এবার লক্ষ্য এম-গভর্ন্যান্স

পেপ্যাল, ইন্টারনেটের গতি ও দাম, ব্রডব্যান্ড, অনলাইন লেনদেন, পেপারলেস অফিসসহ তথ্যপ্রযুক্তি খাতের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে টেকশহরডটকমের সঙ্গে কথা বলেছেন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। সাক্ষাতকার নিয়েছেন আল-আমীন দেওয়ান, যার প্রথম পর্ব –

এই সাক্ষাতকার যখন নেয়া হয় তখন ভোলার  লালমোহনে সজীব ওয়াজেদ জয় ডিজিটাল পার্ক উদ্বোধনে মঞ্চে উঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বর্তমান সরকারের তরুণ ও সর্বকনিষ্ঠ এই প্রতিমন্ত্রী। স্থানীয় সংসদ নূরুন্নবী চৌধুরী শাওনের বাসভবনে বসে প্রতিমন্ত্রীকে বেশ জোরেই কথা বলতে হচ্ছিল কারণ বাইরে হাজার হাজার মানুষের কন্ঠে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্লোগান। এর আগে আমরা সাংবাদিকরা দেখে এসেছি এই দ্বীপাঞ্চলেও সাধারণ মানুষ কীভাবে তথ্যপ্রযুক্তির সুফল পাচ্ছে।

palak3

জুনাইদ আহমেদ পলক, যাকে ২০১৬ সালে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম ইয়াং গ্লোবাল লিডার মনোনীত করে। বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের গতিময় অগ্রযাত্রায় এই প্রতিমন্ত্রীর ব্যাপক প্রচেষ্টা ও সাফল্যকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ম্যাসাচুসেট ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ফিনটেকের তথ্য বিশ্লেষক ডেভিড এম শায়া।

টেক শহর : দেশে আর্থিক লেনদেনের ডিজিটাল রূপান্তর কোন পর্যায়ে ?

জুনাইদ আহমেদ পলক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় আমাদের দেশীয় ওয়ালেটের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। সেটা হচ্ছে ই-ওয়ালেট। আগে এক সময় ছিল এটিএম কার্ড, এখন আমরা মোবাইল ব্যাংকিংয়ে আছি –এরপরে নেক্সট ভার্সন হচ্ছে ই-ওয়ালেট। ফলে আমরা এম গর্ভন্যান্সকে গুরুত্ব দিচ্ছি।

টেক শহর : এম গর্ভন্যান্সের জন্য প্রকল্প বা পরিকল্পনা কি তৈরি?

জুনাইদ আহমেদ পলক : আমরা নতুন একটি প্রকল্প গ্রহণ করছি যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে ই-গর্ভন্যান্স হতে আরেকটি ট্রান্সফর্মেশন হবে, যেটা হবে এম গর্ভন্যান্স। সেখানে আমাদের দেশীয় ওয়ালেটে জাতীয় পর্যায়ে লেনদেন হবে।

palak-2

টেক শহর : জাতীয় পর্যায়ের লেনদেনের কোনো উদাহরণ?

জুনাইদ আহমেদ পলক : আমাদের সোশ্যাল সেফটির ৬৪ হাজার কোটি টাকা, মাতৃত্ব ভাতা, বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা সবগুলো আমরা মোবাইল ব্যাংকিংয়ে, যেভাবে আজকে প্রাইমারি স্কুলেরটা ১ কোটি ২০ লাখ মায়ের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে- একই রকমভাবে তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টার নির্দেশনায় আমরা এই ৬৪ হাজার কোটি টাকা যাতে সরাসরি গ্রাহকের হাতে পৌঁছে যায়, শেখ হাসিনা পৌঁছে দিতে পারেন তার জন্য প্রযুক্তি নিয়ে আসা হচ্ছে।

টেক শহর : সরকারের পেপারলেস অফিস ও অনলাইনে সব সেবা চালুর লক্ষ্য কতদূর এগিয়েছে?

জুনাইদ আহমেদ পলক : আমরা ইতোমধ্যেই একটি পাইটল প্রকল্প হাতে নিয়েছি। যেটা হচ্ছে গর্ভমেন্ট রিসোর্স প্লান (জিআরপি)। এই জিআরপি পাইলট প্রজেক্টটা দেড় বছরের মধ্যেই শেষ করতে পারবো।

তারপর আমরা ইন্টিগ্রেডেড গভর্মেন্ট সলিউশন নামে একটি প্রকল্প নিচ্ছি। সেখানে পুরো ৫০টি মন্ত্রণালয় ২২০টির মতো অধিদপ্তর, সকল সংস্থাকে আমরা পেপারলেস না হলেও লেস পেপার অফিসে পরিণত করতে পারবো।

আশাকরছি ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের ৯০ শতাংশ সার্ভিস আমরা অনলাইনে নিয়ে আসতে পারবো।

palak-1

টেক শহর : পেপ্যাল নিয়ে সর্বশেষ অবস্থা?

জুনাইদ আহমেদ পলক : পেপ্যাল নিয়ে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা আশা করছি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই নিয়ে আসতে পারবো।

তথ্যপ্রযুক্তি খাত : লক্ষ্যপূরণে অর্জন আশা জাগানিয়া

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বর্তমান সরকারের ৩ বছর পূর্তিতে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে নিজেদের সামগ্রিক কার্যক্রম তুলে ধরে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ।

আগারগাঁস্থ আইসিটি টাওয়ারে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সংম্মেলনের আয়োজন করে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ। এতে তিন বছরে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের নানামুখী উদ্যোগ, অর্জন ও ভবিষ্যত কর্ম-পরিকল্পনার বিশদ উপস্থাপনা নিয়ে হাজির হন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

উপস্থাপনা শেষে তথ্যপ্রযুক্তি খাত সংশ্লিষ্টরা বিভাগের এই অর্জনকে প্রত্যাশা ছাড়ানো বলে বাহবা দেন।

এ সময় উপস্থিত বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস), বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস), বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্য), ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি)-সহ তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন খাতের সংগঠনের প্রতিনিধিরা, স্টার্টআপ উদ্যোক্তারা, টেক ও টেলিকমে বিনিয়োগকারীরা, ফ্রিল্যান্সারসহ তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ব্যবসায়ী ও সুবিধাভোগী উভয় অংশের প্রতিনিধিরা এই অর্জন আশা জাগানিয়া বলে প্রশংসা করেন।

ict.techshohor.2

সবার অংশগ্রহণে খোলামেলা এই সংবাদ সম্মেলন শুধু সাংবাদিকদের প্রশ্নের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। এতে তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রীসহ প্রশ্নের মুখে ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইমরান আহমদ, তথ্যপ্রযুক্তি সচিব শ্যাম সুন্দর শিকদার, হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হোসনে আরা বেগমসহ তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

উপস্থাপনায় পলক বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে দেশের জনগণকে বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলা, দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য কানেকটিভিটি নিশ্চিত করা, সরকারের স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিতকল্পে জনগণের দোরগোড়ায় নাগরিক সেবা পৌঁছানো, ডিজিটাল বাংলাদেশ’ লক্ষ্য অর্জনে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের সবাইকে প্রয়োজনীয় সুবিধা প্রদানে সমন্বিতভাবে কাজ করাই প্রধান উদ্দেশ্য।

তিনি বলেন, ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হার শত ভাগের উর্ধ্বে অর্থাৎ ১২১ শতাংশ। শুধু পরিসংখানের নিরিখেই নয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে দারিদ্র্য কমানো ও মানব উন্নয়নে বাংলাদেশের এই মডেল এখন বিশ্বের কাছে দৃষ্টান্ত।

‘জাতিসংঘ সাউথ সাউথ অ্যাওয়ার্ড, সাউথ সাউথ কো-অপারেশন অ্যান্ড ভিশনারি অ্যাওয়ার্ড, আইসিটি সাসটেনেবল ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড, ওয়ার্ল্ড সামিট অন ইনফরমেশন সোসাইটি (ডব্লিউএসআইএস) অ্যাওয়ার্ড, আইসিটি ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড, অ্যাসিসিও ডিজিটাল গভর্মেন্ট অ্যাওয়ার্ডসহ বিভিন্ন সম্মানজনক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি সে কথাই প্রমাণ করে।’

ict.techshohor3

উপস্থাপনায় জানানো হয়, দেশের মানব সম্পদ উন্নয়নে সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি ল্যাব করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০০১ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব ও ভাষা প্রশিক্ষণ ল্যাব রয়েছে। আরও ৮শ’ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব ও ১০০টি শেখ রাসেল ডিজিটাল ক্লাসরুম স্থাপনের সমস্ত প্রক্রিয়া চূড়ান্ত।

‘ইনোভেশন ডিজাইন অনট্রাপ্রেনিউরশিপ একাডেমি (আইডিয়া) প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ২২৯ দশমিক ৭৪ কোটি টাকায় প্রকল্পটির কাজ এগিয়ে চলছে।’

‘দেশের সাতটি স্থানে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার করা হচ্ছে। চুয়েটে আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের লিভারেজিং আইসিটি ফর গ্রোথ, এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড গভর্নেন্স (এলআইসিটি) প্রকল্প, এলআইসিটি প্রকল্প থেকে আউটসোর্সিং, ই-গভর্মেন্ট সিইআরটি (কম্পিউটার ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিম) প্রতিষ্ঠা, লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পে ৫৫ হাজার তরুণ-তরুণীকে আউটসোর্সিং প্রশিক্ষণ চলমান রয়েছে।’

সাপোর্ট টু ডেভেলপমেন্ট অব কালিয়াকৈর হাইটেক পার্ক প্রকল্প, বিসিসি’র ইনস্টিটিউট বিকেআইআইসিটি ও ৬টি বিভাগীয় সদর কেন্দ্রের প্রশিক্ষণ, বাংলাদেশে আইটি ইঞ্জিনিয়ার্স এক্সামিনেশন (আইটিইই) পরীক্ষা চালু রয়েছে।

তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে নারীদের স্মার্ট বাসের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ, ই-লার্নিং প্লাটফর্ম, ইনফো-লিডার তৈরি করা, ই-শপ, ইন্টার-অ্যাকটিভ মাল্টিমিডিয়া ডিজিটাল টেক্সট বুক, বিগ ডেটা অ্যানালাইটিকস বিষয়ে টাইটানিয়াম ল্যাব, আইসিটি ক্যারিয়ার ক্যাম্প, ওয়ান স্টুডেন্ট-ওয়ান ল্যাপটপ, মোবাইল গেইম ও অ্যাপ্লিকেশন তৈরিতে প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানান পলক।

তিনি বলেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে ২০২১ সাল আইটিতে ২০ লাখ পেশাজীবী তৈরি হবেন। এর সঙ্গে ডিজিটাল বাংলাদেশের আরও লক্ষ্য হলো ২০২১ সালের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি রপ্তানি ৫ বিলিয়ন ডলার এবং জিডিপিতে আইসিটি খাতের অবদান ৫ শতাংশ নিশ্চিত করা।

প্রতিমন্ত্রী তাঁর উপস্থাপনায় জানান, ইনফো সরকার-৩ প্রকল্পে ২ হাজার ৬০০ ইউনিয়নকে ফাইবার অপটিক ক্যাবল সংযোগের আওতায় আনা হবে। প্রতিটি ডিজিটাল সেন্টারে একটি করে পয়েন্ট অব প্রেজেন্স প্রতিষ্ঠা করা হলে গ্রামের মানুষ নিজ বাড়িতে বসেই ব্যবসা-বাণিজ্য, নাগরিক সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

‘তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের উন্নয়নে হাইটেক ও সফটওয়্যার পার্ক এবং বিজনেস ইনকিউবেশন সেন্টার গড়ে তোলা হচ্ছে। কালিয়াকৈর, যশোর, সিলেট, রাজশাহী, নাটোরসহ বিভিন্ন স্থানে এসব পার্ক ও ইনকিউবেশন সেন্টার নির্মাণের কাজ চলছে। আইটি খাতে বিদেশী বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দেশীয় তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের প্রসারে এসব পার্ক ও ইনকিউবেশন সেন্টার গুরুত্বপূর্ণ। সফটওয়্যার সার্টিফিকেশন সেন্টার, অবকাঠামো উন্নয়ন ও আইটি-আইটিইএস শিল্পের সক্ষমতা বাড়াতে দেশের ১২টি স্থানে ১২টি আইট পার্কের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।’

‘তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের উন্নয়ন ও বিকাশে নানা ইভেন্ট, ব্র্যান্ডিং করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড, বিপিও সামিট, আইসিটি এক্সপো, কানেক্টিং স্টার্ট আপস।’

‘ই-গর্ভন্যান্স প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন সরকারি সংস্থা অনলাইনভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। খাদ্য অধিদপ্তরের খাদ্যশস্য সংগ্রহ পদ্ধতির ডিজিটাইজেশনের পাইলটিং শেষ হয়েছে। শিক্ষকদের পেনশন ভাতা প্রদান কার্যক্রমে পিআরএল এবং পেনশনের আবেদনের প্রক্রিয়ার ডিজিটাইজেশন করা হয়েছে।’

পলক বলেন, ‘ই-গভর্মেন্ট বাস্তবায়নে কোরিয়ার সহযোগিতায় ফরমেশন অব দ্যা ই-গভর্মেন্ট মাস্টার প্লান প্রনয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মামলা জটের নিরসসে ‘বাংলাদেশের বিচারিক ব্যবস্থাকে ডিজিটালাইজেশনে সহায়তা প্রদান’ শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।’

উপস্থাপনায় জানানো হয়, ‘সরকারি তথ্যউপাত্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় ২০১৬ সালে জাতীয় টায়ার-৩ ডেটা সেন্টারটি আইএসও-২৭০০১ বা ইনফরমেশন সিকিউরিটি ম্যানেজমেন্ট সনদ পেয়েছে। বর্তমানে ডেটা সেন্টারটির ক্যাপাসিটি ২ দশমিক ৫ পেটাবাইটে উন্নীত করা হয়েছে। ১৪৪টি র‌্যাক স্থাপিত হওয়ায় ডেটা সেন্টারটির ওয়েবহোস্টিং ক্ষমতা বেড়েছে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কালিয়াকৈর হাইটেক পার্ক এলাকায় সাড়ে ৭ একর জায়গায় ফোর টিআর ডাটা সেন্টারটির ৩৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। যশোর সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে কনটেইনার ডিজাস্টার রিকোভারি সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে এবং একটি ডিজাস্টার রিকোভারি সাইট করতে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে।’

ict.techshohor4

‘সরকারি কর্মকর্তাদের নিজেদের কথাবার্তা ও ফাইল আদান-প্রদানে চালু করা হয়েছে বিনামূল্যের মেসেঞ্জার অ্যাপ আলাপন। ই-গভর্মেন্ট সিস্টেম চালুতে বাংলাদেশ ই-গভর্মেন্ট ইআরপি নামে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বিভাগের কন্টোলার অব সার্টিফায়িং অথরিটিজ (সিসিএ) স্মার্ট কার্ডে ডিজিটাল সিগনেচারের ব্যবস্থা করেছে। সরকারি সার্টিফাইং অথরিটি (সিএ) হতে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানসমূহকে ডিজিটাল সার্টিফিকেট দিতে সার্টিফিকেশন প্রাকটিস স্টেটমেন্ট (সিপিএস), চূড়ান্ত কারিগরি নকশা, ডাটা সেন্টার, ডিআরএস তৈরি হয়েছে। গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলা ভাষা সমৃদ্ধকরণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্পে ১৬টি সফটওয়্যার ডেভলপ করার কাজ শুরু হবে দ্রুত।’

‘দেশে চালু করা হয়েছে ন্যাশনাল হেল্প ডেস্ক ৯৯৯। এতে যেকোনো নাগরিক বিনামূল্যে ফোন করে হাসপাতাল, পুলিশ, ফায়ার স্টেশন নম্বর, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক তথ্যসহ জরুরী সেবা পাচ্ছেন।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মহেশখালী দ্বীপের প্রান্তিক মানুষের জন্য ৩৬২ দশমিক ১৮ বর্গকিলোমিটার জুড়ে ‘কনভার্টিং মহেশখালী ইনটু ডিজিটাল আইল্যান্ড’ শীর্ষক প্রকল্প বা ডিজিটাল মহেশখালি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

বিভিন্ন ডেটাউপাত্তে প্রতিমন্ত্রীর উপস্থাপনায় জানানো হয়, তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ হতে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে মোট ৭৭টি প্রকল্পে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে উদ্ভাবনী সহায়তা হিসেবে ৪ কোটি টাকা অনুদান দেয়া হয়েছে। দেশে-বিদেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে ১১২ জন ছাত্র-ছাত্রী, ফেলো, গকেষকগণকে ২ কোটি ২৫ লাখ ৭৮ হাজার টাকা বৃত্তি ও ফেলোশিপ দেয়া হয়েছে।

শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবের ক্লাবগুলোকে ২ কোটি ১০ হাজার, জাগো ফাউন্ডেশনকে ৩৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকা, মডেল ইনফোলেডি নামক প্রকল্পে ডিনেট’কে ৩৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ-অনুষ্ঠান-প্রতিযোগিতায় বিপুল অর্থ অনুদান দিয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ।

পলক তার উপস্থাপনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রসঙ্গও আনেন। এই আইনের খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদনও করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

জুনাইদ আহমেদ পলক তাঁর উপস্থাপনায় চলমান প্রকল্প গতিশীল করার পাশাপাশি নতুন ২৫টি প্রকল্পের কথা জানান। যেগুলো ২০১২ লক্ষ্য ধরে পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে, এমপাওয়ারমেন্ট অব পারসনস উইথ ডিজঅ্যাবিলিটিস ইনক্লুডিং এনডিডি থ্রু আইসিটি স্কিলস ডেভলপমেন্ট ইউটিলাইজিং আইটি ইঞ্জিনিয়ার্স এক্সামিনেশন প্রজেক্ট, ই-সার্ভিস বাস্তবায়ন প্রকল্প, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির দক্ষতা প্রমিতকরণ প্রকল্প, ভবিষ্যৎ আইসিটি উন্নয়নের জন্য সমীক্ষা প্রকল্প, মহাখালি আইটি পার্কের প্রাথমিক অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প, আপগ্রেডেশন অব পিকেআই সিস্টেম এন্ড ক্যাপাসিটি বিল্ডিং অব সিসিএ অফিস, ইলেক্ট্রনিক স্ট্যাম্পিং বাস্তবায়ন প্রকল্প, জাতীয় সিইআরটি স্থাপন প্রকল্প (প্রথম পর্যায়), প্রযুক্তির সহায়তায় নারীর ক্ষমতায়ন (সি পাওয়ার) প্রকল্প, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ভবন স্থাপন প্রকল্প।

টেলিটকে ১৬ ধরনের বিল পরিশোধ

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের ১৬ ধরনের পরিসেবার বিল ও ফি পরিশোধ করা যাবে মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটক মাধ্যমে।

এর মধ্যে রয়েছে, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, ঢাকা ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো), ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি,পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি,কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিষ্ট্রিবিউশন কোম্পানি, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ, বিটিসিএল ও ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন সেবা।

বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম ও টেলিটকের যৌথ উদ্যোগে পেমেন্ট টু গভর্ণমেন্ট (পিটুজি) পদ্ধতিতে এই সেবার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সঙ্গে ত্রি-পাক্ষিক সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

a2i-techshohor

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) ও এটুআই প্রোগ্রামের প্রকল্প পরিচালক কবির বিন আনোয়ার, টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গিয়াস উদ্দিন আহমেদ এবং দপ্তরগুলোর প্রতিনিধিরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

এটুআই বলছে, রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নে সকল পরিষেবা বিল ও ফি একটি একক প্লাটফর্ম হতে প্রদানের লক্ষ্যে এই সমঝোতা। এতে এসব পরিষেবা বিল ও ফি জমা দেয়ার ক্ষেত্রে জনগণের ভোগান্তি অনেকাংশে কমিয়ে আনা যাবে।

আল-আমীন দেওয়ান

 

ডিজিটাল বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা চায় মিয়ানমার

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিরর : ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা নিতে চায় মিয়ানমার। দেশটির ডিজিটাল কার্যক্রমে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চায় সে দেশের সরকার।

মঙ্গলবার মিয়ানমারের রাজধানী ইয়াঙ্গুনে সে দেশের পরিবহন ও যোগাযোগ মন্ত্রী থান্থ সিন মাউং এর সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই আগ্রহ প্রকাশ করেন দেশটির ওই মন্ত্রী।

পলক ইয়াঙ্গুনের নভোটেল ইয়াঙ্গুন ম্যাক্স হোটেলে চলা পাঁচ দিনব্যাপী ‘অ্যাসোসিও আইসিটি সামিটে-২০১৬’ অংশ নিয়েছেন। সেখানে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের পাওয়া সম্মানজনক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ‘ডিজিটাল গভর্নমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ করেন তিনি।

ict division.techshohor

দ্বিপাক্ষিক ওই বৈঠকে মিয়ানমারের মন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ এর ডিজিটাল বাংলাদেশ উদ্যোগ ও কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

বৈঠকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে উভয় দেশ নীতিগতভাবে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরেও সম্মত হন।

আল-আমীন দেওয়ান

ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রচারে একসঙ্গে এটুআই ডিএমসি পিআইবি

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রচার-প্রচারণায় প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই), গণযোগাযোগ অধিদপ্তর (ডিএমসি) ও বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট(পিআইবি) একসঙ্গে কাজ করবে।

রোববার প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এসএসএফ ব্রিফিং রুমে এ বিষয়ে তিন দপ্তরের মধ্যে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) ও এটুআই প্রোগ্রামের প্রকল্প পরিচালক কবির বিন আনোয়ার, গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কামরুন নাহার এবং বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মোঃ শাহ আলমগীর।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন)মোঃ মনজুরুর রহমান।

a2i.techshohor

সমঝোতা অনুয়ায়ী রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নে এটুআই প্রকল্পের বিভিন্ন জনবান্ধব উদ্যোগ ও কার্যক্রমসমূহ মানুষকে জানানো ও উৎসাহিত করতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হবে।

এছাড়া সারা দেশে মাঠ পর্যায়ে গণমাধ্যম কর্মীদের অনলাইন ও অফলাইন প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। অনলাইন ট্রেনিংয়ে ব্যবহার করা হবে এটুআই‘য়ের মুক্তপাঠ প্লাটফর্ম।

সাংবাদিকদের উৎসাহ ও প্রণোদনা প্রদানের জন্য প্রতি বছরে পিআইবি-এটুআই গণমাধ্যম পুরস্কার প্রদান অব্যাহত থাকবে। গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মাধ্যমে দেশব্যাপী মানব উন্নয়নমূলক বিভিন্ন অনুষ্ঠানের প্রচারণার জন্য উঠান বৈঠক, সংবাদ সম্মেলন এবং তথ্য কর্মকর্তাদের জন্য কর্মশালার আয়োজন করা হবে।

আল-আমীন দেওয়ান

ডিজিটাইজেশনে এ বছর বিনিয়োগ ৮০০০ কোটি টাকা

জামান আশরাফ, টেকশহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সব মন্ত্রনালয় ও বিভাগ মিলে চলতি অর্থবছরে ডিজিটাইজেশনের মোট আট হাজার ৩০৬ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে সরকার।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক এ তথ্য জানিয়ে বলেছেন, এক বিলিয়ন ডলারের বেশি এ বিনিয়োগের পুরো ফায়দা তুলতে সংশ্লিষ্ট খাতগুলোকে মনযোগী হতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার বিনিয়োগ করে যাচ্ছে। এখন বেসরকারি খাতকে এটি কাজে লাগাতে হবে।

Digital-Bangladesh-techshohor

তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগে রোববার ‘মোবাইল অ্যাপস ও গেইমিং ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে অগ্রযাত্রা’ শীর্ষক এক সেমিনার পলক এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী শত কোটি ডলারের গেইম ও অ্যাপসের বিশ্ববাজার ধরতে দেশে উদ্যোগ গ্রহণে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ওপর জোর দেন।

অনুষ্ঠানে বেসিসের সাবেক সভাপতি শামীম আহসান বলেন, এ আট হাজার কোটি টাকার কাজের মধ্যে স্থানীয় কোম্পানিগুলো যেন অন্তত চার হাজার কোটি টাকার কাজ করতে পারে, সে বিষয়ে সরকারকেই ব্যবস্থা নিতে হবে।

তিনি বেসিসকে এ বিষয়ে নজর রাখার আহবান জানান।

২০১৫-১৬ অর্থবছরে প্রথমে ৬ হাজার ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা করা সম্ভব হয়নি। এর আগের বছর ডিজিটাইজেশন খাতে বাজেট ছিল চার হাজার ৬০০ কোটি টাকা।

স্মার্ট সিটি গড়তে আহ্বায়ক কমিটি

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেশে স্মার্ট সিটি গড়ার লক্ষ্য নিয়ে একসঙ্গে কাজ করবে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সংগঠনগুলো। সেই লক্ষ্যে এসব অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা মিলে একটি আহ্বায়ক কমিটিও গঠন করেছে।

রোববার বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) সভাপতি মোস্তাফা জব্বারকে আহ্বায়ক করে ওই কমিটি ঘোষণা করেছে কয়েকটি অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা।

এই কমিটি স্মার্ট সিটি বিষয়ক পলিসি, অ্যাডভোকেসি এবং সচেতনতা তৈরিসহ অন্যান্য বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করবে।

smartcity
স্মার্ট সিটি মূলত ডিজিটাল বাংলাদেশেরই আরেকটি রূপ। যেখানে নাগরিকের সব ধরনের সেবা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তির মাধ্যমে সেবা দেওয়া হবে। আর একই সঙ্গে এগুলো পরিচালিত হবে একটি কেন্দ্র থেকে। যেন সেসব নাগরিক তাৎক্ষণিকভাবে সেই সেবাগুলো পেয়ে থাকেন।

রোববার বাংলাদেশ কম্পিউটার সোসাইটির সভাকক্ষে স্মার্ট সিটি নিয়ে এক আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশের আইসিটি অ্যাসোসিয়েশনগুলোর প্রতিনিধিরা। অ্যাসোসিয়েশনগুলোর মধ্যে ছিল বেসিস, বিসিএস, ই-ক্যাব, বাক্য, বাংলাদেশ কম্পিউটার সোসাইটি, আইএসপিএবি, বিআইজেএফ, সিটিও ফোরাম এবং এফবিসিসিআই।

সেখানে ‘স্মার্ট সিটি অ্যান্ড আইওটি’ নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কম্পিউটার জগৎ এর প্রধান নির্বাহী এবং ই-ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল ওয়াহেদ তমাল। এছাড়া ভিডিও কনফারেন্সে লন্ডন থেকে যোগ দেন স্মার্ট সিটি ডেভেলপমেন্ট এক্সপার্ট ড. জোয়ি ও বাবাক এবং ব্রিটিশ পার্লামেন্ট প্রতিনিধি রোহিমা মিয়া।

উদ্যোগটি সম্পর্কে বেসিস সভাপতি এবং স্মার্ট সিটি কমিটির আহ্বায়ক মোস্তাফা জব্বার টেকশহরডটকমকে বলেন, স্মার্ট সিটি একটা দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া ও পরিকল্পনা। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করা সবগুলো অ্যাসোসিয়েশন এক সঙ্গে কাজ করবে। ফলে এটি ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করবে।

তিনি বলেন, স্মার্ট সিটি গড়ার প্রধান কাজ করবে সরকার, বেসরকারি উদ্যোগ ও জনগণ। তবে এই খাতের ট্রেড বডি হিসেবে আমরা সরকারকে সর্বোচ্চ সহায়তা করবো। সেটা পলিসি প্রণয়ন, গাইডলাইন তৈরি থেকে শুরু করে বাস্তবায়ন পর্যন্ত।

সভায় ‘স্মার্ট সিটি অ্যান্ড আইওটি’ প্রবদ্ধের উপস্থাপক আবদুল ওয়াহেদ তমাল টেকশহরডটকমকে বলেন, বিভিন্ন দেশ বেশ কয়েকবছর ধরেই স্মার্ট সিটি নিয়ে কাজ করছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ ভিশনও কিন্তু সেই স্মার্ট সিটি গড়ার লক্ষ্যেই। কিন্তু দেশে সবাই কাজ করলেও সবাই তা করছে পৃথকভাবে।

তিনি বলেন, দেখা যায় একই কাজ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার, সিটি কর্পোরেশন কিংবা বেসরকারি সংস্থাগুলো করছে অথচ আলাদা করে। এর ফলে তা কেন্দ্রিয়ভাবে বাস্তবায়ন ও নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই আমরা চাই সবাই যেন মিলেমিশে একটি গাইডলাইন, পলিসির মাধ্যমে সেই কাজগুলো একত্রে করে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করতে পারি অনেক আগেই।

সভায় উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই ডিরেক্টর শাফকাত হায়দার, তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবীদের সংগঠন বাংলাদেশ কম্পিউটার সোসাইটির সভাপতি ও বুয়েটের অধ্যাপক ড. মাহফুজুল ইসলাম, ই-ক্যাব সভাপতি রাজিব আহমেদ, বাক্য সভাপতি আহমেদ হক ববি, এটুআই এর ডিরেক্টর মোস্তাফিজুর রহমান, বিসিএস সাধারণ সম্পাদক সুব্রত সরকার, আইএসপিবি জেনারেল সেক্রেটারি ইমদাদুল হক, সিটিও ফোরাম সভাপতি তপন কান্তি সরকার, বিআইজেএফ এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তরিক রাহমান, এফবিসিসিআই ই-কমার্স স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ইকবাল জামাল, কম্পিউটার জগতের সহকারী সম্পাদক আব্দুল হক অনু, বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভারনেন্স ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এএইচএম বজলুর রহমান, ই-ক্যাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য খান মো. কায়সারসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

ইমরান হোসেন মিলন

বেসিস আসলেই কি করে?

শামীম আহসান : বেসিস কি একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি যে সরকারের সাথে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড, ইন্টারনেট উইকসহ বিভিন্ন ইভেন্ট আয়োজন করে? বেসিস কি একটি আইটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, যে তারা হাজার হাজার তরুণদের আইটি এবং বিপিও প্রফেশনাল তৈরিতে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে? বেসিস কি একটি শিক্ষার্থীদের অ্যাসোসিয়েশন, যে তারা বেসিস স্টুডেন্টস ফোরাম গঠন করেছে? বেসিস কি শুধু বিলিয়ন ডলারের স্বপ্ন দেখায়, নাকি তা বাস্তবায়নে কিছু কাজও করে?

বেসিসের সদস্যদের ব্যবসা সম্প্রসারণে বেসিস যেসব কার্যক্রম পরিচালনা করে তার যেমন প্রশংসা রয়েছে, তেমনি কেউ কেউ আবার উপরের প্রশ্নগুলো তুলছেন। এই প্রশ্নগুলো এবং বেসিস আসলেই কি করে তার উপর আলোকপাত করতেই আজকের এই লেখা।

চার বছর বেসিসের দায়িত্বে ছিলাম। এর মধ্যে প্রায় তিন বছর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি। আমাদের মেয়াদে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বেসিসের সদস্য কোম্পানিগুলোর জন্য দেশে ও বিদেশে বাজার সৃষ্টি করা এবং তাদের ব্যবসায় সম্প্রসারণে। এজন্য আমরা প্রতিবছর সরকারের সঙ্গে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড আয়োজন করে আসছি যেখানে চার লাখের অধিক লোকের সমাগম হয়েছে। প্রায় প্রত্যোকটি মন্ত্রণালয় থেকে ৬০টির বেশি সরকারি সংস্থা অংশগ্রহণ করে। ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড হলো এমন একটি প্লাটফর্ম যেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করেছিলেন এবং সকল মন্ত্রী, সচিব, চিফ ইনোভেশন অফিসার (সিআইও)’সহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা তাদের নিজস্ব মন্ত্রণালয়ের স্টলে উপস্থিত হয়েছিলেন। এর ফলে বেসিসের সদস্য কোম্পানিগুলো সরাসরি তাদের সাথে পরিচিত হতে পেরেছেন ও তাদের সামনে নিজেদের সেবাগুলো তুলে ধরতে পেরেছেন। যার ফলে সরকারি কাজে অনেকেরই অংশগ্রহণ বেড়েছে। ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে প্রতিবছরই বেসরকারি খাত থেকে প্রায় ৭৫০ জন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) উপস্থিত হয়েছেন। সেখানেও তাদের সাথে ম্যাচমেকিংয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রায় ৬০ জনের মতো বিদেশী ক্রেতাও এখানে এসেছিলেন। তাদের সাথেও অনেকগুলো বিটুবি ম্যাচমেকিং হয়েছে, তারা আমাদের দেশের সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি সেবাগুলো দেখেছেন এবং ফলশ্রুতিতে অনেকগুলো কোম্পানির সাথে কাজ করছেন।

basis

একইভাবে বেসিস তার সদস্যদের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে এবং তাদের রপ্তানি বাড়ানোর জন্য নেদারল্যান্ড ট্রান্স ফান্ড (এনটিএফ) প্রকল্প হাতে নেয়। যে প্রকল্পে ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড সেন্টার ও নেদারল্যান্ডের সিবিআই আমাদের সহযোগিতা করছে। এর মাধ্যমে ৬০টির বেশি বেসিস সদস্য কোম্পানি আন্তর্জাতিক বাজারে ২২টির বেশি বিজনেস টু বিজনেস (বিটুবি) প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে প্রায় ২২৫০ টি বিজনেস টু বিজনেস মিটিং করতে পেরেছে। এই কোম্পানিগুলো স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণের মাধ্যমে প্রতিবছর প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার রপ্তানি করছে। এই পুরো প্রকল্পটি বেসিস সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং কোম্পানি নির্বাচনে ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড সেন্টার ও সিবিআই এর মাধ্যমে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সাথে করা হয়েছে। তাদের ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে এবং উল্লেখযোগ্য পরিমান রপ্তানি সম্ভব হয়েছে। যার ফলে যেখানে ৩ বছর আগে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের রফতানি আয় ১০০ মিলিয়ন ডলার ছিলো সেটি বর্তমানে ৪০০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

বাজার উন্নয়নের পাশাপাশি বেসিসের অন্যতম আরেকটি কাজ ছিলো পলিসি তৈরি, পরিবর্তন ও পরিবর্ধন। সেই ধারাবাহিকতায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা, অর্থমন্ত্রী ও আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর সাথে বৈঠকের মাধ্যমে বেসিসের অনুরোধে তাঁরা ২০২৪ সাল পর্যন্ত সকল সফটওয়্যার ও আইটি সেবা কোম্পানির জন্য কর্পোরেট ট্যাক্স মওকুফ করেছেন। বেসিসের সুপারিশে ই-কমার্সের উপর থেকে ভ্যাট প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। বেসিসের সহযোগিতায় জাতীয় আইসিটি নীতিমালা তৈরী ও পরবর্তিতে অনেকগুলো পরিবর্তন আনা হয়েছে, যেগুলোর বাস্তবায়ন অনেকটা এগিয়ে গেছে।

আমাদের শুধু বর্তমানে ব্যবসায় উন্নয়ন দেখলে হবে না, আগামী ১০ বছর পর এই খাতকে কোথায় নিয়ে যেতে হবে সেই চিন্তাও করতে হবে। সেই অনুযায়ী মানবসম্পদ তৈরিসহ দূরদর্শী পদক্ষেপ নিতে হবে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে বেসিস এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সহায়তার ২৩ হাজার দক্ষ জনশক্তি তৈরি করছে। বেসিস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (বিআইটিএম) শুধু ঢাকায় না, দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ছে। বিআইটিএম প্লাটফর্ম তৈরি করে দিচ্ছে, গাইডলাইন তৈরি করে দিচ্ছে। বেসিসের সদস্যভুক্ত যেসব কোম্পানির প্রশিক্ষণ দেয় তাদের মাধ্যমে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এটি অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ও স্বাধীন সিলেকশন কমিটির মাধ্যমে এই কোম্পানিগুলোকে নির্বাচন করা হচ্ছে। এর ফলে যাদের প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট আছে তাদের ব্যবসায় সম্প্রসারণ হবে। একইসাথে আইসিটি ডিভিশনের এলআইসিটি, হাইটেক পার্কের বিভিন্ন ধরণের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম রয়েছে, যার মাধ্যমে প্রায় ৩৪ হাজার আইটি প্রফেশনাল তৈরি হবে। ঐসব ট্রেনিংগুলোতেও বেসিস পাঠ্যসূচী তৈরী ও কারিগরী সহযোগিতা দিয়ে আসছে। আইসিটি ডিভিশন ও বেসিসের উদ্যোগের ফলে যেখানে কয়েকবছর আগে আমাদের আইটি প্রফেশনাল ছিলো মাত্র ২৫ হাজার, সেখানে বর্তমানে সরকারের হিসাবে ৭ লাখ আইটি এবং বিপিও প্রফেশনাল রয়েছে।

basis logo_techshohor

বেসিস শুধুমাত্র সফটওয়্যার খাতের সংগঠন নয়। এটি সফটওয়্যারের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন সেবারও সংগঠন। বেসিসের লক্ষ্য তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন করা। আর প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল ছাড়া দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন সম্ভব নয়। আমাদের দেশের শিক্ষাকাঠামো এবং ইন্ডাস্ট্রির চাহিদার মাঝে বিশাল পার্থক্য রয়েছে। অর্থাৎ দেশে প্রতিবছর যে পরিমাণ শিক্ষার্থী আইটি বিষয়ে পড়াশোনা করে বেড়িয়ে আসছে সেই পরিমাণ শিক্ষার্থী চাকরী ক্ষেত্রে প্রবেশ করতে পারছে না। আর তাই দক্ষ জনবল তৈরি, ইন্ডাস্ট্রির সাথে শিক্ষার্থীদের সরাসরি সম্পৃক্ত করা, তাদের মানোন্নয়ন, ইন্ডাস্ট্রি ও অ্যাকাডেমিয়ার যৌথ উদ্যোগসহ নানা কারণে বেসিস স্টুডেন্টস ফোরাম চালু করা হয়। এটি অবশ্যই প্রয়োজন ছিলো। কারণ এই ফোরামের মাধ্যমে ইতিমধ্যে বড় বড় সম্মেলনসহ শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একাধিক সেমিনার, আলোচনা, প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আমরা কয়েক লাখ শিক্ষার্থীকে তথ্যপ্রযুক্তি পেশা সম্পর্কে জানানো, এই পেশায় তাদের আগ্রহী করা এবং করণীয় বিভিন্ন বিষয়ে জানাতে পেরেছি। যেসব আয়োজনে সরকারের মন্ত্রী থেকে শুরু করে ইন্ডাস্ট্রির সফল ব্যক্তি, শিক্ষাবিদরা উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের গাইডলাইন দিয়েছেন।

আমাদের তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে যাওয়ার প্রধান অন্তরায় হলো অ্যাক্সেস টু ফিন্যান্স। সেজন্য বেসিস গত কয়েকবছর ধরে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানিকে বাংলাদেশে নিয়ে আসার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। এরফলে ৫০০ স্টার্টআপ, ফেনক্স ভেঞ্চার ক্যাপিটাল, বিডি ভেঞ্চার লিমিটেড, সিফ সহ বেশ কয়েকটি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানি বাংলাদেশে কাজ শুরু করেছে। এগুলো বেসিসের সদস্য কোম্পানিগুলোতেই বিনিয়োগ করা শুরু করেছে। একইসাথে বেসিসের উদ্যোগে আইডিএলসিকে নিয়ে একটি বিশেষ লোন প্রোডাক্ট তৈরি করা হয়েছে। এরফলে গত কয়েক মাসে বেসিসের প্রায় ২৫টি সদস্য কোম্পানি ৪০ কোটি টাকার বেশি ঋণ পেয়েছে। একইসাথে ইইএফ এর যেসব কঠিন শর্ত ছিলো সেগুলো বেসিসের উদ্যোগে সহজ করে নিয়ে আসা হচ্ছে।

ইন্টারনেট এখন আর সৌখিন বিষয় নয়, মানুষের মৌলিক চাহিদা হয়ে দাড়িয়েছে। এটি আমাদের আইসিটি ব্যবসায়ের মূল চালিকাশক্তি। কয়েক বছর আগে যেখানে ইন্টারনেটের ব্র্যান্ডউইথের দাম ৭০ হাজার টাকা ছিলো সেটি বেসিসের বারবার অনুরোধে ও সরকারের সদিচ্ছার কারণে বর্তমানে প্রায় ৫০০ টাকায় এসে দাড়িয়েছে। ইন্টারনেটের বিষয়ে যাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হয় তার জন্য বেসিস, আইসিটি ডিভিশন ও গ্রামীণফোনকে সাথে নিয়ে বাংলাদেশ ইন্টারনেট উইক আয়োজন করে। যেটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করেন। তিনটি বিভাগীয় শহরে বড় পরিসরের পাশাপাশি ৪৮৭টি উপজেলা এই ইন্টারনেট উইকের আয়োজন করা হয়। এর ফলে বেসিস শুধু ঢাকা কেন্দ্রিক নয়, বেসিসের সদস্য কোম্পানিগুলো যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও তাদের গ্রাহক পেতে পারে ও সেবা পৌছে দিতে পারে সেই লক্ষ্যে ইন্টারনেটকে পৌছে দিতে সরকার ও টেলিকম অপারেটরদের সাথে কাজ করে যাচ্ছে।

One Bangladesh-basis-TechShohor

আমাদের মেয়াদে যে কাজটি আমরা প্রায় শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছি কিন্তু পুরোপুরি শেষ করতে পারিনি, সেটা হলো পাবলিক প্রোকিউরমেন্ট পলিসি এবং অ্যাক্টের পরিবর্তন। বেসিস থেকে অনুরোধ করা হয়েছিলো, সরকারের যত আইসিটি সম্পর্কিত প্রকিউরমেন্ট হয় তাতে যাতে স্থানীয় কোম্পানির কমপক্ষে ৫০ শতাংশ অংশগ্রহণ থাকে। আমাদের এই অনুরোধ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্ঠা, অর্থমন্ত্রী, পরিকল্পনামন্ত্রী এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী সবাই সমর্থন করেছেন। সেজন্য আমরা একটি পলিসি ড্রাফট করে দিয়েছি, যেটি এখন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন আছে। আমি আশা করছি বেসিসের পরবর্তী মেয়াদে যেই দায়িত্ব নেবে একমাসের মধ্যে নতুন এই পলিসি বাস্তবায়ন করতে পারবে ও দেশে তথ্যপ্রযুক্তি যে ৫০০ মিলিয়নের বাজার রয়েছে তার প্রায় অর্ধেক আমাদের সদস্য কোম্পানিগুলোর হাতে চলে আসবে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে সরকার অনেক দূর এগিয়েছে। বেশ কিছু সরকারি সেবাতে ডিজিটালের ছোয়া, ইউনিয়ন পর্যন্ত উচ্চগতির ফাইবার অপটিক ক্যাবল পৌছে যাচ্ছে, প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসে জনগণ ইন্টারনেটে তথ্যপ্রযুক্তির সেবা নিচ্ছে। তবে সরকারকে পুরোপুরিভাবে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করতে হলে আরও বেশি কাজ করা প্রয়োজন। স্থানীয় কোম্পানিগুলো যাতে সরকারি কাজ পায় বা অগ্রাধিকার থাকে, বাজেটের এডিপিতে (বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি) নূণ্যতম ১০ শতাংশ যাতে আইটিতে বরাদ্ধ দেওয়া ও খরচ করা হয় এবং বিদেশে বাংলাদেশের কান্ট্রি ব্র্যান্ডিংয়ে আরও গুরুত্ব দেওয়া হয় এমন প্রস্তাব আমরা আগে থেকেই করে আসছি। উপরোক্ত বিষয়গুলোতে নজর দিলে ও দেশীয় কোম্পানির জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে পারলে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন হবে। আমরা সেই প্রত্যাশাতে আছি।

আগামী ২৫ জুন বেসিসের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন, নতুন নেতৃত্বের যোগ্যতায় পূর্ববর্তী কমিটির অসমাপ্ত কাজগুলো সফলভাবে শেষ হবে, সেই সাথে আইসিটি সেক্টরে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে এই শুভকামনা থাকবে। সভাপতি হিসেবে না থাকলেও আশা করি বেসিসের সামনের পথচলায় সঙ্গী হয়ে থাকবো। সংশ্লিষ্ট সবার কাছে দায়বদ্ধতা থেকে আগামীতে আমাদের কার্যক্রমের সফলতা, বিফলতা ও নতুন কমিটির কাছে প্রত্যাশা তুলে ধরার চেষ্টা করবো।

কিন্তু একটি কথা না বললেই নয়। বেসিস আজকের যে অবস্থানে এসেছে তা একজন-দুজনের অবদান নয়, অনেক মানুষের নেতৃত্ব, পরিশ্রম, স্যাক্রিফাইসের ফল। গঠনমূলক সমালোচনা অবশ্যই হওয়া উচিত এবং সমস্যা চিহ্নিত করে তার সমাধান নিয়েই বেসিস সামনে এগিয়ে যাবে এই কামনা করি।

লেখক বেসিস সভাপতির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালক পদেও রয়েছেন। তিনি ফেনক্স ভেঞ্চার ক্যাপিটালের জেনারেল পার্টনার। প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্সেরও সদস্যও শামীম। এছাড়া ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক।

দেশের সুপরিচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান বাগডুম ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা এবং সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান বেঞ্চমার্ক ই-জেনারেশন লিমিটেডের চেয়্যারম্যান হিসাবেও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন শামীম। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ‘সেরা তরুণ উদ্যোক্তা’ পুরস্কারপ্রাপ্ত এ সংগঠক ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে সরকার, বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক পরিসরে নতুন নতুন উদ্যোগ নিয়ে কাজ করে চলেছেন।

সরকারের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে আরও কাজ করবে বেসিস

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেশের তথ্যপ্রযুক্তির বাজার উন্নয়নে সরকারের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে আরও জোরালোভাবে কাজ করবে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)।

সম্প্রতি বেসিসের সাধারণ সভায় সরকারের সাথে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর আহবান জানান বেসিস সদস্যরা। এসময় বেসিস নেতারা সরকারের সাথে যৌথ উদ্যোগে আরও কাজ করবেন বলে বলেন।

বেসিস সভাপতি শামীম আহসানের সভাপতিত্বে সভায় বেসিসের সদস্য কোম্পানির প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

basis

সভায় বেসিস মহাসচিব উত্তম কুমার পাল বেসিসের ২০১৫ সালের কর্মকাণ্ডের বিবরণী এবং কোষাধ্যক্ষ শাহ ইমরাউল কায়ীশ বিগত ২০১৪-১৫ অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বেসিসের সিনিয়র সহ-সভাপতি রাসেল টি আহমেদ, সহ-সভাপতি এম রাশিদুল হাসান, যুগ্ম মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল, পরিচালক সানি মো. আশরাফ খান, সামিরা জুবেরী হিমিকা, আরিফুল হাসান ও নির্বাহী পরিচালক সামি আহমেদ।

এছাড়া বেসিসের প্রাক্তন সভাপতি এ তৌহিদ, সারোয়ার আলম, রফিকুল ইসলাম রাউলি, হাবিবুল্লাহ এন করিম, একেএম ফাহিম মাশরুরসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে বেসিস সভাপতি শামীম আহসান জানান, ইতিমধ্যে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে সরকারের সাথে যৌথভাবে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড, বাংলাদেশ ইন্টারনেট উইক, কানেক্টিং স্টার্টআপসহ বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

ইমরান হোসেন মিলন

ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচীর প্রশংসা ওবামার

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নের মাধ্যমে কিভাবে দেশের বা সাধারণ মানুষের উন্নয়ন করা যায় তার উদাহরণ হিসেবে ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা উল্লেখ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।

কেনিয়া মার্কিন প্রেসিডেন্টের বাবার দেশ। আর প্রথমবারের মতো সফরে এসে দেশটির মানুষের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচীর অগ্রগতির প্রশংসা করেন বারাক ওবামা।

বৈশ্বিক উদ্যোক্তা বিষয়ক একটি যৌথ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে ওবামা বলেন বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়েছে। সেখানে প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে।

obama_

প্রযুক্তি নির্ভর তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিকভাবে কাজ করছে বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশ। আফ্রিকার দেশগুলোকে নিজেদের উন্নয়নের জন্য এই উদ্যোগ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ডিজিটাল বাংলাদেশ নিয়ে ওবামার প্রশংসার সংবাদটি দেশের বেশ কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তবে এর মধ্যে কিছু গণমাধ্যম দাবি করেছে ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রশংসা করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

বিবিসি অবলম্বনে সৌমিক আহমেদ

ই-হেলথ সার্ভিস করতে সহায়তা করবে এটুআই

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেশের সব মানুষের জন্য ই-হেলথ ফাইল তৈরি করা হচ্ছে। যেখানে প্রত্যেকটি নাগরিকের হেলথ রেকর্ড অন্তর্ভূক্ত করা হবে।

এরই মধ্যে দেশের ৯ কোটি ৪০ লাখ মানুষের স্বাস্থ্য রেকর্ড তৈরি করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়। বাকিদের অন্তর্ভূক্ত করতে কাজ চলছে।

একাজে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়কে সহায়তা করছে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রকল্প একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই)।

A2I - Access to Information

স্বাস্থ্য, পরিবার কল্যাণ ও পুষ্টি সেবা জনগণের কাছে সহজে ও দ্রূত পৌঁছে দিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়কে সহায়তা করবে এটুআই।

তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে স্বল্প সময়ে ও খরচে সাধারণ মানুষের কাছে স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়ে ই-সেবা চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এসএমএস সার্ভিসের মাধ্যমে ডাক্তারদের ব্যবস্থাপত্র গ্রহণ করা হবে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ লক্ষে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয় ও একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।

প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রনালয়ের সচিব সৈয়দ মুনজুরুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রশাসন মহাপরিচালক ও এটুআই এর প্রকল্প পরিচালক কবির বিন আনোয়ার।