চাবি মানিব্যাগ খুঁজে দেবে নাট স্মার্ট ট্র্যাকার

এস এম তাহমিদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ছোটখাট কিন্তু জরুরি জিনিস, যেমন চাবি বা ওয়ালেট হঠাৎ খুঁজে না পাওয়া গেলে ভোগান্তি চরমে উঠতে দেরি হয় না। বিশেষত যাদের এসব জিনিস সহজেই হারিয়ে ফেলার প্রবণতা রয়েছে, তাদের জন্য খুবই কাজের একটি গ্যাজেট ব্লুটুথ ট্র্যাকার।

প্রযুক্তি এখন জীবন যাপনকে অনেক সহজ করেছে। এ ডিভাইস তার একটি দারুণ উদাহরণ। স্বল্প মূল্যের একটি ট্র্যাকার হচ্ছে নাট ব্লুটুথ ট্র্যাকার ২।

ক্ষুদ্রাকৃতির এ ডিভাইস ব্লুটুথের মাধ্যমে ফোনের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে সেটির সঙ্গে রাখা যে কোনও কিছুর অবস্থান বের করার কাজটি করে থাকে

DSC0203621

এক নজরে নাট ব্লুটুথ ট্র্যাকার

  • ব্লুটুথ ৪.০ কানেকশন
  • ৩ মাস পর্যন্ত ব্যাটারি লাইফ, কয়েন-সেল লিথিয়াম ব্যাটারি
  • ফোন থেকে হারানো ডিভাইসে অ্যালার্ম বাজানোর সুবিধা
  • ডিভাইস থেকে হারানো ফোনে অ্যালার্ম বাজানোর সুবিধা
  • ডিভাইস রেঞ্জের বাইরে চলে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে সেটি ব্যবহারকারীকে জানানোর সুবিধা

গঠন
নাট ট্র্যাকার২ ডিভাইসটির গঠন খুবই ছোট আকৃতির। চতুষ্কোন প্লাস্টিকের বক্সের এ যন্ত্রে রয়েছে নাট লোগো ও একটি বাটন। পুরোটি প্লাস্টিকে তৈরি হলেও, খুবই উন্নতমানের প্লাস্টিক ব্যবহার করায় সহজেই নষ্ট হয়ে যাবার সম্ভাবনা নেই।

ডিভাইসটি খুলে ফেলার পর দেখা যাবে একটি কয়েন-সেল ব্যাটারি লাগানোর স্থান রয়েছে। নাটের দাবি অনুযায়ী একটি ব্যাটারিতে ডিভাইসটি প্রায় তিন মাস পর্যন্ত কাজ করতে সক্ষম।

ডিভাইসের উপরের বাটনটি দেখে সেটি পাওয়ার বাটন মনে হলেও, ডিভা‍ইসটিতে আসলে কোনও পাওয়ার বাটন নেই। খুবই কম শক্তি ব্যবহার করায় এটি সবসময়ই চালু থাকে। বাটনটির মূল কাজ হচ্ছে অ্যালার্ম বন্ধ করা ও ফোনে অ্যালার্ম বাজানো।

nut.m2t_snapshot_01.04_2015.03.28_00.15.331

ব্যবহারের নিয়ম
নাট ডিভাইসটি ব্যবহার করতে হলে প্রথমেই ফোনে সেটির অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করে নিতে হবে। ডাউনলোড হয়ে যাবার পর সেটির মাধ্যমে ডিভাইসটি পেয়ার করে নেবার পর আর কোনও কাজ নেই।

এবার নাটটি যে জিনিস খুঁজে বের করার জন্য প্রয়োজন সেটির সঙ্গে সংযুক্ত করে দিলেই হবে। হারানো জিনিসটি খুঁজে পেতে ফোনের অ্যাপ থেকে অ্যালার্ম বাজালেই ডিভাইসটি বাজতে শুরু করবে – এরপর শব্দ শুনে তা বের করে নেয়া যাবে সহজেই।

এ ছাড়া ডিভাইসটি একটি নির্দিষ্ট দূরত্বে চলে যাওয়ার সাথে সাথে ফোনে অ্যালার্ম বাজতে শুরু করবে ও শেষ কোথায় সেটি দেখা গিয়েছিল সেটির তথ্য জানাবে।

এমনকি অনান্য নাট ব্যবহারকারীদের মাঝে তথ্য ছড়িয়ে দেয়ার অপশন দেওয়া যাবে, যাতে অন্য কেউ খুঁজে পেলে যোগাযোগ করতে পারে।

nut.m2t_snapshot_01.12_2015.03.28_00.16.41

শুধু ট্র্যাকারটি হারিয়ে গেলে ফোন থেকে খুঁজে পাওয়াই নয়, ফোন হারিয়ে গেলে ট্র্যাকারের বাটনটি চেপে ধরে ফোনে অ্যালার্ম বাজিয়ে সেটিও বের করা যাবে।

ট্র্যাকারটির মূল সমস্যা বলা যেতে পারে ব্যাটারিটি রিচার্জেবল নয়। ফলে সেটি কিছু মাস পর পর বদল করতে হবে।

এ ছাড় ট্র্যাকারটি পানি-নিরোধক নয়। এ কারণে সেটি বাইরে বৃ্ষ্টির মাঝে ব্যবহার করার মত জিনিসের সাথে চালানো যাবে না। তবে দাম অনুসারে এ টুকু সমস্যা মেনে নেয়া যায়।

মূল্য : ট্র্যাকারটি ৭০০-১০০০ টাকায় দেশের বাজারেও পাওয়া যাবে।

একনজরে ভাল

  • হালকা, শক্তপোক্ত
  • স্বল্পমূল্য
  • ভাল ব্যাটারি লাইফ

একনজরে খারাপ

  • ব্যাটারিটি রিচার্জেবল নয়
  • পানি নিরোধী নয়

র‍্যাপু ৬৬১০ : ব্লুটুথে মাউস ব্যবহার, আছে বিড়ম্বনাও

এস এম তাহমিদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ল্যাপটপ বা উইন্ডোজ ট্যাবলেটের সঙ্গে প্রায় সবাই একটি ওয়্যারলেস মাউস কেনার কথা ভাবেন। ট্র্যাকপ্যাড বা টাচ স্ক্রিন যত ভালো হোক না কেন, কিবোর্ড ও মাউসের মাধ্যমে প্রায় সব কাজ আরও সহজে ও দ্রুততার সঙ্গে করা সম্ভব।

তবে ল্যাপটপে ইউএসবি বা ইউএসবি ডঙ্গল ওয়ারলেস মাউস ব্যবহার করা গেলেও, ট্যাবে সেটি বেশ ঝামেলার। মূলত এ জটিলতার সমাধান দিতেই র‌্যাপু বাজারে এনেছে ওয়্যারলেস ও ব্লুটুথ – ডুয়াল কানেকশন মাউস র‌্যাপু ৬৬১০।

এক নজরে র‌্যাপু ৬৬১০ ব্লুটুথ মাউস

  • ১০০০ ডিপিআই ইনফ্রারেড ট্র্যাকিং সেন্সর
  • ট্রাভেল সাইজ মাউস, হালকা
  • ব্লুটুথ ৩ কানেকশন
  • ব্লুটুথ ছাড়াও ২.৪ গিগাহার্জ ডঙ্গল কানেকশন
  • লেফট ও রাইট ক্লিক, স্ক্রল হুইল ও মিডল ক্লিক
  • ব্যবহারে লাগবে দুটি পেন্সিল ব্যাটারি

Rapoo-6610

ডিজাইন
ছোট্ট আকারের মাউসটি তৈরিতে মূলত দুই রঙের প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়েছে। কালো প্লাস্টিক বডির ঠিক মাঝখানে রয়েছে সিলভার প্লাস্টিকের অংশ, যাতে র‌্যাপু লোগো ও পাওয়ার এলইডি অবস্থিত।

মাউসটিতে যেটি প্রথমেই চোখে পড়বে তা হচ্ছে এটির পাশে আর কোনো বাটন নেই – যা ট্রাভেল মাউসের ক্ষেত্রে বিচিত্র নয়। তবে থাকলে মন্দ হতো না।

এটির তলদেশে রয়েছে ব্লুটুথ পেয়ার করার বাটন, সেন্সর ও ব্যাটারি কম্পার্টমেন্ট। সেটির ভেতরে দুটি পেন্সিল ব্যাটারি লাগানোর জায়গা রয়েছে। এর ঠিক মাঝে ওয়্যারলেস রিসিভারটির অবস্থান।

যারা মাউসটি ব্লুটুথ ডিভাইসের সাথে ব্যবহার করবেন, তাদের এ রিসিভার বের করারই প্রয়োজন নেই।

Rapoo-6610-3

সব মিলিয়ে মাউসটির বিল্ড কোয়ালিটি মাঝারি মানের এবং বাটনে কোনও নতুনত্ব নেই। তবে কালো প্লাস্টিকের কারণে  হাতের ছাপ নিয়ে তেমন চিন্তা করতে হবে না।

ব্যবহারের সুবিধা-অসুবিধা
তারবিহনী মাউস নিয়ে নতুন করে খুব বেশি কিছু বলার নেই। সরাসরি ইউএসবি রিসিভারের সাহায্যে ব্যবহারের জন্য আগে এটি চালু (অন) করতে হবে। তারপর রিসিভারটি পিসির ইউএসবি পোর্টে সংযুক্ত করলেই হবে – কোনও ড্রাইভারের প্রয়োজন নেই।

মাউসটির মূল সুবিধা বলা যেতে পারে, ব্লুটুথের মাধ্যমে সংযোগের ব্যবস্থা। এটির নিচের দিকে পেয়ার বাটনটি চেপে পিসির সঙ্গে পেয়ারিং করতে হবে। তাহলে কোনো ইউএসবি সংযোগ ছাড়াই কাজ করবে।

পিসি ব্যবহারকারীদের জন্য সেটি তেমন গুরুত্বপূর্ণ না হলেও, ট্যাব ব্যবহারকারীদের জন্য এটি বেশ কাজের।

মাউসটির ওজন ও সাইজ বড় হাতের জন্য খুব বেশি সুবিধার নয়। আকারে ছোট হওয়ায় সহজেই পকেটে বা ব্যাগে বহনের জন্য আদর্শ।

প্রায় সব ডিভাইসে কোনো ড্রাইভার ছাড়া ব্যবহারযোগ্য হওয়ায় একটি মাউস অফিস ও বাসায় ব্যবহার করা যেতে পারে।

এটির ১০০০ ডিপিআই ট্রাকিং সেন্সরটি দ্রুত ও যথাযথভাবে  কার্সর নাড়াতে সক্ষম। ফলে বড় ও হাই রেজুলেশন স্ক্রিনে বা সুক্ষ কাজের জন্য বেশ কাজের। যদিও ইনপুট ল্যাগ থাকায় গেমিংয়ের জন্য ব্যবহার না করাই ভালো।

OLYMPUS DIGITAL CAMERA

মাউসটির মূল দুর্বলতা এর আকার। ছোট আকৃতির কারণে দীর্ঘ সময় ব্যবহারে হাত ব্যাথা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। সে কারণে ডেস্কটপের সঙ্গে ব্যবহারে আদর্শ নয়। এটি যাত্রা পথে বা অল্প সময় ব্যবহারের জন্য ঠিক আছে।

মূল্য

মাউসটি বাজারে ১৬০০-১৭০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে

এক নজরে ভাল

  • ছোট ও বহনযোগ্য
  • ওয়্যারলেস ও ব্লুটুথ দুটি সংযোগ ব্যবস্থা

এক নজরে খারাপ

  • ছোট মাউসটি দীর্ঘ সময় ব্যবহারের উপযোগী নয়
  • ব্লুটুথ ব্যবহারে কিছু ইনপুট ল্যাগ রয়েছে

 

 

আওয়েই এ৮৮০বিএল ব্লুটুথ : মানে মাঝারি, ব্যাটারিতে ভালো

এস এম তাহমিদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সহজেই বহনযোগ্য, প্রচুর গান ধারণ করার সুবিধা ও ইন্টারনেট ব্যবহার করে গান শোনার সুযোগ থাকায় সঙ্গীতপ্রেমীদের কাছে স্মার্টফোনের বিকল্প নেই। তবে ঠিক যে হারে ফোনে গান শোনা ও ভিডিও দেখার প্রযুক্তি এগিয়েছে, সে হারে হেডফোনের প্রযুক্তি এগোয়নি।

এরই মধ্যে অবশ্য সাম্প্রতিক কয়েক বছরে ব্লুটুথ প্রযুক্তিতে উন্নতির ছোঁয়া লেগেছে। চার্জে সাশ্রয়ী, ল্যাগ কমানো ও ছোট আকারের শক্তিশালী সাউন্ড চিপের কারণে তারবিহীন ব্লুটুথ হেডফোন আজ আর পিছিয়ে নেই। এর প্রমান আজকের হেডফোনটি।

স্বল্প ও মাঝারি দামের ভালো মানের এ হেডফোন তৈরি করেছে হংকংয়ের কোম্পানি আওয়েই। শুরু থেকেই এ কোম্পানি বেশ শক্ত অবস্থান করে নিয়েছে। সেদিক থেকে তাদের এ৮৮০বিএল মডেলের হেডফোনটিও ব্যাতিক্রম নয়।

চমৎকার সাউন্ড কোয়ালিটি, সুন্দর বিল্ড ও মূলত দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি লাইফের কারণে এটি অনায়েসেই আপনার তারযুক্ত হেডফোনের স্থান দখল করে নেবে।

একনজরে এ৮৮০বিএল হেডফোন

  • ব্লুটুথ ভার্সন ৪.০ সাপোর্ট করে
  • অ্যাপ্ট-এক্স প্রটোকল সাপোর্ট করে, যা সাউন্ডের মাঝে বিরতি বা ল্যাগ কমিয়ে আনতে সক্ষম
  • এনএফসি পেয়ারিং সাপোর্ট করে। ফলে এনএফসি সাপোর্টেড ফোনে ছোঁয়ানো মাত্র সংযুক্ত হবে
  • সিভিসি নয়েজ ক্যান্সেলিং সুবিধা।  এর মাধ্যমে কথা বলার সময় বাইরের শব্দ অপর প্রান্ত থেকে শোনা যাবে না
  • ঘাম ও বৃষ্টির পানি প্রতিরোধ করতে সক্ষম
  • গান বদল, ভলিউম কমানো ও ফোন রিসিভ করার বাটন
  • ৮ ঘন্টা ব্যাটারি লাইফ
  • এক সঙ্গে দুটি ডিভাইসে পেয়ার করার সুবিধা। এতে বার বার ফোন ও ট্যাবলেট বা ল্যাপটপের সঙ্গে পেয়ার করার ঝামেলা নেই

ব্লুটুথ হেডফোনের ব্যাপারে সবারই প্রথম ও শেষ কথা হচ্ছে হেডফোনের ব্যাটারি লাইফ। ফোনের পাশাপাশি এ ডিভাইসেও বেশি বেশি চার্জ করার ঝামেলা থাকলে তা গান শোনায় ব্যাঘাত ঘটায়। তবে এ হেডফোনের পরিক্ষীত ৮ ঘন্টা ব্যাটারি লাইফের কারণে এ সমস্যায় পড়তে হবে না। কোনও তার না থাকার ফলে এটি পকেটে প্যাঁচ লেগে যাওয়ার সমস্যাও নেই।

ডিজাইন ও বিল্ড
আওয়েই এ৮৮০বিএল হেডফোনটি স্পোর্ট হেডফোন হিসেবে ডিজাইন করা হয়েছে। এটির মূল বডি প্লাস্টিকের তৈরি। এতে ব্যবহৃত প্লাস্টিক ও রাবার বেশ উন্নত মানের হলেও অসাধারণ কিছু নয়।

ডানে রয়েছে বাটনগুলো, চার্জ করার প্লাগ ও ইন্ডিকেটর লাইট ও মাইক্রোফোন।

একটি ইলাস্টিক রাবারের তৈরি পাইপের মাধ্যমে হেডফোনটি যুক্ত করা রয়েছে, এর ফলে এটি পরে থাকার সময় সেটি কানের সঙ্গে ভাল ভাবেই লেগে থাকবে।

বামে রয়েছে শুধু এনএফসি পেয়ার করার প্যাডটি।

প্যাকেজিং
হেডফোনটি বেশ শক্ত ও স্মার্ট বক্সে করে বিক্রি করা হচ্ছে। এটি খুললেই সামনের ফ্ল্যাপে হেডফোনটি দেখা যাবে। বক্সে পাবেন-

  • হেডফোন
  • ছোট, মাঝারি ও বড় মাপের ইয়ারবাড
  • চার্জের জন্য মাইক্রো ইউএসবি ক্যাবল
  • ম্যানুয়াল

সাউন্ড কোয়ালিটি ও অন্যান্য ব্যাবহার
ব্লুটুথ ৪ ব্যবহারের ফলে হেডফোনটি পেয়ার করতে বা কানেক্ট করতে কয়েক সেকেন্ডের বেশি সময় লাগবে না। তবে সাউন্ড কোয়ালিটি ঠিকভাবে বুঝতে কানের মাপ অনুযায়ী ইয়ারবাডটি লাগিয়ে নিতে হবে।

এটির সাউন্ড কোয়ালিটি বা সর্বোচ্চ ভলিউম বাজারের যে কোনও মাঝারি দামের তারযুক্ত হেডফোনের সমান। বলা যেতে পারে ৪০ হার্জ থেকে ১৮০০০ হার্জ পর্যন্ত সাউন্ড তৈরিতে সক্ষম এটি।

সেদিক থেকে এটি ঠিক হাই-ফাই পর্যায়ের সাউন্ড না হলেও; কিন্তু খুব কম ব্যবহারকারীর কাছেই এটি অপ্রতুল মনে হতে পারে। তবে মূল্য বিচারের দিক থেকে সাউন্ড যথেষ্ট ভালো। এর চাইতে ভালো সাউন্ড পেতে খরচ করতে হবে আরও অনেক বেশি।

হেডফোনটির ফোন কল কোয়ালিটিও চমৎকার। ক্লিয়ার মাইক্রোফোন ও সিভিসি নয়েজ ক্যান্সেলেশনের ফলে কথা বলতে কোনও সমস্যাই হবে না।

সমস্যা
কোনো গ্যাজেটই সমস্যার ঊর্ধ্বে নয়। তবে মূল্য ও সুবিধা বিচারে এটির সমস্যা খুবই কম।

প্রথমত, হেডফোনটির সব সরঞ্জাম কানের সঙ্গে হবার ফলে এটি কানের মধ্যে কিছু চাপ ফেলে, ফলে অভ্যস্ত হতে কিছু সময় লাগতে পারে। তবে এর ওজন যে কোনও ওভার- ইয়ার হেডফোনের চাইতে অনেক কম।

দ্বিতীয়ত, এটির আরেকটি বড় সমস্যা চার্জিং প্লাগ। প্লাগটি হেডফোনের বেশ গভীরে। ফলে চার্জিং ক্যাবল লাগাতে বেশ সমস্যা হতে পারে। তবে প্রতিদিন চার্জ করার প্রয়োজন নেই বলে এর সাথে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব।

সবশেষে বলা যেতে পারে, যারা ব্লুটুথ বা যে কোনও মাঝারি মানের হেডফোন কেনার পরিকল্পনা করছেন তারা নিঃসন্দেহে এটি কিনতে পারেন।

মূল্য
এটি যে কোনো মোবাইল ও হেডফোনের দোকানে ১৬০০ বা ১৮০০ টাকা দামে পাওয়া যাবে।

এক নজরে ভাল

  • সাউন্ড কোয়ালিটি
  • ব্যাটারি লাইফ
  • পেয়ারিংয়ের এনএফসি সুবিধা
  • কল কোয়ালিটি

এক নজরে খারাপ

  • দীর্ঘ সময় ব্যাবহারে কিছু সমস্যা হতে পারে
  • চার্জিং পোর্ট বেশ গভীরে, কানেকশনে কিছু জটিলতা হতে পারে

শক্তিশালী ফিচারে এলো ব্লুটুথ ৫

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : গত জুনে ব্লুটুথ স্পেশাল ইন্টারেস্ট গ্রুপ ব্লুটুথের নতুন সংস্করণ আনার ঘোষনা দেয়। শুক্রবার ব্লুটুথ ৫ নামের এই সংস্করণের বিবরণী প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

ব্লুটুথ এসআইজি জানায়, শক্তিশালী ও উন্নত ফিচার নিয়ে ব্লুটুথ ৫ প্রযুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। বিশ্বব্যাপী ডিভাইস প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের ব্যবহারের জন্য এটি প্রস্তুত।

Bluetooth 5_TechShohor

ব্লুটুথ ৫ এর ব্যান্ডউইথ দ্বিগুন করেছে। সীমা বেড়েছে ৪ গুন। এছাড়া আগের সংস্করণ ব্লুটুথ ৪.২ এর চেয়ে ৮ গুন বেশি দ্রুত ডাটা ট্রান্সফার করতে পারবেন এই নতুন সংস্করণ। এটি স্মার্ট অ্যাপ্লিকেশন ও ইন্টারনেট অব থিংকসে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী হবে। কারণ বর্তমান সংস্করণ পূর্ণ ঘরে সংযোগ স্থাপন করার মতো শক্তিশালী নয়।

ব্যবহারকারীদের ব্লুটুথের হেডফোনের সীমা বাড়ালেও এটি অডিও প্লেব্যাক ও টেলিফোন কলের ক্ষেত্রে সাউন্ডের মানের কোনো প্রভাব ফেলবে না। তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে ২০১৮ সাল পর্যন্ত।

এসআইজি প্রত্যাশা করতে আগামী বছরের প্রথম নাগাদ ব্লুটুথ ৫ সম্বলিত পণ্য বাজারে আসবে।

দ্য নেক্সট ওয়েব অবলম্বনে রুদ্র মাহমুদ

দুই ডিভাইস সমর্থিত এমআই ব্লুটুথ হেডসেট উন্মুক্ত

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : একইসাথে দুটি ডিভাইসের সংযুক্ত থাকতে সক্ষম নতুন ব্লটুথ হেডসেট উন্মুক্ত করেছে শাওমি। এমআই স্পোর্টস ব্লুটুথ হেডসেট নামের এই হেডসেট ক্ল্যাসিক ইন-ইয়ার ডিভাইনের।

হেডসেটটির ইয়ারবাডে লুপ রয়েছে, ফলে এটি কানের সাথে সহজে লেগে থাকে। একটি বাম এবং ডান প্রান্ত তারের সাথে সংযুক্ত। ফলে একটি বাদে আরেকটি হারানোর ভয় নেই।

Xiaomi launches Mi Sports Bluetooth Headset-TechShohor

১৭.৮ গ্রামের এই হেডসেটে রয়েছে ১১০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি, যা সর্বোচ্চ ৭ ঘন্টা পর্যন্ত ব্যাকআপ দেবে। হেডসেটটি ব্লুটুথ ৪.১ প্রযুক্তির মাধ্যমে স্মার্টফোনে সংযুক্ত হয় এবং একসাথে দুটি ডিভাইসে সংযুক্ত থেকে কাজ করতে পারে।

২২ ডলারের এই হেডসেটি আগামী ১১ নভেম্বর থেকে চীনের বাজারে পাওয়া যাবে। শিগগিরই বিশ্বের অন্যান্য বাজারেও হেডসেটটি ছাড়া হবে।

জিএসএম এরিনা অবলম্বনে রুদ্র মাহমুদ

ফোন চার্জ নিয়ে যত ভুল ধারণা

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : স্মার্ট ফোনের ব্যাটারির কার্য ক্ষমতা নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই। গত এক দশকে মোবাইল ফোনের প্রযুক্তি এগিয়েছে বহুগুণ।

তবে, সে অনুপাতে এর ব্যাটারির ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়নি এতটুকু। এ নিয়ে বিস্তর গবেষণা হচ্ছে। ফোনের ব্যাটারি সংক্রান্ত কিছু ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি কারণ তুলে ধরা হলো।

বেশিরভাগ সময়ে যে কাজটি করা হয় তা হলো ফোনের ব্যাটারি পুরোপুরি চার্জ দেওয়া। যাতে ব্যাটারি তার সর্বোচ্চ সার্ভিস দেয়। কিন্তু ৮০ ভাগ চার্জ হওয়ার পরপরই চার্জ বন্ধ করে দেওয়া উচিত। স্মার্টফোন বা অ্যান্ড্রয়েড ফোনগুলো ৪০ শতাংশ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে সবচেয়ে ভালো কাজ করে থাকে।

images (Custom)

বারবার চার্জ দিলে ব্যাটারি বা ফোনের ক্ষতি হতে পারে বলে যে প্রচলিত ধারণা রয়েছে তাও সত্যি নয়।

ব্রান্ড ছাড়া চার্জার ব্যবহার করা একেবারেই ঠিক নয়। ব্যবহারকারী যে ডিভাইসটি ব্যবহার করছেন শুধু ওই ডিভাইসের জন্য তৈরী চার্জারটিই ব্যবহার করা ব্যাটারি ও ডিভাইসের জন্য ভালো।

রাতভর ফোন চার্জ সেটের জন্য ক্ষতিকর বলে মনে করেন অনেকে এটাও ঠিক নয়। এখনকার বেশিরভাগ ফোন এতোটা স্মার্ট যে পুরোপুরি চার্জ হলে সয়ংক্রিয়ভাবে চার্জ নেওয়া বন্ধ করে দেয়।

বেশিরভাগ মানুষ মনে করেন চার্জ করা অবস্থায় ফোনে কথা বলা ব্যাটারির জন্য ক্ষতিকর। এটি ঠিক নয়।

ফোন বারবার বন্ধ করাটাও ব্যাটারির জন্য ক্ষতিকর নয়। বরং কিছু কিছু ক্ষেত্রে তা ডিভাইসের জন্য উপকরী।

নতুন ফোন কেনার পর শতভাগ চার্জ বা দীর্ঘ সময় চার্জ করতে হবে, এমনটা মোটেও ঠিক নয়।

ইন্টারনেট ব্যবহার বা গেইমের ক্ষেত্রে ডিভাইসের স্কিনের ব্রাইটনেস কমিয়ে রাখা ভালো। তবে, ইন্টারনেট ব্যবহার ব্যাটারির চার্জ তারাতাড়ি শেষ করে এমনটা সত্যি নয়।

ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ ও জিপিএস অন থাকলেও যদি কাজ না করা হয়, সে ক্ষেত্রে এটি ব্যাটারির উপর কোন প্রভাব ফেলে না।

কেউ কেউ ফোনের ব্যাটারি খুলে ঠান্ডা স্থান বা ফ্রিজে রেখে থাকেন চার্জ ধরে রাখতে, এটি আসলে কুসংস্কার ছাড় আর কিছু নয়।

এছাড়া, থার্ড পার্টি টাস্ক ম্যানেজার অ্যাপও ফোনের ব্যাটারির উপর কোন রকম প্রভাব ফেলে না।

টেক রিপাবলিক অবলম্বনে সৌমিক আহমেদ

আরও পড়ুন:

ফোনের ব্লুটুথ সমস্যায় করণীয়

তুসিন আহমেদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : মোবাইল থেকে ফাইল আদান প্রদানের জন্য ব্লুটুথ বেশ জনপ্রিয় একটি টুল। বর্তমানে বেশিরভাগে বেসিক ফোনে এ সংযোগ সুবিধা রয়েছে। এ প্রযুক্তিতে কম ক্ষমতার বেতার তরঙ্গের মাধ্যমে তথ্য পাঠানো হয়। তবে মাঝে মধ্যে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয় ব্লুটুথ ব্যবহারে।

এ যোগাযোগ ব্যাবস্থায় ২.৪৫ গিগাহার্টজের কম্পাংক ব্যবহৃত হয়। বেশিরভাগ ফোনের ব্লুটুথ সংযোগ ব্যবহার করে ১০ মিটার পর্যন্ত ব্যবধানে ডেটা স্থানান্তর করা যায়। তবে বিদ্যুৎ কোষের শক্তি বৃদ্ধি করে এর পাল্লা ১০০ মিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি করা যেতে পারে।

ফোনের অনেক ব্যবহারকারীকে ব্লুটুথ সমস্যা পড়তে হয়। এতে করে অনেক সময় অন্য ডিভাইসের সঙ্গে সংযোগ বা ফাইল আদান প্রদানের করতে সমস্যা হয়। এমন সমস্যায় পড়তে কি করতে হবে তা জানাতে এ প্রতিবেদন।

lumia-bluetooth

 

১. প্রথমে ডিভাইসটি রিস্টার্ট কিংবা অন অফ করে চেক করতে হবে। এতে করে সাময়িক কোনো সমস্যা হলে তা ঠিক হয়ে যেতে পারে।

২. ব্লুটুথে পেয়ারিং লিস্ট’ থাকা ডিভাইসগুলো ডিলেট করে দিতে হবে। অনেক সময় বেশি ডিভাইসের পেয়ারিং লিস্ট হলে এতে সমস্যা হয়। পরে নতুন করে পেয়ারিং করে সংযোগ করতে হবে।

৩. আগের দুই ধাপে কাজ না হলে ডিভাইসের apps থেকে  settings -এ গিয়ে application manager  থেকে Bluetooth লোকেশনে যেতে হবে। এরপর এতে লং প্রেস করে ‘Force stop’ ক্লিক করতে হবে । এরপর clear cache অপশনে ট্যাপ করে ডিভাইসটি রিস্টার্ট করতে হবে।

৪.যে ডিভাইসটির সঙ্গে ডেটা আদান প্রদান করা হবে সেটিরও সমস্যা থাকতে পারে। তাই সে বিষয়েও প্রথমে নিশ্চিত হতে ওই ডিভাইটিও চেক করতেব হবে।

৫. যে ডিভাইসটির সঙ্গে যুক্ত করা হবে সেটিকে পেয়ারিং লিস্ট থেকে মুছে দিতে হবে এবং নতুন করে লিস্টে যোগ করতে হবে। এতে অনেক সময় সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।

যদি এসব পদক্ষেপেও কাজ না হয় তাহলে ফোনটি সম্পূর্ণ রিস্টার্ট কিংবা ফ্যাক্টোরি রিসেট করে দেখতে হবে ঠিক হয় কি না। যদি না হয় তাহলে বুঝতে হবে ব্লটুথের হার্ডওয়্যার জনিত কোনো সমস্যা রয়েছে। সেক্ষেত্রে কারিগরি পরামর্শের জন্য সার্ভিস সেন্টারে যোগাযোগ করতে হবে।