এই ‘পেপ্যাল’ সেই পেপ্যাল নয়

মো: শফিউল আলম, ইলেক্ট্রনিক পেমেন্ট ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস বিশেষজ্ঞ : গত ২০১৫ সালের শেষভাগে পেপ্যালের (ইন্টারনেট পেমেন্ট গেইওয়ে) জুম ইনকরপোরেশন (ক্রসবর্ডার অনলাইন মানি ট্রান্সফার কোম্পানি) একুইজিশন ঘোষণার পর থেকেই বাংলাদেশে পেপ্যাল আগমন এবং জুমকে একীভুত করে ‘বিভ্রান্তিমুলক সংবাদ’ পরিবেশন হতে থাকে । যদিও ইন্টারনেট পেমেন্ট গেটওয়ে এবং অনলাইন মানি ট্রান্সফারের সেবার ধরন, প্রকৃতি এবং গ্রাহক চাহিদা ভিন্নতর।

পেমেন্ট গেটওয়ের ( পেপ্যাল, স্ক্রিল ইত্যাদি ) মৌলিক বৈশিষ্ট হচ্ছে ই-ওয়ালেট, অর্থ জমা (ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড, প্রি-পেইড, মানি-প্যাক), পিয়ার টু পিয়ার মানি ট্রান্সফার, অনলাইন মার্চেন্ট পেমেন্ট এবং অর্থ উত্তোলন (ব্যাংক একাউন্ট, ক্রেডিট,ডেবিট, প্রি-পেইড, চেক)। পেমেন্ট গেটওয়ের লাইন্সেন্স ব্যাংক সেন্ট্রিক।

অনলাইন মানি ট্রান্সফারের ( জুম, ট্রান্সফারওয়াইজ ইত্যাদি ) মৌলিক বৈশিষ্ট হচ্ছে এটা সরাসারি সুইফেটের মাধ্যমে ক্রসবর্ডার ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার করে, অর্থ জমা (ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড বা ওটিসি), অর্থ উত্তোলন (ব্যাংক একাউন্ট, ওভার দি কাউন্টার-ওটিসি), অনলাইন মানি ট্রান্সফার লাইসেন্স লোকেশন সেট্রিক।

বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোতে বিইএফটিএন ( বাংলাদেশ ইলেক্ট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার নেটওয়ার্ক) এর মাধ্যমে ইন্টার-ব্যাংক ফান্ড ট্রান্সফার সুবিধাটি কয়েক বছর ধরে বিদ্যমান আছে। যদিও এসিএইচ ( অটূমেটিক ক্লিয়ারিং হাউজ) এবং আরটিজিএস ( রিয়েলটাইম গ্রস সেটেলমেন্ট ) ইলেক্ট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে রিয়েলটাইম প্রযোজ্য হয়নি ( নিশ্চিত নই )।  যার ফলে দুই-একদিন সময় নেয় সেটেলম্যান্টের জন্য।

অনলাইন মানি ট্রান্সফারের অফলাইন ( ব্রিক- মর্টার ) মডেলই অনলাইন ভার্সন। তাই অনলাইন মানি ট্রান্সফারের মানি অপারেটিং লাইসেন্স এক্সচেঞ্জ হাউজ স্টেইট টূ স্টেইট বা কান্ট্রি টূ কান্ট্রি আলাদা নিতেই হয় ।

এখানে উল্লেখিত যে, সম্ভবত একমাত্র জুম গ্রাহকরা (সেন্ডার/পেয়ার) পেপ্যাল দিয়ে লগইন করে পেপ্যাল ব্যালেন্স থেকে ফান্ড ট্রান্সফার  করতে পারেন। পেপ্যাল যেহেতু ব্যাংক নয় তাই তাদেরও ক্যাশইন করতে হয় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড, প্রি-পেইড, মানি-প্যাক থেকে। তাই এখানে অন্য অনলাইন মানি ট্রান্সফার সেবার সাথে জুমের মৌলিক কোনো পার্থক্য নেই।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশে পেপ্যাল সেবা চালু

Md. shofiul alam

জুম পেপ্যালকে কিনে নেয়ার অন্যতম কারণ অফলাইন (ব্রিক অ্যান্ড মর্টার) এবং অনলাইন রেমিট্যান্সের  বাজার ধরা কারণ পেপ্যালের কাস্টমাররা সাধারনত অনলাইন ক্রেতা এবং বিক্রেতা। যার ফলে মার্চেন্ট সার্ভিস মনোপলি করেছে পেপ্যালের মৌলিক সেবা ই-ওয়ালেট। যেহেতু পিটুপি বা ক্যাশ-আউট অনেক ব্যয়বহুল এবং লেনদেন তুলনামুলক অনেক কম।

পেপ্যাল ক্যাশ-ইন ফ্রি কিন্তু ক্যাশ-আউটে বা পিয়ার টু পিয়ার লেনদেনে অনেক ফি (২.৫-৪%) দিতে হয় যার ফলে কাস্টমাররা অ্যাভয়েড করে থাকেন বা হাই ভ্যালু পিটুপি ট্রাঞ্জেকশন পেমেন্ট গেটওয়ে দিয়ে করেন না। সেক্ষেত্রে  জুমের মত অনলাইন মানি ট্রান্সফার বা মানি অপারেটিং লাইসেন্স নিয়ে এক্সচেঞ্জ হাউজগুলো দিয়ে সুইফট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে করেন। এক্ষেত্রে যে কোনো অ্যামাউন্টের জন্য জুমের ওয়ানঅফ ৪-৭ ডলার চার্জ করে থাকে।

বাংলাদেশের ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স কাস্টমার প্রধানত তিন ধরনের। এক. অনলাইন ওয়ার্কার (প্রধানত ফ্রিল্যন্সার, রিমোট ওয়ার্কার)।  দুই. অফলাইন ওয়ার্কার (শ্রমিক শ্রেণী) এবং তিন. মার্চেন্ট সার্ভিস ( অনলাইন/অফলাইন পণ্য ব্যবসায়ী)।

ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স চ্যানেল চার ধরনের। এক. এক্সচেঞ্জ হাউজ ( ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন, মানিগ্রাম, আল-রাজী, প্রভু, সোনালী এক্সচেঞ্জ ইত্যাদি )। দুই. অনলাইন মানি ট্রান্সফার ( ট্রান্সফারওয়াইজ, জুম , ইউএই এক্সপ্রেস) । তিন. অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে (পেপ্যাল, স্ক্রিল, পেওনিয়ার ইত্যাদি) এবং চার. হুন্ডি (মানি লন্ডারিং)।

আরও পড়ুন: অনুমতি পেপ্যালে, সেবা জুমে

paypal-3

                                                                                                                      চিত্র : রেমিট্যান্সের প্রক্রিয়া

আমরা উপরের কাস্টমার রেমিট্যান্সের চ্যানেলাইজ ধরনের চিত্রটি খেয়াল করলে দেখতে পাই কিভাবে এই অনলাইন/অফলাইন মানি ট্রান্সফার প্রক্রিয়াটি কাজ করে।

প্রথমেই বলে রাখা ভাল জুম অনেক বছর ধরে রুপালী ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক এবং প্রভু মানি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে বাংলাদেশে সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

সোনালী ব্যাংকের মত বিশাল একটি রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাংক বছর ধরে বলছে পেপ্যাল নিয়ে আসছে। কিন্তু কীভাবে জুমের মাধ্যমে পেপ্যাল সেবা দেবে তা কখনও পরিষ্কার করে প্রকাশ করেনি, এতে এক ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে।

paypal-4

আমরা যদি ইন্টারনেট পেমেন্ট এবং অনলাইন মানি ট্রান্সফারের টেকনিক্যাল এবং রেগুলেটরি পার্সপেক্টিভ যাচাই করি তাহলে সহজেই বুঝতে পারি এটি ভিন্ন সেবা এবং ধরণ হিসেবেও দুটি আলাদা কোম্পানি।

অন্যান্য অনলাইন মানি ট্রান্সফার বা আগের জুম এবং বর্তমান জুমের মাঝে একটিই পার্থক্য যে, কারও পেপ্যাল অ্যাকাউন্ট থাকলে তা দিয়ে জুমে অথেনটিকেশন বেইজড লগইন করা যায় (গ্লোবাল লগইন করা যায় কিনা পরীক্ষা করা হয়নি) এবং পেপ্যাল ব্যালেন্স থেকে ফান্ড ট্রান্সফার করা যায়।
যদিও পেপ্যাল নিজেই ক্যাশ-ইন করে কার্ড বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ড ডিপোজিট করে। তাই মৌলিক পার্থক্য খুব বেশি হচ্ছে না যতদিন পেপ্যাল বাংলাদেশে অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগটি না দিচ্ছে। পেপ্যালের ওয়েবসাইটে এখনও বাংলাদেশের নাম নেই।

পেপ্যালের ২০৩ টি দেশের কাজ করার লিস্টিং থাকলেও প্রকৃতপক্ষে মাত্র ২৫ বা ২৯ টি দেশে পেপ্যাল লোকালি ফোল সার্ভিস ফাংশনাল রয়েছে। তার মধ্যে মাত্র ১০৭ টি দেশ তাদের অর্থ লোকাল ব্যাংকে উইথড্রো করতে পারে। বাকি ৯৬টি দেশ ( নেপাল, ভুটান সহ ) থেকে অ্যাকাউন্ট ওপেন করতে পারলেও গ্রাহকরা লিমিটেড বা কোনো ভ্যারিফাইড অ্যাকাউন্ট পাচ্ছেন না।

প্রকৃতপক্ষে এসব ক্ষেত্রে কান্ট্রি ইনডেক্স ছাড়া আর তেমন কিছুই নেই। এখনকার মতই ইউএস অ্যাকাউন্ট ( মাস্টার কার্ড / পেওনিয়ারের মতো) ভ্যারিফাইড মাস্টার কার্ড লাগবেই। তাই টাকা উইথড্রো করতে গেলে সেই একই পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে যা এখন আমাদের ফ্রিল্যান্সাররা করছে পেওনিয়ার বা অন্যান্য মাস্টার কার্ড দিয়ে।

আরও পড়ুন: পেপ্যাল প্রপাগান্ডা : বিভ্রান্তি, বাস্তবতা ও করণীয়

paypal-5

                                                                          চিত্র :এশিয়ার যে গুলোতে পেপ্যাল সাপোর্ট করে ( আপডেট ২৪ মে ২০১৭)

এখন জুম দিয়ে পেপ্যাল চালানো আর ব্লগ দিয়ে ইন্টারনেট চালানোর মতই মনে হয়, কারণ বাংলাদেশকে যতদিন ইন্ডেক্সই না করছে ততদিন আমরা পেপ্যালের প্রকৃত সেবা পাচ্ছি না। তাই ফ্রিল্যান্সার বা অনলাইন মার্চেন্টরা পেপ্যাল সেবা থেকে বঞ্চিত থাকছেন।

তাহলে পেপ্যালের বিকল্প কি? বাংলাদেশের প্রায় সব আইটি কোম্পানিগুলো আউটসোর্সিং কাজ করছে এবং নরমাল ব্যাংকিং চ্যানেলেই প্রতি মাসে কোনো বাধা ছাড়াই লাখ লাখ ডলার নিয়ে আসতে পারছে । ফ্রিল্যান্সাররাও সহজেই টাকা উঠাতে পারছেন লোকাল ব্যাংকে, স্ক্রিল, পেওনিয়ার, নেটেলার বা আরও অনেক সেবাদাতা ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি যারা মাস্টার কার্ড প্রভাইড করছে। পেপ্যাল অনেক সহজলভ্য এবং সুবিধা আছে কিন্তু ব্যায়বহুলও বটে। আমাদের প্রয়োজন নিজেদের পেপ্যাল বা লোকাল পেমেন্ট গেটওয়ে যা ই-কমার্সের জন্য বা পি টু পি, ইন্টার-ব্যাংক ফান্ড ট্রান্সফার করা যাবে ।

আসলে পেপ্যাল বাংলাদেশে না আসার ক্ষেত্রে সরকারের আইসিটি ডিভিশন, বাংলাদেশ ব্যাংক, বেসিস বা তথ্যপ্রযুক্তি খাতসংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের ব্যর্থতা নয়। পেপ্যাল সম্পূর্ণ স্বাধীন একটি প্রাইভেট কোম্পানি যারা তাদের প্লান, পলিসি, রোডম্যাপ, ফিজিবিলিটি, রিস্ক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়ে কর্ম-পরিকল্পনা করে থাকে।

এখন আমাদের নিজেদের প্রিপারেশনটা জরুরি।  ব্যাংকিং টেকনিক্যাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার আরও প্রস্তুত করতে হবে। আমাদের ক্রেডিট কার্ড ইউজার অনেক কম, অনলাইন ব্যাংকিং এখনও ঠিকমত শুরুই হয়নি। তবে পলিসি সাপোর্টের কোনো সমস্যা আছে বলে মনে হয় না। বাংলাদেশে পেপ্যাল বা এই ধরনের অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে নিয়ে কাজ করতে গেলে সবার আগে এটার স্টেক হোল্ডারকে অগ্রণী ভুমিকা নিত হবে।

পেপ্যাল আনার ক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক’ হচ্ছে প্রধান স্টেক হোল্ডার। তাই বাংলাদেশ ব্যাংককেই দায়িত্ব নিতে হবে, পলিসি ঠিক করতে হবে। সেক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত যে চ্যালেঞ্জগুলো আছে তাতে আমাদের সকল ব্যাংক, আইসিটি ডিভিশন, বেসিস ও সংশ্লিষ্টরা একসঙ্গে-একযোগে কাজ করলে পেপ্যাল আসাটা খুব বেশি দূরে নয়।

লেখক  ইলেক্ট্রনিক পেমেন্ট, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস, মোবাইল রেমিট্যান্স, টেলকো ভিএএস এবং মার্কেটপ্লেস নিয়ে ১০ বছরেরও বেশি সময়  ধরে দেশে-বিদেশে কাজ করছেন। বাংলাদেশের প্রথম মার্কেটপ্লেস বিল্যান্সারের উদ্যোক্তা । কানাডীয় কোম্পানি ফার্স্ট গ্লোবাল ডাটা ইনকরপোরেশন এবং সিঙ্গাপুরের এফওয়ান সফট ইন্টারন্যাশনালের সাবেক কান্ট্রি প্রধান। দেশের এসএসএল ওয়্যারলেস, আইপে লিমিটেডের মতো বিভিন্ন অর্থ লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্বও দিয়েছেন।

পেপ্যাল দ্রুত চালুর বিষয়টি ব্যাংকগুলোর হাতে

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেশে পেপ্যালের সেবা কবে চালু হবে সেটি নির্ভর করছে কোম্পানিটির সঙ্গে চুক্তির অনুমতি পাওয়া ব্যাংকগুলোর হাতে। এখন ব্যাংকগুলো বাকি প্রক্রিয়া যত দ্রুততার সঙ্গে শেষ করতে পারবে, তত তাড়াতাড়ি এ সেবা চালু হবে।

সোমবার বিকালে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে এক অনুষ্ঠানের ফাঁকে পেপ্যাল নিয়ে জিজ্ঞাসায় এ কথা বলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শুভংকর সাহা। তিনি বলেন, বহুল কাঙ্খিত এ সেবা চালুর দিনক্ষণ এখন ব্যাংকগুলোর হাতেই।

ইবিএল-বেসিস কো-ব্র্যান্ডেড ইউএসডি মাস্টারকার্ড উদ্বোধনের ওই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন তিনি। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও ছিলেন তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব সুবীর কিশোর চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন বেসিস সভাপতি তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার।

অনুষ্ঠানের পরে কবে পেপ্যাল চালু হবে এমন জিজ্ঞাসায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক বলেন, কয়েক মাস আগেই কয়েকটি ব্যাংককে পেপ্যালের সঙ্গে চুক্তির অনুমতি দেয়া হয়েছে। এখন তারা চালু করতে পারলেই গ্রাহকরা এ সেবা পাবেন।

ইবিএল-বেসিস কো-ব্র্যান্ডেড ইউএসডি মাস্টারকার্ডে দেশের বাইরে ৩০ হাজার ডলার পর্যন্ত খরচের অনুমতির বিষয়টি উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এটির অনুমতি দেয়ার বেশি সময় হয়নি। এখন তারা সেবাটি চালু করে ফেলেছে। পেপ্যালের বিষয়টিও ব্যাংকগুলো দ্রুত করতে পারে।

চুক্তির অনুমতি জুম মাধ্যমে পেপ্যালের সেবা চালুর বিষয়ে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘হ্যা’।

paypal-bd-bangladesh_red

চলতি বছরের মার্চে সোনালী ব্যাংক,  অগ্রণী, রূপালী ব্যাংকের সঙ্গে সোশ্যাল ইসলামী এবং ডাচ-বাংলা ব্যাংককে এ সেবার জন্য অনুমতি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

তবে দেশে জুম মাধ্যমে পেপ্যালের সে সেবা চালু হবে। জুম পেপ্যালের অধিগ্রহণ করা একটি কোম্পানি। এক সঙ্গে হওয়ার আগে এটি আমেরিকাভিত্তিক অনলাইন রেমিট্যান্স কোম্পানি হিসেবে সুপরিচিত ছিল।

এই উদ্যোগে রেমিট্যান্স আহরণ এবং আউটসোর্সিংয়ের অর্থ সহজে দেশে আনার উপায় নেয়া হবে।

সোমবারের এই অনুষ্ঠানে শুভংকর সাহা বলেন, ইইএফ ফান্ডের অন্যতম খাত ছিল আইটি খাত। এ খাতে জাতীয় পর্যায়ে উঠে এসেছে, বড় হয়েছে এমন বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে এই ফান্ডের মুলধন সহায়তা ছিল।

‘যখন থেকে আইটি সেক্টর ডেভলপ হয়েছে এবং আমাদের দেশে রপ্তানি ও আমদানির যে প্রয়োজন পড়েছে সেই জায়গা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক বৈদেশিক মু্দ্রা নীতিমালার ক্ষেত্রে পৃথক নজর, আলাদা অগ্রাধিকার দিয়ে লিবারাইজেশন করেছে।’

তিনি জানান, ‘আমরা এখন ব্যাংকগুলোকে অনলাইন করেছি। অনলাইনের বাইরের অল্প কয়েকটি ব্যাংকের ব্র্যাঞ্চ রয়েছে। আমাদের আন্ত:ব্যাংক লেনদেন একেবারে অটোমেটিক করেছি, সেখানে ইলেক্ট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার করছি এবং সেটিকে আপগ্রেড করবো আগামীতে, যেটি এ বছর সেপ্টেম্বরের মধ্যে হয়ে যাবে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘আমাদের কার্ড ট্রানজিকশন অনেক বেড়েছে। আমাদের ডেবিট কার্ড আছে এক কোটির বেশি, ক্রেডিট কার্ডও নয় লাখের বেশি। গত মার্চ মাসে শুধু কার্ডে ট্রানজিকশন হয়েছে ১২’শ কোটি টাকা। কিন্তু এই অংশ যথেষ্ট নয়, আমাদের এটি বাড়াতে হবে।’

আল-আমীন দেওয়ান

৫ কোটির মাইলফলকে মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেশে মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের সংখ্যা প্রথমবারের মতো পাঁচ কোটি ছাড়িয়েছে। মার্চ মাসে এ মাইলফলকে পোঁছায় মোবাইলে অর্থ লেনদেনের এ সেবাগ্রহীতার অ্যাকাউন্ট সংখ্যা। এর মধ্যে কার্যকর সংযোগ আছে অর্ধেকেরও কম, দুই কোটি ৪৫ লাখ ৭০ হাজার।

মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনে কড়াকড়ির পরও গত দুই মাসে অ্যাকাউন্ট সংখ্যা অনেক বেড়েছে। প্রতিটি অ্যাকাউন্টের বিপরীতে লেনদেন সীমা কমিয়ে দেওয়ায় নতুন অ্যাকাউন্ট বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে অ্যাকাউন্ট সংখ্যা বাড়লেও সেই তুলনায় লেনদেন তেমন একটা বাড়েনি। মার্চ মাসে সব মিলে ২৫ হাজার ৫৪ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। জানুয়ারিতেও যা ছিল ২৫ হাজার দুইশ কোটি টাকা।

mobile-banking-techshohor

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট সংখ্যা ছিল  চার কোটি ৯৮ লাখ ৫৪ হাজার। মার্চ শেষে তা এসে দাঁড়িয়েছে পাঁচ কোটি চার লাখ ২৯ হাজার।

মোবাইল ফোনের সিমের মতো সর্বশেষ ৯০ দিনের মধ্যে যদি কোনো মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে ন্যূনতম একটি লেনদেনও না হয় তাহলে সেটি আর কার্যকর অ্যাকাউন্টের তালিকায় থাকে না।

ফেব্রুয়ারি থেকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ওপর সরকার কড়াকড়ি আরোপ করে। তারপর থেকেই অ্যাকাউন্ট সংখ্যার ক্ষেত্রে বড় রকম পরিবর্তন আসতে শুরু করে।

আগে একটি অ্যাকাউন্ট থেকে দিনে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত পাঠানো বা গ্রহণ করা গেলেও এখন তা নামিয়ে পাঁচ হাজার ক্যাশ আউট ও ১০ হাজার ক্যাশ ইন করা হয়েছে।

এ বাধ্যবাধকতার কারণেই অ্যাকাউন্ট সংখ্যা হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারি শেষে যখন কার্যকর অ্যাকাউন্ট সংখ্যা মাত্র এক কোটি ৬৫ লাখ ছিল পরের মাসেই রাতারাতি তা চলে আসে দুই কোটি ৪০ লাখে।

তথ্যপ্রযুক্তি রপ্তানি আয় আসবে সহজে

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : তথ্যপ্রযুক্তি খাতের জন্য আলাদা ফরম-সি চালু করা হয়েছে। ফলে অর্থ দেশে আনতে রপ্তানিকারদের জটিলতা কমার পাশাপাশি এ খাতের প্রকৃত আয়ের সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। 

বেসিস সভাপতি তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার জানান, তফসিলি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে রপ্তানি আয় দেশে আনতে হলে তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সি-ফরম পূরণ করতে হয়। আগের গড় ফর্মে অনেক ক্ষেত্রে আইটি/আইটিইএস শিল্প খাতের ক্ষুদ্র রপ্তানিকারকদের আয় হিসাবের বাইরেই থেকে যায়। তাছাড়া সেটি জটিল হওয়ায় রপ্তানিকারকেরা খুব সহজে ব্যবহার করতে পারেন না। এছাড়া খাতটি হতে আয়কৃত অর্থের সঠিক হিসাবও থাকতো না। 

money-online

বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্চ পলিসি বিভাগ রোববার তথ্যপ্রযুক্তি খাতের জন্য আলাদা সি ফরমসহ চারটি পৃথক এসআরও জারি করেছে। অন্যগুলো মধ্যে রয়েছে, এক্সপোর্ট রিটেনশন কোটা (ইআরকিউ) অ্যাকাউন্টের রিটেনশন কোটা ৭০ শতাংশে উন্নীত করা, ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে দেশের বাইরে র্থ প্রেরণের সীমা ৩০ হাজার ডলার করা এবং ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ভার্চুয়াল র্থ প্রেরণের বিষয়টি সহজীকরণ করা। 

আগে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ইআরকিউ অ্যাকাউন্টে সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ অর্থ রাখা যেত নতুন সা‍‍র্কুলারে ৭০ শতাংশ রাখা যাবে। এছাড়া ক্রেডিট কার্ড প্রতিবার রিফিলের সীমা ২৫০০ মার্কিন ডলার থেকে ৬ হাজার মার্কিন ডলার করা হয়েছে।

ফ্রিল্যান্সার, মোবাইল অ্যাপ ডেভলপার ব্যক্তি র্যায়ের উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যবসা পরিচালনার খরচ বছরে ৩০০ মার্কিন ডলার বিদেশে প্রেরণের ক্ষেত্রে ইস্যুকৃত ভার্চুয়াল কার্ডটির বিষয়ে কিছু অস্পষ্টতা ছিল। নতুন সার্কুলারে কার্ডটি ডেবিট, ক্রেডিট অথবা প্রিপেইড হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। 

এই এসআরওগুলোকে যুগান্তকারী উল্লেখ করে জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের অন্যতম লক্ষ্য ২০২১ সালের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে রপ্তানি আয় বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার লক্ষ্যমাত্রা পূরণকে দ্রুত করবে।

আল-আমীন দেওয়ান

অনুমতি পেপ্যালে, সেবা জুমে

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সরাসরি পেপ্যাল নয়, সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে  চালু হচ্ছে জুমের সেবা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক পেপ্যালের সেবা চালুর অনুমোদন দিলেও সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে সরাসরি সেবা কার্যক্রম হবে জুমের।

জুমের আর্থিক লেনদেন সেবা বাংলাদেশে চালু আছে অনেক দিন হতেই। তবে সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তিতে জুমের সেবার পরিধি ঠিক কতটুকু আর কীভাবে বাড়বে তা জানা যায়নি।

ফ্রিল্যান্সাররা যেভাবে সরাসরি পেপ্যালকে চেয়ে আসছেন সেভাবে চালুর বিষয়টি এই পেপ্যাল-সোনালী ব্যাংক চুক্তির সঙ্গে আপাতত সম্পর্কিত নয় বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।

তবে পেপ্যালের সঙ্গে কার্যক্রম শুরুর এই অনুমতি অদূর ভবিষ্যতে সরাসরি পেপ্যাল সুবিধা চালুর জন্য একটি মাইলফলক অগ্রগতি।

ফ্রিল্যান্সারদের দীর্ঘ দিনের আশা, ভারতে পেপ্যাল যেভাবে ফ্রিল্যান্সারদের টাকা দেশীয় ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি পাঠায় সেভাবে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররাও সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পেপ্যাল লেনদেন করতে পারবেন।

পেপ্যাল সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে ২০১৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে যে এমওইউ স্বাক্ষর করে তা জুম সেবা চালুর জন্য। ওই এমওইউ অনুয়ায়ী সেখানে শুধু রেমিট্যান্স সংগ্রহের বিষয়টি উল্লেখ ছিল। আর সেটিই নানা পর্যবেক্ষণ শেষে অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

পেপ্যাল তখন ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের সঙ্গেও একই ধরনের এমওইউ স্বাক্ষর করে। তবে ডাচ-বাংলা অনুমোদন পেয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

paypal-techshohor (2)

তথপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বৃহস্পতিবার এক সাক্ষাতকারে টেকশহরডটকমকে জানান, পেপ্যাল নিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। মার্চের শেষ সপ্তাহে আবারও সিলিকন ভ্যালিতে যাচ্ছি। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পেপ্যাল নিয়ে সুখবর দেয়ার আশাবাদ জানান তিনি।

এর অাগে এক অনুষ্ঠানে পলক বলেন, পেপ্যাল নিয়ে তিনি আশা ছাড়ছেন না  সরকার পেপ্যাল চালুতে আন্তরিক চেষ্টা করছে। পেপ্যালের সহযোগী জুমের সঙ্গে এমওইউ হয়েছে। দেশের চার-পাঁচটি ব্যাংকে পরীক্ষামূলক লেনদেনের কথাও জানান তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রে পেপ্যালের ভাইস প্রেসিডেন্টের সাথেও বৈঠক করেছেন প্রতিমন্ত্রী। বছর দুই আগে ওই বৈঠকে পেপ্যাল না আনা গেলেও তার বদলে মানি ট্রান্সফার কোম্পানি জুম বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর কথা জানানো হয়েছিল। পলক ওই বৈঠকে বাংলাদেশে ব্যবসায়িক সুযোগ-সুবিধা ও পলিসি সাপোর্টের বিষয়ে পেপ্যালকে আশ্বস্ত করেন।

পেপ্যালের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে সোনালী ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সব ধরণের পর্যবেক্ষণ শেষে ২০১৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে খসড়া চুক্তি প্রস্তুত করে তাতে সই করে পেপ্যালের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল। পেপ্যাল কর্তৃপক্ষও সেই খসড়ায় সই করে তা পাঠিয়ে দিয়েছেন। আমরা সেই খসড়া অনুযায়ী চুড়ান্ত চুক্তির জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতির অপেক্ষা করছিলাম।

জুম পেপ্যালের অধিগ্রহণ করা একটি কোম্পানি। এক সঙ্গে হওয়ার আগে এটি আমেরিকাভিত্তিক অনলাইন রেমিট্যান্স কোম্পানি হিসেবে সুপরিচিত ছিল। যেহেতু জুম এখন পেপ্যালের সেবা তাই সোনালী ব্যাংকের ওই চুক্তিও হচ্ছে পেপ্যালের সঙ্গে। কিন্তু সে চুক্তিতে সরাসরি পেপ্যাল সেবা দেবে তা উল্লেখ নেই।

অনলাইন আর্থিক লেনদেন বিশেষজ্ঞ এক শীর্ষ ব্যাংক কর্মকর্তা জানান , জুমের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে প্রথমে জুম ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশন প্রয়োজন হয়। রেজিস্ট্রেশনের ইমেইল ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে জুমের ওয়েবসাইটে গিয়ে টাকা পাঠাতে হয়। সেখানে টাকা পাঠানোর ‘উৎস’  ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের নম্বর(যেকোনো ব্যাংক ইস্যু ভিসা বা মাস্টার কার্ড) লাগে। অর্থ পাঠাতে বাংলাদেশের যেকোনো ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা যায়। জুমে টাকা পাঠানোর উৎস ‘পেপ্যাল অ্যাকাউন্ট’ করা যায় না। আর জুমের কোনো সরাসরি এজেন্টও নেই যে সেখানে ক্যাশ দেয়া যাবে।

এখন পেপ্যাল ও জুমের সিস্টেমের মধ্যে সমন্বয় করে জুমের ওয়েবসাইটে টাকার উৎসে পেপ্যাল অ্যাকাউন্ট না নেয়া হলে তা ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বিশেষ কিছু হবে না।

এছাড়া ফ্রিল্যান্সাররা বাংলাদেশে বসে অর্থ আয় করে থাকেন তাই এ টাকা রেমিট্যান্স বলে ধরা হয় না। সেক্ষেত্রে জুম মাধ্যমে পাঠানো ফ্রিল্যান্সারদের ওই পেপ্যাল অ্যাকাউন্টের অর্থ রেমিট্যান্স হিসেবে বিবেচনা না করা হলেও ফ্রিল্যান্সাররা খুব একটা উপকৃত হবেন না।

আল-আমীন দেওয়ান

এনআইডি নিয়ে বিপাকে মোবাইল ব্যাংকিং গ্রাহক-এজেন্ট

ইমরান হোসেন মিলন, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ইফতি রোজ মাসের শুরুতে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে মাকে নিয়মিত টাকা পাঠান। চলতি মাসে টাকা পাঠাতে গিয়েই পড়েন বিড়ম্বনায়। জাতীয় পরিচয়পত্র বা ফটোকপি না থাকায় তার টাকা নিচ্ছেন না এজেন্ট। জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি পরে দিয়ে যাবেন এমন শর্তে পরিচিত সেই এজেন্ট অবশ্য টাকা গ্রহণ করেন।

ইফতির মতো আরও অনেকে সম্প্রতি এমন ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন। এর প্রভাবও পড়েছে মোবাইল ব্যাংকিং লেনেদেন।

অর্থ পাঠানোর সীমা কমানোর পাশাপাশি জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) বাধ্যবাধকতা থাকায় লেনদেনের ক্ষেত্রে বিড়ম্বনায় পড়েছেন গ্রাহকরা। এজেন্টদেরও অনেক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

Mobile banking-bKash-Techshohor
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর বাড্ডা, কারওয়ান বাজার, পান্থপথ, ফার্মগেট ও মিরপুরের ১১ জন মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট তাদের ব্যবসা কমে যাওয়ার কথা জানান। তারা বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের এ নিয়মের বাধ্যবাধকতা থাকায় অনেকে এখন বেশি টাকা পাঠাতে অনিহা দেখাচ্ছেন।

পাঠানো অর্থের পরিমাণ পাঁচ হাজারের বেশি হলে জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি দিতে হচ্ছে এজেন্টদের। দৈনিক ও মাসিক অর্থ পাঠানো ও তোলার সীমাও আগের চেয়ে কমানো হয়েছে।

কারওয়ান বাজার এলাকার সোহেল টেলিকমের মালিক মো. সোহেল রানা বলেন, বিকাশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কড়াকড়ি করায় এজেন্ট পরিচয়পত্রের ফটোকপি রাখার বিষয়ে কড়াকড়ি আরোপ করেছেন।

এ নিয়ে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হয় বলে জানালেন মিরপুরের এক বিকাশ এজেন্ট। তিনি বলেন, পরিচয়পত্র চাইলে অনেকেই খেপে যাচ্ছেন। এদের বড় অংশ টাকা না পাঠিয়ে চলে যাচ্ছেন।

রফিকুল ইসলাম নামের এক গ্রাহক বাড্ডার অর্নি টেলিকম দোকানে আসেন টাকা পাঠাতে। সীমা নির্ধারণ করে দেওয়ায় তিনি যে পরিমাণ টাকা পাঠাতে চান তা একদিনে পাঠানো যাবে না। তিনি অপব্যবহার হতে পারে বলে পরিচয়পত্র দিতেও অস্বীকৃতি জানান।শেষে অভিনব বুদ্ধি ‘আবিষ্কার’ করে দুই দিনে পর্যায়ক্রমে টাকা পাঠিয়েছেন।

রফিকুল টেকশহর ডটকমকে বলেন, অবস্থা এমন দাঁড়াচ্ছে কয়েকদিন পর মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কেউ আর টাকা পাঠাতে চাইবেন না। এর মাধ্যমে কি ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে তারা সেটা ভেবে পাচ্ছেন না।

বিকাশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদির টেকশহর ডটকমকে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা মেনে জাতীয় পরিচয়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূরক করা হয়েছে। ইতিবাচক দিক বিবেবচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কয়েকদিন একটু ঝক্কি পোহাতে হলেও নিরাপদে সবাই বিকাশ ব্যবহার করবেন বলে তারা আশা। তিনি বলেন, তবে কেউই চায় না গ্রাহকের হয়রানি করতে।

দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের এ কর্মকর্তা বলেন, এখনও জাতীয় পরিচয়পত্রের ব্যবহার সবক্ষেত্রে নিয়মিত হয়নি। এমন প্রক্রিয়ায় হয়তো গ্রামাঞ্চলে বেশি সমস্যা হতে পারে ফটোকপির ব্যবস্থা না থাকায়। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়মের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।

এমন শর্তারোপে বিকাশে লেনদেন কমার বিষয়ে জানতে চাইলে কামাল কাদির বলেন, এটা খুব ভালো বলতে পারবেন এজেন্টরা। কারণ তারাই মাঠ পর্যায়ে কাজ করেন।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সভাপতি মোস্তাফা জব্বার বলেন, অবশ্যই নিরাপত্তার বিষয়টি অনলাইন লেনদেনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য জাতীয় পরিচয়পত্র নেওয়া যায়। তবে সেটা সবাইকে জানানোর ব্যবস্থা করা দরকার।

তার মতে, বিকল্প ব্যাংকিং হিসেবে কখনই এর সীমা টানা উচিত হবে না।

বেশ কয়েকজন বিকাশ এজেন্ট ও গ্রাহক অবশ্য বলছেন, আইডি কার্ডের মাধ্যমে লেনদেনে জালিয়াতি কমানো বা বন্ধ করা গেলে সেটিকে ইতিবাচকভাবে নিতে হবে।

ক্লাউড সেবা হবে নিজেদের

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেশীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নিজেদের ক্লাউডসেবা প্রস্তুত করবে সরকার। ইতোমধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ ও বাংলাদেশ ব্যাংক এ নিয়ে কাজ করছে। খসড়া নীতিমালাও তৈরি হবার পথে।

তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের জাতীয় ডাটা সেন্টারের পরিচালক তারিক এম বরকতুল্লাহ জানান, আন্তর্জাতিক ক্লাউড সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো অধিকাংশই যুক্তরাষ্ট্র সরকার নিয়ন্ত্রিত। কোনো দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তথ্যসমূহ নিরাপত্তা প্রদানে আমেরিকার আইন পক্ষপাতদুষ্ট। বাংলাদেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমুহের জন্য নিজস্ব ক্লাউড সেবা উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করছে আইসিটি বিভাগ ও বাংলাদেশ ব্যাংক। এ বিষয়ে খসড়া নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে।

রাজধানীতে চলমান বেসিস সফটএক্সপোতে শনিবার ‘পাবলিক পলিসি ফর ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে এ তথ্য জানান ডাটা সেন্টারের এই পরিচালক।

cloud.techshohor.

মাইক্রোসফট বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোনিয়া বশির কবিরের সঞ্চালনায় সেমিনারে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য ব্যবস্থা উন্নয়ন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক দেবদুলাল রায় বলেন, সাধারণ সেবা প্রতিষ্ঠানের থেকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তথ্য নিরাপত্তায় ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে কোনো ধরণের আন্তর্জাতিক সেবা নেয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হয়। বাংলাদেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য নিজস্ব ক্লাউড সেবা উন্নয়নের প্রক্রিয়া চলছে।

দেবদুলাল বলেন, আর্থিক সেবার নিরাপত্তায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ব্যবহারকারি পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। শুধুমাত্র সফটওয়্যার দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব না।

সেমিনারে অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন প্রকল্পের উদ্ভাবনী পরামর্শক ফারহাত শেখ বলেন, সরকার সকল আর্থিক সেবাসমূহের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে জনগণের কাছে সহজে সেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে।

সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেল আর কে হুসেইন তাঁর বক্তব্যে বলেন, আগামী ১০-১৫ বছরের মধ্যে শাখাভিত্তিক আর্থিক সেবার পরিধি অনেকাংশে কমে আসবে। শাখার আকার ছোট করার মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যয় সংকোচনের উদ্যোগ ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও ভিডিও সেবার মান উন্নয়নে নজর দেবে আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো।

সেমিনারে এবি ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক সাজ্জাদ হোসেনসহ খাত সংশ্লিষ্ট আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন।

আল-আমীন দেওয়ান

মোবাইল প্রতি লেনদেন পৌনে ২ লাখ টাকা

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : প্রতিটি মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের বিপরীতে গত বছর গড়ে এক লাখ ৭২ হাজার ১৮২ টাকা লেনদেন হয়েছে। আগের বছরের চেয়ে প্রতিটি কার্যকর মোবাইল অ্যাকাউন্টের বিপরীতে ৫৩ হাজার টাকা বেশি লেনদেন হয়েছে।

সর্বশেষ হিসাবে দেশে ২০১৬ সালে শেষে কার্যকর মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক কোটি ৫৮ লাখ ৭৪ হাজার।

বাংলাদেশ ব্যাংক রোববার মোবাইল ব্যাংকিংয়ের হালনাগাদ তথ্যের এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সব মিলে দুই লাখ ৩৪ হাজার ৬৯১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে।

mobile banking in bangladesh

সে হিসাবে মাসে একেকটি অ্যাকাউন্টের বিপরীতে গড় লেনেদেন দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ৬৬০ টাকা।

২০১৫ সালে একেকটি অ্যাকাউন্টের বিরপরীতে গড়ে লেনদেন হয়েছিল এক লাখ ১৯ হাজার ৩৬২ টাকা। এর আগের বছর অ্যাকাউন্ট প্রতি গড় লেনদেন ছিল ৭৪ হাজার ৪১ টাকা।

এ দিকে সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের বিপরীতে সর্বোচ্চ লেনদেন সীমা কমানোসহ আরও কিছু শর্ত আরোপ করেছে।

এ নির্দেশনার কারণে সামনের দিনগুলোতে অ্যাকাউন্ট প্রতি দেনদেন কমে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আবার দিনে দিনে মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের বিপরীতে লেনদেন বাড়লেও তাতে খুব বেশি সন্তুষ্ঠ হতে পারছেন না বিশ্লেষকরা।

তারা বলছেন, মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে যত কিছু করা সম্ভব তার সামান্য করা হচ্ছে না। এখন এ ধরণের অ্যাকাউন্ট শুধু টাকা লেনদেনের জন্যই ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্য সম্ভাবনাগুলোর বিকাশ হচ্ছে না।

মোবাইল ব্যাংকিংয়ে লেনদেন সীমা কমলো

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : মোবাইল ব্যাংকিংয়ে লেনদেন সীমা কমলো। দৈনিক লেনদেনের পরিমানের সর্বোচ্চ সীমা কমানোর পাশাপাশি সংখ্যাও কমানো হয়েছে। একই সঙ্গে পাঁচ হাজার টাকার বেশি লেনদেনে ছবি সংবলিত পরিচয়পত্রের তথ্য রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পেইমেন্ট সিস্টেম ডিপার্টমেন্টের এক সার্কুলারে এ সীমা কমিয়ে আনা হয়। এতে বলা হয়, একই মোবাইল ফাইন্যান্সসিয়াল সার্ভিসে (এমএফএস) একজন গ্রাহক একাধিক হিসাব রাখতে পারবেন না।

পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্টের মহাব্যবস্থাপক লীলা রশিদ স্বাক্ষরিত ওই সার্কুলার এমএফএস সেবাদানকারী ব্যাংক ও তার সাবসিডিয়ারী প্রতিষ্ঠানগুলো শীর্ষ কর্মকর্তা বরাবরে পাঠানো হয়েছে।

নতুন নির্দেশনা অনুয়ায়ী দিনে সর্বোচ্চ দু’বারে মোট ১৫ হাজার টাকা ক্যাশ-ইন করা যাবে, যা আগে ছিল সর্বোচ্চ তিনবারে ২০ হাজার। মাসে এর পমিান হবে সর্বোচ্চ ২০ বারে এক লাখ টাকা, যা আগে ছিল দেড় লাখ।

অন্যদিকে ক্যাশ-আউটও করা যাবে দিনে সর্বোচ্চ দুই বার। আর দিনে মোট ১০ হাজার টাকার বেশি টাকা তোলা যাবে না। মাসে তোলা যাবে সর্বোচ্চ ১০ বারে মোট ৫০ হাজার টাকা, আগে এর পরিমান ছিল এক লাখ টাকা।

এ ছাড়া কোনো অ্যাকাউন্টে ক্যাশ-ইন হওয়ার পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই হিসাব থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকার বেশি নগদ তোলা যাবে না।

পাঁচ হাজার টাকা বা তারচেয়ে বেশি নগদ ক্যাশ-ইন ও ক্যাশ-আউট করার ক্ষেত্রে গ্রাহককে পরিচয়পত্র বা স্মার্ট কার্ড বা তার ফটোকপি এজেন্টকে দেখাতে হবে। এজেন্ট সেই এনআইডি নাম্বার সংরক্ষণ করবেন।

mobile-banking_BD20150527110845-900x563

সার্কুলারে বলা হয়, ‘মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস একটি দ্রুত বিকাশমান সেবা যা অতি অল্প সময়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশেষত: নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

‘কতিপয় অসাধু ব্যক্তি এ সেবাটির অপব্যবহার করছে মর্মে অভিযোগ পাওয়া গেছে যা দেশ ও জাতির জন্য ক্ষতিকর। এ প্রেক্ষিতে মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস এর অপব্যবহার রোধকল্পে এবং এর সুশৃঙ্খল ও যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতকল্পে নির্দেশনাসমূহ প্রস্তুত করা হয়েছে, যা যথার্থভাবে পরিপালনের জন্য আপনাদেরকে পরামর্শ দেয়া হলো।’

‘একজন ব্যক্তি কোনো এমএফএস প্রোভাইডারের সঙ্গে একাধিক মোবাইল হিসাব চলমান রাখতে পারবেন না। কোনো গ্রাহকের একই জাতীয় পরিচয়পত্র/স্মার্ট কার্ড বা অন্য কোনো পরিচয়পত্রের বিপরীতে কোনো এমএফএসে একাধিক হিসাব থাকলে আলোচনার মাধ্যমে তার বেছে নেয়া যেকোনো একটি মোবাইল হিসাব চালু রেখে অন্য হিসাবগুলো বন্ধ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’

‘কোনো ক্ষেত্রে গ্রাহকের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ দুরূহ হলে যে হিসাবটিতে সর্বশেষ লেনদেন হয়েছে তা চালু রেখে অন্য হিসাবগুলো বন্ধ করতে হবে।’

আল-আমীন দেওয়ান

ব্যবসায়িক বৈধতার আগেই অর্থ বিদেশে নেয়ার আবেদন উবারের   

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সরকারের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া অ্যাপ মাধ্যমে ট্যাক্সি সেবাদানকারী কোম্পানি উবার দেশে আয় করা ভাড়ার টাকা বিদেশে নিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করেছে।

অনুমতি চেয়ে ওই আবেদনে উবার বাংলাদেশে তার আয়ের অর্থ মূল কোম্পানিতে নিতে চাইছে।

উবার বলছে, বাংলাদেশে নিজেদের আয় আমেরিকার সানফ্রান্সিসকোতে অবস্থিত উবারের মূল কোম্পানিতে যাবে।

প্রতিষ্ঠানটি চাইছে, উবার ট্যাক্সিতে আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডে যে ভাড়া পরিশোধ হতে তা সরাসরি নেদারল্যান্ডের আমস্টারডামে তাদের অ্যাকাউন্টে জমা হবে।

উবারের পদ্ধতিতে দেশে যাত্রীরা যে ভাড়া পরিশোধ করেন তা উবার বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেডেরর কালেকশন অ্যাকাউন্টে জমা হবে। এরপর সেই অর্থ তাদের আরেকটি মুলধন অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার হবে। তারপর উবারের কারিগরি ও প্রযুক্তি দেয়া প্রতিষ্ঠান রেইজার অপারেশন বিভি হয়ে সানফ্রান্সিসকোর উবারের মূল অ্যাকাউন্টে চলে যাবে।

দেশ হতে কোম্পানিটি অর্থ নেয়ার পর ২০ শতাংশ কেটে রেখে বাকী ৮০ শতাংশ স্থানীয় চালকদের অংশ হিসেবে ফেরত পাঠাবে।

এদিকে গত ২৯ নভেম্বর  বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি(বিআরটিএ) কে জানানো বা অনুমতি ছাড়াই অ্যাপ মাধ্যমে পরিবহন সেবা চালু করায় ক্ষমা চায় উবার।

অথচ গত ২৪ নভেম্বর দেশে উবারের কার্যক্রমকে অবৈধ ঘোষণা করে নিষেধাজ্ঞা দেয় বিআরটিএ। কিন্তু সে নিষেধাজ্ঞা মাড়িয়ে এখনও কার্যকম চালিয়ে যাচ্ছে কোম্পানিটি।

uber-ban-dhaka

দেশে ২২ নভেম্বর উবারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। দক্ষিণ এশিয়ায় ৩৩তম শহর হিসেবে ঢাকায় উবার চালু হয়। বিশ্বসেরা ক্রিকেট অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান প্রথম যাত্রী হয়ে ঢাকায় উবার ট্যাক্সির চাকা ঘোরে।

এর নিষেধাজ্ঞার বিজ্ঞপ্তিতে বিআরটিএ তথা সরকারের অনুমোদন ছাড়া এই অনলাইন ট্যাক্সি সার্ভিস চালু করার কারণে সতর্ক করে দিয়ে এ হতে বিরত থাকতে বলা হয়। না হলে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা বলেছিল বিআরটিএ।

এরপর বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়।

পরে বিআরটিএ এর অফিসিয়াল ফেইসবুক পেইজে এক মন্তব্যে জানানো হয়, ঢাকায় ট্যাক্সি সার্ভিসের জন্য অনুমোদিত দুটি কোম্পানির ট্যাক্সি ক্যাব ব্যবহার করলে উবারের সেবা চালুতে কোনো আপত্তি নেই বলে বলেছে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি(বিআরটিএ)।

পেইজে শুক্রবার দুপুরে পোস্ট করা উবারকে বেআইনি ঘোষণার বিজ্ঞপ্তিতের মন্তব্যে আরও বলা হয়, ‘উবার নিষিদ্ধ করা বিআরটিএ বা সরকারের উদ্দেশ্য নয়। তবে, ‘উবার’ বা এ ধরনের যেকোনো সার্ভিস সহায়ক অ্যাপ ব্যবহার করে সহজে ট্যাক্সি ক্যাব ব্যবহার করার ক্ষেত্রে যাতে দেশের প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধান অনুসৃত হয় তা দেখা সরকারের দায়িত্ব।’

‘উল্লেখ্য যে, প্রচলিত ট্যাক্সিক্যাব গাইড লাইন অনুযায়ী সরকার দুটি কোম্পানিকে ঢাকা মহানগরীতে ট্যাক্সি ক্যাব সার্ভিস পরিচালনার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। উক্ত দুটি কোম্পানির ট্যাক্সি ক্যাবগুলো উবার ব্যবহার করে পরিচালিত হলে সেক্ষেত্রে বিআরটিএ বা সরকারের কোনো আপত্তি থাকবে না।’

বর্তমানে ঢাকায় তমা কনস্ট্রাকশন ও ট্রাস্ট ট্রান্সপোর্ট লিমিটেডের ট্যাক্সি সার্ভিসের অনুমতি রয়েছে।

এদিকে অন-ডিমান্ড স্মার্টফোন ভিত্তিক এই গাড়ি ভাড়ার অ্যাপ্লিকেশন উবারকে দেশে স্বাগত জানিয়েছেন সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবাইদুল কাদের।

সেতুমন্ত্রী বলেছেন, উবারকে বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হলে তাদের নির্দিষ্ট কিছু নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।

২৯ নভেম্বর দুপুরে দেশে বিআরটিএ কর্মকর্তাদের সঙ্গে উবারের দেশীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে দেশে উবার চালুর আগে বাংলাদেশের পরিবহন খাতের নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ বিআরটিএ’কে না জানানো ভুল হয়েছে বলে উবার কর্মকর্তারা বলেন। এ সময় এ ভুলের জন্য ক্ষমা চান তারা।

পরে বৈঠক ও উবার সম্পর্কে  বিআরটিএ এর চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করে উবারের সার্ভিস অবৈধ। তারা অনুমোদিত ট্যাক্সি সার্ভিস ব্যবহার করলে কোনো আপত্তি নেই।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত গাড়িতে  উবারের অ্যাপ ব্যবহার করে সেবা চালানোর প্রমাণ পাওয়া গেলে তা বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

উবার তিন সপ্তাহের মধ্যে নিজেদের কার্যক্রম, অবস্থান ও পরিকল্পনা নিয়ে আবেদন করবে। বিআরটিএ সে আবেদন বিবেচনা করে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত দেবে।

ভবিষ্যতে এ ধরনের অ্যাপ সার্ভিসের সেবার জন্য নীতিমালা করার কথাও বলেন চেয়ারম্যান।

আল-আমীন দেওয়ান

প্রযুক্তিখাতে সহায়তা অব্যাহত রাখবে বাংলাদেশ ব্যাংক

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সহজ ব্যাংকিং ব্যবস্থা প্রবর্তনসহ ইক্যুইটি এন্টারপ্রেণারশিপ ফান্ড(ইইএফ) বা সমমূলধনী তহবিলের দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়াকে স্বল্পমেয়াদী করার ব্যাপারে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতিকে আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস এম মনিরুজ্জামান।

রোববার বিসিএস সভাপতি আলী আশফাক, সহ-সভাপতি ইউসুফ আলী শামীম এবং মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার সুব্রত সরকারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ডেপুটি গভর্নরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে এমন আশ্বাস দেন তিনি।

BCS_BANGLADESHBANK_TECHSHOHOR
এর আগেও বাংলাদেশ ব্যাংক বিসিএসকে সার্বিক বিষয়ে সহযোগিতা করেছে বলে জানিয়ে ব্যবসায়ী সংগঠনের সভাপতি আলী আশফাক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানান। একই সঙ্গে তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সাইবার নিরাপত্তার মতো সহযোগিতা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

দেশের তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাংক বিসিএসকে ইইএফ ফান্ড সহজ করাসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস প্রদান করেন বলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায় বিসিএস।

ইমরান হোসেন মিলন