এইচপি ওমেন ১৫ : গেইমিংয়ে দারুণ, দামও চড়া নয়

এস এম তাহমিদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : গেমিং ল্যাপটপ মানেই বেশ চড়া মূল্যের মোটা ও ভারি একটি নোটবুক কম্পিউটারই চোখের সামনে ভেসে উঠে। এইচপি এ তিন বাজে দিকের দুটি পুরোপুরি ও একটি অল্পবিস্তর বদলে দিতেই বাজারে এনেছে ওমেন সিরিজের ল্যাপটপ।

এ সিরিজের অনেকগুলো ডিভাইসের মধ্যে ১৫.৬ ইঞ্চি কোর আই ৭ ও এনভিডিয়া জিটিএক্স ১০৫০টিআই সমৃদ্ধ মডেলটির খুঁটিনাটিসহ আজ আমরা পরীক্ষা করে দেখব- এটি কি আসলেই সব ধরনের গেইম ভালোভাবে চালাতে সক্ষম কিনা।

এক নজরে এইচপি অমেন ১৫ (২০১৭)

  • সপ্তম প্রজন্মের ইন্টেল কোর আই ৭ ৭৭০০এইচকিউ, ২.৮ গিগাহার্জ গতির কোয়াডকোর প্রসেসর
  • ১৫.৬ ইঞ্চি, ফুল এইচডি আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লে
  • ১৬ গিগাবাইট, ২৪০০ মেগাহার্জ গতির ডিডিআর৪ র‌্যাম
  • ১২৮ গিগাবাইট এম.২ এসএসডি, ১ টেরাবাইট ধারণক্ষমতার ৭২০০ আরপিএম হার্ড-ডিস্ক
  • এনভিডিয়া জিটিএক্স ১০৫০টিআই গ্রাফিক্স চিপ, ৪ গিগাবাইট জিডিডিআর৫ ভির‌্যাম
  • গিগাবিট ল্যান, ৮০১.১১এসি ওয়াই-ফাই (ওয়্যারলেস ডিসপ্লে সমর্থিত), ব্লুটুথ ৪.২
  • মেমরি কার্ড রিডার
  • একটি ইউএসবি ২.০ পোর্ট, একটি এইচডিএমআই পোর্ট, একটি ল্যান পোর্ট, হেডফোন ও মাইক্রোফোন কম্বো জ্যাক
  • দুটি ইউএসবি ৩.১ প্রথম জেনারেশন ৫ গিগাবিট পোর্ট
  • ৮৮ ডিগ্রি ওয়াইড অ্যাঙ্গেল হাই-ডেফিনিশন ওয়েব ক্যামেরা
  • ব্যাং অ্যান্ড অলুফসেন অডিও
  • ব্যাকলিট কিবোর্ড
  • ৪ সেল ব্যাটারি, ১৫০ ওয়াটের অ্যাডাপ্টার
  • ২.২ কিলোগ্রাম ওজন

ডিজাইন
বরাবরের মতোই গেমিং ল্যাপটপ মানেই উদ্দীপ্ত ডিজাইন ও উজ্জ্বল রং – সেই ধারণা ওমেন সিরিজটি বেশ বদলে দিয়েছে। স্মার্ট ব্ল্যাক ফিনিশের এ মডেল চোখকে টানবে না। শুধু মাঝখানে অবস্থিত লাল লোগো ও কিবোর্ডের লাল ব্যাকলাইট ছাড়া আর তেমন রঙের ছোঁয়া নেই।

ল্যাপটপটির ওপরের অংশে অনেকটা কার্বন-ফাইবারের ন্যায় টেক্সচার দেওয়া হয়েছে। এর মাঝখানে রয়েছে ওমেন লোগো – এইচপির লোগো নয়।

একই টেক্সচার দেখা গেছে ডিভাইসটির পাম রেস্ট অংশটিতেও। তবে নিচের অংশ ও মনিটরের বেজেলে কোনও টেক্সচার নেই।

নোটবুকটিতে ডেস্কটপ গ্রেড গ্রাফিক্স চিপ থাকলেও এটি কোনওভাবেই খুব মোটা বলা যাবে না।

সব মিলিয়ে, অনেকেই ল্যাপটপটি দেখে গেমিং ল্যাপটপ ভাববেন না – যা অফিসে ব্যবহার করার জন্য খুবই গুরত্বপূর্ণ।

এটির ডান পাশে রয়েছে পাওয়ার পোর্ট, ল্যান জ্যাক, এইচডিএমআই পোর্ট, ইউএসবি ২ পোর্ট ও কার্ড রিডার। বাকি দুটি ইউএসবি পোর্ট ও হেডফোন জ্যাক রয়েছে বাম পাশে।

সামনে ও পেছনে কোনও পোর্ট দেওয়া হয়নি। প্রায় সকল কুলিং ভেন্ট পেছনে অবস্থিত।

চিকলেট স্টাইলের লাল ব্যাকলাইটের কিবোর্ডটি রয়েছে ডিসপ্লের ঠিক সামনেই, যার নিচে রয়েছে বর্ডারবিহীন টাচপ্যাড। অবশ্য তুলনামূলকভাবে ছোট টাচপ্যাডটির ওপরে আরও স্মুথ ফিনিশিং দেয়া যেত। এ ছাড়া বিল্ড কোয়ালিটিতে তেমন সমস্যা নেই।

ডিসপ্লে
১০৮০পি ফুল এইচডি রেজুলেশন ১৫.৬ ইঞ্চি ডিসপ্লের তুলনায় কিছুটা কম। এ রেজুলেশন গেইমের ক্ষেত্রে আজও আদর্শ হবার ফলে এ ল্যাপটপের ক্ষেত্রে তা অস্বাভাবিক নয়।

ডিসপ্লের পিক্সেল ঘনত্ব অন্যান্য ল্যাপটপের চেয়ে খুব ভাল না হলেও ব্রাইটনেস, কন্ট্রাস্ট ও কালার ব্যালান্সে বেশ এগিয়ে রয়েছে।

আইপিএস প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে ভিউইং অ্যাঙ্গেলের দিক থেকে ল্যাপটপটি খুবই ভালো। তবে কিছু কালার শিফট চোখে পড়তে পারে।

অন্যদিকে ভালো পরিমাণ ব্রাইটনেস ও ম্যাট ফিনিশের ফলে ডিসপ্লেটি প্রখর রোদেও সুন্দরভাবে ব্যবহার করা যাবে। তাই বলে ম্যাকবুকের মতো ব্রাইটনেস আশা করা ঠিক হবে না। 

কালার রিপ্রোডাকশন ও হোয়াইট ব্যালেন্সের দিক থেকেও এটি বেশ এগিয়ে। গেমিংয়ের জন্য হোয়াইট ব্যালেন্স ও ৯৮% এসআরজিবি কালার অ্যাকুরেসি খুবই ভালো ইমেজ দেখাতে সক্ষম হলেও মাত্র ৬২% অ্যাডোবি আরজিবি ফটো ও ভিডিও এডিটরদের কিছুটা হতাশ করবে।

সব মিলিয়ে, ল্যাপটপটির ডিসপ্লে পুরোই গেমিংয়ের জন্য তৈরি।

পারফরমেন্স
ইন্টেল কোর আই৭ ৭৭০০এইচকিউ কেবি-লেক কোয়াডকোর প্রসেসরটি এ মুহূর্তে সবচেয়ে শক্তিশালী ল্যাপটপ প্রসেসর। ফলে এটি কম্পিউটারের সব কাজই দ্রুততার সঙ্গে করতে সক্ষম।

ভারি সফটওয়্যার, যেমন অ্যাডোবি প্রিমিয়ার প্রো-তে ফোর-কে রেজুলেশনে ভিডিও এডিট করার মত কাজও প্রসেসরটি খুব সহজেই সামলে নিতে সক্ষম। গেমিং ও অন্যান্য কাজ এর কাছে কিছুই নয় বলে মনে হবে। 

র‌্যামের দিক থেকেও ডিভাইসটিতে কোনও কার্পণ্য করা হয়নি। ১৬ গিগাবাইট র‌্যাম আজও মাল্টি-টাস্কিংয়ের জন্য যথেষ্ট। চাইলে সেটি বাড়িয়েও নেয়া যাবে। দুটি র‌্যাম স্লট থাকায় ৩২ গিগাবাইট র‌্যাম সহজেই এ ল্যাপটপে ব্যবহার করা সম্ভব।

পিসিআই এসএসডি ব্যবহারের ফলে ডাটা রিড ও রাইটের দিকেও গতির মন্থরতা দেখা যায়নি। ফলে সকল কাজই চোখের পলকেই শেষ হয়ে যাবে।

গেমিং ল্যাপটপের মূল হচ্ছে এর গ্রাফিক্স চিপ। ওমেনে ব্যবহৃত জিটিএক্স ১০৫০টিআই এ মুহূর্তে বাজারের মাঝারি পারফরমেন্সের জিপিউর একটি।

১০৮০পি রেজুলেশনে প্রায় সকল গেইমই ৬০ এফপিএসে খেলা যাবে। কিছু গেইম, যেমন রেসিডেন্ট ইভেল ৭ খেলার সময় ১০০+ এফপিএসও পাওয়া গিয়েছে।

ব্যাটলফিল্ড ওয়ান বা জিটিএ ৫-এর মতো বেশ ভারি গেইমও হাই সেটিংসে ৬০ এফপিএসের নিচে নামেনি। যারা গেইমিংয়ের জন্য ল্যাপটপ খুঁজছেন তারা মাঝারি দামের এ ডিভাইস কিনে আশাহত হবেন না।

সব মিলিয়ে, গেমিং বা ভারি কাজ – সব কিছুই ওমেন ১৫ সহজেই সামলে নিতে সক্ষম। 

থার্মাল ডিজাইন 
শক্তিশালী প্রসসের ও জিপিউ-এর তাপ সঠিকভাবে বের করে দেয়াই সাধারণত গেমিং ল্যাপটপের মূল চ্যালেঞ্জ । ওমেন ১৫-এ কাজ খুব সুন্দরভাবে করতে সক্ষম। ফুল লোডে চলার সময়ও এটি ৬৫ ডিগ্রির ওপর যায়নি।

হাত রাখার স্থানে ৩৫ ডিগ্রি পর্যন্ত তাপ পাওয়া গিয়েছে – যা গেমিং ল্যাপটপের ক্ষেত্রে খুবই ভালো। অতিরিক্ত তাপমাত্রার ফলে সিপিউ বা জিপিউ থ্রটোলিংও হতে দেখা যায়নি। 

কিবোর্ড ও টাচপ্যাড
এইচপি বরাবরের মতো এটিতে চিকলেট কিবোর্ড ব্যবহার করেছে। এর কি-ট্রাভেল ২ মিলিমিটার থেকে কমিয়ে ১.২ মিলিমিটার করা হয়েছে। ফলে কিছু ব্যবহারকারীর কাছে এটি অগভীর মনে হতে পারে।

অন্যদিকে লাল ও কালোর মিশ্রণে তৈরি লাল ব্যাকলাইট সমৃদ্ধ কিবোর্ডটি বেশ দৃষ্টিনন্দন। চিকলেট লেআউটটি টাইপিংয়ের জন্য বেশ উপযোগী।

গেমিংয়ের ক্ষেত্রে অবশ্য আজকাল ল্যাপটপেও মেকানিক্যাল কিবোর্ড ব্যবহার করা হচ্ছে। এ দামে সেটি আশা করা ভুল। 

টাচপ্যাডটির ক্ষেত্রে এইচপি কিছুটা কৃপণতা করেছে। ফলে মাউস ব্যবহার করা প্রায় বাধ্যতামূলক।

ল্যাপটপটির আকৃতি অনুসারে অনায়াসে এর চাইতে বড় টাচপ্যাড দেওয়া যেত। মূল্য অনুসারে পলিশড গ্লাসের টাচপ্যাড আশা করা গেলেও এইচপি এর কোনওটিই করেনি। টাচপ্যাডটির অ্যাকুরেসি ও স্ক্রলিং – দুটোই খুবই মাঝারি মানের। 

সাউন্ড ও ওয়েবক্যাম
ব্যাং অ্যান্ড অলুফসেন অডিও আছে শুনে যারা ভালো মানের সাউন্ড আশা করছেন – তাদের হতাশ হতে হবে। স্পিকার ও হেডফোনে অন্যান্য ল্যাপটপের চাইতে বেশি ভলিউম পাওয়া যাবে; কিন্তু বেস ও ট্রেবলের ভারসাম্যহীনতা সেটি নষ্ট করেছে।

স্পিকারে অতিরিক্ত ট্রেবল থাকার ফলে অনেক সময় ভিডিওর কথা বোঝা কষ্টকর হয়ে পড়ে। হেডফোনেও সাউন্ডের তেমন উন্নতি নেই। 

ওয়েবক্যামের ভিডিওর মান খুবই সাধারণ। ভিডিও কলের বাইরে তেমন কিছু করার মতো ছবি এর কাছে পাওয়া যাবে না। 

ব্যাটারি লাইফ
৬৩ ওয়াট-আওয়ার ব্যাটারি সমৃদ্ধ ল্যাপটপটি ছয় ঘন্টা পর্যন্ত মাঝারি কাজে ব্যাকআপ দিতে সক্ষম। গেমিংয়ের সময় ২ থেকে ৩ ঘন্টার বেশি তা পাওয়া যাবে না।

অবশ্য গেমিং ল্যাপটপ এর চাইতে বেশি ব্যাকআপ দিতে সক্ষম নয়। এর চেয়ে বেশি ভালো ব্যাটারি লাইফ চাইলে আল্ট্রাবুক কেনা ছাড়া গতি নেই।

পরিশিষ্ট
গেমিং ল্যাপটপের মাঝে কিছুটা স্বল্পমূল্যের ও হালকা-পাতলা ডিজাইনের এ ডিভাইস গেমিং ছাড়াও ভারি কাজের জন্য ক্লাসরুম ও অফিসেও বেশ মানিয়ে যায়। ফলে যারা এমন দামের ল্যাপটপ কেনার কথা ভাবছেন, তারা অন্তত এটি একবার দেখতে পারেন।

মূল্য : ল্যাপটপটি অফিশিয়াল ওয়ারেন্টিসহ বাজারে এক লাখ ৩১ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

এক নজরে ভালো

  • ডিসপ্লে
  • পারফরমেন্স
  • ওজন ও ব্যাটারি লাইফ
  • থার্মাল ডিজাইন

একনজরে খারাপ

  • টাচপ্যাড
  • অডিও
  • ওয়েবক্যাম

 

যা থাকবে শাওমির নতুন ল্যাপটপে

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : চলতি বছর দেখা মিলতে পারে শাওমি এমআই নোটবুক এয়ারের নতুন সংস্করণের। ল্যাপটপটি সম্পর্কে অনলাইনে ফাঁস হয়েছে তথ্য ও ছবি।

ফাঁস হওয়ার ছবি থেকে দেখা যায়, ডিভাইসটির ডিজাইন দেখতে পূর্বের সংস্করণে মতই। তবে হার্ডওয়্যার কিছু পরিবর্তন আনা হতে পারে।

তথ্যমতে, ১৩ ইঞ্চি ডিসপ্লের ল্যাপটপে থাকবে ফিঙ্গার প্রিন্ট রিডার। এটি কোর আই৫ ও কোর আই৭ প্রসেসর সংস্করণে বাজার আসতে পারে। গ্রাফিক্স সুবিধা দিতে থাকতে পারে জিটিএক্স ৯৪০এমএক্স জিপিইউ। এছাড়া থাকতে পারে জিফোরস এমএক্স১৫০।

৮ জিবি র‍্যামের পাশাপাশি ১২৮ ও ২৫৬ জিবির ইন্টারনাল মেমোরি সংস্করণে বাজারে আসতে পারে ডিভাইসটি। ৪ সেলের ব্যাটারিতে থাকতে ফার্স্ট চার্জিং প্রযুক্তি। ফলে মাত্র ৩০ মিনিটের ৫০ শতাংশ চার্জ হবে এটি।

এছাড়া এতে ব্লুটু ৪.০, টাইপ সি, ইউএসবি ৩.০, এইচডিএমআই সুবিধা রয়েছে। ১.৩ কেজির ওজনের ডিভাইসটির সামনে থাকতে ওয়েকক্যাম যার সাহায্যে এইচডি ভিডিও রেকর্ড করা যাবে।

ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছরই দেখা মিলবে ডিভাইসটি। তবে শাওমি কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য জানায়নি।

জিএসএমএরিনা অবলম্বনে তুসিন আহমেদ

সবচেয়ে পাতলা ফ্লিপ নোটবুক উন্মোচিত

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বিশ্বের সবচেয়ে পাতলা ও ফ্লিপ ল্যাপটপ বাস্তবে এসেছে। সোমবার এক বৃহৎ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আসুস তাদের এই নতুন ল্যাপটপ ‘আসুস জেনবুক ফ্লিপ এস’ উন্মোচন করেছে। তাইপেতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া কম্পিউটেক্স টেকনোলজি শো’র আগেই এটি উন্মোচিত হলো।

নতুন জেনবুক ফ্লিপ এস মাত্র ১০ দশমিক ৯ মিলিমিটার পাতলা। তুলনা করলে এর বিপরীতে রয়েছে এইচপির স্পেক্টর এক্স৩৬০ (১৩ দশমিক ৮ মিলিমিটার) ও অ্যাপল ম্যাকবুক এয়ার (১৭ মিলিমিটার)।

ASUS Zenbook Flip S-TechShohor

তাইওয়ানের প্রযুক্তি পণ্য নির্মাতা আসুসের এই ১৩ দশমিক ৩ ইঞ্চি ল্যাপটপকে ৩৬০ ডিগ্রি ঘোরানো যায়। ফলে ট্যাবলেট হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে। এছাড়া এর ওজন মাত্র ১ দশমিক ১ কিলোগ্রাম যা এইচপি ও অ্যাপলের নোটবুকের থেকেও হালকা।

নোটবুকটিতে রয়েছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সিকিউরিটি সেন্সর, ৪কে ডিসপ্লে, অনস্ক্রিণ পেন ইনপুট সমর্থিত উইন্ডোজ ১০ ইত্যাদি ফিটার। দাম নির্ধারণ হয়েছে ১ হাজার ৯৯ ডলার।

ম্যাশেবল অবলম্বনে রুদ্র মাহমুদ

উইন্ডোজ ১০ব্যবহারকারী ৫০ কোটি

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ৫০ কোটি ব্যবহারকারীর মাইলফলক স্পর্শ করলো সফট জায়ান্ট মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ ১০ অপারেটিং সিস্টেম।

বুধবার অনুষ্ঠিত মাইক্রোসফটের ডেভেলপার সম্মেলন ‘বিল্ড ২০১৭’তে এই তথ্য জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

অনুষ্ঠানে মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী সত্য নাদেলা বলেন, উইন্ডোজ ১০ অপারেটিং সিস্টেম অল্প সময়ের গ্রাহকদের কাছে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ৪০ কোটি ব্যবহারকারী ছিলো। এরপর মাত্র ৮ মাসে ১০ কোটি ব্যবহারকারী উইন্ডোজ ১০ ব্যবহার করায় দ্রুতই আমরা ৫০ কোটির মাইলফলক স্পর্শ করি। আশা করছি ২০১৮ সালের মধ্যে ১০০ কোটি গ্রাহক এই ওএসটি ব্যবহার করবেন।

windows-10-techshohoir

তিনি আরও জানান, ইন্টারনেট নির্ভর হার্ডওয়্যার ও সেবার পাশাপাশি আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলেজেন্স বা এআইয়ের দিকে নজর দিচ্ছে মাইক্রোসফট।

মাইক্রোসফট জানিয়েছে, অফিস ৩৬৫ এর মাসিক বাণিজ্যিক সক্রিয় ব্যবহারকারী এখন ১০০ মিলিয়ন। সেই সাথে করটার্নার ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে সঠিক কত সংখ্যক ব্যবহারকারী করটার্নার ব্যবহার করেন সেই সংখ্যা জানানো হয়নি।

উল্লেখ্য, গুগলের ক্রোম ওএসের সাথে পাল্লা দিতে সম্প্রতি উইন্ডোজ ১০ এস নামে নতুন একটি বিশেষ সংস্করণ উন্মুক্ত করে মাইক্রোসফট। ধারণা করা যাচ্ছে এই সুবাদে কমদামী হার্ডওয়্যারযুক্ত ডিভাইসে আরও সহজে উইন্ডোজ ওএস ব্যবহার করা যাবে।

দ্য নেক্সট ওয়েব অবলম্বনে তুসিন আহমেদ

মাইক্রোসফটের নতুন ল্যাপটপ

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর :  নতুন সারফেস ল্যাপটপ বাজারে এনেছে প্রযুক্তি জায়ান্ট মাইক্রোসফট।

১৩.৫ ইঞ্চি ডিসপ্লের ডিভাইসটিতে অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে রয়েছে উইন্ডোজ ১০ এস।

মঙ্গলবার নিউইয়র্ক সিটিতে এক অনুষ্ঠানে মাইক্রোসফট নতুন ল্যাপটপটির উন্মুক্ত করে।

microsoft-techshohor

অনুষ্ঠানে মাইক্রোসফট ডিভাইসেস বিভাগের প্রধান প্যানস প্যানায় বলেন, ল্যাপটপটিতে নতুন উইন্ডোজ ১০ এস অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে। এটির ফলে আরও দ্রুত গতির নিশ্চিয়তা দেবে ল্যাপটপটি। এছাড়া ল্যাপটপটিতে পিক্সেল সেন্স ডিসপ্লে ব্যবহার হয়েছে, যাতে সারফেস পেন সমর্থন করবে।

দেখতে হালকা পাতলা ধরনের ল্যাপটপটি ব্যবহার করা হয়েছে শক্তিশালী ব্যাটারি। ফলে টানা ১৪ ঘণ্টা চার্জ থাকবে ডিভাইসটিতে। ডিভাইসটি ওজন মাত্র ১ কেজি ৫২ গ্রাম। এছাড়াও এতে রয়েছে হেডফোন জ্যাক, মিনি ডিসপ্লেপোর্ট, ইউএসবি পোর্ট সুবিধা।

কোর আই ফাইভ প্রসেসর, ১২৮ জিবি এসএসডি, ৪ জিবি র‍্যাম, ইন্টেল এইচডি গ্রাফিক্স ৬২০ সংস্করণটির মূল্য ৯৯৯ মার্কিন ডলার। একই প্রসেসর যুক্ত ২৫৬ জিবি এসএসডি, ৮ জিবি র‍্যামের সংস্করণটি মূল্য ১ হাজার ২৯৯ মার্কিন ডলার।

কোর আই সেভেন প্রসেসর যুক্ত ২৫৬ জিবি এসএসডি, ৮ জিবি র‍্যাম, ইন্টেল প্লাস গ্রাফিক্স ৬৪০ সংস্করণটির মূল্য ১ হাজার ৫৯৯ মার্কিন ডলার। একই প্রসেসর যুক্ত ৫১২ জিবি এসএসডি, ১৬ জিবি র‍্যামের সংস্করণটি মূল্য ২ হাজার ১৯৯ মার্কিন ডলার।

সিনেট অবলম্বনে তুসিন আহমেদ

নতুন গেইমিং ল্যাপটপ আনলো এসার

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বাজারে এসার ভিএক্স১৫ মডেলের নতুন গেইমিং পিসি নিয়ে এসেছে পরিবেশক প্রতিষ্ঠান স্মার্ট টেকনোলজিস (বিডি) লিমিটেড।

ইন্টেল সপ্তম প্রজন্মের ৭৭০০এইচকিউ মডেলের কোর আই সেভেন প্রসেসরের  ল্যাপটপটিতে রয়েছে আট জিবি ডিডিআর৪ র‌্যাম, এনভিদিয়া জিফোর্স জিটিএক্স ১০৫০ মডেলের ৪ জিবি গ্রাফিক্স কার্ড।

Acer-Laptop-Gaming-Techshohor

১২৮ জিবি এসএসডি, এক টেরাবাইট হার্ডড্রাইভ। রয়েছে ১৫ দশমিক ৬ ইঞ্চি ফুল এইচডি আইপিএস ডিসপ্লে।

এছাড়াও ব্লটুথ, ওয়াইফাই এবং ব্যাকলিট কীবোর্ড রয়েছে ল্যাপটপটিতে।

২ বছরের বিক্রয়োত্তর সেবাসহ ল্যাপটপটির দাম ৯৭ হাজার ৫০০ টাকা।

ইমরান হোসেন মিলন

৪৯৬৬ টাকা ডাউন পেমেন্টে ওয়ালটন ল্যাপটপ

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : চার হাজার ৯৬৬ টাকা ডাউন পেমেন্টে ল্যাপটপ দিচ্ছে দেশীয় ব্র্যান্ড ওয়ালটন।

এই ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ১২ মাসের কিস্তিতে কেনা যাবে ওয়ালটনের টেমারিন্ড সিরিজের ডব্লিউটি১৪বি৭১জি মডেলের ল্যাপটপটি।

১৪ ইঞ্চির এইচডি এলসিডি ডিসপ্লের ল্যাপটপটির নগদ মূল্য ২২ হাজার ৯৯০ টাকা।

walton-techshohor

এতে ব্যবহৃত হয়েছে ১.৬ গিগাহার্জ গতির ইন্টেলের ষষ্ঠ প্রজন্মের প্রসেসর, ৪ জিবি ডিডিআর৩এল র‌্যাম, ৫০০ জিবি হার্ডডিস্ক ড্রাইভ, ইন্টেলের ৪০৫ বিল্টইন এইচডি গ্রাফিক্স এবং ৪ সেলের লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি, যা ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যাকআপ দেবে। এর ওজন মাত্র ১.৮ কেজি।

এছাড়াও ২০ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে ১২ মাসের কিস্তিতে পাওয়া যাবে টেমারিন্ড, প্যাশন, কেরোন্ডা ও ওয়াক্সজ্যাম্বু সিরিজের অন্যান্য মডেলের ল্যাপটপ।

একই সঙ্গে মাল্টিটাস্কিং ও অত্যাধুনিক গেমিং সুবিধার ওয়াক্সজ্যাম্বু ও কেরোন্ডা সিরিজের কোর-আই সেভেন প্রসেসরযুক্ত ল্যাপটপ ৩ মাসের কিস্তিতে নগদ মূল্যে কেনা যাবে।

এগুলোতে রয়েছে ২ বছরের ওয়ারেন্টি। দেশের সকল ওয়ালটন প্লাজা ও সেলস পয়েন্টে পাওয়া যাচ্ছে এই ল্যাপটপ।

ওয়ালটন গ্রুপের অপারেটিভ ডিরেক্টর ও ল্যাপটপ প্রজেক্টের ইনচার্জ ইঞ্জিনিয়ার মো. লিয়াকত আলী বলেন, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার কারণে শিক্ষার্থী, বেকার তরুণ-তরুণী, চাকুরিজীবীসহ সবার কাছেই বর্তমানে ল্যাপটপ একটি অন্যতম অত্যাবশ্যকীয় পণ্য। সবশ্রেণীর মানুষের কথা মাথায় রেখে ওয়ালটন এমন সুযোগ দিচ্ছে।

ইমরান হোসেন মিলন

বিমানে ল্যাপটপ ও ট্যাবলেট বহনে নিষেধাজ্ঞা

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : যুক্তরাষ্ট্রের পর এবার ব্রিটেনও মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি মুসলিম দেশ থেকে আসা বিমানে ল্যাপটপ ও ট্যাবলেট বহনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছে। এমনকি কেবিনে বড় আকারের স্মার্টফোন বহনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছে দেশ দুটি।

ইসলামিক স্টেট বা আইএস ‘জঙ্গিরা’ এসব ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসে বিস্ফোরক বহন করছেন এমন অবিযোগ তুলে মুসলিম দেশগুলোথেকে আসা বিমানে এই নিয়েধাজ্ঞা আরোপ করেছে দেশ দুটি।

যুক্তরাজ্যের আগে আটটি দেশের সরাসরি ফ্লাইটের ওপর এই নিষেধাজ্ঞার কথা জানিয়েছে মার্কিন সরকার এবং এগুলো সবই মুসলিম দেশ।

Plan-laptop_Tablet-techshohor

এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ছে তুরস্ক, লেবানন, জর্ডান, মিশর, তিউনিসিয়া, কাতার, কুয়েত ও সৌদি আরবের এয়ারলাইন্স।

এসব দেশ থেকে আসা এয়ারলাইন্সকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে চারদিন সময় দেওয়া হয়েছে।

তুরস্কের ইস্তাম্বুলের একজন ব্যবসায়ী ইব্রাহীম কস্কুন বলছেন, আজকের দুনিয়াতে এই সিদ্ধান্ত একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।

বিমান যাত্রীদের অনেকেই ল্যাপটপ বা ট্যাবলেটে গানা শোনেন বা সিনেমা দেখেন। কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞার কারণে ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস বহনই করতে পারবেন না যাত্রীরা।

তিনি বলছেন, আজকের দিনে প্রযুক্তির অগ্রগতির সময়ে এমন সিদ্ধান্ত খু্ব ভয়াবহ। আজকাল সবার কাছেই একটা ল্যাপটপ বা ট্যাবলেট থাকে। যা তারা নানা ধরনের কাজেই ব্যবহার করে। এমন সিদ্ধান্তের আমি নিন্দা করছি।

মিশরের একজন নাগরিক আহমেদ র‍্যামজি বলছেন, এটি একটি অর্থহীন সিদ্ধান্ত। এ ধরের নিষেধাজ্ঞা দিয়ে কখনোই সন্ত্রাস বন্ধ করা যাবে না।

ব্রিটিশ সরকার বলছে, বিমান যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আর মার্কিন সরকার বলছে, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো যাত্রীবাহী বিমানকে ইদানীং অনেক বেশি টার্গেট করছে বলে তাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে।

হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র শন স্পাইসার বলছেন, গোয়েন্দা তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো বাণিজ্যিক বিমানগুলোকে টার্গেট করতে নানা রকম নতুন উদ্ভাবনী কায়দা ব্যবহার করছে। এ বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে শুধুমাত্র কয়েকটি দেশের ওপর এটি আরোপ হচ্ছে বলে অনেকে এটিকে বর্ণবাদী আচরণও বলছেন।

বিবিসি বাংলা থেকে

ইন্সপিরন ১৫-৫৫৬৭ : ডিসপ্লেতে সাধারণ, মানে ও দামে মাঝারি

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : মাঝারি মূল্যে ৫০ থেকে ৬৫ হাজার টাকার মধ্যে কেনার জন্য ল্যাপটপ বাছাই করা বেশ কষ্টসাধ্য। প্রায় একই স্পেসিফিকেশনের, কাছাকাছি ডিজাইনের ল্যাপটপ প্রায় সব কোম্পানিই তৈরি করে থাকে। এগুলোর মধ্যে থেকে নিজের পছন্দেরটি কিনতে গিয়ে প্রায়ই ধাঁধায় পড়তে হয়।

আগে থেকে হোমওয়ার্ক করা না থাকলে বিক্রয় কর্মীদের কথার মারপ্যাচে খেই হারিয়ে ফেলতে হবে। এমন বাজেটের ল্যাপটপ যারা কিনতে চান তাদের কথা মাথায় রেখে একটি মডেলের বিস্তারিত নিয়ে এ রিভিউ।

ব্র্যান্ড হিসেবে ডেলকে খুব বেশি পরিচয় করিয়ে দেওয়ার নেই। তবে প্রযুক্তি ও সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে প্রায়ই নতুন মডেল আনছে এ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। এ কারণে একটি মডেলের অনেক কিছু জানার আছে।

এক নজরে ডেল ইন্সপিরন ১৫ ৫০০০ সিরিজ ২০১৬ (১৫-৫৫৬৭)

  • ৭ম জেনারেশন কোর আই ৫ ৭২০০ইউ  প্রসেসর ( ২.৫ গিগাহার্জ, ৩ .১ গিগাহার্জ টার্বো, ডুয়াল – কোর, ৪ থ্রেড)
  • ১৫.৬ ইঞ্চি ফুল এইচডি ডিসপ্লে  (১৯২০x১০৮০ পিক্সেল)
  • ৪ গিগাবাইট ডিডিআর ৪ র‌্যাম
  • এএমডি র‌েডিওন আর৭ এম৪৪৫ জিপিউ, ২ গিগাবাইট ডেডিকেটেড মেমরি (জিডিডিআর ৫)
  • ডিভিডি রম
  • ৩ সেল ব্যাটারি, ৪ ঘন্টা ব্যাকাপ
  • ল্যান, ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ কানেক্টিভিটি
  • ১ টেরাবাইট হার্ড ডিস্ক অথবা ২৫৬ গিগাবাইট এসএসডি

ডিজাইন
গ্লসি প্লাস্টিকে তৈরি ল্যাপটপটি দেখতে তেমন অসাধারণ না হলেও, মূল্যের সঙ্গে মানানসই মানের প্লাস্টিকের কারণে ব্যবহারকারীদের কোনও সমস্যা হবে না। ডান পাশে রয়েছে একটি ইউএসবি ২ পোর্ট, কার্ড রিডার ও ডিভিডি ড্রাইভ। এটির সামনে ও পেছনে কোনও পোর্ট নেই।

বাম পাশে রয়েছে দুটি ইউএসবি ৩ পোর্ট, চার্জিং পোর্ট, একটি এইচডিএমআই পোর্ট, একটি ল্যান পোর্ট ও হেডফোন-মাইক্রোফোন কম্বো জ্যাক।

ল্যাপটপি খুললেই দেখতে পাবেন ১৫.6 ইঞ্চি স্ক্রিন। ঠিক ওপরে ওয়েব ক্যাম ও নিচে কিবোর্ড ও টাচ প্যাড। ডিসপ্লের চারপাশে ম্যাট প্লাস্টিক ব্যবহার করা হলেও কিবোর্ডে হাত রাখার জায়গাটিতে কিছুটা গ্লসি প্লাস্টিক রয়েছে।

কিবোর্ডের ডান পাশের ওপরের অংশে রয়েছে পাওয়ার বাটন।

ল্যাপটপটির তলায় রয়েছে স্পিকারগুলো ও কুলিং ফ্যান ইনটেক। এ কারণে এটি বিছানায় ব্যবহার না করাই ভাল হবে।  

পারফরমেন্স

সিপিউ : কোর আই-৫ সিপিউগুলো মূলত দৈনন্দিন সকল কাজের জন্য তৈরি করা হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রেও ব্যাতিক্রম নয়। তবে ইন্টেল বিগত কয়েক বছর ধরেই প্রসেসিং ক্ষমতার দিকে তেমন নজর না দিয়ে, শুধু ব্যাটারি ব্যবহার কমানোর জন্য গবেষণা করছে।

এ কারণে চতুর্থ প্রজন্মের প্রসেসর সমৃদ্ধ ল্যাপটপ ব্যবহারকারীদের আপগ্রেড করার প্রয়োজন একেবারেই নেই।

বেঞ্চমার্ক স্কোর থেকে দেখা যাচ্ছে, প্রসেসরটি সাধারণ কাজের জন্য যথেষ্ট ভাল। তবে তা সে পর্যন্তই সীমাবদ্ধ।

তবে ৭ম জেনারেশনে তৈরির কৌশলগত কারণে (১৪ ন্যানোমিটার ট্রানসিস্টর সাইজ) প্রসেসরটি বেশ ভাল ব্যাটারি লাইফ ও কম তাপ উৎপাদন করে থাকে।

অবশ্য হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই – কেননা প্রসেসরটি ফটোশপ, সাধারণ অফিস কাজ, ব্রাউজিং, মাঝারি গেমিং ও প্রোগ্রামিংয়ের কাজ ভালো ভাবেই করতে প্রস্তুত। যদিও কোনটিই তাক লাগানোর মত দ্রুততার সঙ্গে নয়।

জিপিউ : এএমডি রেডিওন আর৭ এম৪৪৫ – এ বিশাল নামটি দেখে জাঁদরেল একটি জিপিউ মনে হতেই পার। তবে কাজের ক্ষেত্রে এটি খুব ভালো কিছু নয়।

প্রসেসরের সঙ্গে থাকা ইন্টেল এইচডি ৬২০ গ্রাফিক্সের চাইতে এটি দ্বিগুণ পারফরমেন্স দিতে সক্ষম হলেও সত্যিকারের ল্যাপটপ গেমিং গ্রাফিক্স কার্ড- যেমন এনভিডিয়া জিটিএক্স ৯৬০এম এর চাইতে প্রায় তিন গুন কম পারফরমেন্স দিতে পারবে এটি।

dell6

এ নিয়ে এটিকে বাতিলের খাতায় ফেলারও কারণ নেই, কেননা এ বাজেটে আর একটি ল্যাপটপ গ্রাফিক্স কার্ডই বাজারে রয়েছে – এনভিডিয়া জিটি৯৪০এমএক্স, যেটির পারফরমেন্সও ঠিক এম৪৪৫ এর সমান।

এ জিপিউয়ের মাধ্যমে প্রায় সকল গেইম হাই সেটিংয়ে ৩০ এফপিএসে খেলা যাবে। ১২৮০x৭২০ পিক্সেল রেজুলেশনে ও ফুল ১৯২০ x ১০৮০ পিক্সেল রেজুলেশনে সুবিধা হবে না।

যারা ল্যাপটপে ভিডিও এডিটের কাজ করেন, তারা অবশ্যই জিপিউটির ওপেন সিএল রেন্ডারিং ব্যবহার করে সুফল পাবেন। সেদিক থেকে এ বাজেটে আলাদা জিপিউ ছাড়া ল্যাপটপের চাইতে এটি অবশ্যই ভাল।

স্টোরেজ : এটি মূলত ১ টেরাবাইট ৫৪০০ আরপিএম হার্ডডিস্ক সম্বলিতভাবে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। তবে যদি ২৫৬ গিগাবাইট এসএসডি সম্বলিত সংস্করণটি পাওয়া যায় সেটি কেনাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

হার্ড ডিস্কটির রিড ও রাইট স্পিড ১০০-১২০ মেগাবাইট/প্রতি সেকেন্ড – যা ভিডিও এডিট বা ফটোশপে ভারি কাজ করার জন্য একেবারেই অপ্রতুল।

অন্যদিকে ২৫৬ গিগাবাইট এসএসডি সম্বলিত সংস্করণে ব্যবহার করা হয়েছে স্যানডিস্কের বিজনেস ক্লাস এসএসডি। এটির রিড ও রাইট স্পিড ৫০০+ মেগাবাইট প্রতি সেকেন্ড। অনেকের কাছে অবশ্য এটির জায়গা কম মনে হতে পারে।

ব্যবহারিক উপযোগীতা

ডিসপ্লে : ১৫.৬ ইঞ্চি ফুল এইচডি ডিসপ্লে সম্বলিত ল্যাপটপটির রঙ ও ভিউ এঙ্গেলের দিক থেকে বেশ হতাশ করবে। ডিসপ্লেটি এলইডি ব্যাকলাইট সম্বলিত এলসিডি প্যানেল হলেও আইপিএস প্রযুক্তির বদলে ব্যবহার করা হয়েছে টি-এন প্রযুক্তি।

এ কারণে রঙের ডেপথ বেশ কম। কন্ট্রাস্টের ঘাটতি রয়েছে ও সরাসরি সামনে থেকে না দেখলে রঙ বদলে যাওয়ার সমস্যা রয়েই গেছে। যদিও এ বাজেটে এর চাইতে ভালো ডিসপ্লের ডিভাইস বাজারে তেমন নেই।

কিবোর্ড ও টাচ প্যাড : চিকলেট কিবোর্ডটি প্রায় সবার কাছেই আরামদায়ক মনে হবে। ফুল নম্বর প্যাড থাকায় এক্সেল ব্যবহারকারীদের কাছে এটি ভালো লাগবে।

তবে কিবোর্ডটি ব্যাকলিট হলে আরও ভাল হতে পারত। সম্ভবত বাজেটের মাঝে রাখার কারণেই সেটি বাদ দেওয়া হয়েছে।

টাচপ্যাডটি বেশ প্রশস্ত ও আরামদায়ক। বাটনগুলো টাচপ্যাডের অংশ হবার ফলে যে কোনও জায়গা থেকেই ক্লিক করা যাবে সহজেই।

প্যাডটির ওপর মসৃন প্লাস্টিক ব্যবহার করায় নেভিগেশনেও সমস্যা হবেনা।  

স্পিকার : এটির তলায় থাকা স্পিকার দুটি তেমন জোরালো নয়। সাউন্ড কোয়ালিটির দিক থেকেও শুধু কাজ চালানোর মতোই।

থার্মাল ডিজাইন : ল্যাপটপটি সাধারণ ব্যবহারের সময় ফ্যান বন্ধ রেখেই চলতে সক্ষম। তাই বলা যেতে পারে হিট হবার সম্ভাবনা নেই তেমন। ফ্যানগুলোর বাতাস টানার জায়গাগুলো নিচে হওয়ার কারণে ল্যাপটপটি শক্ত টেবিল বা কুলারের ওপর রেখে ব্যবহার করাই ভালো।

গেইম খেলার সময় জিপিউ পুরোদমে চলার কারণে বেশ গরম হতে পারে। 

পোর্ট : মাত্র তিনটি ইউএসবি পোর্ট রয়েছে। সাধারণত এর একটিতে ব্যবহারকারীরা মাউস সংযুক্ত করেন। ফলে বাকি দুটির মধ্যে একটিতে কিবোর্ড যোগ করলে বাকি একটি দিয়ে সব কাজ এক সঙ্গে চালানো মুশকিল।

আলাদা মনিটর বা প্রজেক্টর লাগানোর জন্য দেওয়া রয়েছে একটি এইচডিএমআই পোর্ট। ফলে প্রায় সময়ই এইচডিএমআই টু ভিজিএ অ্যাডাপ্টার লাগতে পারে।

আলাদা মাইক্রোফোন পোর্ট না থাকার বিষয়টি একটি সমস্যা বলা যেতে পারে। তবে পোর্টের স্বল্পতা আজকাল প্রায় সব ল্যাপটপেরই মূল সমস্যায় পরিণত হওয়ায় আসলে তেমন কিছু করার নেই।

ব্যাটারি লাইফ : তিন সেলের ব্যাটারি চার ঘন্টা পর্যন্ত ব্যাকআপ দিতে সক্ষম। বাস্তবে অবশ্য তিন ঘন্টার বেশি আশা না করাই ভাল।

মূল্য : দেশের বাজারে ৫৩ থেকে ৫৪ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

এক নজরে ভাল

  • মূল্য অনুযায়ী ভালো প্রসেসর, জিপিউ
  • ফুল এইচডি ডিসপ্লে
  • ভাল থার্মাল ডিজাইন
  • র‌্যাম বাড়ানোর সুবিধা
  • ডিভিডি রম থাকায় পরে আরও স্টোরেজ বাড়ানোর সুবিধা
  • ভাল বিল্ড

এক নজরে খারাপ

  • টি-এন প্যানেল ডিসপ্লে, কন্ট্রাস্ট ও কালারে ঘাটতি
  • সাধারণ স্পিকার
  • সাধারণ ব্যাটারি লাইফ
  • গ্লসি প্লাস্টিকে আঙুলের ছাপ পড়ার সম্ভাবনা

এ রিভিউ তৈরি করেছেন টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর এস. এম. তাহমিদ

১৪,৯৯৯ টাকায় নতুন ল্যাপটপ

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর :  যুক্তরাষ্ট্রের ব্র্যান্ড,আই লাইফের’ ল্যাপটপ বাজারে নিয়ে এলো জেড এয়ার প্রও ল্যাপটপ। ল্যাপটপটির দাম মাত্র ১৪ হাজার ৯৯৯ টাকা।

ইন্টেল কোয়াড কোর ও জেনুইন উইন্ডোজ ১০ অপারেটিং সিস্টেম সমৃদ্ধ একটি স্লিম ল্যাপটপ। শিক্ষার্থী ও কর্পোরেট এক্সকিউটিভদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি ল্যাপটপে ইন্টেল কোয়াড কোর প্রসেসর ও অরিজিনাল উইন্ডোজ ১০ রয়েছে। সহজে বহনযোগ্য ল্যাপটপটির ওজন মাত্র ১.২৫ কেজি।

ilife-notebook-techshohor

১৫.৯ মি. মি পুরুত্ব, অত্যন্ত আকর্ষণীয় ডিজাইনের, স্লিম, স্বচ্ছ ও সম্পূর্ন এইচডি কোয়ালিটির ডিসপ্লে সংযুক্ত ল্যাপটপটি পাওয়া যাচ্ছে গ্রে, সিলভার ও গোল্ডেন রঙে।

১২.৫ ইঞ্চি এইচ ডি ডিসপ্লের ল্যাপটপে রয়েছে ৮০০০ এমএএইচ ব্যাটারি, যার মাধ্যমে টানা ৮ ঘণ্টা চালাতে পারবেন।

২ জিবি র‍্যাম, ৩২ জিবি এসএসডি স্টোরেজ এবং ১০০ জিবি ক্লাউড স্টোরেজ বিনামূল্যে পাবেন ক্রেতারা। ল্যাপপটপটিতে রয়েছে দুটি ইউএসবি পোর্ট টু, এইচডিএমআই ও এসডি কার্ড পোর্ট রয়েছে।

ঢাকার বিসিএস কম্পিউটার সিটি (আইডিবি ভবন), মাল্টিপ্লান সেন্টার, উত্তরা কম্পিউটার সেন্টার, রংপুর, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বগুড়াসহ প্রায় সারা দেশে পাওয়া যাচ্ছে।

এছাড়াও অনলাইন কেনাকাটা সাইট পিকাবু ডটকম থেকে পাওয়া যাচ্ছে।

ইমরান হোসেন মিলন

আসুস এক্স৫৪০এলজে : দামেও মাঝারি কাজেও তাই

এস এম তাহমিদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ল্যাপটপ কেনার সময় সাধ ও সাধ্যের সমন্বয় করাটা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। তরুনদের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময়ই দেখা যায় ভার্সিটিতে ওঠার পরপরই ল্যাপটপ কেনার প্রয়োজন হয়। অথচ সেই সময় হাতে তেমন বাজেট থাকে না। বেশ দেখে শুনেও খুব ভালো স্পেসিফিকেশনের ল্যাপটপ জোটানো মুশকিল হয়ে পড়ে।

তবে হতাশ হবার কারণ নেই, অল্প বাজেটের মধ্যে সবকিছুই মোটামুটি করা যাবে এমন ল্যাপটপ আছে আসুসের। অন্যান্য কাজের পাশাপাশি শখের গেইমিংও করতে পারবেন আসুস এক্স৫৪০এলজে মডেল দিয়ে।

এ রিভিউতে থাকছে দেশে বেশ জনপ্রিয় এ ব্র্যান্ডের অপেক্ষাকৃত নতুন এ মডেলের আদ্যোপান্ত।

একনজরে আসুস এক্স৫৪০এলজে

  • কোর আই-থ্রি পঞ্চম প্রজন্মের প্রসেসর (i3 5005U)
  • ৪ গিগাবাইট ডিডিআর থ্রি র‌্যাম
  • ১৫.৬ ইঞ্চি এইচডি স্ক্রিন (১৩৬৬ x ৭৬৮ পিক্সেল রেজুলেশন)
  • এনভিডিয়া ৯২০এম ২ গিগাবাইট ডিডিআর ৩ ভির‌্যাম জিপিউ
  • ১ টেরাবাইট ৫৪০০আরপিএম হার্ডডিস্ক
  • ডিভিডি রাইটার
  • ভিজিএ ওয়েব ক্যামেরা
  • ১০/১০০ মেগাবিট ল্যান, ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ
  • ১.৯ কিলোগ্রাম ওজন

ডিজাইন
বাজেট ল্যাপটপের তূলনায় বেশ ভাল বিল্ড কোয়ালিটির এ ডিভাইস তৈরিতে প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়েছে। উপরের দিকে ও কিবোর্ডের আশেপাশের অংশে ব্যবহৃত প্লাস্টিকটিতে ব্রাশ করা ধাতব লুক দেওয়া হয়েছে।

ডান পাশে রয়েছে ডিভিডি ড্রাইভ এবং বামে একটি করে ইউএসবি ২, ৩, টাইপ-সি ৫ গিগাবিট পোর্ট, ল্যান পোর্ট, এইচডিএমআই পোর্ট, ভিজিএ পোর্ট, চার্জ পোর্ট ও হেডফোন/মাইক্রোফোন জ্যাক।

এটির স্ক্রিন ও নিচের অংশ তৈরি করা হয়েছে কালো ম্যাট প্লাস্টিক দিয়ে। নম্বরপ্যাডসহ আইল্যান্ড স্টাইল কিবোর্ড ব্যবহৃত হয়েছে।

পারফরমেন্স
কোর আই-থ্রি প্রসেসর নিয়ে নতুন করে বলার তেমন কিছু নেই। ডুয়াল কোর ১.৯ গিগাহার্জ গতির প্রসেসরটি সাধরণ সব কাজ করতে সক্ষম। যদিও ভারি কাজ, যেমন- ফটোশপ বা ভিডিও এডিটের জন্য ব্যবহার না করাই ভাল। সেক্ষেত্রে বাজেট একটু বাড়িয়ে কোর আই৫ সংস্করণটি কেনাই উত্তম।

এর সঙ্গে ৪ গিগাবাইট র‌্যাম থাকার ফলে বড় ভার্চুয়ালাইজেশনের কাজ বা ডিজাইনের কাজ করার জন্যও ল্যাপটপটি খুব বেশি সুবিধার নয়। নিচে প্রসেসরের গিকবেঞ্চ স্কোর দেয়া হলো।

তবে ডুয়াল কোর প্রসেসর ও ৪ গিগাবাইট র‌্যামের ফলে ল্যাপটপটি নেহাত বাজে নয়। সাধারণ অফিস কাজ, ভিডিও দেখা, গান শোনা, ওয়েব ব্রাউজ করার জন্য ল্যাপটপটি আদর্শ।

তবে ল্যাপটপটিতে এনভিডিয়া ৯২০এম গ্রাফিক্স ব্যবহার করার ফলে কিছুটা গেমিংও করা যাবে। যারা অল্প মূল্যের মাঝে পুরাতন ও কিছু নতুন গেইম খেলার মত একটি ল্যাপটপ খুজছেন তারা এটি কিনতে পারেন।

অন্যদিকে এনভিডিয়া জিপিউ হলেও ৯২০এম এর কাছ থেকে অসাধারণ পারফরমেন্স আশা করাটা ভুল হবে। যারা লো সেটিংস ও ৭২০পি রেজুলেশনে গেইম খেলতে দ্বিধা করবেন না তারা এটিতে লেটেস্ট সব গেইম যেমন রেসিডেন্ট ইভিল ৭, ব্যাটলফিল্ড ১ এর মত গেইমগুলো ৩০ ফ্রেম/প্রতি সেকেন্ড গতিতে খেলতে পারবেন।

পুরোনো গেইমের ক্ষেত্রে অবশ্যই এটি আরও বাড়বে, যেমন বায়োশক ইনফিনিট গেইমটি ৬০ এফপিএস স্পিডে পর্যন্ত চলতে দেখা গেছে – তবে লো সেটিংসের ওপর যাওয়ার কোনও সম্ভাবনাই নেই।

ব্যবহারিক সুবিধা-অসুবিধা
ল্যাপটপের পারফরমেন্সই শেষ কথা নয়। এটির ব্যবহারযোগ্যতা আরও অনেক কিছুর ওপরই নির্ভর করে। একটি একটি করে সেসব দেখা যাক।

  • ব্যাটারি লাইফ : এতে ইউ সিরিজের আই থ্রি প্রসেসর ব্যবহার করার ফলে ব্যাটারি লাইফ নিয়ে তেমন সমস্যা হবে না। ৪-৫ ঘন্টা থেকে ৭ ঘন্টা পর্যন্ত ব্যাটারি লাইফ আশা করা যেতে পারে। তবে গেইম খেলার সময় ২ ঘন্টার বেশি আশা করা ঠিক হবে না।
  • থার্মাল ডিজাইন : ল্যাপটপটিতে তেমন আহামরি কোনও থার্মাল ডিজাইন করা হয়নি। এ কারণে একটু গরম হবে। বিশেষত গেইম খেলার সময়। তবে সমস্যা হবার পর্যায়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কম।
  • কিবোর্ড : আসুস ল্যাপটপের কিবোর্ডগুলো সাধারণত খুব ভাল বা খুব খারাপ নয়। মাঝারি মানের আইল্যান্ড স্টাইল কি ব্যবহার করা হয়। এখানেও কোনো ব্যাতিক্রম নেই। অতএব লম্বা সময় টাইপিংয়ে খুব সমস্যা হবে না। অবশ্যই এর চাইতে ভাল কিবোর্ড রয়েছে।
  • ওয়েবক্যাম : ভিজিএ ওয়েবক্যামটি একেবারে সাধারণ স্কাইপ কল ছাড়া অন্যান্য কাজে তেমন ব্যবহার উপযোগী নয়।
  • অডিও : কাজ চালানোর মত স্পিকার ও মাইক্রোফোন ল্যাপটপটিতে দেওয়া হয়েছে। আসুসের দাবি, প্রফেশনাল কোডেকের সাউন্ড হার্ডওয়্যার ও বেশ বড় ফ্রিকোয়েন্সি রেসপন্সের স্পিকার ব্যবহারের ফলে ভিডিও দেখায় বেশ সুবিধা পাওয়া যাবে। ব্যবহারিক পরীক্ষায় তা দেখাও গিয়েছে। যারা ল্যাপটপের স্পিকারে গান শোনা বা ভিডিও দেখে থাকেন তাদের জন্য বেশ ভাল এটি।
  • ওজন: ১.৯ কিলো ওজনের ল্যাপটপটি বেশ সহজেই বহনযোগ্য।

মূল্য
৩৪,৫০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে আসুসের ডিলারদের কাছ থেকে।

একনজরে ভাল

  • এনভিডিয়া জিপিউ থাকায় হালকা গেমিং করা যাবে
  • কোর সিরিজের প্রসেসর। ফলে ব্রাউজিং বা এইচডি ভিডিও দেখতে সমস্যা নেই
  • দৃষ্টিনন্দন ডিজাইন
  • মূল্য সাধ্যের মধ্যে

একনজরে খারাপ

  • ভারি কাজের জন্য যথেষ্ট নয়
  • র‌্যাম বাড়ানো বেশ ঝামেলার
  • ফুল প্লাস্টিক বডি