টোটোলিঙ্ক এ৮৫০আর : ডুয়াল ব্যান্ডে এগিয়ে

এস এম তাহমিদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ল্যাপটপ, স্মার্টফোন বা ট্যাব প্রায় সব স্মার্ট গ্যাজেটে এখন বেশিরভাগই ওয়াই-ফাই ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। তবে দুঃখজনক হলেও সত্যি, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমরা ওয়াই-ফাই রাউটার কেনার সময় সবচাইতে কম মনযোগ দিয়ে থাকি। ফলে প্রায়ই লিমিটেড কানেক্টিভিটি, খারাপ সিগন্যাল ও কম স্পিডের সমস্যায় পরতে হয়। এ কারণে রাউটার কেনার আগে বেশ কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে।

এ দেশের বাজারে টোটোলিঙ্ক নামটি তেমন জনপ্রিয় না হলেও অনেক দেশে বাজেট রাউটারের মধ্যে এটি বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।

এ ব্র্যান্ডের এ৮৫০আর মডেলের রাউটারটি বাজেটের মাঝে সবচাইতে ভাল স্পিড ও নির্ভরযোগ্যগুলোর একটি।

এক নজরে টোটোলিঙ্ক এ৮৫০আর

  • চারটি ল্যান ও একটি ওয়্যান পোর্ট (১০/১০০ মেগাবিট)
  • ২.৪ গিগাহার্জ ৮০২.১১এন ও ৫ গিগাহার্জ ৮০২.১১এসি ওয়াই-ফাই, যা সব মিলিয়ে ১২০০ মেগাবিট পর্যন্ত নেট স্পিড যোগান দিতে সক্ষম
  • চারটি ওয়াই-ফাই অ্যান্টেনা

৫ গিগাহার্জ ওয়াই-ফাই সিগন্যাল মূলত যারা হাই ডেফিনিশন ভিডিও স্ট্রিম, ফাইল শেয়ার বা তারবিহীন ডিসপ্লে ব্যবহার করেন তাদের জন্য তৈরি।

একটি ফাইল সার্ভারে সব ফাইল রেখে ফোন, ট্যাবলেট, ল্যাপটপ বা পিসি সবকিছু থেকে ব্যবহার করার সুবিধা থাকলে বার বার ফাইল ট্রান্সফারের সমস্যা অনেক কমানো সম্ভব। এ জন্য ৫ গিগাহার্জ ওয়াই-ফাই খুবই জরুরি। কেননা ২.৪ গিগাহার্জ ওয়াই-ফাইয়ের লেটেন্সি (কমান্ড দেওয়া ও কাজ শুরুর মাঝের সময়) সমস্যা এতে নেই।

ডিজাইন
সাদা রঙের চার কোনা বাক্সের মতো রাউটারটির তৈরিতে প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়েছে। তবে সাধারণ ব্যবহারে এটি ক্ষতিগ্রস্ত হবার সম্ভাবনা নেই।

এর ওপরের অংশে রয়েছে চারটি অ্যান্টেনা, পেছনের পোর্টগুলো ও নীচে প্রয়োজনীয় সব তথ্য সম্বলিত স্টিকার। মূলত অন্যান্য রাউটারের দেখতে তেমন কোনো পার্থক্য নেই।

সফটওয়্যার
প্রায় সব রাউটারের ক্ষেত্রেই সকল ফিচার ব্যবহারের জন্য ওয়েব পোর্টাল ব্যবহার করা হয়। টোটোলিঙ্কের ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম নয়।

এতে তেমন ব্যাতিক্রমি ফিচার না থাকলেও, প্রায় সকল প্রকারের ব্রডব্যান্ড কানেকশন (ডিএইচসিপি, স্ট্যাটিক আইপি ও পিপিটিপি), আলাদা আলাদা ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক, কানেকশন প্রতি স্পিড কন্ট্রোল- এমন সব জরুরি ফিচার ঠিকই রয়েছে।

পারফরমেন্স
একটি রাউটারের মূল পারফরমেন্স নির্ভর করে সেটির স্পিডের ওপর। বাজেট রাউটারের মধ্যে এ৮৫০আর সেদিক থেকে বেশ এগিয়ে।

২.৪ গিগাহার্জ ব্যান্ডে ৩০০ মেগাবিট ও ৫ গিগাহার্জ ব্যান্ডে ৮৬৭ মেগাবিট পর্যন্ত স্পিড দিতে সক্ষম এটি। তবে সাধারণত ১০০ মেগাবিট পর্যন্ত স্পিড ঠিকঠাক পাওয়া যাবে।

এর মূল আকর্ষণ ৫ গিগাহার্জ ব্যান্ডটিতে প্রায় কোনও লেটেন্সি ছাড়াই তথ্য আদান প্রদান করার সুবিধা থাকায় তারবিহীন ডিসপ্লে, ভিডিও স্ট্রিমিং ও গেইম খেলার মতো কাজ করতে কোনও সমস্যা হবে না।

শুধু তাই নয়, আপলোড ও ডাউনলোড সমান তালে চালিয়ে যাবার জন্য এতে মিমো টেকনোলজি ব্যাবহার করা হয়েছে।

পদার্থবিদ্যাগত সীমাবদ্ধতার কারণে ৫ গিগাহার্জ ওয়াই-ফাইয়ের রেঞ্জ কখনই দুটি রুমের বেশি না হলেও, ২.৪ গিগাহার্জ ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কটির রেঞ্জ যথেষ্ট ভালো।

অনায়াসে একটি ১৫০০-২০০০ বর্গফুট বাসা বা অফিসের যে কোনও জায়গা থেকে ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক পাওয়া যাবে।

রাউটারটির কেসিংয়ে প্রচুর তাপ বেড়িয়ে যাওয়ার ভেন্ট থাকার ফলে রাউটারটি ওভারহিট হয়ে হ্যাং করার সম্ভাবনা নেই।

মূল্য
বাজারে ৪৫০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে রাউটারটি।

এক নজরে ভাল

  • ডুয়াল ব্যান্ড ওয়াই-ফাই, ভালো স্পিডে ডেটা ট্রান্সফারের সুবিধা
  • ভাল রেঞ্জ
  • চমৎকার থার্মাল ডিজাইন

এক নজরে খারাপ

  • গিগাবিট ল্যান ও ওয়্যান নেই। তবে এ দামে গিগাবিট ল্যান ও ডুয়াল ব্যান্ড ওয়াই-ফাই এখনও বাজারে নেই
  • ইউএসবি পোর্ট নেই। ফলে ফাইল সার্ভার বা প্রিন্টার শেয়ার করার সুবিধা নেই

আরও পড়ুন: