রেডমি৪ প্রাইম : মাঝারি বাজেটে বেশ, হতাশা ক্যামেরায়

এস এম তাহমিদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : স্বল্প মূল্যে ভালো স্পেসিফিকেশনের ফোন গ্রাহকের হাতে তুলে দেওয়ার কারণে শাওমির রেডমি সিরিজটি তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এ সিরিজের সর্বশেষ ফোনগুলোর একটি হচ্ছে রেডমি ৪ প্রাইম, যা মূলত মাঝারি মূল্যের বলা যেতে পারে।

তবে ফোনটি এর মূল্যের চেয়ে স্পেসিফিকেশনের দিক থেকে অনেক এগিয়ে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, স্পেসিফিকেশনই সবসময় শেষ কথা নয়- অতীতে অনেক বারই দেখা গিয়েছে। এ ফোনের ক্ষেত্রেও সেটি খাটে কিনা তা সময়ই বলে দেবে। 

চলুন দেখা যাক রেডমি নোট ৩ প্রো-এর মতো রেডমি ৪ প্রাইমও ব্যবহারকারীদের মন জয় করার মত কিনা।

এক নজরে শাওমি রেডমি ৪ প্রাইম

  • ৫ ইঞ্চি ডিসপ্লে, ১৯২০x১০৮০পি রেজুলেশন, আইপিএস এলসিডি প্যানেল
  • কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৬২৫ প্রসেসর, ৮টি কর্টেক্স এ৫৩ কোর- যা ২ গিগাহার্জ গতিতে চলতে সক্ষম
  • অ্যাড্রিনো ৫০৬ জিপিউ
  • ৩ গিগাবাইট র‌্যাম, ৩২ গিগাবাইট স্টোরেজ, মাইক্রো এসডি কার্ড স্লট
  • ডুয়াল সিম, তবে ২য় সিম ব্যবহারে এসডি কার্ড ব্যবহার করা যাবে না (হাইব্রিড স্লট)
  • ১৩ মেগাপিক্সেল, f/2.2, ফেজ ডিটেকশন অটোফোকাস ব্যাক ক্যামেরা, ডুয়াল টোন ফ্ল্যাশ
  • ৫ মেগাপিক্সেল, f/2.2 সেলফি ক্যামেরা
  • ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ, এফ এম রেডিও, জিপিএস
  • মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট
  • পেছনে ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সর
  • ৪১০০ এমএএইচ ব্যাটারি খোলা যাবে না
  • অ্যান্ড্রয়েড ৬.০.১ মার্শমেলোর ওপর তৈরি মিইউআই ৮.০ অপারেটিং সিস্টেম

redmi4-prime-techshohor

ডিজাইন
ডিজাইনের দিক থেকে ফোনটি আগের রেডমি ৩-এর থেকে বেশ আলাদা। এটির সঙ্গে হুয়াওয়ের মেট৮ মিনির অনেক মিল রয়েছে। তবে রেডমি নোট ৩ বা ৪ এর সঙ্গেও কিছুটা মিল পাওয়া যাবে।

সম্পূর্ণ উচ্চমানের অ্যালুমিনিয়ামে তৈরি ফোনটির পেছনে রয়েছে ক্যামেরা। ঠিক এর নিচেই একই সমান চক্রাকার ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সরটি খুঁজে পাওয়া যাবে। ক্যামেরার বাম পাশে রয়েছে ফোনটির ডুয়াল-টোন এলইডি ফ্ল্যাশ।

ডান পাশে রয়েছে ভলিউম ও পাওয়ার বাটন ও বাম পাশে ডুয়াল সিম ও মেমরিকার্ড স্লট- হাইব্রিড ট্রে। ফোনটির তলদেশে রয়েছে মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট, মাইক্রোফোন, স্পিকার এবং উপরে রয়েছে নয়েজ ক্যান্সেলিং মাইক ও হোডফোন জ্যাক।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, ফোনটিতে আইআর এমিটার রয়েছে – ফলে টিভি, এসি ফোন থেকেও নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

redmi41

৫ ইঞ্চি ডিসপ্লের ফোনের উপরের দিকে রয়েছে কথা বলার স্পিকার, সেলফি ক্যামেরা, প্রক্সিমিটি সেন্সর। নিচে রয়েছে ক্যাপাসিটিভ কীগুলো। সর্বোপরি, ফোনটি হাতে নিলে কোনওভাবেই প্রিমিয়াম বিল্ড চিন্তা না করার কোনও কারণ নেই।

redmi43

পারফরমেন্স
এক কথায় বললে, ফোনটির দাম ও পারফরমেন্স দুটোই মিড রেঞ্জের। এর মানে এটি ব্যবহারে ল্যাগ বা হ্যাং হবার সম্ভাবনা বেশ কম। আবার ভারি গেইম খেলার সময় গতিময় পারফরমেন্স আশা করা বোকামি। তবে আর যাই হোক, র‌্যামের স্বল্পতায় পরতে হবে না কখনই।

ফোনটিতে ব্যবহৃত কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৬২৫ প্রসেসরটিতে ৮টি ৬৪বিট কর্টেক্স এ৫৩ কোর ব্যবহার করা হয়েছে, যা সর্বোচ্চ ২ গিগাহার্জ গতিতে চলতে সক্ষম। ৮টি কোর হলেও, কোনও কর্টেক্স এ৭২ কোর না থাকার ফলে প্রসেসরটি স্ন্যাপড্রাগন ৬৫০ বা ৬৫২এর চাইতে কম কাজ করবে।

তবে সেটি দৈনন্দিন কাজের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে না। এটির গিকবেঞ্চ স্কোর নিচে দেয়া হলো।

remi45

প্রসেসর ছাড়াও ফোনের অন্যতম অংশ এর জিপিউ। এতে ব্যবহার করা অ্যাড্রিনো ৫০৬ জিপিউটির স্ক্রিন রেজুলেশন ও মাঝারি মানের গেমিং চালিয়ে নেয়ার জন্য যথেষ্ট। প্লে স্টোরের যে কোনও গেম কোনও ল্যাগ ছাড়াই চলবে। তবে যেসব গেমে গ্রাফিক্স বাড়ানো বা কমানোর ব্যবস্থা রয়েছে, সেখানে গ্রাফিক্স হাই না দেয়াই ভাল। 

অ্যান্ড্রয়েড ফোন কেনার সময় আজকাল প্রায় সবাই ফোনের র‌্যাম সমস্যা নিয়ে চিন্তিত থাকেন। সেটি চিন্তা করেই শাওমি রেডমি ৪ প্রাইমে ৩ গিগাবাইট র‌্যাম ব্যবহার করেছে – ফলে মাল্টিটাস্কিং নিয়ে কোনও সমস্যা নেই।

মনে রাখা ভালো শাওমির নিজস্ব মি-ইউআই ইন্টারফেসটি বেশ র‌্যাম খাদক – ফলে ওয়ানপ্লাস, মটোরোলা বা নেক্সাস ফোনগুলোর ৩ গিগাবাইট র‌্যামের মতো পারফরমেন্স এতে পাওয়া না গেলেও পার্থক্য অনেক কম।

ফোনের স্টোরেজের স্পিড নিয়ে কেউই তেমন মাথা না ঘামালেও এটির ওপরেই কিন্তু অ্যাপ লঞ্চ করার সময় বা ইন্সটল করার সময় নির্ভর করে।

অনেকেই দেখে থাকবেন, পিসির ক্ষেত্রে হার্ডডিস্কের বদলে এসএসডির ব্যবহারে সেটির কাজের গতি অনেক বদলে যায়। একই ব্যাপার ফোনের ক্ষেত্রেও প্রজোয্য। সেদিক থেকে রেডমি ৪ প্রাইম মাঝারি পারফরমেন্স দিতে সক্ষম। মূল্য অনুযায়ী যেটি যথেষ্ট।

ফোনের সবকিছু মিলিয়ে পরীক্ষা করার বেঞ্চমার্ক আনটুটুর স্কোর নিচে দেয়া হলো।

redmi42

অন্যান্য ফিচার
ডিসপ্লে: শাওমি ডিসপ্লের ব্যাপারে তেমন খরচ কমায়নি, ফলে ৫ ইঞ্চি ফুল এইচডি ডিসপ্লেটির কালার, ব্রাইটনেস, কন্ট্রাস্ট – কোনও অংশেই কোনও কমতি নেই। তবে মাঝারী মূল্যের একটি ডিভাইসের কাছ থেকে সবকিছুই সমান ভাল হবে সেটি আশা করা ভূল, এ ক্ষেত্রে সেটি দেখা গিয়েছে ফোনটির সরাসরি রোদের মধ্যে ব্যবহারের সময়। তবে উজ্জ্বল আলো থেকে দূরে ব্যবহার করলে ফোনটির ডিসপ্লেটির তেমন কোনও খুঁত পাওয়া যাবেনা।

ব্যাটারি লাইফ: ফোনটিতে শাওমি ৪১০০ এমএএইচ ধারণক্ষমতার ব্যাটারী ব্যবহার করেছে। এই বিশাল ব্যাটারী সমৃদ্ধ ফোন যে ব্যাটারী লাইফের রাজা হবে সেটি কাউকে বলে দিতে হবে না।

ফোনটির প্রসেসর ও ফুল এইচডি ডিসপ্লে ব্যাটারীতে রেডমি ৩ এর চাইতে কিছুটা বেশী ভাগ বসালেও, অন্তত ৮ ঘন্টা টানা ব্যবহার বা স্ক্রীন অন টাইম পাওয়া যাবে – যা স্ট্যান্ডবাই টাইমের সাথে মিলিয়ে চিন্তা করলে বলা যেতে পারে অন্তত একটি পুরো দিন ভারী ব্যবহার ও ২ দিন মাঝারী ব্যবহার আশা করা যেতে পারে।

অডিও কোয়ালিটি: তলদেশে অবস্থিত স্পীকারটি কোয়ালিটি বা ভলিউম-  কোনও দিক থেকেই সবার নজর কাড়বেনা, তবে সেটি অস্বাভাবিক নয়।

হেডফোনের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি সম্পূর্ণ আলাদা। সেখানে ফোনটির অডিও আউটপুট খুবই পরিষ্কার, ভলিউমের কোনও কমতি নেই ও সাউন্ড বাড়ানোর পরেও ফেটে যাওয়ার প্রবনতা একেবারেই নেই। বলা যেতে পারে, মাঝারী থেকে বেশী বাজেটের ফোনের মাঝে এটি সবচাইতে ভাল সাউন্ড কোয়ালিটির ফোনগুলোর একটি। সঙ্গীত প্রেমীরা চোখ বুজে ফোনটি কিনে ফেলতে পারেন।

ক্যামেরা: স্মার্টফোনের অন্যতম দায়িত্বের একটি বলা যেতে পারে ছবি ও ভিডিও ধারণ করা, তবে সেদিক থেকে রেডমি ৪ প্রাইম কিছুটা হতাশ করবে। প্রথমত, পূর্বের রেডমি ৩ ফোনটিতে f/2.0 ক্যামেরা লেন্স ব্যবহার করা হয়েছিল, রেডমি ৪ এর ক্ষেত্রে যেটি  f/2.2 এ নামিয়ে আনা হয়েছে। ফলে ক্যামেরাটির লো লাইট পার্ফরমেন্স বেশ কমে গিয়েছে, প্রভাব পরেছে দিনের আলোর শটেও।

শাওমি ক্যামেরার সফটওয়্যারে এক্সপোজারের পরিমাণ সঠিকভাবে না বাড়ানোয় প্রায় প্রতিটি ছবিই বেশ অন্ধকার ও আন্ডারএক্সপোজড রয়ে গিয়েছে। এছাড়াও, লেন্সটির মান কমে যাওয়ায় ছবির কেন্দ্রের বাইরের ডিটেলেও রয়ে গিয়েছে বেশ ঘাটতি। ভিডিওর ক্ষেত্রেও চিত্র তেমন বদলায়নি। ফোনটি ১০৮০পি ভিডিও ধারন করলেও সেগুলো বেশ অন্ধকার ও অডিওর কোয়ালিটি খুবই নিম্নমানের।

সেলফি ক্যামেরাটিতেও সমমানের লেন্স ব্যবহার করা হয়েছে, ফলে কাজ চালানোর মত সেলফি তোলা গেলেও ভাল কালার ও কন্ট্রস্ট নেই। সর্বোপোরি, ক্যামেরাই মূল ব্যবহারের জন্য এই ফোনটি সঠিক নয়।

মূল্য : শাওমি রেডমি ৪ প্রাইম দেশের বাজারে ১৪০০০-১৫০০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

এক নজরে ভাল

  • ডিসপ্লে, যা মাঝারি বাজেটের ফোনের মাঝে বেশ উন্নত মানের
  • অডিও কোয়ালিটি ভালো
  • ব্যাটারি লাইফ দীর্ঘ 
  • মূল্য অনুযায়ী খুবই ভালো পারফরমেন্স

একনজরে খারাপ

  • ক্যামেরার কোয়ালিটি বেশ হতাশাজনক
  • দুটি সিম ও মেমরি কার্ড একই সঙ্গে ব্যবহারের সুযোগ নেই

রেডমি নোট৪ : মাঝারি দামে সর্বোচ্চ ফিচার ঘাটতি পোষাবে

এস এম তাহমিদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : রেডমি সিরিজে বরাবরই স্বল্পমূল্যে সবচাইতে বেশি ফিচারের ফোন তৈরির চেষ্টায় থাকে শাওমি। এর মধ্যে সর্বশেষ রেডমি নোট ৪ ব্যতিক্রম নয়। এ ফোনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট শ্রেণীর ক্রেতাদের ধরে রাখার চেষ্টা থাকে চীনের অ্যাপল খ্যাত এ কোম্পানির। 

রেডমি নোট ৩ ও নোট ৩ প্রো-এর বিপুল জনপ্রিয়তার পর এ সিরিজের নতুন ফোনে আগের চেয়ে বাড়তি কিছু রয়েছে কি-না তা জানাতে এ রিভিউ।

বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ শেষে সংক্ষেপে বলা যায়, নতুন মডেলটি নোট ৩-কে ছাড়িয়ে গেলেও অনেক ক্ষেত্রে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। তবে দামের তুলনায় সমস্যাগুলো খুব বড় কিছু নয়; বরং এ দামে নামি ব্র্যান্ডের সব মিড রেঞ্জ ফোনের চাইতে অনেক বেশি কিছুই মিলবে।

redmi note 4 back

এক নজরে রেডমি নোট ৪

  • ১৫১ x ৭৬ x ৮.৪ মিলিমিটার মেটাল বডি
  • ডুয়াল সিম, ২জি, ৩জি ও ৪জি নেটওয়ার্ক ব্যবহার উপযোগী
  • ৫.৫ ইঞ্চি, ১৯২০ ১০৮০ পিক্সেল রেজুলেশনের আইপিএস এলসিডি স্ক্রিন, যা ২.৫ ডি আর্ক গ্লাস দ্বারা সুরক্ষিত (৪0১ পিপিআই পিক্সেল ঘনত্ব ৪০৫নিট ব্রাইটনেস)
  • মিডিয়াটেক হেলিও এক্স ২০ ৬৪বিট ডেকা-কোর বা ১০টি কোর সমৃদ্ধ প্রসেসর, যা ২.১ গিগাহার্জ গতিতে চলবে
  • ১৬ গিগাবাইট বা ৬৪ গিগাবাইট মেমরি, যা ২৫৬ গিগাবাইট পর্যন্ত মেমেরি কার্ডের মাধ্যমে বাড়ানো যাবে
  • ২ গিগাবাইট র‌্যাম (১৬ গিগাবাইট সংস্করণ) বা ৩ গিগাবাইট র‌্যাম (৬৪ গিগাবাইট সংস্করণ)
  • মালি টি৮৮০ এমপি৪ জিপিউ
  • ১৩ মেগাপিক্সেল, f/২.০, ডুয়াল টোন ফ্ল্যাশ ও ফেজ ডিটেকশন অটোফোকাস সমৃদ্ধ ব্যাক ক্যামেরা- যা ১০৮০পি ফুল এইচডি ভিডিও ও ৭২০পি স্লো মোশন ভিডিও ধারণ করতে সক্ষম
  • ৫ মেগাপিক্সেল, f/২.0 সেলফি ক্যামেরা- যা ৭২০পি ভিডিও ধারণ করতে সক্ষম
  • অ্যান্ড্রয়েড ৬।০ মার্শম্যালোর ওপর তৈরি মিইউআই ৮।০ অপারেটিং সিস্টেম
  • ২৪ বিট – ১৯২কিলোহার্জ হাই-রেজুলেশন অডিও চিপ, এফ এম রেডিও
  • ওয়াই-ফাই (২.৪ গিগাহার্জ ও ৫ গিগাহার্জ ব্যান্ড), ব্লুটুথ ৪.২, ইনফ্রারেড পোর্ট ও জিপিএস সুবিধা
  • ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সর (পেছনে অবস্থিত)
  • ইউএসবি ওটিজি সাপোর্ট, মাইক্রোইউসবি পোর্ট
  • অডিও জ্যাক
  • ৪১০০ এমএএইচ ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাটারি, তবে পরিবর্তন করার সুবিধা নেই
  • ১৫১ গ্রাম ওজন

স্পেসিফিকেশন লিস্ট দেখে প্রথমেই মাথায় আসবে শাওমি ফিচার যোগ করার সময় কিছুই বাদ রাখেনি; বিশেষত ১০ কোরের প্রসেসরটি নজরকাড়া। তবে স্পেসিফিকেশনই সব কথার শেষ কথা নয়।

ডিজাইন
রেডমি নোট ৪ ফোনটির মূল আকর্ষণের একটি হলো এর সম্পূর্ণ মেটাল বডি। বলা হচ্ছে, প্রায় ৩০ ধাপ পেরিয়ে একেকটি রেডমি নোট ৪-এর বডি তৈরি করা হয়। ঝকঝকে পলিশ করা মেটাল বডি, চ্যামফার করা এজগুলোর ফলে কোনও ভাবেই বাজেট ফোনের তালিকায় এটিকে ফেলা যাবে না।

সামনে ২.৫ডি বাঁকানো গ্লাস ব্যবহারের ফলে ফোনটি ৫.৫ ইঞ্চি স্ক্রিনের হয়েও সহজেই ব্যবহারযোগ্য।

ফোনটির ডান পাশে ভলিউম ও পাওয়ার বাটন ও বাম পাশে সিম ট্রে রয়েছে। সিম ট্রেটির বিশেষত্ব হচ্ছে এক সাথে দুটি সিম বা একটি সিম ও একটি মাইক্রো এসডি কার্ড ব্যবহার করা যাবে।

নিচে রয়েছে মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট, স্পিকার ও মাইক্রোফোন। ওপরে রয়েছে হেডফোন জ্যাক ও ইনফ্রারেড পোর্ট।

redmi note 4 front

পেছনে ক্যামেরা ও ফ্ল্যাশের ঠিক নিচেই রয়েছে ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সরটি। সামনে রয়েছে স্পিকার, সেলফি ক্যামেরা, নোটিফিকেশন এলইডি, প্রক্সিমিটি সেন্সর, ৫.৫ ইঞ্চি স্ক্রিন ও ক্যাপাসিটিভ বাটনগুলো।

পারফরমেন্স
এ ফোনের মিডিয়াটেক হেলিও এক্স২০ চিপসেটে ব্যবহার করা হয়েছে ১০টি কোর। এর মাঝে রয়েছে দুটি কর্টেক্স এ৭২ কোর, চারটি দ্রুতগতির কর্টেক্স এ৫৩ কোর ও বাকি চারটি কম গতির কর্টেক্স এ৫৩ কোর।

মূলত দুটি কর্টেক্স এ৭২ কোর ব্যবহারের ফলে প্রসেসরটি বেশ দ্রুত কাজ করতে সক্ষম, যা গিকবেঞ্চ ৪ স্কোর থেকেই দেখা যাচ্ছে।

Redmi note 4 geekbench 4

সুধু প্রসেসরেই নয়, সব মিলিয়েই দেখা যাচ্ছে চিপসেটটি বিগত বছরের বেশ কিছু ফ্ল্যাগশিপ ফোনগুলোকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যেতে সক্ষম।

Redmi note 4 antutu score

তবে বরাবরের মতই, মিডিয়াটেক ফোনটিতে মাঝারি মানের জিপিউ ব্যবহার করা হয়েছে ফলে গ্রাফিক্সের দিক থেকে এটি ফ্ল্যাগশিপ ফোনের কাছে যেতে পারেনি।

redmi note 4 gfxbench

তবে বেঞ্চমার্কের স্কোর সব সময় সত্যিকার ব্যবহারের পারফরমেন্সের কথা সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারে না। দৈনন্দিন ব্যবহার, গেমিং, ব্রাউজ করা বা মুভি দেখার জন্য ফোনটি খুবই দ্রুত কাজ করে। ফলে মনেই হবে না যে এটি কোনওভাবেই একটি বাজেট ফোন।

ডিসপ্লে
টাচ-স্ক্রিন ডিভাইসের প্রাণকেন্দ্র তার ডিসপ্লে। এটি খারাপ হলে ব্যবহারের মজাই নষ্ট হয়ে যায়। কিউএইচডি, ফোরকে বা তারও বেশি পিক্সেল সমৃদ্ধ স্ক্রিনের কথা শুনতে শুনতে আজ ১০৮০পি ডিসপ্লে মনে হতে পারে খুবই সাধারণ; কিন্ত পিক্সেলই একটি ডিসপ্লের শেষ কথা নয়।

এর আগের রেডমি নোট ৩-এ  ব্যবহার করা ডিসপ্লের কন্ট্রাস্ট কম – এমন সমালোচনার পর এবার শাওমি যতদূর সম্ভব কন্ট্রাস্ট বাড়ানোর চেষ্টা করেছে। এর ফলাফল একটি সুন্দর (১১০০:১) হাই-কন্ট্রাস্ট ডিসপ্লে পাওয়া গেছে ফোনটিতে।

এটির কালার ব্যালেন্সও প্রায় সকল ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইসের কাছাকাছি – ফলে এটি মুভি দেখা, বা গেইম খেলার সময় একটুও লো কোয়ালিটির বলে মনে হবে না।

ডিসপ্লেটি ৪৫০নিট পর্যন্ত ব্রাইটনেস বাড়াতে সক্ষম – ফলে রোদের মাঝেও ব্যবহারে কোনও সমস্যা হবে না।

ক্যামেরা
রেডমি নোট ৩-এর ক্যামেরা নিয়ে ব্যবহারকারীদের মাঝে কিছুটা অসন্তোষ থাকার পরও দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে রেডমি নোট ৪-এর ক্ষেত্রেও ক্যামেরার কোয়ালিটি অসাধারণ হয়ে ওঠেনি। তবে বরাবরের মতই একই মূল্যের নামি-দামি ব্র্যান্ডের ফোনের তুলনায় এটির ক্যামেরা কোয়ালিটি বেশ ভালো।

রেডমি নোট ৪-এর ক্যামেরাতে লেজার অটোফোকাস না থাকায় ফোকাসে বেশ দেরি হয়। এর পরও দেখা গেছে ছবিগুলোর ডিটেলস বেশ কম। তবে ক্যামেরার শার্পনেস বাড়ালে সেটি আবার অতিরিক্ত রূপ ধারণ করে থাকে।

হোয়াইট ব্যালেন্স ও কালারেও কিছু সমস্যা দেখা গেলেও মাত্রাতিরিক্ত নয়। তবে ম্যাক্রো বা কাছ থেকে তোলা ছবির ক্ষেত্রে বেশ ভাল পরিমাণ ডিটেইলস দেখা গিয়েছে। এতে সাধারন পোর্ট্রেট বা সাবজেক্টের ছবি যথেষ্ট ভালভাবেই তোলা যাবে।

কম আলোতে অবশ্য ক্যামেরাটি আশাতীত ভাল ছবি তুলতে সক্ষম হয়েছে, যদিও তা কোনওভাবেই অসাধারণ নয়।

সেলফি ক্যামেরার ক্ষেত্রে ভাল ডিটেইলের ছবি তোলা গেলেও কন্ট্রাস্টে কিছুটা ঘাটতি রয়েছে।

ভিডিওর ক্ষেত্রেও প্রায় একই ব্যাপার দেখা গেছে – ফুল রেজুলেশনেও অনেক বেশি ডিটেইল দেখা যায়নি এবং সেলফি ক্যামেরাতে মাত্র ৭২০পি ভিডিও ক্যাপচার সুবিধাটি নোট৩-এর ১০৮০পি-এর তুলনায় বেশ কম।

অডিও
স্পেসিফিকেশনের ক্ষেত্রে ২৪বিট ১৯২কিলোহার্জ অডিও দেখে ফোনটির কাছে খুবই ভাল কোয়ালিটির মিউজিক আশা করা হলেও বাস্তবে সাউন্ড কোয়ালিটি বেশ আশাহত করবে।

সাউন্ডের ক্ষেত্রে কোনও বড় ধরণের সমস্যা নেই; কিন্তু তাই বলে খুব অসাধারণ কোনও কোয়ালিটি দেখা যায়নি। উল্টো সমস্যা হিসেবে হেডফোনে বেশ কম ভলিউমের সাউন্ড মনে হবে। ফলে অডিও কোয়ালিটির ক্ষেত্রে এটিকে মাঝারি মানের বাইরে কিছু বলার অবকাশ নেই।

ব্যাটারি লাইফ
ব্যাটারি লাইফের ক্ষেত্রেও বেশ হতাশ করেছে ফোনটি। ৪১০০ মিলিঅ্যাম্প-আওয়ার ধারণ ক্ষমতার ব্যাটারির তূলনায় এটির ব্যাকআপ বেশ কম। মাত্র ৫-৬ ঘন্টা স্ক্রিন অন টাইম ব্যাকআপ দিতে সক্ষম।

অন্যান্য সব পরীক্ষাতেই দেখা গেছে ফোনটি রেডমি নোট ৩ প্রো-এর তুলনায় কম ব্যাটারি ব্যাকআপ দিতে সক্ষম। তবে ব্যাটারি লাইফ কোনওভাবেই খারাপ বলা যাবে না।

এরপরও এটি গ্যালাক্সি এস৭ এর চাইতে বেশি – তবে ৪১০০ মিলিআম্পায়ার ক্যাপাসিটির তুলনায় বেশ কম। ব্যাটারি চার্জ করার ক্ষেত্রে বিশেষ ফাস্ট চার্জের ব্যাবস্থা না থাকলেও ফুল চার্জ হতে সময় নেবে দুই ঘন্টা।

redmi note 4 bottom

মূল্য
ফোনটির ৬৪ গিগাবাইট সংস্করণটি বাজারে পাওয়া যাচ্ছে ১৫ হাজার টাকার মাঝেই। 

সবশেষে বলা যায়, কেনার সময় ৬৪ গিগাবাইট মডেলটি না কিনলে র‌্যামের অপ্রতুলতা দেখা দিতে পারে। তবে যারা মূলত গান শোনা ও ক্যামেরার জন্য ফোনটি কিনতে চাচ্ছেন তাদের জন্য ফোনটি পুরোপুরি উপযোগী নয়।

এক নজরে ভাল

  • বিল্ড কোয়ালিটি
  • ব্যাটারি লাইফ
  • উজ্জ্বল ডিসপ্লে
  • স্টোরেজ ও মাইক্রো এসডি কার্ড ব্যাবহারের সুবিধা
  • সেলফি ক্যামেরা

এক নজরে খারাপ 

  • মাঝারি মানের প্রসেসর, গেমিং
  • হেডফোনে সাউন্ড কোয়ালিটি
  • ক্যামেরা ও ভিডিওতে ডিটেইলসের পরিমাণ

 

শাওমি রেডমি৩ প্রো : ডিসপ্লের ঘাটতি পোষাবে পারফরমেন্স ও ব্যাটারিতে

রিয়াদ আরিফিন, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : অপেক্ষাকৃত কম দামে উন্নত কনফিগারেশনের স্মার্টফোন বাজারজাতকরণে শাওমির জুড়ি মেলা ভার। চীনা এ কোম্পানি এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি বাজারে এনেছে শাওমি রেডমি ৩ প্রো। এটি মূলত রেডমি৩-এর বর্ধিত সংস্করণ।

ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সরের এ ফোনের ডিসপ্লে ও ডিজাইনের তেমন নতুনত্ব না থাকলেও পারফরমেন্সে বেশ ভালো। ব্যাটারি সেবাও অতুলনীয় বলে ব্যবহারকারীদের মন্তব্য। এই ১৪ হাজার থেকে সাড়ে ১৪ হাজার টাকায় মাঝারি বাজেটের ফোনটি দেশের বাজারেও বিক্রি শুরু হয়েছে।

একনজরে রেডমি৩ প্রো
পাঁচ ইঞ্চি আইপিএস ডিসপ্লে
ফোরজিসহ হাইব্রিড ডুয়াল সিম
স্নাপড্রাগন ৬১৬ চিপসেট
অ্যান্ড্রিনো ৩০৬ জিপিইউ
৩ গিগাবাইট র‍্যাম
৩২ জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজ
পেছনে ১৩ মেগাপিক্সেল ও সামনে ৫ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা
৪,১০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের নন-রিমুভেবল ব্যাটারি
ফিংগারপ্রিন্ট রিডার সেন্সর

xiami-redmi-3-techshohor-1

মোড়ক খুললে যা মিলবে
হ্যান্ডসেট
চার্জিং এডাপটর।
একটি ইউএসবি ডেটা ক্যাবল
ইউজার ম্যানুয়াল ও
ওয়ারেন্টি কার্ড

ডিজাইনে নেই নতুনত্ব
রেডমি সিরিজের আগের ফোন রেডমি৩-এ চেয়ে এটির ডিজাইনে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। অ্যালুমিনিয়াম মেটাল ডিজাইনের ফোনটি দেখতে অবশ্য প্রিমিয়াম লাগবে। তবে মেটালিক ডিজাইনের কারণে দীর্ঘক্ষণ ব্যবহারে কিছুটা গরম হয়ে যায়। মেটালিক বডির কারণে কিছুটা অস্বস্তিও হতে পারে।

পাঁচ ইঞ্চির এ ডিভাইস হালকা গড়নের হওয়ায় অনায়সে এক হাতে ব্যবহার করা যায়। এটির ফ্রন্ট প্যানেলের উপরের দিকে রয়েছে স্পিকার, ফ্রন্ট ফেসিং ক্যামেরা ও প্রক্সিমিটি সেন্সর।

ডিসপ্লের একেবারে নিচে রয়েছে তিনটি টাচ ক্যাপাসিটিভ বাটন। এতে কোনো হার্ডওয়্যার বাটন ব্যবহার করা হয় নি।

ফোনের ডান পাশে রিমুভএবল সিম ট্রেতে একই সঙ্গে মাইক্রো ও ন্যানো সিম অথবা মাইক্রো সিম ও এসডি কার্ড ব্যবহার করা যাবে। অর্থাৎ একই সাথে ডুয়াল সিম ও এক্সটার্নাল মেমরি কার্ড ব্যবহার করা যাবে না ।

একেবারে ব্যাক প্যানেলে থাকছে ফিংগারপ্রিন্ট রিডার সেন্সর।

xiami-redmi-3-techshohor (3)

ডিসপ্লে আহামরি নয়
৫ ইঞ্চির ৭২০ পিক্সেল আইপিএস ডিসপ্লের পিপিআই মাত্র ২৯৪। তবে দামের বিবেচনায় ডিসপ্লে কোয়ালিটি মোটামুটি মানের।

কাস্টমাইজড ইউজার ইন্টারফেস
শাওমির নিজস্ব কাস্টমাইজড অপারেটিং সিস্টেম মিইউআই সেভেনে চলবে এ ফোন। এটি মূলত অ্যান্ড্রয়েড ৫.১ ললিপপের একটি কাস্টমাইজড ভার্সন। এ কারণে ললিপপের পাশাপাশি নতুন ফিচার মিলবে।

xiami-redmi-3-techshohor (5)

পারফরমেন্সে এগিয়ে
দুই জিবি র‍্যামের কারণে রেডমি ৩ কিছুটা ধীরগতির ছিল। এ সমস্যা সমাধানে এ ফোনে ব্যবহার করা হয়েছে তিন জিবি র‍্যাম। পাশাপাশি কোয়ালকমের স্নাপড্রাগন ৬১৬ চিপসেট রয়েছে যা আগের সংস্করণের চেয়ে উন্নত।

অক্টাকোর প্রসেসরের এ ডিভাইসে কর্টেক্স এ৫৩ আর্কিটেক্সারের ১.৫ গিগারহার্জের চারটি ও ১.২ গিগাহার্জের চারটি প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে। গ্রাফিক্স প্রসেসিংয়ের জন্য রয়েছে অ্যান্ড্রিনো ৪০৫ জিপিউ।

প্রসেসর ও র‍্যামের সমন্বয় ভালো হওয়ায় ফোনটি খুব ভালো পারফরমেন্স দিতে সক্ষম। একই কারণে গেইমিং অভিজ্ঞতাও হবে ঝামেলাবিহীন।

অন্যদিকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিডার সেন্সরের কারণে বিভিন্ন নিরাপত্তা ফিচারে দৃশ্যমান সমস্যা পাওয়া যায়নি।

xiami-redmi-3-techshohor (1)

মাল্টিমিডিয়াতে ভালো
সঙ্গীতপ্রেমীদের কাছে শাওমি অনেক আগে থেকেই আস্থার ব্র্যান্ড। এটিতেও সে ধারাবাহিকতা বজায় আছে। অডিও আউটপুট কোয়ালিটি বেশ ভালো। কোনো ধরনের ল্যাগ ছাড়াই ফুল এইচডি ভিডিও প্লেব্যাক হয়।

ক্যামেরাতে মাঝারি
পেছনে ১৩ মেগাপিক্সেল ও সামনে পাঁচ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা দিয়ে বেশ ভালো ছবি তোলা যাবে। তবে মৃদু আলোতে ছবির মান কিছুটা ঘোলাটে। এ ক্যামেরা দিয়ে ১০৮০ পিক্সেল রেজুলেশনের ফুল এইচডি ভিডিও রেকর্ড করতে পারবেন।

xiami-redmi-3-techshohor (2)

ব্যাটারিতে অসাধারন
৪,১০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের নন-রিমুভএবল লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির কারণে ব্যাকআপ অসাধারণ। একবার ফুল চার্জে টানা দুই বা তিন দিনও চলবে। ফার্স্ট চার্জিং সুবিধা থাকায় অল্প সময়েই ফুল চার্জ হবে।

কানেক্টিভিটিতে পরিপূর্ণ
ফোনটি সেভেন ব্যান্ডের ফোরজি নেটওয়ার্ক সাপোর্ট করে। এ ছাড়া ওয়াই-ফাই,ওয়াই-ফাই ডিরেক্ট, জিপিএস, এফএম রেডিও, ইউএসবি ২.০ প্রভৃতি কানেক্টিভিটি সুবিধা রয়েছে।

এক নজরে ভালো
অসাধারন বিল্ড কোয়ালিটি
অনেক ভালো ব্যাটারি লাইফ
স্মুথ ইউজার ইন্টারফেস
ফিংগারপ্রিন্ট রিডার সেন্সর

এক নজরে খারাপ
ডিসপ্লের রেজুলেশন কম
একই সঙ্গে ডুয়াল সিম ও মেমরি কার্ড ব্যবহার করা যায় না
এনএফসি সুবিধা নেই