ভ্যাট-ট্যাক্স ছাড়া ইন্টারনেট দিন  

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : আসছে বাজেটে ভ্যাট-ট্যাক্স মুক্ত ইন্টারনেট, তথ্যপ্রযুক্তি পণ্য রপ্তানিতে নগদ সহায়তা, কর্পোরেট ট্যাক্স কমানোসহ বিভিন্ন দাবি জানিয়েছে তথ্যপ্রযু্ক্তি খাতের ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাদের সংগঠনগুলো।

বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে ২০১৭-১৮ সালের প্রাক-বাজেট আলোচনায় আলাদা আলাদা প্রস্তাবনা জমা দেয় খাতটির সংগঠনগুলো। রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় সংগঠনগুলোর পক্ষে মূল বক্তব্য রাখেন দেশের সফটওয়্যার খাতের শীর্ষ সংগঠন বেসিসের সভাপতি তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার।

সংগঠনগুলোর নেতারা ছাড়াও সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন এনবিআর সদস্য (মূসকনীতি) ব্যারিস্টার জাহাঙ্গীর হোসেন, মো. পারভেজ ইকবাল (করনীতি), মো. লুৎফর রহমান (শুল্কনীতি)।

মোস্তাফা জব্বার বক্তব্যে বলেন, ভ্যাট-ট্যাক্স ছাড়া ইন্টারনেট দিন। ভ্যাটের কাছে মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারে না।

বেসিস প্রণোদনা, কর, মূসক, শুল্ক বিষয়ে আলাদা আলাদা করে ১৫ বিষয়ে প্রস্তাবনা দিয়েছে।

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ইন্টারনেট হতে ভ্যাট-ট্যাক্স প্রত্যাহার। এছাড়া রয়েছে ডিজিটাল ডিভাইসের খুচরা বিক্রির ওপর কর ও ভ্যাট তুলে নেয়া। সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার রপ্তানিতে ৪০ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা । তথ্যপ্রযুক্তি সেবার সংজ্ঞার সম্প্রসারণ। কম্পিউটার, ট্যাব ও স্মার্টফোনসহ বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইসের যন্ত্রাংশের ওপর কর ও ভ্যাট না থাকা।

basis.nbr

বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস) তাদের প্রস্তাবনায় ছয়টি বিষয়ের উল্লেখ করছে।

এতে রয়েছে কম্পিউটার ও কম্পিউটার যন্ত্রাংশ এবং সংশ্লিষ্ট যাবতীয় হার্ডওয়্যার সামগ্রী আমদানি পরবর্তী পর্যায়ে সরবরাহ বা যেকোনোভাবে সরবরাহ অথবা বিক্রির উপর প্রযোজ্য মূসক হতে অব্যহতি প্রদান

কম্পিউটার ও কম্পিউটার যন্ত্রাংশ স্থানীয়ভাবে উৎপাদনকারীদের প্রদত্ত মূসক অব্যাহতি সুবিধা ২০২৪ সাল পর্যন্ত বহাল রাখা। ২৮ ইঞ্চি পর্যন্ত কম্পিউটার মনিটর হতে শুল্ক প্রত্যাহার।

ওয়াই-ফাই,ওয়াইম্যাক্স, রাউটার, ওয়াইম্যাক্স ল্যানকার্ডসহ ইত্যাদি কম্পিউটার পণ্য হিসেবে শুল্কায়ন ।

ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) এর প্রস্তাবনায় রয়েছে পাঁচটি বিষয়।

আইএসপি সেবা উৎস কর আওতামুক্ত করা। আইটি এনাবেল সার্ভিসের তালিকায় বাদ পড়া বিভিন্ন খাত অন্তর্ভুক্তি।

তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কর্পোরেট ট্যাক্স কমিটি ১৮ শতাংশ করা। ইন্টারনেট মডেম, ইথারনেট ইন্টারফেস কার্ড, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সুইচ, হাব, রাউটার, সার্ভার ব্যাটারিসহ প্রযুক্তিপণ্যের ভ্যাট ও শুল্ক প্রত্যাহার।

আল-আমীন দেওয়ান

অর্থমন্ত্রীর চোখে ডিজিটাল বাংলাদেশের হালচিত্র

অনন্য ইসলাম, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : গত ছয় বছরে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বাজেট বরাদ্দ ১৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এটিই সরকারকে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের দিকে দ্রুতগতিতে এগিয়ে দেবে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

বৃহস্পতিবার বাজেট বক্তৃতার সময় মুহিত বরাবরের মতোই ডিজিটাল বাংলাদেশ নিয়ে আলাদা উপস্থাপনা দেন।

ডিজিটাল বাংলাদশের পথে অগ্রযাত্রা : হালচিত্র-২০১৫’ শীর্ষক প্রকাশনায় তিনি বলেন, সামনের বাজেটর জন্য তথ্যপ্রযুক্তি খাতে তিনি ৬ হাজার ১০৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন। যা তাদের সরকারের প্রথম বাজেট ২০০৯-১০ অর্থবছরে ছিল মাত্র ২ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকা।

অর্থমন্ত্রী বলেছেন, এটি ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় তাদের সরকারের দৃঢ় অঙ্গিকারের প্রতিফলন।

অর্থমন্ত্রীর হালচিত্র থেকে দেখা যায়, ২০১০-১১ অর্থবছরে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ৩ হাজার ১৬০ কোটি টাকা। যা পরের অর্থবছরে হয় ৩ হাজার ৩১৬ কোটি টাকা।

budget

২০১৩-১৪ অর্থবছরে এটি বৃদ্ধি পেয়ে হয় ৪ হাজার ৬৮৮ কোটি। কিন্তু পরের অর্থবছরের জন্য তা আবার খানিকটা কমে হয় ৪ হাজার ৬৬৯ কোটি।

আর কেবল আইসিটির উন্নয়ন বরাদ্দ ধরলে ২০১০-১১ অর্থবছরে যেখানে অংকটি ছিল ১ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকায় যেখানে ছয় বছরে তা আড়াই গুণের মতো বৃদ্ধি পেয়ে প্রস্তাবিত ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭০৭ কোটিতে।

বরাদ্দের এই সমৃদ্ধির কারণেই কম্পিউটার সমিতির সাবেক সভাপতি মোস্তাফা জব্বার বলছেন, নানা সমালোচনার পরেও এই খাতের এই বরাদ্দের কারণেই খুশি না হয়ে কোনো ‍উপায় নেই।

তথ্যপ্রযুক্তি বরাদ্দের ক্ষেত্রে অবশ্য শুধু আইসিটি অধিদপ্তরের আওতাধীন বরাদ্দ নয় বরং সকল মন্ত্রনালয়ের অধীনে যে কোনো তথ্যপ্রযুক্তি কার্যক্রমকেই এর আওতায় আনা হয়েছে।

এএমএ মুহিত বলেন, মানব সম্পদ উন্নয়নে সরকার ই-শিক্ষায় জোর দিয়েছে। শিক্ষায় তথ্যপ্রযুক্তি মাস্টার প্ল্যান (২০১২-২০২১) বাস্তবায়নের কাজ চলছে।

অর্থমন্ত্রী তাদের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বলেন, ২০১৮ সালের মধ্যে দেশে টেলিডেনসিটি শতভাগ নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করছেন তারা। যা বর্তমানে ৮০ শতাংশে রয়েছে। একইভাবে এই সময়ে ইন্টারনেট ডেনসিটি তারা নিয়ে যেতে যান ৫৫ শতাংশে।

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, তাদের সরকার বাংলাদেশকে তথ্য প্রযুক্তিখাতের একটি হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্যে কাজ করে যাচ্ছে। আর এ জন্য নেটওয়ার্কিংকে দেওয়া হচ্ছে সর্বোচ্চ গুরুত্ব।