পেপ্যাল-জুম চালু হয়েছে, আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শিগগির : পলক

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেশে ইতোমধ্যে পেপ্যাল-জুম চালু হয়েছে। খুব শিগগির আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে ২ জুন আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এক কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে জনতা টাওয়ার সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে বেসিস, বিসিএস, বাক্য, ই-ক্যাবসহ দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা ও খাত সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নাগরিক সেবায় শেখ হাসিনা সরকার অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকায় থাকতে চায়। সেজন্য ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলক ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি সার্ভিস ৯৯৯ সেবা এবং অনলাইন লেনদেন প্লাটফর্ম পেপ্যাল জুম চালু করেছি।’

 

পলক বলেন, সবগুলো ব্যাংককে নিয়ে পেপ্যাল-জুম সেবা চালুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আয়োজন করা হবে। ওই অনুষ্ঠানে তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে পেতে চেষ্টা থাকবে।

‘আমরা গঠনমূলক সমালোচনা নেই। শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়ে বা সমস্যা তুলে ধরে বসে থাকি না। প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন ও সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করি।’

দেশে পরীক্ষামূলকভাবে গত মাসে পেপ্যালের সেবা (জুম) চালু করেছে সোনালী ব্যাংক। ব্যাংকটির সবগুলো শাখায় সেবাটি দেয়ার জন্য একটি পরিপত্র জারি করে ব্যাংকটি।

১৮ মে ওই পরিপত্রে বলা হয়, উল্লেখিত তারিখ হতে ব্যাংকের সকল শাখায় পেপ্যাল ইনকরপোরেশন ইউএসএ (জুম কর্পোরেশন ইউএসএ) এর মাধ্যমে রেমিট্যান্স আহরণ ও বিতরণের প্রাথমিক পরীক্ষামূলক কার্যক্রম এর লাইভ অপারেশন (পাইলট অপারেশন) শুরু হবে। অদূর ভবিষ্যতে আউটসোর্সিংয়ের অর্থ জুম-এ পেপ্যাল সার্ভিসের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের সকল শাখায় পরিশোধ করা যাবে।

চলতি বছরের মার্চে সোনালী ব্যাংক,  অগ্রণী, রূপালী ব্যাংকের সঙ্গে সোশ্যাল ইসলামী এবং ডাচ-বাংলা ব্যাংককে এ সেবার জন্য অনুমতি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

আল-আমীন দেওয়ান

এই ‘পেপ্যাল’ সেই পেপ্যাল নয়

মো: শফিউল আলম, ইলেক্ট্রনিক পেমেন্ট ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস বিশেষজ্ঞ : গত ২০১৫ সালের শেষভাগে পেপ্যালের (ইন্টারনেট পেমেন্ট গেইওয়ে) জুম ইনকরপোরেশন (ক্রসবর্ডার অনলাইন মানি ট্রান্সফার কোম্পানি) একুইজিশন ঘোষণার পর থেকেই বাংলাদেশে পেপ্যাল আগমন এবং জুমকে একীভুত করে ‘বিভ্রান্তিমুলক সংবাদ’ পরিবেশন হতে থাকে । যদিও ইন্টারনেট পেমেন্ট গেটওয়ে এবং অনলাইন মানি ট্রান্সফারের সেবার ধরন, প্রকৃতি এবং গ্রাহক চাহিদা ভিন্নতর।

পেমেন্ট গেটওয়ের ( পেপ্যাল, স্ক্রিল ইত্যাদি ) মৌলিক বৈশিষ্ট হচ্ছে ই-ওয়ালেট, অর্থ জমা (ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড, প্রি-পেইড, মানি-প্যাক), পিয়ার টু পিয়ার মানি ট্রান্সফার, অনলাইন মার্চেন্ট পেমেন্ট এবং অর্থ উত্তোলন (ব্যাংক একাউন্ট, ক্রেডিট,ডেবিট, প্রি-পেইড, চেক)। পেমেন্ট গেটওয়ের লাইন্সেন্স ব্যাংক সেন্ট্রিক।

অনলাইন মানি ট্রান্সফারের ( জুম, ট্রান্সফারওয়াইজ ইত্যাদি ) মৌলিক বৈশিষ্ট হচ্ছে এটা সরাসারি সুইফেটের মাধ্যমে ক্রসবর্ডার ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার করে, অর্থ জমা (ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড বা ওটিসি), অর্থ উত্তোলন (ব্যাংক একাউন্ট, ওভার দি কাউন্টার-ওটিসি), অনলাইন মানি ট্রান্সফার লাইসেন্স লোকেশন সেট্রিক।

বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোতে বিইএফটিএন ( বাংলাদেশ ইলেক্ট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার নেটওয়ার্ক) এর মাধ্যমে ইন্টার-ব্যাংক ফান্ড ট্রান্সফার সুবিধাটি কয়েক বছর ধরে বিদ্যমান আছে। যদিও এসিএইচ ( অটূমেটিক ক্লিয়ারিং হাউজ) এবং আরটিজিএস ( রিয়েলটাইম গ্রস সেটেলমেন্ট ) ইলেক্ট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে রিয়েলটাইম প্রযোজ্য হয়নি ( নিশ্চিত নই )।  যার ফলে দুই-একদিন সময় নেয় সেটেলম্যান্টের জন্য।

অনলাইন মানি ট্রান্সফারের অফলাইন ( ব্রিক- মর্টার ) মডেলই অনলাইন ভার্সন। তাই অনলাইন মানি ট্রান্সফারের মানি অপারেটিং লাইসেন্স এক্সচেঞ্জ হাউজ স্টেইট টূ স্টেইট বা কান্ট্রি টূ কান্ট্রি আলাদা নিতেই হয় ।

এখানে উল্লেখিত যে, সম্ভবত একমাত্র জুম গ্রাহকরা (সেন্ডার/পেয়ার) পেপ্যাল দিয়ে লগইন করে পেপ্যাল ব্যালেন্স থেকে ফান্ড ট্রান্সফার  করতে পারেন। পেপ্যাল যেহেতু ব্যাংক নয় তাই তাদেরও ক্যাশইন করতে হয় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড, প্রি-পেইড, মানি-প্যাক থেকে। তাই এখানে অন্য অনলাইন মানি ট্রান্সফার সেবার সাথে জুমের মৌলিক কোনো পার্থক্য নেই।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশে পেপ্যাল সেবা চালু

Md. shofiul alam

জুম পেপ্যালকে কিনে নেয়ার অন্যতম কারণ অফলাইন (ব্রিক অ্যান্ড মর্টার) এবং অনলাইন রেমিট্যান্সের  বাজার ধরা কারণ পেপ্যালের কাস্টমাররা সাধারনত অনলাইন ক্রেতা এবং বিক্রেতা। যার ফলে মার্চেন্ট সার্ভিস মনোপলি করেছে পেপ্যালের মৌলিক সেবা ই-ওয়ালেট। যেহেতু পিটুপি বা ক্যাশ-আউট অনেক ব্যয়বহুল এবং লেনদেন তুলনামুলক অনেক কম।

পেপ্যাল ক্যাশ-ইন ফ্রি কিন্তু ক্যাশ-আউটে বা পিয়ার টু পিয়ার লেনদেনে অনেক ফি (২.৫-৪%) দিতে হয় যার ফলে কাস্টমাররা অ্যাভয়েড করে থাকেন বা হাই ভ্যালু পিটুপি ট্রাঞ্জেকশন পেমেন্ট গেটওয়ে দিয়ে করেন না। সেক্ষেত্রে  জুমের মত অনলাইন মানি ট্রান্সফার বা মানি অপারেটিং লাইসেন্স নিয়ে এক্সচেঞ্জ হাউজগুলো দিয়ে সুইফট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে করেন। এক্ষেত্রে যে কোনো অ্যামাউন্টের জন্য জুমের ওয়ানঅফ ৪-৭ ডলার চার্জ করে থাকে।

বাংলাদেশের ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স কাস্টমার প্রধানত তিন ধরনের। এক. অনলাইন ওয়ার্কার (প্রধানত ফ্রিল্যন্সার, রিমোট ওয়ার্কার)।  দুই. অফলাইন ওয়ার্কার (শ্রমিক শ্রেণী) এবং তিন. মার্চেন্ট সার্ভিস ( অনলাইন/অফলাইন পণ্য ব্যবসায়ী)।

ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স চ্যানেল চার ধরনের। এক. এক্সচেঞ্জ হাউজ ( ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন, মানিগ্রাম, আল-রাজী, প্রভু, সোনালী এক্সচেঞ্জ ইত্যাদি )। দুই. অনলাইন মানি ট্রান্সফার ( ট্রান্সফারওয়াইজ, জুম , ইউএই এক্সপ্রেস) । তিন. অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে (পেপ্যাল, স্ক্রিল, পেওনিয়ার ইত্যাদি) এবং চার. হুন্ডি (মানি লন্ডারিং)।

আরও পড়ুন: অনুমতি পেপ্যালে, সেবা জুমে

paypal-3

                                                                                                                      চিত্র : রেমিট্যান্সের প্রক্রিয়া

আমরা উপরের কাস্টমার রেমিট্যান্সের চ্যানেলাইজ ধরনের চিত্রটি খেয়াল করলে দেখতে পাই কিভাবে এই অনলাইন/অফলাইন মানি ট্রান্সফার প্রক্রিয়াটি কাজ করে।

প্রথমেই বলে রাখা ভাল জুম অনেক বছর ধরে রুপালী ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক এবং প্রভু মানি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে বাংলাদেশে সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

সোনালী ব্যাংকের মত বিশাল একটি রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাংক বছর ধরে বলছে পেপ্যাল নিয়ে আসছে। কিন্তু কীভাবে জুমের মাধ্যমে পেপ্যাল সেবা দেবে তা কখনও পরিষ্কার করে প্রকাশ করেনি, এতে এক ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে।

paypal-4

আমরা যদি ইন্টারনেট পেমেন্ট এবং অনলাইন মানি ট্রান্সফারের টেকনিক্যাল এবং রেগুলেটরি পার্সপেক্টিভ যাচাই করি তাহলে সহজেই বুঝতে পারি এটি ভিন্ন সেবা এবং ধরণ হিসেবেও দুটি আলাদা কোম্পানি।

অন্যান্য অনলাইন মানি ট্রান্সফার বা আগের জুম এবং বর্তমান জুমের মাঝে একটিই পার্থক্য যে, কারও পেপ্যাল অ্যাকাউন্ট থাকলে তা দিয়ে জুমে অথেনটিকেশন বেইজড লগইন করা যায় (গ্লোবাল লগইন করা যায় কিনা পরীক্ষা করা হয়নি) এবং পেপ্যাল ব্যালেন্স থেকে ফান্ড ট্রান্সফার করা যায়।
যদিও পেপ্যাল নিজেই ক্যাশ-ইন করে কার্ড বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ড ডিপোজিট করে। তাই মৌলিক পার্থক্য খুব বেশি হচ্ছে না যতদিন পেপ্যাল বাংলাদেশে অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগটি না দিচ্ছে। পেপ্যালের ওয়েবসাইটে এখনও বাংলাদেশের নাম নেই।

পেপ্যালের ২০৩ টি দেশের কাজ করার লিস্টিং থাকলেও প্রকৃতপক্ষে মাত্র ২৫ বা ২৯ টি দেশে পেপ্যাল লোকালি ফোল সার্ভিস ফাংশনাল রয়েছে। তার মধ্যে মাত্র ১০৭ টি দেশ তাদের অর্থ লোকাল ব্যাংকে উইথড্রো করতে পারে। বাকি ৯৬টি দেশ ( নেপাল, ভুটান সহ ) থেকে অ্যাকাউন্ট ওপেন করতে পারলেও গ্রাহকরা লিমিটেড বা কোনো ভ্যারিফাইড অ্যাকাউন্ট পাচ্ছেন না।

প্রকৃতপক্ষে এসব ক্ষেত্রে কান্ট্রি ইনডেক্স ছাড়া আর তেমন কিছুই নেই। এখনকার মতই ইউএস অ্যাকাউন্ট ( মাস্টার কার্ড / পেওনিয়ারের মতো) ভ্যারিফাইড মাস্টার কার্ড লাগবেই। তাই টাকা উইথড্রো করতে গেলে সেই একই পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে যা এখন আমাদের ফ্রিল্যান্সাররা করছে পেওনিয়ার বা অন্যান্য মাস্টার কার্ড দিয়ে।

আরও পড়ুন: পেপ্যাল প্রপাগান্ডা : বিভ্রান্তি, বাস্তবতা ও করণীয়

paypal-5

                                                                          চিত্র :এশিয়ার যে গুলোতে পেপ্যাল সাপোর্ট করে ( আপডেট ২৪ মে ২০১৭)

এখন জুম দিয়ে পেপ্যাল চালানো আর ব্লগ দিয়ে ইন্টারনেট চালানোর মতই মনে হয়, কারণ বাংলাদেশকে যতদিন ইন্ডেক্সই না করছে ততদিন আমরা পেপ্যালের প্রকৃত সেবা পাচ্ছি না। তাই ফ্রিল্যান্সার বা অনলাইন মার্চেন্টরা পেপ্যাল সেবা থেকে বঞ্চিত থাকছেন।

তাহলে পেপ্যালের বিকল্প কি? বাংলাদেশের প্রায় সব আইটি কোম্পানিগুলো আউটসোর্সিং কাজ করছে এবং নরমাল ব্যাংকিং চ্যানেলেই প্রতি মাসে কোনো বাধা ছাড়াই লাখ লাখ ডলার নিয়ে আসতে পারছে । ফ্রিল্যান্সাররাও সহজেই টাকা উঠাতে পারছেন লোকাল ব্যাংকে, স্ক্রিল, পেওনিয়ার, নেটেলার বা আরও অনেক সেবাদাতা ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি যারা মাস্টার কার্ড প্রভাইড করছে। পেপ্যাল অনেক সহজলভ্য এবং সুবিধা আছে কিন্তু ব্যায়বহুলও বটে। আমাদের প্রয়োজন নিজেদের পেপ্যাল বা লোকাল পেমেন্ট গেটওয়ে যা ই-কমার্সের জন্য বা পি টু পি, ইন্টার-ব্যাংক ফান্ড ট্রান্সফার করা যাবে ।

আসলে পেপ্যাল বাংলাদেশে না আসার ক্ষেত্রে সরকারের আইসিটি ডিভিশন, বাংলাদেশ ব্যাংক, বেসিস বা তথ্যপ্রযুক্তি খাতসংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের ব্যর্থতা নয়। পেপ্যাল সম্পূর্ণ স্বাধীন একটি প্রাইভেট কোম্পানি যারা তাদের প্লান, পলিসি, রোডম্যাপ, ফিজিবিলিটি, রিস্ক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়ে কর্ম-পরিকল্পনা করে থাকে।

এখন আমাদের নিজেদের প্রিপারেশনটা জরুরি।  ব্যাংকিং টেকনিক্যাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার আরও প্রস্তুত করতে হবে। আমাদের ক্রেডিট কার্ড ইউজার অনেক কম, অনলাইন ব্যাংকিং এখনও ঠিকমত শুরুই হয়নি। তবে পলিসি সাপোর্টের কোনো সমস্যা আছে বলে মনে হয় না। বাংলাদেশে পেপ্যাল বা এই ধরনের অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে নিয়ে কাজ করতে গেলে সবার আগে এটার স্টেক হোল্ডারকে অগ্রণী ভুমিকা নিত হবে।

পেপ্যাল আনার ক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক’ হচ্ছে প্রধান স্টেক হোল্ডার। তাই বাংলাদেশ ব্যাংককেই দায়িত্ব নিতে হবে, পলিসি ঠিক করতে হবে। সেক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত যে চ্যালেঞ্জগুলো আছে তাতে আমাদের সকল ব্যাংক, আইসিটি ডিভিশন, বেসিস ও সংশ্লিষ্টরা একসঙ্গে-একযোগে কাজ করলে পেপ্যাল আসাটা খুব বেশি দূরে নয়।

লেখক  ইলেক্ট্রনিক পেমেন্ট, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস, মোবাইল রেমিট্যান্স, টেলকো ভিএএস এবং মার্কেটপ্লেস নিয়ে ১০ বছরেরও বেশি সময়  ধরে দেশে-বিদেশে কাজ করছেন। বাংলাদেশের প্রথম মার্কেটপ্লেস বিল্যান্সারের উদ্যোক্তা । কানাডীয় কোম্পানি ফার্স্ট গ্লোবাল ডাটা ইনকরপোরেশন এবং সিঙ্গাপুরের এফওয়ান সফট ইন্টারন্যাশনালের সাবেক কান্ট্রি প্রধান। দেশের এসএসএল ওয়্যারলেস, আইপে লিমিটেডের মতো বিভিন্ন অর্থ লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্বও দিয়েছেন।

বাংলাদেশে ‘পেপ্যাল সেবা’ চালু

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেশে পরীক্ষামূলকভাবে পেপ্যালের সেবা(জুম) চালু করেছে সোনালী ব্যাংক।

ব্যাংকটির সবগুলো শাখায় সেবাটি দেয়ার জন্য বৃহস্পতিবার একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে। এতে  শুরুতে বৈদেশিক রেমিট্যান্স আহরণ ও বিতরণ কার্যক্রম চালুর কথা বলা হয়।

তবে ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিংয়ের অর্থ লেনদেনের সুবিধা এখনই মিলছে না।

ব্যাংকটি ইতোমধ্যেই ইলেক্ট্রনিক পেমেন্ট প্লাটফর্ম (ইপিপি) নামে একটি সফটওয়্যার তৈরি করেছে। এটি পুরোপুরি চালু হলে পেপ্যাল ও বাংলাদেশে মধ্যস্থতাকারী কোম্পানি ‘টোয়োন্টিফোর মি’ এর সঙ্গে আইটি ডেভেলমেন্ট সম্পন্নের পর ফ্রিল্যান্সাররা তাদের লেনদেন করতে পারবেন।

চলতি বছরের শেষ নাগাদ এই প্রক্রিয়াটি শেষ হতে পারে।

paypal-bangladesh.-techshohor

দেশে পেপ্যাল চালু নিয়ে দীর্ঘ জল্পনা কল্পনার শেষ নেই। ২০১৬ সালের মাঝামাঝি হতে এখন পর্যন্ত  ‘পেপ্যাল আসছে’, ‘বাংলাদেশের ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি’, ‘নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ঘোষণা’ ‘পাঁচটি ব্যাংককে বাংলাদেশ ব্যাংকের চুক্তির অনুমতি’ ইত্যাদি খরব নিয়ে আলোড়ন-আলোচনা আশাই থেকেছে।

তবে পেপ্যাল নিয়ে এসবের বাস্তব ফলাফল হচ্ছে -পেপ্যালের জুম মাধ্যমে দেশে এর সেবা চালু হওয়া।  আর এর অনুমতিই দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

সোনালী ব্যাংকও সম্প্রতি যে চুক্তি করেছে তার বিবরণে বলা হয়েছে, ‘বিশ্বের স্বনামধন্য ও বৃহত্তম রেমিট্যান্স সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান পেপ্যাল ইনকরপোরেশন, ইউএসএ (জুম কর্পোরেশন ইউএসএ) এর সাথে ড্রয়িং ব্যবস্থার আওতায় প্রাপক/উপকারভোগীকে সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের সকল শাখায় এ/সি (অ্যাকাউন্ট) ট্রান্সফার পদ্ধতিতে বৈদেশিক রেমিট্যান্স গ্রহণের সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে এ ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে।’

এসব বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য-প্রমাণ টেকশহরডটকমের কাছে রয়েছে। এছাড়া সোনালী ব্যাংকের ফরেন রেমিট্যান্স ম্যানেজমেন্ট ডিভিশনের একাধিক সূত্র বিষয়গুলো নিশ্চিত করেছেন।

2

ব্যাংকটি এ সেবার জন্য ঢাকার দিলকুশার ওয়েজ আনার্স কর্পোরেট শাখাকে নিয়ন্ত্রণকারী শাখা করেছে। এখানে পেপ্যাল (জুম) নিয়ে গ্রাহক সেবার দিতে সহায়ক ইউনিট হিসেবে দুই কর্মকর্তাকে মনোনয়ন করা হয়েছে।

এর মধ্যে ফরেন রেমিট্যান্স ডিভিশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার দেবশ্রী মিত্র টেকশহরডটকমকে জানান, সোনালী ব্যাংকই প্রথম পেপ্যাল (জুম) সেবা চালু করল। পরীক্ষামূলক সেবা সবগুলো শাখায় চালু হয়েছে। শুরুতে রেমিট্যান্স আহরণ ও বিতরণ। আর অদূর ভবিষ্যতে আউটসোর্সিং অর্থ লেনদেনের সেবাও পাওয়া যাবে এতে।

সোনালী ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের ফরেন রেমিট্যান্স ম্যানেজমেন্ট ডিভিশন হতে বৃহস্পতিবার দেশের সব জায়গায় সব ধরনের সকল শাখায় সেবাটি চালু করতে পাঠানো পরিপত্রে বলা হয়, ‘নিজেদের উদ্ভাবিত ইলেক্ট্রনিক পেমেন্ট প্লাটফর্ম (ইপিপি) এর আওতায় ডিরেক্ট ক্রেডিট সার্ভিসের মাধ্যমে বৈদেশিক রেমিট্যান্স আহরণ ও বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে এক নতুন অধ্যায়ের শুরু হয়েছে।’

‘ব্যাংকের সকল শাখায় পেপ্যাল ইনকরপোরেশন ইউএসএ (জুম কর্পোরেশন ইউএসএ) এর মাধ্যমে রেমিট্যান্সআহরণ ও বিতরণ কার্যক্রম ১৮ মে ২০১৭ তারিখ হতে প্রাথমিক পরীক্ষামূলক কার্যক্রম এর লাইভ অপারেশন (পাইলট অপারেশন) শুরু হবে। অদূর ভবিষ্যতে আউটসোর্সিংয়ের অর্থ জুম-এ পেপ্যাল সার্ভিসের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের সকল শাখায় পরিশোধ করা যাবে।’

শুরুতে দেশে পেপ্যাল ইনকরপোরেশন ইউএসএ (জুম কর্পোরেশন ইউএসএ) এর কী সেবা কীভাবে পাওয়া যাবে :

এক. রেমিট্যান্স আহরণের জন্য সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় গ্রাহক বা সুবিধাভোগীর অবশ্যই একটি সঞ্চয়ী বা চলতি হিসাব থাকতে হবে।

দুই. রেমিট্যান্স কেবলমাত্র অ্যাকাউন্ট ট্রান্সফার পদ্ধতিতে আহরণ ও বিতরণ করা যাবে। রেমিট্যান্সের অর্থ চেক বা ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে গ্রাহক ও সুবিধাভোগী পাবেন।

তিন. কেওয়াইসি নীতিমালা অনুসরণ করে সুস্থ, স্বাভাবিক বাংলাদেশী গ্রাহক, সুবিধাভোগী এই রেমিট্যান্স সুবিধা পাবেন।

চার. বিশ্বের যেকোনো দেশ হতে রেমিট্যান্স আহরণ করা যাবে।

পাঁচ. কোর ব্যাংকিং পদ্ধতিতে রেমিট্যান্স সরাসরি গ্রাহক বা সুবিধাভোগীর অ্যাকাউন্টে জমা হবে।

1

চলতি বছরের মার্চে সোনালী ব্যাংক,  অগ্রণী, রূপালী ব্যাংকের সঙ্গে সোশ্যাল ইসলামী এবং ডাচ-বাংলা ব্যাংককে এ সেবার জন্য অনুমতি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

যে মাধ্যমে পেপ্যালের সেবা সেবা চালু হল যে জুম পেপ্যালের অধিগ্রহণ করা একটি কোম্পানি। এক সঙ্গে হওয়ার আগে এটি আমেরিকাভিত্তিক অনলাইন রেমিট্যান্স কোম্পানি হিসেবে সুপরিচিত ছিল।

তবে উদ্যোগটির অন্যতম উদ্দেশ্য রেমিট্যান্স আহরণ এবং আউটসোর্সিংয়ের অর্থ সহজে দেশে আনা।

পেপ্যাল জুম সেবা চালু নিয়ে চলতি বছরের মার্চ-এপ্রিলে  যুক্তরাষ্ট্রে জুমের সঙ্গে বৈঠকে তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক তাদেরকে বাংলাদেশে কার্যক্রম দ্রুত শুরুর আহ্বান জানান।  পেপ্যাল-জুম কর্তৃপক্ষ শিগগিরই এ কার্যক্রম শুরুর কথা জানিয়েছিল।

আরও পড়ুন: 

পেপ্যাল দ্রুত চালুর বিষয়টি ব্যাংকগুলোর হাতে

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেশে পেপ্যালের সেবা কবে চালু হবে সেটি নির্ভর করছে কোম্পানিটির সঙ্গে চুক্তির অনুমতি পাওয়া ব্যাংকগুলোর হাতে। এখন ব্যাংকগুলো বাকি প্রক্রিয়া যত দ্রুততার সঙ্গে শেষ করতে পারবে, তত তাড়াতাড়ি এ সেবা চালু হবে।

সোমবার বিকালে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে এক অনুষ্ঠানের ফাঁকে পেপ্যাল নিয়ে জিজ্ঞাসায় এ কথা বলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শুভংকর সাহা। তিনি বলেন, বহুল কাঙ্খিত এ সেবা চালুর দিনক্ষণ এখন ব্যাংকগুলোর হাতেই।

ইবিএল-বেসিস কো-ব্র্যান্ডেড ইউএসডি মাস্টারকার্ড উদ্বোধনের ওই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন তিনি। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও ছিলেন তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব সুবীর কিশোর চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন বেসিস সভাপতি তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার।

অনুষ্ঠানের পরে কবে পেপ্যাল চালু হবে এমন জিজ্ঞাসায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক বলেন, কয়েক মাস আগেই কয়েকটি ব্যাংককে পেপ্যালের সঙ্গে চুক্তির অনুমতি দেয়া হয়েছে। এখন তারা চালু করতে পারলেই গ্রাহকরা এ সেবা পাবেন।

ইবিএল-বেসিস কো-ব্র্যান্ডেড ইউএসডি মাস্টারকার্ডে দেশের বাইরে ৩০ হাজার ডলার পর্যন্ত খরচের অনুমতির বিষয়টি উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এটির অনুমতি দেয়ার বেশি সময় হয়নি। এখন তারা সেবাটি চালু করে ফেলেছে। পেপ্যালের বিষয়টিও ব্যাংকগুলো দ্রুত করতে পারে।

চুক্তির অনুমতি জুম মাধ্যমে পেপ্যালের সেবা চালুর বিষয়ে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘হ্যা’।

paypal-bd-bangladesh_red

চলতি বছরের মার্চে সোনালী ব্যাংক,  অগ্রণী, রূপালী ব্যাংকের সঙ্গে সোশ্যাল ইসলামী এবং ডাচ-বাংলা ব্যাংককে এ সেবার জন্য অনুমতি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

তবে দেশে জুম মাধ্যমে পেপ্যালের সে সেবা চালু হবে। জুম পেপ্যালের অধিগ্রহণ করা একটি কোম্পানি। এক সঙ্গে হওয়ার আগে এটি আমেরিকাভিত্তিক অনলাইন রেমিট্যান্স কোম্পানি হিসেবে সুপরিচিত ছিল।

এই উদ্যোগে রেমিট্যান্স আহরণ এবং আউটসোর্সিংয়ের অর্থ সহজে দেশে আনার উপায় নেয়া হবে।

সোমবারের এই অনুষ্ঠানে শুভংকর সাহা বলেন, ইইএফ ফান্ডের অন্যতম খাত ছিল আইটি খাত। এ খাতে জাতীয় পর্যায়ে উঠে এসেছে, বড় হয়েছে এমন বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে এই ফান্ডের মুলধন সহায়তা ছিল।

‘যখন থেকে আইটি সেক্টর ডেভলপ হয়েছে এবং আমাদের দেশে রপ্তানি ও আমদানির যে প্রয়োজন পড়েছে সেই জায়গা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক বৈদেশিক মু্দ্রা নীতিমালার ক্ষেত্রে পৃথক নজর, আলাদা অগ্রাধিকার দিয়ে লিবারাইজেশন করেছে।’

তিনি জানান, ‘আমরা এখন ব্যাংকগুলোকে অনলাইন করেছি। অনলাইনের বাইরের অল্প কয়েকটি ব্যাংকের ব্র্যাঞ্চ রয়েছে। আমাদের আন্ত:ব্যাংক লেনদেন একেবারে অটোমেটিক করেছি, সেখানে ইলেক্ট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার করছি এবং সেটিকে আপগ্রেড করবো আগামীতে, যেটি এ বছর সেপ্টেম্বরের মধ্যে হয়ে যাবে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘আমাদের কার্ড ট্রানজিকশন অনেক বেড়েছে। আমাদের ডেবিট কার্ড আছে এক কোটির বেশি, ক্রেডিট কার্ডও নয় লাখের বেশি। গত মার্চ মাসে শুধু কার্ডে ট্রানজিকশন হয়েছে ১২’শ কোটি টাকা। কিন্তু এই অংশ যথেষ্ট নয়, আমাদের এটি বাড়াতে হবে।’

আল-আমীন দেওয়ান

এবার লক্ষ্য এম-গভর্ন্যান্স

পেপ্যাল, ইন্টারনেটের গতি ও দাম, ব্রডব্যান্ড, অনলাইন লেনদেন, পেপারলেস অফিসসহ তথ্যপ্রযুক্তি খাতের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে টেকশহরডটকমের সঙ্গে কথা বলেছেন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। সাক্ষাতকার নিয়েছেন আল-আমীন দেওয়ান, যার প্রথম পর্ব –

এই সাক্ষাতকার যখন নেয়া হয় তখন ভোলার  লালমোহনে সজীব ওয়াজেদ জয় ডিজিটাল পার্ক উদ্বোধনে মঞ্চে উঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বর্তমান সরকারের তরুণ ও সর্বকনিষ্ঠ এই প্রতিমন্ত্রী। স্থানীয় সংসদ নূরুন্নবী চৌধুরী শাওনের বাসভবনে বসে প্রতিমন্ত্রীকে বেশ জোরেই কথা বলতে হচ্ছিল কারণ বাইরে হাজার হাজার মানুষের কন্ঠে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্লোগান। এর আগে আমরা সাংবাদিকরা দেখে এসেছি এই দ্বীপাঞ্চলেও সাধারণ মানুষ কীভাবে তথ্যপ্রযুক্তির সুফল পাচ্ছে।

palak3

জুনাইদ আহমেদ পলক, যাকে ২০১৬ সালে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম ইয়াং গ্লোবাল লিডার মনোনীত করে। বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের গতিময় অগ্রযাত্রায় এই প্রতিমন্ত্রীর ব্যাপক প্রচেষ্টা ও সাফল্যকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ম্যাসাচুসেট ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ফিনটেকের তথ্য বিশ্লেষক ডেভিড এম শায়া।

টেক শহর : দেশে আর্থিক লেনদেনের ডিজিটাল রূপান্তর কোন পর্যায়ে ?

জুনাইদ আহমেদ পলক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় আমাদের দেশীয় ওয়ালেটের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। সেটা হচ্ছে ই-ওয়ালেট। আগে এক সময় ছিল এটিএম কার্ড, এখন আমরা মোবাইল ব্যাংকিংয়ে আছি –এরপরে নেক্সট ভার্সন হচ্ছে ই-ওয়ালেট। ফলে আমরা এম গর্ভন্যান্সকে গুরুত্ব দিচ্ছি।

টেক শহর : এম গর্ভন্যান্সের জন্য প্রকল্প বা পরিকল্পনা কি তৈরি?

জুনাইদ আহমেদ পলক : আমরা নতুন একটি প্রকল্প গ্রহণ করছি যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে ই-গর্ভন্যান্স হতে আরেকটি ট্রান্সফর্মেশন হবে, যেটা হবে এম গর্ভন্যান্স। সেখানে আমাদের দেশীয় ওয়ালেটে জাতীয় পর্যায়ে লেনদেন হবে।

palak-2

টেক শহর : জাতীয় পর্যায়ের লেনদেনের কোনো উদাহরণ?

জুনাইদ আহমেদ পলক : আমাদের সোশ্যাল সেফটির ৬৪ হাজার কোটি টাকা, মাতৃত্ব ভাতা, বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা সবগুলো আমরা মোবাইল ব্যাংকিংয়ে, যেভাবে আজকে প্রাইমারি স্কুলেরটা ১ কোটি ২০ লাখ মায়ের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে- একই রকমভাবে তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টার নির্দেশনায় আমরা এই ৬৪ হাজার কোটি টাকা যাতে সরাসরি গ্রাহকের হাতে পৌঁছে যায়, শেখ হাসিনা পৌঁছে দিতে পারেন তার জন্য প্রযুক্তি নিয়ে আসা হচ্ছে।

টেক শহর : সরকারের পেপারলেস অফিস ও অনলাইনে সব সেবা চালুর লক্ষ্য কতদূর এগিয়েছে?

জুনাইদ আহমেদ পলক : আমরা ইতোমধ্যেই একটি পাইটল প্রকল্প হাতে নিয়েছি। যেটা হচ্ছে গর্ভমেন্ট রিসোর্স প্লান (জিআরপি)। এই জিআরপি পাইলট প্রজেক্টটা দেড় বছরের মধ্যেই শেষ করতে পারবো।

তারপর আমরা ইন্টিগ্রেডেড গভর্মেন্ট সলিউশন নামে একটি প্রকল্প নিচ্ছি। সেখানে পুরো ৫০টি মন্ত্রণালয় ২২০টির মতো অধিদপ্তর, সকল সংস্থাকে আমরা পেপারলেস না হলেও লেস পেপার অফিসে পরিণত করতে পারবো।

আশাকরছি ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের ৯০ শতাংশ সার্ভিস আমরা অনলাইনে নিয়ে আসতে পারবো।

palak-1

টেক শহর : পেপ্যাল নিয়ে সর্বশেষ অবস্থা?

জুনাইদ আহমেদ পলক : পেপ্যাল নিয়ে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা আশা করছি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই নিয়ে আসতে পারবো।

অনুমতি পেপ্যালে, সেবা জুমে

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সরাসরি পেপ্যাল নয়, সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে  চালু হচ্ছে জুমের সেবা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক পেপ্যালের সেবা চালুর অনুমোদন দিলেও সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে সরাসরি সেবা কার্যক্রম হবে জুমের।

জুমের আর্থিক লেনদেন সেবা বাংলাদেশে চালু আছে অনেক দিন হতেই। তবে সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তিতে জুমের সেবার পরিধি ঠিক কতটুকু আর কীভাবে বাড়বে তা জানা যায়নি।

ফ্রিল্যান্সাররা যেভাবে সরাসরি পেপ্যালকে চেয়ে আসছেন সেভাবে চালুর বিষয়টি এই পেপ্যাল-সোনালী ব্যাংক চুক্তির সঙ্গে আপাতত সম্পর্কিত নয় বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।

তবে পেপ্যালের সঙ্গে কার্যক্রম শুরুর এই অনুমতি অদূর ভবিষ্যতে সরাসরি পেপ্যাল সুবিধা চালুর জন্য একটি মাইলফলক অগ্রগতি।

ফ্রিল্যান্সারদের দীর্ঘ দিনের আশা, ভারতে পেপ্যাল যেভাবে ফ্রিল্যান্সারদের টাকা দেশীয় ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি পাঠায় সেভাবে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররাও সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পেপ্যাল লেনদেন করতে পারবেন।

পেপ্যাল সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে ২০১৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে যে এমওইউ স্বাক্ষর করে তা জুম সেবা চালুর জন্য। ওই এমওইউ অনুয়ায়ী সেখানে শুধু রেমিট্যান্স সংগ্রহের বিষয়টি উল্লেখ ছিল। আর সেটিই নানা পর্যবেক্ষণ শেষে অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

পেপ্যাল তখন ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের সঙ্গেও একই ধরনের এমওইউ স্বাক্ষর করে। তবে ডাচ-বাংলা অনুমোদন পেয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

paypal-techshohor (2)

তথপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বৃহস্পতিবার এক সাক্ষাতকারে টেকশহরডটকমকে জানান, পেপ্যাল নিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। মার্চের শেষ সপ্তাহে আবারও সিলিকন ভ্যালিতে যাচ্ছি। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পেপ্যাল নিয়ে সুখবর দেয়ার আশাবাদ জানান তিনি।

এর অাগে এক অনুষ্ঠানে পলক বলেন, পেপ্যাল নিয়ে তিনি আশা ছাড়ছেন না  সরকার পেপ্যাল চালুতে আন্তরিক চেষ্টা করছে। পেপ্যালের সহযোগী জুমের সঙ্গে এমওইউ হয়েছে। দেশের চার-পাঁচটি ব্যাংকে পরীক্ষামূলক লেনদেনের কথাও জানান তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রে পেপ্যালের ভাইস প্রেসিডেন্টের সাথেও বৈঠক করেছেন প্রতিমন্ত্রী। বছর দুই আগে ওই বৈঠকে পেপ্যাল না আনা গেলেও তার বদলে মানি ট্রান্সফার কোম্পানি জুম বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর কথা জানানো হয়েছিল। পলক ওই বৈঠকে বাংলাদেশে ব্যবসায়িক সুযোগ-সুবিধা ও পলিসি সাপোর্টের বিষয়ে পেপ্যালকে আশ্বস্ত করেন।

পেপ্যালের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে সোনালী ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সব ধরণের পর্যবেক্ষণ শেষে ২০১৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে খসড়া চুক্তি প্রস্তুত করে তাতে সই করে পেপ্যালের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল। পেপ্যাল কর্তৃপক্ষও সেই খসড়ায় সই করে তা পাঠিয়ে দিয়েছেন। আমরা সেই খসড়া অনুযায়ী চুড়ান্ত চুক্তির জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতির অপেক্ষা করছিলাম।

জুম পেপ্যালের অধিগ্রহণ করা একটি কোম্পানি। এক সঙ্গে হওয়ার আগে এটি আমেরিকাভিত্তিক অনলাইন রেমিট্যান্স কোম্পানি হিসেবে সুপরিচিত ছিল। যেহেতু জুম এখন পেপ্যালের সেবা তাই সোনালী ব্যাংকের ওই চুক্তিও হচ্ছে পেপ্যালের সঙ্গে। কিন্তু সে চুক্তিতে সরাসরি পেপ্যাল সেবা দেবে তা উল্লেখ নেই।

অনলাইন আর্থিক লেনদেন বিশেষজ্ঞ এক শীর্ষ ব্যাংক কর্মকর্তা জানান , জুমের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে প্রথমে জুম ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশন প্রয়োজন হয়। রেজিস্ট্রেশনের ইমেইল ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে জুমের ওয়েবসাইটে গিয়ে টাকা পাঠাতে হয়। সেখানে টাকা পাঠানোর ‘উৎস’  ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের নম্বর(যেকোনো ব্যাংক ইস্যু ভিসা বা মাস্টার কার্ড) লাগে। অর্থ পাঠাতে বাংলাদেশের যেকোনো ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা যায়। জুমে টাকা পাঠানোর উৎস ‘পেপ্যাল অ্যাকাউন্ট’ করা যায় না। আর জুমের কোনো সরাসরি এজেন্টও নেই যে সেখানে ক্যাশ দেয়া যাবে।

এখন পেপ্যাল ও জুমের সিস্টেমের মধ্যে সমন্বয় করে জুমের ওয়েবসাইটে টাকার উৎসে পেপ্যাল অ্যাকাউন্ট না নেয়া হলে তা ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বিশেষ কিছু হবে না।

এছাড়া ফ্রিল্যান্সাররা বাংলাদেশে বসে অর্থ আয় করে থাকেন তাই এ টাকা রেমিট্যান্স বলে ধরা হয় না। সেক্ষেত্রে জুম মাধ্যমে পাঠানো ফ্রিল্যান্সারদের ওই পেপ্যাল অ্যাকাউন্টের অর্থ রেমিট্যান্স হিসেবে বিবেচনা না করা হলেও ফ্রিল্যান্সাররা খুব একটা উপকৃত হবেন না।

আল-আমীন দেওয়ান

পেপ্যাল লুকোচুরি, বছরজুড়ে আশার ফুলঝুঁড়ি

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর :  বিদায় হতে চলা ২০১৬ সালটি বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি কমিউনিটি, বিশেষ করে ফ্রিল্যান্সারদের কাছে অন্তত একটি বিষয়ে আশাভঙ্গের বছর হিসেবে তালিকায় যোগ হবে। আর তার নাম পেপ্যাল। বছরের মাঝামাঝি সময়ে ‘পেপ্যাল আসছে’, ‘বাংলাদেশের ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি’, ‘নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ঘোষণা’ ইত্যাদি আলোড়নে আশার বিপরীতে বছরে শেষে বেশ হতাশাকে সঙ্গী করে যেতে হচ্ছে সবাইকে।

অবস্থা এমন যে, পেপ্যাল আসার কোনো ঘোষণা এখন আর কেউ বিশ্বাস করতে চান না। পেপ্যাল নিয়ে নীতিনির্ধারকদের কোনো আশ্বাস বা ঘোষণার বিপরীতে সবার একটাই উত্তর-আগে চালু হোক তারপর..।

frelaner-techshohor

২০১৬ সালের ‘পেপ্যাল’ ঘটনার শুরু ১৩ জুলাই। ওইদিন দুপুরে সরকারের যুগ্ম-সচিব মাহবুব কবির মিলন ফেইসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘এইমাত্র আইসিটি মন্ত্রণালয় থেকে বের হলাম। ছোট্ট কিন্তু বিশাল একটি আনন্দের সংবাদ দিচ্ছি। পেপ্যাল আসছে বাংলাদেশে। সোনালী ব্যাংকের সাথে এমওইউ চুক্তি স্বাক্ষর হয়ে গেছে। আগামি দুই-তিন মাসের মধ্যেই কাজ শুরু করে দেবে তারা আমাদের দেশে’।

paypale-techshohor

ব্যস, শুরু হয়ে যায় স্যোশাল মিডিয়া ও টেক কমিউনিটিতে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা ও মতভেদ।

১৪ জুলাই দেশের বিভিন্ন শীর্ষ পর্যায়ের গণমাধ্যমগুলোতে সোনালী ব্যাংকের এমডি দিদার মো. আব্দুর রব জানান, ‘সব ধরণের পর্যবেক্ষণ শেষে খসড়া চুক্তি প্রস্তুত করে তাতে সই করে পেপ্যালের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল। সম্প্রতি পেপ্যাল কর্তৃপক্ষ আমাদের নিশ্চিত করেছে তারাও চুক্তিতে সই করে তা পাঠিয়ে দিয়েছেন। আশা করছি শিঘ্রই চুক্তিপত্রটি পেয়ে যাবো আমরা।’

‘সোনালী ব্যাংকের পক্ষে ওই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন ব্যাংকটির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) পর্যায়ের এক কর্মকর্তা। পেপালের প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশ ব্যাংক, সোনালী ব্যাংকসহ সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলাপ-আলোচনাও করে গেছে।’

বাংলাদেশে দ্রুতই কার্যক্রম শুরু করার কথা জানায় পেপ্যালও। তারিখটা ২২ জুলাই।  দেশে কার্যক্রম শুরুর প্রক্রিয়ায় সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তির পর বিষয়টি নিয়ে পেপ্যালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বিস্তারিত কিছু না বলে জানায়- ‘পেপ্যাল আশা করছে, ‘বাংলাদেশে দ্রুত কার্যক্রম শুরু করতে পারবে তারা।’

এবার শুরু হয় উল্লাস, পেপ্যাল আসায় ফ্রিল্যান্সিং বিশ্বে কীভাবে বাংলাদেশে বড় জায়গা করবে, কী সুবিধা-অসুবিধা মিলবে এইসব নিয়ে আলোচনা।

paypal-techshohor (2)

এর মধ্যে ২৮ জুলাই একটি শীর্ষ দৈনিকে মতামত কলামে ‘পেপ্যাল আসছে’ শিরোণামে এক লেখায় ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর আবুল কাশেম মো. শিরিন জানান,দেশের তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও ফ্রিল্যান্সাররা আশা করছেন যে পেপ্যাল ইন্ডিয়ায় ফ্রিল্যান্সারদের টাকা যেভাবে তাঁদের ভারতীয় ব্যাংক হিসাবে পাঠাচ্ছে, ঠিক এভাবে বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সারদের টাকাও বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোতে পাঠাবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, পেপ্যাল সরাসরি এমন কোনো সার্ভিস নিয়ে আপাতত বাংলাদেশে আসছে না, আসছে অন্যভাবে। ইদানীং পেপ্যাল ঝুম (xoom.com) নামের আমেরিকাভিত্তিক একটি অনলাইন রেমিট্যান্স কোম্পানিকে কিনে নিয়েছে, যার মাধ্যমে তারা বাংলাদেশে শুধু রেমিট্যান্সের টাকা পাঠানোর সার্ভিস প্রদান করবে।’

তিনি বলেন, ‘পেপ্যাল ইদানীং তাদের ঝুম সার্ভিসের জন্য ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে এমওইউ স্বাক্ষর করেছে। অচিরেই ব্যাংক দুটি ঝুমের সেবা চালু করবে। কিন্তু তা হবে শুধু রেমিট্যান্স সংগ্রহের জন্য।’।

শুরু হয় আবার বিতর্ক।

২৯ জুলাই অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এক অনুষ্ঠানে বলেন, অনলাইন পেমেন্টের ক্ষেত্রে দেশে যেসব সমস্যা রয়েছে তা তাড়াতাড়ি উঠে যাবে। পেপ্যাল ইতোমধ্যে এসেছিল, আবার পিছিয়ে গিয়েছিল। পেপ্যাল আবার দেশে এসেছে এবং আগ্রহ দেখিয়েছে।’

কিন্তু তাতে আর বিতর্ক থামে না। অন্যদিকে পেপ্যাল চালুর যে সময় বলা হয়েছিল তাও পেরিয়ে যায়। বিতর্ক, ফ্রিল্যান্সারদের ক্ষোভ প্রকাশ চলতে থাকে। পেরিয়ে যায় বছর, আস্তে আস্তে তা পরিণত হয় একরাশ হতাশায়।

সবশেষে ১১ ডিসেম্বর পেপ্যাল নিয়ে আবারও আশাবাদের কথা শোনান তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। পেপ্যাল নিয়ে তিনি আশা ছাড়ছেন না।

তিনি বলেন, খুব দ্রুতই বাংলাদেশে পেপ্যাল নিয়ে আসতে পারব আমরা। ওই দিন এক অনুষ্ঠানে এক পলক বলেন, পেপ্যাল নিয়ে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সুখবর দেব।

পলক বলেন, সরকার পেপ্যাল চালুতে আন্তরিক চেষ্টা করছে। পেপ্যালের সহযোগী জুমের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। পেপ্যালের ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও আমাদের সফল আলোচনা হয়েছে।

জুমের সঙ্গে লেনদেন চালুর কথা জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের চার-পাঁচটি ব্যাংকে ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলক লেনদেন চলছে।

সব মিলয়ে বছরজুড়ে এত প্রচেষ্টা, আশ্বাস ও পদক্ষেপের পরও ‘২০১৬’ সাল বাংলাদেশে পেপ্যাল চালুর বছর হলো না।

পেপ্যালে আশা ছাড়ছেন না পলক

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বিশ্বব্যাপী ফ্রিল্যান্সারদের অর্থ লেনদেনের জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠান পেপ্যালের বাংলাদেশে কার্যক্রম চালু নিয়ে আশাবাদের কথা শুনিয়েছেন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেশের ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন নিয়ে রোববার সরাসরি আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠানে তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী বলেন, খুব দ্রুতই বাংলাদেশে পেপ্যাল নিয়ে আসতে পারব আমরা।

ওই অনুষ্ঠানে এক শিক্ষার্থীর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পেপ্যাল নিয়ে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সুখবর দেব।

পলক বলেন, সরকার পেপ্যাল চালুতে আন্তরিক চেষ্টা করছে। পেপ্যালের সহযোগী জুমের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। পেপ্যালের ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও আমাদের সফল আলোচনা হয়েছে।

জুমের সঙ্গে লেনদেন চালুর কথা জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের চার-পাঁচটি ব্যাংকে ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলক লেনদেন চলছে।

ICT.Techshohor

এরআগে চলতি বছরের জুলাইয়ে বাংলাদেশে পেপ্যালের কার্যক্রম শুরু করতে সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি কথা নিশ্চিত করেছিলেন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটির তখনকার ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিদার মো. আব্দুর রব।

তিনি তখন জানিয়েছিলেন, ‘কার্যক্রম চালুর বিষয়ে খোঁজ খবর নিতে পেপ্যালের একটি দল কিছুদিন আগে ঢাকা ঘুরে গেছেন। দেশে এ সেবা চালুর বাস্তব পরিস্থিতিসহ নানা পর্যালোচনা ও অনুসন্ধানে ফিল্ড ওয়ার্কও করেছে তারা। তাদের হয়ে দেশে এ কাজ অব্যাহত রেখেছে ‘টোয়োন্টিফোর মি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান।’

সোনালী ব্যাংকের এমডি তখন জানান, ‘সব ধরণের পর্যবেক্ষণ শেষে খসড়া চুক্তি প্রস্তুত করে তাতে সই করে পেপ্যালের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল। সম্প্রতি পেপ্যাল কর্তৃপক্ষ আমাদের নিশ্চিত করেছে তারাও চুক্তিতে সই করে তা পাঠিয়ে দিয়েছেন। আশা করছি শিঘ্রই চুক্তিপত্রটি পেয়ে যাবো আমরা।’

সোনালী ব্যাংকের পক্ষে ওই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন ব্যাংকটির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) পর্যায়ের এক কর্মকর্তা।

paypal-bangladesh.-techshohor

তখন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘আমাদের ফ্রিল্যান্সারদের দীর্ঘদিনের দাবি পেপ্যালকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নেতৃত্বে ও তত্ত্বাবধানে আমরা দীর্ঘদিন ধরে পেপ্যালের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। আলোচনায় অনেক অগ্রগতি হয়েছে। আমরা আশাবাদী কিছুদিনের মধ্যে হয়তো একটা সুখবর দিতে পারবো।’

২০১৫ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পেপ্যালের ভাইস প্রেসিডেন্টের সাথে বৈঠক করেন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

ওই বৈঠকে পেপ্যাল না আনা গেলেও তার বদলে মানি ট্রান্সফার কোম্পানি জুম বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর কথা জানানো হয়।

প্রতিমন্ত্রী ওই বৈঠকে বাংলাদেশে বর্তমান ব্যবসায়িক সুযোগ-সুবিধা ও পলিসি সাপোর্টের বিষয়ে পেপ্যালকে আশ্বস্ত করেন।
পেপ্যালও বাংলাদেশ কার্যক্রম চালুর বিষয়ে নিজেদের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা ও বাংলাদেশে ব্যবসায়িক সম্ভাবনার বিষয়টি খতিয়ে দেখবে বলে তখন জানিয়েছে।

কিন্তু এত প্রচেষ্টা, আশ্বাস ও পদক্ষেপের পরও বাংলাদেশে এখনও পেপ্যাল চালু করা যায়নি।

কানাডিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের  ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এদেশের তরুণদেরকে প্রযুক্তিগত জ্ঞানের পাশাপাশি প্রগতির জ্ঞানেরও বিকাশ ঘটাতে হবে। তবেই আগামী ২০২১ সালের মধ্যে কাঙ্খিত বাংলাদেশের দেখা মিলবে।

তিনি এই আয়োজনে বাংলাদেশে ডিজিটাল উন্নয়ন, পরিবর্তন, সফলতা ও প্রতিবন্ধকতা নিয়ে একটি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা দেন।

এরপর তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সঙ্গে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়টিকে ডিজিটাল মার্কেটিং, মোবাইল গেইমিং ও অ্যাপস ডেভেলপিংসহ তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে যাবতীয় সহযোগিতা করবে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ।  এছাড়া এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ইস্টার্ন ব্যাংকের একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ শারাফাত। আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. উইলিয়াম এইচ. ড্যারেঞ্জার, উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. জেমস গোমেজ।

আল-আমীন দেওয়ান

পেপ্যাল দেশে এসেছে আগ্রহ দেখিয়েছে : অর্থমন্ত্রী

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেশে পেপ্যালের মাধ্যমে ই-পেমেন্ট সিস্টেম আরও সহজ ও ব্যাপকভাবে হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে নিত্যপ্রয়োজনীয় গৃহসেবা দেয়ার অনলাইন প্লাটফর্ম ‘সেবা ডট এক্সওয়াইজেড’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের ই-পেমেন্ট সিস্টেম নিয়ে এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। এ সময় হোটেলটিতে ‘বিপিও সামিট-২০১৬’ অনুষ্ঠিত হচ্ছিল।

অনলাইন পেমেন্টের ক্ষেত্রে দেশে যেসব সমস্যা রয়েছে তা তাড়াতাড়ি উঠে যাবে উল্লেখ করে আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, পেপ্যাল ইতোমধ্যে এসেছিল, আবার পিছিয়ে গিয়েছিল। পেপ্যাল আবার দেশে এসেছে এবং আগ্রহ দেখিয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, পেপ্যালের মাধ্যমে ই-পেমেন্ট সিস্টেমটাকে আরও সহজ করে দেয়া যাবে এবং এর মাধ্যমে ই-পেমেন্ট আরও ব্যাপকভাবে হবে।

তিনি বলেন,  দেশে অনেক ই-পেমেন্ট ও ই-রিসিপ্ট হচ্ছে। অনেকে বিদেশের সঙ্গেও হয়ত করছেন। তাড়াতাড়িই ই-পেমেন্টের ক্ষেত্রে বাধাগুলো কেটে যাবে।

Seba xyz

অনলাইন পেমেন্ট বাড়লে দুর্নীতির পরিমাণ কমবে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের একটা দুর্নাম আছে, আমরা দুর্নীতিপরায়ণ। এ দুর্নাম থেকে উত্তরণের সেরা উপায় ই-পেমেন্ট ও ই-রিসিপ্টস।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক সেবা ডট এক্সওয়াইজেডকে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ হতে সব ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।

তিনি বলেন, এমন কোনো একটি উদ্যোগই দেশের অর্থনৈতিক ও বৈশ্বিক পরিচিতিতে একক ভূমিকা রাখবে। যেমনটা এক অ্যাংরি বার্ডসের ভ্যালূ কোনো দেশের বার্ষিক বাজেট হতে বেশি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, বেসিসের সভাপতি তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার, ফেনক্স ভেঞ্চার ক্যাপিটালের অংশীদার ও এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক শামীম আহসান এবং  রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও সুপুন বীরাসিংহে।

আল-আমীন দেওয়ান

বাংলাদেশে দ্রুত কার্যক্রম শুরুর কথা জানাল পেপ্যাল

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বাংলাদেশে দ্রুতই কার্যক্রম শুরু করবে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাপী ফ্রিল্যান্সারদের অর্থ লেনদেনের জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠান পেপ্যাল।

পেপ্যাল আশা করছে, ‘বাংলাদেশে দ্রুত কার্যক্রম শুরু করতে পারবে তারা।’

দেশে কার্যক্রম শুরুর প্রক্রিয়ায় সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তির পর বিষয়টি নিয়ে পেপ্যালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে শুক্রবার এমনটি জানায় পেপ্যাল। অসমর্থিত কয়েকটি সূত্র বলছে, চলতি জুলাই মাসের শেষের দিকে বাংলাদেশে পেপ্যালের কার্যক্রম নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হতে পারে।

এর আগে দীর্ঘ জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশে পেপ্যালের কার্যক্রম শুরুর ক্ষেত্রে বড় অগ্রগতি হয়। টেকশহরডটকম প্রথম চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রতিবেদনও প্রকাশ করে।

paypal-techshohor (2)

তখন রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিদার মো. আব্দুর রব টেকশহরডটকমকে জানিয়েছিলেন, কার্যক্রম চালুর বিষয়ে খোঁজ খবর নিতে পেপ্যালের একটি দল কিছুদিন আগে ঢাকা ঘুরে গেছেন। দেশে এ সেবা চালুর বাস্তব পরিস্থিতিসহ নানা পর্যালোচনা ও অনুসন্ধানে ফিল্ড ওয়ার্কও করেছে তারা। তাদের হয়ে দেশে এ কাজ অব্যাহত রেখেছে ‘টোয়োন্টিফোর মি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান।

পেপালের প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশ ব্যাংক, সোনালী ব্যাংকসহ সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলাপ-আলোচনাও করে গেছে।

দিদার মো. আব্দুর রব টেকশহরডটকমকে বলেছিলেন , ‘সব ধরণের পর্যবেক্ষণ শেষে খসড়া চুক্তি প্রস্তুত করে তাতে সই করে পেপ্যালের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল। সম্প্রতি পেপ্যাল কর্তৃপক্ষ আমাদের নিশ্চিত করেছে তারাও চুক্তিতে সই করে তা পাঠিয়ে দিয়েছেন।

সোনালী ব্যাংকের পক্ষে ওই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন ব্যাংকটির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) পর্যায়ের এক কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, বছরের পর বছর হতে ফ্রিল্যান্সার ও আউটসোর্সিং খাতের সংশ্লিষ্টরা পেপ্যালের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। বিপরীতে পেপ্যালের বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করা নিয়ে এতদিন শুধু আশ্বাস পেয়েছেন তারা। কিন্তু তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে জুনাইদ আহমেদ পলক দায়িত্ব নেয়ার পর পেপ্যালকে আনতে নানাবিধ উদ্যোগ নিতে থাকেন তিনি। যেখানে বিষয়টি সরাসরি দেখভাল করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। অবশেষে বাংলাদেশে পেপ্যালের কার্যক্রম শুরুর বিষয়টি বাস্তবতায় রূপ নেয়।

আল-আমীন দেওয়ান

আরও পড়ুন: 

পেপ্যালে ফ্রিল্যান্সিং বিশ্বে দাপুটে হবে বাংলাদেশ

ইমরান হোসেন মিলন, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বিশ্বের জনপ্রিয় অনলাইন অর্থ আদান-প্রদান গেটওয়ে পেপ্যাল বাংলাদেশে চালুর বিষয়ে সম্প্রতি চুক্তি হয়েছে সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে। তারপর থেকেই সব মহলে গুঞ্জন- কী হবে, কী পেতে যাচ্ছি, কী পরিবর্তন আসবে? ফ্রিল্যান্সিং-আউটসোর্সিং বা ই-কমার্স কিংবা অন্য ক্ষেত্রে কী হবে?

খাতসংশ্লিষ্টরা ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে দেশের ফ্রিল্যাসিং ও আউটসোর্সিং খাতে। আর এ পরিবর্তন দেশের সামগ্রিক তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে প্রভাব ফেলবে।

বছরের পর বছর হতে ফ্রিল্যান্সার ও আউটসোর্সিং খাতের সংশ্লিষ্টরা পেপ্যালের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। বিপরীতে পেপ্যালের বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করা নিয়ে এতদিন শুধু আশ্বাস পেয়েছেন তারা। কিন্তু তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে জুনাইদ আহমেদ পলক দায়িত্ব নেয়ার পর পেপ্যালকে অানতে নানাবিধ উদ্যোগ নিতে থাকেন তিনি। যেখানে বিষয়টি সরাসরি দেখভাল করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। অবশেষে বাংলাদেশে পেপ্যালের কার্যক্রম শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

বাংলাদেশ অ্যসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) এর সভাপতি মোস্তাফা জব্বার টেকশহরডটকমকে বলেন, দেশে অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে পেপ্যাল নিয়ে আসা সরকারের একটি চমৎকার উদ্যোগ। পেপ্যাল আসলে অবশ্যই আমাদের দেশের প্রযুক্তির নানা ব্যবসা আরও সমৃদ্ধ হবে। আউটসোর্সিং আয় বাড়বে, ই-কমার্সের প্রসার হবে।

তবে পেপ্যাল দেশে কাজ শুরু করলে কোনো গণ্ডির মধ্যে আটকে না রাখার কথাও বলেন প্রবীণ এই তথ্যপ্রযুক্তিবিদ।

আরও পড়ুন: কার্যক্রম শুরু করবে পেপ্যাল, সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি নিশ্চিত

paypal-techshohor (2)

পেপ্যাল বাংলাদেশে নিয়ে আসার চেষ্টায় যারা সামিল ছিলেন তাদের অন্যতম বেসিসের সদ্য বিদায়ী সভাপতি, ফেনক্স ভেঞ্চার ক্যাপিটালের জেনারেল পার্টনার এবং ভেঞ্চার ক্যাপিটাল অ্যান্ড প্রাইভেট ইকুইটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এর প্রেসিডেন্ট শামীম আহসান।

তিনি টেকশহরডটকমকে বলেন, পেপ্যাল বাংলাদেশে কাজ শুরু করলে দেশের ই-কমার্সের একটা বৈশ্বিক রূপ দেওয়া সম্ভব হবে। আগে অনেক ক্লায়েন্ট ফ্রিল্যান্সারদের সঙ্গে ব্যবসা করতে চাইতো না পেমেন্ট অসুবিধার কারণে। সেই অসুবিধা কাটিয়ে দেশের প্রযুক্তি খাতের রপ্তানি আয় বাড়ানো সম্ভব হবে।

ফ্রিল্যান্সারদের একমাত্র দেশীয় মার্কেটপ্লেস বিল্যান্সারের প্রতিষ্ঠাতা শফিউল আলম বলেন, পেপ্যাল বাংলাদেশে আসলে অবশ্য কিছুটা সুবিধা পাবে ফ্রিল্যান্সাররা। কারণ দেখা যায় অনেক ক্লায়েন্ট আছে যারা পেপ্যালে ফ্রিল্যান্সারদের পেমেন্ট পরিশোধ করে থাকে।

তিনি বলেন, তবে পেপ্যালও আর দশটা পেমেন্ট গেটওয়ের মতোই। আরও ৫-৭ বছর আগে আসলে হয়তো এর গুরুত্ব আরও বেশি হতো। এখন অন্য গেটওয়েগুলোতেও লেনদেন বাড়ছে। তবে যেহেতু অনেক দেশে পেপ্যাল ব্যবহার করা হয়, সে হিসেবে দেশের ফ্রিল্যান্সাররা সুবিধাই পাবেন।

দেশের অন্যতম ই-কমার্স কোম্পানি বাগডুম ডটকমের প্রধান নির্বাহী সৈয়দা কামরুন নাহার বলেন, বিদেশ থেকে পণ্য কিনে তাদের প্রিয়জনদের কাছে পাঠান অনেকে। আগে পেমেন্টে দেখা যেত তারা যে গেটওয়ে ব্যবহার করছে তা আমরা রিসিভ করতে পারি না। একটা টেকনিক্যাল সমস্যা থাকতো। পেপ্যাল সেটার সমাধান করে বিদেশে দেশীয় ই-কমার্সের প্রসার ঘটাতে সহায়তা করবে। সরকার সেই সুযোগ নিশ্চয়ই রাখবে।

ই-কমার্স মার্কেটপ্লেস আজকের ডিল ডটকমের প্রধান নির্বাহী ফাহিম মাশরুর বলেন, পেপ্যাল নিয়ে অনেক কথা শোনা যাচ্ছে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে। তবে এটা শুধু বিদেশ থেকে অর্থ আনা হবে, নাকি অন্যকিছু করা যাবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। অনেকেই বলছেন ই-কমার্স বৈশ্বিক রূপ পাবে। কিন্তু তার জন্য সরকার এদেশে মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট অ্যাকসেপ্ট করবে কিনা সেটাও দেখতে হবে। যদি না করে তাহলে হয়তো শুধু ফ্রিল্যান্সিং আয়টা দেশে নিয়ে আসা যাবে।

রইচ আহমেদ নামের একজন ফ্রিল্যান্সার বলেন, আমি একটি ইউকে অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে আমার কাজের টাকা আনতাম। কিন্তু সেটাও বন্ধ করে দিয়েছে। তাই এখন টাকা আনতে অসুবিধা হচ্ছে। যদি দেশে পেপ্যাল আসে তবে ক্লায়েন্টদের সঙ্গে লেনদেন করে সুবিধা হবে। আগের চেয়ে আয়ও বাড়বে।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন আবুল কাশেম। প্রযুক্তিসেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিডিহায়ার ডটকমের এই প্রধান নির্বাহী টেকশহরডটকমকে বলেন, পেপ্যাল আসা নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য করছেন অনেকেই। তবে আমি দীর্ঘ নয় বছর ফ্রিল্যান্সিং, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি এটা আমাদের ব্যবসার প্রসার ঘটাবে।

তিনি বলেন, আমেরিকাতে একটা মানুষ বসে অনলাইনে যেসব সুবিধা পায় তা বাংলাদেশ থেকেও পাওয়া সম্ভব ভালো অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে থাকলে। এক কথায় আইটি সার্ভিস সেক্টরে অনেক পরিবর্তন আসবে।

ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) সভাপতি রাজীব আহমেদ টেকশহরডটকমকে বলেন, পেপ্যাল অবশ্যই ই-কমার্সের জন্য একটা ভালো দিকই আনবে। কারণ এখন ই-কমার্স লেনদেনের বেশিরভাগ হয় ক্যাশ অন ডেলিভারিতে। কিন্তু যখন পেপ্যাল আসবে তখন অনলাইনে পণ্য কিনে এর পারচেজ অনলাইনেই বেশি হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ই-কমার্সকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে পেপ্যাল ভূমিকা রাখতে পারবে। তখন প্রবাসীসহ অন্যান্য দেশের লোকজনও বাংলাদেশের পণ্য কিনতে পারবে সহজেই।

নেয়ামত উল্লাহ মোহান কাজ করেন ই-কমার্স নিয়ে। তার প্রতিক্রিয়া এমন যে, দেশে পেপ্যাল আসার কথা শুনছি সেই কয়েক বছর থেকে। আগে আসুক। তবে আসলে ই-কমার্সের লেনদেন বাড়বে। কারণ তখন দেশের বাইরের অনেক ক্রেতা পাওয়া যাবে।

আরও পড়ুন: