ইন্টারনেট যন্ত্রাংশে ভ্যাট-ট্যাক্স প্রত্যাহারের দাবি আইএসপিএবি’র

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ বা আইএসপিএবি আসন্ন বাজেটে ইন্টারনেট যন্ত্রাংশের উপর থেকে ভ্যাট-ট্যাক্স প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রাক বাজেট আলোচনায় তাদের করা প্রস্তাবগুলো বিবেচনায় নিয়ে সেগুলো বাস্তবায়ন করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

আইএসপিএবি পাঁচটি দাবি সংম্বলিত বাজেট প্রস্তাব করেছে। তাদের দাবিতে বলেছে, ইনফর্মেশন টেকনোলজি এনাবল সার্ভিসেস (আইটিইএস) এর বর্তমান সংজ্ঞায় বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো বাদ পড়ায় এ সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবার বিপরীতে প্রযোজ্য ভ্যাট বা অন্যান্য বিষয়াদি সম্পর্কে তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর সেবা কোম্পানিগুলোকে আইটিইএস এর সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।

NBR_ISPAB_PREBUDGET_TECHSHOHOR

তাই সংগঠনটি দাবি জানিয়েছে এই আইটিইএস এর বর্তমান সংজ্ঞায় বাদপড়া বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করতে।

বর্তমানে আইএসপিএবি প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎসে কর কর্তনের যে বিধান রাখা হয়েছে তা প্রত্যাহার এবং এনবিআর থেকে প্রত্যয়নপত্র গ্রহণের বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

আসন্ন বাজেটে আইএসপিএবি প্রতিষ্ঠানগুলোর অফিস বা বাড়িভাড়ার উপর যে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আছে তা প্রত্যাহারেরও দাবি করেছে আইএসপিএবি।

ইন্টারনেট ইকুইপমেন্ট যেমন, মডেম, ইথারনেট ইন্টারফেইস কার্ড, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সুইচ, হাব, রাউটার, সার্ভার, ব্যাটারিসহ অন্যান্য পণ্যে বর্তমানে ২২.১৬ শতাংশ ভ্যাট ও শুল্ক রয়েছে তা প্রত্যাহার করে নেওয়ার দাবি জানায় সংগঠনটি।

এছাড়াও সরকার যে ৩৫ শতাংশ কর্পোরেট ট্যাক্স রয়েছে সেটি সামনের বাজেটে আইএসপিএবি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কমিয়ে ১৮ শতাংশ করার দাবি জানিয়ে বাজেট প্রস্তাব করেছে।

বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে প্রাক-বাজেট আলোচনায় আইএসপিএবির প্রতিনিধিরা এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমানের কাছে এই বাজেট প্রস্তাব জমা দেন।

প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিরা বলেন, ইন্টারনেটকে সবার জন্য সহজলভ্য করতে ইন্টারনেট সম্পর্কিত পণ্যে ভ্যাট-ট্যাক্স প্রত্যাহার এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে কমানোর বিকল্প নেই।

তাদের দেওয়া বাজেট প্রস্তাব সামনের বাজেটে প্রতিফলন ঘটবে বলেও আশা প্রকাশ করেন সংগঠনটির প্রতিনিধিরা।

তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবসায়িক ও উদ্যোক্তা বেশ কয়েকটি সংগঠন একসঙ্গে পৃথক এই বাজেট প্রস্তাব করে। যেখানে নেতৃত্বে ছিলেন বেসিস সভাপতি মোস্তাফা জব্বার।

বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এনবিআর সদস্য (মূসকনীতি) ব্যারিস্টার জাহাঙ্গীর হোসেন, মো. পারভেজ ইকবাল (করনীতি), মো. লুৎফর রহমান (শুল্কনীতি)।

ইমরান হোসেন মিলন

ইন্টারনেটের ভ্যাট-ট্যাক্স অব্যাহতি চায় অপারেটরা

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : গ্রাহক প্রান্তে ইন্টারনেট ব্যবহারের উপর থেকে সব ধরনের ভ্যাট-ট্যাক্স প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে মোবাইল অপারেটররা।

মোবাইল ফোন অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটব বলছে, এই ভ্যাট-ট্যাক্স ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের অন্তরায় হিসেবে কাজ করছে। তাই এটি প্রত্যাহার করা উচিত।

সংগঠনটির মহাসচিব টিআইএম নূরুল কবির বলেন, মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে সরকারকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছে। ইন্টারনেটের উপর আরোপিত ভ্যাট-ট্যাক্স এক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায়। এই অন্তরায় রেখে ২০২১ সালের মধ্যে সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ ভিশন বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

NBR-AMTOb-Pre-budget-Techshohor

অ্যামটব বলছে, বর্তমানে দেশের মাত্র ১৮ শতাংশ লোক ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। যদিও কার্যকরী সংযোগ রয়েছে ৬ কোটি ৭২ লাখ। আর মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ৫৪ শতাংশ মানুষ। যা কার্যকর সংযোগের হিসাবে ১৩ কোটি। বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারের উপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট, ৫ শতাংশ ট্যাক্স এবং এক শতাংশ সারচার্জ রয়েছে।

মঙ্গলবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের(এনবিআর) সঙ্গে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনার অ্যামটবের পক্ষ থেকে এই দাবি করা হয়েছে। প্রাক-বাজেট আলোচনায় মোবাইল অপারেটরদের প্রধান নির্বাহী এবং অন্যান্য অপারেটরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনায় অ্যামটবের পক্ষ থেকে ইন্টারনেটের উপর ভ্যাট-ট্যাক্স প্রত্যাহারের পাশাপাশি আরও কয়েকটি দাবি উত্থাপন করা হয়। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে, অন্য কোনো খাতে আর ভ্যাট-ট্যাক্স যুক্ত না করা। সিম ও রিম কার্ডের উপর থাকা ১০০ টাকা ট্যাক্স প্রত্যাহার করার কথা বলেন বক্তারা।

এছাড়াও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে সরকারের বেশকিছু অমিমাংসিত বিষয় রয়েছে। যার প্রতিটির সঙ্গে হাজার কোটি টাকা জড়িত, সেগুলো সমাধানের দাবি জানায় অ্যামটব। নূরুল কবির বলেন, এসব সমাধান করা না গেলে বিদেশি এবং দেশি বিনিয়োগকারীরা নতুন বিষয়ে বা খাতে বিনিয়োগ করতে বাড়তি ঝুঁকি অনুভব করছে।

তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের চেয়ে অনেক কম মূল্যে ভয়েজ ও ইন্টারনেট ডাটা ব্যবহার করতে পারেন ব্যবহারকারীরা। তাই কলরেট ও ডেটা চার্জ কমাতে অপারেটরদের আরও কিছু তরঙ্গ বরাদ্দ দেওয়ার আবেদন করেন তিনি। যেগুলো সামনের বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য এনবিআরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

অ্যামটবের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান বলেন, এনবিআর রাজস্ব আহরণে কাজ করে। ব্যবসা, বিনিয়োগবান্ধব ও ভোক্তাদের কথা মাথায় রেখে তারা বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়। এরই অংশ হিসেবে বিভিন্ন সেক্টরের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা চলছে। অ্যামটবের দাবিগুলো বিবেচনায় এনে তা বাজেট প্রস্তাবে যোগ করা হবে।

ইমরান হোসেন মিলন

ইন্টারনেট ব্যবহারে ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ইন্টারনেট ব্যবহারে ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। সোমবার তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ আয়োজিত প্রাক-বাজেট মতবিনিময় সভায় এই দাবি জানানো হয়।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্য) এই দাবি জানায়। এই দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেন আলোচনায় অংশ নেওয়া অধিকাংশরা।

বাক্য তাদের দাবিতে জানায়, ইন্টারনেট ব্যবহারের উপর ভ্যাট থাকায় তারা কিছুক্ষেত্রে আউটসোর্সিং থেকে মুনাফা করতে পারছেন না। এর ফলে খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে। এভাবে খরচ বৃদ্ধি পেলে আউটসোর্সিং খাত থেকে আয়ের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে কমে যাবে। তাই সংগঠনটির পক্ষ থেকে সামনের বাজারে এই ভ্যাট প্রত্যাহারের জোর দাবি জানানো হয়।

Pre-budget-Techshohor

প্রাক-বাজেট আলোচনায় একটি পেপার উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের অধীন চলমান এলআইসিটি প্রকল্পের কম্পোনেন্ট টিম লিডার সামি আহমেদ।

তিনি তার উপস্থাপনায় বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে অগ্রাধিকারমূলক খাত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এখনো বাস্তবে তার বাস্তবায়ন খুব একটা চোখে পড়ছে না। সেই সুবিধাও পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, এর আগে বাণিজ্যমন্ত্রী এই খাতে ২০ শতাংশ নগদ আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু সেটি এখনও দেওয়া হয়নি। অগ্রাধিকার খাত হিসেবে এই খাতে সামনের বাজেটে যেন অবশ্যই ২০ শতাংশ নগদ আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হয় সেই দাবি জানান।

এছাড়াও সফটওয়্যার আমদানির ক্ষেত্রে পাঁচ শতাংশ ট্যাক্স রয়েছে। তবে কিছু কিছু সফটওয়্যারে সেই ট্যাক্স মওকুফের কথা বলেছেন আলোচনায় অংশ নেওয়া অনেকেই।

বিশেষ করে অপারেটিং সিস্টেম সফটওয়্যার এবং অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার সবাই ব্যবহার করেন। এর উপর আরোপিত ট্যাক্সের কারণে খরচবেড়ে যাওয়ার ব্যবসায়ীরা ব্যবসায় হিমশিম খাচ্ছেন বলেও জানানো হয়। তাই সামনের বাজেট থেকে নির্দিষ্ট সফটওয়্যারে ট্যাক্স মওকুফের দাবি করা হয়।

প্রাক-বাজেট মতবিনিময়ে এনটিটিএন লাইসেন্স পাওয়া প্রতিষ্ঠানের আইএসপিএবির উপর থেকে ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ওকে মোবাইলের কর্নধার এবং ইন্ডিগো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী জসিমুল ইসলাম বলেন, এখন বাইরের দেশ থেকে মোবাইলের খুচরা যন্ত্রপাতি এনে দেশে প্ল্যান্ট স্থাপন করে মোবাইল তৈরি করতে গেলে সরকারকে ৭৫ শতাংশ ট্যাক্স দিতে হয়। অথচ কেউ যদি তৈরি ফোন আমদানি করে তাকে দিতে হচ্ছে মাত্র ২১ শতাংশ ট্যাক্স।

তিনি বলেন, যদি এই অবস্থা চলতে থাকে তবে দেশের এই বিশাল মোবাইল বাজার ধরতে কখনোই দেশে কেনো কারখানা স্থাপন সম্ভব নয়।

প্রধান অতিথি হিসেবে আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, মোবাইল আমদানি এবং এর খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানিতে ট্যাক্সের বিষয়টি যদি এমন হয় তাহলে অবশ্যই বিষয়টি তারা সিরিয়াসলি বিবেচনা করবেন বলে আশ্বাস দেন।

প্রাক-বাজেট আলোচনার বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান। এছাড়াও ওই মতবিনিময় সভায় অংশ নেন বেসিস সভাপতি মোস্তাফা জব্বারসহ তথ্যপ্রযুক্তির বিভন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

প্রাক-বাজেট মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন  তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব সুবির কিশোর চৌধুরী।

ইমরান হোসেন মিলন