রয়েছে ফ্ল্যাশসহ ১২ মেগাপিক্সেল ডুয়েল ক্যামেরা। যেখানে ওয়াইড এঙ্গেল এবং টেলিফটো লেন্স ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে ২এক্স অপটিক্যাল জুম এবং ১০ এক্স ডিজিটাল জুম সুবিধা পাওয়া যাবে। সেলফি ও ভিডিও চ্যাটের জন্য সামনে রয়েছে ৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা।

ফোনটির সামনে ডিসপ্লের নিচেই রয়েছে ফিঙ্গার প্রিন্ট সেন্সর। যা নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে বলছে শাওমি। এছাড়াও ইউএসবি সি, ফাস্ট চার্জিং সুবিধা, ওয়াইফাই, ডুয়েল সিম ইত্যাদি সুবিধা রয়েছে এতে।

ব্যাকআপ সুবিধা দিতে ডিভাইসটিতে রয়েছে ৩ হাজার ৩৫০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি। সিলভার, গোল্ড, রোজ গোল্ড, বেগুনি এই চারটি রঙে পাওয়া যাবে ডিভাইসটি।

৬৪ ও ১২৮ গিগাবাইট মেমোরির সংস্করণের মূল্য যথাক্রমে ৩৬০ এবং ৪২০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

দ্য নেক্সট ওয়েব অবলম্বনে তুসিন আহমেদ

১৯ এপ্রিল মিলবে শাওমি এমআই ৬

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : চলতি মাসের ১৯ তারিখ উন্মুক্ত হবে শাওমির ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইস এমআই ৬। প্রতিষ্ঠানটি প্রধান নিবার্হী লেই জুন তারিখটি নিশ্চিত করে একটি টিজার ছবি প্রকাশ করেছেন।

শাওমির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে উচ্চ ক্ষমতা সম্পূর্ণ ফ্যাগশিপ ডিভাইস হতে যাচ্ছে এটি। দীর্ঘ ৭ বছর নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফসল এই ডিভাইস।

xiaomi-techshohor

টিজার ছবিতে দেখা যায়, বড় ইংরেজি অক্ষরে ছয় লেখা এবং নিচে চীনের একটি শহরের ছবি। উপরে রয়েছে শাওমির লোগো এবং নিচে লেখা ১৯ এপ্রিল উন্মু্ক্ত হবে ডিভাইসটি।

তবে ফোনটিতে কোন ধরনের কনফিগারেশন রয়েছে বা ডিজাইন কেমন হবে সেই সম্পর্কে কোনো তথ্য জানানো হয়নি প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে।

পূর্বে নানা গুঞ্জনে জানা যায়, এমআই ৬ দুইটি সংস্করণে বাজারে আসতে পারে। একটি হতে এমআই ৬ আরেকটি এমআই ৬ প্লাস। দুইটিতে ডিসপ্লের পার্থক্য ছাড়া তেমন কোনো পার্থক্য থাকবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। ডিভাইসটি মূল্য শুরু হতে পারে ৩২০ মার্কিন ডলার থেকে।

ধারণা করা হচ্ছে ফোনটির পিছনে থাকতে পারে সনি আইএমএক্স৩৮৬ সেন্সর সমৃদ্ধ ১২ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা এবং সামনে থাকতে পারে ৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা। প্রসেসর হিসেবে থাকবে স্ন্যাপড্রাগন ৮৩৫ প্রসেসর।

আর মাত্র কয়েকটা দিন পরেই অপেক্ষার প্রহর শেষ হবে শাওমি ভক্তদের। এখন দেখার বিষয় এমআই৬ শাওমি ভক্তদের চাওয়া পাওয়া মেটাতে পারে কিনা।

ফোন এরিনা অবলম্বনে তুসিন আহমেদ