ইন্টারনেটে ভ্যাট চায় না সরকারও

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ইন্টারনেটে ভ্যাট চায় না সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের সর্বোচ্চ ফোরাম ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্স।

আর এই ভ্যাট কমাতে বা অবলোপন করা বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দিয়েছে টাস্কফোর্স নির্বাহী কমিটি। যেখানে বাস্তবায়নকারী হিসেবে অর্থ মন্ত্রণালয়কেও উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ২৭ মার্চ ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্সের নির্বাহী কমিটির সভায় সদস্যরা ইন্টারনেটের বিলের উপর যে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয় তা কমানো বা অবলোপন করার আলোচনা করেন। বিষয়টি উত্থাপন করেন তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার।

এ সময় সভায় উপস্থিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (বোর্ড প্রশাসন) এস এম আশফাক হুসেন জানান, ‘এ বিষয়টি ভ্যাট আইন দ্বারা নির্ধারিত। তবে নতুন ভ্যাট আইনটি ২০১৭ সালের জুলাই হতে কার্যকর হবে।’

এরপর নির্বাহী কমিটি রাজস্ব বোর্ডকে এই ভ্যাট কমানো বা অবলোপনের নির্দেশনা দেন। টাস্কফোর্সের ৭ম ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী।

ইন্টারনেটের উপর ভ্যাট তুলে দেয়ার দাবি সাধারণ মানুষসহ দেশের তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিকম খাতের সকল ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাদের।

internet service providers-techshohor

দেশের সফটওয়্যার খাতের শীর্ষ সংগঠন বেসিস-এর সভাপতি মোস্তাফা জব্বার টেকশহরডটকমকে জানান, ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ইন্টারনেট হচ্ছে মহাসড়ক। এই মহাসড়কে টোল থাকা উচিত নয়। জনগণের ইন্টারনেট ব্যবহারে কোনোভাবেই ভ্যাট থাকবে না। এই ভ্যাট তুলে দেয়ার দাবি দীর্ঘদিনের এবং সকলের।

এই নির্দেশনার জন্য টাস্কফোর্সকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, এখন বাস্তবায়নকারীরা এর গুরুত্ব বুঝবেন আশা করছি।

অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকমিউনিকেশনস অপারেটরস অব বাংলাদেশ (অ্যামটব) এর মহাসচিব এবং প্রধান নির্বাহী টিআইএম নূরুল কবীর টেকশহরডটকমকে জানান, ইন্টারনেট ব্যবহারের ৯৫ শতাংশ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে হয়ে থাকে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন ধাপে ভ্যাট দেয়া হচ্ছে। যার চাপ প্রান্তিক মানুষের উপর পড়ছে। মোবাইল ইন্টারনেটের উপর ভ্যাট ও ট্যাক্স রহিত করা উচিত।

ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) এর সভাপতি এম এ হাকিম টেকশহরডটকমকে বলেন, ইন্টারনেট হতে সকল ভ্যাট-ট্যাক্স উঠিয়ে দেয়া হোক। এই দাবি দীর্ঘদিনের। যদি একান্তই ভ্যাট একেবারে তুলে না নেয়া যায় তাহলে অন্যান্য ইউটিলিটি সাভিসে যেমন নেয়া হয় ইন্টারনেটের ক্ষেত্রেও তেমন নেয়া হোক।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্য) এর সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ হোসেন টেকশহরডটকমকে জানান,  আউটসোর্সিং সেবার ক্ষেত্রে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ইন্টারনেট। এখন এই ইন্টারনেট কিনতে হচ্ছে ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিয়ে আর ক্লায়েন্টের কাছে সেবা হিসেবে নিতে পারছি সাড়ে ৪ শতাংশ। মওকুফ করলে খুবই ভাল কিন্তু যদি তা না হয় তাহলে এটা অন্তত সাড়ে ৪ শতাংশ করা হোক।

বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস) এর পরিচালক শাহিদ-উল-মুনীর টেকশহরডটকমকে জানান, ইন্টারনেটের ভ্যাট মুক্তের দাবির বিকল্প নেই। দেশের তথ্যপ্রযুক্তি ইকোসিস্টেমে এই ইন্টারনেটের ভ্যাট অনেককিছুর খরচ বাড়িয়ে দেয়। এটি থাকা উচিত নয়।

ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) এর সভাপতি রাজীব আহমেদ টেকশহরডটকমকে জানান, ই-কমার্স খাতের অন্যতম ভিত্তি হল এই ইন্টারনেট। সেখানে ভ্যাট একটা প্রতিবন্ধকতা হিসেবেই আছে। এটি তুলে নিলে ই-কমার্সের সম্প্রসারণ দ্রুতগতির হবে।

বাক্যর এজিএমে নতুন ওয়েবসাইট উন্মোচন

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ৫ম বার্ষিক সাধারণ সভায় নিজেদের নতুন ওয়েবসাইট উন্মোচন করেছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্য)।

শনিবার রাজধানীর গুলশান ক্লাবে এই সাধারণ সভা অনুষ্য়ঠিত হয়েছে। সভায় ২০১৫-১৬ সালের কার্যক্রম ও আর্থিক বিবরণী দেওয়া হয়।

BACCO-AGM-Techshohor

বাক্য সভাপতি আহমাদুল হকের সভাপতিত্বে সভায় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি মো. আবুল খায়ের, সহ-সভাপতি ওয়াহিদুর রহমান শরীফ, সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ হোসেন, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আমিনুল হক, অর্থ সম্পাদক তানভীর ইব্রাহিম, পরিচালক সাফকাত হায়দার এবং তানজিরুল বাসার সহ সংগঠনের সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।

বাক্য সভাপতি ৪র্থ বার্ষিক সাধারণ সভার কার্যবিবরণী সভার উপস্থাপন করেন এবং উপস্থিত সদস্যরা এর অনুমোদন করেন।

সভাপতির সম্মতিক্রমে সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ হোসেন ২০১৫-২০১৬ সালের কার্যক্রমের উপস্থাপন করেন এবং অর্থ সম্পাদক তানভীর ইব্রাহিম ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পেশ করেন।

সমিতির সদস্যগণ ২০১৫-১৬ সালের কার্যক্রম ও নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের উপর মতামত পেশ করেন।
সভায় বাক্য কর্তৃক প্রণীত ‘রোডম্যাপ ২০১৫-২০২১’ এর উপর আলোকপাত করা হয় এবং ২০২১ সালের মধ্যে বিপিও ইন্ড্রাস্টির রপ্তানি  এক বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার দৃঢ় আশা ব্যক্ত করা হয়।

ইমরান হোসেন মিলন

১৬০ কল সেন্টারকে অবৈধ ঘোষণা

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : লাইসেন্স নবায়ন না করায় ১৬০ কল সেন্টারকে অবৈধ ঘোষণা করেছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসি। তবে গ্রাহক স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স নবায়নে ৩০ দিন সময় দিয়েছে কমিশন।

মঙ্গলবার বিটিআরসির পরিচালক(লাইসেন্সিং) এম. এ তালেব হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘কল সেন্টারের লাইসেন্সের শর্তানুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর অন্তর অন্তর লাইসেন্স নবায়নের বিধান রয়েছে। নিম্নবর্ণিত কল সেন্টার লাইসেন্সধারী সংস্থা/প্রতিষ্ঠানসমূহের লাইসেন্সের মেয়াদ পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও অদ্যাবদি নবায়নের আবেদন করেনি।’

‘বর্ণিত কল সেন্টার লাইসেন্সের মেয়াদ অতিক্রান্ত হওয়ায় উক্ত সংস্থা/প্রতিষ্ঠানসমূহের অনুকুলে ইস্যুকৃত কল সেন্টার লাইসেন্সের কোনো বৈধতা নেই। সুতরাং উক্ত লাইসেন্সসমূহের অধীনে সকল কার্যক্রম সম্পাদন করা হবে অবৈধ এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইন ,২০০১ এর অধীন শাস্তিযোগ্য অপরাধ’

বিজ্ঞপ্তির শেষে ১৬০টি কল সেন্টারের তালিকা তুলে দেয়া হয়।

Untitled-1

তবে গ্রাহক স্বার্থ বিবেচনায় এই প্রতিষ্ঠানসমূহকে এই বিজ্ঞপ্তি জারির ৩০ দিনের মধ্যে তাদের অনুকুলে ইস্যুকৃত কল সেন্টার লাইসেন্স নবায়নের আবেদন করতে বলা হয়। এই সময়ের মধ্যে আবেদন না করলে এসব প্রতিষ্ঠানের কল সেন্টার লাইসেন্স বাতিল করা হবে। যদি কোনো প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স নবায়নে আগ্রহী না হয় তাহলে বিষয়টি কমিশনকে জানাতে বলা হয়েছে।

বিটিআরসির তথ্যে, ৩৭৭টি প্রতিষ্ঠানের কল সেন্টারের লাইসেন্স রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১০০টি প্রতিষ্ঠান সেবা চালু রেখেছে।

আল-আমীন দেওয়ান

তথ্যপ্রযুক্তি রপ্তানি ২০১৮ সালেই বিলিয়ন ডলার ছাড়াবে : জয়

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের রপ্তানি আয় ২০১৮ সালের মধ্যেই বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ‘বিপিও সামিট-২০১৬’ এর  উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন জয়।

ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে সরকারের উল্লেখযোগ্য ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি সাফল্য তুলে ধরে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, আউটসোর্সিংয়ে বাংলাদেশের অসাধারণ সাফল্য রয়েছে। এই সাফল্যে ধরে রাখেতে এবং কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছতে আন্তর্জাতিক বাজারে দাপটের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হবে। আর এ জন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে বিপিওকে শক্তিশালী করতে হবে।

তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (আইটিইউ) এর সেক্রেটারি জেনারেল হাউলিন ঝাউ, তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ইমরান আহমেদ, বিটিআরসির চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ ও তথ্যপ্রযুক্তি সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা বলেন, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের সূচকে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ হতে সরকার ২০২১ সালকে সীমা ধরেছে। যা বাস্তবায়নে সররকার পরিকল্পনামাফিক এগিয়ে চলেছে। এই লক্ষ অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে তথ্যপ্রযুক্তি খাত।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে গত ৭ বছরে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক সফলতা ও স্বীকৃৃতি অর্জন করেছে উল্লেখ করে জয় বলেন, বর্তমানে দেশের গার্মেন্টস খাতের রপ্তানি আয় বেশি। তথ্যপ্রযুক্তি খাত এক সময় এই আয়কে টপকে যাবে। ২০১৮ সালের মধ্যেই তথ্যপ্রযুক্তি খাত হতে রপ্তানি আয় ১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।

জয় বলেন, ২০২১ সাল নাগাদ তথ্যপ্রযুক্তি খাত হতে ৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সেখানে বিপিও খাতের আয় থাকবে ১ বিলিয়ন ডলার।

BPO OPEN

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীরা এখন গুগল, ফেইসবুক, মাইক্রোসফটের মতো খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানে কাজ করছে। এর মানে দেশে  বিশ্বমানের প্রযুক্তিবিদ তৈরি হচ্ছে।

তিনি বলেন,  তথ্যপ্রযুক্তি সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করতে স্কুলগুলোতে স্বয়ংসম্পূর্ণ কম্পিউটার ল্যাব করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে তিন হাজার ল্যাব করা হয়ছে। এখন স্কুলগুলোতে মুদ্রিত পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি ওয়েবসাইটে পিডিএফ সংস্করণ দেয়া হয়েছে। পাঠ্যবইগুলোর ই-বুক সংস্করণ আনতে কাজ চলছে। শিক্ষার্থীদের জন্য শিগগিরই পাঠ্য বইয়ের ইলেক্ট্রনিক ভার্সন আনা হবে।

সভাপতির বক্তব্যে জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, বাংলাদেশের নতুন সম্ভাবনার নাম বিজনেস প্রসেসিং আউটসোর্সিং বা বিপিও। এখন লক্ষ্য এই বাজারে নিজেদের অবস্থানকে জোরদার করার পাশাপাশি স্থানীয় আউটসোর্সিং-এর বাজারকে সম্প্রসারণ ও সমৃদ্ধ করা।

তিনি বলেন, ২০২১ সাল নাগাদ যে মধ্যম আয়ের দেশ বিনির্মাণের জন্য রূপকল্প দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা, সেখানে তিনি সেভেন্থ ‘ফাইভ ইয়ারস প্ল্যান’-এ তা নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন । প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাক্রমে ২০২১ সাল নাগাদ ৫০০ কোটি ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আইসিটি শিল্প থেকে আয়ের লক্ষ্যপূরণ সম্ভব হবে।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের বিস্ময়কর সম্ভাবনা কথা উল্লেখ করে তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের সংখ্যা প্রায় ৬৫ শতাংশ। ইতোমধ্যেই সারাবিশ্বের জনতান্ত্রিক বিভাজনের যে গবেষণা সেখানে বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৬৫ শতাংশ জনগোষ্ঠীর বয়স ৩৫ বছরের নিচে এবং ৫০ শতাংশ জনগোষ্ঠীর বয়স ২৫ বছরের নিচে । এই ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট কাজে লাগিয়ে বিশ্বের অন্যতম একটি অর্থনৈতিক শক্তিশালী দেশে পরিনত হবে বাংলাদেশ।  তাই মানবসম্পদ উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি নজর দেয়া হচ্ছে।

তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ, তথ্যপ্রযুক্তি অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্য) দেশে দ্বিতীয়বারের মতো বিপিও সম্মেলনের আয়োজন করেছে।

দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে প্রায় অর্ধশত স্থানীয় ও ২০ জন আন্তর্জাতিক বক্তা বিভিন্ন সেশনে বক্তব্য রাখবেন। বিশ্ববাজারে নিজেদের সক্ষমতা তুলে ধরতে এবারের সম্মেলনের স্লোগান- স্থানীয় অভিজ্ঞতা, বৈশ্বিক ব্যবসা।

এবারের মোট ১২ আন্তর্জাতিক সেমিনার ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে।

আল-আমীন দেওয়ান

স্মার্ট সিটি গড়তে আহ্বায়ক কমিটি

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেশে স্মার্ট সিটি গড়ার লক্ষ্য নিয়ে একসঙ্গে কাজ করবে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সংগঠনগুলো। সেই লক্ষ্যে এসব অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা মিলে একটি আহ্বায়ক কমিটিও গঠন করেছে।

রোববার বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) সভাপতি মোস্তাফা জব্বারকে আহ্বায়ক করে ওই কমিটি ঘোষণা করেছে কয়েকটি অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা।

এই কমিটি স্মার্ট সিটি বিষয়ক পলিসি, অ্যাডভোকেসি এবং সচেতনতা তৈরিসহ অন্যান্য বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করবে।

smartcity
স্মার্ট সিটি মূলত ডিজিটাল বাংলাদেশেরই আরেকটি রূপ। যেখানে নাগরিকের সব ধরনের সেবা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তির মাধ্যমে সেবা দেওয়া হবে। আর একই সঙ্গে এগুলো পরিচালিত হবে একটি কেন্দ্র থেকে। যেন সেসব নাগরিক তাৎক্ষণিকভাবে সেই সেবাগুলো পেয়ে থাকেন।

রোববার বাংলাদেশ কম্পিউটার সোসাইটির সভাকক্ষে স্মার্ট সিটি নিয়ে এক আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশের আইসিটি অ্যাসোসিয়েশনগুলোর প্রতিনিধিরা। অ্যাসোসিয়েশনগুলোর মধ্যে ছিল বেসিস, বিসিএস, ই-ক্যাব, বাক্য, বাংলাদেশ কম্পিউটার সোসাইটি, আইএসপিএবি, বিআইজেএফ, সিটিও ফোরাম এবং এফবিসিসিআই।

সেখানে ‘স্মার্ট সিটি অ্যান্ড আইওটি’ নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কম্পিউটার জগৎ এর প্রধান নির্বাহী এবং ই-ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল ওয়াহেদ তমাল। এছাড়া ভিডিও কনফারেন্সে লন্ডন থেকে যোগ দেন স্মার্ট সিটি ডেভেলপমেন্ট এক্সপার্ট ড. জোয়ি ও বাবাক এবং ব্রিটিশ পার্লামেন্ট প্রতিনিধি রোহিমা মিয়া।

উদ্যোগটি সম্পর্কে বেসিস সভাপতি এবং স্মার্ট সিটি কমিটির আহ্বায়ক মোস্তাফা জব্বার টেকশহরডটকমকে বলেন, স্মার্ট সিটি একটা দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া ও পরিকল্পনা। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করা সবগুলো অ্যাসোসিয়েশন এক সঙ্গে কাজ করবে। ফলে এটি ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করবে।

তিনি বলেন, স্মার্ট সিটি গড়ার প্রধান কাজ করবে সরকার, বেসরকারি উদ্যোগ ও জনগণ। তবে এই খাতের ট্রেড বডি হিসেবে আমরা সরকারকে সর্বোচ্চ সহায়তা করবো। সেটা পলিসি প্রণয়ন, গাইডলাইন তৈরি থেকে শুরু করে বাস্তবায়ন পর্যন্ত।

সভায় ‘স্মার্ট সিটি অ্যান্ড আইওটি’ প্রবদ্ধের উপস্থাপক আবদুল ওয়াহেদ তমাল টেকশহরডটকমকে বলেন, বিভিন্ন দেশ বেশ কয়েকবছর ধরেই স্মার্ট সিটি নিয়ে কাজ করছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ ভিশনও কিন্তু সেই স্মার্ট সিটি গড়ার লক্ষ্যেই। কিন্তু দেশে সবাই কাজ করলেও সবাই তা করছে পৃথকভাবে।

তিনি বলেন, দেখা যায় একই কাজ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার, সিটি কর্পোরেশন কিংবা বেসরকারি সংস্থাগুলো করছে অথচ আলাদা করে। এর ফলে তা কেন্দ্রিয়ভাবে বাস্তবায়ন ও নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই আমরা চাই সবাই যেন মিলেমিশে একটি গাইডলাইন, পলিসির মাধ্যমে সেই কাজগুলো একত্রে করে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করতে পারি অনেক আগেই।

সভায় উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই ডিরেক্টর শাফকাত হায়দার, তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবীদের সংগঠন বাংলাদেশ কম্পিউটার সোসাইটির সভাপতি ও বুয়েটের অধ্যাপক ড. মাহফুজুল ইসলাম, ই-ক্যাব সভাপতি রাজিব আহমেদ, বাক্য সভাপতি আহমেদ হক ববি, এটুআই এর ডিরেক্টর মোস্তাফিজুর রহমান, বিসিএস সাধারণ সম্পাদক সুব্রত সরকার, আইএসপিবি জেনারেল সেক্রেটারি ইমদাদুল হক, সিটিও ফোরাম সভাপতি তপন কান্তি সরকার, বিআইজেএফ এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তরিক রাহমান, এফবিসিসিআই ই-কমার্স স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ইকবাল জামাল, কম্পিউটার জগতের সহকারী সম্পাদক আব্দুল হক অনু, বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভারনেন্স ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এএইচএম বজলুর রহমান, ই-ক্যাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য খান মো. কায়সারসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

ইমরান হোসেন মিলন

বাংলাদেশকে সাইবার নিরাপত্তায় সহায়তা করবে ফিলিপাইন

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ফিলিপাইন বাংলাদেশকে সাইবার নিরাপত্তায় সহায়তা করতে চায়। এজন্য দেশটির নাও কর্পোরেশন এবং এশিয়ান ইন্সটিটিউট অব জার্নালিজম অ্যান্ড কমিউনিকেশন (এআইজেসি) প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সরকার, এখানকার প্রযুক্তি, শিক্ষা, বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং (বিপিও)সহ বেশ কয়েকটি খাতে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিংয়ের (বাক্য) একটি প্রতিনিধি দল ফিলিপাইন সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণে ফিলিপাইন ঘুরে আসেন। সেই সফরেই ফিলিপাইনের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের সঙ্গে বিপিও সেক্টরে কাজের পাশাপাশি সরকারের বিভান্ন খাতে সাইবার নিরাপত্তায় সহায়তা করবে বলে জানিয়েছে।

বাক্যের ওই সফরের উদ্দেশ্য ছিল বিপিও খাতের নানা ধারণা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতবিনিময় এবং আগামীতে পারস্পরিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ করা। যার মধ্যে সাইবার সিকিউরিটি বিষয়টিও মুখ্য ছিল।

Hacker
প্রতিনিধি দল ফিলিপাইনে গিয়ে নাও কর্পোরেশনসহ বেশ কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ঘুরে আসেন।

সেসময় একটি সেমিনারে নাও কর্পোরেশন এবং এশিয়ান ইন্সটিটিউট অব জার্নালিজম অ্যান্ড কমিউনিকেশন (এআইজেসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেল ভালেস্কো ভিলার্ডি বিশ্বের বেশ কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের সাইবার নিরাপত্তার দিক তুলে ধরেন। বিশেষ করে ফেইসবুক, ইনস্টাগ্রামসহ বড়বড় প্রযুক্তি জায়ান্টদের সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে একটি উপস্থাপনা দেন মেল ভালেস্কো।

ভালেস্কো তার উপস্থাপনায় সাংগঠনিকভাবে একটি ‘যুক্তিসংগত নিরাপত্তা’র উপর জোর দেন। যেখানে একসঙ্গে কাজ করে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাইবার নিরাপত্তায় এজেন্সি হিসেবে কাজ করা যায়।

নাও এর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সাইবার নিরাপত্তা প্রদানে রিয়েল টাইম ডায়গনিস্টিক, মনিটর টুলস, কাউন্টার অ্যাটাক টুলস, কর্মী এবং প্রযুক্তিগত সেবা সহায়তা দিয়ে থাকে বলে বলেন ভালেস্কো।

সেখানে ভালেস্কো বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে এখন সাইবার হামলা হতে পারে বলে তিনি এর মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান।

আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সেক্টরে বিশ্বে এখন প্রায় ৮১ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হচ্ছে শুধু সাইবার নিরাপত্তায়। বিষয়টি নিয়ে ফিলিপাইনের ম্যানিলায় ২৭ জুলাই বাংলাদেশের দূতাবাস সাইবার সিকিউরিটি নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক ফোরাম আয়োজন করছে।

ইমরান হোসেন মিলন

আরও পড়ুন: 

বাজেট নিয়ে আশাহত তথ্যপ্রযুক্তি খাত সংশ্লিষ্টরা

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেশে তথ্যপ্রযুক্তি খাত ভিশন ২০২১ নিয়ে এগোচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে দেশে এই খাত থেকে আয় পাঁচ বিলিয়ন ডলার নিয়ে আসা হবে বলে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার ও বেসরকারি পর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলো। তথ্যপ্রযুক্তি

তবে সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে এবারের বাজেট আশানরূপ বলেছেন খাত সংশ্লিটার। তারা বলছেন, সরকার একদিকে বলছে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়বে, ভিশন ২০২১ বাস্তবায়ন করবে। কিন্তু তারাই আবার এই খাতে ভ্যাট, ট্যাক্সের হার বৃদ্ধি করে পিছন থেকে টেনেও ধরছে। খাত থেকে ভ্যাট-ট্যাক্স না কমালে বা একেবারে প্রত্যাহার করা না হলে সামনে আগানো সম্ভব হবে না।

শনিবার বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) ও দৈনিক ইত্তেফাক আয়োজিত ‘প্রস্তাবিত বাজেট ও আইসিটি খাতের বাস্তবতা’ গোলটেবিল বৈঠকে এমন হতাশার কথা উঠে এসেছে সবার কণ্ঠেই।

Basis Round table-techshor
বৈঠকের শুরুতে বেসিস সভাপতি শামীম আহসান ‘জাতীয় বাজেট ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জন্য বেসিসের প্রস্তাব’ নামে একটি লিখিত প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।

বেসিসের ওই প্রস্তাবে অনলাইন কেনাকাটা বা ই-কমার্সের উপর থেকে মূসক ও কর অব্যাহতি পুনর্বহাল রাখা, সফটওয়্যার ও আইটিই কোম্পানিসমূহের বাড়িভাড়ার ওপর প্রযোজ্য মূল্য সংযোজন কর মওকুফ, তথ্যপ্রযুক্তি সেবায় থাকা সাড়ে চার শতাংশ মূসক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার, পাঁচ বছরের পুরোনো ভ্যাট তামাদি ঘোষণা করা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুরোর জন্য মূসক প্রক্রিয়ায় অটোমেশন চালু, স্থানীয়ভাবে তৈরি সফটওয়্যারের উৎপাদন, আমদানী ও বিক্রি পর্যায়ে ভ্যাট মওকুফ করতে জোর দাবি জানানো হয়েছে।

এছাড়াও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর কমপক্ষে ১০ শতাংশ অর্থ তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে বরাদ্দ করা, ডিজিটালাইজেশন ও অটোমেশন প্রক্রিয়ায় আনতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের বাৎসরিক মোট বাজেটের ন্যূনতম পাঁচ শতাংশ অর্থ সফটওয়্যার এবং আইটিইএস খাতে খরচ করার বাধ্যবাধকতা, ঢাকা কাস্টমস হাউজকে সফটওয়্যার আমদানির ওপর প্রযোজ্য শুল্ক আদায়ের দায়িত্ব প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছে।

গোল টেবিল বৈঠকে আব্দুল্লাহ এইচ কাফী বলেন, আমরা বলি এক, কিন্তু বাস্তবতায় ভিন্ন। প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়ন হলে ২০২১ সারে মধ্যে এই খাত থেকে পাঁচ বিলিয়ন ডলার আয়ের চিন্তা মাথা থেকে বাদ দিতে হবে। আমরা এই খাতে থেকে ২০২১ সালের আগে কোনো ধরনের ভ্যাট দিতে চাই না।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্য) ভাইস-প্রেসিডেন্ট ওয়াহিদ শরিফ বলেন, গার্মেন্ট সেক্টরের আয় এক দিনে বিলিয়ন ডলার হয়নি। সেখানেও সরকারকে দীর্ঘমেয়াদে কর ছাড় দিতে হয়েছে। আইসিটি খাতের আয় বাড়াতে আমাদের এমই লংটার্ম পলিসি দরকার।

প্রিয়শপ ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী আশিকুল আলম খাঁন বলেন, দেশে ই-কমার্স খাতের ভ্যাট অব্যাহতির বিষয়টি পুনর্বহাল রেখে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। শুধু একটা লক্ষ্য নির্ধারণ করে দিয়ে ভালো কিছু চাইলে দেওয়া সম্ভব নয়।

ই-ক্যাব সভাপতি রাজিব আহমেদ বলেন, ই-কমার্সে কর অব্যাহতি পুনর্বহালের পাশাপাশি বাজেট থেকে বছরে ১০০ কোটি টাকার একটা থোক বরাদ্দ ও খাতের গবেষণার জন্য সরকারকে একটা বরাদ্দ রাখতে হবে।

বাগডুম ডটকমের প্রধান নির্বাহী সৈয়দা কামরুন নাহার বলেন, ই-কমার্স খাতে ভ্যাট বসিয়ে শুরুতেই আমাদের রুদ্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এভাবে আসলে অনলাইন কেনাকাটা সবার কাছে পৌছে দেওয়া সম্ভব নয়।

গোলটেবিল আয়োচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) নির্বাহী পরিচালক এস এম আশরাফুল ইসলাম, আইসিটি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হারুন-অর-রশিদ, সুশান্ত কুমার সাহা, বিডিজবসের প্রধান নির্বাহী ফাহিম মাশরুর, ইত্তেফাকের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর তারিন হোসেন, সিটিও ফোরামের সভাপতি তপন কান্তি সরকার, চালডাল ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা জিয়া আহসান, সূর্যমুখী প্রধান নির্বাহী ফিদা হক, প্রথম আলোর ফিচার এডিটর পল্লব মোহাইমেন, বিআইজেএফের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তরিক রহমানসহ আরও অনেকে।

ইমরান হোসেন মিলন

আরও পড়ুন:

দ্বিতীয় বিপিও সম্মেলন জুলাইয়ে

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ২০১৬ সালের জুলাই মাসে হবে বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিংয়ের (বিপিও) দ্বিতীয় সম্মেলন। দেশে ২৮ ও ২৯ জুলাই দ্বিতীয়বারের মতো দুইদিনব্যাপী ওই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

গত ৯-১০ ডিসেম্বর প্রথমবারের মতো দেশে বিপিও সামিটের আয়োজন করেছিল সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কলসেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্য)।

সেই সম্মেলনের সফলতা তুলে ধরতে বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে আয়োজকরা।

BPO

সংবাদ সম্মেলনে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, হাইটেক পার্ক ও বিপিও খাতে ২০২১ সালের আগেই দেশে একলাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, প্রথম বিপিও সামিট উপলক্ষে আমরা ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাক্টিভেশন কার্যক্রম করেছি। সেখান থেকে প্রায় ১০ হাজার জনের সিভি সংগ্রহ করা হয়েছিল। যার মধ্যে ২৩৫ জনকে ইতোমধ্যে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অন্যদের পর্যায়ক্রমে নিয়োগ দেওয়া হবে।

বিশ্বে প্রায় ৫শ বিলিয়ন ডলারের বিপিও বাজার আছে জানিয়ে পলক বলেন, আমরা যেভাব বিপিও আউটসোর্সিংয়ে উন্নতি করছি তাতে ২০২১ সালের মধ্যে তিন বিলিয়ন ডলারের বাজার ধরতে পারবো। এই লক্ষ্যে দেশে ৫৫৪টি বিপিও সেন্টার স্থাপন করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বাক্য সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ হোসেন বলেন, সামিটের মাধ্যমে দেশি-বিদেশী বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের বিপিও খাতের অবস্থান সম্পর্কে একটা স্পষ্ট ধারণা দেওয়া হয়েছে। একই সাথে দেশর তরুণদেরও এই খাত সম্পর্কে আগ্রহী করে তোলার কাজ করেছি আমরা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাক্যের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওয়াহিদ শরীফ, আইসিটি বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদারসহ আরো অনেকে।

ইমরান হোসেন মিলন

বিপিওতে চাকরি পেলেন ২৩৫ শিক্ষার্থী

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং (বিপিও) সম্মেলন হতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি পেয়েছেন ২৩৫ শিক্ষার্থী।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্য) এর সদস্য ছয়টি কোম্পানিতে এসব শিক্ষার্থীদের চাকরির নিয়োগপত্র দেয়া হয়।

বাক্য এবং তথ্যপ্রযু্ক্তি বিভাগ আয়োজিত এই ‘বিপিও সামিটি-২০১৫’ উপলক্ষ্যে ২০০ শিক্ষার্থীর চাকরির ব্যবস্থা করার ঘোষণা দেয়া হয়েছিল।

বুধবার দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

বাক্যর সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ হোসেন টেকশহরডটকমকে জানান, সম্মেলন উপলক্ষ্যে দেশের ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাক্টিভেশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে সাত হাজারেরও বেশি সিভি নেয়া হয়। এখান থেকেই বাছাই করে বিপিও সম্মেলনে সরাসরি ইন্টারভিউ নেয়া হয় এবং অনস্পট শিক্ষার্থীদের চাকরির নিয়োগপত্র দেয়া হয়।

call-center

বিপিও সম্মেলনে ইন্টারভিউ দিয়ে কল সেন্টারের খণ্ডকালীন চাকরি পেয়েছেন উত্তরা ইউনিভার্সিটির জান্নাতুল ফেরদাউস।
জান্নাতুল ফেরদাউস টেকশহরডটকমকে বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি এই চাকরি আমার ভবিষ্যত ক্যারিয়ারের জন্য অভিজ্ঞতা যোগ করবে।

তৃষা আহমেদ আইইউবিতে পড়ছেন। তিনি জানালেন, সপ্তাহে প্রতিদিনই ক্লাস থাকে না। এই দিনগুলোতে কাজ করবো। বিপিও সম্মেলনে ইন্টারভিউ দিয়ে সাথেসাথেই নিয়োগপত্র পাওয়ায় চাকরির প্রসিডিউর নিয়ে অনেক ঝক্কি থেকে মুক্তি পেয়েছি।

ছয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইম্পেল সর্ভিস অ্যান্ড সলিউশন লিমিটেড (আইএসএসএল) নিয়ে ২০ জন, সার্ভিস সলিউসন্স লিমিটেড ৫০, মাই আউটসোর্সিং লিমিটেড ২০, ফিফো টেক ২০, ভার্গো কন্টাক্ট সেন্টার সার্ভিস লিমিটেড ৪০, জেনেক্স ইনফোসিসি লিমিটেড ৫০ এবং ডিজিকন ৩৫ জন শিক্ষার্থীকে নিয়েছে।

এদিকে সম্মেলনে দেশের বিপিও উদ্যোক্তা, সরকারের নীতিনির্ধারক ও গবেষকগণ বেশ জোরের সাথেই খাতটির এই ভবিষ্যত সম্ভাবনার কথা জানান। উদ্যোক্তারা আগামী ছয় বছরে এই খাতের আয় ১০০ কোটি ডলার ও ২ লাখ কর্মসংস্থানের লক্ষ্য ঠিক করেছেন।

সম্মেলনের সহযোগী আয়োজক হিসাবে ছিল প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল (বিপিসি) ও এক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরো (ইপিবি)।

আল-আমীন দেওয়ান

ক্রিকেটের পর বিশ্বে বাংলাদেশকে চেনাবে তথ্যপ্রযুক্তি

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ক্রিকেটের পর বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের নতুন পরিচয় এনে দেবে তথ্যপ্রযুক্তি খাত।

বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বিপিও সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আহম মোস্তফা কামাল।

তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন তথ্যপ্রযুক্তি সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিংয় (বাক্য) এর সভাপতি আহমাদুল হক।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের থাকার কথা থাকলেও তিনি আসেননি ।

মোস্তফা কামাল বলেন, পাশের দেশ ভারতের সত্য নাদেলা মাইক্রোসফটের সিইও হয়েছেন। তারা পারলে আমাদের তরুণরাও পারবে। তবে তরুণদের স্বপ্ন দেখাতে হবে। তাদের সব ধরণের সহযোগিতা করতে হবে।

বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে দারুণ সম্ভাবনাময় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্রিকেটের পরে তথ্যপ্রযুক্তি খাতই বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে নতুন রূপে পরিচিত করে তুলবে।

Kamal

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা অনেক। এদেশের মানুষের আছে অসাধারণ প্রাণশক্তি। আমরা কোনো কিছুতেই হার মানবো না।

বুধবার দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ওয়ার্ল্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সার্ভিসেস অ্যালায়েন্সের (উইটসা) সভাপতি ও টেকনোলজি ব্যবসায় বিশেষজ্ঞ স্যানটিয়াগো গুটায়ারেজ।

তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্য) যৌথভাবে এই সম্মেলনের আয়োজক।

ডিজিটাল বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অবদানে বিপিওকে পরিচিত করা, তরুণদের আগ্রহী করা ও উদ্যোক্তাদের বৈশ্বিক পরিচিতির সুযোগ দেয়াও আন্তজাতিক এই সম্মেলনের উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

দুই দিনের এই সম্মেলনে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খ্যাতনামা ৪০ জনেরও বেশি বক্তাগণ বিভিন্ন সেশনে বক্তব্য রাখেন।
সম্মেলনের সহযোগী হিসাবে ছিল প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল (বিপিসি) ও এক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরো (ইপিবি)।

আল-আমীন দেওয়ান

নতুন লক্ষ্যপূরণের প্রত্যাশায় শেষ হলো বিপিও সম্মেলন

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেশের বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং (বিপিও) খাতে সম্ভাবনার জানান দিয়ে শেষ হলো প্রথমবারের মতো আয়োজিত বিপিও সম্মেলন-২০১৫।

সম্মেলনে দেশের বিপিও উদ্যোক্তা, সরকারের নীতিনির্ধারক ও গবেষকগণ বেশ জোরের সাথেই খাতটির এই ভবিষ্যত সম্ভাবনার কথা জানান। সম্মেলনের সমাপনীতে তারা আবারও জানালেন, আগামী ছয় বছরে এই খাতের আয় ১০০ কোটি ডলার ও ২ লাখ কর্মসংস্থানের লক্ষ্য রয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে দুই দিনব্যাপী সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠান ‘সিএক্সও নাইট’ অনুষ্ঠিত হয়।

BPO SUMMIT-new

সমাপনীতে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী আহম মোস্তফা কামাল। তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন তথ্যপ্রযুক্তি সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিংয় (বাক্য) এর সভাপতি আহমাদুল হক।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের থাকার কথা থাকলেও তিনি আসেননি ।

মোস্তফা কামাল বলেন, পাশের দেশ ভারতের সত্য নাদেলা মাইক্রোসফটের সিইও হয়েছেন। তারা পারলে আমাদের তরুণরাও পারবে। তবে তরুণদের স্বপ্ন দেখাতে হবে। তাদের সব ধরণের সহযোগিতা করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, আগামী পাঁচ বছরে দেশের ২ কোটি তরুণের কর্মসংস্থানের লক্ষ্য রয়েছে। এরমধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ একাই ১ কোটি তরুণের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে।

বুধবার দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ওয়ার্ল্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সার্ভিসেস অ্যালায়েন্সের (উইটসা) সভাপতি ও টেকনোলজি ব্যবসায় বিশেষজ্ঞ স্যানটিয়াগো গুটায়ারেজ।

তথ্যযোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্য) যৌথভাবে এই সম্মেলনের আয়োজক।

ডিজিটাল বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অবদানে বিপিওকে পরিচিত করা, তরুণদের আগ্রহী করা ও উদ্যোক্তাদের বৈশ্বিক পরিচিতির সুযোগ দেয়াও আন্তজাতিক এই সম্মেলনের উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

দুই দিনের এই সম্মেলনে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খ্যাতনামা ৪০ জনেরও বেশি বক্তাগণ বিভিন্ন সেশনে বক্তব্য রাখেন।
সম্মেলনের সহযোগী হিসাবে ছিল প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল (বিপিসি) ও এক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরো (ইপিবি)।

আল-আমীন দেওয়ান