মোবাইল ব্যাংকিং চার্জ যৌক্তির করার দাবি

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন দেশে মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিস চার্জ একটা যৌক্তির পর্যায়ে রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

সংগঠনটি রোববার তোপখানা রোডে এক সংবাদ সম্মেলন করে মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেনে সার্ভিস চার্জ গ্রাহক বান্ধব করে সাধারণ ব্যাংকিং এর মতো করার দাবি জানায়।

সংগঠনটির সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ঘোষণা করেছেন যে, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সার্ভিস চার্জ যৌক্তিক পর্যায়ে আনা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই ঘোষণা দেরিতে হলেও আমরা এ ঘোষণাকে স্বাগত জানাই। সকল স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সার্ভিস চার্জ সাধ্যের মধ্যে আনার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান তিনি।

BMCA-Techshohor

তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে মূলধারার ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে ৫৯টি প্রতিষ্ঠান। তার মধ্যে বিদেশি ব্যাংক ৯টি, সরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক ৬টি, বিশেষায়িত (কৃষি)  ৫টি ও প্রাইভেট কর্মাশিয়াল ব্যংক ৩৯টি। এত ব্যাংক থাকলেও এ সকল ব্যাংকের সেবার মান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। প্রান্তিক পর্যায়ে এদের তেমন কোনো কার্যক্রম নেই বলেও জানান। কিন্তু মোবাইল ব্যাংকিং সবখানের মানুষ ব্যবহার করে। যেখানে লেনদেনের পরিমাণও অনেক।

কিন্তু তারপরও মোবাইল ব্যাংকিং চার্জ সাধারণ ব্যাংকিং চার্জের চেয়ে কয়েকগুণ বলেও বলেন তিনি। যার একটা যৌক্তিক সমাধান হওয়া জরুরী বলে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে।

মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসের জন্য ‘গাইডলাইন’ করল্েও তা অনেক ব্যাংকই মানে না। তাই অনিয়ম দিন দিন বেড়ে চলেছে যেখানে গ্রাহকরা ভোগান্তি এবং নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। তাই অচিরেই মোবাইল ব্যাংকিং চার্জ কমানোর দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের গাইডলাইনে কোথাও মোবাইল ব্যংকিংয়ের সার্ভিস চার্জ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়নি। গাইডলাইনে ৭ এর ৪ নাম্বারে বলা আছে, ‘সার্ভিস চার্জ নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংক’। বর্তমানে সার্ভিস চার্জ সকল ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানের একই অর্থাৎ ১.৮৫ শতাংশ যা ১০০ টাকায় ১.৮৫ টাকা বা ১০ হাজার টাকায় ১৮৫ টাকা। আবার রিটেইলারগণ এর থেকে ও অতিরিক্ত ২% আবার কোন কোন ক্ষেত্রে ২.৫০ শতাংশ বেশি নিয়ে থাকে। এই সেবা মরার ওপর খারার ঘা হিসাবে জনগণের ওপর এসে পড়ছে।

সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বেশি টাকা আদায় করা হচ্ছে উল্লেখ করে মহিউদ্দীন  আহমেদ বলেন, এমনিতেই এর সার্ভিস চার্জ বেশি তারপরও তারা গ্রাহকদের জিম্মি করে অনৈতিকভাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে। আর যে সরকার জনবান্ধব হবার কথা চিন্তা করেই এই মোবাইল ব্যাংকিং চালু করল ঠিক তারাই জনগণের উপর ৪২ শতাংশ রাজস্ব চাপিয়ে দিলো। বিষয়টি আমাদের কাছে বোধগম্য নয়। আর ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান যে গ্রাহকদের অর্থে চলে সেই গ্রাহকদের আগে বিনিয়োগ করতে হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রাজেকুজ্জামান রতন, জাগো বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মো. বাহারানে সুলতান বাহার, দুর্নীতি প্রতিরোধ আন্দোলনের সভাপতি হারুন অর রশিদ খান, বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরামের সভাপতি কবির চৌধুরী তন্ময়, গণমোর্চার সভাপতি মো. মাসুম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. ইসরাত হাসান, প্রচার সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, সাধারণ সদস্য আফজাল হোসেন, মো. রেজাউল করিমসহ আরও অনেকেই।

ইমরান হোসেন মিলন

মোবাইল ব্যাংকিং নীতিমালা ও কমিশন গঠনের দাবি

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেশে ক্রমবর্ধমান খাত হিসেবে মোবাইল ব্যাংকিংকে একটি নীতিমালার আওতায় এনে আলাদা কমিশন গঠন করে তার মাধ্যমে পরিচালনা করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন।

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে একটি মানববন্ধন করে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সার্ভিস চার্জ কমানো, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও আলাদা কমিশন গঠন করে এক গ্রাহকবান্ধব করার দাবিতে এই মানববন্ধন করে সংগঠনটি।

মানববন্ধনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে দেশের বিপুল পরিমাণ মোবাইল গ্রাহকদের কথা বিবেচনা করে খাতটি থেকে সার্ভিস চার্জ কমানোর আহ্বান করেন বক্তারা।

BMCA-TECHSHOHOR
বক্তারা বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতির একটা বড় অংশ এখন মোবাইল ব্যাংকিং নির্ভর হয়ে পড়েছে। তবে সঠিক নীতিমালা এবং সুষ্ঠু নিরাপত্তার অভাবে এই খাতে অনেক সময় গ্রাহকরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। মোবাইল অপারেটর ও ব্যাংক ছাড়া তৃতীয় পক্ষ না থাকায় এই খাত লুটপাটে মেতেছে।

তাই অবিলম্বে খাতটিকে অন্যতম খাত বিবেচনায় এনে নীতিমালা করা ও একই সঙ্গে এর জন্য আলাদা কমিশন গঠনের দাবি জানানো হয়।

সংগঠনটির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন আহমেদ টেকশহরডটকমকে বলেন, দেশে মোবাইল ব্যাংকিং নিয়ে কোনো নীতিমালা নেই। এই সুযোগ নিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত চার্জ নেওয়া হয়। যা সাধারণ ব্যাংকিং থেকে অনেক বেশি।

তিনি বলেন, দেশে প্রায় নয় লাখ মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় অনেক এজেন্ট গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করে থাকে। কিন্তু সেসব নিয়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না।

এসব দিকে লক্ষ্য রেখে সরকারের এখনি মোবাইল ব্যাংকিং নিয়ে একটা সময়োপযোগী নীতিমালা গঠন এবং একই সঙ্গে একটি আলাদা কমিশন গঠনের দাবি জানান তিনি।

ইমরান হোসেন মিলন