একজন ব্লগারের যে তিন সুপারপাওয়ার থাকতে হবে

মোশাররফ রুবেল, অ্যাপ ডেভেলপার  অতিথি লেখক : একজন ভাল ব্লগার হতে হলে আপনার অবশ্যই গল্প বলার ক্ষমতা থাকতে হবে। ভালো গল্প বলার কৌশল আপনাকে ভালো ব্লগার হতে সাহায্য করবে।

প্রথমত, আপনাকে গল্প বলার কাঠামোর উপর মনোযোগী হতে হবে। কিভাবে একটা ভালো কাঠামোর মাধ্যমে গল্পটাকে এগিয়ে নেয়া যায় এবং আপনি তা দিয়ে একটা আকর্ষনীয় ব্লগ পোষ্ট তৈরি করতে পারেন।

যে তিনটি সুপারপাওয়ার একজন ব্লগারের থাকা দরকার ও আপনি তা কিভাবে আয়ত্ত করতে পারেন তা নিয়ে এ টিউটোরিয়াল।

সুপারসনিক হিয়ারিং
লেখকদের একটা অবিশ্বাস্য বিষয় আছে যা সত্যি অবাক করার মতো। আপনাকে অন্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। আড়িপাতার গুণ থাকলে সেটিও মাঝে মধ্যে কাজে লাগাতে হবে।

আপনি বিষয়টা নিয়ে জনপ্রিয় লেখকের সঙ্গে কথা বলে দেখতে পারেন। আমার মনে হয় তারা তা অকপটে স্বীকার করবে। যারা সত্যি ভালো লেখক তারা সব জায়গাতেই, যেমন-  বাসে, ট্রেনে, লঞ্চে ও ক্যাফেতে মানুষের আলোচনা মনোযোগ দিয়ে শোনেন।

এর কারণ সেখান থেকে গল্প ও ব্লগ লিখতে দারুণ সব আইডিয়া সংগ্রহ করেন তারা। লেখকদের অন্যের কথা বেশি বেশি শোনার ক্ষমতা থাকতে হবে। এতে নতুন আইডিয়া আসবে। চারিদিকে কি ঘটছে তারা তা জানতে পারবেন। অন্যেরক মনোজগতে কি চলছে তা বুঝতে পারবেন।

এটি আপনার জন্য কিভাবে কার্যকরি হবে
আপনাকে মনোযোগী শ্রোতা হতে হবে। দেখতে হবে যে আপনার আশেপাশের মানুষ কি বিষয় নিয়ে কথা বলে, তাদের কি ধরণের সমস্যা আছে। তারা সেটা নিয়ে কিভাবে ভাবছেন। তা থেকে আপনি আপনার কাঙ্খিত লেখার টপিক খুঁজে নিতে পারেন।

তাছাড়া আরও একটা বিষয় আপনাকে সাহায্য করতে পারে তা হলো আপনার আইডিয়াগুলো পিসিতে লিখে রাখতে পারেন। প্রতিদিন সেটা নিয়ে কাজ করতে পারেন এবং নতুন কিছু যোগ করতে পারেন।

blogger-techshohor

ব্যাটম্যান ভয়েস
আমাদের সকলেরই একটা ব্যাটম্যান ভয়েস আছে। আপনারও আছে। আজকে থেকে চেষ্টা করুন সেটাকে টেনে বের করে নিয়ে আসার।

একটা বিষয়ে বিশ্বে মিলিয়ন ব্লগ পোষ্ট আছে। তবে আপনি যখন সে বিষয় নিয়ে লিখবেন তখন সেটা আপনার নিজস্ব স্টাইলে লিখবেন। নতুন কিছু যোগ করবেন, আপনার মতামত তুলে ধরবেন যাতে সেটা কারো কপি না হয়ে যায়।

আপনি লিখবেন শুধু আপনার মতো করে, যা নিজস্ব স্টাইল তৈরি করতে সাহায্য করবে। এ গুণ আপনাকে অন্যদের থেকে আলাদা করবে।

এটি আপনার জন্য যেভাবে কার্যকরি হবে
নিজের মতামতকে প্রতিষ্ঠিত করার সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে লেখা। আপনাকে লেখার জন্য অনেক আন্তরিক হতে হবে। ভাবতে হবে এটার সঙ্গে অনেক বেশি সংযুক্ত হতে হবে। আপনি একটা ডায়েরি রাখতে পারেন যাতে প্রতিদিনের চিন্তাগুলো লিখে রাখতে পারেন।

চারপাশে ঘটে যাওয়া সব ঘটনা লিখে রাখা বা মনে রাখার দরকার নেই, তবে এর মধ্য থেকে দু’একটি ঘটনা নিয়ে লিখতে থাকুন। এভাবেই চর্চা চালিয়ে যান। এটা আপনার মধ্যে ভয়ংকর সুপারপাওয়ার তৈরি করবে।

সাহসিকতা
‘যে কোনো কিছু করা সম্ভব যদি আপনার পর্যাপ্ত নার্ভ থাকে’- জনপ্রিয় লেখক জে কে রাউলিংয়ের এ কথা একবারে বাস্তব। প্রত্যেক সফল ব্লগার ও লেখকের প্রচন্ড সাহসিকতা নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। হেরে যাবার ভয় থাকলে চলবে না।

আপনার সাহসিকতাই সাহায্য করবে ভালো কিছু লিখতে ও তা ব্লগ পোষ্টের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে।

ভালো ব্লগার হতে নিজের মধ্যেকার গুণতে নিজেই বাইরে নিয়ে আসার চেষ্টা করতে হবে। আপনার মধ্য থেকে আপনাকেই বের করে নিয়ে আসতে  হবে। প্রথমত, সবাই আপনার সাথে একমত নাও হতে পারে, কেউ কেউ এটাকে অপছন্দই করতে পারে। কিন্তু বিশ্বাস করুন এর মধ্য দিয়েও আপনি কিছু শিখতে পারবেন প্রতিমূহর্তে।

এটি আপনার জন্য যেভাবে কার্যকরি হবে
এখানে একমাত্র উপায় হচ্ছে সবকিছুর ভেতর দিয়ে লেখাটকে চালিয়ে যাওয়া। আপনি যদি সমালোচনার ভয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকেন তাহলে কখনও এগুতে পারবেন না। ধৈর্য নিয়ে লিখতে হবে। এর ফলস্বরূপ ভালো কিছু আপনি পাবেনই।

আরও ভালো হতে পারে আপনি যদি কমিনিউটিতে যেসব ভালো লেখক আছেন তাদের সঙ্গে গেটটুগেদার করেন ও আইডিয়া নেন।

একই সঙ্গে নিয়মিত হ্যাশট্যাগ চেক করুন। এ থেকে জানতে পারবেন চারিদিকে কি ঘটছে। ট্রেন্ডিং বিষয়গুলো কী। এগুলো থেকে আইডিয়া নেওয়ার চেষ্টা করুন।

rubel

আরও পড়ুন

এক ব্লগারের ১৪ বছরের শ্রম পন্ড করল গুগল

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : প্রায় ১৪ বছর ধরে তিলে তিলে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন একটি ব্লগ। জনপ্রিয়তাও ছিল বেশ। তবে গত ২৭ জুন এ ব্লগারের এ পরিশ্রম পন্ড করে দিয়েছে গুগল। একই সাথে নিজের জিমেইল অ্যাকাউন্টটিও হারাতে হয়েছে হতভাগা ওই ব্লগারকে।

ঘটনাটি ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার আলোচিত লেখক, সাহিত্যিক, ব্লগারসহ নানা গুনের অধিকারী ডেনিস কুপারের সাথে। তিনি ব্লগটিতে অনুসন্ধানমূলক লেখা, গবেষনা, ছবিসহ বিভিন্ন বিষয়ে লেখা প্রকাশ করতেন।

google is popular_Tech Shohor

সাইটটি গুগলের মালিকানাধীন ব্লগস্পট ডটকমে হোস্ট করা ছিলো। গত ২৭ তারিখ থেকে গুগল সাইটটি সরিয়ে নেয়। একইসাথে কুপারের জিমেইল অ্যাকাউন্টটিও নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছে, যাতে কুপারের কনট্যাক্টসহ বিভিন্ন অফার ছিলো।

কুপার গুগলের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো উত্তর পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। তবে সাইটটি বন্ধের পিছনে গুগল একটি মেসেজ দিয়েছে যাতে বলা হচ্ছে, সাইটটি গুগলের সার্ভিস এগ্রিমেন্ট না মানায় এটি করা হয়েছে।

সাইটটি পুনরায় ফিরিয়ে আনার জন্য গুগলকে অনুরোধে একটি পিটিশন খোলা হয়েছে।

ফক্সনিউজ অবলম্বনে রুদ্র মাহমুদ

সফল ট্রাভেল ব্লগার হওয়ার ৭ টিপস

ফারজানা মাহমুদ পপি, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ঈদের সময় মজা করে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। দারুণ সব জায়গায় যাচ্ছেন। মজার সব অভিজ্ঞতা হচ্ছে। এর মধ্যে কয়েকজন সেগুলো তুলে ধরছেন অনলাইন। এ থেকে আয়ও করছেন বেশ। স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে- তাই না? তবে এটি স্বপ্ন নয়, বাস্তব। বিশ্বব্যাপী ভ্রমণ ব্লগের বড় বাজার রয়েছে, এর চাহিদাও বাড়ছে।

আপনি যেখানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তার গল্পের ঢংয়ে তুলে ধরুন। ভ্রমন সম্পর্কে জানান। পাঠক আসবেই, যা টেনে নিয়ে আসবে বিজ্ঞাপনও। এ থেকে আয় হবে বড় অংকের অর্থ।

একজনের ভ্রমণ ব্লগারের গল্প বলি। ক্রিস্টি উডো নামের সান ডিয়াগো শহরের ৩৬ বছর বয়সী এক নারী ২০১০ সালে তার ভ্রমণ ব্লগ শুরু করেন। এর আগে তিনি নিজের হিসাবরক্ষণ ব্যবসার আর্থিক উপদেষ্টা ছিলেন।

travel-blogging-tips-TechShohor

প্রথমদিকে ব্লগ লিখে বিখ্যাত হয়ে ওঠা এ পর্যটক একটু কম উৎসাহী ছিলেন। ধীরে ধীরে তিনি অকুতোভয় গতিতে এগিয়ে চলেছেন। গত ছয় বছরে তিনি ভ্রমণ ব্লগার ও ফটোগ্রাফার হিসেবে বিশ্বভ্রমণ করেছেন। গত বছর লাখ ডলার ছিল তার বার্ষিক আয়।

বলছিলাম বিশ্বব্যাপী ভ্রমণ ব্লগের বড় বাজার রয়েছে। তবে সবার জন্য সহায়ক ও তথ্যপূর্ণ ব্লগ লেখা সহজ নয়। এজন্য আপনাকে বেশ মনোযোগী হতে হবে। অর্জন করতে হবে দক্ষতাও।

সর্বশেষ ট্রাভেল ট্রেন্ডস রিপোর্ট অনুযায়ী, ৯২ শতাংশ সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী ট্রাভেল ব্লগের মাধ্যমে অনুপ্রাণিত হন। এ ছাড়া প্রায় ৭২ শতাংশ লোক সোশ্যাল মিডিয়ায় তার বন্ধুদের মতামতের ভিত্তিতে ভ্রমণে স্থান নির্ধারণ ও পরিবর্তন করে থাকে।

তাই আপনি যদি ভ্রমণ করতে ভালোবাসেন ও এ বিষয়ে সবাইকে জানানোর মাধ্যমে আয় করতে চান তাহলে একজন ভ্রমন বিষয়ক ব্লগার হিসেবে কাজ শুরু করতে পারেন। একজন সফল ভ্রমণ ব্লগার হওয়ার সাতটি গুরুত্বপূর্ণ টিপস দেওয়া হলো:

যথাযথ কারণ নির্ধারণ
আপনি একটি ভ্রমণ বিষয়ক ব্লগ লিখলেই সবাই পড়বে না। সেটির প্রতি অন্যদের আগ্রহ থাকতেও হবে। আপনাকে মনে করতে হবে আপনি যেখানে যাবেন সেখানকার ভ্রমণ খরচ, হোটেল ভাড়া সবাই আপনার এই লেখনীর মাধ্যমে উঠে আসতে হবে। আপনার ভবিষৎ রুপরেখা চূড়ান্ত করেই তবেই ভ্রমণ করুন ও লিখুন।

নিশ বিষয় বাছাই করুন
প্রথমদিন আপনি থাইল্যান্ডের একটি রাজকীয় হোটেল সম্পর্কে লিখলেন। দ্বিতীয়দিন আপনি বার্লিনের একটি সস্তা রেস্টুরেন্ট সম্পর্কে লিখলেন। বুঝতে পারছেন কি হবে? আপনার পাঠকরা দ্বিধান্তিত হবে।

আপনি যে বিষয়ে লিখবেন তাতে আপনার অভিজ্ঞ হতে হবে এবং নিজস্ব বিষয় থাকতে হবে। কারণ আপনার একটি নির্দিষ্ট বিষয় আপনাকে হাজারো ব্লগারের থেকে ভিন্ন করবে।

বিশ্বের সফল ব্লগাররা একটি নির্দিষ্ট বিষয় নিয়েই লিখে থাকেন। যেমন ফিমেল ট্রাভেল, ফ্যামিলি ট্রাভেল, লাক্সারি ট্র্যাভেল, ফ্যাশন ট্রাভেল, বাজেট ইউরোপ ট্রাভেল, সিনিয়র ট্রাভেল ইত্যাদি। তাই আপনাকে প্রথমেই আপনার কাঙ্খিত পাঠক খুঁজতে হবে এবং তাদের আগ্রহের বিষয়েই লিখতে হবে।

ভালো গল্প লিখুন
সবাই একটি ভালো গল্প পড়তে চায়। তাই যখনই আপনি কোনো বিষয়ে লিখবেন তার একটি ভালো গল্প থাকতে হবে। একটি সিনেমার মতোই আপনার শুরু, মধ্যকার কাহিনী ও শেষটা ভালো হওয়া চাই। একজন নায়ক এবং ভিলেনের বাইরে অন্যদের উত্তেজনাও আপনাকে চিন্তা করতে হবে।

Travel-girl-techShohor

সমাধান দিন
মানুষ একটি সমস্যার সমাধান চায়। তারা আদ্যোপান্ত জানতে চায়। তাই আপনার ব্লগের ডিজাইনটা হতে হবে একটি সমাধানের প্লাটফর্ম। ফলে একজন পাঠকের জানার আগ্রহের শেষটা পর্যন্ত আপনাকে আপনার ব্লগেই রাখতে হবে।

তাকে যেন একই বিষয়ের আরেকটি তথ্য পাওয়ার জন্য অন্য কোনো ব্লগে ভিজিট করতে না হয়। শুধু নিজের অভিজ্ঞতা না বলে পাঠক কিভাবে আরও ভালোভাবে তার ভ্রমণটি করতে পারে সেটি জানাতে হবে।

বিস্তারিত লিখুন
আবারও বলছি, শুধু আপনার ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখলে হবে না। পাঠকদের এর বিস্তারিত জানাতে হবে। লেখার পাশাপাশি আপনাকে যথেষ্ঠ ছবিও দিতে হবে। ক্ষুদ্র কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাদ দেওয়া চলবে না।

প্রয়োজনীয় তথ্য যেমন বিভিন্ন খরচ, কোন সময় খোলা থাকে, কিভাবে স্থানটি সহজে খুঁজে পাওয়া যাবে ইত্যাদি ছোট ছোট তথ্যও দিতে হবে।

হাল ছেড়ে দিবেন না
কিছুদিন লিখলেন। সফলতা না দেখে হাল ছেড়ে দিলেন এমনটি করলে চলবে না। ট্রাভেল ব্লগিংয়ে সফল হতে হলে অনেক পরিশ্রম ও সময় দিতে হয়। তাই হতাশ না হয়ে অপেক্ষা করতে হবে।

ভালো ফলোয়ার পেতে পরিমানের চেয়ে বরং মানের দিকে নজর দিন। সোশ্যাল মিডিয়া, সাবস্কাইবার, মেইলিং লিস্টসহ বিভিন্নভাবে ফলোয়ার অর্জন করুন। তবে অবশ্যই স্প্যামিং করবেন না। এতে হিতে বিপরীত হবে।

Lauren-Travel-blogger-techshohor

সাধ্যের বাইরে যাবেন না
আপনি একটি স্থানে না গিয়ে ইন্টারনেট ঘাটাঘাটি করে লিখে ফেললেন। এটি মোটেও করবেন না। একজন ভালো ট্রাভেল ব্লগার হতে খুব ভালো ব্লগিং কিংবা ওয়েব ডিজাইনে দক্ষতার প্রয়োজন নেই। এগুলো আস্তে আস্তে হয়ে যাবে। আপনাকে নিজের সাধ্যের মধ্যেই সর্বোচ্চ ভালোটা দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। তাই বলে থেমে থাকলে চলবে না।

আলবার্ট আইনস্টাইন বলেছিলেন, আপনি যদি পথে না নামেন তাহলে কিছুই ঘটবে না। তাই বুঝে শুনে, পরিকল্পনা করে, নিজের পছন্দের বিষয়বস্তু বুঝে এবং কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে নেমে পড়ুন। চেষ্টা থাকলে অবশ্যই সফল হবেন।

সিএনএন অবলম্বনে

ভ্রমণ আর ব্লগিং করে লাখপতি!

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : জনি ওয়ার্ড। ৩২ বছর বয়সী এই আইরিশ ট্রাভেল ব্লগারের বার্ষিক আয় ছয় লাখ ডলারের বেশি। তার পুরো এ আয় আসে ব্লগিং থেকে। পাশাপাশি তিনি সস্ত্রীক পুরো বিশ্ব ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

ঘুরে বেড়ানো আর লেখালেখিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন জনি। তবে তিনি এটাকে পেশা বলতে রাজি নন। তার ভাষায়, ভ্রমণের নেশা চেপে বসেছে তার মাথায়।

গল্পের শুরু ২০০৬ সালে। যুক্তরাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে থাইল্যান্ডে চলে যান জনি। সেখানে একটি কলেজে ইংরেজি পড়ানো শুরু করেন। বছর না পেরোতেই তিনি চলে আসেন অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে। শুরু করেন রেপ নামের এক ধরনের কাপড়ের ব্যবসা। প্রথমবারই তার লাভ হয় ২০ হাজার ডলার।

million-dollar-travel-blogger-techshohor

তবে একজন ব্যবসায়ী হিসেবে নিজেকে কখনোই দেখতে চাননি তিনি। তাই ব্যবসা করে কিছু টাকা জমানোর পর বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াতে শুরু করেন। এ সময়ই তিনি একটি ব্লগ চালু করেন। তিনি যখন ইথিয়োপিয়াতে ছিলেন তখন এই ব্লগ থেকে বিজ্ঞাপন বাবদ ৫০০ ডলার আয় করেন।

সেই থেকে শুরু। এরপর ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে তার আয়। ২০১১ সালের দিকে তিনি প্রতিমাসে দেড় থেকে দুই হাজার ডলার আয় করা শুরু করেন। ব্লগিংয়ে ভালো রোজগারের সুযোগটিকে আরও ভালোভাবে কাজে লাগানোর জন্য তিনি আরও কয়েকটি সাইট চালু করেন।

বর্তমানে তার মাসিক আয় ৫০ হাজার ডলারের মতো। এক মাসে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার ডলারের মত আয় করেছেন তিনি।

সিএনএন অবলম্বনে শামীম রাহমান

ব্লগে আকর্ষণীয় শিরোনাম লেখার ৯ টিপস

মোশাররফ রুবেল, অ্যাপ ডেভেলপার  অতিথি লেখক : একজন ব্লগার খুব ভালো ব্লগ লিখছেন। নিয়মিত সেটি আপলোডও করছেন। অনেকেই তার প্রশংসা করছেন। তবে খুব বেশি সংখ্যক পাঠকের কাছে তা পৌঁছাচ্ছে না। ব্লগের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে তা পাঠক পড়ছেন কিনা কিংবা সেটির র‍্যাংক।

ব্লগ তখনি মানুষ পড়বে ও ভাল র‍্যাংক করবে, যখন ব্লগের আর্টিকেলগুলোর শিরোনাম খুব আকর্ষণীয়ভাবে লেখা হবে। একটি চমৎকার শিরোনাম অনেক অচেনা পাঠককেও লেখার মধ্যে টেনে আনবে। এ কারণে দারুণ একটি শিরোনাম লেখার বেলায় অনেক কিছু খেয়াল রাখতে হয়।

শিরোনাম কত বড় হবে, কতগুলো শব্দ ব্যবহার করা যাবে, কোন শব্দগুলো পরিহার করতে হবে ও মূল বিষয়বস্তুর সঙ্গে সেটির মিল কতটুকু তা মাথায় রাখতে হবে। এসব বিষয় মেনে শিরোনাম লিখতে খুব সহজ একটা ফর্মুলা নিয়ে আলোচনা করব- যা আপনাদের আকর্ষণীয় শিরোনাম লিখতে সাহায্য করবে।

bloging-techshohor

কার্যকরি শিরোনাম দিয়ে শুরু করুন
একটা কার্যকরি শিরোনাম হবে একেবারে সুনির্দিষ্ট। এটি আপনাকে সাহায্য করবে একটি সিংগেল ব্লগ পোস্ট তৈরি করতে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, শিশুদের স্বাস্থ্যকরভাবে বেড়ে ওঠা বিষয়বস্তু থেকে আপনি অনেকগুলো কার্যকরি শিরোনাম তৈরি করতে পারেন। যেমন-

ক) কিভাবে সঠিক পুষ্টি আপনার শিশুর হাড়কে শক্তিশালী করে

খ) শিশুদের আচরণগত শিক্ষায় পিতা-মাতাদের করণীয়

গ) শিশুদের জন্য মজাদার রেসিপি

এখানে দেখুন, প্রতিটি শিরোনাম একটির থেকে অন্যটি ভিন্ন। অথচ মূল বিষয়বস্তু শিশুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রিক। এগুলোর প্রতিটি কার্যকরি শিরোনাম হতে পারে। এগুলো ব্লগ পোস্ট লেখার জন্য সুনির্দিষ্ট ও যথেষ্ট। পরে বিভিন্ন কৌশলের মাধ্যমে এগুলোকে ক্লিক ও সার্চফ্রেন্ডলি করে তুলতে হবে।

শিরোনামে বাহুল্য শব্দ ও বিশেষণ বাদ দিন
পরিমাণমত লেখা খুবই কঠিন হয়ে পড়ে, যখনই আপনি সেখানে কোনো চালাকি করার চেষ্টা করছেন। যদি কোনো আর্টিকেল এমনভাবে লেখা হয় যেটিতে বলা হচ্ছে, ১০টি বিটুবি কোম্পানি ফেইসবুকে এমন ভাইরাল হচ্ছে যে এগুলোর আলাদা কোনো মার্কেটিং চ্যানেল দরকার নেই। তাহলে অনেকেই এ লিংকে ক্লিক করবে।

তবে এর আগে আপনার অবশ্যই নিশ্চিত হতে হবে, খবরটি সত্য। চাইলে শিরোনামের পাশে ব্র্যাকেট ব্যবহার করতে পারেন ও তাতে কিছু শব্দ লিখতে পারেন যা মূল কনটেন্টকে রিফ্লেক্ট করে। যেমন ইনফোগ্রাফিক আর্টিকেলের জন্য টাইটের পাশে ব্র্যাকেটে ইনফোগ্রাফিক কথাটি ব্যবহার করা যায়।

bloging-techshohor

ছন্দ মিলিয়ে লিখুন

ব্লগ পোষ্টের টাইটেল ছন্দ মিলিয়ে লিখতে পারেন। ব্যাপারটি পাঠককে পড়তে উত্সাহিত করে।

শক্তিশালী ভাষা ব্যবহার করুন

ভালো প্রবাদ বা ফ্রেইজ ব্যবহার করুন।

ছবির মাধ্যমে স্পষ্ট করা আছে তা লিখুন

পোস্টে কোনো ছবি যুক্ত করা হলে তা আর্টিকেলটিকে ভিন্ন মাত্রা দেয়। ছবির মাধ্যম অনেক বেশি কথা প্রকাশ করা যায়। আর্টিকেলে ছবির গুরুত্ব বেশি হলে তাহলে কৌশলে শিরোনামে তুলে ধরুন।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, এ কৌশল ৩৭% বেশি কার্যকরি হয় অন্য যে কােনো শিরোনামের চেয়ে।

পাঠককে ধরে রাখতে ফোকাস করুন ‘কে’- এর উপর, ‘কেন’-এর উপর নয়। যেসব টাইটেলে ‘কে’ আছে সেগুলো ২২% বেশি কার্যকরি।

blogging-464042_960_720

শিরোনাম সংক্ষেপে লিখুন
পোস্টটাকে ভালো র‍্যাংকে রাখতে শিরোনামে ৭০ ক্যারেক্টারের বেশি লিখবেন না। এর বেশি লিখলে আপনার টাইটেল সার্চ ইঞ্জিন দ্বারা অনেকাংশ কাটা যাবে।

হাব স্পট গবেষণা অনুসারে, যেসব টাইটেল/হেডলাইন ৮-১২ শব্দের মধ্যে সেগুলো গড়পড়তা বেশি শেয়ার পেয়েছে টুইটারে। ফেইসবুকে যেসব হেডলাইন ১২-১৪ শব্দের তা সবচেয়ে বেশি লাইক পেয়েছে। তা ছাড়া, যেসব শিরোনামে আটটি শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে সেগুলো অন্যগুলোর তুলনায় ২১% কার্যকরি।

সার্চ ও সোশ্যাল মিডিয়ায় অপটিমাইজের চেষ্টা করুন
সবসময়ই আপনার শিরােনামকে অপটিমাইজ করতে চেষ্টা করবেন। এটাই স্বাভাবিক। তবে একই সঙ্গে যদি সার্চকে অপটিমাইজ করতে চেষ্টা চালান তাহলে সেটা আরও ভালো হবে।

এ ক্ষেত্রে আপনি ওই কিওয়ার্ডগুলোকে ফোকাস করার চেষ্টা করুন, যেগুলো মানুষ হরহামেশা সার্চ করে। কিওয়ার্ডের জন্য সার্চ ভলিউমের সাহায্য নিতে পারেন।

ব্রেইনস্ট্রোম করুন
উপরের টিপসগুলো অনুসরন করে বিষয়বস্তু অনুযায়ী কম শব্দে দারুণ একটি হেডলাইন লেখার চেষ্টা করুন। হুট করে কিছু মনে আসলো আর লিখে অনলাইনে পাবলিশ করে দিলেন- সেটা ভালো কাজের উদাহরণ নয়। শিরোনাম লিখতে একটু মাথা খাটান।

ফাইনাল পাবলিশ দেওয়া আগে ব্রেনস্ট্রোমিং করেন। একই শিরোনামে বিভিন্ন শব্দ যোগ করে, ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখেন কোনটি ভালো শোনায় ও দেখায়। সঠিক কি ওয়ার্ড কোনটিতে বেশি আছে সেটিকে বাছাই করার চেষ্টা করেন।

অন্যদের সঙ্গে আলোচনা করুন
প্রয়োজেন শিরোনাম চূড়ান্ত হলে পাশের সহকর্মীর সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন। তার মতামত নিতে পারেন। অনলাইনে থাকা আপনার বন্ধুর সঙ্গে কথা বলতে পারেন। কাজের জন্য অনলাইনে গড়ে তোলা সিক্রেট গ্রুপেও এক দফায় আলোচনা সেরে নিতে পারেন। সবার পরামর্শে দারুণ একটি শিরোনাম তৈরি হবে যা ব্লগে ব্যাপক হিট হবে।

rubel

আরও পড়ুন

ব্লগিংয়ে ব্যর্থ হওয়ার ৫ কারণ

মোশাররফ রুবেল, অ্যাপ ডেভেলপার  অতিথি লেখক : অনেক আশা ও উত্তেজনা নিয়ে শুরু করেছেন ব্লগিং। অন্যরা এ কাজ থেকে অনেক আয় করছে সে অনুপ্রেরণায় আপনিও নাম লিখিয়েছেন ব্লগার হিসেবে। প্রথম দিকে নবীন এসব ব্লগার যতটা উদ্যোমী থাকেন পরে নানা কারণে তাতে ভাটা পড়ে।

নবীনরা যখন ব্লগিং সাইট খোলার সিদ্বান্ত নেয়, তখন নানা রকম জড়তা তাদের আকড়ে ধরে। যার কারণে তারা সফল হতে পারে না কিংবা অনেকে এ কাজে ইস্তফা দেন। এক গবেষণায় দেখা গেছে, বেশিরভাগ ব্লগই শুরুর চার মাসের মাথায় বন্ধ হয়ে যায়।

বিশ্বে প্রতিদিন ১ লাখ ৭২ হাজারের বেশি ব্লগ সাইট খোলা হয়। তাহলে এত ব্লগ ঝরে পড়ে কেন- তার কিছু কারণ নিয়ে আজকের টিউটোরিয়াল।

blog-laptop-techshohor

কঠোর পরিশ্রম করার ভয়
ব্লগিং করাটা প্রচুর পরিশ্রমের কাজ। এখানে ভালো কিছু করতে হলে আপনাকে অবিশ্বাস্যভাবে পরিশ্রম করতে হবে। প্রথমে অনেক সময় ব্যয় হবে কনটেন্ট তৈরি ও প্রমোশনের কাজে।

আপনি যদি ব্লগটাকে একটা ভাল পর্যায়ে দাঁড় করাতে চান তাহলে এসইও নিয়ে কাজ করতে হবে। অন্যান্য ব্লগারদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতে হবে ও অবশ্যই ভালো পোষ্ট লিখতে হবে। প্রথমে যখন অনেকে ব্লগিং শুরু করেন, তখন তারা ভাবেন যে এটা ডালভাতের মতো ব্যাপার। তবে কিছু সময় যাওয়ার পর রেসপন্স কমে গেলে তারা বোঝেন বিষয়টি মোটেও সহজ নয়। তখন অনেকেই ভয় পেয়ে তা ছেড়ে দেয়।

যারা কম পরিশ্রমে বেশি ফল আশা করেন তারা সাধারণত সহজ ও ফানি কাজ খুঁজে থাকেন। তবে সফল ব্যক্তিরা হন এর উল্টো। তারা চ্যালেঞ্জিং কাজ খোঁজেন, নিয়ম মেনে যথাসময়ে তাদের কাজ শেষ করেন এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তাদের কাক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছেন।

ব্লগিংয়ের জন্য কিছু সংখ্যক ভালো আইডিয়া জেনেরেটের মাধ্যমে আপনি সবসময় ফোকাসড থাকতে পারেন। মাঝেমধ্যে অন্যান্য স্থানীয় ব্লগারদের সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন। তাদের নিয়ে একটি মাস্টারমাইন্ড গ্রুপ তৈরি করতে পারেন।  সমমনা ব্যক্তিদের সাথে বেষ্টিত থাকাটা আপনার অনেক কাজে আসবে।

আপনাকে অবশ্যই আপনার ব্লগের সফলতার প্রতি কমিটেড হতে হবে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণের মাধ্যমে আপানার কাজ শেষ করতে হবে। নিয়ম মেনে এ কাজগুলো করতে থাকলে ব্লগিংকে খুব বেশি কঠিন মনে হবে না। আর সাফল্য ধরা দিতে থাকলে তখন এতটুকু পরিশ্রমকে কিছুই মনে হবে না, কেননা দীর্ঘমেয়াদীতে ব্লগিং অনেক ভালো কিছু দিয়ে থাকে।

তীব্র প্রতিযোগিতার ভয়
অনেকে ব্লগিংয়ের শুরুতে চিন্তা করেন, তারা যা লিখছেন পাঠক সহজেই তা খুঁজে পেয়ে যাবেন । কিছু দিন পরেই অবশ্য তাদের এ ভুল ভেঙ্গে যায়। তারা বোঝেন তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে পাঠক তাদের সহজেই খুঁজে পান না।

প্রতিযোগিতার মধ্যে খেই হারিয়ে নবীন ব্লগাররা ভয় পেয়ে যান এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা ছেড়ে দেন। এদের অনেকের জানা নেই বর্তমানে যারা প্রভাবশালী ব্লগার এদের অনেকেই বছরের পর বছর সময় ব্যয় করেছেন শুধু বিশাল আকারের পাঠক শ্রেণী তৈরির পেছনে। সে সময়টা নবীনদের কাছে রীতিমত ভীতিকর কিছু হতে পারে।

নবীনদের মধ্যে এমন ভাবনা তৈরি হতে হবে তারাও প্রতিযোগিতায় ভালো করতে পারবেন। বর্তমানে যেসব কনটেন্ট আছে ও প্রমোশন কৌশল রয়েছে সেগুলোর চেয়ে তিনি ভালো কিছু করতে পারবেন।

সফল ব্লগাররা জানেন তার যথেষ্ট ভালো মান আছে পাঠকদের নতুন কিছু দেওয়ার মতো। যতই প্রতিযোগিতা থাকুক না কেন, তারা ঠিকই পাঠক তৈরি করার কৌশল বের করে নেন।

ব্লগে সেল করার ভয়
অনেক ব্লগারই মনে করেন আর্টকেলের সঙ্গে কিছু বিজ্ঞাপন ও অ্যাফিলিয়েট লিংক দিলে তিনি অর্থ উপার্জন  করতে পারবেন। এ প্রক্রিয়া যখন কাজ করে, তখন এটা প্রচুর ট্রাফিক নিয়ে আসে।

তাই আপনিও পণ্য, সেবা বা  নিজস্ব কোর্স বিক্রি করতে পারেন পাঠকদের কাছে। তখন আপনার অডিয়েন্স অনেক কম থাকলেও এটি আপনার ব্লগকে মনেটাইজ করার একটি কার্যকর উপায়।

আপনার মধ্যে সৃষ্টিশীল মানসিকতা তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে বিনামূল্যে অনেক তথ্য দেওয়ার মত চিন্তা থাকতে হবে। তথ্য বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করার আইডিয়াটা আপানার কাছে ‘অস্বাভাবিক’ মনে হতে পারে।

তবে তথ্য বিক্রি করার দক্ষতা ব্লগিং থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে এ দক্ষতা আপনাকে শিখতে হবে। আর হ্যাঁ, আপনাকে বুঝতে হবে, কোন তথ্য পাঠকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ এবং তারা কখনও কখনও তা কিনতে চাইতে পারে।

Girl-Blogger-techshohor

পরিবর্তনের ভয়
কিছু মানুষ আছে যারা পরিবর্তনকে ভয় পায়। একজন সফল ব্লগার হতে হলে আপনাকে পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলানোর জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। ঘন ঘন পরিকল্পনা ও কনটেন্ট বদল করতে হলে অনেকে ভেবে থাকেন লেখার মান ঠিক রাখা যাবে না। পাঠকদের খুশি রাখতে পারবেন না বলেও অনেকের মধ্যে আশংকা থাকে।

এ ক্ষেত্রে একজন সফল ব্লগার হতে আপনাকে অবশ্যই আপনার মূল বৈশিষ্ট্য ঠিক রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে, অতীতে যেভাবে আপনি খাপ খাইয়ে নিয়েছেন ভবিষ্যতেও সেভাবে করবেন।

ব্যর্থ হওয়ার ভয়
যখন কেউ ব্লগিং শুরু করে, তখন তার সবচেয়ে বেশি ভয় থাকে ব্যর্থ হওয়ার। খুবই প্রচলিত একটি প্রবাদ আছে, ব্যর্থতাই সফলতার চাবিকাঠি। তাই ব্যর্থ হওয়ার ভয় পাবেন না। কারণ ব্যর্থতাও ক্ষণস্থায়ী।

বারবার চেষ্টার পর দেখবেন আপনার ব্যর্থতা থেকেই দারুণ কিছু তৈরি হয়েছে। ওই অভিজ্ঞতা আপনাকে সফলতার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাবে।

rubel

 

 

 

আরও পড়ুন

ব্লগ লেখায় অমনোযোগী : জেনে নিন ৫ টিপস

মোশাররফ রুবেল, অ্যাপ ডেভেলপার  অতিথি লেখক : কথায় আছে, সহজ কথা যায় না বলা সহজে। একটা ভালো লেখা পড়তে যতটা সহজ ও সুখপাঠ্য মনে হয়, লেখালেখিটা তেমন সহজ নয়। আনন্দের সঙ্গে লেখালেখি করতে পারলেই শুধু এটা সম্ভব। কেননা লেখার মধ্যে সুখ খুঁজে না পেলে বুঝতে হবে অমনোযোগিতা তৈরি হয়েছে। তখন লেখালেখি করা আরও কঠিন হয়ে যায়।

অনলাইনে লেখালেখির সময় অনেক কিছু আপনার মনোযোগ কেড়ে নিতে পারে, যেমন -ফেইসবুক নোটিফিকেশন, ই-মেইল ইত্যাদি। আপনি হয়তো বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছেন সমস্যাটা দূর করার জন্য।

এর সঙ্গে যোগ করে নিন কারিগরি দিক বিবেচনায় এ টিউটোরিয়ালের কিছু টিপস। এগুলো আপনাকে সহায়তা করবে। তবে হ্যাঁ, আপনাকে বলে রাখি লেখালেখিতে মনোযোগ ধরে রাখার মূল বিষয় হলো আনন্দের সঙ্গে কাজটি করা ও লেখালেখিটাকে প্রচন্ডভাবে ভালবাসা।

blogging-336376_1280

নিজের ওয়ার্ডপ্রেস সাইটে লিখুন ব্লগওয়ার্ডপ্রেস ডিসট্রাকশন ফ্রি লেখার মোড ব্যবহার করুণ নিয়মিত। কেননা লেখালেখিতে অনেক বেশি মনোযোগ দিতে হয়। অথচ আপনি যখন ওয়ার্ডপ্রেসে লিখছেন, তখন সাইডবারের লেখা/অপশনগুলো আপনার মনোযোগ বিচ্যুত করতে পারে।

লেখার জন্য ওয়ার্ডপ্রেসে জায়গা থাকে অল্প একটু, বাকি জায়গায় অন্য অপশনে ভরপুর থাকে। তাই আপনাকে ডিসট্রাকশন ফ্রি লেখায় সাহায্য করতে ওয়ার্ডপ্রেস নতুন ভার্সনে ডিসট্রাকশন ফ্রি লেখার মোড অপশনটি নিয়ে এসেছে।

এ অপশনে আপনি শুধু একটি ডিসট্রাকশন ফ্রি ইন্টারফেস পাবেন, সেখানে শুধু আপনি কার্সর ছাড়া বাকি সব পরিষ্কার দেখতে পাবেন। কার্সরকে যদি একটু নাড়াছাড়া করেন তাহলে একটা ছোট টুলবার দেখতে পাবেন, যেখানে কিছু বাটন আছে।

হ্যাঁ, আপনি হয়তো ভাবছেন সাইডবার দেখতে না পওয়ায় এডিট করার অপশনটা হারিয়ে ফেলছেন, কিন্তু না আপনি এ অপশন থেকেই লেখা এডিট করতে পারবেন। তবে বেশিরভাগ ভালো লেখকরা বলে থাকেন- লেখার সময় এডিট না করাই ভালো। কারণ, তা ভালো লেখার ধারাকে নষ্ট করে।

আরও মনোযোগী হয়ে লিখতে মাল্টি-ট্যাব ব্রাউজিংকে বন্ধ রাখুন। আপনি যখন অনলাইনে থাকায় অবস্থায় ব্লগ পোষ্ট লিখছেন, তখন অনলাইনের অন্যান্য কার্যক্রম অনেক বেশি সময় নিয়ে। এটি লেখার মাঝে বিরতি তৈরি করছে।

আপনি বারবার করে সোস্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলো চেক করছেন, যা আপনার লেখায় মারাত্নক ক্ষতি করছে। তাই, খুব বেশি ভালো হয় আপনি লেখার সময় যদি ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রাখেন।

bloger-women-techshohor

এমন পরিস্থিতিতে লেখার সময় আপনার টিউটোরিয়াল পোষ্ট দেখার প্রয়োজন হলে ইন্টারনেট ছাড়া অন্য উপায় বের করতে হবে। এ পদক্ষেপ আপনাকে ইন্টারনেট ব্যবহার থেকে দূরে রাখবে।

এমন ক্ষেত্রে আপনি কন্ট্রোলড মাল্টি-ট্যাব ব্রাউজিং ক্রোম এক্সটেনশন ব্যবহার করতে পারেন। যারা ফায়ারফক্স ব্যবহার করেন তারা উইন্ডো অ্যান্ড ট্যাব লিমিটার এডঅন ব্যবহার করতে পারেন।

আপনি লিখতে বসা মাত্রই ঠিক করে ফেলুন, আপনার লিখতে কয়টা ট্যাব লাগবে। তারপর শুধু তাই খুলুন।

নির্বিঘ্নে লেখালেখির জন্য করতে পারেন টাইম সেট। আপনি যখন কোনো কাজের জন্য নির্দিষ্ট সময় সেট করে নেবেন, তখন তা এক্সট্রা মটিভিশিন হিসাবে কাজ করবে । আপনি তখন সময়মত শেষ কাজটা শেষ করে ফেলতে পারবেন ।

কারণ, লেখার জন্য সময় সেট করে নিলে আপনি শুধু তখন লেখার কাজই করবেন। অন্যদিকে মনযোগ কম যাবে।

ধরুন, আপনি একটি লেখার জন্য ২৫ মিনিট ঠিক করে নিলেন। এ সময়ে তা হয়ে গেলে পরের ৫ মিনিট ব্রেক নিয়ে আরেকটি লেখা শুরু করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে, ফোকাস বুষ্টার টাইমার সফটওয়্যারটা আপনাকে সাহায্য করতে পারে। এটার অনলাইন ও অফলাইন দুই ভার্সনই আছে।

rubel

আরও পড়ুন: 

সকল ব্লগস্পট ব্লগে এইচটিটিপিএস চালু

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : গুগলের ব্লগস্পট ডটকমে তৈরি করা সকল ব্লগই এখন এনক্রিপটেড এইচটিটিপিএস কানেকশনে দেখা যাবে। যেসব পাঠক বা ওয়েব ভিজিটর প্রাইভেসি নিয়ে খুবই চিন্তিত তাদের চিন্তার অবসান ঘটছে।

গত সেপ্টেম্বর থেকে ব্লগস্পট ডটকমের সাইটগুলোতে ম্যানুয়ালি এইচটিটিপিএস-এ সুইচ করার সুযোগ দেয়। তবে এখন সেটিংসটি তুলে নিয়ে সকল ব্লগকেই এই সংস্করণের পরিবর্তন করা হচ্ছে।

HTTPS - google blospot - techshohor

‘এইচটিটিপিএস অ্যাভেইলিবিলিটি’ অপশনের পরিবর্তে ব্লগ মালিকরা ‘এইচটিটিপিএস রিডাইরেক্ট’ নামে নতুন সেটিংস পাবেন, যার মাধ্যমে সকল ভিজিটরকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এইচটিটিপিএস সংস্করণে সাইটটি দেখানো হবে। তবে যদি সেটিংসটি ব্যবহার করা না হয়, তাহলে ব্যবহারকারীরা নন-এনক্রিপটেড এইচটিপিপি সংস্করণে অ্যাক্সেস করতে পারবেন।

এক্সটার্নাল সার্ভারের কনটেন্ট যেমন ছবি এবং কোড যেগুলো এইচটিটিপিএস ব্যবহার করে না সেক্ষেত্রে যাতে সমস্যা না হয় তার জন্য ডিফল্ট হিসেবে এইচটিটিপিএস করা হয়নি বলে জানিয়েছে গুগল। আর এসব সমস্যা ধরার জন্য গুগল একটি টুল তৈরি করেছে যা ব্লগার এডিটরকে দেখাবে এবং সেটি ঠিক করার পরামর্শ দেবে।

তবে সবাইকে এনক্রিপটেড সংস্করণে ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে গুগল। সম্প্রতি ওয়ার্ডপ্রেস ডটকমও তাদের সকল কাস্টম ডোমেইনের জন্য ডিফল্ট হিসেবে এইচটিটিপিএস চালু করেছে।

কম্পিউটার ওয়ার্ল্ড অবলম্বনে ফারজানা মাহমুদ পপি

ব্যতিক্রমী ভালো ব্লগ লেখার চার বেসিক

মোশাররফ রুবেল, অ্যাপ ডেভেলপার  অতিথি লেখক : ব্লগিংয়ের শুরুটা একটু জটিল মনে হতে পারে। কেমন হবে লেখা, কি করলে পাঠক আকৃষ্ট হবেন কিংবা কিভাবে লিখলে পাঠক ফিরে আসবেন আবার এসব নিয়ে নানান জিজ্ঞাসা তৈরি হয় নবীন ব্লগারের মধ্যে। কোন ব্যপারগুলোতে বেশি দৃষ্টিপাত করতে হবে ও পাঠক কি চাইছে তা নিয়ে ভাবতে হয় বেশ। এ প্রশ্নের উত্তর লেখার মধ্যে থাকলে তার ব্লগ গ্রহণযোগ্যতা পায় অনেক বেশি।

মনে রাখতে হবে আর্টিকেল লেখার উদ্দেশ্য হলো পাঠকের মনে তৈরি হওয়া প্রশ্নের সমাধান জানিয়ে দেওয়া। এর বাইরে আরও কি প্রশ্ন হতে পারে সেগুলোর বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে পাঠককে দরকারি তথ্য দেওয়া।

এ নিয়মগুলো মেনে চললে ব্যতিক্রমী ও চমৎকার ব্লগিং করা যাবে। এ কাজ করতে অনুসরণ করতে হবে ব্লগিংয়ের চারটি মূল বিষয়কে। এগুলো নিয়ে আজকের আলোচনা।

bloging-techshhor

স্তম্ভ ১ : লেখুনি হোক খুবই উপকারী
অনেকের কাজে লাগবে এমন লেখার ক্ষেত্রে প্রথমেই গুরুত্বপূর্ণ ব্যপার হচ্ছে কি বিষয় নিয়ে লিখছেন আপনি। খেয়াল রাখতে হবে আপনার আর্টিকেল যেন পাঠকের জন্য খুবই উপকারী হয়। তা হলে ওই পাঠকগোষ্ঠী বারবার আপনার লেখা পড়তে ব্লগে আসবেন।

আপনার লেখার লক্ষ্য যেন শুধু বন্ধুদের প্রশংসা লাভ, বিজ্ঞাপন কিংবা সরাসরি আয়ের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ না থাকে। পাঠকের চাহিদা, প্রয়োজন, ইচ্ছে-আকাংখা, স্বপ্ন নিয়ে লিখতে হবে আপনাকে। এ ব্যপারগুলোতে আপনি কি সমাধান দিচ্ছেন সেটা গুরুত্বপুর্ণ হয়ে উঠবে।

টপিক পছন্দ করার পর ঠিক করুন কি থাকবে সেখানে। কিভাবে সেই লেখা টিপস, লিঙ্ক, রিসোর্স কিংবা আইডিয়া দিয়ে পাঠককে সাহায্য করবে।

প্রথমে আপনাকে ভেবে দেখতে হবে আপনার এ আর্টিকেলে ব্যবহার করা রিসোর্স, লিঙ্ক, ইমেজ, টিপস পাঠকের সমস্যার সমাধান করছে কিনা।

আপনার টিপস বা সাজেশন যতো যুগোপযুগী হবে ততই তা কার্যকরী হবে। লেখা যেন খুবই সাধারণ না হয়। যেমন পিসিতে ভাইরাসে আক্রান্ত হলে কি করতে হবে আপনি তা নিয়ে লিখছেন।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ভাইরাসে আক্রান্ত হলে অ্যান্টি ভাইরাস ইনস্টল করে স্ক্যান করতে হবে-শুধু যদি এটুকু মেসেজ থাকে লেখায় এটা খুবই সাধারণ একটা ব্যপার হবে। আপনার লেখা আর্টিকেল যেন এমন সাধারণ ব্যাপার নিয়ে না হয়। আরও কার্যকর ও চমৎকার সমাধান যেন উঠে আসে আপনার লেখুনি থেকে। সেটাই ভালো লেখার প্রথম স্তম্ভ।

CreatingHeadlines-1

স্তম্ভ ২ : আকর্ষনীয় শিরোনাম লিখুন
টপিক ঠিক হয়ে যাওয়ার পরের স্তম্ভ হচ্ছে হেডলাইন ( শিরোনাম ) । হেডলাইন হচ্ছে আপনার আর্টিকেলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু শব্দ, যা পুরো আর্টিকেলে কি আছে তা রিফ্লেক্ট করে। তাই চিন্তা ভাবনা করে হেডলাইন দিতে হবে। আর্টকেল লেখা শেষে আপনি চাইলে আপনার সেটি পুনরায় ঠিক করে নিতে পারেন।

অধিকাংশ পাঠক আপনার আর্টিকেলের হেডলাইন নিউজ ফিডে দেখতে পাবে। সেটা হতে পারে ব্লগের হোম পেইজে, হতে পারে ফেইসবুক হোম পেইজে কিংবা গুগল প্লাস বা ডিগের মত সাইটে। তাই আপনার ব্লগের শিরোনাম এমন হতে হবে যেন হেডলাইন দেখেই পাঠক পড়তে আগ্রহী হন।

আর্টিকেলের শিরোনাম দেখেই পাঠক সিদ্ধান্ত নেন তিনি সেটি পড়বেন কিনা। যদি শিরোনাম আকর্ষণীয় না হয়, তবে আপনি সাথে সাথে সেই পাঠককে হারালেন। তাই খুবই দৃষ্টিনন্দন শিরোনাম লেখার বিকল্প নেই।

স্তম্ভ ৩: লেখা যেন সহজবোধ্য হয়
আপনার লেখাটি যেন সহজেই বুঝতে পারা যায়। ধরুন, আপনি খুব ভালো টপিক পছন্দ করলেন লেখার জন্য, চমৎকার শিরোনামও লিখলেন। আপনার টপিক ও হেডলাইন থেকে পাঠক সিদ্ধান্ত নিলেন এখন আপনার আর্টিকেল পড়বেন।

তবে পড়া শুরুর পর যদি এমন হয় আর্টিকেলের শুরুতে কম দরকারি বা অপ্রাসঙ্গিক কথায় পরিপূর্ণ থাকে তাহলে পাঠক দুটি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। একটি হচ্ছে লেখাটি না পড়ে তিনি চলে যাবেন অন্য লেখায় অথবা আর্টিকেলের প্যারাগ্রাফগুলোতে এক নজর চোখ বুলিয়ে তা থেকে বের হয়ে যাবেন।

মনে রাখতে হবে আপনার পাঠক খুবই ব্যস্ত। একটা আর্টিকেল পড়ার জন্য তার হাতে অনেক সময় নেই। তাই এমন কিছু লেখা ঠিক হবে না যাতে পাঠক সেটি না পড়েই চলে যান কিংবা প্যারাগ্রাফগুলোতে চোখ বুলিয়ে চলে যান।

আর্টিকেলে যেন সহজেই বুঝতে পারা যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এজন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক অনুসরন করা দরকারি। যেমন, সাব হেডলাইন বা উপ-শিরোনাম, ছোট ছোট প্যারা, কোটেশান থাকলে কোটেশান ব্লক ব্যবহার করা, বোল্ড, ইতালিক ব্যবহার করা লিস্ট আইটেমে, ইমেজ, গ্রাফিকাল রিসোর্স দিয়ে সহজ করে তোলা।

পুরো আর্টিকেলে এ ব্যপারগুলো ব্যবহারে তা পাঠকের কাছে সহজেই স্ক্যানবল হয়।

Blogging-techshohor

স্তম্ভ ৪: কমন সেন্স মেনে পরিমান মত লিখুন
আপনার আর্টিকেল লেখায় সরলতা বজায় রাখতে হবে। যখন পাঠক লেখাটি পড়ার সিদ্ধান্ত নেবেন, তখন যেন তিনি নিরাশ না হন। আপনার লেখা আর্টিকেল থেকে পাঠককে যেন কিছু অনুসন্ধান করে নিতে না হয়। তাই লেখা খুব সহজভাবে উপস্থাপন করতে হবে। কমন সেন্স ব্যবহার করে পরিমানমতো লিখতে হবে।

অপ্রাঙ্গিক ব্যপারগুলো আর্টিকেলকে জটিল করে তুলবে, তাই মূল বিষয়বস্তুকে কেন্দ্র করে লেখা শেষ করতে হবে।

rubel

আরও পড়ুন: 

আপনার ব্লগকে আরও জনপ্রিয় করার ৫ টিপস

মোশাররফ রুবেল, অ্যাপ ডেভেলপার  অতিথি লেখক : এখন অনেকেই ব্লগিং করছেন। লেখা বা অন্যান্য কনটেন্টও ভালো হচ্ছে। এরপরও আহামরি ভিজিটর মিলছে না ব্লগে। ছোট কিছু ব্যাপার পরিহার করায় ভিজিটর হারাতে হচ্ছে অধিক সংখ্যায়। ছোট ছোট কিছু টিপস অনুসরন করলে অনায়েসে ব্লগে যেমন পাওয়া যাবে ভিজিটর, তেমনি পুরনোদেরও ধরে রাখা যাবে।

শুধু কি তাই, আরও জনপ্রিয় করতে কি করা উচিত সেটা নিয়েও কাজ করতে হবে। একজন ভিজিটর যেন একবার ব্লগে এসে চলে না যায় সেদিকেও দৃষ্টি রাখতে হবে।

ভিজিটরকে বার বার ফিরিয়ে আনা, একটির পর একটি ব্লগের আর্টিকেলের দিকে আকৃষ্ট করার জন্য করতে হবে কিছু কাজ। সেগুলো তুলে ধরতেই এ টিউটোরিয়াল।

আরও পড়ুন : ব্লগিংয়ে অ্যাডসেন্সের বিকল্প আয়ের পথ

blogging-girl-techshohor

ব্লগ শুধু আপনার কথা নিয়ে নয়
হ্যাঁ- ব্লগ শুধু আপনার চিন্তাকে ঘিরে যেন না হয়। ব্লগিং করার সময় আমরা অনেক সময় নিজের চিন্তা দিয়ে শুরু করি। ভিজিটরের সংখ্যা বেশি হলে এদের অনেকেই আপনার চিন্তা গ্রহণ নাও করতে পারে। ভিন্ন মতের ভিজিটর বেশি হলে তারা যাতে চলে না যান সেজন্য কৌশলী হতে হবে।

আপনার ব্লগ যদি ৫০ হাজার মানুষ অনুসরণ করেন, সেক্ষেত্রে তাদের এমন কিছু দিতে হবে যাতে সেটা তাদের কাছে উপকারী হয়, পড়তে আনন্দ পায় এমন কিছু নিয়ে হয়। আপনি সেলিব্রেটি না হলে এরা কেউ আপনার চিন্তার কথা শুধু শুনতে চাইবে না। তাই তাদের উপযোগী কনটেন্ট থাকতে হবে।

পাঠকদের ব্লগ পড়ার গুরুত্ব বোঝানো
মূলত এই ব্যপারটা হচ্ছে পাঠককে এমন কিছু টনিক দেয়া যাতে তাকে আপনার ব্লগ পড়তে আসতে হয়। যেমন ধরুন আপনি লিখছেন তথ্য ও প্রযুক্তি নিয়ে, এখন একজন সাহিত্য প্রেমী বা ফুড লাভার কেন আপনার ব্লগ পড়বে- সে তো প্রযুক্তির মানুষ নয়।

তাই এ ধরনের পাঠকরা আপনার ব্লগে এলে তাদের ধরে রাখা যাবে এমন কনটেন্ট দিতে হবে। তাদের ভালো লাগার বিষয় বা ব্লগে আসার কারণ খুঁজে পায় তেমন কিছু থাকতে হবে।

এ বিষয়ের পাশাপাশি খেয়াল রাখতে হবে সব ধরনের অডিয়েন্স টার্গেট করতে গিয়ে যেন মূল টপিক থেকে ব্লগ সরে না যায়। তবে তথ্যপ্রযুক্তির ব্লগ যেন তথ্যপ্রযুক্তি নিয়েই পাঠকদের সব দিতে পারে তা সর্ব প্রথমে নিশ্চিত করতে হবে।

ফ্রেন্ডলি হতে হবে
খেয়াল রাখতে হবে সব কিছু যাতে একদম পানসে মনে না হয়। পাঠক যাতে মনে না করেন মানুষ নয়, রোবট লিখেছে এ আর্টিকেল। তাই একটু ফ্রেন্ডলি হতে হবে অবশ্যই।

তবে এ ক্ষেত্রে প্রথম পয়েন্টও খেয়াল রাখতে হবে সব কিছু আপনি কেন্দ্রিক না হয়ে যায়। এক্ষেত্রে পাঠকদের অনুরোধের টপিক নিয়ে লেখা, পাঠকদের মন্তব্যের উত্তর দেওয়াও ফ্রেন্ডলি হওয়ার অংশ।

পাঠকদের সাথে ব্লগার এর ফ্রেন্ডলি সম্পর্ক ব্লগকে জনপ্রিয় করতে বেশ অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।

আরও পড়ুন : ব্লগিংয়ের জনপ্রিয় ৭ বিষয়, শুরু করুন এখনই

blogging-techshohor

ম্যাটেরিয়ালস যেন সময় উপযোগী হয়
আপনি ব্লগের জন্য যা কিছু ব্যবহার করছেন, যেসব ম্যাটেরিয়ালস অনুসরণ করছেন- খেয়াল রাখতে হবে তা যেন সময় উপযোগী হয়। সময় উপযোগী বা টাইমিং ব্লগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যপার।

আপনি কি বোঝাতে চাচ্ছেন তা পাঠক যদি নিজের সঙ্গে মেলাতে না পারেন, তাহলে বুঝতে হবে আপনার আর্টিকেল সময় উপযোগী হচ্ছে না।

পাঠক যে ব্যপারটা যে সময় আশা করছে সেটির উপর নির্ভর করে আপনি যেন সরবরাহ করতে পারেন সেই ব্যপারটি নিশ্চিত করতে হবে।

পাঠক আগ্রহের চুম্বকাংশ যেন প্রথমেই থাকে
শিরোনাম দেখার পর আর্টিকেল পড়ার জন্য পাঠকের মনে এক ধরনের প্রত্যাশা তৈরি হয়ে যায়। তারপর পাঠক যখন মূ আর্টিকেল পড়া শুরু করে তখন যেন প্রথম দুই লাইন পড়েই বুঝতে পারে লেখাটি গুরুত্বপূর্ণ।

এ অংশেই পাঠককে বোঝাতে হবে সে যা চাচ্ছে সেটি কিংবা তার চেয়েও ভালো কিছু পেতে যাচ্ছে এ লেখায়। প্রথম দুই লাইন যদি ভালো কিছুর প্রতিফলন না ঘটায় তাহলে শুরুতেই পাঠক আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন।

তাই খেয়াল রাখতে হবে পাঠককে পুরোটি কনটেন্টে ধরে রাখতে শুরুতেই তার মনোযোগ আকর্ষণ করতে হবে। তিনি যা চাচ্ছেন তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ যেন প্রথমেই থাকে- যা তাকে পুরো লেখা বা পরের লেখাগুলো পড়তে আগ্রহী করে তুলবে।

rubel

আরও পড়ুন: 

ব্লগে ভিজিটর ধরে রাখার ৫ টিপস

মোশাররফ রুবেল, অ্যাপ ডেভেলপার  অতিথি লেখক : ভিজিটর হচ্ছে ব্লগের প্রাণ ও এর কনটেন্ট হচ্ছে রাজা। একটি ব্লগ সাইট তখনই সফল হিসেবে গণ্য হবে যখন প্রচুর পরিমানে ভিজিটর আসবে এবং তারা বারবার আসতে থাকবে।

ব্লগে লেখা ও উপস্থাপনার ক্ষেত্রে কি ধরনের পন্থা অবলম্বন করলে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা যায় ও প্রচুর ভিজিটর পাওয়া যায় সেটা জানতে চান অনেকেই। সুন্দর করে সাজানোর পাশাপাশি পাঠকদের পছন্দ বুঝে কাজ করে গেলেই ব্লগ হয়ে উঠবে জনপ্রিয়।

এ প্রতিবেদনে পাঠককে ব্লগে ধরে রাখার পাঁচটি টিপস তুলে ধরা হলো।

bloging-techshohor

বিভ্রান্তিকর শিরোনাম ব্যবহার না করা
কখনই ব্লগের কোনো লেখায় এমন শিরোনাম ব্যবহার করা যাবে না যেটা পাঠকের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করবে। অর্থাৎ এমন শিরোনাম ব্যবহার করা ঠিক না, যেটার অর্থ দুই রকম হতে পারে। বলা হবে এক রকম কিন্তু অর্থ দাঁড়াবে ভিন্ন।

ছোট প্যারা করে লেখা
ছোট ছোট প্যারা করে লেখার চেষ্টা করতে হবে। এতে পাঠকদের পড়তে সুবিধা হবে। কাজের আর্টিকেল যদি পড়তে ভালো লাগে তাহলে তা পাঠকের জন্য হবে চমৎকার অভিজ্ঞতা।

একই প্যারায় অনেক লাইন জুড়ে দিলে পাঠক খেই হারিয়ে ফেলতে পারে। তাদের মধ্যে একঘেয়েমি চলে আসতে পারে।

তাই ছোট ছোট প্যারা করে লেখা ভিজিটরের কাছে নিজের সাইট বা ব্লগকে জনপ্রিয় করার একটি অন্যতম পন্থা।

আকর্ষণীয় ছবি ব্যবহার করা
আর্টিকেলের সঙ্গে সর্ম্পকিত নজরকাড়া ছবি ব্যবহার করতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে ব্যবহৃত ছবি যাতে অতিরঞ্জিত না হয়।

ছবিটি যেন আর্টিকেলের বিষয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয় এবং অবশ্যই রুচি সম্মত হয়। মনে রাখতে হবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপনার লেখা শেয়ার করলে ছবিটি প্রদর্শিত হবে। ব্যবহারকারী যাতে শুরুতেই আগ্রহী হয়, সেইরকম ছবি পছন্দ করে আর্টিকেলের সাথে যুক্ত করাই সঠিক কাজ।

পাঠকের মন্তব্যের জবাব দেওয়া
ব্লগে অবশ্যই পাঠকের মন্তব্যের জন্য জায়গা রাখতে হবে। কোনো পাঠক যদি মন্তব্য করে সেটাকে এড়িয়ে না গিয়ে সেটার জবাব দিতে হবে প্রাঙ্গল ভাষায়।

আপনার লেখা আর্টিকেল নিয়ে কোনো পরামর্শ দিলে সেটার জন্য ধন্যবাদ দিয়ে ভবিষ্যতে আরও কাজ করার কথা জানাতে পারেন। অন্যদিকে কোনো অভিযোগ করলে সেটা সাদরে গ্রহণ করে তাকে ধন্যবাদ দিয়ে ত্রুটিগুলো ঠিক করার কথা জানিয়ে প্রতিউত্তর করুন।

প্রতিউত্তরে পাঠক নিজের মতামতের মূল্যায়ন পেলে আপনার ব্লগটিকে তার পছন্দের তালিকায় জায়গা করে দেবে।

একই রকম আরও লেখার লিঙ্ক যুক্ত করা
যখন একটা আর্টিকেল শেষ তখন একই ধরনের আরও লেখার লিংক শিরোনামসহ যুক্ত করে দিন। পাঠক যখন কোনো কিছু নিয়ে পড়েন, তখন স্বাভাবিকভাবেই তার চিন্তায় ঐ টপিকটা থাকে।

এ সময় তাকে আরও একই ঘরানার লেখা দিলে তিনি তা পড়তে দ্বিধা করবেন না। এ ছাড়া আর্টিকেলের ভেতরে কোনো টপিক নিয়ে কথা বললে তা হাইপার লিঙ্ক হিসেবে যুক্ত করে দেওয়ার পদ্ধতিও চমৎকার কাজে আসে।

এ ছাড়া তথ্যে যদি ভুল থাকে, তাহলে ব্লগের ভিজিটর ধরে রাখা যাবে না। তাই আর্টিকেলে উপস্থাপিত তথ্যের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

আরও পড়ুন