ব্যান্ডউইথ আমদানির যৌক্তিকতা জানতে চাইছে সরকার

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : নিজেদের ব্যান্ডউইথ অব্যবহৃত থাকার পরও আন্তর্জাতিক টেরেস্ট্রিয়াল ক্যাবল (আইটিসি) অপারেটরগুলোর মাধ্যমে তা আমদানির প্রয়োজনীয়তা জানতে চাইছে সরকার।

বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল) এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগকে এই ব্যান্ডউইথ আমদানির প্রয়োজনীতা পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে।

দেশে এখন মোট ব্যান্ডউইথের চাহিদা ৪০০ জিবিপিএস।

বর্তমানে দেশি ব্যান্ডউইথে বিএসসিসিএলের সক্ষমতা রয়েছে ৩০০ জিবিপিএস। আর আইটিসিগুলো ভারত হতে আমদানি করে ২০০ জিবিপিএস।

খুব সম্প্রতি দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলে সংযুক্ত হওয়ায় দেশি ব্যান্ডউইথে আরও ১ হাজার ৫০০ জিবিপিএস যোগ হবে ।

আর এই বিপুল পরিমাণ অব্যবহৃত দেশীয় ব্যান্ডউইথ থাকার পরও আইটিসিগুলোর ব্যান্ডউইথ আমদানির প্রয়োজনীয়তা কী, তা পরীক্ষা করে বিএসসিসিএল ও টেলিযোগাযোগ বিভাগকে সরকারের কাছে প্রস্তাব উপস্থাপন করতে নির্দেশনা দিয়েছে ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্সের নির্বাহী কমিটি।

জানা যায়, গত ২৭ মার্চ কমিটির সভায় বিষয়টি উত্থাপন করেন বেসিস সভাপতি তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার। এরপর আলোচনা শেষে নির্বাহী কমিটি এই প্রয়োজনীয়তা পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয়।

bandwidth import

ব্যান্ডউইথ আমদানিকারক কোম্পানি ফাইবার অ্যাট হোমের চিফ স্ট্রাটেজিক অফিসার সুমন আহমেদ সাবির টেকশহরডটকমকে জানান,  ইন্টারনেট আমাদের জন্য লাইফ লাইন। আমাদের কোনো বিকল্প ছিল না, অনেক সেবার জন্য এক মিনিটও ইন্টারনেট নাই সেটা আমরা ভাবতে পারি না। আইটিসিগুলো সেই ব্যাকআপ।’

‘একটা সাবমেরিন ক্যাবল কাটা পড়লে ঠিক করতে এক মাস লাগে। যখন দেশে ক্যাবল একটি ছিল তখন বাংলাদেশ ভীষণ ঝুঁকির জায়গায় ছিল। আইটিসি থাকায় আমরা ভারত হয়ে আরও ৭-৮টি সাবমেরিন ক্যাবল দিয়ে সংযোগ নিরবিচ্ছিন্ন রাখার সুযোগ পেয়েছি। আইটিসি আসার পর বাংলাদেশ কখনও শতভাগ ব্লাকআউটে যায়নি।’

ইন্টারনেট যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বিডিনগ বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান জানান, ‘এখন দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল আসার পর আইটিসিগুলোর আগে যেমন গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ছিল সেটা কমেছে তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু তারপরও দুটি সাবমেরিন ক্যাবল ইন্টারনেট নিরবিচ্ছিন্নতার জন্য যথেষ্ট নয়। দুটি সাবমেরিন ক্যাবল একসঙ্গে কেটে যাওয়ার উদাহরণ পৃথিবীতে হরহামেশা আছে। সবকিছুর পরও আইটিসিগুলো না থাকলে একটা ঝুঁকির কারণ তো থেকেই যাচ্ছে।’

এদিকে ব্যান্ডউইথ আমদানি নিয়ে আইটিসি অপারেটরগুলোও টিকে আছে কোনোমতে। ট্রাফিক না থাকা ও আমদানিকৃত ব্যান্ডউইথের চেয়ে দেশি ব্যান্ডউইথের দাম কম হওয়া, সরবরাহ ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন কারণে ধুঁকছে তারা।

ভারত হতে ব্যান্ডউেইথ আমদানি করে থাকে নভোকম লিমিটেড, ওয়ান এশিয়া-এএইচএলজেভি, বিডি লিংক কমিউনিকেশন লিমিটেড, ম্যাংগো টেলিসার্ভিসেস লিমিটেড, সামিট কমিউনিকেশন লিমিটেড এবং ফাইবার অ্যাট হোম লিমিটেড।

আইটিসিগুলো ভারত হতে ২০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ আমদানি করে। এর মধ্যে সামিট কমিউনিকেশন ৯০ এবং ফাইবার অ্যাট হোম ৮০ জিবিপিএস আনে। বাকী ৪টি কোম্পানি মিলে ৩০ জিবিপিএসের মতো আমদানি করে থাকে।

ম্যাংগো টেলিসার্ভিসেস লিমিটেড ও বিডি লিংক কমিউনিকেশন লিমিটেডের ট্রাফিক নাই বললেই চলে। ওয়ান এশিয়া-এএইচএলজেভির ট্রাফিকও কম।

২০০৬ সালে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো সাবমেরিন ক্যাবল ‘সি-মি-ইউ-৪’ এ যুক্ত হয়, যার মাধ্যমে ২০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ পাওয়ার সক্ষমতা হয়। এরপর সম্প্রতি কারিগরি উন্নতির মাধ্যমে ক্যাবলের ক্ষমতা ১০০ জিবিপিএস বাড়ানো হয়েছে।

এখন বিএসসিসিএল এর ব্যান্ডউইথের মধ্যে ১৭৬ জিবিপিএস ব্যবহৃত হচ্ছে যেখানে ভারতে রপ্তানি করা ১০ জিবিপিএসও রয়েছে।

ব্যান্ডউইথের দাম কমছে আরও ২০ শতাংশ

জামান আশরাফ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ব্যান্ডউইথের মূল্য পুন:নির্ধারণের কাজ শুরু করেছে। এ দফায় অন্তত ২০ শতাংশ দাম কমছে।

নতুন এ দর দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলের ব্যান্ডউইথ পাওয়ার পর থেকে কার্যকর হবে।

এদিকে দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলটির ল্যান্ডিং স্টেশন দেশের দক্ষিণাঞ্চলে হওয়ায় সেখানে ব্যান্ডউইথের দাম আরও একটু কম করা হবে। এ জন্য খুলনায় একটি পপ (পয়েন্ট অব প্রেজেন্স) তৈরির কাজ শুরু করেছেন।

bsccl-cable-techshohor

তখন বরিশাল, খুলনা, ফরিদপুর, পটুয়াখালী, খুলনা, যশোরসহ দক্ষিণাঞ্চলের ইন্টারনেট সেবা আরও স্বল্পমূল্যে দেওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।

বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিসিএল) শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দাম কমানোর একটি খসড়া প্রস্তাব তারা ইতিমধ্যে তৈরি করেছেন। আগামী বোর্ড সভায় তা অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

বিএসসিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ার হোসেন ব্যান্ডউইথের দাম কমানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কতোটা কমানো হবে তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

বর্তমানে বিএসসিসিএলের একটি অফারের হিসেবে ১০ জিবিপিএস ভলিউমের একটি ব্যন্ডউইথের পাইকারি মূল্য প্রতি এমবিপিএস ৫৬২ টাকা।

নতুন প্যাকেজগুলো অন্তত ১০ জিবিপিএস হবে বলে জানান মনোয়ার।

এমডি জানান, এরই মধ্যে দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দেশ। তবে রাজধানী পর্যন্ত সংযোগ লাইনের কাজ শেষ না হওয়ায় নতুন ব্যান্ডউইথ পেতে আরও একটু সময় লাগবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলের বাণিজ্যিক কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। এ জন্য তার সময়সূচী পেতে এরই মধ্যে আবেদন করা হয়েছে বলে জানান মনোয়ার।

চলতি মাসেই বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর চেষ্টা চলছে। এর মাধ্যমে দেশে ইন্টারনেট সেবা আরও সহজলভ্য ও দ্রুততর হবে বলে মনে করেন এ কর্মকর্তা।

গত ২১ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলে যুক্ত হয় বাংলাদেশ। তবে তখন ঢাকা থেকে কুয়াকাটা ল্যান্ডিং স্টেশনের ট্রান্সমিশন লিংক সম্পূর্ণ না হওয়ায় বাণিজ্যিক কার্যক্রমের জন্য চালু করা যায়নি।

কর্মকর্তারা জানান, নতুন কেবলের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর অতিরিক্ত ব্যান্ডউইডথ রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে এখন রপ্তানির চেয়ে দেশের মধ্যে সেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে আগ্রহ বেশি বিএসসিসিএলের।

এমডি বলেন, ইতোমধ্যে ভুটান, নেপাল, ভারতের সাত রাজ্যসহ মালয়েশিয়া, মিয়ানমারে রপ্তানির চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে রপ্তানির ক্ষেত্রে মূল্য দেশ অনুযায়ী ভিন্ন হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বর্তমানে ভারতে ১০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ রপ্তানি করা হচ্ছে। এর মূল্য ৮০০ টাকা প্রতি এমবিপিএস।

এর বিপরীতে ভারত থেকে বাংলাদেশ প্রায় আড়াইশ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ আমদানি করে। মূলত বেসরকারি ইন্টারনেট সেবা দাতা প্রতিষ্ঠান আমদানি করে, যার গড় মূল্য প্রতি এমবিপিএস তিন থেকে সাড়ে তিনশ টাকা। দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল চালু হলে আমদানির পরিমান নিশ্চিতভাবে কমবে।

২০১৬ সালের শেষ নাগাদ দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলে যুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও নানা কারণে তা চলতি বছরে গড়িয়ে যায়।

দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলে সংযুক্ত হওয়ায় বাংলাদেশ অতিরিক্ত ১ হাজার ৫০০ গিগাবাইটের (জিবি) বেশি ব্যান্ডউইডথ পাচ্ছে। নতুন এ সাবমেরিন কেবলের মেয়াদকাল ২০ থেকে ২৫ বছর।

এর আগে ২০০৫ সালে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো সাবমেরিন ক্যাবল ‘সি-মি-ইউ-৪’ এ যুক্ত হয়, যার মাধ্যমে প্রায় ২০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ পাওয়ার সক্ষমতা রয়েছে।

এ মাসেই বাণিজ্যিক কার্যক্রমে দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : অনেক দিন থেকে দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের আলোচনা চললেও অবশেষে তা গ্রাহকের হাতে যাচ্ছে। সম্প্রতি সাগরের তলদেশ দিয়ে আসা এ ইন্টারনেট মহাসড়কে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষা বাস্তব রূপ নিয়েছে।

এ ধারাবাহিকতায় চলতি মাসেই বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হবে দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের। এর মাধ্যমে দেশে ইন্টারনেট সেবা আরও সহজলভ্য ও দ্রুততর হবে।

একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশে আরও ব্যান্ডউইথ রপ্তানি করা যাবে বলে জানিয়েছেন টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।

bsccl-cable-techshohor

বুধবার পটুয়াখালীর দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের কুয়াকাটা ল্যান্ডিং স্টেশন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রতিমন্ত্রী জানান, মার্চে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ক্যাবলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। এরপরই শুরু হবে বাণিজ্যিক এ কার্যক্রম।

গত ২১ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত হয় বাংলাদেশ। তবে তখন ঢাকা থেকে কুয়াকাটা ল্যান্ডিং স্টেশনের ট্রান্সমিশন লিংক সম্পূর্ণ না হওয়ায় বাণিজ্যিক কার্যক্রমের জন্য চালু করা যায়নি।

তবে এখন এ সংযোগ স্থাপিত হয়েছে জানিয়ে তারানা হালিম বলেন, ইতোমধ্যে পরীক্ষা করে এ সংযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে।

বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর পর বরিশাল, খুলনা, ফরিদপুর, পটুয়াখালীসহ দক্ষিণাঞ্চলের ইন্টারনেট সেবা আরও স্বল্পমূল্যে দেওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।

নতুন ক্যাবলের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর অতিরিক্ত ব্যান্ডউইডথ রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তারানা। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ভুটান, নেপাল, ভারতের সেভেন সিস্টারসহ মালয়েশিয়া, মিয়ানমারে রপ্তানির চেষ্টা করা হচ্ছে।

২০১৬ সালের শেষ নাগাদ দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও দেশের অভ্যন্তরে ক্যাবল স্থাপনের কাজ শেষ না হওয়ায় তা চলতি বছরে গড়িয়ে যায়।

বুধবার প্রতিমন্ত্রীর পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ার হোসেনসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এমডি জানান, এ সাবমেরিন ক্যাবলের ব্যান্ডউইডথের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হচ্ছে। এর ফলে ইন্টারনেটের দাম আরও কমবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলে সংযুক্ত হওয়ায় বাংলাদেশ অতিরিক্ত ১ হাজার ৫০০ গিগাবাইটের (জিবি) বেশি ব্যান্ডউইডথ পাচ্ছে।

নতুন এ সাবমেরিন ক্যাবলের মেয়াদকাল ২০ থেকে ২৫ বছর। প্রকল্পে সব মিলে খরচ হয়েছে মোট ৬০০ কোটি টাকা।

এর আগে ২০০৫ সালে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো সাবমেরিন ক্যাবল ‘সি-মি-ইউ-৪’ এ যুক্ত হয়, যার মাধ্যমে প্রায় ২০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ পাওয়ার সক্ষমতা রয়েছে।

আরও পড়ুন: 

দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলে বাংলাদেশ

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : এগারো বছরের অপেক্ষায় দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের সঙ্গে যুক্ত হল বাংলাদেশ। যদিও এখনও পুরোপুরি যুক্ত হওয়া সম্ভব হয়নি। কুয়াকাটা ল্যান্ডিং স্টেশন পর্যন্ত এসেছে সংযোগ। এই ক্যাবল দিয়ে ঢাকা পর্যন্ত ব্যান্ডউইথ আসতে সময় লাগবে আরও কয়েক সপ্তাহ।

মার্চের প্রথমার্ধে বাণিজ্যিকভাবে উদ্বোধন হতে পারে দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল-জানিয়েছেন ক্যাবলটির প্রকল্প পরিচালক পারভেজ মনন আশরাফ। তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দিয়ে উদ্বোধন করানো হবে এটি। এর জন্য সময়ও চাওয়া হয়েছে।

তবে মঙ্গলবার ইস্তাম্বুলে সিম-মি-উই-৫ ক্যাবলটির ব্যবস্থাপনা কমিটির বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিকভাবে এর যাত্রা শুরু হয় বলে জানান পারভেজ মনন।

বাংলাদেশ প্রথম ক্যাবলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল ২০০৬ সালে।

SC-2

ভারতের সাবমেরিন ক্যাবলের সংখ্যা ১৯টি। পাকিস্তানে তা আটটি। আর শ্রীলংকাও আছে সাতটি ক্যাবলের সংযোগে। সেখানে দ্বিতীয় ক্যাবলের সংযোগ পেল বাংলাদেশ। তাও আংশিক।

শুরুতে বলা হচ্ছিল এ ক্যাবল থেকে দেড় হাজার জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ পাওয়া যাবে। কিন্তু এখন বলা হচ্ছে, প্রথমে পাওয়া যাবে ২০০ জিবিপিএস। পরে তা আস্তে আস্তে বেড়ে দেড় হাজার জিবিপিএস হবে।

এদিকে কুয়াকাটার সঙ্গে ঢাকার লিংক তৈরির কাজ কয়েক মাস আগে শুরু হলেও তা শেষ করতে পারেনি বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)। কুয়াকাটা-ঢাকা লিংক তৈরি হওয়ার পর এ ব্যান্ডউইথ বিক্রি শুরু করতে পারবে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল)।

এক বছর আগে দরপত্র আহবান করে একটি কোম্পানিকে কাজ দেওয়ার জন্য চূড়ান্ত করা হয়। পরে অন্য আরেকটি কোম্পানিকে কাজ দেওয়ায় অনেক জটিলতা হয়েছে গত নভেম্বর ও ডিসেম্বর জুড়ে। এমন পরিস্থিতিতে লিংক তৈরিতে আরও কিছু দিন লাগবে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের প্রকল্প পরিচালক পারভেজ মনন আশরাফ।

২০১৪ সালের মার্চে বিএসসিসিএল সিম-মি-উই-৫ কনসোর্টিয়ামে যুক্ত হওয়ার জন্য চুক্তি করে। এ ক্যাবলের সঙ্গে বিএসসিসিএল ছাড়াও আরও ১৭টি সহযোগী কোম্পানি সংশ্লিষ্ট রয়েছে। গত ১৩ ডিসেম্বর সিম-মি-উই-৫ কর্তৃপক্ষ সমুদ্রের তলদেশে ক্যাবল স্থাপনের কাজ শেষের ঘোষণা দেয়। এ সময়ে বাংলাদেশ কুয়াকাটা অংশে ল্যান্ডিং স্টেশন তৈরি করে।

SCable-2

প্রথম সাবমেরিন ক্যাবলের ল্যান্ডিং স্টেশন কক্সবাজার। এদিকে সম্প্রতি কারিগরি উন্নতির মাধ্যমে বর্তমানে চালু সিম-মি-উই-৪ ক্যাবলের ক্ষমতা ১০০ জিবিপিএস বাড়ানো হয়েছে। আগে এর পরিমাণ ছিল ২০০ জিবিপিএস।

আর মোট ব্যান্ডউইথের মধ্যে ব্যবহার হচ্ছে ১৭৬ জিবিপিএস। এর মধ্যে ভারতে রপ্তানি হচ্ছে ১০ জিবিপিএস।

ব্যান্ডউইথের পরিমান বৃদ্ধি ও নতুন ব্রান্ডউইথ যুক্ত হলে তা বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করার কর্মপরিকল্পনা সাজাচ্ছে বিএসসিসিএল। ভারত থেকে বাংলাদেশ এখন যে পরিমান ব্যান্ডউইথ আমদানি করে তার অনেকটাই তখন আর আমদানি হবে না।

দেশে এখন মোট ব্যান্ডউইথের চাহিদা ৪০০ জিবিপিএস। যার মধ্যে ২৮০ জিবিপিএস-ই আসে ভারতের দুটি সাবমেরিন ক্যাবল থেকে।
দেশের ভেতরেও ব্যান্ডউইথের পাইকারি পর্যায়ে দাম কমিয়ে বিক্রি বাড়ানোর কথা জানিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিটি ।

কর্মকর্তারা জানান, সামনের দিনগুলোতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসবে সেবার গুণগত মানে। ডেটা ও ভয়েস উভয় ক্ষেত্রেই তা পরিলক্ষিত হবে।

নতুন সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত হওয়ার আগেই সিম-মি-উই-৪ এর সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যান্ডউইথের পাইকারি মূল্য আরও একবার কমানোর পরিকল্পনাও রয়েছে বলেও জানিয়েছে বিএসসিসিএল সূত্র।

জামান আশরাফ

ভাষা দিবসে উদ্বোধন দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল, হয়নি লিংক

জামান আশরাফ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : মহান ভাষা দিবসেই দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ। ইন্টারনেটের দ্বিতীয় এ মহাসড়কে যুক্ত হওয়ার কাজ শেষ হলেও এখনও কুয়াকাটার ল্যান্ডিং স্টেশন থেকে ঢাকায় ব্যান্ডউইথ আনার লিংক তৈরি হয়নি।

এ ক্যাবল থেকে দেড় হাজার জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ পাওয়ার কথা থাকলেও এখন ২০০ জিবিপিএস পাওয়া যাবে। কুয়াকাটা-ঢাকা লিংক তৈরি হওয়ার পর এ ব্যান্ডউইথ বিক্রি শুরু করতে পারবে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল)।

আন্তজার্তিক মাতৃভাষা দিবসে তুরস্ক থেকে কুয়াকাটায় একটি ডেটা প্যাকেট পাঠানাের মাধ্যমে দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত হওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।

Submarine_cable_TechShohor

এদিকে কুয়াকাটার সঙ্গে ঢাকার লিংক তৈরির কাজ কয়েক মাস আগে শুরু হলেও তা শেষ করতে পারেনি বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেসন্স কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)।

এক বছর আগে দরপত্র আহবান করে একটি কোম্পানিকে কাজ দেওয়ার জন্য চূড়ান্ত করা হয়। পরে অন্য আরেকটি কোম্পানিকে কাজ দেওয়ায় অনেক জটিলতা হয়েছে গত নভেম্বর ও ডিসেম্বর জুড়ে।

এমন পরিস্থিতিতে লিংক তৈরিতে আরও কিছু দিন লাগবে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের প্রকল্প পরিচালক পারভেজ মনন আশরাফ।

পারভেজ বলেন, সংযোগটি চালু হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটি উদ্বোধন করবেন। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ক্যাবলটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যুক্ত হবে। এ ক্যাবলের সঙ্গে বিএসসিসিএল ছাড়াও আরও ১৭টি সহযোগী কোম্পানি সংশ্লিষ্ট রয়েছে।

২০১৪ সালের মার্চে বিএসসিসিএল সিম-মি-উই-৫ কনসোর্টিয়ামে যুক্ত হওয়ার জন্য চুক্তি করে। গত ১৩ ডিসেম্বর সিম-মি-উই-৫ কর্তৃপক্ষ সমুদ্রের তলদেশে ক্যাবল স্থাপনের কাজ শেষের ঘোষণা দেয়। এ সময়ে বাংলাদেশ কুয়াকাটা অংশে ল্যান্ডিং স্টেশন তৈরি করে। প্রথম সাবমেরিন ক্যাবলের ল্যান্ডিং স্টেশন কক্সবাজার।

এদিকে সম্প্রতি কারিগরি উন্নতির মাধ্যমে বর্তমানে চালু সিম-মি-উই-৪ ক্যাবলের ক্ষমতা ১০০ জিবিপিএস বাড়ানো হয়েছে। আগে এর পরিমাণ ছিল ২০০ জিবিপিএস।

আর মোট ব্যান্ডউইথের মধ্যে ব্যবহার হচ্ছে ১৭৬ জিবিপিএস। এর মধ্যে ভারতে রপ্তানি হচ্ছে ১০ জিবিপিএস।

ব্যান্ডউইথের পরিমান বৃদ্ধি ও নতুন ব্রান্ডউইথ যুক্ত হলে তা বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করার কর্মপরিকল্পনা সাজাচ্ছে বিএসসিসিএল।

তাছাড়া দেশের ভেতরে ব্যান্ডউইথের পাইকারি পর্যায়ে দাম কমিয়ে বিক্রি বাড়ানোর কথা জানিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিটি । কর্মকর্তারা জানান, সামনের দিনগুলোতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসবে সেবার গুণগত মানে। ডেটা ও ভয়েস উভয় ক্ষেত্রেই তা পরিলক্ষিত হবে।

নতুন সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত হওয়ার আগেই সিম-মি-উই-৪ এর সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যান্ডউইথের পাইকারি মূল্য আরও একবার কমানোর পরিকল্পনাও রয়েছে বলেও জানিয়েছে বিএসসিসিএল সূত্র।

এক মাসের মধ্যে ভুটানে ব্যান্ডউইথ রপ্তানি

অনন্য ইসলাম, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ভারতের পর এবার ভুটানে যাবে ব্যান্ডউইথ। এ জন্য সব প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আগামী এক মাসের মধ্যে প্রতিবেশি দেশটিতে ব্যান্ডউইথ রপ্তানি শুরু হবে।

প্রথম দফায় দেশটিতে আড়াই জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ রফতানি হবে।

বাংলাদেশের ভূখন্ডের সঙ্গে ভুটানের কোনো সংযোগ না থাকায় ভারতের ভেতর দিয়ে পাহাড়বেষ্টিত দেশটিতে ব্যান্ডউইথ যাবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ার হোসেন।

bsccl-cable-techshohor

এমডি জানান, ব্যান্ডউইথ পাঠাতে ভারতের স্থলভাগের মধ্য দিয়ে দুটি লিংক তৈরি করা হবে। এ লিংকগুলো করে দেবে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব ইন্ডিয়া লিমিটেড (পিজিসিআইএল)।

ভুটানে ব্যান্ডউইথ বিক্রির দামও মোটামুটি নির্ধারিত হয়েছে। ভারতে রপ্তানি করা দামের চেয়ে দ্বিগুণ মূল্যে ব্যান্ডউইথ যাবে হিমালয়ের দেশটিতে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিএসসিসিএল প্রতি জিবিপিএস ব্যান্ডউইথের মূল্য ১৫ হাজার ডলার নির্ধারণ করেছে। এ দামেই তারা আগ্রহী বলে জানা গেছে।

বর্তমানে ভারত থেকে প্রায় ৬৫ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ নেয় ভুটান। এ জন্য প্রতি জিবিপিএসের দাম দেয় প্রায় ৫২ হাজার ডলার।

দামের কারণেও বাংলাদেশ থেকে তাদের ব্যান্ডউইথের চাহিদা আরো বাড়বে বলেও জানান এক কর্মকর্তা। তবে ভুটান আরও বেশি ব্যান্ডউইথ নিলে দাম কিছুটা কমানো হতে পারে বলে তাদের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এর আগে দুই দফায় বিএসসিসিএল প্রতিনিধি দল থিম্পু এবং ভুটানের প্রতিনিধি দল ঢাকা ও কক্সবাজার সফর করে।

গত বছরের মাঝামাঝিতে ভারতের ত্রিপুরায় প্রতি জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ ১০ হাজার ডলার দামে রপ্তানি শুরু করে বিএসসিসিএল।

বর্তমানে বিএসসিসিএলের হাতে আছে ২০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ রয়েছে। আগামী কিছু দিনের মধ্যে বাংলাদেশ আরও ১ হাজার ৩০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ পেতে যাচ্ছে।

অল্প দিনের মধ্যে কুয়াকাটায় দ্বিতীয় ভূর্গভস্থ সাবমেরিন কেবলের সঙ্গে সংযুক্ত হলে বিএসসিসিএলের হাতে বিপুল এ ব্যান্ডউইথ যোগ হবে।

এর একটি বড় অংশ রপ্তানি করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন বিএসসিসিএলের বিদায়ী ব্যবস্থাপনা পারিচালক মনোয়ার হোসেন।

আরও পড়ুন: 

ইন্টারনেটে গতি ফিরতে আরও অপেক্ষা

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ইন্টারনেটের ধীর গতির সমাধান এখনই হচ্ছে না। এ ভোগান্তি মেনেই আরও কিছু দিন ওয়েসবাইট ব্রাউজ করতে হবে। ভারতের তিনটি সাবমেরিন কেবল কাটা পড়ায় গত এক মাস ধরে বেশ ঝামেলায় রয়েছেন নেট ব্যবহারকারীরা।

সংশ্লিষ্টরা হিসাব কষেছিলেন ২০ জানুয়ারির মধ্যে কেবলগুলোর মেরামত কাজ শেষ হলেই গতি আগের অবস্থায় ফিরবে। তবে সর্বশেষ খবর হলো এ সময়ের মধ্যে একটিরও মেরামত শেষ হয়নি। এ জন্য আরও এক থেকে দেড় সপ্তাহ সময় লাগবে বলে ভারতীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এদিকে সাবমেরিন কেবল কাটা পড়ায় ভারতেও ইন্টারনেটের গতি স্লথ হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে গতি স্বাভাবিক রাখতে এর মধ্যে ভারতীয় এয়ারটেল বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানির (বিএসসিসিএল) কাছ থেকে এক মাসের জন্য ৫০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ নিয়েছে।

internet problem_techshor

ফাইবার অ্যাট হোমের চিফ স্ট্রাটেজিক অফিসার সুমন আহমেদ সাবির বলেছেন, কেবলগুলোর মেরামত শেষ না হলে নেটের সংযোগ থাকলেও গতি আগের পর্যায়ে আসতে আরও সময় লাগবে।

ভারত থেকে যে ছয়টি কোম্পানি দেশের জন্য ব্যান্ডউইথ আমদানি করে ফাইবার অ্যাট হোম তাদের অন্যতম।

এ দিকে সম্প্রতি এক প্রেস বিজ্ঞপিতে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন (আইএসপিএবি) জানায়, দেশে বর্তমানে দৈনিক ইন্টারনেট ব্যবহারের পরিমাণ ৪০০ জিবিপিএস অতিক্রম করেছে।

এরমধ্যে বিএসসিসিএল সরবরাহ করে ১২০ জিবিপিএস। বাকি ২৮০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ ভারত থেকে আমদানি করে ছয়টি কোম্পানি।

ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের প্রায় ৭৫ শতাংশ ভারতমুখী হয়ে পড়ার কারণেই দেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা এ অবস্থায় পড়েছে বলে জানান সুমন।

বকেয়া ৬ লাখ ডলার, আরও ব্যন্ডউইথ চায় ভারত

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বাংলাদেশ থেকে নেওয়া ব্যান্ডউইথের চাহিদা বাড়াচ্ছে ভারতে। ১০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথের জায়গায় দ্বিগুণ পরিমান আমদানি করতে চায় দেশটি।

এদিকে আগের রফতানি আয়ের দুই কিস্তির ৬ লাখ ডলার এখনও বকেয়া রয়েছে। এ অর্থ অবশ্য দ্রুত পরিশোধে প্রতিবেশি দেশটির কর্মকর্তারা গত বুধবার এক বৈঠকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

সূত্র জানায়, নতুন করে বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল লিমিটেডের (বিএসসিসিএল) কাছ থেকে আরও ১০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ নিতে ওইদিন কলকাতায় চুক্তি করেছে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি ভারত সঞ্চার নিগম লিমিটেড (বিএসএনএল)।

bsccl-cable-techshohor

এর আগে ২০১৫ সালে দুই পক্ষের মধ্যে ৪০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ আমদানি-রপ্তানির চুক্তি হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী গত বছরের ফেব্রুয়ারি ব্যান্ডউইথ নেওয়া শুরু করে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। এখন পর্যন্ত তারা ৯ জিবি পর্যন্ত ব্যান্ডউইথ নিচ্ছিল।

ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় ছাড়াও উত্তরপূর্বের সাতটি রাজ্যের জন্য ব্রাক্ষমনবাড়িয়ার আখাউড়া থেকে এই ব্যান্ডউইথ নিচ্ছিল ভারত।

এর মধ্যে ত্রিপুরাসহ উত্তরপূর্ব ভারতে ইন্টারনেট পরিসেবার মোট চাহিদার তুলনায় এর পরিমান অনেক কম। এ কারণে বিএসএনএল বর্তমান চাহিদা বাড়িয়ে দ্বিগুণ করছে।

বুধবার সন্ধ্যায় কলকাতার নবটেল হোটেল বিএসএনএল ও বিএসসিসিএলের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে এক আলোচনায় বিষয়টি চূড়ান্ত হয়।

সূত্র জানায়, বৈঠকে নতুন চাহিদা ও আগের চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশকে সঠিক সময়ে বিল পরিশোধ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। বিএসএফের ইর্স্টান জোনের চিফ জেনারেল ম্যানেজার নিভাস ও বিএসসিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ার হোসেন নিজ দেশের পক্ষে বৈঠকে নেতৃত্ব দেন।

এ বিষয়ে বিএসসিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ার হোসেন বলেন, ‌’এটা সরকারের একটা বড় সাফল্য। এ মুহুর্তে এ থেকে আয় হচ্ছে ১০ কোটি টাকা। বিএসএনএল ব্যান্ডউইথ রফতানি দ্বিগুণ করায় তা চলতি বছরই ২০ কোটি টাকা হবে।’

সংকট কাটাতে ৫০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ নিল ভারত

জামান আশরাফ, টেকশহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : তিনটি সাবমেরিন ক্যাবল কাটা পড়ায় প্রচণ্ড ব্যান্ডউইথ সংকট কাটাতে বাংলাদেশ হতে ৫০ জিবি ব্যান্ডউইথ নিয়েছে ভারত।

যদিও এই সংকট বাংলাদেশেও রয়েছে।  তবে দেশীয় সংকট কাটাতে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল) স্থানীয় আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট গেটওয়ে অপারেটরগুলোকে স্বল্প সময়ের জন্যে ব্যন্ডউইথ কেনার প্রস্তাব দিলে অনেকেই রাজি হয়নি।

এই ব্যান্ডউইথ ভারতী এয়ারটেলের কাছে এক মাসের জন্য বিক্রি করেছে বিএসসিসিএল। গত বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তি হয়েছে।

গত এক মাসে ভারতের তিনটি সাবমেরিন ক্যাবল কাটা পড়ার কারণে দেশটিতে বর্তমানে প্রচণ্ড ব্যান্ডউইথ সংকট চলছে। সে কারণেই তারা স্বল্প সময়ের জন্যে এই ব্যান্ডউইথ কিনেছে।

bangladeshi-india-techshohor

এদিকে ভারতীয় ওই তিনটি সাবমেরিন ক্যাবল হতে বাংলাদেশেও প্রায় এক’শ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ আসতো ফলে বাংলাদেশের ইন্টারনেট গ্রাহকদেরকে এর জন্যে ভুগতে হচ্ছে।

বিএসসিসিএল বলছে, স্থানীয় আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট গেটওয়ে অপারেটরগুলোকে স্বল্প সময়ের জন্যে তাদের কাছ থেকে ব্যন্ডউইথ কেনার প্রস্তাব দেওয়া হলেও অনেকেই রাজি হয়নি।

যে এয়ারটেল বাংলাদেশ থেকে ব্যান্ডউইথ কিনল তাদেরও একটি ক্যাবল কাটা পড়েছে। আবার ওই ক্যাবল হতে ভারতের চেন্নাই হয়ে বাংলাদেশে ব্যান্ডউেইথ আসতো।

এই চুক্তি বিষয়ে বিএসসিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, কক্সবাজার হতে চেন্নাই পর্যন্ত রুটের ৫০ জিবিপিএস ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথ ভারতী এয়ারটেলের কাছে বিক্রি করা হয়েছে।

তবে এর জন্য বিএসসিসিএল কত টাকা পাবে সেটি বলতে রাজি হননি তিনি।

তিনি বলেন, ভারতে বাংলাদেশের চেয়েও বেশী ব্যান্ডউইথ সংকট চলছে। এতে করে বেশ কিছু দিন ধরেই তাদের ইন্টারনেটের গতি কমে গেছে। আবার বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়েছে। দুই দেশের সমস্যা কাটাতেই আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।

এয়ারটেলের আগে গত বছরের মাঝামাঝি হতেই ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত্ব কোম্পানি বিএসএনএল ত্রিপুরার জন্যে দশ জিবিপিএস করে ব্যান্ডউইথ নিতে শুরু করেছে। এর জন্য বছরে বিএসসিসিএলের প্রায় দশ কোটি টাকা আয় হচ্ছে।

ইন্টারনেটের দাম আরও কমছে

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ইন্টারনেটের দাম আরও কমাচ্ছে বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল)।

এবার ব্যান্ডউইথের পাইকারি দাম ৬২৫ থেকে ৫৬৩ টাকা করা হচ্ছে। সর্বশেষ ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রতি এমবিপিএস ব্যান্ডউইথ এক হাজার ৬৮ হতে কমিয়ে ৬২৫ টাকা করা হয়।

বিএসসিসিএল সূত্র জানায়, ১০ শতাংশ দাম কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এখনও টেলিযোগাযোগ বিভাগে প্রস্তাব পাঠানো হয়নি। সেখানে এটি অনুমোদন হবে বলে আশা করছেন কোম্পানির কর্মকর্তারা।

Internet cable undersea-TechShohor

বর্তমান সর্বনিম্ন ৬২৫ টাকা এমবিপিএস দরে ব্যান্ডউইথ পেতে হলে ইন্টারনেট গেটওয়ে অপারেটরদেরকে অন্তত ১০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথের বান্ডেল কিনতে হয়।

বিএসসিসিএলের এখন  একটি সাবমেরিন কেবলের মালিকানা থাকলেও এ বছর আরও একটি কেবল পেতে যাচ্ছে ।

সেটি হলে বর্তমানের ৩০০ জিবিপিএসের সঙ্গে আরও অন্তত দেড় হাজার জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ পাবে সরকারি কোম্পানিটি।

বিদেশে রপ্তানির সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়েও ব্যান্ডউইথের ব্যবহার আগের চেয়ে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এবং এটি বাড়াতে ও দেশের নাগরিকদের আরও কম মূল্যে ইন্টারনেট দিতে এই দাম কমানো।

বর্তমানে দেশে ব্যান্ডউইথের ব্যবহার সাড়ে তিনশ জিবিপিএসে উন্নীত হয়েছে। যার মধ্যে দুইশ জিবিপিএস আসছে ভারত থেকে।

 আল-আমীন দেওয়ান

দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল যুগ শুরু ২১ ফেব্রুয়ারি

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ইন্টারনেট সংযোগে নতুন যুগে প্রবেশ করছে দেশ। নতুন বছরেই দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলের শুভ সূচনা হবে । আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি এ সংযোগে যুক্ত হওয়ার দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়েছে।

সিম-মি-উই-৫ বা দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলে সংযোগের কাজ এর আগেই সম্পন্ন হবে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন টেলিযোগাযোগ সচিব মো. ফায়েজুর রহমান চৌধুরী।

এ কেবলে যুক্ত হলে দেশ আরও এক হাজার ৪০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ পাবে।

telecom-techshohor

সিম-মি-উই-৫ কেবলটি ইতিমধ্যে পটুয়াখালির কুয়াকাটার কাছাকাছি আনা হয়েছে বলে জানান ফায়েজুর, যিনি রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলের (বিএসসিসিএল) চেয়ারম্যানও।

ওই দিন বিএসসিসিএল এ কেবলে যুক্ত হলেও ঢাকায় বা দেশের অন্যান্য স্থানে ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করতে ট্রান্সমিশন লিংক এখনও তৈরি হয়নি। তবে নানা জটিলতা কাটিয়ে ফেব্রুয়ারির মধ্যে সেটিও হয়ে যাবে বলে জানান বিএসসিসিএল চেয়ারম্যান।

২০১৪ সালের মার্চে বিএসসিসিএল সিম-মি-উই-৫ কনসোর্টিয়ামে যুক্ত হওয়ার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়।

গত ১৩ ডিসেম্বর সিম-মি-উই-৫ কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছে সমুদ্রের তলদেশে কেবল স্থাপনের কাজ শেষ করেছেন তারা।

এদিকে সম্প্রতি কারিগরি উন্নতির মাধ্যমে বিদ্যমান সিম-মি-উই-৪ কেবলের ক্ষমতা ১০০ জিবিপিএস বাড়ানো হয়েছে। আগে এর পরিমান ছিল ২০০ জিবিপিএস।

বর্তমানে চালু থাকা সিম-মি-উই-৪ কনসোর্টটিয়ামটির কিছু কারিগরি উন্নতির মাধ্যমে ব্যান্ডউইথের এ ক্ষমতা করা হয় বলে জানিয়েছেন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ার হোসেন।

এদিকে মোট ব্যান্ডউইথের মধ্যে এখন মাত্র ১৭৬ জিবিপিএস ব্যবহার হচ্ছে। এর মধ্যে ভারতে রফতানি হচ্ছে ১০ জিবিপিএস।

ব্যান্ডউইথের পরিমান বৃদ্ধি ও নতুন ব্রান্ডউইথ যুক্ত হলে তা বিভিন্ন দেশে রফতানি করতে কর্মপরিকল্পনা সাজাচ্ছে বিএসসিসিএল।

তাছাড়া দেশের ভেতরে ব্যান্ডউইথের পাইকারি পর্যায়ে দাম কমিয়ে বিক্রি বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন মনোয়ার। তার মতে, সামনের দিনগুলোতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসবে সেবার গুনগত মানে। ডেটা ও ভয়েস উভয় ক্ষেত্রেই তা পরিলক্ষিত হবে।

নতুন সাবমেরিন কেবলে যুক্ত হওয়ার আগেই সিম-মি-উই-৪ এর সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যান্ডউইথের পাইকারি মূল্য আরও একবার কমানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলেও জানান বিএসসিসিএল এমডি।