মুন্সীগঞ্জ, দোহা ও নবাবগঞ্জে একীভূত রবি-এয়ারটেলের নেটওয়ার্ক

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর: মুন্সীগঞ্জ, দোহা ও নবাবগঞ্জে এক হলো রবি ও এয়ারটেল নেটওয়ার্ক। সোমবার থেকে এ একীভূতকরনের কাজ শুরু হয়।

রবি ও এয়ারটেল গ্রাহকদের সেবাটি প্রদানের লক্ষ্যে তরঙ্গ ও বিটিএসসহ টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্কের অন্যান্য অবকাঠামোগুলোও সমন্বয় করা হয়।

robi-airtel-techshohor

 

আরো উন্নত নেটওয়ার্কটি উপভোগ করতে এয়ারটেল গ্রাহকদের দুটি পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রথমে এয়ারটেল গ্রাহকদের তাদের হ্যান্ডসেটের নেটওয়ার্ক অপশনে গিয়ে এয়ারটেল/এয়ারটেলটুজি/এয়ারটেল থ্রিজি/৪৭০০২/রবি থ্রিজি/ রবিআজিয়াটা/বিজিডিরবি/একটেল লিখে সার্চ দিয়ে উল্লেখিত যে কোনো একটি অপশন সিলেক্ট করতে হবে। এরপর তাদের মোবাইল হ্যান্ডসেটের ডাটা রোমিং অপশনটি অ্যাক্টিভ করতে হবে।

ডাটা রোমিং অপশন অ্যাক্টিভ করার পর এয়ারটেল গ্রাহকরা ফেসবুক ব্রাউজ করার জন্য তিনদিন মেয়াদী ১ জিবি ডাটা উপভোগ করতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে গ্রাহকরা ফোন করতে পারেন ০১৬৭৮৬০০৭৮৬ নম্বরে।

আনিকা জীনাত

নারায়ণগঞ্জে এক হচ্ছে রবি-এয়ারটেল নেটওয়ার্ক

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : নারায়ণগঞ্জে রবি ও এয়ারটেল নেটওয়ার্ক এক হচ্ছে। অপারেটর দুটির তরঙ্গ এবং বিটিএসসহ অন্যান্য অবকাঠামো এক করার কাজ শেষে মঙ্গলবার থেকেই গ্রাহকরা রবি-এয়ারটেল এক হওয়ার এই সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন।

নেটওয়ার্কটি আরো উন্নত করতে এয়ারটেল গ্রাহকদের দুটি পদক্ষেপ অনুসরণ করতে হবে। প্রথমে এয়ারটেল গ্রাহকদের তাদের হ্যান্ডসেটের নেটওয়ার্ক অপশনে গিয়ে এয়ারটেল/এয়ারটেলটুজি/এয়ারটেল থ্রিজি/৪৭০০২/রবি থ্রিজি/ রবিআজিয়াটা/বিজিডিরবি/একটেল লিখে সার্চ দিয়ে উল্লেখিত যে কোনো একটি অপশন সিলেক্ট করতে হবে। এরপর তাদের মোবাইল হ্যান্ডসেটের ডাটা রোমিং অপশনটি অ্যাক্টিভ করতে হবে।

Robi-Airtel-techshohor

ডাটা রোমিং অপশন অ্যাক্টিভ করার পর এয়ারটেল গ্রাহকরা ফেইসবুক ব্রাউজ করার জন্য তিন দিন মেয়াদী এক জিবি ইন্টারনেট ডাটা পাবেন।

বিস্তারিত জানা যাবে এই ঠিকানায়

আনিকা জীনাত

রবি-এয়ারটেল একীভূতকরণ : শর্ত শিথিল, পাওনা পুননির্ধারণ

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : অবশেষে চূড়ান্তভাবে রবি-এয়ারটেল একীভূতকরণ প্রক্রিয়া শেষ হচ্ছে।

একীভূকরণের শর্ত শিথিল করার কারণে এয়ারটেলের ৯০০ ব্যান্ডের তরঙ্গ থেকে ১.৬ মেগাহার্জ তরঙ্গ পাচ্ছে রবি। আগের শর্ত অনুযায়ী (১৫ নম্বর শর্ত) এয়ারটেলের ৫ মেগাহার্জ তরঙ্গ সমর্পন করতে বলা হয়েছিল। এখন সমর্পন করবে ৩.৪ মেগাহার্জ।

ফলে সব মিলে রবির তরঙ্গ হচ্ছে ৩৬.১ মেগাহার্জ।

বর্তমান বকেয়া ১০৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকায় মূসক হিসাব ধরে ঠিক হওয়া নতুন অংকের সঙ্গে ১.৬ মেগাহার্জ তরঙ্গের দাম যোগ করে রবিকে এখন পরিশোধ করতে হবে ১০৯ কোটি টাকা।

মঙ্গলবার টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিটিআরসির বিশেষ কমিশন সভায় এই শর্ত শিথিল ও পাওনা পরিশোধ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বিষয়গুলো নিয়ে রবি আগেই বিটিআরসির কাছে আবেদন করেছিল।

এখন নতুন সিদ্ধান্ত বিষয়ে রবিকে চিঠি দেবে বিটিআরসি। আর এর পর রবির পাওনা পরিশোধ শেষে নিয়ন্ত্রণ সংস্থা হতে একীভূতকরণ চূড়ান্ত হওয়ার অর্ডার অব মার্জার লাইসেন্স দেয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বিষয়গুলো নিশ্চিত করেছে।

robi-airtel-techshohor

২০১৬ সালের ২৬ অক্টোবর মোট ২১টি শর্ত দিয়ে রবি-এয়ারটেলের একীভূতকরণ অনুমোদন দেয় বিটিআরসি। শর্তে রবিকে ১০০ কোটি টাকা একীভূতকরণ ফি আর ৩০৭ কোটি টাকা এয়ারটেলের তরঙ্গ সমন্বয়  ফি হিসেবে মোট ৪০৭ কোটি টাকা যা ভ্যাট-ট্যাক্স মিলে  ৪২৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়।

এর মধ্যে ওই বছরের ২০ নভেম্বর ৩১৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা পরিশোধ করে রবি। বাকি ১০৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকা দুই কিস্তিতে পরিশোধের কথা থাকলেও তা দেয়নি রবি। শর্ত প্রতিপালন না করায় অনুমোদনের পরও প্রায় ৬ মাস ধরে একীভূতকরণ চূড়ান্তের বিষয়টি ঝুলে ছিল।

এই দীর্ঘ সময়ে একীভূতকরণের শর্ত পূরণ নিয়ে রবিকে বেশ কয়েক দফা চিঠি-শোকজ দেয় বিটিআরসি।

সর্বশেষ ১৫ মার্চ দেয়া শোকজে  বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেশন অ্যাক্ট-২০০১ এর অধীনে বেশ কড়া ভাষাতেই নির্দেশনা না মানার কারণে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে না তা ব্যাখ্যা করতে ৩০ দিনের সময় দেয়া হয়েছছিল অপারেটরটিকে। অথবা পাওনা অবশিষ্ট অর্থ জমা দিতে বলা হয় ওই নোটিশে।

শোকজে ররি-এয়ারটেল একীভূতকরণ সম্পর্কিত বিটিআরসি-রবির পাঁচটি চিঠির রেফারেন্স দেয়া হয়। এর মধ্যে একীভূতকরণ অনুমোদনের চিঠির কথাও ছিল।

ওই শোকজ নোটিশে এই ‘অনুমোদননের চিঠি’ কেন বাতিল করা হবে না তাও জানাতে বলা হয়। যার অর্থ দাঁড়ায় একীভূতকরণ কেন বাতিল করা হবে না তা জানাও।

গ্রাহকের হিসাবেও রবি-এয়ারটেল আলাদা অপারেটর!

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বেশ কয়েক মাসের বিরতিতে হলেও বুধবার টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) অপারেটরগুলোর গ্রাহক সংখ্যাসহ নানা পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। এতে অপারেটরভিত্তিক কার্যকরী সিমের যে হিসাব প্রকাশ করা হয়েছে যেখানে পরিষ্কাভাবে রবি আর এয়ারটেলকে আলাদা দুটি অপারেটর হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে।

বিটিআরসি’র সংশ্লিষ্ট বিভাগ বলছে, রবি এবং এয়ারটেল এখনও তাদের খাতায় ভিন্ন দুটি অপারেটর, যদিও অক্টোবরেই তারা একীভূতকরণের ঘোষণা দিয়ে সে অনুসারে কাজ করছেন।

আলাদা আলাদা হিসেবের ক্ষেত্রে বিটিআরসি বলছে, অপারেটর দুটিকে তারা একীভূত হওয়ার অনুমোদন দিয়েছেন ঠিকই। তবে একীভূতকরণের অনেকগুলো শর্তই তারা এখনও পূরণ করতে পারেনি।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার হিসাব অনুসারে ফেব্রুয়ারির শেষে রবির গ্রাহক দাঁড়িয়েছে দুই কোটি ৭০ লাখ ১৭ হাজার। আর এয়ারটেলের আছে ৮২ লাখ ১৯ হাজারে। সে হিসাবে অপারেটর দুটি গ্রাহক সংখ্যায় অবস্থান যথাক্রমে তৃতীয় আর চতুর্থ। আগের মতোই গ্রামীণফোনের পরে আছে বাংলালিংক।

তবে কিছুদিন আগে রবি তাদের ২০১৬ সালের বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের সময় এয়ারটেলের কার্যকরী সিম নিজেদের হিসেবের মধ্যে নিয়েই সংখ্যা প্রকাশ করেছিল। তখন তারা রবির সংযোগ তিন কোটি ৩৮ লাখ বলে তাদের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করে।

এ বিষয়ে বিটিআরসির সংশ্লিষ্ট শাখার এক কর্মকর্তা বলেন, রবি আর এয়ারটেল যে এখনও একীভূত হয়নি তার প্রমাণ হল তারা এখনও আমাদের কাছে ভিন্ন ভিন্ন অপারেটর হিসেবে তথ্য দিয়ে যাচ্ছে।

‘মুখে যাই বলুক না কেনো, আমাদের কাছে তারা নিজেদেরকে এক অপারেটর হিসেবে দাবি করতে পারবে না। সে সুযোগ অন্তত তাদের নেই।’-বলছিলেন ওই কর্মকর্তা।

robi-airtel-techshohor

এর আগে বিটিআরসি দফায় দফায় চিঠি দিয়ে রবিকে জানিয়ে দিয়েছে তারা এখনো একীভূতকরণের চূড়ান্ত সার্টিফিকেট বিটিআরসির কাছ থেকে পায়নি। টাকা-পয়সা বাকি এবং স্পেক্ট্রাম সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি বিষয় এখনও তাদের ঝুলে আছে। সে কারণে এর মধ্যে বিটিআরসি রবিকে কারণ দর্শানো নোটিশও দিয়েছে।

এর মধ্যে স্থায়ীভাবে বন্ধ সিমের বিপরীতে গ্রাহকের অব্যবহৃত ব্যালেন্স সরকারের কাছে ফেরত দেওয়া বিষয়েও বিটিআরসি রবি এবং এয়ারটেলকে আলাদা আলাদাভাবে কারণ দর্শানো নোটিশ জারি করে। বিটিআরসির কর্মকর্তারা আরও বলছেন, যতদিন না পর্যান্ত রবি তাদের কাছ থেকে সকল বকেয়া পরিশোধ করাসহ স্পেক্ট্রাম সংক্রান্ত জটিলতা শেষ না করবে ততদিন পর্যন্ত তারা আলাদা আলাদা অপারেটর হিসেবেই থাকবে।

বিটিআরসির নির্দেশনা মানেনি রবি-এয়ারটেল, ব্যাখ্যা চেয়ে নোটিশ

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : আন্ত:সংযোগ অপারেটর বা আইসিএক্সের মধ্য দিয়ে কল যাওয়া সংক্রান্ত বিটিআরসির নির্দেশনা মানেনি রবি-এয়ারটেল।

প্রায় চার মাস আগে বিটিআরসির দেয়া নির্দেশনায় লাইসেন্সপ্রাপ্ত আইসিএক্সের মাধ্যমে আন্ত:অপারেটর ডমস্টিক অফ-নেট কল আদান-প্রদানের জন্য বলা হয়। কিন্তু ২০১৭ সালের ৬ মার্চ পর্যন্ত আপারেটর দুটি সে নির্দেশনা মানেনি।

ওই দিন রবি ও এয়ারটেলের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে একই চিঠি পৃথকভাবে দেয় নিয়ন্ত্রণ সংস্থা। ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ‘রবি ও এয়ারটেলের একীভূতকরণে বিটিআরসি ২১টি শর্ত দিয়েছিল।’

‘সেই শর্ত অনুযায়ী কার্যক্রম সম্পাদন করে কোম্পানি একীভূতকরণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থা/কর্তৃপক্ষের অনুমোদন গ্রহণ করে তার কাগজপত্র কমিশনে দাখিল করা হলে কমিশন হতে ‘অর্ডার অব মার্জার অব লাইসেন্স’ জারি করা হবে। কিন্তু উক্ত শর্তের মধ্যে কিছু শর্ত এখনও প্রতিপালিত না হওয়ায় রবিকে তা দেয়া হয়নি।’

‘ফলে এয়ারটেল ও রবি কোম্পানিদ্বয় একীভূত হলেও উভয় কোম্পানির অনুকুলে কমিশন হতে ইস্যুকৃত লাইসেন্সসমূহ বা তার শর্তসমূহ একীভূত হয়নি। একই কারণে বর্তমানে কমিশনের অনুমতি ব্যতিত রবি ও এয়ারটেলের অন্ত:অপারেটর কলসমূহ অন-নেট কল হিসেবে পরিচালনার কোনো সুযোগ নেই।’

robi-airtel-techshohor

ব্যাখ্যা চাওয়ার নোটিশে ২০১৬ সালের ২৪ নভেম্বরে সংস্থাটির নির্দেশনা সংক্রান্ত চিঠির উল্লেখ করে বলা হয়, ‘সেখানে আইসিএক্সের মাধ্যমে আন্ত:অপারেটর ডমস্টিক অফ-নেট কল আদান-প্রদানের নির্দেশনা দেয়া হলেও প্রতিষ্ঠানদ্বয় হতে এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।’

চিঠিতে মার্জার লাইসেন্স ইস্যু হওয়ার আগে কমিশনের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও রবি ও এয়ারটেলের ডমস্টিক অফ-নেট কল কেনো আইসিএক্স প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালনা করা হচ্ছে না তার ব্যাখ্যা জানাতে ১২ মার্চ পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছিল।

এর আগে বিষয়টি নিয়ে আন্ত:সংযোগ অপারেটর বা আইসিএক্স হতে  অভিযোগ দেয়া হয়। যেদিন রবি এবং এয়ারটেল অফিস অব দ্যা রেজিস্টার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস থেকে অনুমোদন পেয়েছে সেদিন থেকেই এক সঙ্গে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছে রবি-এয়ারটেল।

ফলে ২০১৬ সালের ১৭ নভেম্বর রাত তিনটার পর হতে রবি থেকে এয়ারটেল বা এয়ারটেলে থেকে রবিতে কল করার ক্ষেত্রে আইসিএক্সের মধ্য দিয়ে কল যাওয়ার যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে তা এড়িয়ে নিজেরাই সরাসরি ০১৮ থেকে ০১৬ বা ০১৬ থেকে ০১৮ নম্বরে কল করা শুরু করে দেয়।

কারিগরি একীভূতকরণের চূাড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পূর্বেই এই কাজ করায় একসঙ্গে আইসিএক্স অপারেটররা এবং সরকারও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হতে থাকে। যার পরিমাণ দিনে ছয় লাখ টাকার মতো।

আল-আমীন দেওয়ান

শর্ত পূরণে গরিমসি, একীভূতকরণ ঝুলিয়ে রেখেছে রবি

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেশের টেলিযোগাযোগ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দুই অপারেটর এক হয়েছে অনেক দিন। এয়ারটেল সব কিছু গুটিয়ে রবিতে একীভূত হয়েছে। কারিগরি ও জনবলের দিক থেকেও রবি নামে চলছে কার্যক্রম। যদিও চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিকতার নিয়ে চলছে চিঠি চালাচালি। এমন পরিস্থিতিতে সব শর্ত পূরণের বিষয়টি সুস্পষ্ট না হওয়ায় বিটিআরসি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

সূত্র জানায়, শত কোটি টাকার বেশি বকেয়া পরিশোধ ও স্পেকট্রামসহ কয়েকটি শর্ত পূরণে গরিমসির মাধ্যমে একীভূতকরণ চূড়ান্ত করার বিষয়টি এখনও ঝুলিয়ে রেখেছে শীর্ষস্থানীয় অপারেটর রবি। যদিও মোবাইল ফোন সেবাসহ যাবতীয় কার্যক্রম চলছে একক কোম্পানি হিসেবে। এটিকে নিয়মে ব্যতয় হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

একীভূতকরণের পর গ্রাহক সংখ্যার বিচারে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম অপারেটরে পরিণত হওয়া রবিকে গত মাসে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) শর্ত পূরণের সব তথ্য জানাতে ১০ দিন সময় বেধে দেয় ।

পাওনা পরিশোধের পাশাপাশি ছয়টি শর্তের বিস্তারিত উল্লেখ করে এ চিঠিতে শর্ত প্রতিপালনের তথ্য জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়। তা না হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়।

তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও সব শর্ত পূরণের বিস্তারিত তথ্য জানায়নি অপারেটরটি। কৌশলে চিঠির জবাব দিয়েছে তারা।

এমনকি রবি একীভূতকরণের পর কমিশনের অন্যতম দুই শর্ত স্পেকট্রাম চার্জ ও একীভূতকরণ ফি হিসাবে বকেয়া ১০৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকা পরিশোধ এবং এয়ারটেলের ৫ মেগাহার্জ স্পেকট্রাম ফেরত দেওয়ার কোনোটিই এখন পর্যন্ত পূরণ করেনি ।

এসব বিষয়ে জানতে মোবাইল ফোন ও ই-মেইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও রবির জনংসযোগ বিভাগ সাড়া দেয়নি।

airtel -robi_techshohor

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, কমিশনের চিঠির জবাবে অপারেটরটি বকেয়া অর্থ পরিশোধের দাবি করে ও স্পেকট্রাম নিয়ে নিজেদের মতো এক ‘ফর্মুলা’ উল্লেখ করে।

তারা ৯০০ ব্যান্ড থেকে ৩ দশমিক ৪ মেগাহার্জ ও ১৮০০ ব্যান্ড থেকে ১ দশমিক ৬ মেগাহার্জ ছাড়ার কথা জানায়। এয়ারটেলের কাছে ১৮০০ ব্যান্ডে ১০ মেগাহার্জ ও ৯০০ ব্যান্ডে ছিল পাঁচ মেগাহার্জ।

তবে একীভূতকরণের শর্তে বলা রয়েছে, রবি কোনো স্পেকট্রাম ছাড়তে চাইলে ৯০০ ব্যান্ডের পাঁচ মেগাহার্জের পুরোটাই ছেড়ে দিতে হবে।

বকেয়ার ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত ফি অনুযায়ী একীভূতকরণ ও স্পেকট্রাম চার্জ হিসাবে রবিকে সব মিলে দিতে হবে ৪২৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। অপারেটরটি পরিশোধ করেছে ৩১৮ কোটি ৫২ লাখ ১৭ হাজার ৩৯১ টাকা। বাকি অর্থ রবি ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ১০ শতাংশ অগ্রিম আয়কর হিসেবে কেটে রেখেছে বলে ফিরতি চিঠিতে জানায়।

এ বিষয়ে বিটিআরসির কর্মকর্তারা বলছেন, একীভূতকরণ ও স্পেকট্রাম চার্জের মূল ফি ৪২৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এ থেকে ভ্যাট বা অন্য কোনো অর্থ বাদ দিয়ে হিসাবের সুযোগ নেই।

‘ভ্যাট বা অগ্রিম কর কখনও মূল টাকা থেকে কাটা যায় না। বরং এটি মূল টাকার ওপরে হয়- উল্লেখ করেন ওই কর্মকর্তা।

কমিশনের আরও শর্তের মধ্যে ছিল একীভূতকরণের আগেই সরকার, বিটিআরসি বা অন্য কোনো সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের সব পাওনা পরিশোধ করতে হবে অপারেটরটিকে। এ শর্ত পূরণের দাবি করলেও রবি কোনো তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেনি ।

এয়ারটেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রবিতে যোগদান ও একীভূত কোম্পানিতে অংশগ্রহণ করতে অনিচ্ছুকদের ভিএসএস ও ভিআরএস সংক্রান্ত তথ্য বিস্তারিত জানানোর শর্ত পূরণের বিষয়ে রবি বলেছে, তাদের সঙ্গে এয়ারটেল হতে ২৭১ জন যোগ দিয়েছেন।

এদের মধ্যে আট জন ভাইস প্রেসিডেন্ট, ২৪ জন মহাব্যবস্থাপক, ৬৮ জন ব্যবস্থাপক, ৭৪ জন স্পেশালিস্ট এবং ৯৭ জন এক্সিকিউটিভ পদে যোগ দিয়েছেন। স্বেচ্ছা অবসরের সুবিধা নিয়ে ১৩০ জন চলে গেছেন।

২০১৬ সালের ২৬ অক্টোবর মোট ২১টি শর্ত দিয়ে রবি ও এয়ারটেলের একীভূতকরণে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে একই সঙ্গে অনুমোদনের ওই চিঠিতে বলা হয়, এক মাসের মধ্যে এসব শর্ত প্রতিপালনের বিষয়টি বিটিআরসিকে অবহিত করতে হবে।

একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার কাছ থেকে যথাযথ অনুমোদনের পর কমিশনের কাছে আবেদন করলে ‘অর্ডার অব মার্জার লাইসেন্স’ জারি করা হবে বলে বিটিআরসি অপারেটরটিকে জানিয়েছিল।

২০১৬ সালের ২৪ নভেম্বর রবিকে আরেক দফা চিঠিতেও বিষয়টি উল্লেখ করে বিটিআরসি।

ওই চিঠিতেও বলা হয়, দুই কোম্পানিকে দেওয়া সব শর্ত প্রতিপালনের পর তা অবহিত করার পাশাপাশি একটি কমপ্লায়েন্স প্রতিবেদন দাখিলের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু সেসব প্রক্রিয়া এখনও সম্পন্ন হয়নি। এমনকি ‘অর্ডার অব মার্জার লাইসেন্স’ও দেওয়া হয়নি।

এরপর রবি গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর বিটিআরসিকে কাগজপত্রসহ চিঠি দেয়। এসব কাগজপত্র যাচাই করে কমিশন একীভূতকরণের শর্তের মধ্যে রবি ছয়টি যথাযথভাবে পালন করেনি বলে চিহ্নিত করে।

এ বিষয়ে গত ১২ ফেব্রুয়ারি আবারও চিঠি দিয়ে রবিকে শর্ত প্রতিপালনের তথ্য জানাতে সময় বেধে দেয়।

চিঠিতে আরও বলা হয়, এসব শর্ত পূরণের কাগজপত্র পাওয়ার পর কমিশন ‘অর্ডার অব মার্জার লাইসেন্স’ দেবে এবং এর পর একীভূতকরণ কার্যক্রম চূড়ান্ত হবে।

রবি-এয়ারটেল একীভূতকরণ শেষ হয়নি এখনও!

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : শর্ত পূরণ না করায় রবি-এয়ারটেল একীভূতকরণ এখনও সম্পন্ন হয়নি। দীর্ঘ সময় পেলেও রবি শর্ত পূরণ করতে পারেনি। এমন পরিস্থিতিতে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসি সম্প্রতি রবিকে চিঠি দিয়ে বলেছে, কমিশন/সরকারের সকল পাওনা পরিশোধ এবং অন্যান্য সকল শর্তাবলী প্রতিপালন সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য ১০ দিনের মধ্যে না দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি রবিকে এই চিঠি দেয় বিটিআরসি। ইতোমধ্যে ৮ দিন পেরিয়ে গেছে। জানা গেছে, অপারেটরটি ফিরতি চিঠি দিয়েছে কমিশনকে।

যোগাযোগ করা হলে একীভূতকরণ ও বিটিআরসির চিঠির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি রবি।

robi-airtel-techshohor

নিয়ন্ত্রণ সংস্থার ওই চিঠি অনুয়ায়ী, রবি-এয়ারটেল একীভূতকরণে অন্যতম ছয় শর্ত পূরণ করেনি রবি।

এতে বলা হয়, ‘সরকার/কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত শর্তাবলী প্রতিপালনের প্রমাণক/তথ্য ও এদতসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি প্রাপ্তির পর ‘অর্ডার অব মার্জার অব লাইসেন্স’ জারী করার মাধ্যমে কমিশন হতে মার্জার সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন করা হবে’।

অথচ দেখা যাচ্ছে রবি-এয়ারটেল ২০১৬ সালের ১৭ নভেম্বর হতে একসঙ্গে ব্যবসা শুরু করেছে।

বিটিআরসির চিঠি ইস্যুর তারিখ পর্যন্ত রবি এয়ারটেলের সঙ্গে মার্জারে ৬টি শর্ত পূরণ করেনি।

একীভূতকরনের ১২ ও ১৬ নম্বর শর্ত অনুয়ায়ী, স্পেকট্রাম চার্জ এবং একীভূতকরণ ফি হিসেবে ৪২৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা পরিশোধ করার কথা। রবি এর মধ্যে ৩১৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা পরিশোধ করে বাকী টাকা এখনও দেয়নি।

১৫ নম্বর শর্তে এয়ারটেলের ৫ মেগাহার্জ তরঙ্গ সমর্পন করত হবে। রবি তা করেনি।

৩ নম্বর শর্তে সরকার/কমিশন, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সকল পাওনা পরিশোধ করতে হবে। রবি এসব পাওনা পরিশোধের বিস্তারিত তথ্য কমিশনের দেয়নি।

৫ নম্বর শর্তে এয়ারটেলের কর্মর্তা-কর্মচারীদের রবিতে যোগদানের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য কমিশনে জমা দেয়া হয়নি।

৬ নম্বর শর্তে যারা একীভূত কোম্পানিতে অংশগ্রহণ করতে অনিচ্ছুক তাদের ভিএসএস/ভিআরএস সংক্রান্ত কোনো তথ্য কমিশনে দেয়নি রবি।

২০১৬ সালের ২৬ অক্টোবর মোট ২১টি শর্ত দিয়ে রবি এবং এয়ারটেলের একীভূতকরণে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে একই সঙ্গে অনুমোদনের ওই চিঠিতে বলে দেওয়া হয়েছে যে এক মাসের মধ্যে এই শর্ত প্রতিপালনের বিষয়টি বিটিআরসিকে অবহিত করতে হবে।

সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার কাছ থেকে যথাযথ অনুমোদনের পর বিটিআরসি’র কাছে আবেদন করলে বিটিআরসি ‘অর্ডার অব মার্জার লাইসেন্স’ জারি করবে মর্মে রবিকে চিঠিতে জানানো হয়।

 ২০১৬ সালের ২৪ নভেম্বর রবিকে আরেক দফা চিঠিতে বিষয়টি উল্লেখ করে বিটিআরসি।

তখন ওই চিঠিতেও বিটিআরসি বলে, বিটিআরসি দুই কোম্পানিকে যে শর্ত দিয়েছিল তার সবটাই প্রতিপালনের পর বিটিআরসিকে অবহিত করে একটি কমপ্লায়েন্স প্রতিবেদন দাখিলের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।  কিন্তু সেসব প্রক্রিয়া এখনও সম্পন্ন হয়নি। এমনকি ‘অর্ডার অব মার্জার লাইসেন্স’ও জারি করা হয়নি।

এরপর রবি ওই বছরের ২৬ ডিসেম্বর বিটিআরসিকে কাগজপত্রসহ চিঠি দেয়। বিটিআরসি ওই কাগজপত্র যাচাই করে দেখে যে, একীভূতকরণের শর্তের মধ্যে এই ৬টিই যথাযথভাবে পালন করেনি রবি।

ফেরি করে এয়ারটেল সিম বিক্রি, ২ টাকা ৪ টাকা…

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ফেরি করে, ফুটপাতে ছাতা বসিয়ে ২ টাকা-৪ টাকা করে এয়ারটেলের সিম বিক্রি হচ্ছে। সঙ্গে দেয়া হচ্ছে ফ্রি ইন্টারনেট, বিশেষ অফারে টক টাইমসহ নানা অফার।

রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজার, নিউ মার্কেট এলাকা, ফার্মগেটসহ বিভিন্ন জায়গায় দেখা যায় এই সিম বিক্রি।

পূর্ব রাজাবাজারের অর্নি টেলিকম এই সিম বিক্রি করছেন ‘মেলা’ ঘোষণা দিয়ে। দোকানদার জানান, এই সিম কিনে পাওয়া যাবে ১৮ জিবি ইন্টারনেট। এয়ারটেল ও রবি নাম্বারে আধা পয়সা সেকেন্ডে রেটে কথা বলা, ৫০ এমবি ইন্টারনেট, ১০০ ফ্রি এসএমএস যেকোনো নাম্বারে এবং ফ্রি টুইটার ও উইকিপিডিয়া।

রবি কর্তৃপক্ষ জানান, এয়ারটেলের সিম আলাদা করে বিক্রির এমন কোনো অফার তারা ঘোষণা করেননি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছেন তারা।

robi-airtel 1

গত ১৬ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে রবির সঙ্গে মিলে যায় এয়ারটেল। রবি-এয়ারটেল একীভূত কোম্পানি হিসেবে রবি তাদের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে। এর মধ্য দিয়ে দেশে আলাদা করে এয়ারটেলের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

একীভূত কোম্পানিটি রবি আজিয়াটা লিমিটেড নামে পরিচালিত হলেও আজিয়াটার আরেকটি স্বাধীন ব্র্যান্ড হিসেবেই রাখা হয় এয়ারটেলকে।

আর এক হওয়া উপলক্ষ্যে বিশেষ অফার ঘোষণা করে রবি। এই অফারে কেউ রবির সিম কিনলে এয়ারটেলের সিম ফ্রি পাচ্ছেন। তেমনি এয়ারটেলের সিম কিনলে রবির। জোড়া সিম নামে এই অফার চলছে।

কিন্তু ছোট ছোট দোকানে টেলিকম এজেন্টরা এয়ারটেলের সিমটি নামমাত্র দামে বিক্রি করছেন।

আল-আমীন দেওয়ান

রবি-এয়ারটেল একীভূতকরণ এখনও সম্পন্ন হয়নি!

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : রবি-এয়ারটেলের কারিগরি একীভূতকরণ সম্পন্ন হয়নি বলে বলছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক কমিশন বিটিআরসি।

অথচ অপারেটর দুটি গত ১৭ নভেম্বর হতে একসঙ্গে ব্যবসা শুরু করেছে। বিটিআরসি’র কাছ হতে কারিগরি একীভূতকরণের কোনো সার্টিফিকেট এখনও নেয়নি তারা।

গত ২৪ নভেম্বর রবিকে লেখা এক চিঠিতে এ বিষয়টি উল্লেখ করে বিটিআরসি বলছে, এক্ষেত্রে বিটিআরসি দুই কোম্পানিকে যে শর্ত দিয়েছিল তার সবটাই প্রতিপালনের পর বিটিআরসিকে অবহিত করে একটি কমপ্লায়েন্স প্রতিবেদন দাখিলের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।  কিন্তু সেসব প্রক্রিয়া এখনও সম্পন্ন হয়নি। এমনকি ‘অর্ডার অব মার্জার লাইসেন্স’ও জারি করা হয়নি।

সম্প্রতি বিষয়টি সামনে এসেছে আন্ত:সংযোগ অপারেটর বা আইসিএক্সদের একটি অভিযোগের প্রেক্ষিতে। যেদিন রবি এবং এয়ারটেল অফিস অব দ্যা রেজিস্টার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস থেকে অনুমোদন পেয়েছে সেদিন থেকেই এক সঙ্গে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছে রবি-এয়ারটেল।

ফলে ১৭ নভেম্বর রাত তিনটার পর হতে রবি থেকে এয়ারটেল বা এয়ারটেলে থেকে রবিতে কল করার ক্ষেত্রে আইসিএক্সের মধ্য দিয়ে কল যাওয়ার যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে তা এড়িয়ে নিজেরাই সরাসরি ০১৮ থেকে ০১৬ বা ০১৬ থেকে ০১৮ নম্বরে কল করা শুরু করে দেয়।

কারিগরি একীভূতকরণের চূাড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পূর্বেই এই কাজ করায় একসঙ্গে আইসিএক্স অপারেটররা এবং সরকারও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হতে থাকে। যার পরিমাণ দিনে ছয় লাখ টাকার মতো।

Robi-Airtel-Robi-Techshohor

বিষয়টি ১৮ নভেম্বর আইসিএক্স এসোসিয়েশন বিটিআরসি’র দৃষ্টিতে আনে। তার প্রেক্ষিতে বিটিআরসি রবিকে চিঠি দিয়ে এ বিষয়ে কৈফিয়ত তলব করে বলে জানিয়েছেন বিটিআরসি’র শীর্ষস্থানীয় এক কর্মকর্তা। সব কিছু প্রমাণিত হলে রবি জরিমানা বা অন্য কোনো শাস্তির মুখে পড়তে পারে বলেও বলছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

চিঠিতে বিটিআরসি বলছে, গত ২৬ অক্টোবর মোট ২১টি শর্ত দিয়ে রবি এবং এয়ারটেলের একীভূতকরণে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে একই সঙ্গে বলে দেওয়া হয়েছে যে এক মাসের মধ্যে এই শর্ত প্রতিপালনের বিষয়টি বিটিআরসিকে অবহিত করতে হবে।

সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার কাছ থেকে যথাযথ অনুমোদনের পর বিটিআরসি’র কাছে আবেদন করলে বিটিআরসি ‘অর্ডার অব মার্জার লাইসেন্স’ জারি করবে মর্মে জানানো হয়, যা আবারও ২৪ নভেম্বরের চিঠিতেও উল্লেখ করা হয়েছে।

কিন্তু এর মধ্যে এক মাস হয়ে গেলেও রবি শর্তপূরণ করে বিটিআরসিকে অবহিত করেনি। তবে শর্ত পূরণের বেশ কিছু কাজ তারা করেছে বলে জানা গেছে।

শর্ত পূরণের মধ্যে স্পেকট্রাম চার্জ এবং একীভূতকরণ ফি হিসেবে ৪০৭ কোটি টাকা পরিশোধের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু রবি এর মধ্যে মাত্র ৩১৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা পরিশোধ করে বলছে তারা তাদের টাকা দিয়ে দিয়েছেন।

ফলে বিষয়টি নিয়ে আরও জটিলতা বাঁধতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

একীভূতকরণ ফির বড় অংশই পরিশোধ করল রবি

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : একীভূতকরণের ফি এবং চার্জের বড় অংশই নির্ধারিত সময়ের আগে পরিশোধ করে দিল রবি।

রোববার অপারেটরটি বিটিআরসির মোট পাওনা ৪২৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকার মধ্যে ৩১৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে।

একীভূতকরণের ফি ও অন্যান্য চার্জ পরিশোধে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত সময় রয়েছে।

রোববার বিটিআরসি কার্যালয়ে কমিশনের চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদের কাছে এই টাকার চেক হস্তান্তর করেন রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী মাহতাব উদ্দিন আহমেদ।

এ সময় রবি ও বিটিআরসির শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তখন বাকী ১০৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকা দুই কিস্তিতে পরিশোধ করার কথা বলেছে রবি।

বিটিআরসি জানায়, রবিকে ১০০ কোটি টাকা একীভূতকরণ ফি আর ৩০৭ কোটি টাকা এয়ারটেলের স্পেকট্রাম নেয়ার ফি হিসেবে মোট ৪০৭ কোটি টাকা যা ভ্যাট-ট্যাক্স মিলে  ৪২৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়ছে ।

robi-airtel-techshohor

১৮০০ ব্যান্ডে এয়ারটেলের ১০ মেগাহার্ডজ স্পেকট্রাম নিয়েছে রবি। আর এর জন্যেই তাদেরকে এই টাকা পরিশোধ করতে হল।
এই স্পেকট্রামের আরও চার বছর মেয়াদ আছে। কিন্তু যেহেতু ২০০৫ সালে অনেক কম দামে তখনকার ওয়ারিদ এই স্পেকট্রাম কিনেছিল তাই ২০১১ সালের সঙ্গে মূল্য সমন্বয় হিসেবেই বিটিআরসি বাড়তি টাকা চার্জ করল।

তবে ২১০০ ব্যান্ডে থাকা পাঁচ মেগাহার্ডজের জন্য অপারেটরটিকে কোনো টাকা পরিশাধ করতে হয়নি। কারণ ২০১৩ সালে সব অপারেটরই মূলত তৃতীয় প্রজন্মের সেবা দেওয়ার জন্যে একই মূল্যে এই স্পেকট্রাম কিনেছিল। ফলে এর জন্য আর বাড়তি চার্জ করেনি বিটিআরসি।

অন্যদিকে ৯০০ ব্যান্ডে থাকা এয়ারটেলের পাঁচ মেগাহার্ডজ স্পেকট্রাম বিটিআরসি নতুন একীভূত কোম্পানিকে দেয়নি। এই স্পেকট্রাম তারা ফেরত নিয়ে নিচ্ছে।

ইতোমধ্যে দুই অপারেটরের ব্যবস্থাপনা, বিপনন এবং অন্যান্য সব একীভূত করা হয়েছে।  এখন স্পেকট্রাম একীভূতিকরণের কাজ শুরু করবে তারা।

তবে সেবা একীভূতকরণের জন্যে তাদের আরও প্রায় বছর খানেক লেগে যাবে বলে জানা গেছে।

গত বুধবার থেকে শুরু হয়েছে একীভূত কোম্পানির বাণিজ্যিক কার্যক্রম। একীভূত হয়ে রবি ও এয়ারটেল নামেই কোম্পানিটি রবি আজিয়াটা লিমিটেড নামেই পরিচালিত হবে। একইসঙ্গে আজিয়াটার আরেকটি স্বাধীন ব্র্যান্ড হিসেবেই থাকছে এয়ারটেল।

একীভূতকরণের ফলে রবি’র মালিকানা থাকছে ৬৮ দশমিক ৭ শতাংশ। এছাড়াও ভারতী এয়ারটেলের ২৫ শতাংশ এবং বাকি ৬ দশমিক ৩ শতাংশের মালিক জাপানের এনটিটি ডোকোমোর হাতে থাকছে।

একীভূত হওয়ার পরে বর্তমানে অপারেটরটির গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ কোটি ২২ লাখ। এই গ্রাহক বাড়ার ফলে এখন রবি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল ফোন অপারেটর।

অন্যদিকে ৫ কোটি ৪৫ লাখ সংযোগ নিয়ে গ্রামীণফোন আছে এক নম্বরে এবং দুই কোটি ৯০ লাখ সংযোগ নিয়ে বাংলালিংক চলে গেছে তিন নম্বর অবস্থানে।

আল-আমীন দেওয়ান

রবি-এয়ারটেল : একটির সিমে আরেকটি ফ্রি

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : এক হওয়া উপলক্ষ্যে বিশেষ অফার ঘোষণা করেছে রবি-এয়ারটেল। একীভূত হবার পর গ্রাহক সংখ্যায় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম অপারেটরটির এটিই প্রথম অফার।

এই অফারে কেউ রবির সিম কিনলে এয়ারটেলের সিম ফ্রি পাবেন। তেমনি এয়ারটেলের সিম কিনলে রবির। অফারটি নাম দেয়া হয়েছে জোড়া সিম অফার।

robi-airtel.techshohor

সিম কিনে পাওয়া যাবে বিশেষ কল রেটও। অপারেটর দুটির প্রিপেইড গ্রাহকরা স্পেশাল কলরেট অফারে আধা পয়সা সেকেন্ডে কথা বলতে পারবেন। রেটটি রবি-রবি, রবি-এয়ারটেল, এয়ারটেল-এয়ারটেল, এয়ারটেল-রবির জন্য।

আরও রয়েছে ৩০ টাকায় ১ জিবি ডাটা। এটিও সকল রবি ও এয়ারটেল প্রিপেইড গ্রাহকরা পাবেন।

অফারটির বিস্তারিত ও বিভিন্ন শর্তাবলী রয়েছে এই ঠিকানায়

আল-আমীন দেওয়ান