ডেটা ভয়েসে অপারেটরদের ঈদ বোনাস

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ঈদকে আনন্দময় করতে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো ঈদ বোনাস হিসেবে নানা অফার ও ছাড় দিতে শুরু করেছে।

গ্রাহক বিচারে সবচেয়ে বড় অপারেটর গ্রামীণফোন যে কোনো ডেটা প্যাকের সঙ্গে ২০ শতাংশ বোনাস দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

গত কয়েক দিন ধরে নিজেদের ওয়েবসাইট ও অফিসিয়াল ফেইসবুক পেইজে প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি গ্রাহকদেরকে এসএমএস দিয়ে এ বোনাসের বিষয়ে জানাচ্ছে।

gp-eid-bonus-techshohor

প্রায় তিন কোটি ইন্টারনেট গ্রাহকের অপারেটর গ্রামীণফোন এ অফার কতদিন বহাল থাকবে সে বিষয়ে অবশ্য স্পষ্ট করে বলেনি।

ঈদকে সামনে রেখে বাংলালিংক প্রিপেইড গ্রাহকদের জন্য ৩৯ টাকা রিচার্জে যে কোনো বাংলালিংক নম্বারে আধা পয়সা প্রতি সেকেন্ড ও অন্য অপারেটরে এক পয়সা প্রতি সেকেন্ড সারাদিনের অফার নিয়ে এসেছে।

রবি তাদের ডেটা অফারের সঙ্গে ইনস্ট্রাগ্রাম ফ্রি করে দিয়েছে। একই সঙ্গে ডেটার দামও কমিয়েছে তারা।

আগে যেখানে তারা এক জিবি ডেটা এক সপ্তাহের জন্য বিক্রি করতো ৮৯ টাকায় এখন দেড় জিবি দিচ্ছে ১০১ টাকায়। সেই সঙ্গে ইনস্ট্রাগ্রাম ফ্রি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে অপারেটরটি।

robi-eid-bonus-techshohor

এ ছাড়া গ্রামীনফোন ঈদের কেনাকাটায় সুবিধা দিতে বেশ কিছুদিন থেকে বিভিন্ন পণ্য ও আউটলেটে ১০ থেকে ২০ শতাংশ ছাড় দিচ্ছে। স্টার গ্রাহকদের জন্য বিশেষ ছাড়ের অফার রয়েছে।

এদিকে ঈদের বিনোদনের দিকেও নজর রেখেছে অপারেটরগুলো। এক দিকে নিজেদের প্লাটফর্মে বিনোদনের কনটেন্ট বাড়ানোর সঙ্গে বিভিন্ন টেলিভিশনে ঈদের সময় নানা নাটক ও সিরিয়ালের আয়োজনও করেছে তারা।

গ্রাহকদের মধ্যে নিজেদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে অপারেটরগুলো এমন উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জিপিতেও অনলাইনে মিলছে সিম

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : জিপি শপের পরিধি আরেকটু বাড়িয়ে গ্রামীণফোনও অনলাইনে সিম বিক্রি শুরু করেছে। তবে এ পদ্ধতিতে এখন তারা শুধু রাজধানীতেই সিম বিক্রি করবে।

এর আগে বাংলালিংক গত বছর প্রথম অনলাইনে সিম বিক্রি শুরু করে। তখন গ্রামীণফোন তাদের অনলাইন প্লাটফর্ম থেকে হ্যান্ডসেট ও অন্যান্য অ্যাক্সেসরিজ বিক্রি করলেও অনলাইনে সিম বিক্রি শুরু করেনি।

gp sim-techshohor

গ্রাহক বিচারে বর্তমানে দেশের বৃহত্তম অপারেটরটি তাদের ওয়েবসাইট ও ফেইসবুক পেইজে ঘোষণা দিয়ে এ বিষয়ক প্রচারণা শুরু করেছে।

আপাতত শুধু প্রিপেইডের নিশ্চিন্ত প্যাকেজের সিম এ পদ্ধতিতে বিক্রি করা হবে। প্রতিটি সিমের মূল্য ধরা হয়েছে ১১০ টাকা। আর ডেলিভারি চার্জ হিসেবে দিতে হবে আরও ৮০ টাকা।

তবে এখান থেকে ইচ্ছে মতো নম্বর পাওয়ার সুযোগ কম বলে গ্রামীণফোন তাদের ফেইসবুক পেইজে জানিয়েছ্

বর্তমানে গ্রামীণফোনের কার্যকর সংযোগের সংখ্যা ছয় কোটি পেরিয়ে গেছে।

মোবাইল ডেটার দাম নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু

অনন্য ইসলাম, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : মোবাইল ইন্টারনেটের প্রকৃত দাম কত হওয়া উচিত, তা নির্ধারণে কস্ট মডেলিংয়ের বহু প্রতিক্ষীত কার্যক্রম শুরু করেছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বা বিটিআরসি।

আন্তর্জাতিকে টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের দু’জন বিশেষজ্ঞ এ জন্য কাজ শুরু করেছেন। তারা ধারাবাহিকভাবে বিটিআরসি ও অপারেটরগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কর্মশালা করছেন।

আগামী কয়েক মাসের মধ্যে তারা ইন্টারনেটের দামের বিষয়ে প্রতিবেদন দেবেন। এর মাধ্যমে দেশে ইন্টারনেট ডেটার প্রকৃত দাম কতো হওয়া উচিত সেটি নিরূপিত হবে।

smartpthone-techshohor-internet

 

এর আগে বিটিআরসি ভয়েস কল ও এসএমএসের কস্ট মডেলিং করে উচ্চ ও নিন্মসীমা বেঁধে দিলেও ইন্টারনেট ডেটার ক্ষেত্রে এটি কখনও হয়নি।

এদিকে তিন দিনের বৈঠকে বিশেষজ্ঞরা অপারেটরগুলোর কাছে তাদের সংশ্লিষ্ট সকল ব্যয় ও আয়ের তথ্য চেয়েছেন। পরে এগুলো পর্যালোচনা করে ডেটার সর্বোচ্চ ও সর্বনিন্ম সীমা বেঁধে দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বিটিআরসির চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, ডেটার কস্ট মডেলিং হলে গ্রাহকরা প্রকৃত দামে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন।

এর আগে গ্রাহকদের একাধিক আবেদনের প্রেক্ষিতে মোবাইল ডেটার মূল্য বেঁধে দেওয়ার উদ্যোগ নেয় বিটিআরসি। তবে শেষ পর্যন্ত তা হয়ে ওঠেনি।

মাঝে একবার এ জন্য বিটিআরসিকে এক মাসের সময়ও বেঁধে দেয় ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্সের নির্বাহী কমিটি।

এর আগে ২০১৬ সালের শুরুতে কস্ট মডেলিং করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও নানা করণে তা আর শুরু করতে পারেনি কমিশন।

মাঝে একবার আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) কাছে এ বিষয়ে একজন বিশেষজ্ঞ পরামর্শক চেয়েছিল বিটিআরসি। তবে বিনা খরচায় ইউনিয়ন এ পরামর্শক দিতে চায়নি। পরে ২৫ লাখ ডলার ব্যয়ের চুক্তি করে আইটিইউ থেকে পরামর্শক পেল কমিশন।

বিটিআরসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উন্নত বিশ্বের কোনো দেশই কস্ট মডেলিং ছাড়া ইন্টারনেটের প্যাকেজ সাজায় না। এ ক্ষেত্রে একেক দেশ একেক পদ্ধতি অবলম্বন করে।

তারা জানান, অপারেটরের খরচ, বিনিয়োগ ও লাভের অংক ধরেই পরে প্যাকেজের মূল্য নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।

নির্দেশনা না মেনে রবির ‘অসময়’ এসএমএস

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : গভীর রাতে গ্রাহকদের কাছে কোনো প্রমোশনাল এসএমএস না পাঠানোর নির্দেশনা থাকলেও তা মানেনি রবি।

বুধবার দিবাগত রাত ১টা ৪৬ মিনিটে গ্রাহকদের প্রমোশনাল এসএমএস পাঠিয়েছে অপারেটরটি। অথচ ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের নির্দেশনা ছিল রাত ১২টা হতে ভোর পর্যন্ত কোনো প্রমোশনাল এসএমএস পাঠানো যাবে না।

রবি গভীর রাতে পাঠানো ওই এসএমএসে বান্ডেল প্রমোশন করে। সেখানে ৯৯৭ টাকা রিচার্জের সঙ্গে টক টাইম, ডেটা, এসএমএস ও জার্সি ফ্রি দেয়ার অফার দেয়া হয়।

২০১৬ সালের ১৫ মে সচিবালয়ে এক বৈঠকে ‘অসময়’ এসএমএস ও ফোন কল নিয়ে অপারেটরগুলোকে সতর্ক করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।

ওই বৈঠকে তারানা বলেছিলেন, বিভিন্ন অপারেটর গ্রাহকদের কাছে বিভিন্ন কোম্পানির বিজ্ঞাপন বা প্রমোশনাল এসএমএস পাঠায়। শুধু এসএমএস নয়, অপারেটরের কাছ থেকে ফোন কলও আসে যাতে গ্রাহকরা বিরক্ত হন। অথচ গ্রাহকরা এগুলো এড়াতে পারেন না।

প্রতিমন্ত্রী অপারেটরদের নির্দেশনা দেন, অনেক আগেই বলা হয়েছিল রাত ১২টা থেকে ভোরে, ফজরের নামাজ অব্দি এইসব প্রমোশনাল এসএমএস দেওয়া যাবে না।

‘অন্ততপক্ষে রাত ১২টা থেকে শুরু করে ভোরে নামাজ পর্যন্ত কোনো টেক্সট ম্যাসেজ যাবে না। আশা করি আপনারা এটা ফলোআপ করবেন।’

এর পর গ্রাহকরা অনেকদিন এই বিরক্তি হতে রেহাই পেয়েছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি প্রতিমন্ত্রীর এই নির্দেশনা ভেঙ্গে রবি আবার এই গ্রাহক বিরক্তির কাজ শুরু করলো।

আল-আমীন দেওয়ান

 

গ্রাহক বাড়াতে মরিয়া রবি, বিলাচ্ছে ফ্রি সিম

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : গ্রাহক বাড়াতে একীভূত কোম্পানি রবি এতোটাই মরিয়া হয়ে উঠেছে যে তারা ফ্রি সিম বিলাতে শুরু করেছে।

এর আগে তাদের সঙ্গে একীভূত কোম্পানি এয়ারটেলের সিম ফ্রি দিলেও এবার রবির ০১৮-ই ফ্রি বিলাতে শুরু করেছে অপারেটরটি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্রাহক বাড়াতে সিম প্রতি বড় ধরনের লোকসানও মেনে নেওয়ার কৌশল নিয়েছে অপারেটরটি।

এমনকি প্রতিটি সিমে একেক অপারেটরের আড়াই’শ টাকার মতো খরচ হয়। এখন ফ্রি সিম দিয়ে দিয়ে একেকটি সিমে অন্তত পক্ষে আড়াই’শ টাকার ক্ষতি মেনে নিতে হয় অপারেটরটিকে।

এর আগে এয়ারটেলের ক্ষেত্রে সরাসরি ফ্রি বললেও এবার খানিকটা ঘুরিয়ে বলছে তারা। এবার নতুন সিমের সঙ্গে ছয় জিবি ইন্টারনেট ফ্রি দিচ্ছে অপারেটরটি। এর বাইরে ৫০টি এসএমএস।

যার দাম সব মিলে বলা হচ্ছে একশ টাকা। কিন্তু এই সিমটি পেতে গ্রাহককে দিতে হবে মাত্র ৮৪ টাকা।

আর এক্ষেত্রে আগের বারের মতো বড়সড় কোনো প্রচারণাও চালাচ্ছে না তারা। সেক্ষেত্রে একটা সিম ফ্রি দিলেও সেটি যে শেষ পর্যন্ত টিকবে তেমনটা হয় না। বাজারের এখনকার হিসেব অন্তত নতুন পাঁচটা সিম বাজারে গেলে শেষ পর্যন্ত সেখান থেকে একটা টেকে। তাহলে প্রতিটি নতুন গ্রাহক ধরতে এয়ারটেল বা তাদের একীভূত কোম্পানির অন্তত বার’শ টাকা খরচ করতে হচ্ছে।

শনিবার ফার্মগেটে এক খুচরা বিক্রেতা হাকডাক করে রবির সিম বিক্রি করছিলেন। তার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, প্রতি সিমের দাম যে ৮৪ টাকা নেওয়া হচ্ছে এর কোনো কিছুই রবির অ্যাকাউন্টে যাচ্ছে না। পুরোটাই থেকে যাচ্ছে খুচরা বিক্রেতা আর বিপননকারীদের কাছে।

শুধু বায়োমেট্টিক পদ্ধতিতে আঙ্গুলের ছাপ আর জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়েই মিলছে এই সিম।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রবির হাতে যেহেতু ০১৬ এবং ০১৮ মিলিয়ে ২০ কোটি পর্যন্ত নম্বর বিক্রি করার সুযোগ আছে সুতরাং এই সুযোগের সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে চান তারা।

অন্যদিকে গ্রামীণফোন তাদের ০১৭ সিরিজে প্রায় দশ কোটি নম্বর বিক্রি করে ফেলেছে। আর বিটিআরসি যেহেতু তাদেরকে নতুন নম্বর সিরিজ দিচ্ছে না, সুতরাং এই সুযোগে জিপি তার নিজের জায়গায় আটকে থাকলেও রবি অনেকটাই এগিয়ে যাবে।

আর এটাকেই সুযোগ হিসেবে নিয়ে ফ্রি সিম বিলানোর প্রতিযোগিতা শুরু করেছে রবি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর আগেও রবি একটি রবি সিমের সঙ্গে একটি এয়ারটেল সিম ফ্রি হিসেবে দিয়েছে।

আর. এস. হুসেইন

এবার সিটিসেলের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : অনেক দিন থেকে সেবায় না থাকা দেশের সবচেয়ে পুরনো মোবাইল ফোন অপারেটর সিটিসেলের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসি।

বিষয়টি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করেছে কমিশন। সম্প্রতি কমিশন বৈঠকে অপারেটরটির লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে সূত্র জানিয়েছে। এর আগে স্পেকট্রাম বরাদ্দ স্থগিত করা হলেও উচ্চ আদালতের নির্দেশে তা ফিরে পেয়েছিল অপারেটরটি। তবে আর কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি।

মূলত পুরনো বকেয়া পরিশোধ না করা এবং আদালতের নির্দেশ অনুসারে চলতি পাওনা, যেমন স্টেকট্রাম ফ্রি ও লাইসেন্স ফি পরিশোধ না করার পাশাপাশি লাইসেন্সের শর্তভঙ্গ করার অভিযোগ আনা হয়েছে অপারেটরটির বিরুদ্ধে।

citycell-btrc-techshohor

এসব কারণ দেখিয়ে লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত অনুমোদনের জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ পাঠিয়েছে বিটিআরসি।এ দিকে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রনালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে তারা দ্রুতই তা বিটিআরসিকে অবহিত করবে।

গত সপ্তাহে এ সুপারিশ পাঠানো হয় বলে সাংবাদিকদের জানান, কমিশনের চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ।তিনি জানান, সরকার লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত অনুামোদন করলে তারা সিটিসেলের এ স্পেকট্রাম নিলামে তুলবেন।

বিটিআরসি টেলিযোগাযোগ আইনের ৪৬ ধারা ভঙ্গের অভিযোগও করেছে।

সম্প্রতি বিটিআরসি এ বিষয়ে সিটিসেলকে কারণ দর্শানো নোটিশ পাঠালে সিটিসেল উল্টো দাবি করেছে, তারা বরং বিটিআরসিকে হিসাবের অতিরিক্ত টাকা দিয়েছে।

ফলে তারা আর বিটিআরসিকে নতুন করে কোনো অর্থ দেবে না।

 

এর আগে ২০১৬ সালের ২০ অক্টোবর কমিশন অপারেটরটির স্পেকট্রাম বরাদ্দ স্থগিত করলে সিটিসেল উচ্চ আদালতে যায়। আপিল বিভাগ স্পেকট্রাম খুলে দেয়ার আদেশ দেন। ৬ নভেম্বর স্পেকট্রাম ফিরিয়ে দেয়া হয়। তবে তাদের এখন আর কোনও গ্রাহক নেই।

এর আগে গত বছরের অক্টোবর পর্যন্ত সিটিসেলের কাছে মোট পাওনা ৪৭৭ কোটি টাকা বকেয়া ছিল বলে দাবি বিটিআরসি। তবে এর মধ্যে অপারেটরটি পরিশোধ করেছে ২৫৫ কোটি টাকা। অবশিষ্ট ২২২ কোটি পরিশোধ করলেই অপারেটরটির দায় মুক্ত হওয়ার কথা।

২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৭ সালের মার্চের মধ্যে সিটিসেলের এ পাওনা কিস্তিতে পরিশোধের কথা ছিল। কিন্তু যথা সময়ে তা পরিশোধ করেনি অপারেটরটি।

এদিকে, পাওনা আদায়ে সিটিসেলের প্রধান কার্যালয় নিলামে তুলছে ন্যাশনাল ব্যাংক। রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত ভবনটির ৬ষ্ঠ হতে ১৩তলা পর্যন্ত নিলামে তোলা হবে বলে সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপনও দেয় ব্যাংকটি।

অবশেষে একীভূতকরণের স্বীকৃতি পাচ্ছে রবি

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : নানা টানা টানাপড়েনের পর অবশেষে এয়ারটেলের সঙ্গে একীভূতকরণের জন্য আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছে রবি।

টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির কাছ থেকে ‘অর্ডার অব মার্জার অব লাইসেন্স’ বৃহস্পতিবার পাওয়ার কথা বলে জানা গেছে।

প্রায় নয় মাসে একীভূতকরণের অনুমোদন পাওয়ার পর গত কয়েক মাসে শীর্ষ এ দুই অপারেটর কার্যত রবির মাধ্যমেই পরিচালিত হচ্ছে। তবে আর্থিক দেনাপাওনার হিসাব সংক্রান্ত জটিলতায় বিটিআরসি এতদিন এ লাইসেন্স দেয়নি।

airtel -robi_techshohor

বুধবার মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর সংগঠন অ্যামটবের বাজেট বিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে রবির চিফ পিপলস অফিসার মতিউল ইসলাম নওশাদ বলেন, একীভূতকরণ শেষ পর্যন্ত যথাযথভাবে হচ্ছে। এ উদ্যোগ উভয় কোম্পানির জন্য সুফল নিয়ে আসবে।

পর্যায়ক্রমে তা গ্রাহকদের মধ্যেও সঞ্চারিত হবে বলে উল্লেখ করেন।

যদিও এর আগে রবি একাধিকবার বলেছে, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের কাছ থেকে একীভূতকরণ বিষয়ে তাদের এ ধরণের কোনো লাইসেন্স নেওয়ার প্রয়োজন নেই।

সূত্র জানায়, শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েই বিটিআরসির দাবি করা বাড়তি টাকা ও ভ্যাট সংক্রান্ত জটিলতা থাকায় ব্যাংক গ্যারান্টি দিয়েই ‘অর্ডার অব মার্জার অব লাইসেন্স’ বুঝে নিচ্ছে রবি।

ইতিমধ্যে তারা এয়ারটেলের ৩ দশমিক ৪ মেগাহার্জ তরঙ্গ বিটিআরসিকে ফেরত দিয়েছে।

 

২০১৬ সালের ২৬ অক্টোবর মোট ২১ শর্ত দিয়ে রবি ও এয়ারটেলের একীভূতকরণ অনুমোদন দেয় বিটিআরসি।

১০০ কোটি টাকা একীভূতকরণ ফি ও ৩০৭ কোটি টাকা এয়ারটেলের তরঙ্গ সমন্বয় ফি হিসেবে মোট ৪০৭ কোটি টাকা, যা ভ্যাট-ট্যাক্স মিলে ৪২৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়।

এর মধ্যে ২০ নভেম্বর ৩১৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা পরিশোধ করে রবি। বাকি ১০৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকা দুই কিস্তিতে পরিশোধের কথা থাকলেও তা দেয়নি অপারেটরটি। শর্ত প্রতিপালন না করায় অনুমোদনের পরও গত প্রায় নয় মাস ধরে একীভূতকরণ চূড়ান্তের বিষয়টি ঝুলে ছিল।

এ দীর্ঘ সময়ে একীভূতকরণের শর্ত পূরণ নিয়ে রবিকে বেশ কয়েক দফা চিঠি দেয় বিটিআরসি। পরে শোকজও করে।

এর মধ্যে একীভূতকরণ বাতিলের হুমকিও দেয়।

পরে টাকা পয়সা পরিশোধের শর্তে অর্ডার অব মার্জার অব লাইসেন্স নিতে বিটিআরসির কাছে আবেদন করলে এ জটিলতা নিরসন হয়।

মোবাইল ফোনে বাড়তি করে হিতে বিপরীত : অ্যামটব

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : মোবাইল হ্যান্ডসেট আমদানিতে শুল্ক বাড়ানোর পদক্ষেপ সরকারের ডিজিটাল কার্যক্রমের ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করে অ্যামটব।

মোবাইল ফোন অপারেটগুলোর এ সংগঠন ইন্টারনেটের ওপর ভ্যাট প্রত্যাহার না করার পাশাপাশি হ্যান্ডসেটে শুল্ক বৃদ্ধিতে বুধবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

সংগঠনটির দাবি অতিরিক্ত করারোপ করা না হলে জাতীয় আয় আরও বৃদ্ধি পেত। এ জন্য এসব বাড়তি কর ও ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।

amtob-techshohor

আগামী অর্থবছরের বাজেটের আগে ইন্টারনেটের ওপর থেকে ভ্যাট ও সিম ট্যাক্স প্রত্যাহারসহ মোটা দাগে তিনটি দাবি জানিয়েছিল মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো। এগুলোর একটিও পূরণ হয়নিই উল্টো প্রস্তাবিত বাজেটে সিম আমদানির পর্যায়ে ভ্যাট যুক্ত হয়েছে।

এর বাইরে মরার ওপর খাড়ার ঘা হিসেবে মোবাইল হ্যান্ডসেট আমাদানিতে শুল্ক বৃদ্ধি করা হয়েছে।

রাজধানীর একটি হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে অ্যামটব বলেছে, এ কর নীতি ডিজিটাইজেশনের পথকে আরও কঠিন করে দেবে।

এ জন্য সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক টিআইএম নূরুল কবীর দায়ী করেছেন সরকারের রাজস্ব আহরণের দায়িত্বে থাকা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর)।

“ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে সরকারের যে ভিশন এবং মোবাইল খাত থেকে এনবিআরের আয়ের যে লক্ষ্য সে দুটি এক সঙ্গে যায় না- সংবাদ সম্মেলনে বলেন নূরুল কবীর। তিনি বলেন, এনবিআরের সমন্বয়হীনতা তাদের চোখে বড় হয়ে ধরা দিচ্ছে।

নূরুল কবীর বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করতে হলে ইন্টারনেটের ব্যবহারের ওপর থেকে ভ্যাট তুলতে হবে। গত কয়েক বছর ধরে এ দাবি জানানো হলেও এনবিআর তা বিবেচনাই করছে না।

সিমের ওপর কর বিষয়ে অ্যামটবের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এ কর কমানোর ফলে সরকারের আয় বৃদ্ধির বিষয়টি সবাই দেখতে পাচ্ছেন। সরকারের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি সামগ্রিক জাতীয় আয়ও বেড়েছে।

এখন জাতীয় আয় বাড়ছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ হারে। তার দাবি, সিম কর তুলে নিলে এটি ৮ শতাংশের ওপরে চলে যাবে।

একই সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত অপারেটরগুলোর কর্মকর্তারা করপোরেট কর অন্যান্য খাতের মতো ‘স্বাভাবিক’ পর্যায়ে নামিয়ে আনার দাবি জানান।

শীর্ষ তিন অপারেটরের কর্মকর্তারা বলেন, গত কয়েক বছর ধরে মোবাইল ফোনের ওপর ও মোবাইল ফোনের সেবার ওপর নানা পর্যায়ে কর বাড়ছে। এ কারণে জনগণে সেবা পেতেও বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে।

মোবাইল ফোন আমদানিতে বাড়তি করসহ সিম আমদানিতে ভ্যাট যুক্ত করা এবং নেটওয়ার্ক যন্ত্রপাতি আমদানিতে বাড়তি কর আরোপের কারণে সেবার দামও কিছুটা বাড়তে পারে বলে উল্লেখ করেন তারা।

কম দামে বেশি স্পেকট্রাম চায় অপারেটরগুলো

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ফোরজি সেবায় বেশি দামে কম স্পেকট্রামের পরিবর্তে তুলনামূলক কম দামে পুরো স্টেকট্রাম কিনতে চায় মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো।

প্রতি মেগাহার্ডজ স্পেকট্রামের মূল্য দুই কোটি ডলারের নিচে নামিয়ে আনতে সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছে দেশের বড় তিন অপারেটরের মূল কোম্পানি।

গ্রামীণফোনের মূল কোম্পানি টেলিনর, রবির মূল কোম্পানি আজিয়াটা ও বাংলালিংকের মূল কোম্পানি ভিয়েনের পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়েছে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে গত ২৯ মে পাঠানো যৌথ এ চিঠিতে তিন কোম্পানির তিন শীর্ষ কর্মকর্তা সই করেছেন।

GP-banglalink-robi-4G-techshohor

তারা বলছেন, ২০১৩ সালে দেশে থ্রিজি চালুর আগে সরকারের হাতে থাকা স্পেকট্রামের মাত্র কিছু অংশ বিক্রি হয়েছিল। উচ্চ মূল্যের কারণেই অপারেটরগুলো অল্প স্পেকট্রাম কিনে থ্রিজি সেবা চালু করতে বাধ্য হয়।

এখন থ্রিজি ব্যান্ডে অনেক অবিক্রিত স্পেকট্রাম রয়ে গেছে। সরকার তখন নিলামে এই স্পেকট্রামের ভিত্তিমূল্য ধরেছিল প্রতি মেগাহার্ডজ দুই কোটি ডলার। নিলামে তা দুই কোটি ১০ লাখ ডলারে বিক্রি হয়।

দেশে ফোর জি সেবা চালু করতে এখন কয়েকটি ব্যান্ডের স্পেকট্রাম বিক্রি করতে চায় বিটিআরসি। নিরামে এগুলোর কোনোটির ভিত্তিমূল্য তিন কোটি থেকে সাড়ে তিন কোটি ডলার পর্যন্ত ধরা হচ্ছে।

এত দাম না বাড়িয়ে অপারেটরগুলো বরং সরকারকে ভিন্নভাবে চিন্তা করতে অনুরোধ করছে। তারা প্রতি মেগাহার্ডজ স্পেকট্রামের মূল্য দুই কোটি ডলারের নিচে নামিয়ে আনার অনুরোধ করেছে।

দাম কমানো হলে অপারেটরগুলো বেশি স্পেকট্রাম কিনতে বিনিয়োগ করতে পারবে, তাতে ফোরজিতে গ্রাহক সেবার মান উন্নত হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করেন কর্মকর্তারা।

একই সঙ্গে তারা ফোরজিতে অপারেটরগুলোর রাজস্ব ভাগাভাগি কিছুটা কমিয়ে আনা এবং স্পেকট্রামে বাড়তি মূল্য না নিয়ে প্রযুক্তি নিরপেক্ষতা দেওয়ার ‍অনুরোধ করেন।

ফ্রি সিমে এয়ারটেলের লোকসান ২৫০ টাকা

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : শুধু দোকানে নয়, বাসা বাড়িতে গিয়েও ফ্রি সিম দিচ্ছে এয়ারটেল। রবির সঙ্গে একীভূত হওয়া এ অপারেটর গ্রাহক বাড়াতে এ জন্য বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতিও মেনে নিচ্ছে। সিমপ্রতি আড়াইশ টাকা লোকসান দিচ্ছে।

মুখে অবশ্য ফ্রি বললেও খানিকটা চাতুরি রেখে দিয়েছে তারা। এ কারণে বড়সড় করে কোনো প্রচারণাও চালাচ্ছে না।

বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একশ’ টাকায় একটি এয়ারটেল সিম দিচ্ছেন তারা। গ্রাহক এজন্য টক টাইম পাবেন ৯৬ টাকার। এটিকেই ফ্রি বলছে অপারেটরটি।

বর্তমানে একটি সিমে সরকারের একশ’ টাকা ট্যাক্সসহ রিটেইলার ও ডিস্ট্রিবিউটরদের কমিশনসহ সব মিলে রবির অন্তত আড়াইশ’ টাকা ব্যয় হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, একীভূত অপারেটরটি গ্রাহক বাড়াতে সাময়িক এ ক্ষতি মেনে নিলেও তা কতটুকু ফলপ্রসু হবে সেটা দেখার বিষয়। কেননা একটা সিম ফ্রি গ্রাহকের হাতে গেলে সেটি শেষ পর্যন্ত নিয়মিতভাবে ব্যবহার হয় না।

বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা গেছে অন্তত নতুন পাঁচটা সিম বাজারে গেলে শেষ পর্যন্ত টেকে মাত্র একটি। সে হিসাবে প্রতিটি নতুন গ্রাহক ধরতে একীভূত কোম্পানির অন্তত এক হাজার ২০০ টাকা খরচ করতে হচ্ছে।

রবির সঙ্গে একীভূত হওয়ার ২১ শর্তের একটি হলো আগামী দুই বছর এয়ারটেলের ব্র্যান্ডনেম ব্যবহার করা যাবে। একই সঙ্গে ০১৬ সিরিজের নম্বরও তারা এ সময় পর্যন্ত বিক্রি করতে পারবে।

এ সুযোগ নিয়ে দেদারছে ০১৬ বিক্রি শুরু করেছে অপারেটরটির মূল কোম্পানি রবি-আজিয়াটা। মাঝখানে রবি সিমের সঙ্গে একটি এয়ারটেল সিম ফ্রি হিসেবেও দিয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলেন, দুই বছর পর ০১৬ বা এয়ারটেল ব্র্যান্ড বন্ধ হওয়ার আগেই বড় একটি গ্রাহক সংখ্যা তৈরির পরিকল্পনা থেকে রবি এমন কৌশল নিয়েছে।

একই ভাবে ০১৬ নম্বর সিরিজ ধরে রাখতেও এমন পদক্ষেপ নিয়েছে অপারেটরটি। কেননা নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি ০১৬ সিরিজের নম্বরকে ০১৮-এ নিয়ে আসতে বললে তখন গ্রাহক সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে যাতে সেটি ‘অসম্ভব’ হয়ে পড়ে সেটিও আছে রবির পরিকল্পনায়। 

এখন ৭২ লাখের মতো ০১৬ নম্বর কার্যকর থাকলেও বাজারে এ সিরিজের নম্বর আছে তিন কোটির মতো।

ফলে নির্ধারিত দুই বছরের মধ্যে এ সংখ্যা আরও দুই-তিন কোটি বাড়িয়ে নিতে পারলে তখন প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে অন্তত এ জায়গায় এগিয়ে থাকবে একীভূত রবি-এয়ারটেল কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি অপারেটরের কাছে দুটি নম্বর সিরিজ থাকা মানেই- সে প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে অন্তত দ্বিগুণ এগিয়ে থাকছে।

গ্রামীণফোন তাদের ০১৭ সিরিজ প্রায় শেষ হয়ে যাওয়ার পর এখন আর নতুন সিরিজ চেয়েও পাচ্ছে না। সে কারণে বাজারে তাদের গ্রাহক সংখ্যাও সেই অনুসারে বাড়াতে পারছে না।

তবে দুটি নম্বর সিরিজ থাকলে ১০ কোটির চেয়েও কয়েক কোটি বেশি গ্রাহকের কাছে সিম বিক্রি করতে পারবে রবি। এ কারণেই ০১৬ সিরিজ ধরে রাখতে ভবিষ্যতের কথা ভেবে বড় আর্থিক ক্ষতিও মেনে নিচ্ছে তারা।

আর. এস হুসেইন

রবির রিট : অপারেটরদের বিরুদ্ধে ভোক্তা অভিযোগ নিষ্পত্তি স্থগিত

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর বিরুদ্ধে গ্রাহকদের অভিযোগের কোনো প্রতিকার আপাতত দিতে পারবে না ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। উচ্চ আদালত সাম্প্রতিক এক নির্দেশে এ বিষয়ক কার্যক্রম আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন।

অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহীন আরা মমতাজ টেকশহরডটকমকে জানান, ‘রবির রিটের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বিভাগ রবিসহ সব মোবাইল টেলিকম কোম্পানি সম্পর্কিত ভোক্তাদের অভিযোগ নিষ্পত্তিতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৭০ ধারা আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন।’

এ কারণে আপাতত রবিসহ অন্য মোবাইল ফোন অপারেটরের বিষয়ে ভোক্তাদের অভিযোগের কোনো প্রতিকার দেওয়া সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন: অনেক নাটকের পর জরিমানার টাকা পরিশোধ করল রবি

এমন এক ঘোষণা ৩১ মে অধিদপ্তরের ফেইসবুক পেইজেও ভোক্তাদের জানাতে পোস্ট দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, রবি গত মাসে এ বিষয়ে হাইকোটে রিট দায়ের করে।

তিন ভোক্তাকে প্রতারণার দায়ে অধিদপ্তর সম্প্রতি রবিকে ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে।

জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করায় গত ৩০ মে রাজধানীর গুলশানে রবির প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ। ওই দিন অর্থ পরিশোধে সময় চান অপারেটরটির কর্মকর্তারা।

আদালত এ সংক্রান্ত ধারা স্থগিত করলেও জরিমানা পরিশোধের আদেশ দেওয়ায় অভিযানের পরদিন বুধবার রবি টাকা পরিশোধ করেছে বলে জানান ভোক্তা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহীন আরা মমতাজ।

এর আগে তিন গ্রাহকের অভিযোগের শুনানি করে গত ১৭ এপ্রিল রবিকে ওই অর্থ জরিমানা করা হয়েছিল।

টাকা পরিশোধের জন্য শীর্ষস্থানীয় এ অপারেটরকে সময় দেওয়া হয় পাঁচ দিন। এরপর প্রায় দেড় মাস পার হলেও জরিমনার অর্থ দেয়নি অপারেটরটি। এর মধ্যে সময় দেওয়া হয় আরও পাঁচ বার। পরে অপারেটরটির কার্যালয়ে যায় অধিদপ্তর।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৭০ ধারায় যা বলা রয়েছে :

৭০। (১) এই আইনের অধীন ভোক্তা-অধিকার বিরোধী কার্য প্রতিরোধকল্পে বা ভোক্তা-অধিকার বিরোধী অপরাধ বিষয়ে কোন কার্যক্রম গ্রহণের ক্ষেত্রে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা এই অাইনের চতুর্থ অধ্যায় এ বর্ণিত কোন অপরাধ সংঘটিত হইয়া থাকিলেও, সমীচীন মনে করিলে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে, দণ্ড আরোপ না করিয়া এবং ফৌজদারী মামলা দায়েরের লক্ষ্যে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করিয়া, কেবল জরিমানা আরোপ, ব্যবসার লাইসেন্স বাতিল, ব্যবসায়িক কার্যক্রম সাময়িক বা স্থায়ীভাবে স্থগিতকরণ সম্পর্কিত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবেন।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রশাসনিক ব্যবস্থায় জরিমানা আরোপের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অপরাধের জন্য এই আইনের অধীন সর্বোচ্চ যে অর্থদণ্ড রহিয়াছে উহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ড আরোপ করা যাইবে না৷

(৩) উপ-ধারা (১) ও (২) এর অধীন প্রশাসনিক ব্যবস্থায় আরোপিত কোন জরিমানার ক্ষেত্রে অনাদায়ে কারাদণ্ড আরোপ করা যাইবে না৷

(৪) এই ধারার অধীন আরোপিত জরিমানা দোষী ব্যক্তি স্বেচ্ছায় অনূর্ধ্ব ৫ (পাঁচ) কার্য দিবসের মধ্যে প্রদান করিবেন৷

(৫) উপ-ধারা (৪) এর বিধানমতে আরোপিত জরিমানা দোষী ব্যক্তি স্বেচ্ছায় প্রদান না করিলে দণ্ড আরোপকারী কর্তৃপক্ষ ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৩৮৬ এর উপ-ধারা (১) এর দফা (ক) এ বর্ণিত পদ্ধতি অনুযায়ী ক্রোক ও বিক্রয়ের মাধ্যমে জরিমানার উক্ত অর্থ আদায় করিতে পারিবেন এবং আরোপিত জরিমানার ২৫ শতাংশ পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ খরচ বাবদ আদায় করিতে পারিবেন৷

আল-আমীন দেওয়ান

আরও পড়ুন: