‘ইচ্ছা করলেই জিপির কর্মী ছাঁটাই মানা হবে না’

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ইচ্ছা করলেই গ্রামীণফোন কর্মী ছাঁটাই করবে এটা মেনে নেয়া যায় না বলে বলেছেন সাংসদ ইসরাফিল আলম।

গ্রামীণফোন অ্যামপ্লয়িজ ইউনিয়ন বা জিপিইইউ (প্রস্তাবিত)-এর সম্মেলনে অতিথির বক্তব্যে কর্মী ছাঁটায়ের এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অতীতের চেনা পথের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন এই সাংসদ।

শুক্রবার দিনব্যাপী রাজধানীর ধানমণ্ডিস্থ কবি নজরুল ইনস্টিটিউটে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ২০১২ সালের ২৩ জুন আত্মপ্রকাশের পর অনেক চড়াই-উতড়াই পেরিয়ে সংগঠনটির প্রথম সম্মেলন এটি।

কর্মীদের স্বত:স্ফূর্ত উপস্থিতে সম্মেলনস্থল ছিল পরিপূর্ণ। সারাদেশ হতেই ইউনিয়ন কর্মীরা এ সম্মেলনে যোগ দেন। ইউনিয়নটির বর্তমান সদস্য সংখ্যা ১৮০০। টেলিকম খাতে দেশের সবচেয়ে বড় ও সক্রিয় শ্রমিক অধিকার সংগঠনও এটি।

gpeu4

অপারেটরটির অতীতের কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রসঙ্গ তুলে ইসরাফিল আলম বলেন, ‘চাকরিচ্যূতের বিষয়ে বলা হয় দক্ষতা নেই। কিন্তু আমি বলেছিলাম ওরা যখন চাকরিতে যোগ দেয় তখন তো যোগ্য ছিল, অবিডেন্ট ছিল। এখন যদি অযোগ্য হয়ে থাকে- এটা তোমাদের সমস্যা। তোমারা যোগ্য কর্মীকে অযোগ্য করছো। তখন তারা ভুল বুঝেছে। এখন যদি আবার তারা ওমন করে আপনাদের তো পথ চেনাই আছে।’

‘জীবনের সোনালী সময়গুলোতে দিয়েছেন কোম্পানির উন্নয়নের জন্য, তাদের বৃদ্ধির জন্য। যে কারণে বাংলাদেশের টেলিকম কোম্পানিগুলো লাভ করে, প্রফিট করে।’

টেলিটক লস করে কিন্তু তাদের চাকরির সমস্যা হয় না, সুযোগ-সুবিধা কাটা হয় না উল্লেখ করে এই সাংসদ বলেন, ‘টেলিটক কিন্তু সে অবস্থাতে যেতে পারেনি তার কারণ আপনারা যেভাবে পরিশ্রম করে, শ্রম দেন, অন্তর দিয়ে, মন দিয়ে কাজ করেন ওই জায়গায় সেটা হয়নি। তারপর সেটা লস প্রজেক্ট। তাহলে তাদের যদি চাকরির সমস্যা না হয়, সুযোগ-সুবিধা যদি না কাটা হয় তাহলে আপনাদের কোম্পানি তো লাভ করে। তাই ইচ্ছা করলেও কোম্পানি আপনাদের বের করে দেবে এটা মেনে নেয়া যাবে না। গ্রামীণফোন ইউরোপীয়ান কান্ট্রির দ্বারা পরিচালিত হয়, তাই আপনারা নিজেদের কখনও দূর্বল মনে করবেন না।’

gpeu3

ইউনিয়ন কর্মীদের উদ্দেশ্যে সাংসদ বলেন, ‘প্রটেকশন আমাদের লেবার ল’তে খুব সুন্দরভাবে দেয়া আছে। এই যে আপনাদের বলা হয়েছে নেটওয়ার্ক এবং টেকনোলজি সেক্টরটাকে আলাদা করে কোম্পানি করা হবে। তারপর সার্ভিস সেক্টরকে আলাদা করে কোম্পানি করা হবে। কোম্পানি আইন অনুয়ায়ী যদি এভাবে সেক্টর আলাদা করা হয় তাহলে কোম্পানির এমডিও চেইঞ্জ হয়ে যাবে, সিইও চেইঞ্জ হয়ে যাবে, আলাদা পরিচয় হবে। সেখানে আপনাদের অধিকার ঠিক থাকলেও গ্রামীণফোন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে। তাদের কর্তৃত্ব, প্রশাসন এসব নিয়ে মারাত্বক বিভ্রান্তি ও সমস্যার সৃষ্টি হবে।’

‘আপনাদের ইউনিয়ন যেটা আছে সেটা হবেই, পেন্ডিং আছে, সেটা হবে। আপনারা যেহেতু আবেদন করেছেন এবং বিষয়গুলো বিচারাধীন আছে। অতএব বিবেচনা করতে হবে যে, আপনারা ইউনিয়নে অন্তর্ভূক্ত। ট্রেড ইউনিউয়নের অ্যাপ্লিকেশন সাবমিট করার সঙ্গে সঙ্গে তারা ইউনিয়নের মর্যাদা পাবে এবং কমিটির কাউকে চাকরিচ্যুত করা যাবে না। আপনারা ইউনিয়নের নামের পাশে বিচারাধীন লিখে পরিপূর্ণ কার্যক্রম চালাতে পারেন, আপনাদের কোনো বাধা নেই।’

gpeu5

ইসরাফিল আলম জানান, ‘গ্রামীণফোন এবারেও লাভ করেছে। গ্রামীণফোন লভ্যাংশের টাকা দিত না। আমি কিন্তু নোটিশ করেছিলাম। ডিভিডেন্ট দিয়েছে এত টাকা। আমার একটু অসন্তুষ্টি ছিল আপনাদের বিষয় নিয়ে, চাকরিচ্যুত করা শুরু করেছে। তখন হতে আমি গ্রামীণফোনকে ডিসলাইক করি।’

সম্মেলনের বিভিন্ন পর্বে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফজলুল হক, জিপিইউ সাধারণ সম্পাদক মিয়া মো. শফিকুর রহমান মাসুদ, সুব্রত দাস খোকনসহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা বলেন, আউটসোর্সিংয়ের কারণে দেশের মানুষ কর্মস্থানের সুযোগ হারাচ্ছে। বহুজাতিক কোম্পানিগুলো আউটসোর্সিংয়ের কাজ অন্য বহুজাতিক কোম্পানিকে দিয়ে করিয়ে নিচ্ছে। এতে দেশের অর্থ বাইরে পাচার হচ্ছে।

তারা আউটসোর্সিংয়ের কাজ দেশের কর্মী-জনবল দিয়ে করানোর কথা বলেন।

সম্মেলনে অনেকের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা নেতা মো. ওমর ফারুক। সম্মেলন পরিচালনা ও সঞ্চালনায় ছিলেন আতিকুজ্জামান মির্জা ও মাজহারুল ইসলাম ।

আল-আমীন দেওয়ান

জিপি অ্যামপ্লয়িজ ইউনিয়নের প্রথম সম্মেলন শুক্রবার

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিরর : প্রথমবারের মতো সম্মেলন করতে যাচ্ছে গ্রামীণফোন অ্যামপ্লয়িজ ইউনিয়ন বা জিপিইইউ (প্রস্তাবিত)। টেলিকম খাতে দেশের সবচেয়ে বড় ও সক্রিয় শ্রমিক অধিকার সংগঠন এটি।

শুক্রবার সকাল ৯টায় রাজধানীর ধানমণ্ডিস্থ কবি নজরুল ইনস্টিটিউটে দিনব্যাপী এ সম্মেলন শুরু হবে।  ২০১২ সালের ২৩ জুন আত্মপ্রকাশের পর যাত্রার পাঁচ বছরে অনেক চড়াই-উতড়াই পেরিয়েছে সংগঠনটি। জিপিইইউ এর বর্তমান সদস্য সংখ্যা ১৮০০।

বলা চলে লড়াইয়ের মধ্যেই জন্ম সংগঠনটির। ২০১২ সালের মে মাসে অন্তত ২৫০ কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল গ্রামীণফোন। এর প্রতিবাদে তখন আন্দোলনে নামে প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা। আর  সে সময়ই জন্ম হয় জিপিইইউ এর।

আর দেড় বছরের মাথায় বাংলাদেশের কোনো সংগঠন হিসেবে ‘ফ্রিডম ফর ফিয়ার’ পুরস্কার-২০১৩ পায় জিপিইইউ।

এছাড়া শ্রম আইন অনুয়ায়ী কোম্পানির লভ্যাংশ হতে ৫ শতাংশ করে কর্মীদের প্রদানের  দাবি আদায়ের লড়াইয়ে সফল হয় সংগঠনটি।

এরপর সংগঠনের অগ্রগতি ও সদস্যদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে ২০১৫ সালে ইউরোপভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংগঠন ইউনি গ্লোবাল ইউনিয়নের বেস্ট অর্গানাজিং অ্যাওয়ার্ড পায় জিপিইইউ।

gpeu.techshohor

প্রতিষ্ঠার পর হতে সংগঠনটি এখনও আইনি লড়াইয়ের মধ্যে যাচ্ছে। অনানুষ্ঠিকভাবে জিপিইইউ গঠন হয় ২০১২ সালের ১৪ জুন। ২৩ জুন নিবন্ধনের জন্য শ্রম পরিচালকের কাছে আবেদন করে সংগঠনটি। শ্রম পরিচালক আবেদন বাতিল করে দেন ২৯ জুলাই। এর বিরুদ্ধে একই বছরের ২৬ আগস্ট  ২ নং  শ্রম আদালতে আপিল করে ইউনিয়ন।

এর পর আপিলের শুনানীতে বিব্রত বোধ করায় ২০১৪ সালের শেষে নাগাদ বিচারক মামলাটি শ্রম আপিল ট্রাইবুনালের পঠিয়ে দেন। সেখানে আবেদন করা হয় শুনানীর জন্য।  ২০১৫ সালের শুরুর দিকে ইউনিয়ন নিজেদের পক্ষে রায় পায়।

এতে গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ ১৫ দিনের মধ্যে হাইকোর্টে রিট করে। হাইকোর্ট তা আবার ট্রাইবুনালে অন্য বিচারকের আদালতে ফেরত পাঠায়। ট্রাইবুনাল হতে এটি যায় ১ নং শ্রম আদালতে।  সেখানে গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষের পক্ষে রায় দেন শ্রম আদালত।

এই রায় নিয়ে ইউনিয়ন আপিল ট্রাইবুনালে আবেদন করে। এর পর   ইউনিয়নের(জিপিইইউ) নিবন্ধনের আপিল মঞ্জুর করে শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল।

২০১৬ সালের জুনে শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের দ্বৈত বেঞ্চের চেয়ারম্যান বিচারপতি শামসুল হুদা এবং সদস্য বিচারক গোলাম রব্বানি জিপিইইউ এর পক্ষে রায় দেন। আদালত ইউনিয়নের নিবন্ধন চাওয়ার আবেদন গ্রহণ করে শ্রম পরিচালককে নিবন্ধন দিতে নির্দেশ দেন তিনি।

জিপিইইউ  নেতা সুব্রত দাস খোকন জানান, ট্রেড ইউনিয়ন আমাদের করতে হয়েছে বাস্তব কারণেই। আইনী অধিকার হিসেবে ইউনিয়ন করবার অধিকার আমাদের সব সময়ই ছিলো। অধিকারের জন্য আমরা লড়াই করছি, করতে থাকবো।

তিনি উল্লেখ বলেন, ‘এখন আউটসোর্সিংয়ের নামে, ডিজিটালাইজেশনের নামে এবং গ্লোবালাইজেশনের নামে এবং ট্রান্সফরমেশনের নামে এক অনিশ্চিত পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে। যেখানে মানুষের ক্যারিয়ারের উন্নতি হবার কথা সেখানে চাকরি থাকবে কিনা সেটাই এখন প্রশ্নবিদ্ধ?’

আল-আমীন দেওয়ান

জিপিইইউকে নিবন্ধন দেয়ার নির্দেশ

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর আইনি লড়াই শেষে গ্রামীণফোন এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের(জিপিইইউ) নিবন্ধনের অাপিল মঞ্জুর করছে শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল।

বৃহস্পতিবার শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের দ্বৈত বেঞ্চের চেয়ারম্যান বিচারপতি শামসুল হুদা এবং সদস্য বিচারক গোলাম রব্বানি জিপিইইউ এর পক্ষে রায় দেন। আদালত ইউনিয়নের নিবন্ধন চাওয়ার আবেদন গ্রহণ করে শ্রম পরিচালককে নিবন্ধন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

জিপিইইউ সাধারণ সম্পাদক মিয়া মাসুদ এবং জিপিইইউ এর আইনজীবী সুব্রত দাশ খোকন জানান, শ্রম আদালতের সর্বোচ্চ রায় আমাদের পক্ষে এসেছে। আদালত শ্রম পরিচালককে আমাদের নিবন্ধন নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

GP-Mamla-techshohor

জিপিইইউ গঠন হয় ২০১২ সালের ১৪ জুন। ২৩ জুন নিবন্ধনের জন্য শ্রম পরিচালকের কাছে আবেদন করে সংগঠনটি। শ্রম পরিচালক আবেদন বাতিল করে দেন ২৯ জুলাই। এর বিরুদ্ধে একই বছরের ২৬ আগস্ট  ২ নং  শ্রম আদালতে আপিল করে ইউনিয়ন।

এর পর আপিলের শুনানীতে বিব্রত বোধ করায় ২০১৪ সালের শেষে নাগাদ বিচারক মামলাটি শ্রম আপিল ট্রাইবুনালের পঠিয়ে দেন। সেখানে আবেদন করা হয় শুনানীরর জন্য।  ২০১৫ সালের শুরুরে দিকে ইউনিয়ন নিজেদের পক্ষে রায় পায়।

এতে গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ ১৫ দিনের মধ্যে হাইকোর্টে রিট করে। হাইকোর্ট তা আবার ট্রাইবুনালে অন্য বিচারকের আদালতে ফেরত পাঠায়। ট্রাইবুনাল হতে এটি যায় ১ নং শ্রম আদালতে।  সেখানে গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষের পক্ষে রায় দেন শ্রম আদালত।

এর পর এই রায় নিয়ে ইউনিয়ন আপিল ট্রাইবুনালে আবেদন করে। মামলাটিতে জিপিইইউ এর পক্ষে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মিয়া মাসুদ এবং বিপক্ষ শ্রম পরিচালক। গ্রামীনফোন আপীল মামলা নং- ৪৩/২০১৫।

আল-আমীন দেওয়ান

বাংলালিংক ঘটনায় জিপিইইউ ও বিএলসির নিন্দা

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বেআইনিভাবে কর্মী ছাঁটাই, নির্যাতন ও ট্রেড ইউনিয়ন গঠনে বাধা দেয়ার অভিযোগে বাংলালিংক কর্তৃপক্ষের প্রতি নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে গ্রামীণফোন এপ্লয়িজ ইউনিয়ন(জিপিইইউ) এবং বাংলাদেশ লেবার কংগ্রেস(বিএলসি)।

জিপিইইউ সাধারণ সম্পাদক ও বিএলসির সদস্য সচিব মিয়া মাসুদ স্বাক্ষরিত ওই প্রতিবাদপত্রে বলা হয়, ‘ট্রেড ইউনিয়ন করার জেরে কর্মী ছাঁটাই করছে বাংলালিংক। আর এই বেআইনি কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদ করায় শ্রমিক নেতাদের জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতনও করছে কর্তৃপক্ষ।’

‘বাংলালিংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক মোশতাক আহমেদকে নির্যাতন করে হাসপাতালে না নিয়ে ফেলে রাখা হয়। পরে কর্মীদের ক্ষোভের মুখে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় যিনি এখনও চিকিৎসাধীন।’

banglalink

‘এছাড়া কর্মীদের পুলিশ, র‌্যাব ও ডগ স্কোয়াড দিয়ে ভয়-ভীতি দেখানো হয়। এমনকি ডগ স্কয়াড দুইজন কর্মীকে কামড়ে আহত করে যা অত্যন্ত লজ্জাজনক, ন্যাক্কারজনক এবং ফৌজদারী অপরাধ।’

প্রতিবাদপত্রে উল্লেখিত বিষয়ে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সরকারের কাছে দোষীদের শাস্তি এবং টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিখাতে নির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করে এই সেক্টরের শ্রমিকের জীবন-জীবিকার নিশ্চয়তা দাবি করা হয়।

আল-আমীন দেওয়ান

জিপিপিসির নেতৃত্বে আবারও জিপিইইউ প্যানেল

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : গ্রামীণফোন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের গঠন করা সংগঠন গ্রামীণফোন পিপলস কাউন্সিলের (জিপিপিসি) নেতৃত্বে আবারও নির্বাচিত হয়েছেন গ্রামীণফোন এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (জিপিইইউ) মনোনীত প্রার্থীরা।

জিপিপিসির ১৭ টি কাউন্সিলর পদের সবকটিতে বিজয়ী হয় জিপিইইউ প্যানেল। ২৬ মে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে মোট প্রার্থী ছিলো ৩৭ জন।

জিপিইইউ প্যানেলের ১৭ বিজয়ীদের মধ্যে রয়েছেন কমার্শিয়াল বিভাগের ছয়, টেকনোলজি বিভাগের চার, নারী প্রতিনিধি হিসেবে দুই ও অন্যান্য বিভাগের পাঁচজন কর্মী ।

সোমবার বিজয়ীদের ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন মিয়া মো. শফিকুর রহমান মাসুদ ও সাধারণ সম্পাদক পদে সুব্রত কুমার দাস। কমিটিতে বাকী ১৫ সদস্য থাকছেন কাউন্সিলর হিসেবে।

২০১৫-১৭ মেয়াদের এ নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন ২ হাজার ৯৬৮ জন কর্মী।

GPPC

এরআগে ২০১৩ সালেও জিপিপিসির নির্বাচনে পূর্ণ প্যানেলে জয় পায় জিপিইইউ। সেবার মোট ৯৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলো।

নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান মিয়া মো. শফিকুর রহমান মাসুদ টেকশহরডটকমকে জানান, কর্মীদের অধিকার ও প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদী সুফলে অতীতের মতো এখনও কাজ করে যাবে।

তবে কার্যকর উন্নয়নে রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃত সংগঠন হলে অবদান রাখার পরিসর আরো বড় হয় উল্লেখ করে মাসুদ বলেন, দ্বিতীয়বারের মতো এই নির্বাচন আবারও সেই বার্তাই দেয় যে জিপিইইউয়ের প্রতি সকলের আস্থা রয়েছে। জিপিইইউয়ের নিবন্ধনের বিষয়ে আমরা আশাবাদী।

নব-নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক সুব্রত কুমার দাস টেকশহরডটকমকে জানান, কর্মীরা জিপিইইউয়ের প্রতি আস্থা রেখেছেন। আমরা সকল ন্যায়সঙ্গত দাবি ও অধিকারের বিষয়ে লড়ে যাবো।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালে জিপিইইউ গঠনের পর জিপির সেই সময়ের প্রধান নির্বাহী টোরে জনসন পাল্টা সংগঠন হিসেবে জিপিপিসি গঠন করেন। এরপর কর্মী অসন্তোষে ২০১৩ সালের ১৬ মে জিপিপিসির নির্বাচন দেয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সেই নির্বাচনে পূর্ণ প্যানেল নিয়ে নেতৃত্বে চলে আসে জিপিইইউ।

এদিকে, ২০১২ সাল থেকে জিপিইইউ নিজেদের নিবন্ধনের জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নানা জটিলতা শেষে বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।

আল-আমীন দেওয়ান

লভ্যাংশ দিতে যুতসই চুক্তি চায় জিপি, সাবেকরা রাস্তায়

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সাবেক কর্মীদের পাঁচ শতাংশ লভ্যাংশ হস্তান্তরে যুতসই চুক্তি করতে চায় গ্রামীণফোন (জিপি)। যাতে ভবিষ্যতে এই লভ্যাংশ প্রদান নিয়ে কোন জটিলতায় পড়তে না হয় টেলিকম অপারেটরটিকে।

এদিকে বর্তমান কর্মীরা লভ্যাংশ পেলেও সাবেকরা লভ্যাংশ না পেয়ে আন্দোলনে নেমেছে। গত কয়েকদিন ধরে নানা কর্মসূচী করে রোববার ঢাকায় জিপির প্রধান কার্যালয় জিপি হাউজের সামনে মানববন্ধন করে তারা।

এদিন একদিকে কর্মীদের মানববন্ধন অন্যদিকে উদ্ভুত বিষয় নিয়ে জিপি ট্রাস্ট্রি বোর্ডের বৈঠক চলছিল।

জিপি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপার্সন ও জিপিপিসি কাউন্সিলর আহমেদ মনজুরুদৌলা টেকশহরডটকমকে জানিয়েছেন,বৈঠক ইতিবাচক হয়েছে। লভ্যাংশ পাওয়ার যোগ্য কর্মীরা যাতে তাদের লভ্যাংশ পান সেজন্য একটি যুতসই চুক্তি কাঠামো খোঁজা হচ্ছে।

তিনি জানান, বর্তমান কর্মীদের ক্ষেত্রে বন্ড বা চুক্তি যেই কাঠামোতে হয়েছে তা সাবেকদের ক্ষেত্রে কার্যকর নাও হতে পারে। তাই এমন একটি চুক্তি কাঠামো প্রয়োজন যা হলে পরবর্তীতে আইনগত বিষয়সহ বিভিন্ন ইস্যূতে কোন সাংঘর্ষিক অবস্থা তৈরি হবে না।

লভ্যাংশ পেতে যোগ্য সাবেক এই কর্মীদের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ছয়শত। যাদের পাওনা লভ্যাংশ প্রায় ৮০ কোটি টাকা।

gp

২০১০ থেকে ২০১২ সালের তিন বছরের লভ্যাংশ থেকে শ্রম আইন অনুযায়ী ৫ শতাংশ হারে লভ্যাংশ পেতে দীর্ঘদিনের আন্দোলন শেষে গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ কর্মীদের দাবি মেনে নেয়।

সেদিন গ্রামীণফোন পিপলস কাউন্সিলের (জিপিপিসি) সাথে বৈঠকে গ্রামীণফোন সিইও রাজীব শেঠি বলেছিলেন,লিগ্যাল ভেটিং, বোর্ড অনুমোদনসহ কিছু প্রশাসনিক বিষয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা করে কর্মীদের দাবি মেনে নেয়া হয়েছে। কর্মীদের চাওয়া অনুসারে ২০১৩ সালের লভ্যাংশ যেভাবে দেয়া হয়েছে ঠিক সেভাবে যোগ্য কর্মীদের তালিকা খুব তাড়াতাড়িই ট্রাস্টি বোর্ডে দেয়া হবে।

সেইসময়ে বলা হয়েছিল,লভ্যাংশ নিতে হলে প্রত্যেক কর্মীকে মূল টাকার সুদ দাবি নেই মর্মে লিখিত আবেদন করতে হবে। সেইসাথে লভ্যাংশ নেয়ার পর যদি যোগ্য কর্মীর তালিকা থেকে বাদ পড়েন তাহলে টাকা ফেরত দেয়ারও লিখিত স্বীকারোক্তি দিতে হবে।

সেই সিদ্ধান্ত অনুয়ায়ি লিখিত আবেদন করে বন্ড দিয়ে লভ্যাংশ পাওয়ার যোগ্য কর্মীদের মধ্যে বর্তমানে কর্মরত কর্মীরা ইতিমধ্যে লভ্যাংশ পেয়েছেন। কিন্তু যোগ্য কর্মীর তালিকায় থাকা সাবেক এই কর্মীরা এখনো লভ্যাংশ পাননি।

উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে গ্রামীণফোন তাদের বক্তব্যে জানায়, স্বতন্ত্র বোর্ড অফ ট্রাস্টির মাধ্যমে বর্তমানে কর্মরত কর্মীদের মাঝে ২০১০ থেকে ২০১২ সালের ডব্লিউপিপিএফ এর অর্থ বিতরণ প্রায় শেষের পথে। অর্থ বিতরণের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবেই এই বোর্ডের। প্রাক্তন কর্মীদের এ বিষয়ে যে কোন তথ্যের জন্য ট্রাস্টি চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে কারণ অর্থ এবং সংশ্লিষ্ট সময়ের স্থায়ী কর্মীদের তালিকা বোর্ড অফ ট্রাস্টিকে দেয়া হয়েছে। ডব্লিউপিপিএফ এর কিছু বিষয় এখনো বিচারাধীন আছে।

gp-2

জিপিইইউ সাধারণ সম্পাদক মিয়া মাসুদ টেকশহরডটকমকে জানান,ডিসেম্বরের সমঝোতা সাপেক্ষে লভ্যাংশ পেতে যোগ্য কর্মীর তালিকা অনুয়ায়ি সাবেক কর্মীদের লভ্যাংশ পেতে কোন সমস্যা হওয়ার কথা না। জিপি ম্যানেজমেন্ট অযথাই টাকা দিতে গড়িমসি করছে।

তিনি বলেন, ট্রাস্টি বোর্ডে ম্যানেজমেন্ট প্রতিনিধি রয়েছেন। তারা যদি টাকা দিতে গড়িমসি করে বা টাকা না দেয়ার উপায় খোঁজেন তাহলে ট্রাস্ট্রিবোর্ড কিভাবে কর্মীদের লভ্যাংশ দেবে। এখানে অপারেশনাল কাজ, সিগনেটরি ইত্যাদি বিষয়ে ম্যানেজমেন্ট প্রতিনিধিদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ । সবার সহযোগিতা ছাড়াতো বিষয়টি বাস্তবায়িত হতে পারে না।

মাসুদ জানান, সমঝোতার সময়ে যোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে কোন ভাগ ছিল না। কিন্তু পরে ম্যানেজমেন্ট কিভাবে যোগ্যদের মধ্যে সাবেক ও বর্তমানে ক্যাটাগরি করল-এটিও প্রশ্নের বিষয়।

উল্লেখ্য, ২০১০ থেকে ২০১২ সালের তিন বছরের লভ্যাংশ থেকে ঘোষিত লভ্যাংশ অনুযায়ী এইসময়ের কর্মীদের পাওনা অর্থের পরিমান ৪২০ কোটি টাকা । তবে এই টাকার সুদ প্রায় ১২০০ কোটি টাকা।

সমঝোতায় লভাংশ নিতে ম্যানেজমেন্ট শর্তের মধ্যে ছিল ৫ শতাংশের মূল টাকা পরিশোধের পর মূল টাকার সুদ তারা দাবি করছেন না। সে হিসেবে এই ১২০০ কোটি টাকার সুদ পাচ্ছেন না কর্মীরা।

জিপি ম্যানেজমেন্ট ওয়ার্কার্স প্রফিট পার্টিসিপেশন ফান্ড (ডব্লিউপিপিএফ) নিয়মানুসারে ২০১০ থেকে ২০১২ সালের লভ্যাংশের অর্থ ২০১৪ সালেই ট্রস্টি বোর্ডের কাছে স্থানান্তর করে।

আন্তর্জাতিক সম্মাননা পেলো জিপিইইউ

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সংগঠনের অগ্রগতি ও সদস্যদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে ইউরোপভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংগঠন ইউনি গ্লোবাল ইউনিয়নের বেস্ট অর্গানাজিং অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে গ্রামীণফোন অ্যামপ্লয়িজ ইউনিয়ন (জিপিইইউ)।

বুধবার ইস্তাবুলে অনুষ্ঠিত ইউনি গ্লোবাল ইউনিয়নের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এ পুরস্কারের জন্য জিপিইইউর নাম ঘোষণা করা হয়।

বিশ্বব্যাপী প্রফেশনালস অ্যান্ড ম্যানেজার গ্রুপের এশিয়া প্যাসেফিক ডিরেক্টর জয়শ্রী প্রিয়লাল জিপিইইউয়ের পক্ষে এ সম্মাননা গ্রহণ করেন। খুব শীঘ্রই ঢাকাতে এক আনুষ্ঠানিক আয়োজনে এ সম্মাননা পুরস্কার সংগঠনটিকে হস্তান্তর করা হবে।

gpeu

জিপিইইউর সভাপতি ফজলুল হক, সাধারণ সম্পাদক মিয়া মাসুদ এবং কমিউনেকশন সেক্রেটারি আদিবা জেরিন টেকশহরডটকমকে এ সম্মাননা প্রাপ্তির খবর জানান।

জিপিইউ এনিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো কোন আন্তর্জাতিক সম্মাননা পেল। এরআগে ২০১৩ সালে ইউনি গ্লোবাল ইউনিয়নের ফ্রিডম ফ্রম ফেয়ার অ্যাওয়ার্ড পায় সংগঠনটি।

মোট পাঁচটি ক্যাটাগরির মধ্যে জিপিইইউর বেস্ট অর্গানাইজিং অ্যাওয়ার্ড ছাড়াও অন্যান্য ক্যাটাগরিতে সিংগাপুর ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস, বেলিজিয়ামের এলবিসি এনভিকে ভ্যাকবন্ড, ড্যানিস সোসাইটি অব ইঞ্জিনিয়ার্সসহ আরো প্রতিষ্ঠান ইউনি গ্লোবাল ইউনিয়নের সম্মাননা পেয়েছে।

আল-আমীন দেওয়ান

দায়িত্ব নিয়েই আন্দোলনের মুখে জিপির নতুন সিইও

আল আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : টেলিনর গ্রুপের সবচেয়ে বড় কোম্পানির শীর্ষ পদের দায়িত্ব নেওয়ার শুরুটা ঠিক স্বস্তির হলো না রাজীব শেঠির। নতুন দায়িত্ব, নতুন দেশ। কোথায় একটু আনন্দের মুডে কাজ শুরু করবেন তা নয়, পথ চলার শুরুতেই আন্দোলনের মুখে পড়তে হলো তাঁকে।

দেশের শীর্ষ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহীর (সিইও) দায়িত্ব নিয়েই পড়লেন কর্মীদের আন্দোলনের মুখে। গত সোমবার থেকে অফিস করা শুরু করেছেন শেঠি।

তিন বছরের লভ্যাংশের ৫ শতাংশের দাবিতে কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন করছিলেন। বুধবার দাবি আদায়ে আবার মাঠে নামবেন তারা। এ জন্য গত কয়েকদিন নিজেদের মধ্যে বিভিন্নভাবে প্রচারনা চালিয়েছেন তারা।

আরও পড়ুন : লভ্যাংশের দাবিতে আন্দোলনে জিপি কর্মীরা 

gp

অন্যদিকে এ আন্দোলন নিয়ে বিপাকে থাকা গ্রামীণফোনের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার বিজয় দিবসের ছুটির মধ্যেও অফিস করেছেন। বিষয়টি সমাধানে ও আন্দোলন ঠেকাতে নানা পরিকল্পনা নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতে অফিস করেছেন তারা বলে জানা গেছে।

যদিও এই বন্ধের দিনেই জিপিইইউসহ আন্দোলন সংশ্লষ্টদের নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠকে বসতে চেয়েছিল জিপি ম্যানেজমেন্ট। কিন্তু ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস থাকায় নেতারা বুধবার বৈঠকে বসতে চান।

বুধবার অবশ্য গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমঝোতাও হতে পারে। কেননা এদিন সকাল সাড়ে নয়টা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক রয়েছে তাদের। এতে কোনো সমঝোতা না হলে ওইদিন অবস্থান কর্মসূচী পালনসহ নতুন কর্মসূচী দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনরতরা।

সমঝোতা না হলে বুধবার সকাল ১১টা থেকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় প্রধান কার্যালয় জিপি হাউজে অবস্থান কর্মসূচীতে বসবেন গ্রামীণফোন পিপলস কাউন্সিল এবং গ্রামীণফোন অ্যামপ্লয়িজ ইউনিয়নসহ সাধারণ কর্মীরা।

গ্রামীণফোন অ্যামপ্লয়িজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মিয়া মাসুদ টেকশহরডটকমকে জানান, তারা শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচীর জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন। এর অংশ হিসাবে সোমবার প্রতি ফ্লোরে কর্মী সংযোগ করেছেন তারা।

কর্মীরা তাদের প্রাপ্য পেতে উদগ্রীব উল্লেখ করে জিপির এ কর্মকর্তা বলেন, সকাল সাড়ে নয়টায় ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে বৈঠক রয়েছে। সমঝোতা না হলে অবস্থান কর্মসূচী শেষে সকলের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন কর্মসূচী দেওয়া হবে।

জিপি কর্মীদের দাবি ২০১০ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত তিন বছরে শ্রম আইন অনুযায়ী ৫ শতাংশ লভ্যাংশ থেকে ৪২০ কোটি টাকা প্রাপ্য রয়েছে। সেই সঙ্গে এ অর্থ এতদিন না দেওয়ায় সুদও দাবি করেন তারা।

সম্প্রতি সুদছাড়া ৪২০ কোটি টাকা পাওনা পরিশোধের বিষয়ে কর্মীদের সাথে ম্যানেজমেন্টের সমঝোতা হলে তা পরিশোধে বিষয়টি  ট্রাস্টি বোর্ডে যায়। পরে ট্রাস্ট্রি বোর্ড অর্থ পরিশোধে কারা পাওনা হবেন এর এলিজিবল কর্মীদের তালিকা চাইলে ম্যানেজমেন্ট তা দিতে পারেনি। তারা বিষয়টিতে আদালতে রিট আছে বলে জানায়।

জিপিইইউ নেতারা জানান, লভ্যাংশ গ্রহণের বিষয়ে ম্যানেজমেন্টের সাথে সমোঝাতা হয়েছিল এবং এতে সুদ ছাড়াই কর্মীরা লভ্যাংশ নিতে রাজি হয়। এরপর ম্যানেজম্যান্ট কমিটি টাকা ট্রাস্টি বোর্ডে ট্রান্সফার করে।

জিপি ট্রাস্ট্রি বোর্ডের চেয়ারপার্সন আহমেদ মনজুরুদৌলা টেকশহরডটকমকে জানান, ম্যানেজমেন্ট এলিজিবল তালিকা দিলে ট্রাস্ট্রি বোর্ড ১৫ দিনের মধ্যে কর্মীদের পাওনা ৪২০ কোটি টাকা বিতরণ করে দিতে পারবে।

দীর্ঘদিন থেকে এ বিষয়টির সমঝোতা না হওয়ায় চলতি মাস থেকে কর্মীরা পাওনা আদায়ে আবার আন্দোলনে নামেন।

আরও পড়ুন
আবারও মুনাফার চেয়ে বেশি লভ্যাংশ দিচ্ছে জিপি 

গ্রামীণফোন কর্মীরা লাভের অংশ পেলেন

ইউনিয়ন করতে আবারো বাধা দিচ্ছে গ্রামীণফোন

১০ হাজার কোটি টাকা আয়ের পথে গ্রামীণফোন

 

শ্রমবিধি তৈরিতে প্রয়োজনে অ্যামটব-জিপিইইউ বৈঠক

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : শ্রমবিধিমালা প্রণয়নে টেলিকম অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটব ও গ্রামীণফোন অ্যামপ্লয়িজ ইউনিয়ন (জিপিইইউ) উভয়ের প্রস্তাবই পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজনে অ্যামটব ও জিপিইইউ নিয়ে একসাথে আলোচনা করা হবে।

সোমবার মতিঝিলের শ্রম পরিচালকের কার্যালয়ে জিপিইইউ এর সাথে এক সভায় এসব কথা বলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু।

জিপিইইউর সাধারণ সম্পাদক মিয়া মাসুদ টেকশহরডটকমকে জানান, প্রতিমন্ত্রী আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন যে শ্রমবিধিমালা প্রণয়নে সকল স্টেক হোল্ডারদের সাথে আলোচনা করে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

10277785_10154915365310235_3687279071807560299_n

প্রয়োজনে প্রতিমন্ত্রী অ্যামটব এবং জিপিইইউকে নিয়ে একসাথে আলোচনায় বসবেন বলে জানান মাসুদ।

মাসুদ বলেন, শ্রমবিধিমালা প্রণয়নে অ্যামটব ১৫ দফা প্রস্তাব দিয়েছে। সেখানে শ্রমিকের সংজ্ঞা বদলে দেয়ার ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। এতে শ্রমিককে তার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে।

জিপিইইউ এর সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিধিমালা প্রণয়নে শ্রমিকের সংজ্ঞা এবং ধারা-উপধারা পরিবর্তনে যে প্রস্তাব অ্যামটব দিয়েছে তাতে শ্রমিকের অস্থিত্ব বিপন্ন হবে বলে আমরা প্রতিন্ত্রীকে জানিয়েছি।

সভায় জিপিইইউ এর সভাপতি ফজলুল হক, অ্যাডভাইজার মঈনুল কাদের, কার্যনির্বাহী সদস্য আহমেদ মনজুরুদ্দৌলা, সভাপতি ফজলুল হক, সংগঠনের কমিউনেকশন সেক্রেটারি আদিবা জেরিন উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, শ্রমবিধিমালা প্রণয়নে টেলিকম অপারেটরদের সংগটন অ্যামটবের প্রস্তাব গ্রহণ না করতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে আসছে জিপিইইউ। সম্প্রতি প্রেসক্লাব চত্ত্বরে শ্রমিকবান্ধব শ্রমবিধিমালা প্রণয়নের দাবিতে এক মানববন্ধন কর্মসূচীও পালন করেছে সংগঠনটি।

আল আমীন দেওয়ান

আরও পড়ুন:

শ্রমবিধিতে অ্যামটবের প্রস্তাব অগ্রহণযোগ্য : জিপিইইউ

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : শ্রমবিধিমালা প্রণয়নে টেলিকম অপারেটরদের সংগটন অ্যামটবের প্রস্তাব গ্রহণ না করতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছে গ্রামীণফোন অ্যামপ্লয়িজ ইউনিয়ন (জিপিইইউ)।

শুক্রবার প্রেসক্লাব চত্ত্বরে শ্রমিকবান্ধব শ্রমবিধিমালা প্রণয়নের দাবীতে এক মানববন্ধন কর্মসূচীতে এ দাবি জানায় জিপিইইউ।

জিপিইইউ-টেকশহর

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, অ্যামটব শ্রমিকবান্ধব বিধিমালা প্রণয়নে যড়যন্ত্র করছে। তাদের প্রস্তাবনা শ্রমিককে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করবে। সেইসাথে তা রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির পরিপন্থী।

জিপিইইউ এর সাধারণ সম্পাদক মিয়া মাসুদ বলেন, “শ্রমবিধিমালায় অ্যামটব শ্রমিকের সংজ্ঞা এবং বেশ কিছু ধারা-উপধারা পরিবর্তনের প্রস্তাবনা দিয়েছে এবং শ্রম মন্ত্রণালয়ও সেইসব প্রস্তাব হুবহু খসড়া বিধিতে গ্রহণ করেছে। আমরা এসব প্রস্তাব দেখেছি যে এতে শ্রমিকের মূল অধিকার ক্ষুন্ন করা হয়েছে। আমরা অ্যামটবের এই প্রস্তাবনা গ্রহণ না করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।”

জিপি এপ্লোয়ি ইউনিয়ন-টেকশহর.কম

জিপিইইউ সভাপতি ফজলুল হকের সভাপতিত্বে এ মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন সুব্রত দাস, আসিফ ইকবাল, কল্পনা আক্তার, আবিদা জেরিনসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

জিপিইইউ ছাড়াও মানবন্ধনে বিসিডব্লউএস, বিজিআইডব্লউএফ, বিআইজিইউএফ, বিআরজিডব্লুউএফ, ইউএনআইবিএলসি, এআইটিইইউ এবং আইনের পাঠশালা নামের শ্রম সংগঠনগুলো অংশ নেয়।

আল আমীন দেওয়ান