ফ্রিল্যান্সিং-আউটসোর্সিংয়ে কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছে সরকার

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : পেশাদার খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠা এবং তা হতে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে ফ্রিল্যান্সিং-আউটসোর্সিংয়ের জন্য কর্মপরিকল্পনার তৈরি করছে সরকার।

আউটসোর্সিংয়ের বর্তমান ও ভবিষ্যত চ্যালেঞ্জের সঙ্গে সম্ভাবনাগুলো তুলে আনা, ফ্রিল্যান্সিংকে শৃঙ্খলায় আনা, পেশাদার ও দক্ষ জনবল তৈরি করা, প্রতিষ্ঠান তৈরির দিকনির্দেশনা থাকবে এতে।

কর্মপরিকল্পনা তৈরিতে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে দেশের সফটওয়্যার খাতের শীর্ষ সংগঠন বেসিসকে। তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সহায়তায় তিন মাসের মধ্যে এটি তৈরি করে তা সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের সর্বোচ্চ ফোরাম ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্সে জমা দিতে বলা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরীর সভাপতিত্বে গত ২৭ মার্চ ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্সের নির্বাহী কমিটির সভায় এই নির্দেশনা দেয়া হয়।

outsource

বেসিস সভাপতি তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার টেকশহরডটকমকে জানান, কর্মপরিকল্পনা তৈরিতে ইতোমধ্যে বেসিস উদ্যোগ নিয়েছে। গবেষণা ও জাতীয় জরিপের মাধ্যমে এটি করা হবে। ফ্রিল্যান্সিং-আউটসোর্সিংয়ে কোথায় কী চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা রয়েছে তা দেখা হবে।

তিনি বলেন, খাতটিতে দক্ষ জনবলের অভাব রয়েছে। শুধু মার্কেটপ্লেসে অ্যাকাউন্ট খুলে কোনোভাবে ৫-১০ ডলার আয় করলেই দক্ষতা বোঝায় না। দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে পেশাদার কাজে সত্যিকার দক্ষতার প্রয়োজন আছে। এটা ডিজিটাল বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্সের এই সদস্য বলেন, ট্রেনিংয়ের ক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের প্রয়োজন আছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয়ে এই ফ্রিল্যান্সিং-আউটসোর্সিংয়ের যে ভূমিকার কথা বলছি সেখানে সুস্পষ্ট ধারণার দরকার আছে। এখন কোন অবস্থায় আছি আর কীভাবে এগুচ্ছে বিষয়টি তা পরিস্কার না হলে লক্ষ্য অর্জনের ফ্রিল্যান্সিং-আউটসোর্সিংয়ের অবদানও অস্পষ্ট থাকবে, এটি টেকসইও হবে না।

তিনি বলেন, অনেকেই ব্যক্তি পর্যায়ে কাজ করে এক সময় হারিয়ে যাচ্ছেন। ব্যক্তি হতে প্রতিষ্ঠান হচ্ছে না। যারা ভাল কাজ জানেন, দক্ষ তারা আবার পরবর্তী প্রজন্ম তৈরিতে অবদান রাখছে না। মার্কেটটা শেয়ারিংয়ে গতি নেই।

মোস্তাফা জব্বার বলছেন, ৪ হাজার ক্যাটাগরির কাজ রয়েছে। স্পেশালাইজড কাজের জন্য দক্ষতা কম। এখানে দক্ষতা প্রয়োজন। অর্ধদক্ষ বা অ্যাকাউন্ট খুলতে পারার জনবল বরং মার্কেটপ্লেসগুলোর জন্য বিপদজনক।

সার্বিক বিষয়গুলো নিয়েই এই কর্মপরিকল্পনা করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, তিন মাসের মধ্যেই কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগকে দেয়া হবে। বিভাগ এটি টাস্কফোর্সে উপস্থাপন করবে।

ইন্টারনেটে ভ্যাট চায় না সরকারও

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ইন্টারনেটে ভ্যাট চায় না সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের সর্বোচ্চ ফোরাম ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্স।

আর এই ভ্যাট কমাতে বা অবলোপন করা বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দিয়েছে টাস্কফোর্স নির্বাহী কমিটি। যেখানে বাস্তবায়নকারী হিসেবে অর্থ মন্ত্রণালয়কেও উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ২৭ মার্চ ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্সের নির্বাহী কমিটির সভায় সদস্যরা ইন্টারনেটের বিলের উপর যে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয় তা কমানো বা অবলোপন করার আলোচনা করেন। বিষয়টি উত্থাপন করেন তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার।

এ সময় সভায় উপস্থিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (বোর্ড প্রশাসন) এস এম আশফাক হুসেন জানান, ‘এ বিষয়টি ভ্যাট আইন দ্বারা নির্ধারিত। তবে নতুন ভ্যাট আইনটি ২০১৭ সালের জুলাই হতে কার্যকর হবে।’

এরপর নির্বাহী কমিটি রাজস্ব বোর্ডকে এই ভ্যাট কমানো বা অবলোপনের নির্দেশনা দেন। টাস্কফোর্সের ৭ম ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী।

ইন্টারনেটের উপর ভ্যাট তুলে দেয়ার দাবি সাধারণ মানুষসহ দেশের তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিকম খাতের সকল ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাদের।

internet service providers-techshohor

দেশের সফটওয়্যার খাতের শীর্ষ সংগঠন বেসিস-এর সভাপতি মোস্তাফা জব্বার টেকশহরডটকমকে জানান, ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ইন্টারনেট হচ্ছে মহাসড়ক। এই মহাসড়কে টোল থাকা উচিত নয়। জনগণের ইন্টারনেট ব্যবহারে কোনোভাবেই ভ্যাট থাকবে না। এই ভ্যাট তুলে দেয়ার দাবি দীর্ঘদিনের এবং সকলের।

এই নির্দেশনার জন্য টাস্কফোর্সকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, এখন বাস্তবায়নকারীরা এর গুরুত্ব বুঝবেন আশা করছি।

অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকমিউনিকেশনস অপারেটরস অব বাংলাদেশ (অ্যামটব) এর মহাসচিব এবং প্রধান নির্বাহী টিআইএম নূরুল কবীর টেকশহরডটকমকে জানান, ইন্টারনেট ব্যবহারের ৯৫ শতাংশ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে হয়ে থাকে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন ধাপে ভ্যাট দেয়া হচ্ছে। যার চাপ প্রান্তিক মানুষের উপর পড়ছে। মোবাইল ইন্টারনেটের উপর ভ্যাট ও ট্যাক্স রহিত করা উচিত।

ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) এর সভাপতি এম এ হাকিম টেকশহরডটকমকে বলেন, ইন্টারনেট হতে সকল ভ্যাট-ট্যাক্স উঠিয়ে দেয়া হোক। এই দাবি দীর্ঘদিনের। যদি একান্তই ভ্যাট একেবারে তুলে না নেয়া যায় তাহলে অন্যান্য ইউটিলিটি সাভিসে যেমন নেয়া হয় ইন্টারনেটের ক্ষেত্রেও তেমন নেয়া হোক।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্য) এর সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ হোসেন টেকশহরডটকমকে জানান,  আউটসোর্সিং সেবার ক্ষেত্রে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ইন্টারনেট। এখন এই ইন্টারনেট কিনতে হচ্ছে ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিয়ে আর ক্লায়েন্টের কাছে সেবা হিসেবে নিতে পারছি সাড়ে ৪ শতাংশ। মওকুফ করলে খুবই ভাল কিন্তু যদি তা না হয় তাহলে এটা অন্তত সাড়ে ৪ শতাংশ করা হোক।

বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস) এর পরিচালক শাহিদ-উল-মুনীর টেকশহরডটকমকে জানান, ইন্টারনেটের ভ্যাট মুক্তের দাবির বিকল্প নেই। দেশের তথ্যপ্রযুক্তি ইকোসিস্টেমে এই ইন্টারনেটের ভ্যাট অনেককিছুর খরচ বাড়িয়ে দেয়। এটি থাকা উচিত নয়।

ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) এর সভাপতি রাজীব আহমেদ টেকশহরডটকমকে জানান, ই-কমার্স খাতের অন্যতম ভিত্তি হল এই ইন্টারনেট। সেখানে ভ্যাট একটা প্রতিবন্ধকতা হিসেবেই আছে। এটি তুলে নিলে ই-কমার্সের সম্প্রসারণ দ্রুতগতির হবে।

ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের মানোন্নয়নে এক মাসের মধ্যে কর্মপরিকল্পনা

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবার মানোন্নয়নে এক মাসের মধ্যে কর্মপরিকল্পনা চাইছে সরকার। আর সে কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী জনগণকে নিরচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা দিতে উদ্যোগ নেয়া হবে।

ব্রডব্যান্ড সেবায় বর্তমান সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতাগুলো খতিয়ে দেখে এগুলো কাটিয়ে উঠার পথ দেখাতে বলা হয়েছে এতে।

গত ২৭ মার্চ ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্সের নির্বাহী কমিটির সভায় সদস্যরা নিরবিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা এবং ডটবিডি ও ডটবাংলা নিবন্ধনের যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে সেগুলো আলোচনা করেন।

এ সময় বিটিসিএল প্রতিনিধি জানান, ডোমেইন অনলাইনে নিবন্ধন করা যায়।

broadband telecom_techshohor

এরপর টার্স্কফোর্স বিটিসিএলকে এক মাসের মধ্যে এসব বিষয়ে একটি কর্মপরিকল্পনা ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মাধ্যমে উপস্থাপন করতে বলে।

টাস্কফোর্সের ৭ম ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। সভায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ হতে সচিব শ্যামসুন্দর সিকদার এবং বিটিসিএলের এমডি মাহফুজ উদ্দিন আহমদ, পরিচালক মো: রুহুল কুদ্দুসসহ তিনজন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

বিটিসিএলের ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা ও ডোমেইন নিবন্ধন নিয়ে গ্রাহকরা প্রায়ই অভিযোগ করে থাকেন।

ব্যান্ডউইথ আমদানির যৌক্তিকতা জানতে চাইছে সরকার

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : নিজেদের ব্যান্ডউইথ অব্যবহৃত থাকার পরও আন্তর্জাতিক টেরেস্ট্রিয়াল ক্যাবল (আইটিসি) অপারেটরগুলোর মাধ্যমে তা আমদানির প্রয়োজনীয়তা জানতে চাইছে সরকার।

বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল) এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগকে এই ব্যান্ডউইথ আমদানির প্রয়োজনীতা পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে।

দেশে এখন মোট ব্যান্ডউইথের চাহিদা ৪০০ জিবিপিএস।

বর্তমানে দেশি ব্যান্ডউইথে বিএসসিসিএলের সক্ষমতা রয়েছে ৩০০ জিবিপিএস। আর আইটিসিগুলো ভারত হতে আমদানি করে ২০০ জিবিপিএস।

খুব সম্প্রতি দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলে সংযুক্ত হওয়ায় দেশি ব্যান্ডউইথে আরও ১ হাজার ৫০০ জিবিপিএস যোগ হবে ।

আর এই বিপুল পরিমাণ অব্যবহৃত দেশীয় ব্যান্ডউইথ থাকার পরও আইটিসিগুলোর ব্যান্ডউইথ আমদানির প্রয়োজনীয়তা কী, তা পরীক্ষা করে বিএসসিসিএল ও টেলিযোগাযোগ বিভাগকে সরকারের কাছে প্রস্তাব উপস্থাপন করতে নির্দেশনা দিয়েছে ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্সের নির্বাহী কমিটি।

জানা যায়, গত ২৭ মার্চ কমিটির সভায় বিষয়টি উত্থাপন করেন বেসিস সভাপতি তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার। এরপর আলোচনা শেষে নির্বাহী কমিটি এই প্রয়োজনীয়তা পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয়।

bandwidth import

ব্যান্ডউইথ আমদানিকারক কোম্পানি ফাইবার অ্যাট হোমের চিফ স্ট্রাটেজিক অফিসার সুমন আহমেদ সাবির টেকশহরডটকমকে জানান,  ইন্টারনেট আমাদের জন্য লাইফ লাইন। আমাদের কোনো বিকল্প ছিল না, অনেক সেবার জন্য এক মিনিটও ইন্টারনেট নাই সেটা আমরা ভাবতে পারি না। আইটিসিগুলো সেই ব্যাকআপ।’

‘একটা সাবমেরিন ক্যাবল কাটা পড়লে ঠিক করতে এক মাস লাগে। যখন দেশে ক্যাবল একটি ছিল তখন বাংলাদেশ ভীষণ ঝুঁকির জায়গায় ছিল। আইটিসি থাকায় আমরা ভারত হয়ে আরও ৭-৮টি সাবমেরিন ক্যাবল দিয়ে সংযোগ নিরবিচ্ছিন্ন রাখার সুযোগ পেয়েছি। আইটিসি আসার পর বাংলাদেশ কখনও শতভাগ ব্লাকআউটে যায়নি।’

ইন্টারনেট যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বিডিনগ বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান জানান, ‘এখন দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল আসার পর আইটিসিগুলোর আগে যেমন গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ছিল সেটা কমেছে তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু তারপরও দুটি সাবমেরিন ক্যাবল ইন্টারনেট নিরবিচ্ছিন্নতার জন্য যথেষ্ট নয়। দুটি সাবমেরিন ক্যাবল একসঙ্গে কেটে যাওয়ার উদাহরণ পৃথিবীতে হরহামেশা আছে। সবকিছুর পরও আইটিসিগুলো না থাকলে একটা ঝুঁকির কারণ তো থেকেই যাচ্ছে।’

এদিকে ব্যান্ডউইথ আমদানি নিয়ে আইটিসি অপারেটরগুলোও টিকে আছে কোনোমতে। ট্রাফিক না থাকা ও আমদানিকৃত ব্যান্ডউইথের চেয়ে দেশি ব্যান্ডউইথের দাম কম হওয়া, সরবরাহ ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন কারণে ধুঁকছে তারা।

ভারত হতে ব্যান্ডউেইথ আমদানি করে থাকে নভোকম লিমিটেড, ওয়ান এশিয়া-এএইচএলজেভি, বিডি লিংক কমিউনিকেশন লিমিটেড, ম্যাংগো টেলিসার্ভিসেস লিমিটেড, সামিট কমিউনিকেশন লিমিটেড এবং ফাইবার অ্যাট হোম লিমিটেড।

আইটিসিগুলো ভারত হতে ২০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ আমদানি করে। এর মধ্যে সামিট কমিউনিকেশন ৯০ এবং ফাইবার অ্যাট হোম ৮০ জিবিপিএস আনে। বাকী ৪টি কোম্পানি মিলে ৩০ জিবিপিএসের মতো আমদানি করে থাকে।

ম্যাংগো টেলিসার্ভিসেস লিমিটেড ও বিডি লিংক কমিউনিকেশন লিমিটেডের ট্রাফিক নাই বললেই চলে। ওয়ান এশিয়া-এএইচএলজেভির ট্রাফিকও কম।

২০০৬ সালে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো সাবমেরিন ক্যাবল ‘সি-মি-ইউ-৪’ এ যুক্ত হয়, যার মাধ্যমে ২০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ পাওয়ার সক্ষমতা হয়। এরপর সম্প্রতি কারিগরি উন্নতির মাধ্যমে ক্যাবলের ক্ষমতা ১০০ জিবিপিএস বাড়ানো হয়েছে।

এখন বিএসসিসিএল এর ব্যান্ডউইথের মধ্যে ১৭৬ জিবিপিএস ব্যবহৃত হচ্ছে যেখানে ভারতে রপ্তানি করা ১০ জিবিপিএসও রয়েছে।

ইন্টারনেটের দাম কমাতে কস্ট মডেলিংয়ে বিটিআরসিকে এক মাস সময়

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : গ্রাহকের কাছে কম দামে ইন্টারনেট দিতে বিটিআরসিকে এক মাসের মধ্যে ‘কস্ট মডেল’ দিতে বলা হয়ছে।

এর আগে ২০১৬ সালের শুরুতে এই কস্ট মডেল তৈরির উদ্যোগ নিলেও এখনও তা হয়নি। চলতি বছরের ২৭ মার্চ ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্সের নির্বাহী কমিটির সভায় সংস্থাটিকে আগামী এক মাসের মধ্যে এই মডেল তৈরি করে তা জমা দিতে বলা হয়েছে।

বিটিআরসির প্রতিনিধি কমিটিকে জানান, গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেট সেবার মূল্য কমাতে বিটিআরসির যে কস্ট মডেল উপস্থাপনের কথা ছিল তা এখনও প্রস্তুত করা সম্ভব হয়নি।

এরপর কমিটি সংস্থাটিকে এই নির্দেশনা দেয়। বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে বিটিআরসির সঙ্গে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগকেও বলা হয়েছে।

internet

এই সার্ভে হলে ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে অপারেটরের সর্বনিম্ন এবং সর্বোচ্চ খরচ সম্পর্কে নিয়ন্ত্রক সংস্থা পরিষ্কার ধারণা পাবে। এরপর তার ওপর ভিত্তি করেই মোবাইল ফোন অপারেটর এবং অন্যান্য অপারেটরদের প্যাকেজ অনুমোদন দিতে পারবে তারা।

এখন পুরোপুরি ধারণাগত অবস্থান থেকে ইন্টারনেট প্যাকেজের অনুমোদন দেয়া হয়। এক্ষেত্রে আগের প্যাকেজের তথ্য এবং খরচকেই মূলত বিবেচনায় নেয়া হয়ে থাকে।

এর আগে ভয়েস কলের ক্ষেত্রে কস্ট মডেলিং করেছে বিটিআরসি। ইন্টারনেট ডেটার ক্ষেত্রে কয়েকবার উদ্যোগ নিয়েও শেষ পর্যন্ত কস্ট মডেলিং আর করা হয়ে ওঠেনি। সর্বশেষ ২০১৬ সালের শুরুতে উদ্যোগ নেয়া হয় কিন্তু সেটা ১৩ মাসেও হয়নি।

মাঝে একবার আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের কাছে এ বিষয়ে একজন বিশেষজ্ঞ পরামর্শক চেয়েছিল বিটিআরসি। কিন্তু বিনা খরচায় আইটিইউ এই পরামর্শক দিতে চায়নি।

অনেক আলোচনার পর প্রায় ত্রিশ লাখ টাকা খরচের মাধ্যমে আইটিইউ থেকে পরামর্শ আসার কথা ছিল। কিন্তু সেটি অগ্রগতি আর জানা যায়নি।

বিটিআরসি কর্মকর্তারাই জানিয়েছেন, উন্নত বিশ্বের কোনো দেশই কস্ট মডেলিং ছাড়া ইন্টারনেটের প্যাকেজ সাজায় না। এক্ষেত্রে একেক দেশ একেক পদ্ধতি অবলম্বন করে। কিন্তু অপারেটরদের খরচ, বিনিয়োগ এবং লাভের অংক ধরেই পরে প্যাকেজের মূল্য নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।

সব সিইওদের ডেকেছেন তারানা

অনন্য ইসলাম, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেশের টেলিযোগাযোগ খাতের শীর্ষ কোম্পানীগুলোর প্রধান নির্বাহীদের ডেকে পাঠিয়েছেন টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম

ডিজিটাল টাক্সফোর্সের দ্বিতীয় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা সবাইকে অবহিত করতে এ বৈঠক ডাকা হয়েছে।

রোববার সকালে সচিবালয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে প্রতিমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক হবে। এতে সরকারি টেলিকম কোম্পানি ছাড়াও সব মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর প্রধান নির্বাহীদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।

tarana halim-techshohor

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দীর্ঘদিন পর ডিজিটাল বাংলাদেশ টাক্সফোর্সের দ্বিতীয় বৈঠকে ইন্টারনেটের দাম কমানোসহ টেলিযোগাযোগ খাতের বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত হয়। প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছু বিষয়ে নির্দেশনা দেন।

এসব সিদ্ধান্ত এ বৈঠকে সকলকে অবহিত করা হবে বলে জানিয়েছেন টেলিযোগাযোগ বিভাগের কর্মকর্তারা। তবে আরও কয়েক দিন আগে এ বৈঠক ডাকা হয়।

এর আগে সরকারি কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তারানা হালিম। আবার মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর সঙ্গেও বিক্ষিতপ্তভাবে বৈঠক করেছেন। তবে একসঙ্গে এই প্রথমবারের মতো বসতে যাচ্ছেন তিনি।

বৈঠকে ইন্টারনেটের মূল্য কমানোর বিষয়ে আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।

তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী সেদিনের বৈঠকে মোবাইল সিমের সঠিক নিবন্ধনের ক্ষেত্রে গাফিলতির কথাও বলেন। এ বিষয় নিয়েও বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হবে বলে সূত্র বলছে।

তবে তারানা হালিম বলেছেন, মন্ত্রনালয়ে যোগ দেওযার বেশিদিন হয়নি। তাই সব কিছু ভালো করে বোঝার জন্য সকলের সঙ্গে কথা বলতে হবে। এ বৈঠক তারই অংশ।

আরও পড়ুন: 

শিক্ষার ডিজিটালাইজেশনে রোডম্যাপ আসছে

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : শিক্ষার্থীদের জন্য ডিজিটাল কনটেন্ট ও ডিজিটাল ডিভাইস নিশ্চিত করে শিক্ষার সবগুলো ধাপে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার প্রচলনে রোডম্যাপ তৈরি করবে সরকার।

ডিজিটাল বাংলাদেশের উপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থার লক্ষ্যে শিক্ষা ক্ষেত্রে ডিজিটালাইজেশনের রোডম্যাপ হবে এটি। ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্সের দ্বিতীয় সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে এই রোডম্যাপ তৈরি করতে বলা হয়।

digital education

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার তাঁর কার্যালয়ের চামেলী হলে অনুষ্ঠিত এই সভায় টাস্কফোর্সের সাথে যুক্ত সরকারের মন্ত্রণালয়,দপ্তর ও সংস্থার পাশাপাশি এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি(বিসিএস), বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসসহ (বেসিস) বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞরা যোগ দেন।

সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দ্রুতগতির ইন্টারনেট দেয়া, মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত সব পাঠ্যপুস্তকের ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করা, সব শিক্ষার্থীর হাতে ডিজিটাল ডিভাইস পৌঁছানো, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, ই-শিক্ষার বাস্তবায়নসহ শিক্ষার ডিজিটালাইজেশন হবে এই রোডম্যাপে।

আর এই রোডম্যাপ অনুয়ায়ী ২০২১ সালের মধ্যেই বাস্তবায়ন হবে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থা।

টাস্কফোর্স সদস্য তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার টেকশহরডটকমকে জানান, ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়নে এই রোডম্যাপ কার্যকর ভূমিকা রাখবে। আশা করা যায় ২০২১ সালের মধ্যেই বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি ডিজিটাল হবে।

তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবসা উন্নয়নে ৪ দেশে কনসালট্যান্ট নিয়োগ

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবসার বাজার সম্প্রসারণ ও উদ্যোক্তাদের জন্য বিনিয়োগ আকর্ষণে লবিস্ট হিসেবে চার দেশে বিজনেস ডেভেলপমেন্ট কনসালট্যান্ট নিয়োগ দেয়া হচ্ছে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্সের দ্বিতীয় সভায় এই কনসালট্যান্ট নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালি, লন্ডন, টোকিও এবং দুবাইয়ে ওই দেশের স্থানীয় কাউকে এই কনসালট্যান্ট হিসেবে নিয়োগ দেয়ার কথা বলা হয়েছে সভায়।

Silicon_valley_title

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার তাঁর কার্যালয়ের চামেলী হলে অনুষ্ঠিত এই সভায় টাস্কফোর্সের সাথে যুক্ত সরকারের মন্ত্রণালয়,দপ্তর ও সংস্থার পাশাপাশি এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি(বিসিএস), বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসসহ (বেসিস) বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞরা যোগ দেন।

টাস্কফোর্স সদস্য ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) এর সভাপতি শামীম আহসান টেকশহরডটকমকে জানান, টাস্কফোর্সের সভায় যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালি, লন্ডন, টোকিও এবং দুবাইয়ে বিজনেস ডেভেলপমেন্ট কনসালট্যান্ট নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবসার সম্প্ররাণ ও বিনিয়োগকারীদের কাছে আমাদের সম্ভাবনা এবং উদ্যোগগুলো তুলে ধরতে এই কনসালট্যান্টরা কাজ করবে বলে জানান এই টাস্কফোর্স সদস্য।

টেলিটককে টিকিয়ে রাখতে পিপিপি

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখতে এবং মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপে(পিপিপি) যাচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটক।

বৃহস্পতিবার ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্সের দ্বিতীয় সভায় এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।

সভায় প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় টেলিটককে পিপিপিতে নেয়ার প্রস্তাব করেন। এরপর এ বিষয়ে কথা বলেন এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমেদ ও বেসিস সভাপতি শামীম আহসান।

প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রায়ত্ত্ব মোবাইল ফোন অপারেটরের উন্নয়নের জন্য বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।

teletalk

টাস্কফোর্স সদস্য বেসিস সভাপতি শামীম আহসান টেকশহরডটকমকে জানান, প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় টেলিটককে পিপিপিতে নেয়ার প্রস্তাব করলে প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।

সভায় টাস্কফোর্স সদস্য এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমেদ বেসরকারি খাত থেকে সব রকমের সহযোগিতা করা হবে বলে নিশ্চিত করেন।

টাস্কফোর্সের আরেক সদস্য তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার টেলিটকের পিপিপির বিষয়টি টেকশহরডটকমকে নিশ্চিত করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তাঁর কার্যালয়ের চামেলী হলে অনুষ্ঠিত এই সভায় টাস্কফোর্সের সাথে যুক্ত সরকারের মন্ত্রণালয়,দপ্তর ও সংস্থার পাশাপাশি এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি(বিসিএস), বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসসহ (বেসিস) বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞরা যোগ দেন।

উল্লেখ্য, চতুর্থ প্রযুক্তির (ফোরজি) মোবাইল ফোন সেবা দিতে বিনিয়োগকারী খুঁজছিলো অপারেটরটি।

টেলিটক সম্প্রতি এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনকে বিনিয়োগকারী খুঁজে দেওয়ার কথা বলে। জবাবে কমিশন সরকারি বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে ফোর জি চালুর পরামর্শ দিয়েছিলো।

বর্তমানে টেলিটকের থ্রিজি গ্রাহক ১৫ লাখ।

ইন্টারনেটের দাম কমাতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেশের সাধারণ মানুষের জন্য কম দামে মানসম্মত ইন্টারনেটের ব্যবস্থা করতে নির্দেশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্সের দ্বিতীয় সভায় এ নির্দেশ দেন তিনি। ইন্টারনেট সহজলভ্য করার পাশাপাশি গ্রামে তৃণমূল পর্যায়ে কানেক্টিভিটি নিশ্চিত করতে বলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তাঁর কার্যালয়ের চামেলী হলে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন : ব্রডব্যান্ডের মূল্য হ্রাস, ‘টেক নিউট্রালিটির’ নির্দেশ জয়ের

shiekh-hasindigitalbangladesh

দীর্ঘদিন থেকে দেশের সব শ্রেণী ও পেশার মানুষ ইন্টারনেট ও ব্রডব্যান্ডের দাম সামর্থ্যের মধ্যে রাখার দাবি জানিয়ে আসছেন। সরকারের বিভিন্ন নীতি নির্ধারণী পর্যায় থেকেও এ বিষয়ে বলা হয়েছে। এত কিছুর পরও সাশ্রয়ী মূল্যে কেউ ইন্টারনেট দিচ্ছে না।

গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর পুত্র ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় টেলিযোগাযোগ বিভাগের এক বৈঠকে ব্যান্ডউইথের মূল্য কমাতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন। এর আগে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকও দাম কমানোর জন্য উদ্যোগ নিয়েছেন।

আর সম্প্রতি ব্যান্ডউইথ সরবরাহের দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি (বিএসসিসিএল) পাইকারি পর্যায়ে ব্যাপক হারে দাম কমিয়েছে। তবে খুচরা পর্যায়ে সাধারণ ব্যবহারকারীরা এর সুফল পাচ্ছেন না।

আইএসপি ও মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো পাইকারিতে কম দামে কিনলেও খুচরায় সেভাবে দাম কমাচ্ছেন না বলে দীর্ঘদিন থেকে অভিযোগ করে আসছেন গ্রাহকরা।

গতকাল ডিজিটাল টাস্কফোর্সের বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার পাশাপাশি এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস), বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসসহ (বেসিস) বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞরা যোগ দেন।

সভায় প্রধানমন্ত্রী সবার জন্য ইন্টারনেট নিশ্চিত করতে বিটিআরসি, বিটিসিল, ডোমেস্টিক নেটওয়ার্ক কো-অর্ডিনেশন কমিটি, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়কে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের কল্যাণে তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ এবং ব্যাপক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রান্তিক জনপদে সহজে ও সুলভে তথ্যসেবা পৌঁছে দিয়ে মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটাতে বর্তমান সরকার কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্য হল- বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ, শুধু শহরের মানুষ নয়, গ্রামাঞ্চলের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও যেন সমান সুযোগ পায়।

শেখ হাসিনা বলেন, গ্রামের মানুষও প্রযুক্তি ব্যবহারে পারদর্শী ও অগ্রগামী, সেটা কিন্তু অনেক দেশের মানুষ না। বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে সেই সচেতনতাটা আছে।

টাস্কফোর্সের সদস্য তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার টেকশহরডটকমকে জানান, বৈঠকে গ্রামের মানুষসহ সাধারণের হাতের নাগালে কম দামে মানসম্মত ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

দীর্ঘ ৫ বছর পর টাস্কফোর্সের দ্বিতীয় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইন্টারনেট ছাড়াও শিক্ষায় তথ্যপ্রযুক্তি, ডিজিটাল সরকার বাস্তবায়ন, তথ্যপ্রযুক্তিতে মানব সম্পদ উন্নয়নের মতো বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

আরও পড়ুন

২ এমবিপিএস না হলে ব্রডব্যান্ড নয়

 

৫ বছর পর বসছে ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্স

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দীর্ঘ ৫ বছর পর দ্বিতীয় সভায় বসছে ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্স। সবার জন্য ইন্টারনেট, শিক্ষায় তথ্যপ্রযুক্তি, ডিজিটাল সরকার বাস্তবায়ন, তথ্যপ্রযুক্তিতে মানব সম্পদ উন্নয়নের মতো বিষয় এবারের সভায় গুরুত্ব পাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তাঁর কার্যালয়ের চামেলী এই সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যদিও সভাটি ১২ আগস্ট হওয়ার কথা ছিলো।

এতে টাস্কফোর্সের সাথে যুক্ত সরকারের মন্ত্রণালয়,দপ্তর ও সংস্থার পাশাপাশি এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি(বিসিএস), বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসসহ (বেসিস) বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞরা যোগ দেবেন।

digitalbangladesh

 

২০১০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্স’ নাম পরিবর্তন করে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্স’ হওয়ার পর এটি দ্বিতীয় সভা। প্রথম সভা সেই বছরের ৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

দীর্ঘ বিরতিতে এই সভা অনুষ্ঠিত হলেও দ্বিতীয় এই সভার আলোচ্যসূচিতে তথ্যপ্রযুক্তিতে এগিয়ে যাওয়া নতুন বাংলাদেশের বর্তমান ও ভবিষ্যত চ্যালেঞ্জসমূহ স্থান পেয়েছে।

এতে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের লক্ষ্য কতোটুকু অর্জিত হয়েছে তা আলোচিত হবে। টাস্কফোর্সের প্রথম সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়গুলোর অগ্রগতি প্রতিবেদনও খতিয়ে দেখা হবে।

সভায় ১২ আলোচ্যসূচির মধ্যে রয়েছে, ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্সের প্রথম সভার কার্যবিবরণী নিশ্চিতকরণ, প্রথম সভার সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা,তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অগ্রগতি উপস্থাপন, ডিজিটাল গভর্নমেন্ট বাস্তবায়ন, শিক্ষা ক্ষেত্রে ডিজিটাল রূপান্তর কার্যক্রম সম্পর্কে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ।

রয়েছে ডিজিটাল সিকিউরিটি বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ সম্পর্কিত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত, হাইটেক পার্ক বা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক স্থাপন সম্পর্কিত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত , আইটি ক্ষেত্রে মানব সম্পদ উন্নয়ন সম্পর্কিত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত,সারাদেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে নেটওয়ার্ক কানেকটিভিটি স্থাপন ও করণীয় বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত, স্থাপিত নেটওয়ার্ক কানেকটিভিটির স্থায়িত্ব নিশ্চিতকরণ , সরকারি বিভিন্ন বিভাগ ও সংস্থার সাথে আইসিটি কার্যক্রমের সমন্বয় সম্পর্কিত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বিবিধ।

টাস্কফোর্সের সদস্য তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার টেকশহরডটকমকে জানান, এই সভা ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি জানান, গ্রামে কম দামে ইন্টারনেট দেয়া বা সবার জন্য ইন্টারনেট নিশ্চিতকরণ , শিক্ষার সর্বক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, সরকারি অফিসে পেপারলেস দাপ্তরিক কার্যক্রম চালু হওয়া বা ডিজিটাল সরকার বাস্তবায়ন, মানব সম্পদকে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষিত করার মতো বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মাইলফলক সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

আল-আমীন দেওয়ান