ঘরে বসেই ঘুরে আসুন জাতীয় জাদুঘর

তুসিন আহমেদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : আপনার স্কুল পড়ুয়া ছেলে মেয়েরা বায়না ধরলো জাতীয় জাদুঘরে ঘুরতে যাবে। সকালেই নিয়ে যেতে হবে শাহবাগের যাদুঘরে। অথচ অফিসে আপনার জরুরি কাজ। শুক্রবারের আগে আপনি সময় করে উঠতে পারবেন না। প্রতিদিন বায়না ধরে ও মন খারাপ করে কচিকাঁচাগুলো। এমন বিড়ম্বনা থেকে সাময়িক মুক্তি দেবে ‘ভার্চুয়াল গ্যালারি’।

ঘরে বসেই ছেলে মেয়েদের দেখাতে পারবেন জাদুঘরের ইতিহাস-ঐতিহ্যের নিদর্শনগুলো। কেননা সম্প্রতি জাতীয় জাদুঘরে যুক্ত হয়েছে ‘ভার্চুয়াল’ গ্যালারি। পরে সময় করে ঘুরে আসার আগে কিছুটা হলেও সান্তনা দিতে পারবেন তাদের।

এ ভার্চুয়াল গ্যালারির সাহায্যে কয়েক ক্লিকেই দেখে নিতে পারবেন জাতীয় জাদুঘরে থাকা ৩৬ গ্যালারিতে তিন হাজার বাঙালির ইতিহাস-ঐতিহ্যের নিদর্শনগুলো। ভার্চুয়াল গ্যালারি ব্যবহার করার উপায় তুলে ধরা হলো এ টিউটোরিয়ালে।

ু

কম্পিউটারে ব্রাউজার চালু করে আপনাকে যেতে হবে এ ঠিকানায়। যদি আপনার কম্পিউটারে ফ্ল্যাশ প্লেয়ার ইন্সটল করা না থাকে তাহলে ঠিকভাবে গ্যালারিটি প্রদর্শিত নাও হতে পারে। এ জন্য এ ঠিকানা থেকে ফ্ল্যাশ প্লেয়ারটি নামিয়ে ইন্সটল করে নিতে হবে।

ভার্চুয়াল গ্যালারির ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলেই দেখা যাবে জাতীয় জাদুঘরের প্রবেশ পথ। চমৎকার রেজুলেশনের ছবি দেখে অনলাইনেও অনেকটা বাস্তব মনে হবে জাদুঘরকে।

প্রবেশ পথে দেখা যাবে তীর চিহ্ন দেওয়া নির্দেশনা। তাতে ক্লিক করে জাদুঘরের ভিতরে প্রবেশ করা যাবে। প্রতিটি স্থানে তীর চিহ্ন দেয়া নির্দেশনায় দিয়ে বোঝানো হয়ে থাকে কোন দিকে যেতে হবে।

চাইলে মাউসটি ঘুরিয়ে জাদুঘরের ভিতরের চারপাশের ভিউ দেখা যাবে।

আপনি যতক্ষণ ভার্চুয়ালভাবে জাদুঘরের এক গ্যালারি থেকে আরেক গ্যালারি ঘুরবেন সঙ্গী হিসেবে থাকবে ব্যাকগ্রাউড মিউজিক। এ মিউজিকের কারণে মাউসের সাহায্যে গ্যালারিতে ঘুরে বেড়াতে বিরক্ত লাগবে না।

অনেক ঘোরাঘুরির পরও শেষ হচ্ছে না জাদুঘরের সব গ্যালারি দেখা। তাহলে কত বিশাল জাদুঘর এটি  কিংবা কোথায় কোন গ্যালারি রয়েছে? এ জন্য ওয়েবসাইটের ঠিক উপরে ম্যাপ নামে ফিচার রয়েছে।

ম্যাপ থেকে কোন গ্যালারি কোথায় রয়েছে তা যেমন জানা যাবে, তেমনি সরাসরি ম্যাপ থেকে কোনো গ্যালারিতে যেতে পারবেন। গ্যালারিগুলো নম্বর আকারে দেওয়া রয়েছে। নম্বরে ক্লিক করলেই গ্যালারিগুলো প্রদর্শিত হবে।

জাদুঘরের ভিতরে কাচের বক্স ঘেরা নানা নির্দেশনা রয়েছে। সেগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে মাউসের নিয়ে কাঁচের বক্সের উপর ক্লিক করলেই ছবিগুলো বড় আকারে ভেসে আসবে এবং নির্দেশনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত দেখে নিতে পারবেন।

এ ছাড়া ওয়েবসাইটের নিচের দিকে অনেকগুলো বাটন রয়েছে। যেগুলো ব্যবহার করে সহজেই মাউস নিয়ন্ত্রণের কাজটি করে ঘোরা যাবে জাদুঘরে।

গত মঙ্গলবার শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে জাদুঘরের এ ভার্চুয়াল গ্যালারি উদ্বোধন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্প ও জাতীয় জাদুঘরের যৌথ আয়োজনে যাত্রা শুরুর এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী।

তথ্যপ্রযুক্তি বিতর্কে শেষ হাসি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : জাতীয় তথ্যপ্রযুক্তি বিতর্ক উৎসবে চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ হাসি হাসলো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বিতার্কিক দল। বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে (বুয়েট) হারিয়ে জাতীয় পর্বের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে জাবি।

জাতীয় পর্যায়ের এই প্রতিযোগিতায় দেশের ১৬টি অঞ্চলের ৩২টি দল অংশ নেয়। তিন দিনের বিতর্ক শেষে শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তানে চ্যাম্পিয়নসহ জাতীয় পর্যায় থেকে আসা সব প্রতিযোগি দলগুলোকে পুরস্কার দেওয়া হয়।

বিজয়ী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্য এহসানুর রহমান আবীর, মাহবুবুল ইসলাম, সৈকত ও ইথার আদিব রহমান পান একটি করে ম্যাকবুক। আর প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠ বক্তা নির্বাচিত হন চ্যাম্পিয়ন দলের মাহবুবুল ইসলাম।

ICT debate-techshohor
সমাপণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই এলাহী চৌধুরী, বীর বিক্রম বলেন, বিতর্ক সত্যকে প্রতিষ্ঠা করে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়ও একটা যুক্তির মধ্য দিয়ে, তর্কের মধ্যে দিয়েই কিন্তু যুদ্ধ করে স্বাধীনতা ছিনিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। তোমাদের মতো তরুণরাও এই বিতর্কের মধ্য দিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে ভূমিকা রাখবে এমটাই প্রত্যাশা।

অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, তরুণদের সাহস নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। তথ্য-যুক্তি-প্রযুক্তি নির্ভর এমন এক দক্ষ তরুণ প্রজন্ম আমাদের বিনির্মাণ করতে হবে যারা ২০২১ সালের মধ্যে আমাদের মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে পারবে। আইসিটি খাতে কর্মসংস্থান আর বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে অনেক দেশের দৃষ্টান্ত হতে চাই আমরা।

সংসদ সদস্য এ ইয়াং বাংলার আহ্বায়ক নাহিম রাজ্জাক বলেন, দেশের তরুণদের নীতিনির্ধারণে যুক্ত করে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে বর্তমান সরকার । দেশের আনুমানিক ৬৪ শতাংশ জনগোষ্ঠী তরুণ । এই তরুণদের হাতে প্রযুক্তি এবং সেই প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে বাংলাদেশ।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, মিডিয়া আইনজীবী ও প্রাক্তন বিতার্কিক প্রশান্ত ভূষণ বড়ুয়া, সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন এর নির্বাহী পরিচালক সাব্বির বিন শামস, বাংলাদেশ ডিবেট ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি বুলবুল হাসান ।

‘তথ্য-যুক্তি-প্রযুক্তি’ স্লোগানে প্রথম বারের মতো এই আয়োজন করে আইসিটি বিভাগ, বাংলাদেশ ডিবেট ফেডারেশন এবং ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার। সার্বিক সহযোগিতায় ছিল সিআরআই।

এছাড়াও এই আয়োজনে পার্টনার হিসেবে ছিল তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক ওয়েবসাইট টেকশহরডটকম, মনাশ ইউনিভার্সিটি, অক্সফাম, প্র্যাকটিকাল আ্যাকশন, একাত্তর টিভি, ও ঢাকা ইউনিভার্সিটি আইটি সোসাইটি।

ইমরান হোসেন মিলন

মুক্তিযুদ্ধের ভার্চুয়াল মিউজিয়াম তৈরি প্রয়োজন : তৌফিক ইলাহী

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : প্রধানমন্ত্রীর সাবেক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম) বলেছেন, প্রযুক্তির জোয়ারে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ও ঐতিহ্য বর্তমান-ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে তুলে জনপ্রিয় করার জন্য ভার্চুয়াল মিউজিয়াম তৈরী করা প্রয়োজন।

বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘সুখী, সমৃদ্ধ, ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে ডিজিটাল প্রযুক্তির সার্বজনীন ব্যবহার এবং মুক্তিযুদ্ধ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।

Bijoy Dibos Seminar-TechShohor

সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওস্থ বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) মিলনায়তনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযু্ক্তি (আইসিটি) মন্ত্রণালয় আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন আইসিটি সচিব নজরুল ইসলাম খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন লে. কর্নেল (অব:) সাজ্জাদ আলী জহির (বীর প্রতীক)। স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইসিটি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কামাল উদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন আইসিটি যুগ্ম-সচিব শ্যামা প্রসাদ বেপারী।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, “স্বাধীনতার শপথে উজ্জীবিত হয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে, যাতে করে লাখো শহীদের স্বপ্ন একটি সমৃদ্ধ স্বদেশ বাস্তব রূপ লাভ করে। এজন্য দেশপ্রেমের মহান মন্ত্রে উজ্জীবিত হতে হবে। পূর্ববর্তী প্রজন্ম আমাদের একটি স্বাধীন স্বদেশ দিয়ে গিয়েছেন। এখন এদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব আমাদের”।