গেইমগুলো সব মুক্তিযুদ্ধের

তুসিন আহমেদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর  : ধন ধান্যে পুষ্পে ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা, তাহার মাঝে আছে দেশ এক সকল দেশের সেরা…সকল দেশের রানী সে যে আমার জন্মভূমি…দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের এ গানের মতো রানী বাংলাদেশকে আমরা একদিনে পাইনি। এ পাওয়ার পেছনে রয়েছে রক্তক্ষয়ী নয় মাসে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিপুল আত্মত্যাগ।

মুক্তিযোদ্ধের এ ইতিহাসকে প্রযুক্তি ছোঁয়ায় নতুনদের কাছে জীবন্ত করে তুলেতে দেশে তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন গেইম। মোবাইল ও ডেক্সটপ প্লাটফর্মের জন্য তৈরি এসব গেইমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের সেই ভয়াল সময় ও আত্মত্যাগের কথা।

গেইম খেলার মাঝেই জানা যাবে মহান সেই বীরদের ইতিহাস। দেশীয় ডেভেলপারদের তৈরি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গেইমগুলো টেকশহর ডটকমের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো এ প্রতিবেদনে।

ছবি:বিবিসি

হিরোজ অব ৭১
মোবাইল গেইম হিরোজ অব ৭১ বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বিশেষ করে উন্নত গ্রাফিক্স ও সাউন্ড এবং গল্প নির্ভর হওয়ার কারণে এটি গেইমারদের পছন্দে গেইমে পরিণ হয়েছে। দেশীয় গেইম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান পোর্টবিলসের গেইমটি নিয়ে তাই দু’পর্বের সিরিজ হয়েছে।

হিরোজ অব ৭১-এর পর এসেছে হিরোজ অব ৭১ : রিটেলিয়েশন।

গেইমটিতে কবির, বদি, সজল, তাপস ও শামসু কমান্ডো বাহিনী পাঁচ জনের নামে হলেও মিশনে এক অন্যকে বিশেষ কল সাইন ধরে ডেকে থাকেন।

গেইমের শুরুতে দেখা যায়, মধুমতী নদীর পাশে শনির চর গ্রামে একটা স্কুলে পাক সেনারা ক্যাম্প করেছে। এটি দখলে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধাদের এ দল।

এরপর রোমাঞ্চের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলে গৌরবময় ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি নিয়ে তৈরি এ গেইম।

এ ঠিকানা থেকে গেইমটি ডাউনলোড করা যাবে। এটি ১০ লাখের বেশি ডাউনলোড হয়েছে গুগল প্লে থেকে।

গেইমটির সিক্যুয়েল হিরোজ অব ৭১ : রিটেলিয়েশন এ ঠিকানা থেকে ডাউনলোড করা যাবে।

যুদ্ধ৭১-প্রথম প্রতিরোধ
গেইমটিতে  ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালো রাতে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী প্রথম যে প্রতিরোধ যুদ্ধ গড়ে উঠেছিল সেটি উঠে এসেছে। গেইমটিতে মোট ১৬টি লেভেল রয়েছে।

এতে গেইমারকে মুক্তিযোদ্ধা হয়ে পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে। চাইলে গেইমার অস্ত্র, জিপ, গোলাবারুদ, ট্যাংক থেকে শুরু করে পাক হানাদার বাহিনীর সবকিছু ছিনিয়ে নিতে পারবেন।

গেইমটিকে আরও ইন্টারেক্টিভ করার জন্য এতে যুক্ত করা হয়েছে ভিআর প্রযুক্তি। চাইলে  ভিআরের মাধ্যমে খেলা যাবে। ফলে গেইমারের কাছে আরও বাস্তব হয়ে উঠবে গেইমটি।

war-71-techshohor

এটি বাংলা  ইংরেজি দুই ভাষাতেই থাকছে। খেলার সুবিধার জন্য একটি পূর্নাঙ্গ ম্যাপ যুক্ত করা হয়েছে।

এটি তৈরি করেছে ডিজিটালবি লিমিটেড। গত বছর উন্মুক্ত  হওয়া গেইমটি  পর্যন্ত ৫০ হাজারের বেশি ডাউনলোড হয়েছে গুগল প্লেস্টোর থেকে।

ডিজিটালবির পরিচালক হাফিজুর রহমান জানান, প্রায় সাত মাস সময় লেগেছে টি তৈরি করতে। বিশেষ করে ভিআর সংস্করণ থাকায় বেশ সাড়া পাচ্ছে।

পরে আরও আপডেট আনা হবে গেইমটির বলে জানান নির্মাতা কোম্পানির ওই পরিচালক।

অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা  ঠিকানা থেকে গেইমটি ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।

 

garila-brother-techshohor

গেরিলা ব্রাদার্স
অ্যান্ড্রয়েড ফোনের জন্য তৈরি গেইমটির প্রধান চরিত্রে রয়েছেন দুই ভাই। বড় ভাইয়ের নাম কামাল। ছোটজন তমাল, বাক প্রতিবন্ধী। তাই ছোট ভাইয়ের প্রতি বিশেষ দরদ ছিল বড় ভাইয়ের।

প্রথমে কামাল পাক সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিল। কিন্তু ২৫ মার্চের ভয়াল রাতে বাঙালীদের উপর নির্মম অত্যাচার দেখে বিবেক জেগে উঠে তার। সেদিন কোনোভাবে প্রাণ বাঁচিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন তিনি।

এপ্রিল মাসে কামাল মুক্তিবাহিনীতে যোগ দিলেন। তখন দেখতে পেলেন তমালও জীবনের ঝুঁকি জেনেও মুক্তিবাহিনীতে যোগ দিয়েছেন। এ গেইমে গেইমারকে  দুই ভাই চরিত্রে যুদ্ধ করতে হবে পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে।

থার্ড পারসন কো-অপ মাল্টিপ্লেয়ার গেইমটি চারটি মোডে দুটি লেভেলে খেলা যাবে। মোডগুলো হচ্ছে ইজি, নরমাল, হার্ড ও ইনসেইন।

গেইমটিতে বাংলাভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। খেলার সময় বাংলায় কামাল তমালকে নানা নির্দেশনা দেয়া যা গেইমটিকে আরও আকর্ষণী করে তুলেছে।

এটির উল্লেখ্যযোগ্য ফিচার হলো কোঅপ মাল্টিপ্লেয়ার। ফলে লোকাল ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে একই সময়ে দুজন মিলে খেলতে পারবেন। তবে সিঙ্গেল প্লেয়ার হিসেবে খেলার সময় গেইমারকে একাই কামাল ও তমালকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।

এটি তৈরি করেছে গেইম ডেভেলপার বনি ইউসুফ। তিনি জানান, ‘এটি আপাতত ইএটিএল অ্যাপ স্টোর থেকে ইন্সটল করে খেলা যাবে। পরে গুগল প্লে স্টোরে পাওয়া যাবে। ইএটিএলপ্রথম আলো অ্যাপস প্রতিযোগিতায় শীর্ষ ১৫-তে রয়েছে গেইমটি।  

গেইমটি খেলতে   ঠিকানায় গিয়ে ইএটিএল অ্যাপটি ডাউনলোড করে সেখান থেকে গেরিলা ব্রাদার ইন্সটল করে খেলা যাবে অ্যান্ড্রয়েড ফোনে।  

massive-71-techshohor

ম্যাসিভ যুদ্ধ ৭১
মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ নয় মাসের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে গেইম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ম্যাসিভস্টার এটি বানিয়েছে। গেইমটি ডেক্সটপ সংস্করণে উন্মুক্ত করা হয়েছে গত বছর নভেম্বরে।

মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে গেইমাররা যুদ্ধ করতে পারবেন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে ।

মোট ১৮০ জন মুক্তিযোদ্ধা ও খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিচারণ শুনে এবং এ নিয়ে গবেষণার পর গেমমটি তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নিবার্হী কর্মকর্তা মাহাবুব আলম।

এটি বানাতে ২০১৪ সালে দল গঠন করে ম্যাসিভস্টার স্টুডিও। এরপর মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গবেষণা শুরু করে। প্রতি পর্বের গবেষণা শেষ হলে শুরু করে গেমের কারিগরি কাজ।

গেইমটির প্রথম পর্ব তৈরি  তৈরি করা হয়েছে ইতোমধ্যে। বাকি আরও ২০ পর্ব ২০২১ সাল নাগাদ ধারাবাহিকভাবে গেইমদের জন্য উন্মুক্ত করবে।

মাহাবুব আলম জানান,  গেমসটিতে নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের সব ঘটনা অবিকল রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। যেখানে যে কজন যেভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন, যেভাবে প্রতিরোধ গড়েছেন এবং মোকাবেলা করেছেন গেইমটিতে ঠিক সেভাবেই তা উপস্থাপন করা হয়েছে।

গেইমটি সিভি আকারে পাওয়া যাচ্ছে ২০০ টাকা মূল্যে। এ ছাড়া অনলাইনে  ঠিকানা থেকে ডাউনলোড করে খেলা যাবে 

 

Battele-of-71-techshohorp

ব্যাটেল অব ৭১
২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওয়াসিইউ টেকনোলজি মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ওপর প্রথম পূর্ণাঙ্গ কম্পিউটার গেইম ‘ব্যাটেল অব ৭১’ তৈরির কাজ শুরু করে। দীর্ঘ তিন বছর কাজের পরে ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে উন্মুক্ত করা হয় এটি।

গেইমটিতে প্রথমবারের মত দেখা যাবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের ত্রিমাত্রিক মডেল, যা আগে কোনো গেইমে দেখা যায়নি।

১০ পর্বের গেইমটি শুরু হবে ২৫ মার্চ রাতের নিরীহ মানুষের উপর পাকবাহিনীর হামলার মধ্যে দিয়ে। এতে গেইমারকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে খেলতে হবে।

ঢাকা,কুষ্টিয়া,যশোরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাকবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ করে গেইমারকে দেশ স্বাধীন করতে হবে।

গেইমারকে সহযোগীতা করতে রয়েছে সহযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাপ্রবাহের ওপর নির্মিত গেইমটির প্রতি পর্বেই শিশুদের জন্য ঘটনাপ্রবাহগুলো লিখিত আকারে রয়েছে।

গেইম নিমার্তা প্রতিষ্ঠান ওয়াসিইউ টেকনোলজির পরিচালক ফয়সাল করিম জানান, ১৭ জন মিলে গেইমটি তৈরি করছে। তারা বেশ সাড়া পেয়েছেন। ইতোমধ্যে প্রায় সাড়ে তিন হাজার সিডি বিক্রি হয়েছে।

গেইমটিতে সব বয়সের পাশাপাশি ১৬ থেকে ২০ বছরের তরুণ-তরুণীদের আগ্রহ বেশি পাওয়া যাচ্ছে ।

ফয়সাল আরও বলেন, বর্তমানে গেইমটি শুধু ডেক্সটপ সংস্কণে পাওয়া যাচ্ছে। চলতি বছরেই অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য মোবাইল প্লাটফর্মে উন্মুক্ত করা হবে।

গেইমটি মূল্য ধরা হয়েছে ৪০০ টাকা। অনলাইনে এ ঠিকানায় গিয়ে সিডির জন্য অর্ডার করা যাবে ।

গেরিলা ৭১
এ গেইম তৈরি করে দেশীয় গেইম তৈরির প্রতিষ্ঠান ওয়েবপার্স। গেরিলা ৭১ নামে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ত্রিমাত্রিক মোবাইল গেইমটিতে মুক্তিযুদ্ধের দু’টি দুঃসাহসিক অপারেশনের মিশন তুলে ধরা হয়েছে।

একটিতে শহীদ রুমির সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন হামলার প্রেক্ষাপট নিয়ে `অপারেশন ক্র্যাক প্লাটুন` এবং অপরটি বীরপ্রতিক মোজাম্মেল হকের অভিযান নিয়ে `অপারেশন টু কিল মোনায়েম খান` তুলে ধরা হয়েছে।

গেইমারকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে খেলতে হবে। তবে গেইমটির গ্রাফিক্স খুব বেশি উন্নত নয়। তা হতাশ করতে পারেন অনেক গেইমারকে।

এ ঠিকানা  থেকে গেইমটি ডাউনলোড করে বিনামূল্যে খেলতে পারবেন অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা।

মুক্তিযুদ্ধ ৭১ 
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে রাজারবাগ পুলিশ লাইনের ঘরবাড়ি ও মানুষ। এরই মধ্যে এক মুক্তিযোদ্ধা রাইফেল হাতে গাছের আড়াল গুলি চালিয়ে যাচ্ছেন। একে একে লুটিয়ে পড়ছে পাক শত্রু সেনা। এটি ‘মুক্তিযুদ্ধ ৭১’ নামের একটি গেইমের শুরুর অংশ।

বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অনুদানে গেইমটি তৈরি করছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী সাখাওয়াত হোসেন নাদিম।

স্বাধীনতা যুদ্ধ নিয়ে তৈরি এ গেইমের মাধ্যমে মূলত ১৯৭১ এর অগ্নিঝরা দিনগুলোর ইতিহাসই তুলে আনা হয়েছে। ১৪ পর্বে গেইমারদের ১১টি সেক্টরে যুদ্ধ করতে হবে।

এ ছাড়াও তিনটি বিশেষ অভিযানে অংশ নিতে হবে। সেগুলো সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারলেই কেবল গেইমাররা পাবেন বিজয়ের স্বাদ।

এ ঠিকানা থেকে বিনামূল্যে ডাউনলোড করে স্মার্টফোনে খেলা যাবে গেইমটি।

libation-71-techshohor

লিবারেশন ৭১
মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে তৈরি এ গেইম বানিয়েছেন  টিম-৭১’ নামে একটি সংগঠনের তরুন ডেভেলপাররা।

১৯৭১ সালে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর সাথে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর্টভূমি নিয়ে গেইম তৈরি করা হয়েছে। এটি ফার্স্ট পারসন শ্যুটার গেইম।

মূল চরিত্রে রয়েছেন মুক্তিযোদ্ধারা। রয়েছে ১৬টি মিশন। মিশনগুলোর সময়কাল ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ‘ক্রাই ইঞ্জিন-থ্রি’ গেম ইঞ্জিনে ডেভেলপ করা হয়েছে ‘লিবারেশন-৭১’।

টিম-৭১’ সংগঠনটির সদস্য সংখ্যা ৪০ জন। তরুণ প্রজন্মের কাছে দেশের মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস পৌঁছে দিতে এবং তাদের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের সত্যিকার চেতনাকে জাগিয়ে তোলার লক্ষ্যে গেইমটি তৈরি করা হয়েছে বলে জানান নির্মাতারা।

এ ঠিকানা থেকে কম্পিউটার সংস্করণের গেইমটি ডাউনলোড করে বিনামূল্যে খেলা যাবে।

উন্মুক্ত হলো ‘মুক্তিযুদ্ধ ৭১’ গেইম

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্ভাবনী প্রকল্প থেকে অনুদান পাওয়া মোবাইল গেইম ‘মুক্তিযুদ্ধ ৭১’ এর পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ উন্মুক্ত করা হয়েছে।

স্বাধীনতা দিবসে গেইমটি অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের প্লাটফর্ম গুগল প্লে-স্টোরে পাওয়া যাচ্ছে। তবে এর আগে গত ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের উপর নির্মিত গেইমটির ডেম্যু সংস্করণ প্লে-স্টোরে ছাড়া হয়েছিল।

আইসিটি বিভাগের অনুদান পেলেও গেইমটি কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই প্লে-স্টোরে ছাড়া হয়েছে।

গেইমটির তৈরি করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী সাখাওয়াত নাদিম।

muktijudhdho 71 (4)

সাখাওয়াত নাদিম টেকশহর ডটকমকে বলেন, আইসিটি বিভাগের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যেই আমরা গেইমটির পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ ছাড়তে পেরেছি। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস থেকেই যেকোনো অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারী গেইমটি প্লে-স্টোর থেকে বিনামূল্যে ডাউনলোড করতে পারবেন।

এর  আগে গতবছরের ১৩ ডিসেম্বর আইসিটি বিভাগে ‘মুক্তিযুদ্ধ ৭১’ গেইমটি খেলে দেখেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। তখন তিনি গেইমটি স্বাধীনতা দিবসে উন্মুক্ত করার জন্য বলেন। সেখানে গেইমটির গ্রাফিক্স কাজ, গেইমটিতে থাকা বিভিন্ন ইতিহাস সম্পর্কে জানার পদ্ধতির প্রশংসা করেন জয়।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্ভাবনী প্রকল্প থেকে নয় লাখ ৬৯ হাজার টাকা অনুদানে গেইমটি তৈরি করা হয়েছে।

এই গেইমের প্রোগ্রামের ভাষা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে সি শার্প ও জাভা স্ক্রিপ্ট। এছাড়াও ম্যাক, লিনাক্স, ফেইসবুক,আইফোন ও উইন্ডোজ ফোনে খেলার উপযোগী করে তৈরি করা হচ্ছে গেইমটি।

ইমরান হোসেন মিলন