আওয়েই এ৮৮০বিএল ব্লুটুথ : মানে মাঝারি, ব্যাটারিতে ভালো

এস এম তাহমিদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সহজেই বহনযোগ্য, প্রচুর গান ধারণ করার সুবিধা ও ইন্টারনেট ব্যবহার করে গান শোনার সুযোগ থাকায় সঙ্গীতপ্রেমীদের কাছে স্মার্টফোনের বিকল্প নেই। তবে ঠিক যে হারে ফোনে গান শোনা ও ভিডিও দেখার প্রযুক্তি এগিয়েছে, সে হারে হেডফোনের প্রযুক্তি এগোয়নি।

এরই মধ্যে অবশ্য সাম্প্রতিক কয়েক বছরে ব্লুটুথ প্রযুক্তিতে উন্নতির ছোঁয়া লেগেছে। চার্জে সাশ্রয়ী, ল্যাগ কমানো ও ছোট আকারের শক্তিশালী সাউন্ড চিপের কারণে তারবিহীন ব্লুটুথ হেডফোন আজ আর পিছিয়ে নেই। এর প্রমান আজকের হেডফোনটি।

স্বল্প ও মাঝারি দামের ভালো মানের এ হেডফোন তৈরি করেছে হংকংয়ের কোম্পানি আওয়েই। শুরু থেকেই এ কোম্পানি বেশ শক্ত অবস্থান করে নিয়েছে। সেদিক থেকে তাদের এ৮৮০বিএল মডেলের হেডফোনটিও ব্যাতিক্রম নয়।

চমৎকার সাউন্ড কোয়ালিটি, সুন্দর বিল্ড ও মূলত দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি লাইফের কারণে এটি অনায়েসেই আপনার তারযুক্ত হেডফোনের স্থান দখল করে নেবে।

একনজরে এ৮৮০বিএল হেডফোন

  • ব্লুটুথ ভার্সন ৪.০ সাপোর্ট করে
  • অ্যাপ্ট-এক্স প্রটোকল সাপোর্ট করে, যা সাউন্ডের মাঝে বিরতি বা ল্যাগ কমিয়ে আনতে সক্ষম
  • এনএফসি পেয়ারিং সাপোর্ট করে। ফলে এনএফসি সাপোর্টেড ফোনে ছোঁয়ানো মাত্র সংযুক্ত হবে
  • সিভিসি নয়েজ ক্যান্সেলিং সুবিধা।  এর মাধ্যমে কথা বলার সময় বাইরের শব্দ অপর প্রান্ত থেকে শোনা যাবে না
  • ঘাম ও বৃষ্টির পানি প্রতিরোধ করতে সক্ষম
  • গান বদল, ভলিউম কমানো ও ফোন রিসিভ করার বাটন
  • ৮ ঘন্টা ব্যাটারি লাইফ
  • এক সঙ্গে দুটি ডিভাইসে পেয়ার করার সুবিধা। এতে বার বার ফোন ও ট্যাবলেট বা ল্যাপটপের সঙ্গে পেয়ার করার ঝামেলা নেই

ব্লুটুথ হেডফোনের ব্যাপারে সবারই প্রথম ও শেষ কথা হচ্ছে হেডফোনের ব্যাটারি লাইফ। ফোনের পাশাপাশি এ ডিভাইসেও বেশি বেশি চার্জ করার ঝামেলা থাকলে তা গান শোনায় ব্যাঘাত ঘটায়। তবে এ হেডফোনের পরিক্ষীত ৮ ঘন্টা ব্যাটারি লাইফের কারণে এ সমস্যায় পড়তে হবে না। কোনও তার না থাকার ফলে এটি পকেটে প্যাঁচ লেগে যাওয়ার সমস্যাও নেই।

ডিজাইন ও বিল্ড
আওয়েই এ৮৮০বিএল হেডফোনটি স্পোর্ট হেডফোন হিসেবে ডিজাইন করা হয়েছে। এটির মূল বডি প্লাস্টিকের তৈরি। এতে ব্যবহৃত প্লাস্টিক ও রাবার বেশ উন্নত মানের হলেও অসাধারণ কিছু নয়।

ডানে রয়েছে বাটনগুলো, চার্জ করার প্লাগ ও ইন্ডিকেটর লাইট ও মাইক্রোফোন।

একটি ইলাস্টিক রাবারের তৈরি পাইপের মাধ্যমে হেডফোনটি যুক্ত করা রয়েছে, এর ফলে এটি পরে থাকার সময় সেটি কানের সঙ্গে ভাল ভাবেই লেগে থাকবে।

বামে রয়েছে শুধু এনএফসি পেয়ার করার প্যাডটি।

প্যাকেজিং
হেডফোনটি বেশ শক্ত ও স্মার্ট বক্সে করে বিক্রি করা হচ্ছে। এটি খুললেই সামনের ফ্ল্যাপে হেডফোনটি দেখা যাবে। বক্সে পাবেন-

  • হেডফোন
  • ছোট, মাঝারি ও বড় মাপের ইয়ারবাড
  • চার্জের জন্য মাইক্রো ইউএসবি ক্যাবল
  • ম্যানুয়াল

সাউন্ড কোয়ালিটি ও অন্যান্য ব্যাবহার
ব্লুটুথ ৪ ব্যবহারের ফলে হেডফোনটি পেয়ার করতে বা কানেক্ট করতে কয়েক সেকেন্ডের বেশি সময় লাগবে না। তবে সাউন্ড কোয়ালিটি ঠিকভাবে বুঝতে কানের মাপ অনুযায়ী ইয়ারবাডটি লাগিয়ে নিতে হবে।

এটির সাউন্ড কোয়ালিটি বা সর্বোচ্চ ভলিউম বাজারের যে কোনও মাঝারি দামের তারযুক্ত হেডফোনের সমান। বলা যেতে পারে ৪০ হার্জ থেকে ১৮০০০ হার্জ পর্যন্ত সাউন্ড তৈরিতে সক্ষম এটি।

সেদিক থেকে এটি ঠিক হাই-ফাই পর্যায়ের সাউন্ড না হলেও; কিন্তু খুব কম ব্যবহারকারীর কাছেই এটি অপ্রতুল মনে হতে পারে। তবে মূল্য বিচারের দিক থেকে সাউন্ড যথেষ্ট ভালো। এর চাইতে ভালো সাউন্ড পেতে খরচ করতে হবে আরও অনেক বেশি।

হেডফোনটির ফোন কল কোয়ালিটিও চমৎকার। ক্লিয়ার মাইক্রোফোন ও সিভিসি নয়েজ ক্যান্সেলেশনের ফলে কথা বলতে কোনও সমস্যাই হবে না।

সমস্যা
কোনো গ্যাজেটই সমস্যার ঊর্ধ্বে নয়। তবে মূল্য ও সুবিধা বিচারে এটির সমস্যা খুবই কম।

প্রথমত, হেডফোনটির সব সরঞ্জাম কানের সঙ্গে হবার ফলে এটি কানের মধ্যে কিছু চাপ ফেলে, ফলে অভ্যস্ত হতে কিছু সময় লাগতে পারে। তবে এর ওজন যে কোনও ওভার- ইয়ার হেডফোনের চাইতে অনেক কম।

দ্বিতীয়ত, এটির আরেকটি বড় সমস্যা চার্জিং প্লাগ। প্লাগটি হেডফোনের বেশ গভীরে। ফলে চার্জিং ক্যাবল লাগাতে বেশ সমস্যা হতে পারে। তবে প্রতিদিন চার্জ করার প্রয়োজন নেই বলে এর সাথে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব।

সবশেষে বলা যেতে পারে, যারা ব্লুটুথ বা যে কোনও মাঝারি মানের হেডফোন কেনার পরিকল্পনা করছেন তারা নিঃসন্দেহে এটি কিনতে পারেন।

মূল্য
এটি যে কোনো মোবাইল ও হেডফোনের দোকানে ১৬০০ বা ১৮০০ টাকা দামে পাওয়া যাবে।

এক নজরে ভাল

  • সাউন্ড কোয়ালিটি
  • ব্যাটারি লাইফ
  • পেয়ারিংয়ের এনএফসি সুবিধা
  • কল কোয়ালিটি

এক নজরে খারাপ

  • দীর্ঘ সময় ব্যাবহারে কিছু সমস্যা হতে পারে
  • চার্জিং পোর্ট বেশ গভীরে, কানেকশনে কিছু জটিলতা হতে পারে