গেইমিংয়ের সঙ্গে প্রোগ্রামিং শেখাবে ফিউজ কোড

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর :  নিনটেন্ডো সুইচ গেইমিং কনসোলে নতুন একটি গেইম আসতে যাচ্ছে। যা দিয়ে একইসঙ্গে গেইমিং ও কোডিংয়ের কাজ করা যাবে। তবে ফিউজ কোড স্টুডিওকে ঠিক গেইম বলা যাবে না।

যেভাবে এটি ডিজাইন করা হয়েছে তাতে বাচ্চারাও প্রোগ্রামিংয়ের ভাষা শিখে টুডি ও থ্রিডি গেইম তৈরি করতে পারবে। এর জন্য পূর্বের কোনো অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হবে না।

Nintendo-Switch-coding-techshohor

নিনটেন্ডোর মতে, সি প্লাস  প্লাস ও পাইথন প্রোগ্রামিং ভাষার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবে ফিউজ। এতে অসংখ্য গ্রাফিক্স ও মিউজিকের ভান্ডার দেওয়া হয়েছে যা দিয়ে যেকোনো প্রোগ্রামিংয়ের কাজ করা যাবে। অ্যাপটি কোডিংয়ের জন্য ইউএসবি কিবোর্ড ব্যবহার করা যাবে।

তবে খেলার ছলে প্রোগ্রামিং শিখতে হলে অপেক্ষা করতে হবে আরও এক বছর। ২০১৮ সালের মধ্যভাগে অ্যাপটি উন্মুক্ত করা হবে।

দ্য নেক্সট ওয়েব অবলম্বনে আনিকা জীনাত

 

মেলায় নতুন বই সহজ ভাষায় পাইথন ৩

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : প্রোগ্রামিং একটি শৈল্পিক ব্যাপার। তবে সঠিক ধারণার অভাবে আমাদের দেশে কম্পিউটারের বিশেষ এ ভাষাকে কঠিন ও জটিল মনে করেন অনেকেই। কাঠখোট্টা একাডেমিক জীবন ও সিনট্যাক্স পড়ে নতুনদের অনেকেই প্রোগ্রামিং থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন।

এমন ভাবনা থেকে নতুনদের জন্য সহজে প্রোগ্রামিং শেখার একটি বই প্রকাশ করা হয়েছে গ্রন্থমেলায়। এবারের মেলায় আসা এ বইয়ের নাম ‘সহজ ভাষায় পাইথন ৩’ ।

আদর্শ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত এ বই লিখেছেন মাকসুদুর রহমান মাটিন।

python-techshohor

বইটি তিন ভাগে বিভক্ত- বিগিনার, ইন্টারমিডিয়েট ও অ্যাডভান্সড। পাইথনের যাবতীয় বিগিনার ও ইন্টারমিডিয়েট লেভেলের টপিক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করে সহজ ভাষায় বোঝানো হয়েছে।

অ্যাডভান্সড লেভেলের কয়েকটি বিষয়ে শুধু ধারণা দেওয়া হয়েছে। বইটি পড়ার পর কি করতে হবে সে বিষয়েও বিস্তারিত গাইডলাইন রয়েছে। এ দিক থেকে বইটি স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ছাত্র-ছাত্রীর জন্যই বেশ উপযোগী।

পাইথন-৩ (পাইথনের সর্বশেষ মেজর ভার্সন) নিয়ে লিখিত এ বইয়ে যাবতীয় খুঁটিনাটি বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। প্রতিটি বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে পর্যাপ্ত উদাহরণ।

বইটিকে এমনভাবে সাজানো হয়েছে যেন যে কেউ বইটি দিয়েই তার জীবনের প্রথম প্রোগ্রামিং শেখা শুরু করতে পারে।

মাকসুদুর রহমান মাটিন টেকশহর ডটকমকে বলেন, দেশে সি, সি++ বা জাভার মতো পাইথন এখনও জনপ্রিয়তা পায়নি। তবে এ ভাষা শিখতে চায় এমন আগ্রহীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। তারা পাইথন শেখার জন্য ভালো বাংলা বই নেই বলে হতাশ হন। তাদের জন্যই সহজ ভাষায় বইটি লেখা হয়েছে।

বইমেলায় আদর্শ প্রকাশনীর ৪৯৬-৪৯৭ নম্বর স্টলে পাওয়া যাচ্ছে। নীলক্ষেতের মানিক লাইব্রেরি ও হক লাইব্রেরিতেও বইটি পাওয়া যাবে। চাইলে ঘরে বসে রকমারি ডটকমের  এ ঠিকানা থেকেও কেনা যাবে।

কোডব্লকসে এরর সমস্যার সমাধান

তুসিন আহমেদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সি প্রোগ্রামিংয়ের জন্য চমৎকার একটি আইডিই ও কম্পাইলার হলো কোডব্লকস। নতুন প্রোগ্রাসিং সি ভাষা যারা শিখছেন তাদের অনেক সময় কোডব্লকস নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়। দেখা যায়, প্রোগ্রামের সব কোড ঠিক আছে কিন্তু কোডব্লকস প্রোগ্রাম রান হচ্ছে না।

এ ছাড়া কোডব্লকস চালু করার সময় ‘codeblocks environment error cannot find compiler’ এমন এরর বার্তা দেখাচ্ছে। নতুনরা এ সমস্যায় হতাশ হয়ে পড়েন। তাদের মনে প্রশ্ন জাগে- সব কোড ঠিক থাকার পরও কেন এরর দেখাচ্ছে।

তবে কিছু কৌশল জানা থাকলে মাত্র কয়েক ক্লিকেই এ সমস্যার সমাধান করে নেওয়া সম্ভব। চলুন দেখে নেয়া যাক কিভাবে কোডব্লকস থেকে এররটি দূর করা যায়।

codeblock-techshohor (1)

অনেক সময় ব্যবহারকারীরা কম্পাইলার বাদ দিয়ে শুধু কোডব্লকসের আইডি ডাউনলোড করেন। তখন এ সমস্যা দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান কোডব্লকসের সফটওয়্যারটি আনইন্সটল করে এ ঠিকানায় গিয়ে ‌’Codeblocks-16.01mingw_fortran-setup.exe’- ডাউনলোড করে ইন্সটল করতে হবে।

অনেক সময় কম্পাইলার ও আইডিসহ কোডব্লকস ইন্সটল থাকলেও একই এরর দেখায়। এমন ক্ষেত্রে কোডব্লকসটি চালু করে ‘setting’-এ যেতে হবে।

এরপর সেখানে থেকে ‘compiler’-এ ক্লিক করলে নতুন একটি সেটিংস পেইজ চালু হবে। সেখান থেকে ‘selected compiler’ অপশনটিতে ‘GUN GCC Compiler’ নির্বাচন করে ‘set a deafult’-এ ক্লিক করে ওএ বাটনে ক্লিক করতে হবে।

তাহলে আশা করা যায় এররটি আর দেখাবে না।

codeblock-techshohor (2)

উপরের এ দুটি কাজ করার পরও যদি এররটি থেকে যায় তাহলে ‘Compiler সেটিংস পেইজ থেকে ‘toolchain executables’ অপশনটিতে ক্লিক করতে হবে।

এরপর ‘compiler’s installation directory’ অপশন গিয়ে সি ড্রাইভ থেকে কোডব্লকসের ইন্সটল ফাইল থেকে ‘mingw’ ফোল্ডারটি দেখিয়ে দিয়ে ওকে বাটনে ক্লিক করতে হবে।

আরও পড়ুন 

আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রোগ্রামিংয়ে সেরা তিন

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ১৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে সিটি ইউনিভার্সিটির বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের উদ্যোগে একটি প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা করেছে।

বৃহস্পতিবার সাভারে বিশ্ববিদ্যালয়টির স্থায়ী ক্যাম্পাসে ‘সিএসই ফেস্টিভ্যাল : আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রোগ্রামিং’ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।

City-University-programming

প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজির IUT_O(1), ইউনিভার্সিটি অফ এশিয়া প্যাসিফিকের UAP_random_shuffle এবং ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির EWU_Avengers.

দেশের ৪০টি সরকারী ও বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০টি দলে ১২০ জন শিক্ষার্থী প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক শিপলু হাওলাদারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ সদস্যের একটি বিচারক দল দায়িত্ব পালন করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বুয়েটের ইলেকট্রিকাল ও ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ডিন ও আইটি বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ড. মো. কায়কোবাদ। সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এনআরএম বোরহান উদ্দিন, বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ; ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব পার্থপ্রতিম দেবসহ আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

এই ঠিকানায় গিয়ে প্রতিযোগিতার ফলাফল জানা যাবে।

ইমরান হোসেন মিলন

প্রোগ্রামিং শিখলো দিনাজপুরের মেয়েরা

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : প্রোগ্রামিং মানুষকে শেখায় কিভাবে চিন্তা করতে হয়।। কিভাবে সঠিক চিন্তার মাধ্যমে যেকোনো সমস্যার সঠিক সমাধান করতে হয়। প্রোগ্রামিং শেখার মাধ্যমে আমি আমার চিন্তার পরিসরকে আরও বাড়াতে পারবো। ভবিষ্যতে দেশ ও জগতের জন্য কল্যাণকর কিছু করতে চাই বলেই আমি প্রোগ্রামিং শিখছি। এই ক্যাম্পের মাধ্যমে অনেক নতুন কিছু শিখতে পেরেছি। দিনাজপুর হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মাধুর্য দাস ঐশী এভাবেই প্রোগ্রামিং ক্যাম্পে আসার কারণ ব্যাখ্যা করছেন।

অন্যদিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয় পড়ুয়া আরিবা জাহিন পুণ্য মনে করেন, ক্যাম্প থেকে যা শিখেছে তা যদি আয়ত্ত করতে পারে তাহলে প্রোগ্রামিংয়ে সে আরও এগিয়ে যেতে পারবে।

দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় মেয়েদের জন্য আয়োজিত ‘গ্রেস হপার গার্লস ক্যাম্প ফর প্রোগ্রামিং’ প্রতিযোগিতার তিন দিনের ক্যাম্পের সমাপনী দিন বৃহস্পতিবার এভাবেই নিজেদের অভিব্যক্তি প্রকাশ করছিলেন অংশগ্রহণকারীরা।

dinajpur-programing-Techshohor
হাবিপ্রবির নেপালী শিক্ষার্থী জুলি কর্ন ক্যাম্পের অভিজ্ঞতাকে অসাধারণ মন্তব্য করে জানান, এর মাধ্যমে তার প্রোগ্রামার হওয়ার আগ্রহ অনেকগুণ বেড়ে গেছে।

তিনদিনব্যাপী প্রোগ্রামিং ক্যাম্পের শেষ দিনে ক্যাম্পে অনুষ্ঠিত প্রোগ্রামিং প্রতিযগিতায় স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগ থেকে প্রথম স্থান অর্জনকারী আরিবা জাহিন পূর্ণ এবং সালমা খাতুনের হাতে পুরস্কার তুলে দেন দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম।

তিনি বলেন, মেয়েদের জন্য প্রোগ্রামিংয়ের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব অনেক। তাই সকল প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে তাদের এগিয়ে যেতে হবে। এ সময় তিনি দিনাজপুরে আইটি পার্ক করার পরিকল্পনার কথা জানান।

সমাপনী পর্বে আরও উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর আইটি সলিউশনের প্রধান নির্বাহী নাহিদা পারভিন। এর আগে অংশগ্রহণকারীদের ভিডিও কনফারেন্সে শুভেচ্ছা জানান বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওযার্কের (বিডিওএসএন) সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান।

প্রোগ্রামিং ক্যাম্পে প্রয়োজনীয় ডাইনামিক প্রোগ্রামিং, ডেটা স্ট্রাকচার, গ্রাফ, নম্বর থিউরি, জ্যামিতি, এডহক প্রোগ্রামিং ইত্যাদি বিষয় নিয়ে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

ক্যাম্পে দিনাজপুরের বিভিন্ন বিদ্যালয়, পলিটেকনিক ও হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩১ জন মেয়ে অংশগ্রহণ করে।

বিডিওএসএন, দিনাজপুর জেলা প্রশাসন ও দিনাজপুর আইটি সলিউশন যৌথভাবে খ্যাম্পটি আয়োজন করেছিল।

ইমরান হোসেন মিলন

ফ্রি পাইথন শিখুন অ্যাপ থেকে

তুসিন আহমেদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : পাইথন জনপ্রিয় একটি হাই লেভেল প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ। এটি ডেক্সটপভিত্তিক সফটওয়্যার, ওয়েব, গেমস ইত্যাদি তৈরিতে কাজে লাগে। এ ভাষার কোডিং সাইজ ছোট, কম কোড লিখে বেশি কাজ করা যায় । ফলে ডিবাগিং ও কোড মেইনটেনেন্স অনেক সহজ হয়।

অনেকেই পাইথন ডেভেলপার হতে চান। তাদের অনেকেই এ ল্যাঙ্গুয়েজ শিখতে গিয়ে প্রথম দিকে নানা সমস্যার মুখে পড়েন। নামকাওয়াস্তের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে গিয়ে অর্থের অপচয়ও করেন। তবে হাতের কাছে ভালো কেন্দ্র না থাকলেও হতাশ হওয়ার কিছু নেই।

আপনার স্মার্টফোনে একটি অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে শিখে ফেলা যাবে এ ল্যাঙ্গুয়েজ। তেমনি একটি অ্যাপ্লিকেশন হলো ‘লার্ন পাইথন’।

Python-First-techshohor

এক নজরে অ্যাপ্লিকেশনটির ফিচারগুলো
১. এতে বেসিক থেকে শুরু করে পাইথন প্রোগ্রামিং ভাষার বিস্তারিত টিউটোরিয়াল রয়েছে।

২. অনেক শিক্ষার্থী পাইথনের টেক্সট টিউটোরিয়াল পড়ে ঠিকভাবে বুঝতে পারেন না। তাদের সহজে বোঝার জন্য অ্যাপটিতে রয়েছে ভিডিও টিউটোরিয়ালের সুবিধা।

৩. অ্যাপটির মাধ্যমে কোনো শিক্ষার্থী পাইথন সম্পর্কে কতটুকু শিখেছেন তা পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করে দেখার সুবিধা রয়েছে।

৪. পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর অনুযায়ী অন্য শিক্ষার্থীদেরও তুলনামূলক স্কোরও দেখা যাবে।

৫. এটি অফলাইনেও কাজ করবে। তবে ভিডিও টিউটোরিয়ালসহ কিছু ফিচার ব্যবহার করতে হলে অবশ্যই ইন্টারনেট সংযোগ লাগবে।

অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা বিনামূল্যে এ ঠিকানা থেকে অ্যাপ্লিকেশনটি ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে পারবেন।

আরও পড়ুন

 

প্রোগ্রামিংয়ের লজিক শেখাবে অ্যাপ

তুসিন আহমেদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে এখন কোডিংয়ের খেলা বেশ জমে উঠেছে। নতুন নতুন কোডের মাধ্যমে উদ্ভাবন হচ্ছে দারুণ কিছু। এ কারণে প্রোগ্রামিংয়ের এ ভাষার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে অনেকের।

হাল আমলের জনপ্রিয় বিষয় অ্যাপ বানানো হয় শুধু কম্পিউটারে কোডিং করেই। তবে এ জন্য জানতে হবে প্রোগ্রামিং, যেটির রয়েছে নিজস্ব কিছু ভাষা। এ জন্য অনলাইনে রয়েছে প্রচুর রিসোর্স।

এবার এ রিসোর্সের তালিকায় যুক্ত হয়েছে একটি অ্যাপ্লিকেশন। এ অ্যাপ ব্যবহার করে স্মার্টফোনেও শেখা যাবে প্রোগ্রামিং। অ্যাপটির নাম হলে এনকোড : লার্ন টু কোড।

lear to code-techshohor

এক নজরে অ্যাপ্লিকেশনটির ফিচারগুলো
১. অ্যাপ্লিকেশনটি ব্যবহার করে প্রোগ্রামিং শুরু করতে চান এমন শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন লজিক সম্পর্কে ধারণা পাবেন।

২. কোডিংয়ের ক্ষেত্রে লজিক বেশ গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। তাই স্ট্রিং, ভ্যারিবল, ইফ ইত্যাদি বিষয়গুলো সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

৩. এতে জাভা স্ক্রিপ্ট ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে।

৪. অ্যাপ্লিকেশনটির সম্পূর্ণ অফলাইনে কাজ করবে। ফলে ডাউনলোডের পর ইন্টারনেট ব্যবহার করতে হবে না।

বিনামূল্যে অ্যাপ্লিকেশনটি এই ঠিকানা থেকে ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে পারবেন অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা।

আরও পড়ুন

 

জাতীয় হাইস্কুল প্রোগ্রামিংয়ে চ্যাম্পিয়ন হাবিব ও জাওয়াদ

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : কম্পিউটারের কি-বোর্ডে খটখট আওয়াজ। কখনো তারে লাগানো ইঁদুরটা দিয়ে কাজ, আবার কখনো সেসব কিছু রেখে কিছুটা ভাবনা। তারপর আবার সেই খটখট খটখট শব্দে মনোযোগ দেওয়া কম্পিউটারের পর্দার দিকে।

উদ্দেশ্য প্রোগ্রামিং সমস্যার সমাধান। সেই সমাধান করেই দ্বিতীয় জাতীয় হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে জুনিয়র ক্যাটাগরিতে রুহান হাবিব এবং সিনিয়র ক্যাটাগরিতে আসিফ জাওয়াদ।

তারা পুরস্কার হিসেবে পেয়েছে ২৫ হাজার টাকার চেক, ট্রফি এবং সার্টিফিকেট। এছাড়াও মোট ৪০ জনকে জুনিয়র ও সেকেন্ডারি ক্যাটাগরিতে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। যাদের পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয়েছে মেডেল।

NHPC-FINAL-techshohor
প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা ছাড়াও অনুষ্ঠিত হয় কুইজ প্রতিযোগিতায়। সেখানে জুনিয়র, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক তিনটি ক্যাটাগরিতে যথাক্রমে রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের ফাহিম আবরার, পাবনা জিলা স্কুলের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার রিজভি এবং গভর্নমেন্ট সায়েন্স কলেজের শিক্ষার্থী সেজান আহমেদ।

কুইজ প্রতিযোগিতার প্রত্যেক বিজয়ী ১৫ হাজার টাকার চেক, মেডেল এবং সার্টিফিকেট। এছাড়াও কুইজ প্রতিযোগিতায় মোট অংশ নেওয়া ৯৬৮ জনের মধ্যে ৬০ জনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। যাদের প্রত্যেককে মেডেল দেওয়া হয়।
জাতীয় হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত আসরে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

তিনি বলেন, আমরা চাই দেশের সব জেলাতে এমনকি উপজেলা, ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে। সামনের বছর থেকে এই প্রতিযোগিতার সঙ্গে যুক্ত হবে প্রাইমারি স্কুলগুলো।

NHPC_FINAL_Techshohor
এসময় তিনি নিজের ই-মেইল আইডি দিয়ে যেসব এলাকার স্কুলে কম্পিউটার ল্যাব নেই সেসব স্কুলের শিক্ষার্থীদের সমস্যার কথা জানিয়ে প্রধান শিক্ষকের মারফত মন্ত্রীর কাছে মেইল করতে বলেন। পরে সেই মেইলের ভিত্তিতে আইসিটি বিভাগ স্কুলগুলোতে ল্যাব স্থাপনের ব্যবস্থা করবে।

প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় জুনিয়র ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন রুহান হাবিব বলেন, সবাইতো ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হয়ে চায়। কিন্তু আমি প্রোগ্রামার হতে চাই। অবশ্য আজকের প্রতিযোগিতায় প্রশ্নগুলো ছিলো খুব কঠিন। তবে আমি খুব সহজেই সেগুলো সমাধান করতে পেরেছি।

চূড়ান্ত আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন বুয়েটের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মাদ কায়কোবাদ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের সহ-সভাপতি লাফিফা জামাল, সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান, রবি আজিয়াটা লিমিটেডের চিফ করপোরেট পিপল অ্যাফেয়ার্স মতিউল ইসলাম নওশাদ, তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার, আইসিটি বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে এই আয়োজনের আওতায় ৬৪ জেলায় ৭০০ হাইস্কুলে প্রচারণামূলক অ্যাকটিভেশন কার্যক্রমে দুই লক্ষাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। অন্যদিকে, ১৬টি জেলায় আঞ্চলিক প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা সম্পন্ন করা হয়, যেখানে প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এ ছাড়া মেন্টরস ট্রেনিং, অনলাইন মেন্টরশিপ ও ফোরাম আলোচনা পরিচালনা করা হয়।

জাতীয় হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার আয়োজনে রয়েছে আইসিটি ডিভিশন, প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছে রবি আজিয়াটা লিমিটেড, বাস্তবায়ন সহযোগিতায় বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক, একাডেমিক সহযোগিতায় কোড মার্শাল, পার্টনার হিসেবে আছে কিশোর আলো, এটিএন নিউজ, বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরাম (বিআইজেএফ)।

ইমরান হোসেন মিলন

আরও পড়ুন: 

ছোট্ট ইসাবেলের ‘গার্লস উইল কোড’ কমিউনিটি

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ১০ বছর বয়সে আপনি নিজেকে কীভাবে ব্যস্ত রাখতেন? আচ্ছা, আপনার কথা বাদ, বেশির ভাগ শিশুই এই সময়টা পার করে পুতুল বা গাড়ি খেলে।

এক্ষেত্রে ফিলিপাইনের ইসাবেল সি ব্যতিক্রম। ১০ বছর বয়স থেকে সে নিজে নিজেই কোডিং শেখা শুরু করে।

‘আমি ইসাবেল সি। আমার বয়স ১২ বছর। আমি কোডিং করতে ভালোবাসি।’ ফিলিপাইনের রিজেল অঞ্চলের অ্যান্টিপোলোর একটি স্কুলে নিজের পরিচয় এভাবেই দিয়েছে ইসাবেল। অনেক ছোট বয়সেই ইসাবেল প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ শেখাকে নেশায় পরিণত করেছে।

isabel-sieh

শুধু কোডিং শেখা নয়, ইসাবেল আগ্রহী শিশু-কিশোরীদের নিয়ে ‘গার্লস উইল কোড’ নামের একটি কমিউনিটিও প্রতিষ্ঠা করেছে। এই কমিউনিটি ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি প্রজেক্ট তৈরি করেছে। যা বিভিন্ন স্থানে প্রদর্শিত ও প্রশংসিত হয়েছে।

‘গার্লস উইল কোড’ নামের এই প্রতিষ্ঠানটি আশা করছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বিশেষ করে স্কুলগুলো একাডেমিক পড়াশোনার বাইরে শিক্ষার্থীদের প্রোগ্রামিং শেখাবে।

নিজের কোডিং শেখা শুরু সম্পর্কে ইসাবেল জানায়, যখন আমার বয়স ১০ বছর ছিল, তখন আমার শিক্ষক প্রোগ্রামিংয়ের প্রতি আমার আগ্রহ লক্ষ করেন। এরপর তিনি আমাকে পরামর্শ দেন কোডিং শেখার। কোড একাডেমি নামের একটি ওয়েবসাইটও তিনি আমাকে দেখিয়ে দেন।

ইসাবেল ১০ বছর বয়সে অনলাইনে হাইপার মার্কআপ ল্যাঙ্গুয়েজ এবং জাভাস্ক্রিপ্ট শেখা শুরু করে। এসব শেখা শেষ করার পরও তার মনে হচ্ছিল সে কিছুই শেখেনি। বিষয়টি বুঝতে পেরে ইসাবেলের মা রোন্না তাকে কোডিং শেখানোর জন্য প্রশিক্ষক নিযুক্ত করেন। এরপর দ্রুতই সে কোডিংয়ের বিষয়গুলো শিখে ফেলে।

কিছুদিন পর ইসাবেলের মাথায় আসে, ছোটরাই তো নিজেদের খেলার জন্য কম্পিউটার গেইমসহ বিভিন্ন প্রোগ্রাম তৈরি করতে পারে। এই ভাবনা থেকে চালু হয় ‘গার্লস উইল কোড’ কমিউনিটি। তবে এজন্য সে শুধুই মেয়েদেরকে বেছে নেয় সে।

কোডিং নিয়ে ইসাবেলের প্রত্যাশা সম্পর্কে নায়ন ২ ইলামেন্টরি স্কুলের আইসিটি কোঅর্ডিনেটর রোনাল্ড মেলিকডেম বলেন, স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য কোডিং নতুন বিষয়। সচরাচর শিক্ষার্থীদের বেসিক মাইক্রোসফটসহ কয়েকটি প্রোগ্রাম শেখানো হয়।

স্কুলের অধ্যক্ষ ফেলি অ্যামিলোসো বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য কোডিং অনেক গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শিশু শিক্ষার্থীদের কোডিং শেখানো গেলে তারা অনেক ভালো করবে।

ছোট্ট ইসাবেলের ভাবনা নজর কেড়েছে বড়দেরও। তার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এই দুই শিক্ষকের কথায়।

র‌্যাপলার ডটকম অবলম্বনে শামীম রাহমান

ইউল্যাবে বেসিক কম্পিউটার শিক্ষা কর্মশালা অনুষ্ঠিত

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব) এ অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বেসিক কম্পিউটার স্কিলস অ্যান্ড ট্রাবলশ্যুটিং’ নিয়ে কর্মশালা।

ইউল্যাব শিক্ষার্থীদের জন্য ওই কর্মশালার আয়োজন করে ইউল্যাব কম্পিউটার প্রোগ্রামিং ক্লাব।

চার ঘণ্টাব্যাপী কর্মশালায় কম্পিউটার সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার, ইন্টারনেটের ব্যবহার, এমএস অফিসসহ বিভিন্ন সফটওয়্যারের ব্যবহার, প্রয়োগ ও কম্পিউটারের বিভিন্ন ট্রাবলশ্যুট টেকনিকের উপর ধারণা দেওয়া হয়।

ULAB
কর্মশালায় বিভিন্ন বিভাগের প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারীদের সনদপত্র প্রদান করা হয়।

ইমরান হোসেন মিলন

বছরজুড়ে প্রোগ্রামিং : বিডিওএসএনের প্রথম কর্মশালা

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : কম্পিউটার বিজ্ঞান শিক্ষা সপ্তাহ আয়োজন উপলক্ষে গত ডিসেম্বরে দেশে প্রোগ্রামিং শিক্ষা নিয়ে নানা ধরনের কর্মসূচী ঘোষণা করেছিল বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন)। এর মধ্যে একটি ছিল বছর জুড়ে প্রোগ্রামিং নিয়ে নানা আয়োজন।

সেই ধারাবাহিকতায় রোববার শুরু হয়েছে ‘বছর জুড়ে প্রোগ্রামিং কর্মশালা-১’। রাজধানীর ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ) সোবহানবাগ ক্যাম্পাসের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আয়োজকরা কর্মশালাটিকে একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ের কর্মশালা বলছেন। যেখানে কিছুটা প্রোগ্রামিং জানা কিন্তু প্রোগ্রামিং কনটেস্ট সম্পর্কে সম্যক ধারণা নেই এমন শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ের এই কর্মশালাটি পর্যায়ক্রমে দেশের নানা জায়গায় আয়োজন করা হবে।

BDOSN Programming
কর্মশালা পরিচালনা করেন তারিফ এজাজ ট্রেইনার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির প্রোগ্রমিং টিম এবং আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াড দলের প্রশিক্ষক লাবিব রশীদ।

একেবারে ছোটদের প্রোগ্রামিংয়ে আগ্রহী করে তোলার জন্য মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অর্থাৎ ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত ৮০ শতাংশ আসন বরাদ্দ ছিল। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল ২০ শতাংশ আসন।

রোববারের কর্মশালায় প্রাথমিকভাবে নাম্বার ও থিওরি, ডাইনামিক প্রোগ্রামিং ও বাইনারি এবং ল্যাব ওয়ার্ক করানো হয়েছে।

বিডিওএসএনের কোষাধ্যক্ষ প্রমি নাহিদ বলেন, মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রোগ্রামিং শিক্ষাকে আগ্রহী করে তুলতে পারলে আমরা খুব অল্প সময়ের মধ্যে দেশে তরুণ প্রোগ্রামার পাবো। প্রথম কর্মশালাতে যে সাড়া আমরা পেয়েছি ভবিষ্যতে আরো ভালো সাড়া পাবো আমরা।

কর্মশালা দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলেছে।

ইমরান হোসেন মিলন