দুই মাসের মধ্যে তরঙ্গ নিলাম, ফোরজির লাইসেন্স

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : যত দ্রুত সম্ভব, সম্ভব হলে এক-দুই মাসের মধ্যেই ফোরজির লাইসেন্সসহ তরঙ্গ নিলামের আয়োজন করতে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

সেই সঙ্গে তরঙ্গ ব্যবহারে প্রযুক্তি নিরপেক্ষতাও দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। যাতে করে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর গ্রাহক সেবার মান ভালো হয়।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, সন্তোষজনক সেবা দিতে না পারার কারণ হিসেবে সব অপারেটররা কেবল তরঙ্গ স্বল্পতার কথা বলেন। এখন আমরা নিলামের আয়োজন করবো, তারপরে যদি অপারেটররা তরঙ্গ না নেয়, অথবা সেবার মান বৃদ্ধি করতে না পারে তখন তাদেরকে ধরা হবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে তারা ফোরজির খসড়া নীতিমালা বিটিআরসির কাছ থেকে পেয়ে গেছেন। আর বৈঠক থেকে তাদেরকে তরঙ্গের বিষয়েও নীতিমালার একটি খসড়া দিতে বলা হয়েছে।

4G-techshohor

এরপর দুটি নীতিমালাই অল্প দিনের মধ্যে চূড়ান্ত করে দেওয়া হবে যাতে জুলাই মাস নাগাদ তরঙ্গের নিলাম আয়োজন করা যায়, বলছিলেন তারানা হালিম।

তাতে করে এ বছরের মধ্যেই দেশে ফোরজি চালু হবে বলেও বৈঠকে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

বৈঠকে যে সব অপারেটরের কাছে অব্যবহৃত তরঙ্গ আছে সেগুলো যত দ্রুত সম্ভব ফেরত নিয়ে নিলামে তোলার কথা বলা হয়েছে বলেও জানান তারানা।

প্রযুক্তি নিরপেক্ষতা সুবিধা পাওয়া গেলে অপারেটররা তখন যেকোনো তরঙ্গে যেকোনো সেবা দিতে পারবে, এতে তাদের সেবার মান বৃদ্ধি পাবে এবং একই সঙ্গে খরচও কমে আসবে।

প্রযুক্তি নিরপেক্ষতা সুবিধা দেওয়ার জন্যে প্রতি মেগাহার্জ তরঙ্গের জন্য বাড়তি পাঁচ মিলিয়ন ডলার করে দেওয়া হতে পারে বলে আলোচনা হয়েছে, তবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। অন্যদিকে আবার নিলামে তোলা তরঙ্গের মূল্য কত হবে সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত বৈঠক থেকে দেওয়া হয়নি।

কল ড্রপের ক্ষেত্রে সব গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় কিনা বা দিলেও সেটি গ্রাহকদেরকে অবহিত করা হয় কিনা সে বিষয়ে বিটিআরসিকে কড়াকড়ি আরোপের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বৈঠক থেকে।

এর বাইরে মোবাইল ফোন অপারেটররা কোনো অপরাধ করলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যে বিটিআরসিকে কঠোর হতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছে বৈঠক সূত্র।

আর. এস হুসেইন

ফোরজি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে সোমবার

 

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ফোরজি নীতিমালার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে সোমবার। রাজস্ব ভাগাভাগিতে বিটিআরসির ১৫ শতাংশ থাকবে কিনা, লাইসেন্সের আওতা কতখানি হবে, প্রযুক্তি নিরপেক্ষতা কি প্রক্রিয়ায় দেওয়া হবে, বাড়তি চার্জ হবে কিনা আর হলে কত-এমন বিষয়গুলো এদিন ঠিকঠাক হতে পারে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে সোমবার প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বৈঠক করবেন বলে কথা রয়েছে ।

এর আগে ১৫ ফেব্রুয়ারি টেলিযোগাযোগ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের কাজের অগ্রগতি ও পর্যালোচনা বিষয়ক বৈঠক করেন তিনি। ওই সভায় জয় বিভাগের আওতাধীন সকল দপ্তরের কাজের অগ্রগতির খোঁজখবর নেন এবং বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন।

সে সময় দেশে যেকোনো মূল্যে ২০১৭ সালের মধ্যেই ফোরজি চালু করতে বলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা । আর এই নির্দেশনার পর বিটিআরসি ফোরজি নীতিমালা নিয়ে দ্রুত কাজ শুরু করে।

4g-techshohor

ইতোমধ্যে ফোরজির জন্য বিটিআরসি একটি প্রস্তাবিত নীতিমালা সরকারের অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছে। যা ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে এখন বিবেচনার জন্যে রয়েছে। সেখানে ফোরজি সেবার ক্ষেত্রে রাজস্ব ভাগাভাগির পরিমাণ বৃদ্ধি করে ১৫ শতাংশে উন্নীত করতে বলেছে বিটিআরসি।

বর্তমানে সকল সেবার ক্ষেত্রে রাজস্ব ভাগাভাগি করা হয় সাড়ে পাঁচ শতাংশ। আরও এক শতাংশ অপারেটররা দেয় সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলে।

এক লাফে রাজস্বের এত বড় ভাগ অপারেটরা ছাড়তে নারাজ। তারা বলছেন, তাদের মোট আয়ের ৪৭ শতাংশই সরকারের কোষাগারে চলে যায়। এটি আরও বাড়াতে বললে তাদের আর কিছুই থাকবে না।

সম্প্রতি এটিসহ ফোরজির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অপারেটরগুলোর সংগঠন অ্যামটব টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম এর কাছে চিঠিও দিয়েছে।

এর আগে অ্যামটব মহাসচিব টিআইএম নূরুল কবীর টেকশহরডটকমকে বলেন, ‘আমরা পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে যেটা জেনেছি তাতে যে ধরণের নীতিমালা করা হচ্ছে সেখানে বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।’

ফোরজির স্পেকট্রামের জন্য এত ফি দিয়ে বিষয়টি সম্ভব হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এত ফি সম্ভব না, বিজনেস কেইস কোথায়? আমি থ্রিজি নিলাম এত টাকা দিয়ে, থ্রিজি ব্যবহার করার সুযোগ নিতে পারলাম না। বাংলাদেশে এখন ফোরজি হ্যান্ডসেট আছে ৩ হতে ৪ শতাংশে। আমার ইকোসিস্টেম তো রেডি হতে হবে। এটা না হলে কীভাবে হবে?’

‘আমি অকশনে যাবো, অকশনে যাওয়ার জন্য আমাদের বিজনেস কেইসটাও দেখা দরকার, আমাদের পেন্ডিং সে সমস্যাগুলো আছে সেগুলো সরকারের কনসিডার করা উচিত। ইনভেস্টররা যাতে উৎসাহিত হয় সেই জিনিসগুলোকে বিবেচনায় নিয়ে অকশন গাইডলাইন তৈরি করা উচিত।’

নূরুল কবীর বলেন, ‘যে নীতিমালার কথা আমরা শুনছি তা বিনিয়োগ বান্ধব নয় এবং এখানে ব্যবসায়িক অবস্থাও নেই, এটা অবাস্তব। আমরা বরং সরকারকে বলবো টেকনোলজি নিউট্রালিটি এবং শেয়ারিংয়ের জায়গাগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে এবং এতেই কোয়ালিটি অব সার্ভিস বাড়বে।’

আল-আমীন দেওয়ান

ফোরজি পরীক্ষায় ৯০ এমবিপিএসের বেশি গতি পেয়েছে রবি

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : মোবাইল অপারেটর রবি ও এরিকসন রাজধানীতে এলটিই (লং টার্ম ইভোল্যুয়েশন) প্রযুক্তি বা ফোরজি’র পরীক্ষা চালিয়েছে।

পরীক্ষায় এই প্রযুক্তিতে প্রতি সেকেন্ডে ৯০ মেগাবাইটের বেশি গতিতে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে সক্ষম হয়েছে বলে জানিয়েছে। এলটিই সেবা প্রদানের প্রস্তুতির পদক্ষেপ হিসেবে পরীক্ষাটি চালিয়েছে অপারেটরটি।

একই সাথে এটি এরিকসন বাংলাদেশের জন্যও একটি মাইলফলক অর্জন এবং বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ বাজার যে এলটিই প্রযুক্তির যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে তারই প্রতিফলন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে রবি।

Robi-4g-erricson-techshohor

পরীক্ষাটি ১৮০০ ও ২১০০ মেগাহার্জ ব্র্যান্ডের সমন্বয়ে সর্বাধুনিক মোবাইল ফোন হ্যান্ডসেটে পরিচালনা হয়েছে। এসময় ব্যবহার করা হয়েছে রেডিও আরআরইউএস ১২’র সহযোগে সর্বাধুনিক এরিকসন এলটিই ১৬বি সল্যুশন এবং বেসব্যান্ড ৫২১৬।  শিগগিরই দেশের অন্যান্য শহরে এ পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালাবে এরিকসন ও রবি।

হাইডেফিনেশন (এইচডি) টিভি ও ভিডিও কনফারেন্সিংর মতো ব্রডব্যান্ড অ্যাপ্লিকেশন সেবাগুলো গ্রহণের ক্ষেত্রে ৪জি সেবা কী ভূমিকা রাখতে পারে সে দিকটি মাথায় রেখেই এই প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষাটি চালানো হয়েছে।

রবি আজিয়াটা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, ফোরজি বা এলটিই প্রযুক্তি গ্রহণের জন্য উপযোগী স্মার্টফোন ব্যবহারের হার কম থাকার মতো কিছু সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ইন্টারনেটের উচ্চগতির জন্য গ্রাহকদের ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে আমরা সাধুবাদ জানাই। যা এই প্রযুক্তির মাধ্যমেই পূরণ করা সম্ভব।

তিনি বলেন, ফোরজি প্রযুক্তি গ্রহণের জন্য সরকার লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে যে কর্মকাঠামোর প্রস্তাব করেছে তা এই ব্যবসা প্রসারের জন্য অনুকূল নয়। কিন্তু গ্রাহক চাহিদার কথা বিবেচনা করে আমরা এ প্রযুক্তি চালু করতে আগ্রহী।

রবি নেটওয়ার্কে ফোরজি সেবার পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সে আন্তরিকতারই প্রতিফলন। তাই ফোরজি প্রযুক্তির ব্যবসা প্রসারের লক্ষ্যে সরকার অনুগ্রহ করে লাইসেন্সের কর্মকাঠামো পরিবর্তন করবে বলে তাদের প্রত্যাশা।

হেড অব এরিকসন বাংলাদেশের রাজেন্দ্র পানগ্রেকর বলেন, এ পরীক্ষা এলটিই যুগে রবি ও এরিকসনের দীর্ঘমেয়াদী অংশীদ্বারীত্বের প্রতিফলন। আমরা আমাদের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা নিয়ে এলটিই সেবা প্রদানে রবি’র অগ্রযাত্রার সহযোগী, যার ফলে তারা আরো মানসম্মত ও অত্যাধুনিক গ্রাহকসেবা প্রদান করতে পারবে।

এলটিই প্রযুক্তিতে বাজারের সেরা এরিকসন। যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডাসহ এলটিই প্রযুক্তি’র উচ্চ ব্যবহারকারী সবগুলো দেশে এরিকসন তাদের সেবা প্রদান করছে। বিশ্বজুড়ে এলটিই প্রযুক্তি ব্যবহারকারী শীর্ষ ১০টি এলটিই অপারেটরেরই এরিকসন ব্যবহার করছে।

ইমরান হোসেন মিলন

বাজেটের পরপরই ফোরজি

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : আসন্ন বাজেটের পরপরই ফোরজি  লাইসেন্স দেওয়াসহ সংশ্লিষ্ট বেতার তরঙ্গের নিলাম দেওয়া হবে।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত টেলিনরের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের ফোরজি নিলামের এই সময়ের কথা জানান।

শুক্রবার ওয়াশিংটনে আইএমএফ ও বিশ্ব ব্যাংকের বৈঠক চলাকালে গ্রামীণফোনের এই মূল কোম্পানির প্রতিনিধিরা অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করলে এই আলাপ উঠে।

এ সময় অর্থমন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে তিনি এ সংক্রান্ত একটি নীতিমালার কপি হাতে পেয়েছেন। দেশে ফিরেই তিনি টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বসবেন।

জুনের প্রথম বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী। তারপরই কোনো এক সময় হবে এই নিলাম।

4g-techshohor

এর মধ্যে গত সপ্তাহেই একবার বিষয়টি নিয়ে মোবাইল ফোন অপারেটরের শীর্ষকর্তারা ঢাকায় অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন।
অপারেটররা বাড়তি তরঙ্গের উচ্চ মূল্যসহ আরও কয়েকটি বিষয় নিয়ে তাদের আপত্তি জানান।

সম্প্রতি ফোরজির জন্য বিটিআরসি একটি প্রস্তাবিত নীতিমালা সরকারের অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছে। যা ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে এখন বিবেচনার জন্যে রয়েছে। সেখানে ফোরজি সেবার ক্ষেত্রে রাজস্ব ভাগাভাগির পরিমাণ বৃদ্ধি করে ১৫ শতাংশে উন্নীত করতে বলেছে বিটিআরসি।

বর্তমানে সকল সেবার ক্ষেত্রে রাজস্ব ভাগাভাগি করা হয় সাড়ে পাঁচ শতাংশ। আরও এক শতাংশ অপারেটররা দেয় সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলে।

এক লাফে রাজস্বের এত বড় ভাগ অপারেটরা ছাড়তে নারাজ। তারা বলছেন, তাদের মোট আয়ের ৪৭ শতাংশই সরকারের কোষাগারে চলে যায়। এটি আরও বাড়াতে বললে তাদের আর কিছুই থাকবে না।

মোবাইল ফোন অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটব বলছে, থ্রিজির জন্য অপারেটররা প্রায় ত্রিশ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছে। কিন্তু সেই অর্থের বিনিময়ে তারা কেউই এখনও থ্রিজি হতে লাভ ঘরে তুলতে পারেনি।

তারা বলছেন, এতো বিনিয়োগ করেও যেখানে লাভ পাওয়া যাচ্ছে না সেখানে ফোরজির জন্য বাজার কতটা তৈরি আছে সেটিও দেখতে হবে। বাজারে এ মুহূর্তে খুব কম হ্যান্ডসেট আছে যেখানে ফোরজির সুবিধা রয়েছে। তাছাড়া নূন্যতম গ্রাহক প্রতি আয়, উচ্চ মাত্রার ট্যাক্সও তাদের জন্য ফোরজিতে বিনিয়োগ করা বড় প্রতিবন্ধকতা।

আর. এস হুসেইন

থ্রিজিতে বিনিয়োগ ৩০ হাজার কোটি টাকা, ফোরজিতে অনীহা

আর এস হুসেইন, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : থ্রিজির জন্য অপারেটররা প্রায় ত্রিশ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছে বলে জানিয়েছে মোবাইল ফোন অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটব।

কিন্তু সেই অর্থের বিনিময়ে তারা কেউই এখনও থ্রিজি হতে লাভ ঘরে তুলতে পারেনি।

সে কারণে সম্প্রতি টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমকে লেখা চিঠিতে নানা কথা বলার মাঝেও ফোরজির বিষয়ে তাদের খানিকটা অনিহা ধরা পড়েছে।

তারা বলছেন, এতো বিনিয়োগ করেও যেখানে লাভ পাওয়া যাচ্ছে না সেখানে ফোরজির জন্য বাজার কতটা তৈরি আছে সেটিও দেখতে হবে।

অপারেটরগুলো বলছে, বাজারে এ মুহূর্তে খুব কম হ্যান্ডসেট আছে যেখানে ফোরজির সুবিধা রয়েছে। তাছাড়া নূন্যতম গ্রাহক প্রতি আয়, উচ্চ মাত্রার ট্যাক্সও তাদের জন্য ফোরজিতে বিনিয়োগ করা বড় প্রতিবন্ধকতা।

tower-techshohor

সম্প্রতি ফোরজির জন্য বিটিআরসি একটি প্রস্তাবিত নীতিমালা সরকারের অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছে। যা ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে এখন বিবেচনার জন্যে রয়েছে। সেখানে ফোরজি সেবার ক্ষেত্রে রাজস্ব ভাগাভাগির পরিমাণ বৃদ্ধি করে ১৫ শতাংশে উন্নীত করতে বলেছে বিটিআরসি।

বর্তমানে সকল সেবার ক্ষেত্রে রাজস্ব ভাগাভাগি করা হয় সাড়ে পাঁচ শতাংশ। আরও এক শতাংশ অপারেটররা দেয় সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলে।

এক লাফে রাজস্বের এত বড় ভাগ অপারেটরা ছাড়তে নারাজ। তারা বলছেন, তাদের মোট আয়ের ৪৭ শতাংশই সরকারের কোষাগারে চলে যায়। এটি আরও বাড়াতে বললে তাদের আর কিছুই থাকবে না।

এর আগে অ্যামটব মহাসচিব টিআইএম নূরুল কবীর টেকশহরডটকমকে বলেন, ‘আমরা পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে যেটা জেনেছি তাতে যে ধরণের নীতিমালা করা হচ্ছে সেখানে বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।’

ফোরজির স্পেকট্রামের জন্য এত ফি দিয়ে বিষয়টি সম্ভব হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এত ফি সম্ভব না, বিজনেস কেইস কোথায়? আমি থ্রিজি নিলাম এত টাকা দিয়ে, থ্রিজি ব্যবহার করার সুযোগ নিতে পারলাম না। বাংলাদেশে এখন ফোরজি হ্যান্ডসেট আছে ৩ হতে ৪ শতাংশে। আমার ইকোসিস্টেম তো রেডি হতে হবে। এটা না হলে কীভাবে হবে?’

‘আমি অকশনে যাবো, অকশনে যাওয়ার জন্য আমাদের বিজনেস কেইসটাও দেখা দরকার, আমাদের পেন্ডিং সে সমস্যাগুলো আছে সেগুলো সরকারের কনসিডার করা উচিত। ইনভেস্টররা যাতে উৎসাহিত হয় সেই জিনিসগুলোকে বিবেচনায় নিয়ে অকশন গাইডলাইন তৈরি করা উচিত।’

নূরুল কবীর বলেন, ‘যে নীতিমালার কথা আমরা শুনছি তা বিনিয়োগ বান্ধব নয় এবং এখানে ব্যবসায়িক অবস্থাও নেই, এটা অবাস্তব। আমরা বরং সরকারকে বলবো টেকনোলজি নিউট্রালিটি এবং শেয়ারিংয়ের জায়গাগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে এবং এতেই কোয়ালিটি অব সার্ভিস বাড়বে।’

চিঠিতেও এই বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ফোরজির স্পেকট্রাম ফিতে আপত্তি অপারেটরগুলোর

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ফোরজির স্পেকট্রাম ফিতে আপত্তি তুলছে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো। এটিকে বাড়তি বোঝা মনে করছে তারা। এছাড়া ফোরজির যে নীতিমালার কথা আলোচনায় এসেছে তা অবাস্তব, ব্যবসায় অনুকূল নয় বলে জানিয়েছেন তারা।

মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো সংগঠন অ্যামটব-এর মহাসচিব এবং প্রধান নির্বাহী টিআইএম নূরুল কবীর টেকশহরডটকমকে বলেন, ‘আমরা পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে যেটা জেনেছি তাতে যে ধরণের নীতিমালা করা হচ্ছে সেখানে বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।’

ফোরজির স্পেকট্রামের জন্য এত ফি দিয়ে বিষয়টি সম্ভব হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এত ফি সম্ভব না, বিজনেস কেইস কোথায়? আমি থ্রিজি নিলাম এত টাকা দিয়ে, থ্রিজি ব্যবহার করার সুযোগ নিতে পারলাম না। বাংলাদেশে এখন ফোরজি হ্যান্ডসেট আছে ৩ হতে ৪ শতাংশে। আমার ইকোসিস্টেম তো রেডি হতে হবে। এটা না হলে কীভাবে হবে?’

‘আমি অকশনে যাবো, অকশনে যাওয়ার জন্য আমাদের বিজনেস কেইসটাও দেখা দরকার, আমাদের পেন্ডিং সে সমস্যাগুলো আছে সেগুলো সরকারের কনসিডার করা উচিত। ইনভেস্টররা যাতে উৎসাহিত হয় সেই জিনিসগুলোকে বিবেচনায় নিয়ে অকশন গাইডলাইন তৈরি করা উচিত।’

নূরুল কবীর বলেন, ‘যে নীতিমালার কথা আমরা শুনছি তা বিনিয়োগ বান্ধব নয় এবং এখানে ব্যবসায়িক অবস্থাও নেই, এটা অবাস্তব। আমরা বরং সরকারকে বলবো টেকনোলজি নিউট্রালিটি এবং শেয়ারিংয়ের জায়গাগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে এবং এতেই কোয়ালিটি অব সার্ভিস বাড়বে।’

তিনি জানান, ‘সবগুলো অপারেটরই ফোরজি সার্ভিসে যেতে চায় কিন্তু তাদের এখনকার স্পেকট্রামগুলো আছে সেগুলো তারা যদি ফ্লেক্সিবলি ব্যবহার করতে না পারে, নিউট্রালিটি না পায় তাহলে এগুবো কীভাবে? এছাড়া সরকারের কাছে এখন অব্যবহৃত স্পেকট্রাম অনেক পড়ে আছে। সরকার সেগুলো ইফেক্টিভলি কাজে লাগায় না কেনো?’

4g-techshohor

ফোরজির এই স্পেকট্রাম ফি এবং নীতিমালার বিভিন্ন বিষয়ের কারণে শেষ পর্যন্ত নিলামে অংশ না নেওয়ার হুমকি দেয়া নিয়ে কানাঘুষা চলছে অপারেটরগুলোর মধ্যে।

ইতোমধ্যে তারা সমস্যাগুলো নিয়ে চলতি সপ্তাহেই অর্থমন্ত্রী এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে একাধিক বৈঠক করে ফেলেছেন।

অপারেটরগুলো বলছে, ফোরজির সেবা দেওয়ার জন্যে স্পেকট্রামের ব্যবহারের যে নিরপেক্ষতা সেই সুবিধা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন যে নীতিমালার খসড়া করছে সেখানে স্পেকট্রামের নিয়মিত ফি’র বাইরেও প্রতি মেগাহার্জের জন্য আরও সাত থেকে আট মিলিয়ন ডলার ফি নেওয়ার সুপারিশ করা হচ্ছে।

‘এমন হলে ফোরজির সেবা গুণগত মান হারাবে। সরকারকেই যদি এতো টাকা দিয়ে দিতে হয় তাহলে তাদের সেবা দেওয়ার জন্য আর কিছুই থাকবে না। ফলে গুণগত সেবা নিশ্চিত করাও সম্ভব হবে না।’

সম্প্রতি নতুন একটি মোবাইল ফোন অপারেটর আসার সুযোগ রেখে ফোরজি নীতিমালা অনুমোদনের জন্য পাঠাতে চুড়ান্ত করেছে বিটিআরসি। সেটা সরকারের কাছে পাঠিয়েও দিয়েছে বিটিআরসি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নীতিমালায় ফোরজির লাইসেন্স ফি ১৫ কোটি টাকা বলা হয়েছে। এছাড়া প্রতি বছরের ফি আছে আরো সাড়ে সাত কোটি টাকা।

লাইসেন্স নিয়েই ২১০০ ব্যান্ডের স্পেকট্রামেরই সেবা দেওয়া শুরু করতে পারবেন অপারেটররা। সব মিলে ফোরজি সেবা আসতে কয়েক মাস লাগতে পারে।

এদিকে ফোরজি’র জন্যে বাড়তি যে স্পেকট্রাম নিলাম করা হবে তার প্রতি মেগাহার্জ ২৫ মিলিয়ন ডলার করে মূল্য ধরা হচ্ছে। এর ওপর বর্তমানে ব্যবহৃত স্পেকট্রামের ওপর কেউ ফোর জি সেবা দিতে চাইলে সেই অপারেটরকে প্রতি মেগাহার্ডজে আরও সাত-আট মিলিয়ন ডলার দেওয়ার সুপারিশ করেছে বিটিআরসি।

আর এরই বিরোধিতা করে অপারেটরগুলো অর্থমন্ত্রী এবং টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছেন।

অপারেটগুলোর বক্তব্যে অ্যামটব মহাসচিব জানান, ‘আমরা সরকারকে বলেছি আমাদের ভয়েসের চেয়ে ডেটার ডিমান্ড বেড়েছে। এখন আমাদের টুজিতে ৯০০ এবং ৮০০ ব্যান্ড আছে, আমাদের থ্রিজিতে ২১০০ ব্যান্ড আছে। আমাদের এই ব্যান্ডটাকে ফ্লেক্সিবল এবং নিউট্রালিটি ব্যান্ড করে দেয়া দরকার। তাতে করে অপটিমাম লেভেলে সার্ভিস দেয়া যাবে এবং কোয়ালিটি সার্ভিস বাড়বে।’

‘এ বিষয়ে আমরা দাবি করেছি এবং সরকারের পলিসি লেভেলেও এটি এগ্রি করেছে কিন্তু জিনিসটা এখনও হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘আর ফোরজির অকশন, স্পেকট্রাম এমনিই আমাদের কম । এর নিরপেক্ষতা যত বেশি থাকবে তত কোয়ালিটি অব সার্ভিস ও ইনোভেটিভ সার্ভিস প্রদান করার সুযোগ হবে।’

‘বাংলাদেশে সিম রিপ্লেসমেন্ট কেইসসহ বিভিন্ন অমিমাংসিত বিষয়গুলো সমাধান করা জরুরি। এগুলো সমাধান না করলে বিনিয়োগকারীরা আত্মবিশ্বাস পাচ্ছে না এবং ক্রমাগতভাবে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের চাইতে অন্য দেশে বিনিয়োগের চিন্তা করছে। কারণ এত আনসার্টেনিটি আনপ্রেডিক্টেবিলিটিতে তারা ঠিক বুঝতে পারছে যে কীভাবে তারা এগুবে।’

‘ফোরজির লাইসেন্স ১৫ কোটি টাকা, সুযোগ থাকছে নতুন অপারেটরের’

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : নতুন একটি মোবাইল ফোন অপারেটর আসার সুযোগ রেখে ফোরজি নীতিমালা অনুমোদনের জন্য পাঠাতে চুড়ান্ত করেছে বিটিআরসি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নীতিমালায় ফোরজির লাইসেন্স ফি ১৫ কোটি টাকা বলা হয়েছে। এছাড়া প্রতি বছরের ফি’ও আছে। নীতিমালাটি কয়েক দিনের মধ্যে পাঠানো হবে সরকারের অনুমোদনের জন্যে। এর পরপরই শুরু হবে লাইসেন্স দেয়ার প্রক্রিয়া।

সূত্র বলছে, আগে লাইসেন্স পরে তরঙ্গের নিলাম। এর জন্য আরেকটি নীতিমালা করা হবে। আর সেটি তৈরির কাজ এখন চলছে। এতে তরঙ্গ নিরপেক্ষতা দেওয়া হবে। তবে ফি লাগবে।

তখন ২১০০ ব্যান্ডের তরঙ্গেই সেবা দেওয়া শুরু করতে পারবে অপারেটররা। সব মিলে ফোরজি সেবা আসতে কয়েক মাস লাগতে পারে।

4G-techshohor

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে ‘সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের কাজের অগ্রগতি ও পর্যালোচনা’ শীর্ষক সভায় দেশে যেকোনো মূল্যে ২০১৭ সালের মধ্যেই ফোরজি চালু করতে নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

তার প্রেক্ষিতেই বিটিআরসি এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে শুরু করে।

সে মাসেই বিটিআরসির চেয়ারম্যান কমিশনারসহ অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে এ সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়নে কাজ শুরু করতে নির্দেশনা দেন।

তখন সকল বিভাগকে তাদের প্রস্তাব দিতে বলা হয়।

তারপর নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে মার্চে একটি বৈঠকের মাধ্যমে নীতিমালার একটি কাঠামো চূড়ান্ত করা হয়। পরে সেটি বিটিআরসির শীর্ষ পর্যায়ে চূড়ান্ত করে সরকারের অনুমোদনের জন্যে পাঠানোর এই সিদ্ধান্ত।

বর্তমানে বিটিআরসির হাতে সব মিলে বিভিন্ন ব্যান্ডে প্রায় ৪০ মেগাহার্জ স্পেকট্রাম রয়েছে। গত বছর নিলামের কথা থাকলেও কারিগরি জটিলতায় তা হয়নি। এ বছর সেসব জটিলতা কাটিয়ে উঠেছে নিয়ন্ত্রণ সংস্থাটি।

ফিচার ফোনেই ফোরজি

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : স্মার্টফোনের মতো ফিচার ফোনে টাচস্ক্রিন বা জিপিএস প্রযুক্তি নাই। কিন্তু আছে অসাধারণ অপারেট করার সুবিধা। আছে অসামান্য গতি। যে কারণেই এই’বোবা’ ফোনগুলো বিশ্বের কোটি ব্যবহারকারীর কাছে এখনো জনপ্রিয়।

এবার সেই ‘বোবা’ ফোনে চতুর্থ প্রজন্মের নেটওয়ার্ক বা এলটিই সুবিধা যোগ করছে কোয়ালকম। গত মার্কিন চিপ প্রস্তুতকারক কোম্পানি কোয়ালকম ভারত, লাতিন আমেরিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজার লক্ষ্য করে বিশেষ ধরনের চিপ তৈরি করেছে।

২০৫ কোড নামের চিপটি ফিচার ফোনে ফোরজি নেটওয়ার্ক সুবিধা দেবে।

Featurephone-lte4g-Techshohor

চিপটি এখনই বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। তবে এই চিপ বিশিষ্ট ফোন পেতে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

কোয়ালকম জানিয়েছে, নতুন চিপ বিশিষ্ট ফোনটি তুলনামূলক সস্তাই হবে। বর্তমান টুজি ফিচার ফোন কিনতে গড়ে খরচ পড়ে ১৫ ডলার। সেখানে ফোরজি ফোনটির দাম পড়বে ৫০ ডলার মাত্র। তবে উৎপাদকরা চাইলে আরও কমেও বিক্রি করতে পারবেন ফোনটি।

অবশ্য স্মার্টফোনের জয়জয়কারে যে ফিচার ফোন এখনো তার আধিপত্য ধরে রেখেছে এটা প্রমাণিত। তাইতো ফোনের ব্যবসায় আবার ফিরে এসে ২০০০ সালের দিকে বিশ্ব মাতানো নোকিয়া ৩৩১০ মডেলটি আবার বাজারে ছেড়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

সিএনএস অবলম্বনে ইমরান হোসেন মিলন

ফোরজি নীতিমালা তৈরির কাজ শুরু করেছে বিটিআরসি

অনন্য ইসলাম, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : চতুর্থ প্রজন্মের টেলিযোগাযোগ সেবা দেওয়ার জন্য এ সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসি।

গত সপ্তাহে বিটিআরসির চেয়ারম্যান কমিশনারসহ অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে এ সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়নে কাজ শুরু করতে নির্দেশনা দেন।

আপাতত সকল বিভাগকে তাদের প্রস্তাব দিতে বলা হয়েছে। তারপর নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে ১২ মার্চ একটি বৈঠকের মাধ্যমে নীতিমালার একটি কাঠামো চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন বিটিআরসির চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ।

তারপর সেটি বিটিআরসির শীর্ষ পর্যায়ে চূড়ান্ত করে সরকারের অনুমোদনের জন্যে পাঠানো হবে।

4G-techshohor

তবে অল্প সময়ের মধ্যে লাইসেন্স দিয়ে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে দেশে ফোরজি ইন্টারনেট সুবিধা চালুর বিষয়ে বিটিআরসি বদ্ধ পরিকর বলেও জানান বিটিআরসির চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, আগে আগ্রহীদেরকে লাইসেন্স দিয়ে তারপর স্পেকট্রাম নিলামের বিষয়ে সিদ্ধান্ত মোটামুটি চূড়ান্ত। একই সঙ্গে লাইসেন্স প্রক্রিয়া শেষে স্পেকট্রাম নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ বিটিআরসিকে যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফোরজি চালুর নির্দেশনা দেন। তার প্রেক্ষিতেই বিটিআরসি এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে।

‘প্রথমে লাইসেন্স প্রক্রিয়াটা সম্পন্ন হলে স্পেকট্রামের বিষয়টি প্রযুক্তি নিরপেক্ষতার মাধ্যমে এমনিতেই সমাধান করা যাবে’ বলেন বিটিআরসির চেয়ারম্যান।

জানা গেছে, বিদ্যমান চারটি অপারেটরকে লাইসেন্স অফার করা হবে। একই সঙ্গে উন্মুক্ত থাকবে নতুন অগ্রহীদের জন্যেও। সে ক্ষেত্রে লাইসেন্স যারা পাবেন কেবল তারাই স্পেকট্রামের নিলামে বসার অনুমোদন পাবেন।

লাইসেন্স ফি থ্রিজির লাইসেন্স ফির মতই হবে বলে জানান বিটিআরসির চেয়ারম্যান। থ্রিজির সময়ে লাইসেন্স ফি ছিল ১০ কোটি টাকা। এবার তার চেয়ে খুব একটা বাড়বে না।

এদিকে বিটিআরসির কেউ কেউ সরকারি অপারেটর টেলিটককে থ্রিজির মতো করে ফোরজিতেও আগে সেবা চালু করার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাবনা দিলেও সেটি হয়তো শেষ পর্যন্ত গ্রহণ করা নাও হতে পারে।

বর্তমানে বিটিআরসির হাতে সব মিলে বিভিন্ন ব্যান্ডে প্রায় ৪০ মেগাহার্জ স্পেকট্রাম রয়েছে। গত বছর নিলামের কথা থাকলেও কারিগরি জটিলতায় তা হয়নি। এবছর সেসব জটিলতা কাটিয়ে ওঠা গেছে বলে জানান বিটিআরসি চেয়ারম্যান।

এর আগে বিটিআরসি ৭০০ ব্যান্ডে ফোরজি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও এখন তারা যেকোনো ব্যান্ডেই সেবাটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

সব মিলে আগামী ছয় হতে আট মাসের মধ্যে দেশের গ্রাহকরা ফোরজির সেবা ব্যবহার করতে পারবেন বলে আশা করছেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান।

ফোরজি সিম দিচ্ছে রবি, গ্রাহকদের শ্লেষ

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ফোরজি সিম দিচ্ছে রবি। অপারেটরটির বর্তমান সিম রিপ্লেসে এই ফোরজি এনাবেল সিম পাওয়া যাবে।

তবে ফোরজি সিম বিক্রির এই ঘোষণায় গ্রাহকদের ব্যাপক বিদ্রুপের মুখে পড়েছে রবি।

বুধবার রাতে ‘রবি আজিয়াটা লিমিটেড’ নামে রবির ভেরিফাইড ফেইসবুক পেইজে রিপ্লেসমেন্টে ফোরজি সিম দেয়ার ঘোষণার পর শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ১০ হাজার ২৭১টি মন্তব্য পড়েছে। অসংখ্য মন্তব্যে রবির নেটওয়ার্ক নিয়ে রয়েছে বিদ্রুপ। ওসব মন্তব্যের মূল কথা-‘রবির টুজি, থ্রিজি নেটওয়ার্কেই ঠিকমতো মেলে না আবার ফোরজি!’

রবির ফোরজি সিম নিয়ে ঘোষণায় বলা হয়, ‘এবার রবি ফোরজি এক্সপেরিয়েন্সের জন্য রেডি হয়ে যান!’

‘যদি সবার আগে চান ফোরজি সার্ভিস, তবে এখনই আপগ্রেড করে নিয়ে নিন ফোরজি এনাবেল রবি সিম। আপনার বর্তমান সিমটিকে রিপ্লেস করে ফোরজি এনাবেল সিম নিতে চাইলে চলে আসুন নিকটস্থ রবি সেবা কেন্দ্রে।’

‘সিম রিপ্লেসমেন্ট ফি প্রযোজ্য। ফোরজি নেটওয়ার্ক বাস্তবায়ন হলে আপনি আপনার রবি ফোরজি এনাবেল সিমে ফোরজি নেটওয়ার্ক পাবেন।’

robi-techshohor

অপারেটরটির কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করে জানা যায়, ফোরজি সিম রিপ্লেসমেন্টে ১০০ টাকা চার্জ দিতে হবে।

এদিকে দেশে ফোরজি চালুর অনুমোদনের আগেই ফোরজি সিম বিক্রি করায় কোনো বিধি-নিষেধ আছে কিনা বা নীতিমালা ভঙ্গ হয় কিনা সে বিষয়ে জানা যায়নি।

রবির ভেরিফাইড ফেইসবুক পেইজে রিপ্লেসমেন্টে ফোরজি সিম দেয়ার ঘোষণার স্ট্যাটাসের মন্তব্যে অসংখ্য বিদ্রুপের মধ্যে রোটন বেপারি লিখেছেন, আগে আপনাদের থ্রিজি নেট ঠিক করুন। বন্ধ সিমে এক জিবি নিলাম তাও রাত বারোটা থেকে দিন বারোটা তাও নেট স্পিড দেখলে কান্দন আসে..

সেখানে আশিক নোমান অনন্য লিখেছেন, থ্রিজিই পাইনা। এলটিই নিয়ে আসছে। আগে আপনার থ্রিজি কাভারেজ ঠিক করেন। বসুন্ধরা আর/এর মতো জায়গায়ও নেট স্লো।

ইমরান আহমেদ নিপু লিখেছেন, এখন পর্যন্ত ঠিকঠাক মতো থ্রিজি পাইলাম না আর ফোরটি। দু:খে হাসি পায়।

robi-fb-4g-techshohor

হাফিজ আমানুল হাসান বলেছেন, যেখানে থ্রিজির সার্ভিসই ঠিকমত দিতে পারেনা, থ্রিজির নেটওয়ার্কই ঠিকমত করতে পারেনি আজও পর্যন্ত, সেখানে ফোরজির গল্প করতে আসছে। লজ্জা থাকা উচিত রবির। আমি বগুড়ার শেরপুর সদর থানা থেকে মাত্র ছয় কিলোমিটার দূরে থাকি অথচ সেখানেই থ্রিজি পায়না। গ্রামীণ, বাংলালিংক পায়। রাগ করে রবি সিম খুলে রেখেছি।

কানাই সিং লিখেছেন, যে থ্রিজি দিচ্ছেন, তাতেই তো ভাল। ফোরজি দিলে হয়তো  লগইন করতে তিন দিনের জায়গায় চার দিন লাগবে এই আর কি! রবি, জ্বলে উঠুন এনালগ শক্তিতে…….

আতর আলী বলেছেন, ভাই রবিতে থ্রিজি আসার পর কোনো দিন ২০০কেবিপিএস পাই নাই। কয়েক মাস আগে যখন গণশুনানী হলো, আপনারা বললেন ফোনের সমস্যা। কিন্তু আমার ফোন হচ্ছে গ্যালাক্সি জে২(৬)। এই ফোনটা আপনাদের এক কর্মকর্তার কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে কিনেছি। সো আমার ফোন স্পিডের কোনো সমস্যা থাকার কথা না। আপনাদের ডাটা স্পিড এত কম যা বলতে কষ্ট হয়। বাংলালিংক এ দেড় এমবিপিএস পর্যন্ত পেয়েছি। আপনাদের স্লো স্পিডের কারণে আমার থ্রি জিবি ডাটা ব্যবহার করতে পারি নাই।

এমজি হাসান, টুজি কাভারেজ চাই! রণচণ্ডী, অবিলের বাজার,কিশোরগঞ্জ, নীলফামারী। দয়া করে টুজি দিন। আর আপনারা নিজেদের অফিস রুমে আটজি চালান। নো প্রবলেম।

সালমান সাঈদ লিখেছেন, থ্রিজি স্পিডটা ঠিকমতো দেন। রবি স্পিড এভারেজ অনেক স্লো দেন ওদার অপারেটর-জিপি,এয়ারটেল,টেলিটক।

মাহমুদ পলাশ লিখেছেন, ভাই আগে থ্রিজি ভালমতো দেন, তার বছর দশেক পর না হয় ফোরজি চিন্তাভাবনা করেন।

মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন বলেছেন, থ্রিজি নেটই অনেক বেশি স্লো। লোড হতে এক দিন লাগে, আর ফোরজি ? ইম্পসিবল..

মনির উদ্দিন রিটন,  টুজি নেটওয়ার্কও ঠিক মত পাওয়া যায় না, আবার ফোরজি নেটওয়ার্ক এর লোভ দেখানো হচ্ছে। যত্তসব ধোঁকাবাজি।

আল আমিন সোবহান, আপনাদের থ্রি দশমিক ফাইভ জি স্পিড নাই আর বলেন ফোরজি কামিং? সো ফানি..

আরেফিন সাব্বির, থ্রিজি যেখানে ভালমতো পাওয়া যায় না সেখানে ফোরজি! যত্তসব পাগলের প্রলাপ।

আল-আমীন দেওয়ান

দুই সপ্তাহের মধ্যে ফোরজির লাইসেন্স

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : আগামী কয়েক মাসের মধ্যে দেশে ফোরজি ইন্টারনেট চালু হবে। এ জন্য দুই সপ্তাহের মধ্যে চতুর্থ প্রজন্মের উচ্চগতির এ সেবার লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করবে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

অল্প সময়ের মধ্যে লাইসেন্স প্রক্রিয়া শুরু হবে। এ প্রক্রিয়া শেষে স্পেকট্রাম নিরপেক্ষতা (নেট নিউট্রালিটি) নিশ্চিত করা হবে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন কমিশনের চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় গত বুধবার এক বৈঠকে বিটিআরসিকে যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফোরজি চালুর নির্দেশনা দেন। এর প্রেক্ষিতে কমিশন পরবর্তী প্রজন্মের এ সেবা দেওয়ার বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে।

4G-techshohor

বিটিআরসির হাতে এখন সব মিলে বিভিন্ন ব্যান্ডে প্রায় ৪০ মেগাহার্ডজ স্পেকট্রাম রয়েছে। গত বছর নিলামের কথা থাকলেও কারিগরি জটিলতায় তা হয়নি। চলতি বছর সেসব জটিলতা কাটিয়ে ওঠা গেছে বলে জানান বিটিআরসি চেয়ারম্যান।

এ দিকে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ভালো সেবা দিতে তাদের বাড়তি স্পেকট্রাম দরকার। তবে এখন স্পেকট্রাম ব্যবহারের ক্ষেত্রে নেট নিউট্রালিটি পেয়ে গেলেই তারা ফোরজি চালু করতে পারবেন।

একটি অপারেটরের শীর্ষ এক কর্মকর্তা বলেন, ফোরজি সেবা দেওয়ার মতো প্রস্তুতি তাদের রয়েছে। তবে এ জন্য প্রয়োজন স্পেকট্রাম ব্যবহারের নেট নিউট্রালিটি।

এ প্রসঙ্গে বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেনেট নিউট্রালিটির বিষয়টি এমনিতেই সমাধান করা যাবে।

সূত্র জানায়, এবার লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া আগের চেয়ে একটু ভিন্ন হবে। নতুন পদ্ধতিতে প্রথমে লাইসেন্স দেওয়া হবে। এর পর স্পেকট্রামের নিলাম হবে। এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান চারটি অপারেটরকে লাইসেন্স অফার করা হবে। একই সঙ্গে উন্মুক্ত থাকবে নতুন অাগ্রহীদের জন্যও।

এ পদ্ধতিতে লাইসেন্স পাওয়া অপারেটরই শুধু স্পেকট্রামের নিলামে অংশ নেওয়ার অনুমোদন পাবে।

এর আগে বিটিআরসি ৭০০ ব্যান্ডে ফোরজি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও এখন তারা যে কোনো ব্য্যান্ডে এ সেবা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এ বিষয়ে কমিশন বৈঠক করে সরকারের কাছে অনুমোদনের জন্য সুপারিশ পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।

সব মিলে আগামী ছয় থেকে আট মাসের মধ্যে দেশের গ্রাহকরা ফোরজি সেবা ব্যবহার করতে পারবেন বলে আশা করছেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান। এর আগে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকেও ফোরজি চালুর প্রক্রিয়া দ্রুততর করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

দেশে ২০১২ এপ্রিলে টেলিটক ও ২০১৩ সালের শেষ দিকে বেসরকারি অপারেটরগুলো তৃতীয় প্রজন্মের থ্রিজি সেবা দেওয়া শুরু করে। এখন পর্যন্ত তিন কোটির বেশি গ্রাহক উ্চ্চ গতির ডেটা ব্যবহারের জন্য থ্রিজি সংযোগ নিয়েছেন। যদিও গতি ও দাম নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে বেশ ক্ষোভ ও হতাশা রয়েছে।