চোখের মতো শক্তিশালী হবে ভিআর সেট

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ভবিষ্যতে হয়তো ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (ভিআর) হেডসেটের ভিতরেই মানুষ অফিস বসাবে। যেখানে বাস্তব পৃথিবী আর ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মধ্যে কোনো পার্থক্য বোঝা যাবে না।  এরকমই একটি ভিআর সেট তৈরিতে হাত দিয়েছে ফিনিশ স্টার্ট আপ ভার্জো টেকনলোজিস।

সোমবার এক ঘোষণায় প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এটি হবে হিউম্যান আই রেজুলেশন হেডসেট, যার নাম দেওয়া হয়েছে ২০/২০ বর্তমানে বাজারে যে ভিআর সেটগুলো আছে তার চেয়ে এটি ৭০ গুণ বেশি শক্তিশালী হবে।

এখনকার অকুলাস রিফট বা এইচটিসির ভাইভের ভিআর সেটে সর্বোচ্চ ১.২ মেগাপিক্সেল রয়েছে রেজুলেশন। কিন্তু ২০/২০ ভিআর সেটে থাকবে ৭০ মেগাপিক্সেল।

varjo-VR-headset-techshohor

ভার্জো জানিয়েছে, এই বছরেই ভিআর সেটটির একটি পরীক্ষামূলক সংস্করণ প্রফেশনালদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। আর এই পরীক্ষামূলক সংস্করণটি বাজারে আসবে ২০১৮ সালে।
প্রতিষ্ঠানটির সিইও ও প্রতিষ্ঠাতা আর্থো কনটোরি জানিয়েছেন, এই প্রযুক্তির সাহায্যে শিল্প খাতে প্রশিক্ষণ দেওয়া যাবে। বিমান শিল্প, ওষুধ শিল্প ও আবাসন খাতের জন্য এটি রেপ্লিকা বানানোর কাজেও সহায়ক হবে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিআর সেটে মানুষের চোখের মতো রেজুলেশন পাওয়ার জন্য হয়তো আরও ২০ বছর অপেক্ষা করতে হবে।

সিএনএন টেক অবলম্বনে আনিকা জীনাত

ঘরে বসেই ঘুরে আসুন জাতীয় জাদুঘর

তুসিন আহমেদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : আপনার স্কুল পড়ুয়া ছেলে মেয়েরা বায়না ধরলো জাতীয় জাদুঘরে ঘুরতে যাবে। সকালেই নিয়ে যেতে হবে শাহবাগের যাদুঘরে। অথচ অফিসে আপনার জরুরি কাজ। শুক্রবারের আগে আপনি সময় করে উঠতে পারবেন না। প্রতিদিন বায়না ধরে ও মন খারাপ করে কচিকাঁচাগুলো। এমন বিড়ম্বনা থেকে সাময়িক মুক্তি দেবে ‘ভার্চুয়াল গ্যালারি’।

ঘরে বসেই ছেলে মেয়েদের দেখাতে পারবেন জাদুঘরের ইতিহাস-ঐতিহ্যের নিদর্শনগুলো। কেননা সম্প্রতি জাতীয় জাদুঘরে যুক্ত হয়েছে ‘ভার্চুয়াল’ গ্যালারি। পরে সময় করে ঘুরে আসার আগে কিছুটা হলেও সান্তনা দিতে পারবেন তাদের।

এ ভার্চুয়াল গ্যালারির সাহায্যে কয়েক ক্লিকেই দেখে নিতে পারবেন জাতীয় জাদুঘরে থাকা ৩৬ গ্যালারিতে তিন হাজার বাঙালির ইতিহাস-ঐতিহ্যের নিদর্শনগুলো। ভার্চুয়াল গ্যালারি ব্যবহার করার উপায় তুলে ধরা হলো এ টিউটোরিয়ালে।

ু

কম্পিউটারে ব্রাউজার চালু করে আপনাকে যেতে হবে এ ঠিকানায়। যদি আপনার কম্পিউটারে ফ্ল্যাশ প্লেয়ার ইন্সটল করা না থাকে তাহলে ঠিকভাবে গ্যালারিটি প্রদর্শিত নাও হতে পারে। এ জন্য এ ঠিকানা থেকে ফ্ল্যাশ প্লেয়ারটি নামিয়ে ইন্সটল করে নিতে হবে।

ভার্চুয়াল গ্যালারির ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলেই দেখা যাবে জাতীয় জাদুঘরের প্রবেশ পথ। চমৎকার রেজুলেশনের ছবি দেখে অনলাইনেও অনেকটা বাস্তব মনে হবে জাদুঘরকে।

প্রবেশ পথে দেখা যাবে তীর চিহ্ন দেওয়া নির্দেশনা। তাতে ক্লিক করে জাদুঘরের ভিতরে প্রবেশ করা যাবে। প্রতিটি স্থানে তীর চিহ্ন দেয়া নির্দেশনায় দিয়ে বোঝানো হয়ে থাকে কোন দিকে যেতে হবে।

চাইলে মাউসটি ঘুরিয়ে জাদুঘরের ভিতরের চারপাশের ভিউ দেখা যাবে।

আপনি যতক্ষণ ভার্চুয়ালভাবে জাদুঘরের এক গ্যালারি থেকে আরেক গ্যালারি ঘুরবেন সঙ্গী হিসেবে থাকবে ব্যাকগ্রাউড মিউজিক। এ মিউজিকের কারণে মাউসের সাহায্যে গ্যালারিতে ঘুরে বেড়াতে বিরক্ত লাগবে না।

অনেক ঘোরাঘুরির পরও শেষ হচ্ছে না জাদুঘরের সব গ্যালারি দেখা। তাহলে কত বিশাল জাদুঘর এটি  কিংবা কোথায় কোন গ্যালারি রয়েছে? এ জন্য ওয়েবসাইটের ঠিক উপরে ম্যাপ নামে ফিচার রয়েছে।

ম্যাপ থেকে কোন গ্যালারি কোথায় রয়েছে তা যেমন জানা যাবে, তেমনি সরাসরি ম্যাপ থেকে কোনো গ্যালারিতে যেতে পারবেন। গ্যালারিগুলো নম্বর আকারে দেওয়া রয়েছে। নম্বরে ক্লিক করলেই গ্যালারিগুলো প্রদর্শিত হবে।

জাদুঘরের ভিতরে কাচের বক্স ঘেরা নানা নির্দেশনা রয়েছে। সেগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে মাউসের নিয়ে কাঁচের বক্সের উপর ক্লিক করলেই ছবিগুলো বড় আকারে ভেসে আসবে এবং নির্দেশনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত দেখে নিতে পারবেন।

এ ছাড়া ওয়েবসাইটের নিচের দিকে অনেকগুলো বাটন রয়েছে। যেগুলো ব্যবহার করে সহজেই মাউস নিয়ন্ত্রণের কাজটি করে ঘোরা যাবে জাদুঘরে।

গত মঙ্গলবার শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে জাদুঘরের এ ভার্চুয়াল গ্যালারি উদ্বোধন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্প ও জাতীয় জাদুঘরের যৌথ আয়োজনে যাত্রা শুরুর এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী।

ভার্চুয়াল সংগঠন : ৪০০ জনের দেখা হয়নি কখনই!

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ভার্চুয়াল মিডিয়ার এই যুগে সবখানে মানুষের স্ব-শরীরে উপস্থিত না থাকলেও চলে। এখন অনেক কাজই ফেইসবুক, টুইটারের মতো সাইটগুলোর মাধ্যমে সহজে করে নেয়া যায়। অনেকে এখানে দাপ্তরিক কাজও করেন।

তাই বলে ভার্চুয়াল সংগঠন! বিষয়টি অবাক করার মতো। প্রায় চারশো মানুষ একটি সংগঠনের সদস্য। তাদের মধ্যে মাত্র নয়জন একে অপরের সঙ্গে সরাসরি দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন।

বাকিরা কেউ কাউকে কখনও দেখেননি। পরস্পরের সঙ্গে দেখা না হওয়া এই মানুষগুলো মিলে একটি দাতব্য সংগঠন চালাচ্ছেন।  সংগঠনটির নাম আরলুপ। এটির পরিধি বিশ্ব জুড়ে।

virtual org-techshohor

আরলুপের যাত্রা শুরু হয় ২০১৫ সালে যখন পেপল, স্পেসএক্স এবং টেলসার উদ্যোক্তা এলন মাস্ক একটি প্রতিযোগিতার ঘোষণা দেন।

তার প্রস্তাবিত হাইপারলুপ ট্রান্সপোর্ট সিস্টেমের জন্য পড তৈরির আহ্বান জানান তিনি। এতে অংশ নেয়ার জন্যই প্রতিষ্ঠিত হয় সংগঠনটি।

আরলুপ হলো বিশ্বের প্রথম অলাভজনক ওপেন সোর্স অনলাইন থিংক ট্যাংক। স্পেসএক্স পড প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে আলোচনায় এসেছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিবিসি অবলম্বনে শামীম রাহমান

বিটকয়েন লেনদেনে বাংলাদেশ ব্যাংকের সতর্কতা

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বিভিন্ন কারণে বিশ্বজুড়ে আলোচিত ভার্চুয়াল মুদ্রা লেনদেন না করতে জনসাধারণকে সতর্ক করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সতর্কতায় বলা হয়েছে, এ ধরনের লেনদেন সরকারের বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্বীকৃত পদ্ধতি না হওয়ায় প্রতারিত হওয়ার আশংকা রয়েছে।

সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে আহবান জানিয়ে বলা হয়েছে, দেশে অনলাইনে কৃত্রিম মুদ্রা বিটকয়েনের কেনাবেচার নামে বিভিন্ন প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এ ধরনের লেনদেন কোনো দেশের ইস্যুকৃত বৈধ মুদ্রা নয়।

বিটকয়েন-ডাকাতি-টেকশহর

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কোনো কৃত্রিম মুদ্রা লেনদেন বাংলাদেশ ব্যাংক বা বাংলাদেশ সরকারের কোনো সংস্থা দ্বারা স্বীকৃত নয়। অনুমোদন বর্হিভূত এসব লেনদেন বৈদেশিক মুদ্রা নিয়šস্লণ আইন এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এ পরিস্থিতিতে আর্থিক ও আইনগত ঝুঁকি এড়াতে বিটকয়েনের মনো কৃত্রিম মুদ্রা লেনদেন, লেনদেনে সহায়তা করা ও এর প্রচার হতে বিরত থাকতে আহবান জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

 

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে বিটকয়েন লেনদেন চালু হয়েছে। এটি বেশ আলোচনার জন্ম দেয়। তবে অনলাইনে এ মুদ্রা লেনদেনে অনলাইন জালিয়াতির পর তা ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়।