ভ্রমণ সহায়ক ৫ অ্যাপ

তুসিন আহমেদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের পরের দিন থেকে অনেকেই রাজধানীর বাইরে ছুটি কাটাতে যেতে চান। সামাজিকতা শেষে ঢাকাতেও ঘুরে বেড়াতে চান অনেকে। কোথায় যাবেন এমন গন্তব্যের পরিকল্পনা এখনও যাদের করা বাকি তাদের কাজে লাগবে বেশ কিছু অ্যাপ।

স্মার্টফোনের এ যুগে অ্যাপের মাধ্যমে জেনে নিতে পারবেন দেশে ও দেশের বাইরে ঘুরতে যাওয়ার বিভিন্ন ভ্রমণ স্থান সম্পর্কে।

আপনার ভ্রমণ পরিকল্পনা সাজাতে ও ভ্রমণে কাজে লাগতে পারে এমন পাঁচ অ্যাপ সম্পর্কে জানাতে এ প্রতিবেদন।

Google as Travel guide-2-TechShohor

ট্রিপনারি
আপনি নিশ্চয়ই ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করেন। জানতে চান নতুন ভ্রমণ স্পট সম্পর্কে।সেখানে যাওয়া-আসাসহ আনুষঙ্গিক খরচইবা কেমন হতে পারে, সেটিও জানতে চান।

এমন সব প্রশ্নের উত্তরের খোঁজে ইন্টারনেট চষে বেড়াচ্ছেন কিংবা ভ্রমণবিষয়ক সাইট, সংবাদপত্র, ম্যাগাজিন ঘুরে ঘুরে তথ্য খুঁজছেন। তাদের জন্য সুখবর হলো  ভ্রমণবিষয়ক নিত্য নতুন তথ্য ও প্রশ্নের সমাধান নিয়ে হাজির হয়েছে ‘ট্রিপনারি’।

অ্যাপটির দারুণ ইন্টারফেস এক নজরেই পছন্দ হবে। ব্যবহারকারীরা ভ্রমণের জন্য নতুন স্থান আবিষ্কার করতে পারবেন। এটির মাধ্যমে ভ্রমণের জন্য পছন্দসই জায়গাটি বাছাই করে রাখা যাবে।

ট্রিপনারি ওই জায়গার ভ্রমণ ব্যয় কমে এলে ব্যবহারকারীকে তা নিজে থেকেই অবহিত করবে। এটিতে একই সঙ্গে রয়েছে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে ভ্রমণ বাজেট বানানোর অপশনও।

অফলাইনেও কাজ করবে এটি। বর্তমানে আইওএস ডিভাইসের জন্য অ্যাপ্লিকেশনটি রয়েছে। তবে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, দ্রুত তারা অ্যান্ড্রয়েডের জন্যও সংস্করণ বানাবে।

এ ঠিকানা থেকে এটি ডাউনলোড করা যাবে।

বিডি ট্যুর গাইড
দেশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানের তথ্য পাওয়া যায় এ অ্যাপে। কিভাবে এসব স্থানে যেতে হবে, কোথায় থাকতে হবে, যেতে কতক্ষণ লাগবে ইত্যাদি সব তথ্য জানা যাবে অ্যাপটির মাধ্যমে।

চলতি পথে ভ্রমণসংক্রান্ত অনেক সমস্যার সমাধানও মিলবে এতে। রয়েছে সার্চ সুবিধা।

পছন্দের স্থানের নাম লিখে সার্চ করা যাবে। ইন্টারনেট ছাড়াও সম্পূর্ণ অফলাইনে কাজ করবে অ্যাপটি।

অ্যাপটিতে রয়েছে টেক্সট কপি ও তা শেয়ার করার সুবিধা।

বাংলায় তৈরি অ্যাপটি এ ঠিকানা থেকে ডাউনলোড করে ব্যবহার করা যাবে।

ঢাকার দর্শনীয় স্থান
ঐতিহ্যের কারণে রাজধানী ঢাকায় রয়েছে অনেকগুলো দর্শনীয় স্থান। এ স্থানগুলো কবে বন্ধ বা কবে খোলা, তা জানা না থাকায় অনেকেই অসময়ে সেখানে গিয়ে বিপাকে পড়েন।

‘ঢাকার দর্শনীয় স্থানসমূহ’ নামের অ্যাপ থেকে জানা যাবে স্পটগুলোর নির্দিষ্ট সময়সূচি।

একই সঙ্গে জানা যাবে জাতীয় জাদুঘর, চিড়িয়াখানা, লালবাগ কেল্লা, আহসান মঞ্জিলের মতো দশর্নীয় স্থানের ইতিহাস ও সময়সূচি।

স্পটভেদে টিকিটের মূল্য কত সেটাও জানা যাবে অ্যাপটি থেকে। অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা বিনা মূল্যে অ্যাপটি এ ঠিকানা থেকে ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে পারবেন।

Robi Traveler App-techshohor

রবি ট্রাভেলার
বিদেশ ভ্রমণকারীদের রোমিং সেবা দেওয়ার জন্য টেলিকম সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান রবি বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো চালু করেছে ‘রবি ট্রাভেলার’।

অ্যাপটির মাধ্যমে রবি গ্রাহকরা স্থানীয় ও রোমিং বিল, ব্যবহারের পরিমাণ, যে দেশে যাবেন সেখানকার রেটসহ বেশ কিছু তথ্য জানতে পারবেন।

এ ছাড়া এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক রোমিং সেবা গ্রহণসংক্রান্ত তথ্যাবলি ও রবি রোমিং হেলপলাইনেও যোগাযোগ করতে পারবেন।

অ্যাপটি আপাতত অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। গুগল প্লের এ ঠিকানা থেকে এটি ডাউনলোড করা যাবে।

মেডিসিফাই
ঘোরাঘুরির আনন্দে সময়মতো ওষুধ খেতে ভুলে যান? কিংবা ভ্রমণকালে চিকিৎসকের সাক্ষাতের সময় ভুলে যাওয়ার আশংকা আছে?

এসব ছোটখাট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সমাধান মিলবে ‘মেডিসিফাই’ নামের অ্যাপে।

ব্যবহারকারীর যখন যে তথ্যের দরকার হবে, সময়মত স্মার্টফোনের স্বয়ংক্রিয় অ্যালার্মের মাধ্যমে তা জানিয়ে দেবে মেডিসিফাই।

আইফোন বা অ্যান্ড্রয়েড ফোনে মেডিসিফাই অ্যাপটি ইনস্টল করার পর ওপরে ডানদিকের মেন্যু থেকে রোগীর তথ্য যোগ করা যাবে।

‘পেসেন্ট’ ট্যাবটি নির্বাচন করে খুব সহজে জন্ম তারিখ, রক্তের গ্রুপ লিখে আলাদা আলাদা রোগীর প্রোফাইল বানানো যাবে।

এসএমএস নোটিফিকেশন পাওয়ার জন্য মোবাইল নম্বর দিয়ে সেটা সক্রিয় করে দিলেই হবে। এ ঠিকানা থেকে অ্যাপটি ডাউনলোড করে নেওয়া যাবে।

সফল ট্রাভেল ব্লগার হওয়ার ৭ টিপস

ফারজানা মাহমুদ পপি, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ঈদের সময় মজা করে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। দারুণ সব জায়গায় যাচ্ছেন। মজার সব অভিজ্ঞতা হচ্ছে। এর মধ্যে কয়েকজন সেগুলো তুলে ধরছেন অনলাইন। এ থেকে আয়ও করছেন বেশ। স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে- তাই না? তবে এটি স্বপ্ন নয়, বাস্তব। বিশ্বব্যাপী ভ্রমণ ব্লগের বড় বাজার রয়েছে, এর চাহিদাও বাড়ছে।

আপনি যেখানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তার গল্পের ঢংয়ে তুলে ধরুন। ভ্রমন সম্পর্কে জানান। পাঠক আসবেই, যা টেনে নিয়ে আসবে বিজ্ঞাপনও। এ থেকে আয় হবে বড় অংকের অর্থ।

একজনের ভ্রমণ ব্লগারের গল্প বলি। ক্রিস্টি উডো নামের সান ডিয়াগো শহরের ৩৬ বছর বয়সী এক নারী ২০১০ সালে তার ভ্রমণ ব্লগ শুরু করেন। এর আগে তিনি নিজের হিসাবরক্ষণ ব্যবসার আর্থিক উপদেষ্টা ছিলেন।

travel-blogging-tips-TechShohor

প্রথমদিকে ব্লগ লিখে বিখ্যাত হয়ে ওঠা এ পর্যটক একটু কম উৎসাহী ছিলেন। ধীরে ধীরে তিনি অকুতোভয় গতিতে এগিয়ে চলেছেন। গত ছয় বছরে তিনি ভ্রমণ ব্লগার ও ফটোগ্রাফার হিসেবে বিশ্বভ্রমণ করেছেন। গত বছর লাখ ডলার ছিল তার বার্ষিক আয়।

বলছিলাম বিশ্বব্যাপী ভ্রমণ ব্লগের বড় বাজার রয়েছে। তবে সবার জন্য সহায়ক ও তথ্যপূর্ণ ব্লগ লেখা সহজ নয়। এজন্য আপনাকে বেশ মনোযোগী হতে হবে। অর্জন করতে হবে দক্ষতাও।

সর্বশেষ ট্রাভেল ট্রেন্ডস রিপোর্ট অনুযায়ী, ৯২ শতাংশ সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী ট্রাভেল ব্লগের মাধ্যমে অনুপ্রাণিত হন। এ ছাড়া প্রায় ৭২ শতাংশ লোক সোশ্যাল মিডিয়ায় তার বন্ধুদের মতামতের ভিত্তিতে ভ্রমণে স্থান নির্ধারণ ও পরিবর্তন করে থাকে।

তাই আপনি যদি ভ্রমণ করতে ভালোবাসেন ও এ বিষয়ে সবাইকে জানানোর মাধ্যমে আয় করতে চান তাহলে একজন ভ্রমন বিষয়ক ব্লগার হিসেবে কাজ শুরু করতে পারেন। একজন সফল ভ্রমণ ব্লগার হওয়ার সাতটি গুরুত্বপূর্ণ টিপস দেওয়া হলো:

যথাযথ কারণ নির্ধারণ
আপনি একটি ভ্রমণ বিষয়ক ব্লগ লিখলেই সবাই পড়বে না। সেটির প্রতি অন্যদের আগ্রহ থাকতেও হবে। আপনাকে মনে করতে হবে আপনি যেখানে যাবেন সেখানকার ভ্রমণ খরচ, হোটেল ভাড়া সবাই আপনার এই লেখনীর মাধ্যমে উঠে আসতে হবে। আপনার ভবিষৎ রুপরেখা চূড়ান্ত করেই তবেই ভ্রমণ করুন ও লিখুন।

নিশ বিষয় বাছাই করুন
প্রথমদিন আপনি থাইল্যান্ডের একটি রাজকীয় হোটেল সম্পর্কে লিখলেন। দ্বিতীয়দিন আপনি বার্লিনের একটি সস্তা রেস্টুরেন্ট সম্পর্কে লিখলেন। বুঝতে পারছেন কি হবে? আপনার পাঠকরা দ্বিধান্তিত হবে।

আপনি যে বিষয়ে লিখবেন তাতে আপনার অভিজ্ঞ হতে হবে এবং নিজস্ব বিষয় থাকতে হবে। কারণ আপনার একটি নির্দিষ্ট বিষয় আপনাকে হাজারো ব্লগারের থেকে ভিন্ন করবে।

বিশ্বের সফল ব্লগাররা একটি নির্দিষ্ট বিষয় নিয়েই লিখে থাকেন। যেমন ফিমেল ট্রাভেল, ফ্যামিলি ট্রাভেল, লাক্সারি ট্র্যাভেল, ফ্যাশন ট্রাভেল, বাজেট ইউরোপ ট্রাভেল, সিনিয়র ট্রাভেল ইত্যাদি। তাই আপনাকে প্রথমেই আপনার কাঙ্খিত পাঠক খুঁজতে হবে এবং তাদের আগ্রহের বিষয়েই লিখতে হবে।

ভালো গল্প লিখুন
সবাই একটি ভালো গল্প পড়তে চায়। তাই যখনই আপনি কোনো বিষয়ে লিখবেন তার একটি ভালো গল্প থাকতে হবে। একটি সিনেমার মতোই আপনার শুরু, মধ্যকার কাহিনী ও শেষটা ভালো হওয়া চাই। একজন নায়ক এবং ভিলেনের বাইরে অন্যদের উত্তেজনাও আপনাকে চিন্তা করতে হবে।

Travel-girl-techShohor

সমাধান দিন
মানুষ একটি সমস্যার সমাধান চায়। তারা আদ্যোপান্ত জানতে চায়। তাই আপনার ব্লগের ডিজাইনটা হতে হবে একটি সমাধানের প্লাটফর্ম। ফলে একজন পাঠকের জানার আগ্রহের শেষটা পর্যন্ত আপনাকে আপনার ব্লগেই রাখতে হবে।

তাকে যেন একই বিষয়ের আরেকটি তথ্য পাওয়ার জন্য অন্য কোনো ব্লগে ভিজিট করতে না হয়। শুধু নিজের অভিজ্ঞতা না বলে পাঠক কিভাবে আরও ভালোভাবে তার ভ্রমণটি করতে পারে সেটি জানাতে হবে।

বিস্তারিত লিখুন
আবারও বলছি, শুধু আপনার ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখলে হবে না। পাঠকদের এর বিস্তারিত জানাতে হবে। লেখার পাশাপাশি আপনাকে যথেষ্ঠ ছবিও দিতে হবে। ক্ষুদ্র কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাদ দেওয়া চলবে না।

প্রয়োজনীয় তথ্য যেমন বিভিন্ন খরচ, কোন সময় খোলা থাকে, কিভাবে স্থানটি সহজে খুঁজে পাওয়া যাবে ইত্যাদি ছোট ছোট তথ্যও দিতে হবে।

হাল ছেড়ে দিবেন না
কিছুদিন লিখলেন। সফলতা না দেখে হাল ছেড়ে দিলেন এমনটি করলে চলবে না। ট্রাভেল ব্লগিংয়ে সফল হতে হলে অনেক পরিশ্রম ও সময় দিতে হয়। তাই হতাশ না হয়ে অপেক্ষা করতে হবে।

ভালো ফলোয়ার পেতে পরিমানের চেয়ে বরং মানের দিকে নজর দিন। সোশ্যাল মিডিয়া, সাবস্কাইবার, মেইলিং লিস্টসহ বিভিন্নভাবে ফলোয়ার অর্জন করুন। তবে অবশ্যই স্প্যামিং করবেন না। এতে হিতে বিপরীত হবে।

Lauren-Travel-blogger-techshohor

সাধ্যের বাইরে যাবেন না
আপনি একটি স্থানে না গিয়ে ইন্টারনেট ঘাটাঘাটি করে লিখে ফেললেন। এটি মোটেও করবেন না। একজন ভালো ট্রাভেল ব্লগার হতে খুব ভালো ব্লগিং কিংবা ওয়েব ডিজাইনে দক্ষতার প্রয়োজন নেই। এগুলো আস্তে আস্তে হয়ে যাবে। আপনাকে নিজের সাধ্যের মধ্যেই সর্বোচ্চ ভালোটা দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। তাই বলে থেমে থাকলে চলবে না।

আলবার্ট আইনস্টাইন বলেছিলেন, আপনি যদি পথে না নামেন তাহলে কিছুই ঘটবে না। তাই বুঝে শুনে, পরিকল্পনা করে, নিজের পছন্দের বিষয়বস্তু বুঝে এবং কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে নেমে পড়ুন। চেষ্টা থাকলে অবশ্যই সফল হবেন।

সিএনএন অবলম্বনে

ভ্রমণ আর ব্লগিং করে লাখপতি!

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : জনি ওয়ার্ড। ৩২ বছর বয়সী এই আইরিশ ট্রাভেল ব্লগারের বার্ষিক আয় ছয় লাখ ডলারের বেশি। তার পুরো এ আয় আসে ব্লগিং থেকে। পাশাপাশি তিনি সস্ত্রীক পুরো বিশ্ব ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

ঘুরে বেড়ানো আর লেখালেখিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন জনি। তবে তিনি এটাকে পেশা বলতে রাজি নন। তার ভাষায়, ভ্রমণের নেশা চেপে বসেছে তার মাথায়।

গল্পের শুরু ২০০৬ সালে। যুক্তরাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে থাইল্যান্ডে চলে যান জনি। সেখানে একটি কলেজে ইংরেজি পড়ানো শুরু করেন। বছর না পেরোতেই তিনি চলে আসেন অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে। শুরু করেন রেপ নামের এক ধরনের কাপড়ের ব্যবসা। প্রথমবারই তার লাভ হয় ২০ হাজার ডলার।

million-dollar-travel-blogger-techshohor

তবে একজন ব্যবসায়ী হিসেবে নিজেকে কখনোই দেখতে চাননি তিনি। তাই ব্যবসা করে কিছু টাকা জমানোর পর বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াতে শুরু করেন। এ সময়ই তিনি একটি ব্লগ চালু করেন। তিনি যখন ইথিয়োপিয়াতে ছিলেন তখন এই ব্লগ থেকে বিজ্ঞাপন বাবদ ৫০০ ডলার আয় করেন।

সেই থেকে শুরু। এরপর ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে তার আয়। ২০১১ সালের দিকে তিনি প্রতিমাসে দেড় থেকে দুই হাজার ডলার আয় করা শুরু করেন। ব্লগিংয়ে ভালো রোজগারের সুযোগটিকে আরও ভালোভাবে কাজে লাগানোর জন্য তিনি আরও কয়েকটি সাইট চালু করেন।

বর্তমানে তার মাসিক আয় ৫০ হাজার ডলারের মতো। এক মাসে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার ডলারের মত আয় করেছেন তিনি।

সিএনএন অবলম্বনে শামীম রাহমান

ভ্রমণে যে ৮ গ্যাজেট সঙ্গে নেবেন

তুসিন আহমেদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ঈদের ছুটিতে ঘুরে বেড়াতে চান অনেকেই। এবার টানা ৯ দিন রয়েছে সরকারি ছুটি। প্রযুক্তিময় এ সময়ে কিছু গ্যাজেট সঙ্গে নিলে তা ভ্রমণকে করবে আরও সহজ ও মজাদার।

ভ্রমণের সময় যেসব গ্যাজেট বেশি কাজে দেবে তা তুলে ধরতে এ প্রতিবেদন।

powerbank-techshohor

পাওয়ার ব্যাংক: ভ্রমণের সময় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয় হাতে থাকা স্মার্ট ডিভাইসটি নিয়ে। যাত্রার সময় সম্পূর্ণ চার্জ নিয়ে বের হলেও দিনের অর্ধেক সময় যেতে না যেতেই ডিভাইসের চার্জ ফুরিয়ে যায় অনেক সময়।

স্মার্টফোনের চার্জ দ্রুত শেষ হয়ে গেলে পড়তে হয় বিপাকে। গুরুত্বপূর্ণ অনেক কল মিস হয়ে যায়। তাই ভ্রমণের সময় অবশ্যই পাওয়ার ব্যাংক সঙ্গে নিতে হবে।

বাংলাদেশের বাজারে নানা ব্র্যান্ড ও নন-ব্র্যান্ডের পাওয়ার ব্যাংক পাওয়া যায়। রাস্তার পাশে ফুটপাত থেকে শুরু করে ছোটবড় সব দোকানেই পাওয়ার ব্যাংক পাওয়া যায়। বিশেষ করে প্রযুক্তি পণ্য বিক্রি করে এরূপ শপিং মলে খোঁজ মিলবে পাওয়া ব্যাংকের।

৪০০ টাকা থেকে শুরু করে ১০ হাজার টাকার অধিক মূল্যের পাওয়ার ব্যাংক রয়েছে বাজারে। শাওমি, এইচপি, ওয়ানপ্লাস, হুয়াওয়ে ইত্যাদি ব্র্যান্ডের পাওয়ার ব্যাংক রয়েছে। মূলত পাওয়ার ব্যাংকের মিলিঅ্যাম্পিয়ারের উপর নির্ভর করে  মূল্য। যত বেশি ব্যাটারি ক্ষমতা তত বেশি মূল্য।

ভ্রমণকালে ব্যবহারের জন্য অধিক মিলিঅ্যাম্পিয়ারের পাওয়ার ব্যাংক কেনা উচিত। এমন পাওয়ার ব্যাংক কেনা উচিত যেটি দিয়ে ফোনটিকে অন্তত ৩ বার চার্জ দেয়া যায়।

স্মার্ট বাইনোকুলার: পর্যটকরা বাইনোকুলার ব্যবহার করে থাকেন প্রকৃতি বা দূরের দৃশ্য দেখার জন্য। বাইনোকুলারের সাহায্যে পাখি দেখা বা সৌন্দর্য দেখার জুড়ি নেই। তাই ভ্রমণকালে বাইনোকুলার সঙ্গে রাখা জরুরি। তবে এই স্মার্ট যুগে রয়েছে স্মার্টবাইনোকুলার। এই ডিভাইসটি দিয়ে শুধু দূরের দৃশ্য দেখাই নয়, ছবি তোলা বা ভিডিও করা যায়। এতে রয়েছে জিপিএস সুবিধা।

যে কোন ধরনের বাইনোকুলার কেনার জন্য ঘুরে আসতে পারেন গুলিস্থান স্টেডিয়াম মার্কেটে । সাধারণত এক হাজার টাকা থাকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে ভালো মানের বাইনোকুলার পাওয়া যায়। এছাড়া স্মার্টবাইনোকুলার আইডিবি বা বসুন্ধরা শপিং মলে পাওয়া যাবে। তবে স্মার্টবাইনোকুলার অনলাইনেও কেনা যাবে।

biancular-techshohor

স্মার্টবাইনোকুলারের দাম সাধারণ বাইনোকুলার থেকে বেশি হবে। সাম্প্রতি সময়ে সনি ‘ডিভ৫০ভি’ নামে একটি স্মার্টবাইনোকুলার বাজারে এনেছে। বাংলাদেশি টাকায় এটির দাম ১ লাখ ৬০ হাজার।

হেডফোন: যাত্রা পথে বাস বা ট্রেনে দীর্ঘ সময় বসে থাকাটা বিরক্তের কারণ হতে পারে। তবে যদি গান শোনা যায় তাহলে কিছুটা বিরক্তি কমে যাবে। বাস বা ট্রেনে লাউড স্পিকারের গান শুনা যায় না, এতে করে অন্যের অসুবিধা হতে পারে। তাই প্রয়োজন একটি ভালো মানে হেডফোন।  ভ্রমণকাল হেডফোন অবশ্যই সঙ্গে নেয়া উচিত।

এমন ধরনের হেডফোন দরকার সেটায় খুব লাউড সাউন্ড হবে না এবং উন্নত মানের মিউজিক সুবিধা দিবে।  বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিভিন্ন ধরনের হেডফোন রয়েছে। ভ্রমণের ক্ষেত্রে  ব্লুটুথ হেডফোন কেনা উচিত। তাহলে তারের ঝামেলা থাকবে না।

ফুটপাত থেকে শুরু করে প্রযুক্তি পণ্য বিকিকিনির বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের তারযুক্ত ও ব্লুটুথ হেডফোন ১০০ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যায়।

পাওয়ার ও চার্জিং ক্যাবল: অনেকেই ডিভাইসের পাওয়ার ও চার্জিং ক্যাবল সঙ্গে নিতে ভুলে যান। এতে করে ডিভাইসের চার্জ শেষ হয়ে গেলে পড়তে হয় বিপাকে। বাজারে ‘অল ইন ওয়ান’ নামে চাজিং বা পাওয়ার ক্যাবল পাওয়া যায়। এটির সাহায্যে একই সঙ্গে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ফোনে চার্জ দেয়া যাবে। ২০০ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে দেশের প্রযুক্তি বাজারে এই ধরনের ক্যাবল কিনতে পাওয়া যায়।

ChargeAll-Universal-techshohor

এমপিথ্রি প্লেয়ার: যেখানে ভ্রমণে যাচ্ছেন সেখানেও হয়তো মন চাইবে গান শুনতে। তাই গান শোনার জন্য রাখতে পারেন এমপিথ্রি প্লেয়ার কিংবা আইপড। যাত্রা পথে স্মার্টফোন ব্যবহার করে গান শুনলে দ্রুত চার্জ শেষ হয়ে যায়। ফলে দীর্ঘ সময় ভ্রমণের সময় আপনি গান প্রেমিক হলে এমপিথ্রি প্লেয়ার বা আইপ্যাড সঙ্গে নেয়া উচিত।

বাজারে ব্র্যান্ড ও নন ব্র্যান্ড অনেক এমপিথ্রি প্লেয়ার রয়েছে। ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ১০ হাজারের অধিক মূল্যে এমপিথ্রি প্লেয়ার বাজারে রয়েছে। ইলেকট্রনিক্সের দোকন থেকে শুরু করে প্রযুক্তি  বিকিকিনির শো-রুমে পাওয়া যাবে এমপিথ্রি প্লেয়ার।

স্মার্টওয়াচ: ভ্রমণের সময় কোন প্রাকৃতির দৃশ্য ছবি তোলা বা হাতে ভারি ব্যাগ হাতে থাকার সময় গুরুত্বপূর্ণ ফোনকল আসতে পারে। এমন সময় স্মার্টফোন পকেট থেকে বের করা কষ্টকর হয়ে পরে। হাতে যদি স্মার্টওয়াচ থাকে তাহলে পকেটে ফোন রেখেই কল রিসিভ করে কথা বলা যাবে। এছাড়া জিপিএস, ছবি তোলা, হার্টবিট সেন্সরসহ নানা সুবিধা রয়েছে স্মার্টওয়াচে। যা ভ্রমণকালে দারুণ কাজে লাগবে। তাই যাত্রা পথে স্মার্টওয়াচ সঙ্গে নেয়া উচিত।

স্যামসাং, সনি, এলজি, হুয়াওয়ে, অ্যাপলসহ নানা ব্র্যান্ডের স্মার্টওয়াচ বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। ব্র্যান্ডের স্মার্টওয়াচ ১৫ হাজার থেকে শুরু করে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত পর্যন্ত রয়েছে। এছাড়া নন ব্র্যান্ডের বিভিন্ন স্মার্টওয়াচ ২ থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে কেনা যায়। বসুন্ধরা সিটি শপিং মল, আইডিবি ভবনের পাশাপাশি দেশে থাকা বিভিন্ন অনলাইন ই-কমার্স ওয়েবসাইট থেকে কেনা যাবে স্মার্টওয়াচ।

smartwatch-techshohor

ক্যামেরা ও গোপ্রো: ভ্রমণে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় ও নিত্য সঙ্গী হলো ক্যামেরা। ভ্রমণকালে দশর্ণীয় স্থানগুলোকে ক্যামেরা বন্দি করে রাখতে চায় সবাই। এতে করে ভ্রমণের স্মৃতিগুলো হারিয়ে যায় না। স্মৃতি বন্দি করে রাখতে প্রয়োজন ক্যামেরার। তাই ভ্রমণকালে অবশ্যই ক্যামেরা নেয়া উচিত। বাজারে নানা ধরনের নানা ব্র্যান্ডের ক্যামেরা রয়েছে। ছবি তোলার জন্য বর্তমানে ডিএসএলআর ক্যামেরার প্রচলন বেশি।

ক্যানন ব্র্যান্ডের ক্যামেরা ৩৫ হাজার থেকে শুরু করে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকায় কিটলেন্সসহ পাওয়া যাবে।

১৫ হাজার থেকে শুরু করে ৫৮ হাজার টাকার মধ্যেই কেনা সম্ভব নিকনের কমপ্যাক্ট ক্যামেরা। ২৩ হাজার থেকে ৫৮ হাজার টাকার মধ্যেই পাবেন নিকনের কুলপিক্স অ, ঝ ৯৭০০, অডট১১০ (ওয়াটারপ্রুফ) এবং কুলপিক্স ঝ ৯৬০০ মডেলের ক্যামেরাগুলো। এছাড়া ফুজি, সনিসহ আরও অনেক প্রতিষ্ঠানের ক্যামেরা বিক্রি হচ্ছে দেশের বাজারে।

অ্যাডভেঞ্চার প্রিয়দের জন্য ছোট আকারের ক্যামেরা তৈরি করে গোপ্রো। এটি ব্যবহার করে চলার পথে বহনের ঝামেলা ছাড়াই মাথায় বা কোমড়ে গোপ্রো বেঁধে ছবি তোলা যাবে। গোপ্রো সম্পূর্ণ পানিরোধী হওয়ায় পানিতে চালানোর জন্য কোনো আলাদা কেসিং দরকার হয় না। গ্রোপ্রো ক্যামেরা ডিভাইসটির রেকর্ডকৃত দৃশ্য পিসিতে, মোবাইল অ্যাপে বা রিমোট কন্ট্রোল ডিভাইসে দেখার প্রয়োজন হয়। ভ্রমণের সময় ভিডিও ও ছবি তোলাকে আরও মজাদার ও আকর্ষণীয় করে তুলবে গোপ্রো।

gopro-techshohor

গোপ্রো ছাড়াও এরুপ একশন ক্যামেরা সনি, শাওমিসহ চীনের বিভিন্ন নন ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠান তৈরি করে থাকে। ২১ হাজার টাকা থেকে শুরু হয় এ ধরনের ক্যামেরা।

সেলফি স্টিক: বর্তমানে চলছে সেলফি উন্মাদনার যুগ।  বন্ধুদের আড্ডা থেকে শুরু করে ভ্রমণ কালে সেলফি তোলা যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে গ্রুপ ছবি তোলার জন্য সেলফি কদর বেশি। সেলফি তোলাকে আরও আকষর্ণীয় করে সেলফি স্টিক।

১০০ টাকা থেকে শুরু করে ২ হাজার পর্যন্ত বিভিন্ন দামের সেলফি স্টিক রয়েছে।  মোবাইল ফোনের দোকানগুলোতেই পাওয়া যায়।

ঈদের ছুটিতে ঘুরতে সহায়তা করবে যে অ্যাপ

তুসিন আহমেদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : টানা ঈদের ছুটি শুরু সময়ের ব্যাপার মাত্র। এবার নয় দিনের ছুটিতে অনেকের পরিকল্পনা করা ও টিকিট কাটা শেষ। যারা ভাবছেন ঢাকা ফাঁকা হলে তারপর বের হবেন, তারা এবার চিন্তাভাবনা করতে পারেন দূরে কোথাও বেরিয়ে যাওয়ার।

কোথায় যাবেন, কিভাবে যাবেন সেটা অবশ্য হাতে থাকা স্মার্টফোনের একটি অ্যাপ্লিকেশন থেকে জেনে নিতে পারেন। এক ক্লিকেই মিলবে ঘুরে বেড়ানোর তথ্যগুলো। তেমনি একটি অ্যাপ্লিকেশন হলো ট্যুর বিডি।

apps-tour-techshohor

এক নজরে অ্যাপ্লিকেশনটির ফিচারগুলো
এতে রয়েছে দেশের নানা স্থান ঘুরে বেড়ানোর স্থান সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ।

এয়ার টিকেট বা ট্রেনের টিকেট কেনার যাবতীয় তথ্যসহ যাতায়াতের বিবরণ রয়েছে এতে।

ঘুরতে গেলে কোথায় থাকতে হবে- এমন হোটেলের তালিকা ও যোগাযোগের ঠিকানা রয়েছে অ্যাপটিতে।

tour-apps

শুধু দেশ নয়, বিদেশ যেতেও টিকিট ও হোটেল বুকিং করা যাবে অ্যাপটির মাধ্যমে।

ইন্টারনেট ছাড়া সম্পূর্ন অফলাইনে ব্যবহার করা যাবে অ্যাপ্লিকেশনটি। ফলে একবার ডাউনলোড করা হলে পূরনায় আর ইন্টারনেট সংযোগের প্রয়োজন হবে না।

ব্যবহারকারীর এ ঠিকানা থেকে অ্যাপ্লিকেশনটির বিনামূল্যে ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে পারবেন।

চলছে অনলাইন ঈদ পর্যটন মেলা

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ঈদের আনন্দকে বাড়িয়ে দিয়ে আকর্ষনীয় অফারে দেশ-বিদেশে ভ্রমণের সুবিধা নিয়ে চলছে অনলাইন ঈদ পর্যটন মেলা। ভ্রমন লিমিটেড আয়োজিত এই অনলাইন মেলায় দেশের ২৫টি ট্যুর অপারেটর ও আড়াইশ হোটেল অংশ নিয়েছে।

১৫ জুন থেকে শুরু হওয়া এই মেলা আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত চলবে। এই আয়োজনের অংশীদার অনলাইন লেনদেন মাধ্যমে এসএসএল কমার্জ।

আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে বিভিন্ন আকর্ষণীয় ভ্রমণ অফার, হোটেল ও প্যাকেজ বুকিংয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা রয়েছে এই মেলায়। এই মেলা উপলক্ষে ট্যুর অপারেটররা নিয়ে এসেছে ভারত, নেপাল, ভুটান, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ ২৫ এর অধিক দেশে বিভিন্ন মূল্যমানের শতাধিক ঈদ ট্যুর প্যাকেজ।

Online Eid Tourism Festival-TechShohor

এছাড়াও রয়েছে ভিসা, ইমিগ্রেশন, ওমরাহ প্যাকেজ এবং মেডিকেল ট্যুরিজম বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য। এয়ার টিকেট এবং আন্তর্জাতিক হোটেল বুকিংয়েও রয়েছে বিশেষ ছাড়।

আর অগ্রিম বুকিং কিংবা লেনদেনের জন্য বিকাশ অথবা বাংলাদেশের যেকোনো ব্যাংকের ডেবিট এবং ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করা যাবে।

বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে র‍্যাফেল ড্র। এর মাধ্যমে ১০ জন বিজয়ী দেশ-বিদেশের ভ্রমন প্যাকেজ জিতে নিতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে ভ্রমণের ওয়েবসাইট ভিজিট করতে হবে।

ফারজানা মাহমুদ পপি

ভ্রমণে বিরূপ পরিবেশে টিকতে শেখাবে অ্যাপ

তুসিন আহমেদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : আপনি ভ্রমণ পিপাসু হলে দেশ বিদেশে ঘুরে বেড়ানোর সময় একবারের জন্যে হলেও নিশ্চই ঝুট ঝামেলায় পড়েছেন। হঠাৎ দুর্ঘটনা কিংবা অচেনা পথে বা বনে দিশা হারিয়ে ফেলা অস্বাভাবিক কিছু নয়। এমন পরিস্থিতিতে বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগতো দূরের কথা খাবারের ব্যবস্থাও নেই।

এমন বিরূপ পরিবেশে নিজেকে তখন দিশেহারা মনে হবে। তবে আপনার স্মার্টফোনের ছোট একটি অ্যাপ্লিকেশন ইন্সটল থাকলে বিভ্রান্ত হওয়ার বা ভয়ের কারণ নেই।

কিভাবে এ ভয়ংকর অবস্থার হাত থেকে রক্ষা পাবেন তা জানিয়ে দেবে অ্যাপটি। দারুণ কাজের এ অ্যাপ্লিকেশন হলো এসএএস সারবাইভাল গাইড (SAS Survival Guide)। অ্যাপটি বেঁচে থাকার পদ্ধতি শেখায়। বিরূপ পরিবেশে টিকে থাকার খুঁটিনাটি রয়েছে এতে।

Feel-Your-Feelings-techshohor

এক নজরে অ্যাপ্লিকেশনটির ফিচারগুলো
১. ব্রিটিশ স্পেশাল ফোর্সের একজন প্রশিক্ষকের একটি বই আছে একই নামে। সেটির ওপর ভিত্তি করেই অ্যাপটি তৈরি করা হয়েছে। ৪০০ পৃষ্ঠার সম্পূর্ণ বইটি রয়েছে অ্যাপটিতে।

২. শুধু টেক্সট নয়, বইটিতে রয়েছে বিরূপ পরিবেশে টিকে থাকার জন্য ১৬টি ভিডিও টিউটোরিয়াল।i

৩. এতে রয়েছে বিভিন্ন পশু-পাখির আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে সেগুলোর বিস্তারিত তথ্য।

৪. পাহাড়, বন, সমুদ্র থেকে শুরু করে বিষয়ভিত্তিক বিভিন্ন বিরূপ পরিবেশে কিভাবে বাঁচতে হবে তা শেখা যাবে অ্যাপটির মাধ্যমে।

৫. বিরূপ পরিবেশ বেঁচে থাকা বিষয়ক প্রশ্ন ও এর সমাধান।

৬. ভ্রমণের সময় প্রয়োজনীয় টুলগুলোর বিস্তারিত রয়েছে এতে।

চমৎকার এ অ্যাপ্লিকেশন অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা এ ঠিকানা থেকে ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে পারবেন। তবে এটি বিনামূল্যে পাওযা যাবে না। ৫.৯৯ মার্কিন ডলার দিয়ে কিনতে হবে।

আরও পড়ুন

ভ্রমণে গাইড যখন গুগল

তুহিন মাহমুদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : অনেককেই বলতে শোনা যায়, গুগল সব জানে। আর এই জানার মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনে মানুষের সঙ্গী হয়েছে গুগল। বাদ পড়েনি ভ্রমণও। ভ্রমণের সময় গুগল বিভিন্ন তথ্য, সেবার মাধ্যমে ব্যবহারকারীর ভ্রমণকে আরও সহজ এবং সুন্দর করে তুলছে।

বিশেষ করে যারা ভ্রমণপিয়াসী তাদের জন্য গুগলের বিভিন্ন সেবার কমতি নেই। স্থান চেনানো, ফ্লাইট বুকিং, ট্রেইন টিকিট ও কার ভাড়া থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় অনেক সেবা পাওয়া যায় গুগলের সহায়তায়। আর এই কাজগুলোর ক্ষেত্রে সবথেকে সহায়ক ‘গুগল নাউ’ ফিচারটি। গুগলের অ্যান্ড্রয়েড জেলিবিন অথবা এর পরের সংস্করণগুলোতে গুগল নাউ ফিচারটি আনা হয়েছে।

Google as Travel guide-TechShohor

ধরুন, আপনি একদিনের জন্য একটি হোটেলে থাকতে চান। গুগল নাউ’তে জিজ্ঞাসা করলেই একটি কার্ড আসবে, যেখানে হোটেলের নাম ছবি, ম্যাপ ও যোগাযোগ করার জন্য নাম্বার অথবা লিংক দেখাবে।

কার্ড সেটআপ করা
বিভিন্ন উপায়ে গুগল নাউ অ্যাকসেস করা যায়। আপনি যদি গুগল নাউ লাউঞ্চার ব্যবহার করে থাকেন তাহলে ফোনের হোমস্ক্রিণের নিচের দিকে সুইপ করলেই এটি চালু হবে।

আপনার ভ্রমণের সঙ্গী করতে প্রথমে গুগল নাউকে নিজের মতো করে সাজিয়ে নিতে হবে। এজন্য গুগল নাই চালু করে নিচের দিকে ডানপাশে থাকা তিনটি ডট বাটনে ক্লিক করতে হবে। সেখানে সেটিং অপশন আছে। আর সেটিংয়ে গেলে ফোন সার্চ, ভয়েচ সার্চ, নোটিফিকেশনসহ বেশ কয়েকটি অপশন রয়েছে, যেখান থেকে নিজের মতো করে সাজিয়ে নেওয়া যাবে।

আর এভাবে সাজিয়ে নেওয়ার পর গুগল আপনার আশেপাশের বিভিন্ন হোটেল, রেস্টুরেন্ট, শপিং মল, দোকানের তথ্য দেখাবে।

গুগল জানে আপনি কোথায় যাচ্ছেন
এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ভ্রমণের সময় সবচেয়ে বেশি কার্যকরী। ধরুণ আপনি কানাডাতে গেলেন। সেখানে গুগল এক্সচেঞ্জ রেট কার্ড দিবে। আবার যেসব দেশে ইংরেজি প্রধান ভাষা নয় সেখানে গুগলের ট্রান্সলেট পাওয়ার্ড কার্ড দেয়, যার মাধ্যমে ঐ অঞ্চলের ভাষা থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করে তথ্য দেখার সুযোগ দিবে। এছাড়া রয়েছে ওয়েদার কার্ড। যার মাধ্যমে শুধু বর্তমান অবস্থান নয়, পাশাপাশি আপনার পরবর্তী গন্তব্যস্থলের আবহাওয়ার খবরও সরবরাহ করবে গুগল।

Google as Travel guide-2-TechShohor

খাবার খেতে চান?
আগেই বলছিলাম, গুগল আপনার অবস্থান অনুযায়ী আশেপাশের হোটেল, রেস্টুরেন্টের তথ্য সরবরাহ করে। গুগল তাদের বিভিন্ন সেবা ও সোশ্যাল ডেটা ও রিভিউ থেকে আশেপাশে ভালোমানের খাবারের হোটেল, রেস্টুরেন্টের তথ্য দেয়। তাদের সঙ্গে যোগাযোগেরও তথ্য পাওয়া যায় এই সেবার মাধ্যমে।

আশেপাশে ঘুরতে চান?
আপনি যেখানে অবস্থান করছেন তার আশেপাশে আকর্ষনীয় জায়গাগুলোর তথ্যও পাওয়া যায় গুগল নাউয়ের মাধ্যমে। গুগলের প্যানোরোমিও সেবার মাধ্যমে সেসব স্থানের ছবিও দেখা যায়। ফলে ঐ জায়গাটিতে গেলে আপনি কি দেখতে পাবেন সেটি একঝলকেই আগেভাগে দেখে নিতে পারবেন।

উপরের এসব সেবা গুগল কিছু ব্যক্তিগত তথ্য নিয়েই সরবরাহ করে। তবে তার বিপরীতে অনেক সহায়ক তথ্য দেয় গুগল। যার মাধ্যমে আপনার ভ্রমণ আরও সহজ, সুন্দর ও মধুময় হবে।

মুসলিম পর্যটকদের জন্য বিশেষ সাইট

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : মুসলিম পর্যটকদের জন্য চালু হলো বিশেষ ওয়েবসাইট। বুধবার ‘হালাল ট্রিপস’ (HalalTrip.com) নামের সাইটটি চালু করেছে সিঙ্গাপুর ভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান। মুসলিমরা বিভিন্ন দেশে ভ্রমণে গেলে সেখানে হালাল খাবারের রেস্টুরেন্ট, মুসলিমবান্ধব আবাসিক হোটেল, কম খরচে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে যাতায়াতের উপায় বাতলে দেবে সাইটটি।

সাইটটির প্রধান নির্বাহী ফজল বাহারদিন এএফপিকে জানান, এটিই বিশ্বের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ফিচারসমৃদ্ধ ওয়েবসাইট, যা শুধু মুসলিমদের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। বিভিন্ন তথ্যসেবার পাশাপাশি সাইটটিতে বুকিংও সুবিধাও থাকছে বলে জানান তিনি।

halaltrips.com_pic

প্রতিষ্ঠানটির সিওও ডেনি বলডাক জানান, ২০১১ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী মুসলিম পর্যটকরা প্রতিবছর প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলার খরচ করে ভ্রমণে।২০২০ সালে খরচের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ১২৬ বিলিয়নে। তাই এই খাতকে বেছে নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরো জানান, এখন বিভিন্ন স্থানের ১০০০ হোটেলের বুকিং সুবিধা চালু করা হলেও জুনে এ সংখ্যা আরো বাড়বে।

সূত্র : ডন