সফল ট্রাভেল ব্লগার হওয়ার ৭ টিপস

ফারজানা মাহমুদ পপি, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ঈদের সময় মজা করে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। দারুণ সব জায়গায় যাচ্ছেন। মজার সব অভিজ্ঞতা হচ্ছে। এর মধ্যে কয়েকজন সেগুলো তুলে ধরছেন অনলাইন। এ থেকে আয়ও করছেন বেশ। স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে- তাই না? তবে এটি স্বপ্ন নয়, বাস্তব। বিশ্বব্যাপী ভ্রমণ ব্লগের বড় বাজার রয়েছে, এর চাহিদাও বাড়ছে।

আপনি যেখানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তার গল্পের ঢংয়ে তুলে ধরুন। ভ্রমন সম্পর্কে জানান। পাঠক আসবেই, যা টেনে নিয়ে আসবে বিজ্ঞাপনও। এ থেকে আয় হবে বড় অংকের অর্থ।

একজনের ভ্রমণ ব্লগারের গল্প বলি। ক্রিস্টি উডো নামের সান ডিয়াগো শহরের ৩৬ বছর বয়সী এক নারী ২০১০ সালে তার ভ্রমণ ব্লগ শুরু করেন। এর আগে তিনি নিজের হিসাবরক্ষণ ব্যবসার আর্থিক উপদেষ্টা ছিলেন।

travel-blogging-tips-TechShohor

প্রথমদিকে ব্লগ লিখে বিখ্যাত হয়ে ওঠা এ পর্যটক একটু কম উৎসাহী ছিলেন। ধীরে ধীরে তিনি অকুতোভয় গতিতে এগিয়ে চলেছেন। গত ছয় বছরে তিনি ভ্রমণ ব্লগার ও ফটোগ্রাফার হিসেবে বিশ্বভ্রমণ করেছেন। গত বছর লাখ ডলার ছিল তার বার্ষিক আয়।

বলছিলাম বিশ্বব্যাপী ভ্রমণ ব্লগের বড় বাজার রয়েছে। তবে সবার জন্য সহায়ক ও তথ্যপূর্ণ ব্লগ লেখা সহজ নয়। এজন্য আপনাকে বেশ মনোযোগী হতে হবে। অর্জন করতে হবে দক্ষতাও।

সর্বশেষ ট্রাভেল ট্রেন্ডস রিপোর্ট অনুযায়ী, ৯২ শতাংশ সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী ট্রাভেল ব্লগের মাধ্যমে অনুপ্রাণিত হন। এ ছাড়া প্রায় ৭২ শতাংশ লোক সোশ্যাল মিডিয়ায় তার বন্ধুদের মতামতের ভিত্তিতে ভ্রমণে স্থান নির্ধারণ ও পরিবর্তন করে থাকে।

তাই আপনি যদি ভ্রমণ করতে ভালোবাসেন ও এ বিষয়ে সবাইকে জানানোর মাধ্যমে আয় করতে চান তাহলে একজন ভ্রমন বিষয়ক ব্লগার হিসেবে কাজ শুরু করতে পারেন। একজন সফল ভ্রমণ ব্লগার হওয়ার সাতটি গুরুত্বপূর্ণ টিপস দেওয়া হলো:

যথাযথ কারণ নির্ধারণ
আপনি একটি ভ্রমণ বিষয়ক ব্লগ লিখলেই সবাই পড়বে না। সেটির প্রতি অন্যদের আগ্রহ থাকতেও হবে। আপনাকে মনে করতে হবে আপনি যেখানে যাবেন সেখানকার ভ্রমণ খরচ, হোটেল ভাড়া সবাই আপনার এই লেখনীর মাধ্যমে উঠে আসতে হবে। আপনার ভবিষৎ রুপরেখা চূড়ান্ত করেই তবেই ভ্রমণ করুন ও লিখুন।

নিশ বিষয় বাছাই করুন
প্রথমদিন আপনি থাইল্যান্ডের একটি রাজকীয় হোটেল সম্পর্কে লিখলেন। দ্বিতীয়দিন আপনি বার্লিনের একটি সস্তা রেস্টুরেন্ট সম্পর্কে লিখলেন। বুঝতে পারছেন কি হবে? আপনার পাঠকরা দ্বিধান্তিত হবে।

আপনি যে বিষয়ে লিখবেন তাতে আপনার অভিজ্ঞ হতে হবে এবং নিজস্ব বিষয় থাকতে হবে। কারণ আপনার একটি নির্দিষ্ট বিষয় আপনাকে হাজারো ব্লগারের থেকে ভিন্ন করবে।

বিশ্বের সফল ব্লগাররা একটি নির্দিষ্ট বিষয় নিয়েই লিখে থাকেন। যেমন ফিমেল ট্রাভেল, ফ্যামিলি ট্রাভেল, লাক্সারি ট্র্যাভেল, ফ্যাশন ট্রাভেল, বাজেট ইউরোপ ট্রাভেল, সিনিয়র ট্রাভেল ইত্যাদি। তাই আপনাকে প্রথমেই আপনার কাঙ্খিত পাঠক খুঁজতে হবে এবং তাদের আগ্রহের বিষয়েই লিখতে হবে।

ভালো গল্প লিখুন
সবাই একটি ভালো গল্প পড়তে চায়। তাই যখনই আপনি কোনো বিষয়ে লিখবেন তার একটি ভালো গল্প থাকতে হবে। একটি সিনেমার মতোই আপনার শুরু, মধ্যকার কাহিনী ও শেষটা ভালো হওয়া চাই। একজন নায়ক এবং ভিলেনের বাইরে অন্যদের উত্তেজনাও আপনাকে চিন্তা করতে হবে।

Travel-girl-techShohor

সমাধান দিন
মানুষ একটি সমস্যার সমাধান চায়। তারা আদ্যোপান্ত জানতে চায়। তাই আপনার ব্লগের ডিজাইনটা হতে হবে একটি সমাধানের প্লাটফর্ম। ফলে একজন পাঠকের জানার আগ্রহের শেষটা পর্যন্ত আপনাকে আপনার ব্লগেই রাখতে হবে।

তাকে যেন একই বিষয়ের আরেকটি তথ্য পাওয়ার জন্য অন্য কোনো ব্লগে ভিজিট করতে না হয়। শুধু নিজের অভিজ্ঞতা না বলে পাঠক কিভাবে আরও ভালোভাবে তার ভ্রমণটি করতে পারে সেটি জানাতে হবে।

বিস্তারিত লিখুন
আবারও বলছি, শুধু আপনার ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখলে হবে না। পাঠকদের এর বিস্তারিত জানাতে হবে। লেখার পাশাপাশি আপনাকে যথেষ্ঠ ছবিও দিতে হবে। ক্ষুদ্র কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাদ দেওয়া চলবে না।

প্রয়োজনীয় তথ্য যেমন বিভিন্ন খরচ, কোন সময় খোলা থাকে, কিভাবে স্থানটি সহজে খুঁজে পাওয়া যাবে ইত্যাদি ছোট ছোট তথ্যও দিতে হবে।

হাল ছেড়ে দিবেন না
কিছুদিন লিখলেন। সফলতা না দেখে হাল ছেড়ে দিলেন এমনটি করলে চলবে না। ট্রাভেল ব্লগিংয়ে সফল হতে হলে অনেক পরিশ্রম ও সময় দিতে হয়। তাই হতাশ না হয়ে অপেক্ষা করতে হবে।

ভালো ফলোয়ার পেতে পরিমানের চেয়ে বরং মানের দিকে নজর দিন। সোশ্যাল মিডিয়া, সাবস্কাইবার, মেইলিং লিস্টসহ বিভিন্নভাবে ফলোয়ার অর্জন করুন। তবে অবশ্যই স্প্যামিং করবেন না। এতে হিতে বিপরীত হবে।

Lauren-Travel-blogger-techshohor

সাধ্যের বাইরে যাবেন না
আপনি একটি স্থানে না গিয়ে ইন্টারনেট ঘাটাঘাটি করে লিখে ফেললেন। এটি মোটেও করবেন না। একজন ভালো ট্রাভেল ব্লগার হতে খুব ভালো ব্লগিং কিংবা ওয়েব ডিজাইনে দক্ষতার প্রয়োজন নেই। এগুলো আস্তে আস্তে হয়ে যাবে। আপনাকে নিজের সাধ্যের মধ্যেই সর্বোচ্চ ভালোটা দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। তাই বলে থেমে থাকলে চলবে না।

আলবার্ট আইনস্টাইন বলেছিলেন, আপনি যদি পথে না নামেন তাহলে কিছুই ঘটবে না। তাই বুঝে শুনে, পরিকল্পনা করে, নিজের পছন্দের বিষয়বস্তু বুঝে এবং কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে নেমে পড়ুন। চেষ্টা থাকলে অবশ্যই সফল হবেন।

সিএনএন অবলম্বনে

সাত স্বপ্নবাজের অনলাইন পাঠশালা রেইনআর্ক ডটকম

সাইমুম সাদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সাত তরুণের ভাবনার ফসল অনলাইন পাঠশালা রেইনআর্ক ডটকম। রংধনুতে যেমন সব রংয়ের সমাবেশ থাকে, তেমনি এ ভার্চুয়াল পাঠশালায় শিক্ষার্থীদের জন্য থাকছে প্রয়োজনীয় সব টিউটোরিয়াল। নিজের প্রয়োজনে প্রকৌশলের সব শিক্ষার্থীর প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণের ঠিকানা হতে চায় এটি।

এমন পরিকল্পনা থেকেই দেশে ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগ নিয়েছেন সাত প্রকৌশলী। নিজেদের চেষ্টায় গড়ে তুলছেন টিউটোরিয়ালভিত্তিক এ অনলাইন আর্কাইভ, যাকে তারা নাম দিয়েছেন পাঠশালা। আক্ষরিত অর্থেই যাতে জ্ঞানপিপাসুরা হাতে কলমে বিষয়টি বুঝতে পারেন সে চেষ্টাই চালাচ্ছেন তারা।

কেউ ক্লাস মিস করেছেন কিংবা কোনো পেশাজীবীর হঠাৎ নতুন একটি বিষয়ে জানা দরকার- এমন ক্ষেত্রে সবজান্তা শমসেরের ভূমিকায় যেতে চায় রেইনআর্ক ডটকম। সবাই যাতে তাদের প্রয়োজনীয় বিষয়ের টিউটোরিয়াল খুঁজে পান এবং আস্থা ও নিশ্চিন্তভাবে তা ব্যবহার করতে পারেন এমন পরিকল্পনা নিয়েই এগিয়ে চলছে ভিত্তিপর্বের কাজ।

Untitled

এখন এ ভার্চুয়াল পাঠশালায় সিভিল প্রকৌশল, কম্পিউটার প্রকৌশল, ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স বিষয়ের টিউটোরিয়াল মিলবে। ভবিষ্যতে তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রকৌশলের সব বিষয়ের তথ্য রাখার পরিকল্পনার কথা জানান উদ্যোক্তারা। চাইলে যে কারও এখানে ভিডিও আপলোড করার সুযোগও রয়েছে।

টিউটোরিয়ালভিত্তিক অনলাইন এ শিক্ষা কেন্দ্র তৈরির ভাবনার একবারে গোড়ায় ছিলেন আহসান উল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রভাষক গালিব মুক্তাদির। তিনি জানালেন শিক্ষার্থীদের সহায়তা করতে এ অনলাইন পাঠশালা গড়ে তোলার কথা। অনলাইনে পড়াশোনার বিষয়টিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে অন্য ছয় সঙ্গী প্রকৌশলীর স্বপ্ন ও ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

শুরুর গল্প
২০১২ সালে বুয়েট থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা শেষ করেন গালিব। কাছের বন্ধুরা একে একে সবাই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি জুটিয়ে নিয়েছেন। বন্ধুরাও তাকে তাগাদা দিচ্ছে, কিছু একটা চাকরি করার। কিন্তু বহুজাতিক কোম্পানির চাকরি কখনই টানেনি তাকে। সব সময় ভিন্ন কিছু করার চিন্তা করতেন তিনি।

দিন কয়েক পর গালিবের বোধোদয় হলো। ভাবলেন, সত্যিই একটা কিছু করা দরকার। তবে চাকরি নয়, শিক্ষার্থীদের সহায়তায় নতুন একটা আইডিয়া খুঁজে বের করার কাজে নেমে পড়লেন। হঠাৎ তার মাথায় এল শিক্ষার্থীরা ক্লাসের নোট অনেক সময় বুঝতে পারের না বা ক্লাস মিস করলে সেদিনের টিউটোরিয়ালটা আর মাথায় ঢোকে না।

pic 3

এ প্রকৌশলী ভাবলেন, টিউটোরিয়ালগুলোকে ভিডিও আকারে একটা সাইটে সংগ্রহ করে রাখলে কেমন হয়? শিক্ষার্থীরা যখন ইচ্ছা অনলাইনে পড়াশোনা করতে পারবে। বনন্ধুদের সঙ্গে আইডিয়াটা শেয়ার করলেন।

সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে গেলেন মশিউর রহমান, নাইম হাসান ও সাজিদ-উল-আলম। কিন্তু সবাই সিভিলের শিক্ষার্থী বলে কারোরই প্রোগ্রামিং নিয়ে ধারাণ নেই। তাই প্রোগ্রামিং শিখতে প্রশিক্ষন কেন্দ্রে ভর্তি হলেন চারজন।

প্রশিক্ষণ নিতে গিয়ে পরিচয় হলো শামস সাদিক, মোশাহেদ আলম ও ইমতিয়াজ আহমেদের সঙ্গে। তারাও যোগ দিলেন স্বপ্নবাজদের দলে। সর্বসাকুল্যে টিমের সদস্য সাত। সবাই কাধে কাধ মিলিয়ে শুরু করলেন কর্মযজ্ঞ। এরই মধ্যে সাইটটির একটা নামও ঠিক করলেন। নাম দিলেন রেইনআর্ক ডটকম। নামের ব্যাখ্য শুরুতেই বলা হয়েছে।

দিন কয়েকের মাথায় মোহাম্মদ পুরের ইকবাল রোডে ছোট্ট একটা রুম ভাড়া নিলেন। সারা রাত জেগে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে ওয়েবসাইটের কনটেন্ট তৈরি করেন তারা। সর্বশেষ ২০১৩ সালের মার্চের দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে ওয়েবসাইটটি।

অ্যাকাউন্ট খুলবেন যেভাবে
প্রথমে ওয়েবসাইটে  ঢুকতে হবে। এরপর সাইটের ডানপাশে অ্যাকাউন্ট খোলার অপশন আছে। সেখানে নাম ও ই-মেইল আইডি দিয়ে ওকে বাটনে ক্লিক করলেই ফিরতি মেইলে একটি কনফার্মেশন মেইল যাবে।

এতে পার্সওয়ার্ড থাকবে। এরপর লগনই করা যাবে। একইভাবে ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাস অ্যাকাউন্ট দিয়েও সরাসরি লগইন করা যাবে।

pic 2

ভিডিও আপলোড করার উপায়
অনলাইন এ পাঠশালায় চাইলে যে কেউ গুণগত মানের লেকচার ক্যামরা দিয়ে ভিডিও করে আপলোড করতে পারেন। তবে সবচেয়ে সহজ উপায় হলো স্ক্রিন ক্যাপচার সফটওয়্যার ব্যবহার করা। এর মাধ্যমে কোন শিক্ষক স্ত্রিনের সামনে মাইক্রোফোনে টিউটোরিয়ালের কথাগুলো বলবেন সঙ্গে স্ত্রিনে প্রয়োজনীয় ছবি রাখবেন। স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুরো পক্রিয়া ভিডিও হবে। এরপর ঝটপট আপলোড করা যাবে।

ফেসটিউব
সামাজিক যোযাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকের আদলেই সাইটিটি তৈরি। ব্যবহারকারীরা সহজেই তাদের যে কোনো প্রশ্ন বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করতে পারবেন। প্রত্যেকেরই একটি নির্দিষ্ট বন্ধু তালিকা থাকবে।

ফেইসবুকের মতোই হোমপেজে বন্ধুদের শেয়ার করা তথ্য দেখতে পাবেন। নিজের ভাললাগা-মন্দলাগা কমেন্টে জানাতে পারবেন। লাইক দিতে পারবেন। এমনকি ব্যবহারকারীরা একে অপরে ইনবক্সে যোগাযোগ করতে পারবেন।

কোনো তথ্য অসম্পূর্ণ কিংবা ভুল মনে হলে ভিডিওটির বিষযে রিপোর্ট করার ব্যবস্থা আছে। প্রয়োজনে পরীক্ষা করে ভিডিওটি সরিয়ে ফেলা হয়। অন্যদিকে ব্যবহারবকারীরা ইউটিউবের আদলে তাদের নিজস্ব লেকচার ভিডিও আকারে আপলোড করতে পারবেন। ভিডিওটি নিয়ে অন্যান্যদের মন্তব্যের সুযোগ আছে।

ভবিষ্যত পরিকল্পনা
সহ-প্রতিষ্ঠাতা গালিব মুক্তাদির জানালেন, ভবিষ্যতে সাইটে রিসার্চের অপশন চালু করা হবে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বিষয়ের ওপর রিসার্চ করতে পারেন। পাশাপাশি ভিডিওগুলো যাতে অন্তত একবার বিশেষজ্ঞ পরীক্ষা করে দেখবেন এতে ভুল রয়েছে কি না।

ব্যবহারকারীদের মন্তব্য
আহসান উল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিলি ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আসিফ নাভিদ বলেন, ক্লাসে অনেক টিউটোরিয়াল বুঝতে অসুবিধা হতো। এরপর রেইনআর্কে একই বিষয়ের টিউটেোরিয়াল বারবার দেখে বিষয়টি আত্মস্থ করা সম্ভব হয়েছে।

তার মতো আরও অনেকের মতে, পরীক্ষার আগে হাতের নাগালে নোট পাওয়া যায়না। কিন্তু সাইটটি এ সমস্যার সমাধান করে দিয়েছে।

একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী আবু সুফিয়ান রাব্বি জানালেন, তিনি নতুন ব্যবহারবারী। তবে অল্প কয়েকদিনের মধ্যে এটা তার খুব ভাল লেগেছে বলে জানান। সহজেই অনেক কঠিন বিষয় জানতে পারায় উপকার হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আরো পড়ুনঃ

 

ভালো কভার লেটার লেখার ১০ টিপস

তুসিন আহমেদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : অনলাইন মার্কেটপ্লেসে কাজ পাওয়ার শুরুটা হয় কভার লেটার থেকে। অভিজ্ঞদের মতে কাজ পেতে ক্লায়েন্টের দৃষ্টি আকর্ষণের প্রধান উপায় কভার লেটার। একটি আকর্ষণীয় কভার লেটার ফ্রিল্যান্সারদের অনেক মাইলেজ দেয়। শুরুতেই ক্লায়েন্টের নজর কাড়তে না পারলে কাজ পাওয়ার সম্ভবণা শূণ্য। তাই ভালো মানের একটি কভার লেটার লেখার চেষ্টা করতে হবে শুরুতেই।

ইল্যান্স-ওডেক্সের কান্ট্রি ম্যানেজার সাইদুর মামুন খানও মার্কেটপ্লেস থেকে ফ্রিল্যান্সারদের আউটসোর্সিং কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে কভার লেটারকে গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে উল্লেখ করেন। টেক শহরডটকমে এ বিষয়ে পাঠকদের বেশ কিছু প্রশ্নের জবাবে তিনি ক্লায়েন্টের দৃষ্টি আকর্ষণে এটিকে ভালোভাবে উপস্থাপনের পরামর্শ দিয়েছেন।

পাঠকদের বিভিন্ন জিজ্ঞাসার বিষয়টি মাথায় রেখে একটি ভালো মানের কভার লেটার তৈরিতে করনীয় ১০ দিক নিয়ে এ প্রতিবেদন।

আরও পড়ুন: কভার লেটার হাইড : স্কিল ছাড়া বেশি অ্যাপ্লাই, কপি-পেস্ট

উইমেন-টেকশহর

১. কভার লেটার অবশ্যই নিজে লেখা উচিত। বন্ধু কিংবা অন্য কাউকে এটি লেখার দায়িত্ব দেওয়া কিংবা কপি করে লেখা একদমই উচিত নয়। কেননা পরে ক্লায়েন্টের সঙ্গে ইন্টারভিউয়ের সময় এ নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

২. ভাষার দক্ষতার দিকে নজর দিতে হবে। বানান যেন ভুল না হয়। কম শব্দের মধ্যে বিস্তারিত তুলে ধরতে হবে। ক্লায়েন্টদের সময় কম থাকে বলে বড় কভার লেটার পড়ার সময় থাকে না তাদের। তাই ছোট রাখা ভালো।

তবে ক্লায়েন্ট যেন সম্পূর্ণ কভার লেটার পরে আপনার সম্পর্কে সঠিক ধারণা পেতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

৩. একই কথা কভার লেটালে বার বার ব্যবহার করা একদমই উচিত নয়। এতে ক্লায়েন্ট বিরক্ত হবেন।

৪. কভার লেটারে হাই কিংবা হ্যালো দিয়ে শুরু করা ভালো। স্যার কিংবা ম্যাডাম ব্যবহার পরিত্যাগ করাই ভালো।

৫. যে কাজের জন্য অ্যাপ্লাই করেছেন সেই রকম কাজের ডেমো কভার লেটারে যুক্ত করে দিতে হবে। যাতে ক্লায়েন্ট সহজে বুঝতে পারে আপনি কাজটি করতে পারবেন।

৬. কাজটি নিয়ে ক্লায়েন্টকে পরামর্শ দিন। ক্লায়েন্ট যেভাবে কাজটি চাচ্ছে সেটির চেয়ে আরও ভালো কিছুর পরামর্শ দিন। কেন অন্যভাবে করলে সুন্দর হবে সেটি সংক্ষেপে তাকে বুঝিয়ে বলতে হবে। তাহলে ক্লায়েন্ট বুঝতে পারবে আপনি কাজটি সম্পর্কে এক্সপার্ট। সেক্ষেত্রে কাজ পাওয়ার সম্ভবনা বেশি।

৭. কখনো ই-মেইল, স্কাইপে এবং ইয়াহু আইডি কভার লেটালে দেওয়া যাবে না। যদি ক্লায়েন্ট নক করে শুধু তাহলেই দেওয়া উচিত।

৮. অনেকে কভার লেটারে নিজের গুনগান বেশি করেন এবং কাজটি তার একান্ত দরকার এ রকম আকুতি মিনতি করেন। এগুলো পরিহার করতে হবে।

৯. ধন্যবাদ দিয়ে নিজের নাম উল্লেখ করে কভার লেটার শেষ করতে হবে।

১০. সব সময় একই কভার লেটার না লিখে কাজের ধরণ অণুযায়ী তা পরিবর্তন করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন:

ফ্রিল্যান্সিংয়ে ডিগ্রি নয়, কাজ ও যোগাযোগ দক্ষতাই আসল

মার্কেটপ্লেসে প্রোফাইল থাকলেই ফ্রিল্যান্সার হওয়া যায় না

মার্কেটপ্লেসে প্রোফাইল থাকলেই ফ্রিল্যান্সার হওয়া যায় না

ফটোশপের অ্যাডভান্স টিউটোরিয়াল বানাল প্রযুক্তি টিম

তুসিন আহমেদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন, ফটোগ্রাফি, ভিডিও এডিটিং, অ্যানিমেশন, ভিজুয়্যাল ইফেক্টসসহ অনেক কাজের প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার এডোবি ফটোশপ। ব্যবহারকারীদের বিশেষ করে গ্রাফিক্স ডিজাইনারের সহায়তার জন্য প্রযুক্তি টিম ফটোশপ সফটওয়্যার নিয়ে একটি অ্যাডভান্স টিউটোরিয়াল তৈরি করেছে।

এ টিউটোরিয়ালের ডিভিডি সম্প্রতি বাজারে ছেড়েছে তরুন এসব প্রযুক্তি কর্মীর দলটি। ৩৫০ টাকা দামের এ ডিভিডি দেশের বিভিন্ন সিডি ও ডিভিডির দোকানের পাওয়া যাবে।

এতে ফটোশপে ভিডিও এডিট করার পদ্ধতি, ফটোগ্রাফি, ওয়েব ডিজাইন, অ্যানিমেশনসহ বিভিন্ন কাজে ফটোশপের ব্যবহার তুলে ধরা হয়েছে।

প্রযুক্তিটিম -টেকশহর

এ টিউটোরিয়াল তৈরির সঙ্গে যুক্ত প্রযুক্তি টিমের সদস্য হাসান যোবায়ের টেকশহরডটকমকে বলেন, ডিভিডিতে ভিডিও ফাইলের পাশাপাশি সোর্স ফাইলের সঙ্গে অন্যান্য ফটোশপ সম্পর্কিত টুলস, প্লাগ ইনস, ব্রাশ, অ্যাকশন, প্রিসেটসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফাইল রয়েছে।

তরুন এ টিউটোরিয়াল নির্মাতা বলেন, এডোবি ফটোশপ নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। ভিজুয়্যাল এমন কোনো কাজ নেই যেখানে ফটোশপের প্রয়োজন হয় না। একজন সাধারণ ইউজার থেকে শুরু করে প্রফেশনালদের জন্য ফটোশপ কাজে লাগে।

ফটোশপ-ডিভিডি-টেক-শহর

যোবায়ের বলেন, অফিসিয়াল কাজেও ফটোশপের প্রয়োজন হয়। তাই ফটোশপ নিয়ে প্রয়োজন পরিপূর্ণ দিতে এবং বেসিক থেকে শুরু করে অ্যাডভান্স সকল ফটোশপ টেকনিক জানাতে ফটোশপ অ্যাডভান্স বাংলা টিউটোরিয়াল ডিভিডির ২য় খন্ড প্রকাশ করা হয়েছে।

এ অ্যাডভান্স টিউটোরিয়ালে ফটোশপের সব অ্যাডভান্স ফিচারগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আগের ধারাবাহিকতায় এতে ৫১ নম্বার থেকে ১০০তম টিউটোরিয়ালে শেষ করা হয়েছে।

এ ছাড়া অনলাইন আয়, ওয়েব ডিজাইনের জন্য ফটোশপ নিয়ে আরও ২৫টি এইচডি ভিডিও টিউটোরিয়াল রয়েছে এতে বলে জানান যোবায়ের

আগ্রহীরা চাইলে ডিভিডিটি অনলাইন কেনাকাটার সাইট রকমারি ডটকম এবং প্রযুক্তি টিমের ওয়েবসাইট থেকে অর্ডার করতে পারবেন।

বেখেয়ালে প্রযুক্তির সাত ভুল

তুসিন আহমেদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : প্রযুক্তি প্রতিনিয়ত এগিয়ে যাচ্ছে। নিত্য নতুন ফিচারের প্রযুক্তি পণ্য বাজারে আসছে। তবে নতুন কিছু কেনা বা সংগ্রহের ক্ষেত্রে অনেকেই বেখেয়ালে অনেক ভুল করে থাকে। একটু সচেতন থাকলে এ ভুলগুলো এড়ানো সম্ভব। এতে অনেক উপকার ও সাশ্রয় হতে পারে।

প্রযুক্তি বিষয়ক এমন সাতটি ভুলের কথা তুলে ধরা হলো এ প্রতিবেদনে।

আরও পড়ুন:  ঐতিহাসিক পেটেন্ট রায় নিয়ে বিভক্ত প্রযুক্তি জায়ান্টগুলো

tceh-techshohor

বাজে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা
টেক জায়ান্ট মাইক্রোসফট নিয়মিত বিরতি দিয়ে নতুন অপারেটিং সিস্টেম বাজারে নিয়ে আসে। এর মধ্যে উইন্ডোজ এক্সপি বেশি জনপ্রিয়তা পায়। তবে উইন্ডোজ ভিস্তা একদম জনপ্রিয়তা পায়নি। ধীর গতির হওয়ায় ভিস্তা পুরোপুরি ফ্লপ হয়।

এরপর উইন্ডোজ ৭ গতি এবং চমৎকার ফিচারের কারণে বেশ জনপ্রিয়তা পায়। বর্তমানে উইন্ডোজ ৮ অনেকেই ব্যবহার করে থাকেন। তবে উইন্ডোজ ৭ এর মতো ৮ এখনও অনেকের পছন্দ নয়। তাই এটিও তেমন জনপ্রিয়তা পায়নি।

তাই অপারেটিং সিস্টাম বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অবশ্যই ভাল একটি অপারেটিং সিস্টেম বাছাই করে নিতে হবে। কোনোভাবেই উইন্ডোজ ভিস্তার মতো সিস্টেম বাছাই করা উচিত হবে না। যাতে কাজ করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়।

আবার আপগ্রেডের ক্ষেত্রে যে অপারেটিং সিস্টেমে কাজ কর সাচ্ছন্দ্য পাবেন না সেটিও ব্যবহার না করাই ভালো।

কম স্টোরেজ ক্ষমতার হার্ডড্রাইভ নির্বাচন করা
কম্পিউটার কিংবা কোনো ডিভাইস কেনার সময় অবশ্যই হার্ডড্রাইভের দিকে খেয়াল রাখা উচিত। কেননা এটি ডিভাইসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। হার্ডড্রাইভে সংরক্ষণ করা হয়ে থাকে সব তথ্য। তাই এটির ধারণক্ষমতা যতো বেশি হবে ব্যবহারকারীদের জন্য ডিভাইসটি ব্যবহার ততো সুবিধার হবে।

Untitled

তাই কম স্টোরেজ ক্ষমতার হার্ডড্রাইভ নির্বাচন না করে বেশি ক্ষমতার ড্রাইভ নির্বাচন করা উচিত।

প্রয়োজনীয় ফাইলের ব্যাকআপ না রাখা
হার্ডড্রাইভের প্রয়োজনীয় ফাইলগুলো অনেক সময় ভাইরাস, ভুলে কিংবা অন্যান্য কারণে ডিলেট হয়ে যেতে পারে। তাই প্রয়োজনীয় ফাইলগুলো ব্যাকআপ রাখা অনেক জরুরি। অনেকে ভুলে যায় ব্যাকআপ রাখার কথা। কিন্তু পরে ফাইলগুলো হারিয়ে গেলে আসফোস করতে হয়। তাই হার্ডড্রাইভের ফাইলগুলোর আলাদা ব্যাকআপ রাখা উচিত।

পুরানো অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের স্মার্টফোন কেনা
অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত এবং জনপ্রিয়। অ্যান্ড্রয়েড প্রতিনিয়ত নতুন অপারেটিং সিস্টেম নিয়ে আসছে। তাই সময়ের সঙ্গে তাল না মিলিয়ে কিংবা আগ পাছ না ভেবে পুরানো অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণের স্মার্টফোন ডিভাইস কিনলে তা পরে তা আসফোসের কারণ হয়ে যাবে।

android-app-phones-techshohoror

পুরনো অপারেটিং সিস্টেমের ডিভাইসটি কিনলে এতে নতুন সংস্করণ ব্যবহার করা যায় না। তাই স্মার্টফোন কেনার ক্ষেত্রে সব সময় সর্বশেষ সংস্করণটি কেনা উচিত।

ফাইল সঠিক ফরম্যাটে সংরক্ষণ না করা
কোনো ফাইল সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সব সময় সঠিক ফরম্যাটে তা সংরক্ষণ করা উচিত। যেমন: অডিও এমপিথ্রি ফর‍ম্যাটে, ভিডিও এমপি ৪ কিংবা এভিআই, ছবি জেপিজি, পিএনজি ফরম্যাটে ইত্যাদি। যদি ভিডিও গান অডিও ফরম্যাটে রাখা হয়, তাহলে তা চলতে সমস্যা হবে।

অনেক সময় ব্যবহারকারীরা ফাইল রিনেম করতে গিয়ে ফরম্যাটটি পরিবর্তন করে ফেলেন ভুলবশত। তখন সেই ফাইলটি নষ্ট হয়ে যায় বা পরে খুঁজে পাওয়া যায় না। তাই এসব বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে এবং যে কোনো ফাইল সঠিক ফরম্যাটে সংরক্ষণ করতে হবে।

ces-techshohro

থ্রিডি টেলিভিশনের পিছনে বিনিয়োগ
বড় অংকের অর্থ ব্যয় করে অনেকে এখন থ্রিডি টেলিভিশন কিনছেন। তবে বর্তমানে থ্রিডি টেলিভিশনের যুগ প্রায় শেষ। কেননা চলতি বছর সিইএস সম্মেলনে উম্মোচন করা হয় নতুন ফোরকে ডিসপ্লের টেলিভিশন। তাই অধিক টাকা দিয়ে থ্রিডি টেলিভিশন না কিনে ফোরকে টেলিভিশন কেনা উচিত।

পুরোপুরি ডিভাইস চার্জ না করে বাইরে যাওয়া
স্মার্টফোন, ল্যাপটপ কিংবা ট্যাবলেট ডিভাইসগুলোর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এগুলো খুব সহজে বহন করা যায় এবং বিদ্যুৎ ছাড়া চালানো যায়। খুব সহজে প্রয়োজনীয় কাজগুলো সেরে ফেলা যায়। তাই ঘর থেকে বাইরে যাওয়ার আগে সব সময় ডিভাইসগুলোর ব্যাটারি সম্পূর্ণ চার্জ দিয়ে বের হতে হবে।

কেননা কম চার্জের ডিভাইস নিয়ে বাইরে গেলে হঠাৎ কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজের সময় চার্জ ফুরিয়ে যেতে পারে। তাই বাসা থেকে বের হওয়ার সময় ডিভাইসটিতে পুরোপুরি চার্জ দেওয়া উচিত। এতে বিড়ম্বনার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।

আরও পড়ুন:

জরিমানা দিয়ে ছাড়া পেলো চার প্রযুক্তি জায়ান্ট

নাইকন কুলপিক্স এল৩২০ : কম দামের ক্যামেরায় লেটেস্ট প্রযুক্তি

কম্পিউটার গতিশীল রাখার উপায়

তুসিন আহমেদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর: বর্তমান সময়ে কম্পিউটার  ছাড়া যেন অচল। কি দাপ্তরিক, কি শিক্ষা , সব ক্ষেত্রে কম্পিউটারের প্রয়োজনীয়তা কতটা বেশি তা বলা অপেক্ষা রাখে না।  এটি  অনেক কম সময়ে প্রয়োজনীয় কাজটি করে ফেলতে পারে খুব সহজেই।  তাই এই যন্ত্রটির প্রতি নির্ভরশীলতা দিন দিন বাড়ছে।

তবে সহজে কাজ করার এই  যন্ত্রটি  মাঝে মাঝে আপনাকে ভোগাতেও পারে। কারণ টানা কাজ করতে করতে এটি মাঝে মাঝে খুব স্লো হয়ে যায় আর তখন ব্যবহারকারীর বিরক্তির শেষ থাকে না।

Desktop user girl_Tech Shohor

তাই কম্পিউটার ব্যবহার করেন এমন পাঠকদের জন্য টেক শহরের আজকের টিউটোরিয়ালে  কিভাবে কম্পিউটারকে গতিশীল রাখতে হবে সে সম্পর্কে তুলে ধরা হলো:

কম অ্যাপ্লিকেশন চালু রাখুন: কম্পিউটারের একসঙ্গে একাধিক প্রোগ্রাম কিংবা ওয়েবসাইট চালানের অনেক সময় র‍্যামের উপর প্রেসার পরে ফলে কম্পিউটার স্লো হয়ে যায়। তাই একত্রে একাধিক অ্যাপ্লিকেশন ওপেন না করলে কম্পিউটার গতিশীল থাকবে।

 কম্পিউটার ঠাণ্ডা রাখুন:  কম্পিউটারকে সব সময় ঠান্ডা রাখতে হবে। কেননা অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে কম্পিউটার বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এ সমস্যা দেখা দিলে প্রথমেই কম্পিউটারের বাতাস চলাচলের পথগুলো উন্মুক্ত রাখতে হবে। ভেতরে ময়লা জমলে তা ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। ল্যাপটপে এমনটা হলে বাড়তি ফ্যানসহ কুলিং প্যাড ব্যবহার করতে পারেন। আর ডেস্কটপ কম্পিউটার বেশি গরম হলে বাড়তি ফ্যান লাগানোর ব্যবস্থা করতে হবে।

হার্ড ডিক্স খালি রাখুন: কম্পিউটারের হার্ড ডিক্সের জায়গা পরিপূর্ণ না রেখে সব সময় কিছুটা খালি রাখা উচিত। কেননা হার্ডডিক্স পরিপূর্ণ থাকলে কম্পিউটারের গতি কমে যেতে পারে। তাই গতি বাড়ানোর জন্য প্রথমেই আপনাকে হার্ড ডিস্কের কিছু জায়গা খালি করতে হবে।

অপ্রয়োজনীয় ফাইল মুছে ফেলুন:  অনেক কম্পিউটারেই বহু প্রোগ্রাম ইনস্টল করা থাকে, যেগুলোর কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। এসব অপ্রয়োজনীয় প্রোগ্রাম ও ফাইল মুছে ফেলাই হতে পারে গতি বাড়ানোর অন্যতম উপায়।

 টেম্পোরারি ফাইল ডিলিট করুন:  ওয়েবসাইট ভিজিট করলেই এসব ফাইল কম্পিউটার সেভ করে রাখে। আর এ প্রক্রিয়ায় কম্পিউটার ক্রমে ধীরগতির হয়ে যায়। এ ঝামেলা দূর করার জন্য আপনার নিয়মিত টেম্পোরারি ফাইল ডিলিট করা উচিত।

এ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করুন:  কম্পিউটারের কোনো  ভাইরাসের আক্রমন করলো কিনা তা কিছুদিন পর পর এ্যান্টিভাইরাস দিয়ে পরীক্ষা করে নেয়া উচিত।
 বাড়তি র‌্যাম:  কম্পিউটার যদি হয় পুরনো মডেলের তাহলে নতুন সফটওয়্যার চালাতে তা সমস্যায় পড়তে পারে। এ সমস্যা মোকাবেলায় কম্পিউটারে অতিরিক্ত র‌্যাম লাগালো উচিত। এতে করে কম্পিউটার আরও বেশি গতিময় হবে।

 

সফটওয়্যার ছাড়া ওয়েবসাইট ব্লক করার উপায়

তুসিন আহমেদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বাসায় শিশুরা  কিংবা অফিসের কর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মত বিভিন্ন ওয়েবসাইটে বেশি সময় ব্যয় করতে পারে। তাদের এসব সাইটে আসক্তির কারণে তা নানান ব্যাঘাত তৈরি করতে পারে। এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার একটি উপায় হলো সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটটি কম্পিউটারে ব্লক করে দেওয়া।

ব্লক করার জন্য নানা সফটওয়্যার থাকলেও সফটওয়্যার ছাড়াও যে কোনো ওয়েবসাইট ব্লক করা যায়। এ জন্য কিছু উপায় জানা থাকলে সহজে শিশু ও বড়দের জন্য নিষিদ্ধ ওয়েবসাইট ব্রাউজ বন্ধ করা যাবে।

কোনো সফটওয়্যার ছাড়া কিভাবে কম্পিউটারে ওয়েবসাইট ব্লক করা যায় তা এ টিউটোরিয়ালে তুলে ধরা হলো।

প্রথম কম্পিউটারে নোটপ্যাড ওপেন করতে হবে ।

এরপর যে ওয়েবসাইটি ব্লক করতে হবে সেটির ঠিকানা বা ইউআরএলটি কপি করে #Blocking লিখে এর নিচের লাইনে 127.0.0.1 লিখে  ইউআরএলটি পেস্ট করতে হবে। নিচের উদাহরণটি দেখে নিলে সুবিধা হবে।

আরও পড়ুন: ব্লক পেনড্রাইভ খোলার কৌশল

Untitled
# block google
127.0.0.1 www.google.com

এরপর নোটপ্যাডটি সেইভ করে কপি করে সি ড্রাইভে গিয়ে C:\WINDOWS\system32\drivers\etc লোকেশনে পেস্ট করে দিতে হবে।

তারপর কম্পিউটারটি রিস্টার্ট দিতে হবে। তাহলেই ওই ওয়েবসাইটটি ওই কম্পিউটারে আর দেখা যাবে না।

 

আরও পড়ুন

বাড়িয়ে নিন পেনড্রাইভের জায়গা

এডেটার ডুয়েল ইউএসবি পেনড্রাইভ বাজারে

পেনড্রাইভ বিষয়ক জিজ্ঞাসা ও সমাধান

অনলাইনে জিপ ফাইল খোলার উপায়

তুসিন আহমেদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : অনেক সময় কম্পিউটারে জিপ ফাইল ওপেন করার প্রয়োজন হয়। কিন্তু জিপ ফাইলটি ওপেন করার জন্য সফটওয়্যার না থাকলে তা দেখা যায় না। তবে সফটওয়্যার ছাড়াও অনলাইনে ফাইল আনজিপ করা যায়।

এই টিউটোরিয়ালে তুলে ধরা হলো কেমন করে অনলাইনে জিপ ফাইলকে আনজিপ করতে হয়।

প্রথমে এই ওয়েব সাইটে যেতে হবে।

আরও পড়ুন : সফটওয়্যার ছাড়াই ইউটিউব ভিডিও ডাউনলোড  

zip-techshohor

এরপর Select archive নামের বাটন ক্লিক করে কম্পিউটারে থাকে যে জিপ ফাইলটি আনজিপ করতে হবে তা দেখিয়ে দিতে হবে।তাহলে সেটি আপলোড হয়ে যাবে।

2

এরপর কিছুক্ষণ অপেক্ষ করলেই ফাইলটি আনজিপ হয়ে যাবে। সাথে সাথেই ফাইলগুলোর ডাউনলোড লিংক পাওয়া যাবে। চাইলে সম্পূর্ণ ফোল্ডারটি ডাউনলোড না করে ফোল্ডারে মধ্যে থাকা শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় ফাইলটি ডাউনলোড করা যাবে।

বেশি সাইজের কোনো ফাইল অনলাইনে আনজিপ করতে হলে উচ্চগতি সম্পূর্ণ ইন্টারনেট সংযোগ প্রয়োজন। তবে ছোট আকৃতির জিপ ফাইল অনলাইনের এই কৌশলাটির মাধ্যমে  আনজিপ কর যাবে।

আরও পড়ুন

এমপিথ্রি ফরম্যাটে ইউটিউব ভিডিও ডাউনলোড 

ফেইসবুকের ভিডিও বিজ্ঞাপন বন্ধ রাখার কৌশল

ফায়ারফক্স ব্রাউজারেই গান ও ভিডিও ডাউনলোড

মাইক্রোসফট অফিস হাতেখড়ি : সিম্বল ও ফুটনোটের ব্যবহার

তুসিন আহমেদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : মাইক্রোসফট অফিস প্রোগ্রামে কাজ করার সময় ব্যবহারকারীদের নানা প্রয়োজনে সিম্বল বা প্রতীক ব্যবহার করতে হয়। সেগুলো সাধারণভাবে অক্ষর টাইপ করার মতো টাইম করা যায় না। সিম্বল যুক্ত করার জন্য এমএস ওয়ার্ডে রয়েছে নানা সুবিধা।

যারা এমএস ওয়ার্ডে নতুন তাদের জন্য ধারাবাহিক টিউটোরিয়ালের আজকের পর্বে কিভাবে লেখায় সিম্বল ও ফুটনোট ব্যবহার করতে হয় সেটি দেখানো হলো।

সিম্বল ব্যবহার করতে প্রথমে এসএম ওয়ার্ডের ইনসার্ট মেনু থেকে সিম্বল অপশনে যেতে হবে। সেখানে অনেক সিম্বল পাওয়া যাবে। যদি এর বাইরেও সিম্বল প্রয়োজন হয় তাহলে  ‘more symbal’ অপশন যেতে হবে।

1

তারপর নিচ থেকে যে সিম্বলটি পছন্দ হয় সেটির উপর ডাবল ক্লিক অথবা একবার ক্লিক করে নিচ থেকে ইনসার্ট বাটনে ক্লিক করতে হবে। তাহলে ডকুমেন্টে মাউস কার্সর যেখানে আছে সেখানে সিম্বলটি যুক্ত হবে। ব্যবহারকারী যদি অন্য ভাষার কোনও প্রতীক/অক্ষর চান তাহলে Normal কোন ফন্ট যেমন Arial/Tahoma/Times New Roman ইত্যাদি সিলেক্ট করে সেটি পাবেন।

ফুটনোট প্রদান, কোন চিত্রের ক্যাপশন বা  শিরোনাম দেওয়ার জন্য এমএস অফিসে ডকুমেন্টের সূচিপত্র তৈরি করা যায়। ফুটনোট দেওয়ার জন্য যে লেখার পাশে ফুটনোট দিতে চান সেখানে কার্সর রাখতে হবে। এরপর Reference মেনু থেকে Footnote কমান্ড দিতে হবে। তারপর ডায়ালগ বক্স থেকে ফুটনোটের অবস্থান ঠিক করে Insert বাটনে ক্লিক করতে হবে।

এবার ফুটনোটের অবস্থানে কার্সর স্থানান্তরিত হবে। এখানে প্রয়োজনীয় ফুটনোট লিখে মূল ডকুমেন্টে ক্লিক করতে হবে। তাহলে ডকুমেন্টের যেখানে ফুটনোট দেওয়া হয়েছে, সেখানে মাউস পয়েন্টার রাখলেই ফুটনোট দেখা যাবে। এখান থেকে একইভাবে Endnote কমান্ডও দেওয়া যায়। এক্ষেত্রে সকল নোটগুলো ডকুমেন্টের শেষে দেওয়া যাবে-ঠিক যেমনটি বিভিন্ন লেখায় Refernce দেওয়া হয়ে থাকে।

কম্পিউটারের ড্রাইভ চেকিং বন্ধ করার কৌশল

তুসিন আহমেদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : কম্পিউটার চালুর সময় অনেক ক্ষেত্রে এর ড্রাইভ চেকিং হয়ে থাকে। যেমন : checking drive e…. press any key to canceled। এই ধরণের ম্যাসেজগুলো একদিকে যেমন বিরক্তকর, অন্যদিকে কম্পিউটার চালু হতে অধিক সময় লাগে। তবে একটু কৌশল অবলম্বন করলে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

এই টিউটোরিয়ালে কম্পিউটার ওপেন করার সময় ড্রাইভ চেকিং অপশন বন্ধ করার কৌশল দেখানো হলো।

প্রথমে স্টার্ট মেনু থেকে রান এ যেতে হবে।

1

সেখানে cmd লিখে এন্টার দিতে হবে।

তারপর সিএমডি মুডটি ওপেন হলে chkntfs E: /X লিখে এন্টার দিয়ে তা বন্ধ করতে হবে।

2

এরপর কম্পিউটার রিস্টাট দিতে হবে। ব্যাস তাহলেই বন্ধ হয়ে যাবে এই চেকিং অপশন। আর দ্রুতগতিতে চালু হবে কম্পিউটার।

ফটোশপের টুলবক্স পরিচিতি

তুসিন আহমেদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ছবি সম্পাদনার জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় সফটওয়্যার হলো অ্যাডোবি ফটোশপ। ফটোশপের কাজ জানা থাকলে সহজে নিজের পছন্দ মতো ছবি তৈরি করা যায়। ছবি সম্পাদনার এই সফটওয়্যারটির মাধ্যমে কাজ করতে হলে প্রথমে ফটোশপের টুলবক্স সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখতে হবে। তাহলে আরও সহজে কাজ করা যাবে।

এই টিউটোরিয়ালে ফটোশপের টুলবক্স সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

photoshop-techshohor

ফটোশপের টুলবক্স ৪টি আলাদা বিভাগে বিভক্ত। ফলে কোনও একটি বিশেষ কাজের জন্য টুল খুঁজে পাওয়াটা সহজ। প্রথম বিভাগটি হচ্ছে- সিলেকশন, ক্রপ অ্যান্ড স্লাইস টুলস। এটি ব্যবহার করে কোন ছবিকে সিলেক্ট করা এবং কাটা যায়।

এরপর রয়েছে রিটাচ অ্যান্ড পেইন্ট টুলস। এর মাধ্যমে ছবিতে রঙ পরিবর্তন ও পেইন্ট করা যায়।

তৃতীয় বিভাগে থাকা ড্রয়িং অ্যান্ড টাইপ টুলসটি ব্যবহার করে ফন্ট, ড্রয়িং ও ভেক্টরভিত্তিক কাজ খুব সহজে করা যায়।

শেষ বিভাগে রয়েছে অ্যানোটেশন অ্যান্ড মেজারমেন্ট টুলস। ছবিতে নোট দেওয়া, জুম ও পরিমাপ করার জন্য এই টুলসটি ব্যবহার করা হয়।

এই চারটি বিভাগের পাশাপাশি আরও কয়েক ধরণের টুল রয়েছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ফোরগ্রাউন্ড এবং ব্যাকগ্রাউন্ড। কোন ‘শেপ’ বা লেখার রঙ দেওয়ার জন্য ফোরগ্রাউন্ড এবং পিছনের পটভূমির রঙ দেওয়ার জন্য ব্যাকগ্রাউন্ড ব্যবহার করা হয়।

পরবর্তী টিউটোরিয়ালগুলোতে অন্যান্য টুলসগুলোর কাজ সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।