ফেইসবুকেও ভূমিকম্প হলো মাত্র

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ২০১৬ সালের ৫ জানুয়ারি। ভূমিকম্পে হঠাৎই কেঁপে ওঠে দেশ। বর্ষবরণের পঞ্চম দিনেই কেঁপে ওঠলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকও। পরে সেই বছরে বেশ কয়েকবার কাঁপুনি দিয়ে গেছে ভূমিকম্প। একই সঙ্গে কাঁপন ওঠে ফেইসবুকে।

বছর পেরিয়ে নতুন বছরে আবার চলা শুরু। নতুন বছরের তৃতীয় দিনে আবার কাঁপলো দেশ। সঙ্গে কাঁপন ওঠেছে সামাজিক যোগাযোগের এই মাধ্যমটিতে।

Facebook Earthquack-Techshohor

পোস্টে পোস্টে জানান দিচ্ছে সবাই তাদের ভূমিকম্প অনুভূতির খবর। বলা যায় ভূমিকম্প যখন চলছে ঠিক সেই সময়টিতেও চলছে স্ট্যাটাসে ভূমিকম্পের খবর।

সাদ্দাম হোসেন লিখেছেন, এখন ভূমিকম্প হচ্ছে। সবাই সাবধানে থাকবেন।

ওয়াশফিকা তাহরিন নামের একজন ফেইসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, বছরের তৃতীয় দিন শুরু হলো ভূমিকম্প দিয়ে। না জানি সারা বছর কতো কাঁপুনি যাবে।

এই সময়ে নাড়া দিলো কে রে… লিখেছেন বখতিয়ার মুন্না।

তবে ভূীমকম্প হবে আর আ মুহূর্তেই জানা যাবে না এমন তো হতে পারে না ফেইসবুক থাকতে। তাইতো আতিকুর রহমান সুমন নামের একজনের পোস্ট, ফেইসবুকেই ভূমিকম্প টের পেলাম। বাস্তবে পেলাম না!

ভূমিকম্প হলে বরাবরই দেশের ফেইসবুক ব্যবহারকারীরা সরব থাকেন। সেই দিকটিকে ইঙ্গিত করে মিজানুর রহমান রানা নামের একজন ফেইসবুকে ব্যবহারকারী তাই লিখেছেন, আমার ফেইসবুকের হোমপেইজ এখন ভুমিকম্পের কম্পনে কাঁপিতে থাকিবে।

ইমরান হোসেন মিলন

ভূমিকম্পের কাঁপনে ফেইসবুক

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ভূ-কম্পনের সঙ্গে সঙ্গে তার কাঁপনে যেন দুলে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক।

দেশে ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফেইসবুকের ওয়াল আর নিউজফিড ভরতে থাকে সে সম্পর্কিত স্ট্যাটাসে।

কেউ পোস্ট করেন ভূমিকম্প হওয়ার খবর, কেউ করেন সবার সুস্থতা ও ভালো থাকার কামনায় আবার কেউবা পোস্ট করেন সেই কম্পনের সার্বিক অবস্থা নিয়ে।

Earthquack
বুধবার ৪টা ৩৫-৪০ মিনিটের দিকে ওই ভূমিকম্প শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অনেকের পোস্ট ছিলো ‘ভূমিকম্প হচ্ছে’ ধরনের।
পারমিতা হেম নামের একজনের জিজ্ঞাসু পোস্ট, এইমাত্র কী ভূমিকম্প হলো?

ইমতিয়াজ নামের এক ফেইসবুক ব্যবহারকারী তার ওয়ালে পোস্ট করেছেন, আমি স্বপ্নের রাজ্যে ছিলাম, আমাকে ধাক্কা দিয়ে জাগিয়ে দিলো কে?

পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারে ছিলো এই কম্পনের কেন্দ্র যা রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দূরে, আর ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৮৪ কিলোমিটার গভীরে ছিলো উৎপত্তিস্থল। আর রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিলো ৬ দশমিক ৮ বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউএসজিএস।

ভূমিকম্পের পরে আবার বড় কোনো কম্পন হতে পারে এমন আশঙ্কা করে আমিনুল ইসলাম লিখেছেন, ছোট ছোট ভূমিকম্প বড় ভূমিকম্পের আশঙ্কা তৈরি করে।

এছাড়ও অসংখ্য ফেইসবুক ব্যবহারকারী ভূমিকম্পের পরে সবার সুস্থতা কামনা করে পোস্ট দিয়েছেন।

এছাড়াও অনেকেই ভূমিকম্পের সময় ভবন ছেড়ে বাইরে বেরুনোর ছবি পোস্ট করেছেন এবং নিজের সুস্থতা জানাও দিয়েছেন স্ট্যাটাসে।

ইমরান হোসেন মিলন

ভূমিকম্পের পর সনির উৎপাদন বন্ধ

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : জাপানে ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর প্রযুক্তি পণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সনি তাদের বিভিন্ন পণ্যের উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। সনির পাশাপাশি উৎপাদন বন্ধ করেছে অটো নির্মাতা হোন্ডা ও টয়েটা’ও।

বৃহস্পতিবার রাতে একবার ও শুক্রবার রাতে দুই বার শক্তিশালী ভূমিকম্পে জাপানের কিয়েশু অঞ্চল ও কুমামোতো প্রিফেকচারের জনজীবনে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে। দুই দফা ভূমিকম্পে নিহত হয়েছে ৪১ জন। এমন পরিস্থিতিতে সনি তাদের বিভিন্ন পণ্যের উৎপাদন বন্ধ রেখেছে।

সনি জানিয়েছে, স্মার্টফোনের ইমেজ সেন্সর প্লান্টটি ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরপর থেকে সেটি বন্ধ রয়েছে।

Japan Earthquake

সনির পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রেনেসাঁস’ও। তাদের কুমামোতো প্লান্ট ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। এখানে বিভিন্ন গাড়ির জন্য মাইক্রো কনট্রোলার চিপ তৈরি করা হতো।

অটো মোবাইল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হোন্ডা ও টয়েটারও বেশ কয়েকটি কারখানা ভূমিকম্পের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে আপাতত উৎপাদন বন্ধ রয়েছে সেগুলোর।

বিবিসি অবলম্বনে শামীম রাহমান

আরও পড়ুন: 

ভূমিকম্পের তথ্য জানুন অ্যাপে

তুসিন আহমেদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর :  ভূমিকম্প মানেই আতঙ্ক। বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত ভূমিকম্পে বড় ধরনের প্রাণহানীর ঘটনা না ঘটলেও -এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না। বছরে একটি বা দুটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প এ অঞ্চলে বলতে গেলে নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে অনুভূত হয়েছে ৪ দশমিক ৬ মাত্রার একটি ভূমিকম্প।

বেলা ১ টা ৪২ মিনিটে সংঘঠিত এই ভূমিকম্পে এখনও পর্যন্ত কোনো ক্ষয়-ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমগুলো দিয়েছে ভূমিকম্পে মানুষের আতঙ্কগ্রস্ত হওয়ার খবর। ভূমিকম্পের পর আতঙ্কগ্রস্ত মানুষ ভূমিকম্পের তথ্যসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে কৌতুহলী হয়ে ওঠেন।

তবে চাইলেই তো সব তথ্য পাওয়া সম্ভব নয়। সঠিক মাধ্যম ও সময় ব্যয় করে জানতে হয় ভূমিকম্পের নানা তথ্য। তবে এবার এই কাজটি করে দেবে আপনার মুঠোফোনে থাকা একটি অ্যাপ। কোথায় ভূমিকম্প হয়েছে, মাত্রা কত -প্রভৃতি তথ্যগুলো জানিয়ে দেবে আর্থকুইক নামের অ্যাপটি।

এক নজরে অ্যাপটি বিভিন্ন ফিচার :

অ্যাপ্লিকেশনটিতে রয়েছে কাস্টম নোটিফিকেশন পদ্ধতি। কোথাও ভূমিকম্প হলে নোটিফিকেশনের মাধ্যমে তা জানিয়ে দেয়া হবে।

কোথায় ভূমিকম্প হয়েছে, ভূমিকম্পের মাত্রা কতটুকু তাও জানাবে অ্যাপটি।

earthquke

অ্যাপটির সাহায্যে ভূমিকম্পের স্থানটি ম্যাপের মাধ্যমে দেখিয়ে দেয়া হবে।

এই অ্যাপে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য আর্থকুইক রিপোর্টডটকম থেকে নেয়া হয়। ফলে তথ্যের নির্ভরতা ও সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকবে না।

অ্যাপটি থেকে তথ্য পেতে ইন্টারনেট সংযোগ থাকতে হবে।

৪.৪ রেটিং প্রাপ্ত অ্যাপ্লিকেশনটি বিনামূল্যে এই ঠিকানা থেকে ডাউনলোড করা যাবে।

আরও পড়ুন: 

অ্যাপে ভূমিকম্পের পূর্বাভাস

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : অসংখ্য প্রযুক্তি পণ্য, যন্ত্র আর নিত্য নতুন উদ্ভাবন জীবনকে সহজ করে তুললেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ ভূমিকম্পের পূর্বাভাসের পদ্ধতি এখনো মানুষের নাগালের বাইরে। তবে হালের স্মার্টোফোন হতে চলেছে ভূমিকম্প পূর্বাভাসের হাতিয়ার। এমনটাই ধারণা প্রযুক্তিবিদ ও বিশ্লেষকদের।

গত শুক্রবার ‘মাইস্যাক’ নামের একটি অ্যানড্রয়েড অ্যাপ গুগল প্লে স্টোরে যুক্ত হয়েছে। অ্যাপটি ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দিয়ে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সক্ষম বলে দাবি করছেন এর নির্মাতারা।

অ্যাপটি ভূমিকম্পের টাইপ রেকর্ড করতে পারবে, নির্দিষ্ট পরিসীমায় ব্যবহারকারীরা কম্পনের কাউন্টডাউন দেখতে পারবেন। ফলে তারা সহজেই চলে যেতে পারবেন একটি নিরাপদ স্থানে।

MyShake

অ্যাপটির বিনিয়োগকারীরা বলছেন, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি দল অ্যাপটি তৈরি করেছে। অ্যাপটি কোনো ধরনের যন্ত্রপাতি ছাড়াই ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দিতে সক্ষম।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বারবেলি ভূমিকম্প গবেষণাগারের পরিচালক ও মাইস্যাক অ্যাপের প্রজেক্ট প্রধান রিচার্ড আলেন বলেন, অ্যাপটির জন্য ভূমিকম্প নেটওয়্যার্ক ব্যবহার করা হয়নি। তারপরও আমরা প্রত্যাশা করছি, অ্যাপটি দ্রুত ও বড় পরিধিতে ব্যবহারকারীদের কাছে ভূমিকম্পের পূর্বাভাস পোঁছে দেবে।

বর্তমানে ৩০০ স্মার্টফোনে মাইস্যাক ইন্সটল করে ১১০ কিলোমিটার এলাকায় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেয়া হচ্ছে। এর পরিধি বাড়িয়ে বিশ্বব্যাপী ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেয়ার পরিকল্পনা করছেন অ্যাপটির নির্মাতারা। অ্যাপটি ডাউনলোড করা যাবে এ ঠিকানায়

টাইমস অব ইন্ডিয়া অবলম্বনে শামীম রাহমান

ভূমিকম্পের কাঁপুনি ফেইসবুকেও

ইমরান হোসেন মিলন, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : শীতকাল। ভোররাত। গভীর ঘুম। কিন্তু সেই গভীর ঘুমে ব্যাঘাত ঘটালো ভূমিকম্প। উৎকণ্ঠায় লেপ ছেড়ে উঠতে হলো এ দেশের প্রায় সবাইকে। ভূমিকম্প কাঁপন ধরালো দেশবাসীর মনে, আর তারা স্ট্যাটাসে স্ট্যাটাসে কাঁপন ধরালেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে

ভোর পাঁচটা সাত মিনিট। ৬.৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত। এর পর পরই এ দেশের ফেইসবুক ব্যবহারকারীরা তাদের ওয়ালে পোস্ট করতে থাকেন ভূমিকম্পের খবর, অভিজ্ঞতা আর তাদের তাৎক্ষণিক কর্মকাণ্ড।

ভূমিকম্পের পর ফেইসবুকে নিজের অলসতার কথা জানিয়েছেন ব্যবহারকারী বারেক কায়সার। তিনি লিখেছেন, কখন বুঝবেন আপনি পর্যাপ্ত অলস? ভূমিকম্পের সময় বাসার সবাই যখন লাফাতে লাফাতে রাস্তায়, আপনি তখন নাক ডেকে ডেকে ঘুমাতে ব্যস্ত। বুঝবেন আপনি শীর্ষ পর্যায়ের অলস। নোট : আমিও ঘুমের কারণে নিচে নামতে পারি নাই!

ভারতের মণিপুর রাজ্যের রাজধানী ইম্ফলে ছিল ভূমিকম্পের কেন্দ্র। যা বাংলাদেশের আগারগাঁওয়ের ভূকম্পন কেন্দ্র থেকে ৩৫৩ কিলোমিটার দূরে। তবে রিখটার স্কেলে ৬ দশমিক ৭ মাত্রার এই ভূমিকম্পে ভারত ছাড়াও মিয়ানমান, বাংলাদেশ, নেপাল কেঁপে ওঠে।

earthquake-facebook

দেশের সব অঞ্চলেই অনুভূত হয় সোমবারের ভূমিকম্প। তাই ফেইসবুকে মিলেছে দেশের বিভিন্ন স্থানের ব্যবহারকারীদের স্ট্যাটাস।

চট্টগ্রামের বাসিন্দা তামান্ন মৌসী লিখেছেন, গুড এনাফ, ভূমিকম্পের মধ্যে মুভি দেখার বিরল অভিজ্ঞতা হইলো!

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানজিল লিখেছেন, ভোরেই ভয় পেলাম। না উঠে উপায় নেই। আবার যদি হয়…

দফায় দফায় ফোনকম্প হচ্ছে। ঘুমের ব্যাঘাত ঘটানোর জন্য কেউ কেউ সুযোগ নিচ্ছে,কেউ নিছক ভালোবাসায়…। লিখেছেন খুলনায় বসবাসরত ফেইসবুক ব্যবহারকারী উত্তম প্রতীক।

তবে ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানা ভূমিকম্প নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক ইতোমধ্যে জনগণের নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি ফিচারও চালু করেছে।

সকাল ১০টার দিকে নিজের ওয়ালে পোস্ট করা একটি স্ট্যাটাসে ফেইসবুকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মার্ক জাকারবার্গ লিখেছেন, ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে একটি মারাত্মক ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। আর ওই এলাকার মানুষের নিরাপত্তায় ‘সেফটি চেক’ নামে নতুন ফিচার চালু করছে। ভারত ছাড়াও এই কম্পন বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও নেপালে অনুভূত হয়েছে। সেসব এলাকার ফেইসবুক ব্যবহারকারীরা এই ফিচার দিয়ে নিরাপত্তা সহায়তা পাবেন।

আরও পড়ুন: