প্রত্যন্ত অঞ্চলে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ দেবে ইশিখন

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ইশিখনডটকম প্রত্যন্ত অঞ্চলের তরুণদের জন্য বিনামূল্যে অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ শুরু করতে যাচ্ছে।

৩ থেকে ৫ মাসব্যাপী এ প্রশিক্ষণ শুরু হবে জুলাই থেকে। এতে চাকরিজীবী ও গৃহিণীদের জন্য সন্ধ্যাকালীন ও রাত্রীকালীন প্রশিক্ষণের বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে।

অন্যান্য বছর পরীক্ষার মাধ্যমে উর্ত্তীণ হওয়ার প্রয়োজন থাকলেও এ বছর পরীক্ষা ছাড়াই আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে দুই হাজার শিক্ষার্থীকে এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে। তবে আবেদন ফি হিসেবে দিতে হবে ৩৫০ টাকা।

ইশিখন ডটকমের প্রধান নির্বাহী ইব্রাহিম আকবর  বলেন, এ বছরে শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা অনলাইন ভেরিফাই সার্টিফিকেট, বৃত্তি ও বিভিন্ন কম্পানিতে চাকরির সুযোগের ব্যবস্থা রেখেছি।

training-freelancing-techshohor

কোর্সে ৮০ শতাংশের উপর মার্কস পাওয়া প্রথম ৫০ জনকে এককালীন ১৫ হাজার টাকার বৃত্তি প্রদান করা হবে।

কিভাবে কোর্সে অংশ নিবেন তার বিস্তারিত জানা যাবে এই ঠিকানায়

গত বছর ইশিখন ডটকম বিনামূেল্যর কোর্সের আওতায় ফ্রিল্যান্সিং ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক ১৫ হাজার টাকার অধিক মূল্যের ৩০টি  কোর্সে সর্বমোট হাজার শিক্ষার্থীকে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেয়।

আনিকা জীনাত

ফ্রিল্যান্সিং-আউটসোর্সিংয়ে কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছে সরকার

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : পেশাদার খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠা এবং তা হতে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে ফ্রিল্যান্সিং-আউটসোর্সিংয়ের জন্য কর্মপরিকল্পনার তৈরি করছে সরকার।

আউটসোর্সিংয়ের বর্তমান ও ভবিষ্যত চ্যালেঞ্জের সঙ্গে সম্ভাবনাগুলো তুলে আনা, ফ্রিল্যান্সিংকে শৃঙ্খলায় আনা, পেশাদার ও দক্ষ জনবল তৈরি করা, প্রতিষ্ঠান তৈরির দিকনির্দেশনা থাকবে এতে।

কর্মপরিকল্পনা তৈরিতে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে দেশের সফটওয়্যার খাতের শীর্ষ সংগঠন বেসিসকে। তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সহায়তায় তিন মাসের মধ্যে এটি তৈরি করে তা সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের সর্বোচ্চ ফোরাম ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্সে জমা দিতে বলা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরীর সভাপতিত্বে গত ২৭ মার্চ ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্সের নির্বাহী কমিটির সভায় এই নির্দেশনা দেয়া হয়।

outsource

বেসিস সভাপতি তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার টেকশহরডটকমকে জানান, কর্মপরিকল্পনা তৈরিতে ইতোমধ্যে বেসিস উদ্যোগ নিয়েছে। গবেষণা ও জাতীয় জরিপের মাধ্যমে এটি করা হবে। ফ্রিল্যান্সিং-আউটসোর্সিংয়ে কোথায় কী চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা রয়েছে তা দেখা হবে।

তিনি বলেন, খাতটিতে দক্ষ জনবলের অভাব রয়েছে। শুধু মার্কেটপ্লেসে অ্যাকাউন্ট খুলে কোনোভাবে ৫-১০ ডলার আয় করলেই দক্ষতা বোঝায় না। দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে পেশাদার কাজে সত্যিকার দক্ষতার প্রয়োজন আছে। এটা ডিজিটাল বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্সের এই সদস্য বলেন, ট্রেনিংয়ের ক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের প্রয়োজন আছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয়ে এই ফ্রিল্যান্সিং-আউটসোর্সিংয়ের যে ভূমিকার কথা বলছি সেখানে সুস্পষ্ট ধারণার দরকার আছে। এখন কোন অবস্থায় আছি আর কীভাবে এগুচ্ছে বিষয়টি তা পরিস্কার না হলে লক্ষ্য অর্জনের ফ্রিল্যান্সিং-আউটসোর্সিংয়ের অবদানও অস্পষ্ট থাকবে, এটি টেকসইও হবে না।

তিনি বলেন, অনেকেই ব্যক্তি পর্যায়ে কাজ করে এক সময় হারিয়ে যাচ্ছেন। ব্যক্তি হতে প্রতিষ্ঠান হচ্ছে না। যারা ভাল কাজ জানেন, দক্ষ তারা আবার পরবর্তী প্রজন্ম তৈরিতে অবদান রাখছে না। মার্কেটটা শেয়ারিংয়ে গতি নেই।

মোস্তাফা জব্বার বলছেন, ৪ হাজার ক্যাটাগরির কাজ রয়েছে। স্পেশালাইজড কাজের জন্য দক্ষতা কম। এখানে দক্ষতা প্রয়োজন। অর্ধদক্ষ বা অ্যাকাউন্ট খুলতে পারার জনবল বরং মার্কেটপ্লেসগুলোর জন্য বিপদজনক।

সার্বিক বিষয়গুলো নিয়েই এই কর্মপরিকল্পনা করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, তিন মাসের মধ্যেই কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগকে দেয়া হবে। বিভাগ এটি টাস্কফোর্সে উপস্থাপন করবে।

পেপ্যালে ফ্রিল্যান্সিং বিশ্বে দাপুটে হবে বাংলাদেশ

ইমরান হোসেন মিলন, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বিশ্বের জনপ্রিয় অনলাইন অর্থ আদান-প্রদান গেটওয়ে পেপ্যাল বাংলাদেশে চালুর বিষয়ে সম্প্রতি চুক্তি হয়েছে সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে। তারপর থেকেই সব মহলে গুঞ্জন- কী হবে, কী পেতে যাচ্ছি, কী পরিবর্তন আসবে? ফ্রিল্যান্সিং-আউটসোর্সিং বা ই-কমার্স কিংবা অন্য ক্ষেত্রে কী হবে?

খাতসংশ্লিষ্টরা ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে দেশের ফ্রিল্যাসিং ও আউটসোর্সিং খাতে। আর এ পরিবর্তন দেশের সামগ্রিক তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে প্রভাব ফেলবে।

বছরের পর বছর হতে ফ্রিল্যান্সার ও আউটসোর্সিং খাতের সংশ্লিষ্টরা পেপ্যালের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। বিপরীতে পেপ্যালের বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করা নিয়ে এতদিন শুধু আশ্বাস পেয়েছেন তারা। কিন্তু তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে জুনাইদ আহমেদ পলক দায়িত্ব নেয়ার পর পেপ্যালকে অানতে নানাবিধ উদ্যোগ নিতে থাকেন তিনি। যেখানে বিষয়টি সরাসরি দেখভাল করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। অবশেষে বাংলাদেশে পেপ্যালের কার্যক্রম শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

বাংলাদেশ অ্যসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) এর সভাপতি মোস্তাফা জব্বার টেকশহরডটকমকে বলেন, দেশে অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে পেপ্যাল নিয়ে আসা সরকারের একটি চমৎকার উদ্যোগ। পেপ্যাল আসলে অবশ্যই আমাদের দেশের প্রযুক্তির নানা ব্যবসা আরও সমৃদ্ধ হবে। আউটসোর্সিং আয় বাড়বে, ই-কমার্সের প্রসার হবে।

তবে পেপ্যাল দেশে কাজ শুরু করলে কোনো গণ্ডির মধ্যে আটকে না রাখার কথাও বলেন প্রবীণ এই তথ্যপ্রযুক্তিবিদ।

আরও পড়ুন: কার্যক্রম শুরু করবে পেপ্যাল, সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি নিশ্চিত

paypal-techshohor (2)

পেপ্যাল বাংলাদেশে নিয়ে আসার চেষ্টায় যারা সামিল ছিলেন তাদের অন্যতম বেসিসের সদ্য বিদায়ী সভাপতি, ফেনক্স ভেঞ্চার ক্যাপিটালের জেনারেল পার্টনার এবং ভেঞ্চার ক্যাপিটাল অ্যান্ড প্রাইভেট ইকুইটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এর প্রেসিডেন্ট শামীম আহসান।

তিনি টেকশহরডটকমকে বলেন, পেপ্যাল বাংলাদেশে কাজ শুরু করলে দেশের ই-কমার্সের একটা বৈশ্বিক রূপ দেওয়া সম্ভব হবে। আগে অনেক ক্লায়েন্ট ফ্রিল্যান্সারদের সঙ্গে ব্যবসা করতে চাইতো না পেমেন্ট অসুবিধার কারণে। সেই অসুবিধা কাটিয়ে দেশের প্রযুক্তি খাতের রপ্তানি আয় বাড়ানো সম্ভব হবে।

ফ্রিল্যান্সারদের একমাত্র দেশীয় মার্কেটপ্লেস বিল্যান্সারের প্রতিষ্ঠাতা শফিউল আলম বলেন, পেপ্যাল বাংলাদেশে আসলে অবশ্য কিছুটা সুবিধা পাবে ফ্রিল্যান্সাররা। কারণ দেখা যায় অনেক ক্লায়েন্ট আছে যারা পেপ্যালে ফ্রিল্যান্সারদের পেমেন্ট পরিশোধ করে থাকে।

তিনি বলেন, তবে পেপ্যালও আর দশটা পেমেন্ট গেটওয়ের মতোই। আরও ৫-৭ বছর আগে আসলে হয়তো এর গুরুত্ব আরও বেশি হতো। এখন অন্য গেটওয়েগুলোতেও লেনদেন বাড়ছে। তবে যেহেতু অনেক দেশে পেপ্যাল ব্যবহার করা হয়, সে হিসেবে দেশের ফ্রিল্যান্সাররা সুবিধাই পাবেন।

দেশের অন্যতম ই-কমার্স কোম্পানি বাগডুম ডটকমের প্রধান নির্বাহী সৈয়দা কামরুন নাহার বলেন, বিদেশ থেকে পণ্য কিনে তাদের প্রিয়জনদের কাছে পাঠান অনেকে। আগে পেমেন্টে দেখা যেত তারা যে গেটওয়ে ব্যবহার করছে তা আমরা রিসিভ করতে পারি না। একটা টেকনিক্যাল সমস্যা থাকতো। পেপ্যাল সেটার সমাধান করে বিদেশে দেশীয় ই-কমার্সের প্রসার ঘটাতে সহায়তা করবে। সরকার সেই সুযোগ নিশ্চয়ই রাখবে।

ই-কমার্স মার্কেটপ্লেস আজকের ডিল ডটকমের প্রধান নির্বাহী ফাহিম মাশরুর বলেন, পেপ্যাল নিয়ে অনেক কথা শোনা যাচ্ছে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে। তবে এটা শুধু বিদেশ থেকে অর্থ আনা হবে, নাকি অন্যকিছু করা যাবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। অনেকেই বলছেন ই-কমার্স বৈশ্বিক রূপ পাবে। কিন্তু তার জন্য সরকার এদেশে মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট অ্যাকসেপ্ট করবে কিনা সেটাও দেখতে হবে। যদি না করে তাহলে হয়তো শুধু ফ্রিল্যান্সিং আয়টা দেশে নিয়ে আসা যাবে।

রইচ আহমেদ নামের একজন ফ্রিল্যান্সার বলেন, আমি একটি ইউকে অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে আমার কাজের টাকা আনতাম। কিন্তু সেটাও বন্ধ করে দিয়েছে। তাই এখন টাকা আনতে অসুবিধা হচ্ছে। যদি দেশে পেপ্যাল আসে তবে ক্লায়েন্টদের সঙ্গে লেনদেন করে সুবিধা হবে। আগের চেয়ে আয়ও বাড়বে।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন আবুল কাশেম। প্রযুক্তিসেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিডিহায়ার ডটকমের এই প্রধান নির্বাহী টেকশহরডটকমকে বলেন, পেপ্যাল আসা নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য করছেন অনেকেই। তবে আমি দীর্ঘ নয় বছর ফ্রিল্যান্সিং, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি এটা আমাদের ব্যবসার প্রসার ঘটাবে।

তিনি বলেন, আমেরিকাতে একটা মানুষ বসে অনলাইনে যেসব সুবিধা পায় তা বাংলাদেশ থেকেও পাওয়া সম্ভব ভালো অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে থাকলে। এক কথায় আইটি সার্ভিস সেক্টরে অনেক পরিবর্তন আসবে।

ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) সভাপতি রাজীব আহমেদ টেকশহরডটকমকে বলেন, পেপ্যাল অবশ্যই ই-কমার্সের জন্য একটা ভালো দিকই আনবে। কারণ এখন ই-কমার্স লেনদেনের বেশিরভাগ হয় ক্যাশ অন ডেলিভারিতে। কিন্তু যখন পেপ্যাল আসবে তখন অনলাইনে পণ্য কিনে এর পারচেজ অনলাইনেই বেশি হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ই-কমার্সকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে পেপ্যাল ভূমিকা রাখতে পারবে। তখন প্রবাসীসহ অন্যান্য দেশের লোকজনও বাংলাদেশের পণ্য কিনতে পারবে সহজেই।

নেয়ামত উল্লাহ মোহান কাজ করেন ই-কমার্স নিয়ে। তার প্রতিক্রিয়া এমন যে, দেশে পেপ্যাল আসার কথা শুনছি সেই কয়েক বছর থেকে। আগে আসুক। তবে আসলে ই-কমার্সের লেনদেন বাড়বে। কারণ তখন দেশের বাইরের অনেক ক্রেতা পাওয়া যাবে।

আরও পড়ুন: 

বাড়ছে ক্লিক বাণিজ্য, বেআইনি আউটসোর্সিংয়ে জব্দ হচ্ছে সাইট

ইমরান হোসেন মিলন, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : চটকদার শিরোনাম ও আকর্ষণীয় ছবি দেখে লিংকে গেলেন। আসল ঘটনা জানতে আরও কয়েকটি ক্লিক করতে হলো। এরপরও মূল জিনিস অজানাই থেকে গেল। কেননা আপনি তখন হয়ত পৌঁছে গেছেন ‘নিষিদ্ধ’ কােনো ওয়েসবাইটে। এ ফাঁকে অবশ্য বেশ ক্লিক বাণিজ্যে পকেট গরম হয়ে গেছে অন্য কারও।

ব্যাপারটা যে কয়েকটি ক্লিকেই শেষ হয় এমনও নয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ভেসে আসা অনেকটাই নিখুঁত সম্পাদনার ছবি বা ভিডিও দেখতে প্রায়ই নিজের ই-মেইল ঠিকানাও জানাতে হয়। যারা এ ফাঁদে পা দেন, তারা নিজের অজান্তে তার ই-মেইলকেও অবৈধ এসব ফ্রিল্যান্সারদের ব্যবসার হাতিয়ার বানিয়ে দিলেন।

এই বেআইনি কাজকেই তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ‘ফ্রিল্যান্সিং’ কিংবা ‘আউটসোর্সিং’ হিসেবে প্রচার করে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়াতে কাজ করছে একটি চক্র। বিভ্রান্ত হয়ে নগদ লাভের আশায় এ পথে পা বাড়াচ্ছেন অনেকেই। তবে শেষ পর্যন্ত খুব একটা সুবিধা করতে পারছেন না গুগল ও সাইবার নিরাপত্তাদানকারী প্রতিষ্ঠান এসব ওয়েবসাইট জব্দ করে দেওয়ায়। এতে ফ্রিল্যান্সিং পেশা নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠছে ‘আসল-নকলের’, তেমনি ক্ষতি হচ্ছে দেশের আউটসোর্সিং খাতের।

Illigal-outsourching

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ফেইসবুক ব্যবহার করেই এসব লিংক ছড়ানো হয়। বিভিন্ন গ্রুপে স্প্যামিং করা হয় আকর্ষণীয় ছবি কিংবা ভিডিওর এসব লিংক। বানানো খবর পরিবেশন করেও অশ্লীল ছবি বা ভিডিওর শেয়ার করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশে বেশকিছু সাইটও এ ধরনের বেআইনি আউটসোর্সিংয়ে জড়িয়ে পড়ছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে পেপারসবিডি ডটনেট, আপটুবিডি ডটকম, ম্যাঙ্গোটল ডটকম, সুব্রত ডটকম, নিউজআপডেট২৪বিডি ডটকম, ডিএলনিউজ২৪ ডটকম, বিডিটিপসঘর ডটকম, হটসেলব ডটকম, এইজীবন ডটকম, ডেইলিহেরথটিউনস ডটকমের মতো অসংখ্য সাইট।

এগুলোর বেশিরভাগই দেখা যায় দু-তিন মাস কাজের পর জব্দ হয়ে যায়। ইদানিং এমন ওয়েবসাইট জব্দ হওয়ার সংখ্যাও বাড়ছে। চক্রটি তখন আবার নতুন ওয়েবসাইট তৈরি করে।

অনেক ক্ষেত্রে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রেও অনেকে মৌলিক কনটেন্টের বদলে কপি পেস্ট করে কাজ করেন। ইউটিউবি চ্যানেলও অন্যের ভিডিও দিয়ে মার্কেটিং বা আয়ের চেষ্টা চালান। তবে কিছু দিন পরেই তা ধরা পড়ে যাওয়ায় সাইট বন্ধ হয়ে যায়।

illegal outsourcing-techshohor

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, চটকদার শিরোনাম দেখে এগুলোতে ঢুকলেও শিরোনামের সঙ্গে কোনো মিল থাকছে না। আরও কয়েক ক্লিকের পর মেলে কোনো পর্ন সাইটের ঠিকানা। এটুকুতেই অবশ্য কাজ হয়ে যায় ওই চক্রের।

সংশ্লিষ্টদের মতে, কেননা একদিকে আপনার অ্যাকটিভিটির ওপর নির্ভর করে ফেইসবুক আবারও ওই ব্যক্তির আইডি থেকে শেয়ার করা নতুন লিংক যেমন ওয়ালে দেখায়, তেমনি চক্রটি ই-মেইল ও ক্লিক থেকে আয় করে ফেলে নিমিষেই।

তবে কাজটিকে সরাসরি বেআইনি (ই-লিগ্যাল) আউটসোর্সিং বলছেন ফিল্যান্সিং পেশায় যুক্ত ব্যক্তিরা। মূলত কিছু ব্যক্তি টাকার লোভ দেখিয়ে তরুণদের এ কাজে ভিড়িয়ে অশ্লীল ছবি বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে।

বিষয়টি অনেক দিন থেকে নজরে রেখেছেন এমন অনেকের অভিযোগ, একটি সক্রিয় চক্র রংপুর ও দিনাজপুর থেকে এ কাজ বেশি মাত্রায় করছে। তবে সম্প্রতি চক্রটি ঢাকাসহ অন্যান্য এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়েছে।

এ বেআইনি আউটসোর্সিং করা হচ্ছে সিপিএ বা কস্ট পার অ্যাকশনের সুবিধা কাজে লাগিয়ে। এর মাধ্যম প্রতি ক্লিক থেকে অর্থ আয় হয়। ক্ষেত্র বিশেষে একটি ভিডিও একবার দেখা হলেই ৭০-৮০ সেন্ট পর্যন্ত আয় হয়।

আবার দেখা যায় প্রকৃত ই-মেইল আইডির বিপরীতে এক ডলার সমপরিমাণ অর্থও হাতিয়ে নিচ্ছে ওই চক্র।

একটি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী রাফায়েত হোসেন রাফু টেকশহরডটকমকে বলেন, ওই চক্রটি টার্গেট করে উঠতি বা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়া তরুণদের। ফ্রিল্যান্সিং কাজ দেবে বলে চক্রটি গোপনে কিছু ফটোশপ ও লিংক কপি-পেস্টের কাজ শেখাচ্ছে।

মূলত সাইটে ট্রাফিক বাড়ানো ও বিভিন্ন পণ্যের বিজ্ঞাপন দেখানো তাদের উদ্দেশ্য। এ ছাড়াও ভিজিটরদের ই-মেইল আইডি নেওয়াও একটি উদ্দেশ্য থাকে বলে জানান রাফায়েত।

সাইবার সিকিউরিটি নিয়ে কাজ করা এ নির্বাহী বলেন, গোপনে কাজ করতে ব্রাউজার হিসেবে ভিপিএন বা প্রক্সি আইপি ব্যবহার করে তারা। মার্কেটিং পলিসি হিসেবে সিপিএ, এসইওর পাশাপাশি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংও কাজে লাগায়।

অনলাইন পেশাজীবীদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্টারনেট প্রফেশনাল কমিউনিটির (বিআইপিসি) সাবেক আহবায়ক আবুল কাশেম টেকশহর ডটকমকে বলেন, “এ ধরনের কাজকে ‘গ্রে মার্কেটের’ সঙ্গে তুলনা করা হয়। তবে এটা সম্পূর্ণ ই-লিগ্যাল কাজ। এক ধরনের ক্রাইমও বলা চলে।”

Illigal-outsourching2

ফ্রিল্যান্সিং ও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে অভিজ্ঞ এ ফ্রিল্যান্সার বলেন, সরকারের সঙ্গে মিলে যখন দেশে ফ্রিল্যান্সিং পেশার একটা ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে। তখন ফ্রিল্যান্সিংয়ের নামে এ ধরনের বেআইনি কাজ মেনে নেওয়া যায় না।

বিডিহায়ারের প্রধান নির্বাহী কাশেম বলেন, যেসব এলাকায় এটা হচ্ছে সেখানকার প্রসাশনকে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে প্রযুক্তি খাতের ফ্রিল্যান্সিং পেশার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে বাধ্য।

আউটসোর্সিং কাজের দেশীয় মার্কেটপ্লেস বিল্যান্সারের প্রতিষ্ঠাতা শফিউল আলম বলেন, অনেকেই এটিকে আউসোর্সিং হিসেবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এটা আউটসোর্সিং বা ফ্রিল্যান্সিং নয় বরং সম্পূর্ণ অবৈধ এক কাজ। এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে এখনই ব্যবস্থা না নিলে দেশের ফ্রিল্যান্সিং খাতে নেতিবাচক প্রভাব জোরালো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন: 

এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যারের কাজে পথ দেখাচ্ছে নাটালস্মার্ট বাংলাদেশ

শুরুতে ছিলেন ফ্রিল্যান্সার। সেখানেই থেমে থাকতে চাননি। নিজেই কিছু করতে হবে এমন উদ্যোমে গড়ে তুলেছেন নাটালস্মার্ট বাংলাদেশ নামে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট সেন্টার। তরুন উদ্যোক্তা শরিফুল ইসলামের কথা জানাচ্ছেন ইমরান হোসেন মিলন।

পুরস্কারপ্রাপ্ত এ উদ্যোক্তার কম্পিউটার প্রযুক্তির সঙ্গে নিবিড় পরিচয় শিক্ষাজীবন থেকেই। পড়ালেখা করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগে। সেই থেকে প্রযুক্তিকে ঘিরে কিছু করার স্বপ্ন দেখেছেন।

পড়াশোনা শেষে বেশ কিছু দিন কাজ করেছেন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে। এ কাজে ধারাবাহিকতা তাকে এনে দিয়েছে পুরস্কারও। আউটসোর্সিংয়ের কাজে অবদান রাখায় ২০১৫ সালে পেয়েছেন বেসিস আউটসোর্সিং পুরস্কার।

natalsmart-techshohor

ফ্রিল্যান্সারদের মার্কেটপ্লেস ফ্রিল্যান্সার ডটকম, ওডেস্ক ও ইল্যান্সের পরে কাজ করেছেন আপওয়ার্কে। এসব কাজ করতে গিয়ে পরিচয় হয় যুক্তরাষ্ট্রের একটি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। পরে ওই কোম্পানির শাখা হিসেবে দেশে ‘নাটালস্মার্ট বাংলাদেশ’ নামে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট সেন্টার চালু করেন।

সেই নাটালস্মার্ট বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী হিসেবে এখন দায়িত্ব পালন করেছেন শরিফুল ইসলাম। সেখানে কাজের সুযোগ পেয়েছেন আরও পাঁচ জন।

শুরুর কথা
শরিফুল ইসলাম ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করলেও কখনো কাজে স্বস্তি পাননি। কম্পিউটার বিজ্ঞানে পড়ালেখা শেষে শুধু ফ্রিল্যান্সার হিসেবে পেশা গড়তে চাননি। চেয়েছেন নিজের একটি প্রতিষ্ঠান দাঁড় করাতে।

র্দীর্ঘদিন থেকে এমন ভাবনা পুষে রাখলেও শুরুতে খুব একটা সাহস করতে পারেননি। তার ভাষায়, প্রতিষ্ঠান করতে চাইলেই পারা যায়। তবে সেটা যেন দীর্ঘস্থায়ী হয়, ভালো কিছু সেখান থেকে আসে এমন কিছুর চেষ্টা ছিল সব সময়।

২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে শরিফুল কাজ শুরু করেন নাটালস্মার্ট বাহরাইন শাখায়। একই সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন যুক্তরাষ্ট্রের মূল প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। পরে প্রতিষ্ঠানটির শাখা হিসেবে দেশে ‘নাটালস্মার্ট বাংলাদেশ’ চালুর উদ্যোগ নেন। এর মূল দায়িত্ব নেন তিনি।

সেই থেকে আলাদা কিছুর পথচলা শুরু বলা যায়। শাখার কার্যক্রম চালুর এক বছর পর দেশে অফিস নিয়ে এসে নিয়েছেন তিনি।

একটি সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট প্রতিষ্ঠান হিসেবে কর্মীর সংখ্যা অনেক কম নাটালস্মার্টে। বাংলাদেশে রয়েছে মাত্র পাঁচ জন কর্মী। এ ছাড়া কয়েকজন কর্মী বাহরাইনে বসে নাটালস্মার্ট বাংলাদেশের হয়ে কাজ করছেন।

natalsmart-techshohor

কাজের ধরন
নাটালস্মার্ট বাংলাদেশ কাজ করে এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যার নিয়ে। তার দাবি, একমাত্র তাদের প্রতিষ্ঠানই দেশে এখন এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যার নিয়ে কাজ করেন।

প্রযুক্তি জায়ান্ট মাইক্রোসফটের সঙ্গে নাটালস্মার্টের চুক্তি থাকায় তাদের তৈরি সফটওয়্যার কেনে মাইক্রোসফট।

এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যারের বাজার
তরুন এ উদ্যোক্তা বলেন, এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যারের একেকটি কাজ মিলিয়ন ডলারের। যেসব কাজ পাই সেগুলো সর্বনিম্ন আড়াই মিলিয়ন ডলারের। এ সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট করে শুধু মিলিয়ন নয়, বিলিয়ন ডলারের বাজার ধরা যায়।

মূলত তিন ধরনের সফটওয়্যার ডেভেলপের কাজ করে নাটালস্মার্ট বাংলাদেশের কর্মীরা। মাইক্রোসফট ডাইনামিক, এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্লানিং বা ইআরপি ও সিআরএম। এসব কাজের জন্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতিও রয়েছে এ সেন্টারের।

যেসব দেশে গ্রাহক আছে
এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যারের গ্রাহক অনেক বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানি। মাইক্রোসফট, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এমনকি পেন্টাগনও এ এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যার ব্যবহার করে।

সমস্যা-সম্ভাবনা
তাদের প্রতিষ্ঠান আসলে অন্য কোম্পানির হয়ে পণ্য তৈরি করে। এটাই কাজের ক্ষেত্রে প্রধান সমস্যা। নিজেরা সেগুলো স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে তৈরি করা যায় না। বিশেষ করে এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যারের ক্ষেত্রে যেটা হয়। তবে সম্ভাবনার দিক হচ্ছে এ সফটওয়্যার ডেভেলপের কাজ করে অল্প সময়ে বেশি আয় করা যায়।

নতুনদের জন্য
তরুন এ উদ্যোক্তার মতে, তথ্যপ্রযুক্তিতে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের পর ফ্রিল্যান্সিংকে পেশা হিসেবে নেওয়া উচিত নয়।  তিনি বলেন, ‘ভাবতে অবাক লাগে যখন দেখি  দেশে অনেক শিক্ষার্থী কম্পিউটার বিজ্ঞানে গ্র্যাজুয়েশন শেষে ফ্রিল্যান্সার হতে প্রশিক্ষণ নেয়। এর বদলে নিজেদের উদ্যোগ থাকা দরকার।’

তার মতে, অনেক ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে গিয়ে অন্য দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারেন না এখানকার কর্মীরা। তাই তাদের ফ্রিল্যান্সিং-আউটসোর্সিংয়ে আবদ্ধ থাকা উচিত হবে না।

যোগাযোগ
বাসা-৩২
রোড-০৪
ব্লক-ই
বনশ্রী হাউজিং প্রজেক্ট
রামপুরা, ঢাকা।

ফ্রিল্যান্সিংয়ে সাফল্য পাচ্ছে কড়াইল বস্তির শিক্ষার্থীরা

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজে সাফল্য দেখিয়েছে রাজধানীর কড়াইল বস্তির অনেক শিক্ষার্থী। ডেনমার্ক ভিত্তিক তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কোডারসট্রাস্টের প্রতিযোগিতা ‘বিডিং’ এ এই সাফল্য পেয়েছে সেখানকার তরুণরা।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ওই প্রতিযোগিতায় প্রশিক্ষণরত শিক্ষার্থীর পাশাপাশি সাবেক শিক্ষার্থীরাও অংশ নেয়। বিডিং প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রায় ১২ হাজার ডলারের কাজ পেয়েছেন দেশের ফ্রিল্যান্সারা।

কোডারট্রাস্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিডিং প্রতিযোগিতায় ব্যাপক সাড়া পড়েছে। প্রতিযোগিতায় প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। এদের প্রত্যেকে আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং বাজারে প্রতিনিয়ত কাজের জন্য আবেদন করে কাজ পাচ্ছেন।

coderstrust
কোডারসট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ফার্দিনান্দ বলেন, প্রতিযোগিতার শুরু থেকেই কড়াইল বস্তির শিক্ষার্থীরা তাদের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছে। কোনো রকম আর্থিক ও পারিবারিক প্রতিবন্ধিকতা তাদেরকে বেঁধে রাখতে পারেনি। কোডারসট্রাস্ট থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রথম মাস শেষে প্রায় ২০০টি প্রকল্প সম্পূর্ণ করেছে এখানকার শিক্ষার্থীরা। এখানকার শিক্ষার্থীরা মোট দুই হাজার ৬৩০টি প্রকল্পে আবেদন করেছে।

কড়াইল বস্তির অবস্থান রাজধানীর মহাখালী, বনানী ও গুলশান এলাকার মাঝামাঝি।

কোডারসট্রাস্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের জন্যে কোডারসট্রাস্টের অনলাইন সাপোর্ট প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা চালু থাকে। শিক্ষার্থীরা যেকোনো সময় যেকোনো সমস্যা নিয়ে প্রশ্ন করতে পারেন।

কোডারসট্রাস্ট বাংলাদেশের নতুন ঠিকানা : রোড নং- ১৯ /এ, বাড়ি-৮২, সেকশন-ই, বনানী, ঢাকা – ১২১৩।
ইমরান হোসেন মিলন

অনলাইন ফ্রিল্যান্সিংয়ে একসঙ্গে কাজ করবে কোডারসট্রাস্ট ও ব্র্যাক

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বাংলাদেশে অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে একসঙ্গে কাজ করবে ডেনমার্কভিত্তিক আইটি প্রতিষ্ঠান কোডারসট্রাস্ট ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠান দুটি এ সংক্রান্ত একটি চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেছে।

চুক্তির ফলে কোডারসট্রাস্ট ব্র্যাকের লার্নিং সেন্টারগুলোর মাধ্যমে সারাদেশে তাদের ফ্রিল্যান্সার তৈরির কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।

CodersTrust_Seminar

ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ক সেমিনার আয়োজন করেছে কোডারসট্রাস্ট। সেমিনারে ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারের মাধ্যমে অনলাইনে অর্থ উপার্জনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

শামীম রাহমান

অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ দিচ্ছে কোডারসট্রাস্ট

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেশে দক্ষ ফ্রিল্যান্সার তৈরিতে সম্প্রতি অনলাইনে ক্লাস ও ভিডিও কোর্স চালু করেছে কোডারসট্রাস্ট। ফিল্যান্সিংয়ে আগ্রহীরা এখন থেকে চাইলে ইন্টারনেটের মাধ্যমে কোডারসট্রাস্টের অনলাইন কোর্সগুলোতে অংশ নিতে পারবেন।

কোডারসট্রাস্টের যেকোনো প্রোগ্রামে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা পরীক্ষামূলকভাবে বিনামূল্যেই অনলাইনে নির্দিষ্ট কোর্সটি করে নিতে পারবেন।

coderstrust

কোডারসট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ফার্দিনান্দ বলেন, ফ্রিল্যান্সারদের যেহেতু অনলাইনে কাজ করতে হয়। তাই তাদের প্রশিক্ষণ যদি অনলাইনে দেওয়া হয় তাহলে তাদের কাজ আরো সহজ হবে। এটি তাদেরকে দক্ষ ফ্রিল্যান্সার হতে সাহায্য করবে।

কোডারসট্রাস্টের পরিচালনা বিভাগের প্রধান শাকিল মাহমুদ বলেন, আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য যারা আর্থিকভাবে অসচ্ছল তাদেরকে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ ফ্রিল্যান্সার হিসেবে প্রস্তুত করা। বর্তমানে আমরা কড়াইল বস্তিতে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। ভবিষ্যতে এর পরিধি আরো বাড়বে।

ইতোমধ্যে কোডারসট্রাস্ট প্রায় ৫০০ ফ্রিল্যান্সার তৈরি করেছে। যাদেরকে আর্থিকসহ সবধরনের সুবিধা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। যখন কোডারসট্রাস্ট ব্যবহারকারী আয় করবেন, তখন ওই ঋণ শোধ করতে পারবেন তারা।

ইমরান হোসেন মিলন

ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে ক্যারিয়ার ক্যাফের কর্মশালা ২ জানুয়ারি

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ফ্রিল্যান্সিংয়ে কাজ করতে আগ্রহীদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ক কর্মশালার আয়োজন করেছে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ক্যারিয়ার ক্যাফে।

২ জানুয়ারি রাজধানীর বিশ্বসাহিত্যে কেন্দ্রে বিকেল সাড়ে তিনটায় অনুষ্ঠিত হবে ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ক এই কর্মশালা।

কর্মশালায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ২০১৫ সালে বেসিস আউটসোর্সিং পুরস্কারপ্রাপ্ত ফ্রিল্যান্সার নাজমুল হোসাইন ও অজান্তা রিজওয়ানা মির্জা।

career cafe

এছাড়াও স্টার্টআপ ক্যাটাগরিতে ফ্রিলান্সিং পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা ও ই-জেনারেশনের পরিচালনা বিভাগের প্রধান ইমরান আব্দুল্লাহও আলোচনা করবেন।

সবার জন্য উন্মুক্ত কর্মশালাটিতে অংশ নিতে হলে এই ঠিকানায় নিবন্ধন করতে হবে।

ইমরান হোসেন মিলন

ফ্রিল্যান্সারস মিট ৮ ডিসেম্বর

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ৮ ডিসেম্বর ‘ফ্রিল্যান্সারস মিট-২০১৫’ আয়োজন করছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি।

সোমবার রাজধানীর রিপোটার্স ইউনিটির সাগর-রুনি হলে ফ্রিল্যান্সারস মিট আয়োজন নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করবে আয়োজক প্রতিষ্ঠান।

ফ্রিল্যান্সারস মিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

12283063_925079227560185_390971287_n

দুটি সেশনে ফ্রিল্যান্সারস মিট অনুষ্ঠিত হবে বলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। প্রথম সেশনে ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ওয়ার্ল্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি সার্ভিসেস (ডব্লিউটিআইএস) এর প্রেসিডেন্ট সান্টিয়াগো গোতিয়ারেজ। আর দ্বিতীয় সেশনে থাকবে ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কিত কারিগরি বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অ্যাকসেঞ্চার জাপানের সাবেক প্রেসিডেন্ট ক্লাইড উনো, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) সভাপতি শামীম আহসান, বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) সভাপতি এ এইচ এম মাহফুজুল আরিফ, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্য) এর সভাপতি আহমেদুল হক ববিসহ আরও অনেকে।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করবেন ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সবুর খান।

ইমরান হোসেন মিলন

টেরেস্ট্রিয়াল আইটির প্রফেশনাল ট্রেনিংয়ে ভর্তি শুরু

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ফ্রিল্যান্সিংয়ে আগ্রহ আছে অনেক নারীর। কিন্তু এ নিয়ে তারা পড়াশুনার ভালো সুযোগ পান না বলে ফ্রিল্যান্সারও হয়ে উঠতে পারেন না। তাদের জন্য সুখবর বয়ে এনেছে টেরেস্ট্রিয়াল আইটি। প্রতিষ্ঠানটি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে তাদের ট্রেনিং কোর্সে মেয়েদের ভর্তি শুরু করেছে। অবশ্য চাইলে এতে পুরুষরাও ভর্তি হতে পারবেন।

টেরেস্ট্রিয়াল আইটি জানিয়েছে, এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে নতুন ব্যাচ শুরু হবে। আগ্রহীরা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন(এসইও), গ্রাফিক ডিজাইন এবং ওয়েব ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট -এই তিনটি কোর্সের যে কোন একটিতে ভর্তি হতে পারবেন। প্রশিক্ষণের মেয়াদ তিন মাস।

কোর্সগুলোর মধ্যে এসইও’তে ১০ হাজার এবং গ্রাফিক ডিজাইন ও ওয়েব ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টে ১২ হাজার টাকা করে ভর্তি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কারো আর্থিক সমস্যা থাকলে তা বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন টেরেস্ট্রিয়াল আইটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী আমেনা আক্তার।

Terrestrial IT

তিনি আরও জানান, টেরেস্ট্রিয়াল আইটি মূলত মেয়েদের ফ্রিল্যান্সার হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কাজ করতে চায়। তবে পুরুষরা চাইলেও ট্রেনিং কোর্সগুলোতে অংশ নিতে পারবেন।

তিনি জানান, প্রশিক্ষণ যাতে বিফলে না যায় সেজন্য কোর্সগুলোতে প্রতি ব্যাচে মাত্র ৫ জন করে ভর্তি করানো হয় এবং হাতে কলমে শিক্ষা দেওয়া হয়।

চাকরীজীবিদের জন্য সান্ধ্যকালীন কোর্সেও ভর্তিরও সুযোগ আছে। প্রশিক্ষণ শেষে মার্কেটপ্লেসে কিভাবে কাজ পাওয়া থেকে শুরু করে টাকা উত্তোলন করা যায় তার সবকিছু শিখিয়ে দেওয়া হয় বলেও জানান তিনি।

এই ঠিকানায় গিয়ে ভর্তির রেজিস্ট্রেশন ফরম পাওয়া যাবে।

ফখরুদ্দিন মেহেদী