ইন্টারনেটে ভ্যাট চায় না সরকারও

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ইন্টারনেটে ভ্যাট চায় না সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের সর্বোচ্চ ফোরাম ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্স।

আর এই ভ্যাট কমাতে বা অবলোপন করা বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দিয়েছে টাস্কফোর্স নির্বাহী কমিটি। যেখানে বাস্তবায়নকারী হিসেবে অর্থ মন্ত্রণালয়কেও উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ২৭ মার্চ ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্সের নির্বাহী কমিটির সভায় সদস্যরা ইন্টারনেটের বিলের উপর যে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয় তা কমানো বা অবলোপন করার আলোচনা করেন। বিষয়টি উত্থাপন করেন তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার।

এ সময় সভায় উপস্থিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (বোর্ড প্রশাসন) এস এম আশফাক হুসেন জানান, ‘এ বিষয়টি ভ্যাট আইন দ্বারা নির্ধারিত। তবে নতুন ভ্যাট আইনটি ২০১৭ সালের জুলাই হতে কার্যকর হবে।’

এরপর নির্বাহী কমিটি রাজস্ব বোর্ডকে এই ভ্যাট কমানো বা অবলোপনের নির্দেশনা দেন। টাস্কফোর্সের ৭ম ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী।

ইন্টারনেটের উপর ভ্যাট তুলে দেয়ার দাবি সাধারণ মানুষসহ দেশের তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিকম খাতের সকল ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাদের।

internet service providers-techshohor

দেশের সফটওয়্যার খাতের শীর্ষ সংগঠন বেসিস-এর সভাপতি মোস্তাফা জব্বার টেকশহরডটকমকে জানান, ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ইন্টারনেট হচ্ছে মহাসড়ক। এই মহাসড়কে টোল থাকা উচিত নয়। জনগণের ইন্টারনেট ব্যবহারে কোনোভাবেই ভ্যাট থাকবে না। এই ভ্যাট তুলে দেয়ার দাবি দীর্ঘদিনের এবং সকলের।

এই নির্দেশনার জন্য টাস্কফোর্সকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, এখন বাস্তবায়নকারীরা এর গুরুত্ব বুঝবেন আশা করছি।

অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকমিউনিকেশনস অপারেটরস অব বাংলাদেশ (অ্যামটব) এর মহাসচিব এবং প্রধান নির্বাহী টিআইএম নূরুল কবীর টেকশহরডটকমকে জানান, ইন্টারনেট ব্যবহারের ৯৫ শতাংশ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে হয়ে থাকে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন ধাপে ভ্যাট দেয়া হচ্ছে। যার চাপ প্রান্তিক মানুষের উপর পড়ছে। মোবাইল ইন্টারনেটের উপর ভ্যাট ও ট্যাক্স রহিত করা উচিত।

ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) এর সভাপতি এম এ হাকিম টেকশহরডটকমকে বলেন, ইন্টারনেট হতে সকল ভ্যাট-ট্যাক্স উঠিয়ে দেয়া হোক। এই দাবি দীর্ঘদিনের। যদি একান্তই ভ্যাট একেবারে তুলে না নেয়া যায় তাহলে অন্যান্য ইউটিলিটি সাভিসে যেমন নেয়া হয় ইন্টারনেটের ক্ষেত্রেও তেমন নেয়া হোক।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্য) এর সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ হোসেন টেকশহরডটকমকে জানান,  আউটসোর্সিং সেবার ক্ষেত্রে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ইন্টারনেট। এখন এই ইন্টারনেট কিনতে হচ্ছে ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিয়ে আর ক্লায়েন্টের কাছে সেবা হিসেবে নিতে পারছি সাড়ে ৪ শতাংশ। মওকুফ করলে খুবই ভাল কিন্তু যদি তা না হয় তাহলে এটা অন্তত সাড়ে ৪ শতাংশ করা হোক।

বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস) এর পরিচালক শাহিদ-উল-মুনীর টেকশহরডটকমকে জানান, ইন্টারনেটের ভ্যাট মুক্তের দাবির বিকল্প নেই। দেশের তথ্যপ্রযুক্তি ইকোসিস্টেমে এই ইন্টারনেটের ভ্যাট অনেককিছুর খরচ বাড়িয়ে দেয়। এটি থাকা উচিত নয়।

ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) এর সভাপতি রাজীব আহমেদ টেকশহরডটকমকে জানান, ই-কমার্স খাতের অন্যতম ভিত্তি হল এই ইন্টারনেট। সেখানে ভ্যাট একটা প্রতিবন্ধকতা হিসেবেই আছে। এটি তুলে নিলে ই-কমার্সের সম্প্রসারণ দ্রুতগতির হবে।

এমবিলিয়ন্থ জিতেছে বাংলাদেশের তিন উদ্যোগ

তুসিন আহমেদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : মোবাইল খাতের উদ্ভাবন নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় পুরস্কার ‘এমবিলিয়ন্থ’ জিতেছে বাংলাদেশের তিন উদ্যোগ।

তিনটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে এই উদ্যোগগুলোকে বিজয়ী হিসেবে নির্ধারণ করেছে এমবিলিয়ন্থ কর্তৃপক্ষ।

এবারের আয়োজনে জনবসতি এবং নগরায়ণ বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) উদ্যোগের ‘বাংলাদেশ ইমারজেন্সি সার্ভিসস’ প্রকল্প। বিজনেস অ্যান্ড কমার্স বিভাগে দেশে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে গড়ে ওঠা দেশীয় মার্কেটপ্লেস অ্যাপবাজার এবং সরকার ও নাগরিক সম্পৃক্ততা বিভাগে ভ্যাট চেকার অ্যাপ্লিকেশন যা সরকারের কোষাগারে জনগণের দেওয়া ভ্যাট জমা পড়ছে কিনা তা জানার মোবাইল অ্যাপ এই পুরস্কার পেয়েছে।

আরও পড়ুন: এমবিলিয়ন্থ পেল অ্যাপবাজার

mbillion-techshohor

শনিবার ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীদের এমবিলিয়ন্থ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় মোবাইল প্রযুক্তির মাধ্যমে সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখায় এই পুরস্কার দেওয়া হয়।  ২০১০ সাল থেকে প্রতি বছর দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে প্রতিশ্রুতিশীল মোবাইল উদ্যোগগুলোকে এই স্বীকৃতি জানিয়ে আসছে কর্তৃপক্ষ।

ভারতে অবস্থানরত অ্যাপবাজারের প্রধান নিবার্হী শফিউল আলম টেকশহরডটকমকে জানান, আন্তর্জাতিক এমন একটি আয়োজনে আসতে পেরে ভালো লাগছে। অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। পুরস্কার পাওয়ার অনুভুতি সব সময় আনন্দের। চেষ্টা করবো অ্যাপবাজারকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে।

উল্লেখ্য ২০১৫ সালে বিকাশ লিমিটেড, আইসিটি বেইজড লাইভস্টক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম,  বইপোকা, শিক্ষক ডটকম, মায়া আপা এবং  টকিং আই’স প্রকল্প মোবাইল খাতের উদ্ভাবন নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় পুরস্কার‘এমবিলিয়ন্থ’ জিতেছিল।

অনলাইনে পাওয়া যাবে ভ্যাট সম্পর্কিত তথ্য

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ভ্যাট আদান-প্রদান সম্পর্কিত তথ্য ও অভিযোগ জানানো যাবে অনলাইনের মাধ্যমে। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি চুক্তি করেছে বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং ও আইটিইএস সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান ডিজিকন টেকনোলজিস লিমিটেড এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পের কার্যালয়ে কন্টাক্ট সেন্টার এবং সেন্ট্রাল প্রসেসিং সার্ভিসেস শীর্ষক এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল হাসান এবং ডিজিকন টেকনোলজিস লিমিটেডের পরিচালক আজমল হক আজিম চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন।

চুক্তির ফলে সাধারণ মানুষ ভ্যাট আদান-প্রদান সংক্রান্ত সব তথ্য নির্দিষ্ট হটলাইনের মাধ্যমে জানতে পারবেন। কোনো অভিযোগ থাকলে তা দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে জানাতে পারবেন। হটলাইন সার্ভিসটি কর্মদিবসে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চালু থাকবে।

vat MoU-techshohor

এছাড়াও এই প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে ১২টি ভ্যাট অনলাইন সার্ভিস সেন্টার স্থাপিত হবে। এর মধ্যে ঢাকায় পাঁচটি, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, খুলনা, রাজশাহী, কুমিল্লা ও রংপুর শহরে একটি করে শাখা থাকবে। এসব সার্ভিস সেন্টার থেকে অনলাইনে ভ্যাট ফরম পূরণসহ অন্যান্য তথ্য ও সুবিধা পাওয়া যাবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব নজিবুর রহমান।

শামীম রাহমান

আরও পড়ুন: 

কম্পিউটার পণ্যে ভ্যাট প্রত্যাহার

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : এখন থেকে কম্পিউটার পণ্যে আমদানি শুল্ক ও মূসক থাকছে না। সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কম্পিউটার পণ্যের ওপর থেকে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট প্রত্যাহারের এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

এরবিআর চেয়ারম্যান ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. নজিবুর রহমান স্বাক্ষরিত এ প্রজ্ঞাপনে কম্পিউটার-সংশ্লিষ্ট নির্দিষ্ট পণ্যগুলো উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ‘…বর্ণিত পণ্যসমূহের ওপর আরোপনীয় আমদানি শুল্ক, যে পরিমাণে মূল্যভিত্তিক ২ %-এর অতিরিক্ত হয় সেই পরিমাণ, এবং সমুদয় সম্পূরক শুল্ক (যদি থাকে) ও সমুদয় মূল্য সংযোজন কর হইতে অব্যাহতি প্রদান করিল।…
computer-products-VAT-free-TechShohor

ভ্যাটমুক্ত পণ্যগুলো হলো- কম্পিউটার প্রিন্টার, কম্পিউটার প্রিন্টারের জন্য টোনার/ইঙ্কজেট কারট্রিজ ও প্রিন্টারের অন্যান্য যন্ত্রাংশ; কম্পিউটার এবং কম্পিউটারের আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ; মডেম, ইথারনেট কার্ড, নেটওয়ার্ক সুইচ, হাব ও রাউটার; ডেটাবেইজ, অপারেটিং সিস্টেম, ডেভেলপমেন্ট টুলস, অন্যান্য ম্যাগনেটিক মিডিয়া, আনরেকর্ডেড অপটিক্যাল মিডিয়া, অ্যান্টিভাইরাস ও নিরাপত্তা সফটওয়্যার, ফ্ল্যাশ মেমোরি কার্ড অথবা একইরকম কার্ড, প্রক্সিমিটি কার্ড ও ট্যাগ; ডেটা প্রসেসিং সিস্টেমে ব্যবহৃত কম্পিউটার মনিটর, ২২ ইঞ্চি পর্যন্ত কম্পিউটার মনিটর এবং কম্পিউটার প্রিন্টারের রিবন।

দেশের তথ্যপ্রযুক্তির সম্প্রসারণের ১৯৯৮-৯৯ অর্থবছর থেকে কম্পিউটার পণ্য আমদানি শুল্কমুক্ত ছিলো। কিন্তু খুচরা পর্যায়ে ভ্যাটের বিষয়ে কোনো বিধি না থাকায় ব্যবসায়ীদেরকে ‘প্যাকেজ ভ্যাট’ হিসেবে বছরে ১১ হাজার টাকা করে দিতে হতো।

তবে গতবছরের শেষের দিকে ব্যবসায়ীদের হতাশ করে এনবিআর। হঠাৎ করেই খুচরা পর্যায়ে কম্পিউটার বিক্রির ওপর ৪ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়। এরপর থেকে ব্যবসায়ী ও তথ্যপ্রযুক্তি সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে এই ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানানো হচ্ছিলো। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ও দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে এগিয়ে নিয়ে যেতে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ভ্যাট প্রত্যাহারের এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

আরও পড়ুন :

সরকার ভ্যাট পেল কিনা জানাবে অ্যাপ

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সরকারের কোষাগারে জনগণের দেওয়া ভ্যালু অ্যাডেড ট্যাক্স (ভ্যাট) জমা পড়ছে কিনা তা জানাবে মোবাইল অ্যাপ।

কেনাকাটার পর দোকান থেকে বিলের রশিদ দেয় বিক্রেতারা। সেখানে লেখা ভ্যাট নিবন্ধন নম্বর ঠিক আছে কিনা বা ক্রেতাদের দেওয়া ভ্যাট সরকারি কোষাগারে জমা হচ্ছে কিনা তা জানা যাবে ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন অ্যাপ ‘চেকার’ এর মাধ্যমে।

এজন্য ক্রেতাকে প্রথমে অ্যাপটি ডাউনলোড করেত হবে। অ্যাপ ওপেন করলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটির বিআইএন নম্বর চাইবে। নম্বরটি দিলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটির ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঠিক আছে কিনা তা যাচাই করতে পারবেন।

mobile app checker

অ্যাপটি সরকারের রাজস্ব বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তৈরি করা হয়েছে। তাই অ্যাপটির ফলাফল যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য।

অ্যানড্রয়েড ফোন ব্যবহারকারীরা গুগল প্লেস্টোর থেকে অ্যাপটি ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।

ইমরান হোসেন মিলন

ই-কমার্সে ভ্যাট পাকাপোক্ত হচ্ছে

টেক শহর কনটেন্ট কাউনিন্সলর : ই-কমার্সকে প্রথমবারের মতো সুনির্দিষ্ট করে ভ্যটের আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

২০১৫-১৬ অর্থবছরে ই-কমার্সে মূল্য সংযোজন করের (ভ্যাট) হার হবে ৪ শতাংশ।

এতোদিন এই ই-কমার্স খাতকে তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর সেবার সাথেই ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে হতো।

নতুন বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়, অনলাইনে পণ্য এবং সেবার বিক্রয় বা সরবরাহ কার্যক্রম বর্তমানে একটি স্বীকৃত জনপ্রিয় ব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বর্তমানে মূল্য সংযোজন কর অব্যাহতি না থাকলেও এই সেবাখাতের সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা মূসক ব্যবস্থায় বর্তমানে নেই। এ ধরণের কার্যক্রমকে মূসকের আওতায় সুনির্দিষ্ট করার লক্ষ্যে এর ব্যাখ্যা নির্ধারণসহ ৪ শতাংশ হারে মূসক আরোপের প্রস্তাব করছি।

বেসিস সভাপতি,এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক এবং দেশের সুপরিচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান এখনিডটকমের প্রধান নির্বাহী ও সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান বেঞ্চমার্ক ই-জেনারেশন লিমিটেডের চেয়্যারম্যান শামীম আহসান বলেন, ই-কমার্স ভ্যাট শূণ্য করার দাবি ছিলো আমাদের। এখন এ খাতে সুনির্দিষ্ট করে ভ্যাট বসানোটা ই-কমার্স খাতের জন্য  ভাবনার বিষয়।

Online-Shopping-Amazon-Google-TechShohor

বেসিসের সাবেক সভাপতি ও ই-কর্মার্স বিশেষজ্ঞ ফাহিম মাশরুর টেকশহরডটকমকে বলেন,এই ভ্যাট আরোপের ফলে ই-কমার্স খাতকে নিরুৎসাহিত করা হলো। এখনও আমরা ৪দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাট দেই তথ্যপ্রযুক্তি সেবা খাত হিসেবে। কিন্তু এখন ই কমার্স খাত হিসেবে দিতে হবে।

আমাদের দাবি ছিলো এটি শূণ্য করার। সাধারণ দোকান বা সুপার শপগুলো গড়ে এর থেকে আরো কম ভ্যাট দিয়ে থাকে। কিন্তু এখন সম্ভাবনাময় এই খাতের গতি ধীর হয়ে আসবে বলে উল্লেখ করেন বিডিজবসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও আজকের ডিলের এই চেয়ারম্যান।

আল-আমীন দেওয়ান

মোবাইল সেট আমদানিকারকরা অর্থমন্ত্রীর কাছে যাচ্ছেন

জামান আশরাফ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : প্রস্তাবিত বাজেটে মোবাইল ফোন সেট আমদানিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রস্তাব প্রত্যাহারের দাবিতে রোববার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন মোবাইল হ্যান্ডসেট আমদানীকারকরা।

রোববার দুপুর আড়াইটায় স্যামসাংসহ অন্য আমদানিকারকদের সময় দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তবে সিম প্রতিস্থাপনের ওপর নতুন করে আরোপিত একশ টাকা কর কমানোসহ হ্যান্ডসেটের ভ্যাট বিষয়ে মোবাইল ফোন অপারেটররা কথা বলতে চাইলেও এখনও তারা অর্থমন্ত্রীর সময় পাননি বলে জানা গেছে।

smart phones-techshohor

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নির্ধারিত রয়েছে মূলত স্যামসাং বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক চুন সু মুনের সঙ্গে।

গত ৫ জুন সংসদে অর্থমন্ত্রী আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশ কালে মোবাইল হ্যান্ডসেট আমদানিতে নতুন করে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করেছেন। একই সঙ্গে ৫ শতাংশ অ্যাডভান্স ইনকাম ট্যাক্স (এআইটি) আরোপের কথা বলেছেন।

হ্যান্ডসেট আমদানিকারকরা বলছেন, বিদ্যমান ১০ শতাংশ আমদানি শুল্কের পর আরও নতুন কর আরোপিত হলে সব মিলে করের পরিমাণ অনেক বাড়বে।

এ প্রসঙ্গে স্যামসাং বাংলাদেশের মোবাইল বিভাগের প্রধান হাসান মেহেদী বলেন, হ্যান্ডসেট হবে সামনের দিনে সরকারের ইন্টারনেট বিস্তারের অন্যতম মাধ্যম। এ ক্ষেত্রে সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা কতোটা দ্রুত ইন্টারনেটের বিস্তার করতে চান।

দেশের শীর্ষস্থানীয় হ্যান্ডসেট আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, মোবাইল ফোন অপারেটররা হাজার কোটি টাকা খরচ করে থ্রিজি নেটওয়ার্ক তৈরি করছেন। কিন্তু এখন যদি দামের কারণে গ্রাহকরা সঠিক হ্যান্ডসেটটি কিনতে না পারেন, তাহলে হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

স্যামসাং বলছে, তারা পুরো বিষয়টি অর্থমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরবেন। তারপর দেশের জন্য যা ভালো হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন মন্ত্রী।

এর আগে গত সপ্তাহে হ্যান্ডসেট আমদানিকারকরা এক সংবাদ সম্মেনে ভ্যাট এবং এআইটি আরোপের কারণে হ্যান্ডসেটের চোরাচালন অনেক বেড়ে যাওয়ার আশংকা প্রকাশ করেন। এতে সরকারের লাভের চেয়ে লোকসান বাড়বে বলে তারা মন্তব্য করেন।

মোবাইল সেটে ভ্যাট বৃদ্ধির প্রভাব এখনও পড়েনি বাজারে

ফখরুদ্দিন মেহেদী, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বাজেটে শুল্ক আরোপের প্রস্তাবের পরপরই দাম বৃদ্ধির ঘটনা কম বেশি বেশিরভাগ সময় ঘটে। এটি এখন গা সওয়া হয়ে গেছে সকলের। যদিও নতুন পণ্য বাজারে আসতে ঢের দেরি। তবে এবার বতিক্রম দেখা গেছে মোবাইল ফোন সেটের ক্ষেত্রে।

আগামী ২০১৪-১৫ সালের বাজেট উপস্থাপনকালে বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত মোবাইল ফোন সেট আমদানিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করেছেন। এতে মোবাইল ফোন সেটের দাম বাড়বে।

দাম বৃদ্ধির আগে অনেকেই আগেভাগে প্রয়োজনীয় হ্যান্ডসেটটি কিনতে পরদিনই তড়িঘড়ি করে ছুটে গিয়েছিলেন মোবাইল ফোন সেটের বাজারে। শুক্রবার যারা মোবাইল ফোন সেট কিনেছেন তাদের হতাশ হতে হয়নি।

mobile sphone shop_techshohor

আগের দামেই সেট কিনে হাসিমুখে বাসায় ফিরেছেন তারা। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ঘোষণা মাত্রই বেশিরভাগ মার্কেটে এবার দাম বাড়েনি এ প্রযু্ক্তি পণ্যের।

এতে কিছুটা হলেও অবাক হয়েছেন ক্রেতারা। গোড়ান থেকে আসা মামুন মিয়া নামের এক ক্রেতা ব্যবসায়ীদের আগের মতো গলাকাটা প্রবণতা না থাকায় সাধুবাদ দিয়েছেন।

মোবাইল ফোন সেটের অন্যতম দুটি বাজার বসুন্ধরা শপিং মল এবং মাল্টিপ্লান সেন্টার ঘুরে দেখা গেছে ক্রেতা ও বিক্রেতারা পুরোনো আমেজেই বেচা-কেনা করছেন।

তবে মোবাইল ফোন সেটের ওপর নতুন করে কর আরোপকে ক্রেতা-বিক্রেতা কেউই ভাল চোখে দেখছেন না। তারা অর্থমন্ত্রীর ব্যাপক সমালোচনা করেন।

বিক্রেতারা জানান, ভ্যাট বাড়ানো হলে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চোরাই পথে পণ্য বেশি আসবে। এতে বৈধ পথে পণ্য আনা আমদানিকারকরা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবেন না। তাদের অনেকে লোকসানেও পড়তে পারেন।

বসুন্ধরা সিটিতে স্যামসাংয়ের ডিলার ও বিক্রেতা নাসির উদ্দিন টেকশহরডটকমকে বলেন, ভ্যাট বাড়ানোর সংবাদ তারা জেনেছেন। তবে এখনই দাম বাড়াননি তারা।

পুরনো এ ব্যবসায়ী ভ্যাট বাড়ানোর সমালোচনা করে বলেন, এতে লাগেজ পার্টি আবারও সক্রিয় হবে। যার ভুক্তভোগী হবে বৈধ ব্যবসায়ীরা।

বাজারের টেলিসেন্স নামের দোকানে গিয়েও দেখা গেছে বাজেটে ভ্যাট বৃদ্ধির ঘোষণার প্রভাব পড়েনি। বিক্রেতা আরিফুল ইসলাম সুজন জানান, এখনও দাম বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেইনি। তবে ভ্যাট বাড়লে দাম বাড়তে পারে।

দেশীয় প্রতিষ্ঠান ওয়ালটনের শো-রুমে গিয়ে ক্রেতাদের ভীড় দেখা গেছে। ভ্যাটের কারণে এ ব্র্যান্ডের পণ্যেরও দামে বাড়েনি বলে জানিয়েছেন বিক্রয়কর্মীরা। বসুন্ধরা সিটির ওয়ালটন প্লাজার প্রোভাইডার আকরামুজ্জামান অপু বলেন, ভ্যাট বাড়ানোর কারণে বাজারে এখন কোনো প্রভাব পড়েনি। তবে দাম বাড়লে সবারটাই বাড়বে।

মোবাইল ফোনের বড় এ দুটি বাজারে নকিয়া, সিম্ফনি, মাইক্রোম্যাক্স, সনি, ম্যাক্সিমাস, এলকাটেলের ষ্টোরগুলোর বিক্রেতাদের সঙ্গেও কথা বলে জানা গেছে বিভিন্ন মডেলের পণ্যের দাম তারা এখনও অপরিবর্তিত রেখেছেন।

বিক্রেতাদের মতে, তীব্র প্রতিযোগিতার বাজারে কেউ এককভাবে দাম বাড়ানোর ঝুকি নিতে চাননি। এ কারণে প্রথম দু’দিনে দাম বাড়েনি।

তবে এ অবস্থা বেশিদিন থাকবে না বলে বিক্রেতারা উল্লেখ করেছেন। কয়েকদিনের মধ্যে হয়ত নতুন পণ্য না এলেও পুরনোগুলোর দাম বাড়তে শুরু করবে বলে মন্তব্য করেন আলিম নামের এক ব্যবসায়ী।

কমছে সিম কার্ডের দাম

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : নতুন অর্থবছরে মোবাইল হ্যান্ডসেটের দাম বাড়লেও কমবে সিম কার্ডের দাম। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত সিম কার্ডে ৫ শতাংশ শুল্ক কমানোর প্রস্তাব করেন।

বর্তমানে সিম কার্ডে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রদান করতে হয়।

Sim card-TechShohor

প্রস্তাবিত বাজেটে এই হার ১৫ শতাংশ কমিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

ভ্যাটে বাড়ছে মোবাইল হ্যান্ডসেটের দাম

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : নতুন অর্থবছরে বাড়ছে মোবাইল হ্যান্ডসেটের দাম। নতুন বাজেটে এর আমদানির উপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, দেশীয় শিল্পের বিকাশে মোবাইল হ্যান্ডসেটে ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে।

mobile-phones_techshohor

তিনি বলেন, দেশে কিছু কোম্পানি উন্নত মানের মোবাইল ফোন সংযোজন করছে। তাদের উৎপাদন পর্যায়ে ১৫ শতাংশ মূসক দিতে হচ্ছে। অথচ আমদানি পর্যায়ে মোবাইল ফোনে শুধু ১০ শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য আছে। এর ফলে দেশীয় সংযোজন কোম্পানিগুলো অসম প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হচ্ছে। তাই মোবাইল হ্যান্ডসেটের আমদানিতে ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর আরোপের প্রস্তাব করছি।

তবে সিম কার্ডে সম্পূরক শুল্ক ৫ শতাংশ কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে এই খাতে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রদান করতে হয়। প্রস্তাবিত বাজেটে এই হার ১৫ শতাংশ কমিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

ফখরুদ্দিন মেহেদী

ইন্টারনেটে বিপ্লব ঘটাতে ভ্যাট প্রত্যাহার চায় অ্যামটব

অনন্য ইসলাম, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেশে থ্রিজি চালু হওয়ার পর প্রথম বাজেটে ইন্টারনেটের ওপর থেকে সম্পূর্ণরূপে ভ্যাট প্রত্যাহার চেয়েছে মোবাইল ফোন অপারেটররা।

অপারেটররা বলছে, ইন্টারনেটের ওপর থেকে ভ্যাট প্রত্যাহারের পাশাপাশি মডেম ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাতের ওপর থেকে ভ্যাট এবং শুল্ক কিছু দিনের জন্য প্রত্যাহার করে নিলে দেশের লাভ হবে।

5g internet speed-TechShohor

সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) এ সংক্রান্ত এক প্রস্তাবে মোবাইল ফোন অপারেটদের সংগঠন অ্যামটব মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের ওপর থেকেও ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

এসব প্রস্তাবের বিষয়ে অ্যামটবের সাধারণ সম্পাদক টিআইএম নূরুল কবীর বলেন, ইন্টারনেটের ব্যবহার বাড়াতে এর ওপর থেকে ভ্যাট এবং অন্যান্য শুল্ক প্রত্যাহার ভিন্ন অন্য কোনো পথ নেই।

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বর্তমানে মোবাইল ফোন ব্যবহারের হার বিবেচনায় নিয়ে বলা যায় প্রতি ১০ শতাংশ গ্রাহক টুজি থেকে থ্রিজিতে স্থানান্তরিত হওয়ায় জিডিপি অন্তত দশমিক ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। তবে সব মিলে থ্রিজিকে কাজে লাগিয়ে সরকার প্রবৃদ্ধির পরিমান দুই থেকে চার শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুযোগ নিতে পারে।

নূরুল কবীর বলেন, ‘ইন্টারনেট ফর অল’ এখন সময়ের দাবি। এ দাবি পূরণের জন্য সরকারের এ খাতের ওপর থেকে শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহার করে নেওয়া উচিত।

অ্যামটবের তথ্য অনুসারে, একটি মডেমের ওপর সব মিলে ২৬ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়। এটি প্রত্যাহার না করলে মডেমের দাম কমবে না। এতে সকলের পক্ষে থ্রিজি মডেম কেনা সম্ভব নাও হতে পারে।

মোবাইল ফোন অপারেটররা বলছে, সব মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আছে। যেটি আসলে শেষ পর্যন্ত গ্রাহককে বহন করতে হয়।

এর বাইরে অপারেটররা সিম কর তিনশ টাকা থেকে নামিয়ে শূন্য করাসহ আরও বেশ কিছু প্রস্তাব দেন। অপারেটরদের প্রস্তাব অনুসারে সিমের ওপর কর না থাকলে ২০১৫ সালের মধ্যে দেশে মোবাইল ফোন ব্যবহার ৮৫ শতাংশে উন্নীত হবে। বর্তমানে তা ৭২ শতাংশে রয়েছে।