ইউটিউবে ভাইরাল গায়ে হলুদের ভিডিও

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ভিডিওর মূল চরিত্রের মেয়েটি কোনো সেলিব্রেটি নন। এমন কি এটি কোনো যৌন, ভয়াবহ, দুর্ঘটনা বা হিংসাত্মক কোনো ভিডিও নয়। কিন্তু তারপরও হঠাৎ করেই ভাইরাল হয়ে গেছে। অল্প কয়েক দিনেই ভিডিওটি ৬ লাখ ভিউ ছুঁতে চলেছে। এটি সাধারণ গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও।

তবে এর মূল আকর্ষণ হলো পৌনে চার মিনিটের ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছে একটি শটে। যেখানে কনে ডালিয়া বেনেডিক্ট তার পুরো পরিবারের সঙ্গে নেচে তার হলুদের অনুষ্ঠান আরও জাকজমক করে তুলেন।

এতেই বা এমন নতুন কী আছে? প্রশ্ন আসতেই পারে। এখনতো প্রি বা পোস্ট ওয়েডিং ফোটোশুট, বিয়ের অনুষ্ঠানের ক্যানডিড, থিম ফোটোগ্রাফি, ভিডিওগ্রাফি তো এখন লেটেস্ট ট্রেন্ড। ডিএসএলআর ক্যামেরার ক্লিক, অসাধারণ এডিটিং আর অভিনব প্রপসের ব্যবহারে এখন ওয়েডিং স্টোরি রচনা করে চলেছেন পেশাদাররা। কেউ কারও থেকে কম যান না। তা হলে অভিনব কী রয়েছে এই ভিডিওতে?Tranding-holud-Techshohor

নেই কোনও বাহুল্য, কোনও প্রপস বা এডিটিং। ‘নাচ দে নে সারে’ গানের তালে তালে বাড়ির লন, বারান্দা, সিঁড়িতে পুরো পরিবারের সঙ্গে নাচছেন ডালিয়া।

আর সেই আনন্দের মুহূর্তে ক্যামেরার সিঙ্গল শটে ধরেছেন পেশাদার ফটোগ্রাফার। নেই কোনও কাট, নেই কোনও এডিটিং। আর তা ইউটিউবে ছাড়া হলে সামাজিক মাধ্যমেও ভাইরাল হয়ে যায়। অনেকেই অবশ্য এটিকে অসাধারণ ভিডিও হিসেবে আখ্যাও দিচ্ছেন সামাজিক মাধ্যমে।

আনন্দবাজার অবলম্বনে

ইনস্টাগ্রামে ভাইরাল ইন্দোনেশিয়ার রংধনু গ্রাম

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপের গ্রাম গুননুগ বৃন্তিকা। হঠাৎ করেই এখন গ্রামটি ইনস্টাগ্রামে সেনসেশন তৈরি করেছে। গ্রামের বাড়িগুলো সেজেছে রংধনুর সাত রঙে। তাই পুরনো নাম বদলে গ্রামটির নতুন নাম দেওয়া হয়েছে কামপাং পেলাংঙ্গি (রংধনু)।

rainbow-village-techshohor

নানান রঙে গ্রাম রাঙানোর আইডিয়াটি বের করেন এক স্কুল প্রিন্সিপাল। তার ভাবনাকে সফল করতে এগিয়ে আসে স্থানীয় সরকার।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ২২ হাজার ৫০০ ডলারের একটি বাজেট বরাদ্দ করা হয়। প্রথম ধাপে ২৩২টি বাড়ি রঙ করার পর গ্রামের কয়েকটি ছবি ইনস্টাগ্রামে ছাড়া হলে তা সবার নজর কাড়ে। আর সঙ্গে সঙ্গে ছবিটি ভাইরাল হয়ে যায়।

গ্রামটিকে ক্যামেরার ফ্রেমে ধারণ করতে দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও হাঙ্গেরি থেকে পর্যটকদের আনাগনা বাড়তে থাকে রেইনবো ভিলেজে। এখন পর্যন্ত কামপাংপেলাংঙ্গি হ্যাশট্যাগ দিয়ে শুধু ইনস্টাগ্রামেই পোস্ট করা হয়েছে সাড়ে চার হাজারের বেশি ছবি।

Rainbow-techshohor

গ্রামটিকে পর্যটক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সেমারাং জেলার সরকার দ্বিতীয় ধাপে আরো ৩২৫টি বাড়ি রাঙানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেমারাংয়ের মেয়র জানিয়েছেন, আগামী ৪ সপ্তাহের মধ্যই শেষ হবে দ্বিতীয় ধাপের কাজ।

বাড়িগুলো বাইরের অংশ অন্তত তিনটি ভিন্ন রঙে সাজানো হয়েছে। শুধু রঙ নয়, বাহারি নকশায় আঁকা দেওয়াল চিত্রও বৈচিত্র্য এনেছে  সাধারণ ও বিষন্ন চেহারার গ্রামটিতে।

দ্য জাকার্তা পোস্ট অবলম্বনে আনিকা জীনাত

ফেইসবুুক জুড়ে শাকিব খান-অপু বিশ্বাস

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ঢাকায় চলচ্চিত্রের অন্যতম জুটি চিত্রনায়ক শাকিব খান চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস। তবে দুজনের সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন নানা আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। এবার সেই সম্পর্ক সামনে এনেছেন অপু বিশ্বাস।

শাকিব খান তার ছেলে সন্তানের বাবা বলে দাবি করেছেন অপু বিশ্বাস। সোমবার বিকেলে একটি বেসরকারি টেলিভেশনে সরাসরি একটি অনুষ্ঠানে অপু বিশ্বাস তার ছেলেকে নিয়ে হাজির হয়ে এসব কথা বলেন।

২০০৮ সালে তাদের বিয়ে হয়েছে বলে দাবি করেন অপু বিশ্বাস। সরাসরি সেই অনুষ্ঠানে এমন কথা স্বীকার করার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ভাইরাল হয়েছে খবরটি।

Sakib-opu-joy

নিজেদের মতো করে সবাই বিষয়টি নিয়ে তাদের কৌতুহল, আর অপু বিশ্বাসের বলা কথাগুলো নিয়ে পোস্ট করছেন।

শাহরিয়ার আজম গণমাধ্যমগুলোতে কোন ধরনের খবর হতে পারে এমন ইঙ্গিত দিয়ে লিখেছেন, বিনোদনের পাতা
শাকিব এখন পিতা

আরেকজন ফেইসবুক ব্যবহারকারী রায়হান আহমেদ আশরাফি লিখেছেন, অপুর সংসার (বাংলাদেশ ভার্সন)।

তৈমুর ফারুক তুষার নামের একজন লিখেছেন, জল বিষয়ক উত্তেজনায় জল ঢাললেন অপু বিশ্বাস।

তবে ফেইসবুকের অধিকাংশ ব্যবহারকারী অপু-শাকিব খান বিষয়ক পোস্টে ভরপুর।

অনেকেই অবশ্য শিশুসন্তান আব্রাহাম খান জয়ের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন। দুজনের টানাপোড়েনের যাতে বলি না হয় সেদিকে ইঙ্গিত করে অনেকেই লিখেছেন, নিষ্পাপ শিশুটি যাতে তার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করতে পারে সেদিকে এখন অপু বিশ্বাসের খেয়াল রাখা জরুরি।

অপু বিশ্বাসের দাবি, শাকিব খানের সঙ্গে তার বিয়ে হয় ২০০৮ সালের ১৮ এপ্রিল। শাকিব খানের গুলশানের বাসায়। ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে শাকিব খানের আনা কাজী বিয়ে রেজিস্ট্রি করেন। অপু বিশ্বাসের নাম হয় অপু ইসলাম খান। তাদের সন্তানের জন্ম ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬ কলকাতার একটি ক্লিনিকে। অপুর অনুরোধ সত্ত্বেও সন্তান জন্মের সময় শাকিব অপুর পাশে যাননি বলে বলেন তিনি। 

চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে নানা কথা চলতে থাকায় মার্চ ২০১৬ থেকে অপু বিশ্বাস লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যান। 

তবে অপু বিশ্বাসের এমন কথা সরাসরি অনুষ্ঠানে বলার কিছুক্ষণের মধ্যেই শাকিব খান আব্রাহাম খান জয়কে তার সন্তান বলে স্বীকার করেছেন। তবে কোনো কোনো গণমাধ্যমে শাকিব খান অপু বিশ্বাসকে নিজের স্ত্রিী হিসেবে আর মেনে নেবেন না বলেও খবর বেরিয়েছে। এমন খবরে আবারও কিছুটা উদ্বেলিত হয়ে পড়েন ফেইসবুক ব্যবহারকারীরা।

উদিসা ইমন নামের একজন তার পোস্টে লিখেন, অভিনন্দন নিউজ২৪। সরকার বহুদিন ধরে অপেক্ষাকৃত হালকা মামলা আদালতের বাইরে নিস্পত্তির কথা বলে আসছেন। সেটি আজ একটা নতুন পথ পেলো। হুদাই পারিবারিক জটিলতায় আদালত না গিয়া লাইভে আসেন, ৫ মিনিটেই বউ-বাচ্চা স্বীকার করলেন শাকিব.. ৯ বছরের অস্বীকার ৫ মিনিটে খাল্লাস…

ইমরান হোসেন মিলন

ইতালির তিজিয়ানা : ভাইরাল সেক্স ভিডিওর এক বিয়োগান্তক গল্প

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যাপার। এরই মধ্যে কয়েকটি সেক্স ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে অনলাইনের আনাচে-কানাচে। পরিণতি আত্মহত্যা। আর এ বিয়োগান্তক গল্পের চরিত্রের নাম তিজিয়ানা ক্যানটোন, বাড়ি ইতালিতে।

২০১৫ সালের এপ্রিলে ৩১ বছর বয়সী তিজিয়ানা তার পুরাতন প্রেমিক সার্জিও ডি পালোসহ আরও চারজনকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নিজের কয়েকটি সেক্স ভিডিও পাঠান।

মুহূর্তেই সেসব ভিডিও পর্নো ওয়েবসাইটসহ অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওগুলোতে তিজিয়ানাকে কয়েকজন অপরিচিতি মানুষের সাথে সেক্স করতে দেখা যায়।

ভিডিওটিতে ফিজিক্যাল অ্যাকশনগুলো ভালোভাবে ধরা পড়েনি, তবে তিজিয়ানার একটি কথা বোঝা যায়। সে ক্যামেরা হাতে ধরে পুরুষটিকে জিজ্ঞাসা করছে, ‘তুমি কি ভিডিও তৈরি করছো? ‘ভালো’।

Tiziana viral sex video-TechShohor

এই কথাতে বোঝা যাচ্ছে একজন নারী সেক্সের সময় সেটি ভিডিও করার বিষয়টি উপভোগ করছে। এ কথার কারণে রিসার্ভেশন ছাড়াই যে কেউ ভিডিও দেখার সুযোগ পেয়েছে। কারণ যদি কেউ ভিডিও করতে খুশি থাকে তাহলে অন্য কেউ দেখলে রাগ করার কথা নয়!

তবে ইতালীয়রা শুধু দেখেই ক্ষ্যান্ত হয়নি। তারা দ্রুত তার কথাটিকে নানাভাবে ছড়িয়ে দেয়। তার ছবি টি-শার্ট ও প্যারোডি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। কেউ ভাবেনি এটি দেখে ওই নারী কতোটা কষ্ট পাবে বা বিব্রত হবে।

মূলত এ ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছে একটি ভুল বোঝাবুঝির মাধ্যমে বলে মন্তব্য করেছেন সোশ্যাল কমেন্টেটর সেলভাগিয়া লুকারেলি।

তিজিয়ানা ভিডিওগুলো অনলাইন থেকে সরাতে নানা চেষ্টা করেছে। আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে বিষয়টি। আদালত কয়েকটি ওয়েবসাইট ও সার্চ ইঞ্জিন থেকে ভিডিওগুলো সরানোর নির্দেশ দেয়। তবে একইসাথে আদালত পরিচালনা কাজে প্রায় ২১ হাজার ডলার পরিশোধ করার জন্য তিজিয়ানাকেও নির্দেশ দেয়। বিষয়টি তিনি মেনে নিতে পারেননি।

স্বাভাবিকভাবে জীবনধারণ করতে পারছিলেন না তিজিয়ানা। ভাচুয়াল ওয়ার্ল্ডের মতোই বাস্তব জগতেও সে নানাভাবে শিকার হচ্ছিলো। বিষয়টি সহ্য না করতে পেরে ২০১৬ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর বাড়িতে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন তিজিয়ানা।

বিবিসি অবলম্বনে রুদ্র মাহমুদ

ভাইরাল গুলশান অভিযানের ৫ ভিডিও

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারি রেস্তোরাঁয় সন্ত্রাসী হামলার পর তোলা পাঁচটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে ইউটিউবফেইসবুকে
শনিবার সকালে পোস্ট করা পাঁচটি ভিডিও ক্যাফেটিতে সেনা কমান্ডোদের অভিযান চালানোর আগে ও অভিযান চালানোর সময় তোলা। যা ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে কয়েক হাজার শেয়ার হয়ে ভাইরাল হয়ে গেছে।

Screenshot
দক্ষিণ কোরিয় নাগরিক ডি কে হোয়াং তার ফেইসবুক পেইজে এই পাঁচটি ভিডিও পোস্ট করেন। শনিবার সকাল ৭টা ২৬ থেকে ৮টা ১৮ মিনিটের মধ্যে ভিডিওগুলো পোস্ট করা হয়েছে।
অভিযান শেষ করার পর শনিবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে আইএসপিআর বলেছে, অভিযানটি সাতটা ৪০ মিনিটের দিকে শুরু হয়। যার স্থায়িত্ব ছিল মাত্র ১২ থেকে ১৩ মিনিট। আর ওই সময়ের মধ্যেই জঙ্গিদের নিমূল করা সম্ভব হয়েছে।

dk dk-techshohor
ফেইসবুকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ডি কে হোয়াং বসবাস করেন যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলস শহরে। ভিডিওগুলো ঘটনাস্থলের পাশের কোনো বাড়ি থেকে করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে রোববার ডি কে হোয়াংয়ের ফেইসবুকে আর ওই ভিডিওগুলো দেখা যায়নি।

শুক্রবার রাতে গুলশানের ওই ক্যাফেতে জঙ্গিরা ঢুকে ২০ জনকে জবাই করে হত্যা করে। পরে শনিবার সকালে ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’ পরিচালনা করে ১৩ জিম্মিকে উদ্ধার করে। ঘটনায় দুজন পুলিশ কর্মকর্তাও নিহত হন।

ইমরান হোসেন মিলন

আরও পড়ুন: 

টুইটারে গণধর্ষণের ছবি : গ্রেপ্তার ৩০

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোর এক কিশোরী। প্রেমিকের বাসায় অবস্থানের সময় গণধর্ষণের শিকার হন। ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত সেই কিশোরীর প্রেমিকও।

এখানেই থেমে থাকেনি ধর্ষক দল। তারা ওই কিশোরীর ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দিয়েছে ক্ষুদে ব্লগিং সাইট টুইটারে। টুইটারে ধর্ষিতার ছবি আর ভিডিও প্রকাশের পর চারিদিকের সমালোচনার ঝড় ওঠে। নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৩০ জনকে।

gang-rape-techshohor

যুক্তরাজ্যভিত্তিক গণমাধ্যম হাফিংটন পোস্ট জানিয়েছে, গত ২১ মে ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোর পশ্চিমে জাকারেপাগুয়ায় এই ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে ওই কিশোরীকে অস্ত্রের মুখে ধর্ষণ করা হয়েছে। পরে ওই কিশোরী ব্রাজিলের কয়েকটি গণমাধ্যমে বিষয়টি জানায়।

এই ঘটনায় টুইটারে ফুসে উঠেছেন ব্রাজিলের নাগরিকরা। তারা #EstuproNuncaMais (রেপ নেভার এগেন)  হ্যাশট্যাগে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন ঘটনাটির। পুলিশও ঘটনাটি তদন্তে বেশ তৎপর রয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

শামীম রাহমান

আই অ্যাম জিপিএ ফাইভ : ফেইসবুকে লজ্জার ভাইরাল

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সোমবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ভাইরাল হয়েছে মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের একটি সংবাদের ভিডিও। যেখানে সদ্য মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট বা এসএসসি পরীক্ষায় জিপিও ৫ প্রাপ্ত কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রতিবেদক কথা বলছেন।

ভাইরাল হওয়া ওই প্রতিবেদনে শিক্ষার্থীদের কয়েকটি প্রশ্ন করেন প্রতিবেদক। যেখানে বেশিরভাগ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি শিক্ষার্থীরা। এমনকি যে প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়েছেন সেগুলোর বেশিরভাগ ছিল ভুল উত্তর।

ফলাফল যা হয়েছে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে হাজারো শেয়ার আর কমেন্টে ফেইসবুকের ওয়াল ভারি হয়েছে।

ssc-techshohor

কেউ শিক্ষার্থীদের এমন না পারাকে দেখছেন চরম লজ্জা হিসেবে। কেউবা এটা নিয়ে হাসিঠাট্টায় মেতে উঠেছেন। তবে অনেকেই আবার এর বিপরীতেরও আছেন। অর্থাৎ ভাইরাল ভিডিওটি নিয়ে ইতি ও নেতি দু’ধরনের প্রতিক্রিয়ায় দেখা যাচ্ছে।

কেউ কেউ অবশ্য বলছেন এটা শুধু যে শিক্ষার্থীদের না পারার দোষ তা নয়, এটা সবার ঘাড়েই বর্তায়। শিক্ষার্থী, অভিভাবক এমনকি শিক্ষকদেরও।

তবে পুরো বিষয়টিকে শিক্ষার অপমান বলেও পোস্টে বলছেন অনেকেই। ফাহিম মাশরুর নামের একজন লিখেছেন, একদিকে শিক্ষকের অপমানে আমরা সবাই কান ধরেছি। আর ওদিকে ‘শিক্ষার’ অপমান আমরা বছরের পর বছর উদযাপন করছি!

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান তার ফেইসবুক পোস্টে লিখেছেন, মাছরাঙা টিভির ৬.৩৮ মিনিটের ভিডিও ক্লিপটি ফেইসবুকের দেয়ালে দেয়ালে ঘুরছে। আমাদের শিক্ষার ভিত্তিমূলে কম্পন সৃষ্টি করেছে (দুঃখ ও লজ্জায় ভিডিও ক্লিপটি শেয়ার করতে পারলাম না)।

সর্বনাশা উন্নয়নের নেশা আমাদের কোথায় নিচ্ছে এই ভিডিও ক্লিপটি তার একটি ক্ষুদ্র দৃষ্টান্ত মাত্র। দয়া করে একে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে শাক দিয়ে আর মাছ ঢাকবেন না। প্রজন্ম ধ্বংসের এই নিষ্ঠুর খেলায় আমরা সবাই কমবেশি অংশীদার। রোগ হলে তা লুকিয়ে না রেখে চিকিৎসা করতে হয়। অতিসত্বর যে যার অবস্থান থেকে এই উন্নয়ন উন্নয়ন খেলা থামান। এখনি।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, শুধু সংখ্যা দিয়ে নয়, শিক্ষার গুনগত মান না বাড়ালে এই অবস্থা চলতেই থাকবে। তাই মেধার বিকাশে প্রকৃত জ্ঞানদান আর পাঠদানের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

প্রকাশ রয় নামের একজন ফেইসবুকে পোস্ট করেছেন, তুইতো একটা জিপিএ ফাইভ এটা না আবার টিটকারি মারার অস্ত্র না হয়ে যায়…

ইমরান হোসেন মিলন

আরও পড়ুন: