আউটসোর্সিং খাতের শঙ্কা কাটল, ভ্যাটে অব্যাহতি

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : চলতি বাজেট ঘোষণার পর বিপিও বা বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং সেবায় ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন খাতটির ব্যবসায়ীরা।

২০১৭-১৮ বাজেট প্রস্তাবের পর শুক্রবার সকালে বাজেট প্রতিক্রিয়া নিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের এক সংবাদ সম্মেলনেও এই ভ্যাট আরোপ নিয়ে আশংকার কথা জানান বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্য) এর সভাপতি ওয়াহিদ শরীফ।

‘আগের সাড়ে ৪ শতাংশ হতে এবার সাড়ে ১০ শতাংশ বেড়েছে’- এমন তথ্য জানিয়ে টিকে থাকার শঙ্কার কথা জানান সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ হোসেনও।

কিন্তু বাজেটে দেখা যায় ডেটা এন্ট্রি, ডেটা প্রসেসিং, কল সেন্টারসহ পুরো বিপিও খাতকে ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব করেছে সরকার। ফলে আগে যে সাড়ে ৪ শতাংশ ভ্যাট দিতে হত সেটিও মওকুফ পাচ্ছে খাতটি।

২০১২ সালের নতুন ভ্যাট আইন অনুযায়ী তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন সেবায় ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। নতুন অর্থবিলে এ বিষয়টি সুস্পষ্ট করে ৮৪ পৃষ্ঠায় এ খাতের অব্যাহতিপ্রাপ্ত সেবাগুলোর উল্লেখ রয়েছে। সেখানে বিপিও, ডেটা এন্ট্রি, ডেটা প্রসেসিং, কল সেন্টারও অন্তর্ভূক্ত রয়েছে।

তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘দ্রুত সময়ে আসলে কি দেয়া হয়েছে তা খতিয়ে দেখার সুযোগ হয়নি। আমরা ভেবেছিলাম অনেক সেবার মতো গড়ে ১৫ শতাংশে ভ্যাটের আওতায় বিপিও খাতও পড়েছে।’

‘বিপিও খাতকে এই ভ্যাট অব্যাহতি দেয়ার জন্য সরকার, অর্থমন্ত্রী, তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী, এনবিআরকে ধন্যবাদ জানাই। এই সুযোগের ফলে খাতটিকে আরও উন্নয়নের পথে নিয়ে যেতে পারবো আমরা।’

বিপিও খাতে বাক্যর সদস্য রয়েছেন ৯৪টি কোম্পানি। সদস্য নয় এমন ছোট-বড় কোম্পানিসহ সব মিলিয়ে ১৭০টির মতো কোম্পানি কাজ করছে বলে জানান তৌহিদ।

সংগঠনটির এই সাধারণ সম্পাদক জানান, এ খাতে এখন ৩০ হাজার মানুষ কাজ করছে। ২০২১ সাল নাগাদ তা ২ লাখে নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এখন আয় হয় ৮০০ হতে ১০০০ কোটি টাকা। ২১ সালের মধ্যে ১ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ রয়েছে।

এর আগে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ হয়েছে জেনে দুশ্চিন্তার কথা উল্লেখ করে ভারতের উদাহরণ দিয়ে এই বিপিও ব্যবসায়ী বলেন, ‘ভারত এই খাতে ২০ বছর সাবসিডি দিয়েছে। আমাদের খাতের বয়স মাত্র ৮ বছর। আমাদের অগ্রগতি ভাল, সে হিসেবে খাতটি পরিণত হওয়া জন্য ভারতের মত দীর্ঘ সময় সাবসিডির দরকার হবে না। অন্তত ২০২১ সাল পর্যন্ত এই ভ্যাট মওকুফ বা কমিয়ে না দিলে খাতটিতে আশা রাখা মুশকিল।’

এই ‘পেপ্যাল’ সেই পেপ্যাল নয়

মো: শফিউল আলম, ইলেক্ট্রনিক পেমেন্ট ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস বিশেষজ্ঞ : গত ২০১৫ সালের শেষভাগে পেপ্যালের (ইন্টারনেট পেমেন্ট গেইওয়ে) জুম ইনকরপোরেশন (ক্রসবর্ডার অনলাইন মানি ট্রান্সফার কোম্পানি) একুইজিশন ঘোষণার পর থেকেই বাংলাদেশে পেপ্যাল আগমন এবং জুমকে একীভুত করে ‘বিভ্রান্তিমুলক সংবাদ’ পরিবেশন হতে থাকে । যদিও ইন্টারনেট পেমেন্ট গেটওয়ে এবং অনলাইন মানি ট্রান্সফারের সেবার ধরন, প্রকৃতি এবং গ্রাহক চাহিদা ভিন্নতর।

পেমেন্ট গেটওয়ের ( পেপ্যাল, স্ক্রিল ইত্যাদি ) মৌলিক বৈশিষ্ট হচ্ছে ই-ওয়ালেট, অর্থ জমা (ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড, প্রি-পেইড, মানি-প্যাক), পিয়ার টু পিয়ার মানি ট্রান্সফার, অনলাইন মার্চেন্ট পেমেন্ট এবং অর্থ উত্তোলন (ব্যাংক একাউন্ট, ক্রেডিট,ডেবিট, প্রি-পেইড, চেক)। পেমেন্ট গেটওয়ের লাইন্সেন্স ব্যাংক সেন্ট্রিক।

অনলাইন মানি ট্রান্সফারের ( জুম, ট্রান্সফারওয়াইজ ইত্যাদি ) মৌলিক বৈশিষ্ট হচ্ছে এটা সরাসারি সুইফেটের মাধ্যমে ক্রসবর্ডার ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার করে, অর্থ জমা (ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড বা ওটিসি), অর্থ উত্তোলন (ব্যাংক একাউন্ট, ওভার দি কাউন্টার-ওটিসি), অনলাইন মানি ট্রান্সফার লাইসেন্স লোকেশন সেট্রিক।

বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোতে বিইএফটিএন ( বাংলাদেশ ইলেক্ট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার নেটওয়ার্ক) এর মাধ্যমে ইন্টার-ব্যাংক ফান্ড ট্রান্সফার সুবিধাটি কয়েক বছর ধরে বিদ্যমান আছে। যদিও এসিএইচ ( অটূমেটিক ক্লিয়ারিং হাউজ) এবং আরটিজিএস ( রিয়েলটাইম গ্রস সেটেলমেন্ট ) ইলেক্ট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে রিয়েলটাইম প্রযোজ্য হয়নি ( নিশ্চিত নই )।  যার ফলে দুই-একদিন সময় নেয় সেটেলম্যান্টের জন্য।

অনলাইন মানি ট্রান্সফারের অফলাইন ( ব্রিক- মর্টার ) মডেলই অনলাইন ভার্সন। তাই অনলাইন মানি ট্রান্সফারের মানি অপারেটিং লাইসেন্স এক্সচেঞ্জ হাউজ স্টেইট টূ স্টেইট বা কান্ট্রি টূ কান্ট্রি আলাদা নিতেই হয় ।

এখানে উল্লেখিত যে, সম্ভবত একমাত্র জুম গ্রাহকরা (সেন্ডার/পেয়ার) পেপ্যাল দিয়ে লগইন করে পেপ্যাল ব্যালেন্স থেকে ফান্ড ট্রান্সফার  করতে পারেন। পেপ্যাল যেহেতু ব্যাংক নয় তাই তাদেরও ক্যাশইন করতে হয় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড, প্রি-পেইড, মানি-প্যাক থেকে। তাই এখানে অন্য অনলাইন মানি ট্রান্সফার সেবার সাথে জুমের মৌলিক কোনো পার্থক্য নেই।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশে পেপ্যাল সেবা চালু

Md. shofiul alam

জুম পেপ্যালকে কিনে নেয়ার অন্যতম কারণ অফলাইন (ব্রিক অ্যান্ড মর্টার) এবং অনলাইন রেমিট্যান্সের  বাজার ধরা কারণ পেপ্যালের কাস্টমাররা সাধারনত অনলাইন ক্রেতা এবং বিক্রেতা। যার ফলে মার্চেন্ট সার্ভিস মনোপলি করেছে পেপ্যালের মৌলিক সেবা ই-ওয়ালেট। যেহেতু পিটুপি বা ক্যাশ-আউট অনেক ব্যয়বহুল এবং লেনদেন তুলনামুলক অনেক কম।

পেপ্যাল ক্যাশ-ইন ফ্রি কিন্তু ক্যাশ-আউটে বা পিয়ার টু পিয়ার লেনদেনে অনেক ফি (২.৫-৪%) দিতে হয় যার ফলে কাস্টমাররা অ্যাভয়েড করে থাকেন বা হাই ভ্যালু পিটুপি ট্রাঞ্জেকশন পেমেন্ট গেটওয়ে দিয়ে করেন না। সেক্ষেত্রে  জুমের মত অনলাইন মানি ট্রান্সফার বা মানি অপারেটিং লাইসেন্স নিয়ে এক্সচেঞ্জ হাউজগুলো দিয়ে সুইফট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে করেন। এক্ষেত্রে যে কোনো অ্যামাউন্টের জন্য জুমের ওয়ানঅফ ৪-৭ ডলার চার্জ করে থাকে।

বাংলাদেশের ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স কাস্টমার প্রধানত তিন ধরনের। এক. অনলাইন ওয়ার্কার (প্রধানত ফ্রিল্যন্সার, রিমোট ওয়ার্কার)।  দুই. অফলাইন ওয়ার্কার (শ্রমিক শ্রেণী) এবং তিন. মার্চেন্ট সার্ভিস ( অনলাইন/অফলাইন পণ্য ব্যবসায়ী)।

ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স চ্যানেল চার ধরনের। এক. এক্সচেঞ্জ হাউজ ( ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন, মানিগ্রাম, আল-রাজী, প্রভু, সোনালী এক্সচেঞ্জ ইত্যাদি )। দুই. অনলাইন মানি ট্রান্সফার ( ট্রান্সফারওয়াইজ, জুম , ইউএই এক্সপ্রেস) । তিন. অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে (পেপ্যাল, স্ক্রিল, পেওনিয়ার ইত্যাদি) এবং চার. হুন্ডি (মানি লন্ডারিং)।

আরও পড়ুন: অনুমতি পেপ্যালে, সেবা জুমে

paypal-3

                                                                                                                      চিত্র : রেমিট্যান্সের প্রক্রিয়া

আমরা উপরের কাস্টমার রেমিট্যান্সের চ্যানেলাইজ ধরনের চিত্রটি খেয়াল করলে দেখতে পাই কিভাবে এই অনলাইন/অফলাইন মানি ট্রান্সফার প্রক্রিয়াটি কাজ করে।

প্রথমেই বলে রাখা ভাল জুম অনেক বছর ধরে রুপালী ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক এবং প্রভু মানি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে বাংলাদেশে সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

সোনালী ব্যাংকের মত বিশাল একটি রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাংক বছর ধরে বলছে পেপ্যাল নিয়ে আসছে। কিন্তু কীভাবে জুমের মাধ্যমে পেপ্যাল সেবা দেবে তা কখনও পরিষ্কার করে প্রকাশ করেনি, এতে এক ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে।

paypal-4

আমরা যদি ইন্টারনেট পেমেন্ট এবং অনলাইন মানি ট্রান্সফারের টেকনিক্যাল এবং রেগুলেটরি পার্সপেক্টিভ যাচাই করি তাহলে সহজেই বুঝতে পারি এটি ভিন্ন সেবা এবং ধরণ হিসেবেও দুটি আলাদা কোম্পানি।

অন্যান্য অনলাইন মানি ট্রান্সফার বা আগের জুম এবং বর্তমান জুমের মাঝে একটিই পার্থক্য যে, কারও পেপ্যাল অ্যাকাউন্ট থাকলে তা দিয়ে জুমে অথেনটিকেশন বেইজড লগইন করা যায় (গ্লোবাল লগইন করা যায় কিনা পরীক্ষা করা হয়নি) এবং পেপ্যাল ব্যালেন্স থেকে ফান্ড ট্রান্সফার করা যায়।
যদিও পেপ্যাল নিজেই ক্যাশ-ইন করে কার্ড বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ড ডিপোজিট করে। তাই মৌলিক পার্থক্য খুব বেশি হচ্ছে না যতদিন পেপ্যাল বাংলাদেশে অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগটি না দিচ্ছে। পেপ্যালের ওয়েবসাইটে এখনও বাংলাদেশের নাম নেই।

পেপ্যালের ২০৩ টি দেশের কাজ করার লিস্টিং থাকলেও প্রকৃতপক্ষে মাত্র ২৫ বা ২৯ টি দেশে পেপ্যাল লোকালি ফোল সার্ভিস ফাংশনাল রয়েছে। তার মধ্যে মাত্র ১০৭ টি দেশ তাদের অর্থ লোকাল ব্যাংকে উইথড্রো করতে পারে। বাকি ৯৬টি দেশ ( নেপাল, ভুটান সহ ) থেকে অ্যাকাউন্ট ওপেন করতে পারলেও গ্রাহকরা লিমিটেড বা কোনো ভ্যারিফাইড অ্যাকাউন্ট পাচ্ছেন না।

প্রকৃতপক্ষে এসব ক্ষেত্রে কান্ট্রি ইনডেক্স ছাড়া আর তেমন কিছুই নেই। এখনকার মতই ইউএস অ্যাকাউন্ট ( মাস্টার কার্ড / পেওনিয়ারের মতো) ভ্যারিফাইড মাস্টার কার্ড লাগবেই। তাই টাকা উইথড্রো করতে গেলে সেই একই পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে যা এখন আমাদের ফ্রিল্যান্সাররা করছে পেওনিয়ার বা অন্যান্য মাস্টার কার্ড দিয়ে।

আরও পড়ুন: পেপ্যাল প্রপাগান্ডা : বিভ্রান্তি, বাস্তবতা ও করণীয়

paypal-5

                                                                          চিত্র :এশিয়ার যে গুলোতে পেপ্যাল সাপোর্ট করে ( আপডেট ২৪ মে ২০১৭)

এখন জুম দিয়ে পেপ্যাল চালানো আর ব্লগ দিয়ে ইন্টারনেট চালানোর মতই মনে হয়, কারণ বাংলাদেশকে যতদিন ইন্ডেক্সই না করছে ততদিন আমরা পেপ্যালের প্রকৃত সেবা পাচ্ছি না। তাই ফ্রিল্যান্সার বা অনলাইন মার্চেন্টরা পেপ্যাল সেবা থেকে বঞ্চিত থাকছেন।

তাহলে পেপ্যালের বিকল্প কি? বাংলাদেশের প্রায় সব আইটি কোম্পানিগুলো আউটসোর্সিং কাজ করছে এবং নরমাল ব্যাংকিং চ্যানেলেই প্রতি মাসে কোনো বাধা ছাড়াই লাখ লাখ ডলার নিয়ে আসতে পারছে । ফ্রিল্যান্সাররাও সহজেই টাকা উঠাতে পারছেন লোকাল ব্যাংকে, স্ক্রিল, পেওনিয়ার, নেটেলার বা আরও অনেক সেবাদাতা ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি যারা মাস্টার কার্ড প্রভাইড করছে। পেপ্যাল অনেক সহজলভ্য এবং সুবিধা আছে কিন্তু ব্যায়বহুলও বটে। আমাদের প্রয়োজন নিজেদের পেপ্যাল বা লোকাল পেমেন্ট গেটওয়ে যা ই-কমার্সের জন্য বা পি টু পি, ইন্টার-ব্যাংক ফান্ড ট্রান্সফার করা যাবে ।

আসলে পেপ্যাল বাংলাদেশে না আসার ক্ষেত্রে সরকারের আইসিটি ডিভিশন, বাংলাদেশ ব্যাংক, বেসিস বা তথ্যপ্রযুক্তি খাতসংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের ব্যর্থতা নয়। পেপ্যাল সম্পূর্ণ স্বাধীন একটি প্রাইভেট কোম্পানি যারা তাদের প্লান, পলিসি, রোডম্যাপ, ফিজিবিলিটি, রিস্ক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়ে কর্ম-পরিকল্পনা করে থাকে।

এখন আমাদের নিজেদের প্রিপারেশনটা জরুরি।  ব্যাংকিং টেকনিক্যাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার আরও প্রস্তুত করতে হবে। আমাদের ক্রেডিট কার্ড ইউজার অনেক কম, অনলাইন ব্যাংকিং এখনও ঠিকমত শুরুই হয়নি। তবে পলিসি সাপোর্টের কোনো সমস্যা আছে বলে মনে হয় না। বাংলাদেশে পেপ্যাল বা এই ধরনের অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে নিয়ে কাজ করতে গেলে সবার আগে এটার স্টেক হোল্ডারকে অগ্রণী ভুমিকা নিত হবে।

পেপ্যাল আনার ক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক’ হচ্ছে প্রধান স্টেক হোল্ডার। তাই বাংলাদেশ ব্যাংককেই দায়িত্ব নিতে হবে, পলিসি ঠিক করতে হবে। সেক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত যে চ্যালেঞ্জগুলো আছে তাতে আমাদের সকল ব্যাংক, আইসিটি ডিভিশন, বেসিস ও সংশ্লিষ্টরা একসঙ্গে-একযোগে কাজ করলে পেপ্যাল আসাটা খুব বেশি দূরে নয়।

লেখক  ইলেক্ট্রনিক পেমেন্ট, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস, মোবাইল রেমিট্যান্স, টেলকো ভিএএস এবং মার্কেটপ্লেস নিয়ে ১০ বছরেরও বেশি সময়  ধরে দেশে-বিদেশে কাজ করছেন। বাংলাদেশের প্রথম মার্কেটপ্লেস বিল্যান্সারের উদ্যোক্তা । কানাডীয় কোম্পানি ফার্স্ট গ্লোবাল ডাটা ইনকরপোরেশন এবং সিঙ্গাপুরের এফওয়ান সফট ইন্টারন্যাশনালের সাবেক কান্ট্রি প্রধান। দেশের এসএসএল ওয়্যারলেস, আইপে লিমিটেডের মতো বিভিন্ন অর্থ লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্বও দিয়েছেন।

ফ্রিল্যান্সিং-আউটসোর্সিংয়ে কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছে সরকার

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : পেশাদার খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠা এবং তা হতে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে ফ্রিল্যান্সিং-আউটসোর্সিংয়ের জন্য কর্মপরিকল্পনার তৈরি করছে সরকার।

আউটসোর্সিংয়ের বর্তমান ও ভবিষ্যত চ্যালেঞ্জের সঙ্গে সম্ভাবনাগুলো তুলে আনা, ফ্রিল্যান্সিংকে শৃঙ্খলায় আনা, পেশাদার ও দক্ষ জনবল তৈরি করা, প্রতিষ্ঠান তৈরির দিকনির্দেশনা থাকবে এতে।

কর্মপরিকল্পনা তৈরিতে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে দেশের সফটওয়্যার খাতের শীর্ষ সংগঠন বেসিসকে। তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সহায়তায় তিন মাসের মধ্যে এটি তৈরি করে তা সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের সর্বোচ্চ ফোরাম ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্সে জমা দিতে বলা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরীর সভাপতিত্বে গত ২৭ মার্চ ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্সের নির্বাহী কমিটির সভায় এই নির্দেশনা দেয়া হয়।

outsource

বেসিস সভাপতি তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার টেকশহরডটকমকে জানান, কর্মপরিকল্পনা তৈরিতে ইতোমধ্যে বেসিস উদ্যোগ নিয়েছে। গবেষণা ও জাতীয় জরিপের মাধ্যমে এটি করা হবে। ফ্রিল্যান্সিং-আউটসোর্সিংয়ে কোথায় কী চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা রয়েছে তা দেখা হবে।

তিনি বলেন, খাতটিতে দক্ষ জনবলের অভাব রয়েছে। শুধু মার্কেটপ্লেসে অ্যাকাউন্ট খুলে কোনোভাবে ৫-১০ ডলার আয় করলেই দক্ষতা বোঝায় না। দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে পেশাদার কাজে সত্যিকার দক্ষতার প্রয়োজন আছে। এটা ডিজিটাল বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্সের এই সদস্য বলেন, ট্রেনিংয়ের ক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের প্রয়োজন আছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয়ে এই ফ্রিল্যান্সিং-আউটসোর্সিংয়ের যে ভূমিকার কথা বলছি সেখানে সুস্পষ্ট ধারণার দরকার আছে। এখন কোন অবস্থায় আছি আর কীভাবে এগুচ্ছে বিষয়টি তা পরিস্কার না হলে লক্ষ্য অর্জনের ফ্রিল্যান্সিং-আউটসোর্সিংয়ের অবদানও অস্পষ্ট থাকবে, এটি টেকসইও হবে না।

তিনি বলেন, অনেকেই ব্যক্তি পর্যায়ে কাজ করে এক সময় হারিয়ে যাচ্ছেন। ব্যক্তি হতে প্রতিষ্ঠান হচ্ছে না। যারা ভাল কাজ জানেন, দক্ষ তারা আবার পরবর্তী প্রজন্ম তৈরিতে অবদান রাখছে না। মার্কেটটা শেয়ারিংয়ে গতি নেই।

মোস্তাফা জব্বার বলছেন, ৪ হাজার ক্যাটাগরির কাজ রয়েছে। স্পেশালাইজড কাজের জন্য দক্ষতা কম। এখানে দক্ষতা প্রয়োজন। অর্ধদক্ষ বা অ্যাকাউন্ট খুলতে পারার জনবল বরং মার্কেটপ্লেসগুলোর জন্য বিপদজনক।

সার্বিক বিষয়গুলো নিয়েই এই কর্মপরিকল্পনা করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, তিন মাসের মধ্যেই কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগকে দেয়া হবে। বিভাগ এটি টাস্কফোর্সে উপস্থাপন করবে।

বাংলাদেশ হতে ৭ হাজার কর্মী নেয়ার ঘোষণা অগমেডিক্সের

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বাংলাদেশ হতে ৭ হাজারেরও বেশি কর্মী নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে চিকিৎসাসেবায় গুগল গ্লাসভিত্তিক বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্টার্টআপ অগমেডিক্স।

স্টার্টআপটির আউটসোর্সিং কাজে এসব কর্মীরা মেডিকেল সহকারী হিসেবে কাজ করবে। তারা আমেরিকার ডাক্তারদের রিমোট পার্সোনাল সহকারী হবেন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর পান্থপথে অগমেডিক্স ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মী নেয়ার ঘোষণা দেন অগমেডিক্সের সহ-প্রতিষ্ঠাতা পেলু ট্র্যান ও মেডিকেল খাতে বিনিয়োগকারী অরবিম্যাডের ভেঞ্চার পার্টনার স্টিভেন ইয়েসিয়েছ।

অগমেডিক্স বাংলাদেশের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আহমাদুল হকের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

পলক বলেন, বাংলাদেশ এখন ইমার্জিং টেকনোলজির গন্তব্য এবং দেশের মেধাবী যুবকদের কল্যাণে  উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে আমাদের শীর্ষ উদাহরণ হচ্ছে অগমেডিক্স।

তিনি বলেন, অগমেডিক্স বাংলাদেশে ৭ হাজারেরও বেশি তরুণ কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্তটি সত্যিই প্রশংসনীয়। তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ এলআইসিটি প্রোগ্রামের মাধ্যমে অগমেডিক্সের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষিত জনবল সরবরাহ করতে কাজ করছে।

দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগে আগ্রহী করতে সরকারের উদ্যোগ হিসেবে অগমেডিক্স বাংলাদেশ একটি মডেল উদাহরণ বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।

augmedix.techshohor

পেলু ট্র্যান বলেন, অগমেডিক্সের পরিচালনা কাজে ও আমেরিকার ডাক্তারদের সাথে মেধাবী স্ক্রাইবদের সংযোগ ঘটাতে বাংলাদেশ একটি আদর্শ জায়গা।

তিনি জানান, পুরো বাংলাদেশ জুড়েই ইংরেজি প্রচলিত আছে এবং দেশের ৫০ শতাংশ জনসংখ্যাই ২৫ বছরের নিচে ও খুবই প্রযুক্তি পারদর্শী। মেধা, যুব ও শিক্ষার এই সমন্বয় শক্তিশালী বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিংয়ের জন্য সীমাহীন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, অগমেডিক্স সেবার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কেবলমাত্র ‘স্ক্রাইব’সরবরাহই করছে না, কোম্পানির মূল অগমেডিক্স সফটওয়্যারের আইডিয়া থেকে শুরু করে ডেভেলপমেন্ট, টেস্টিং ও সাপোর্ট-সবই মেইড ইন বাংলাদেশ । ২০১২ সাল থেকে চালু হওয়া কোম্পানির পান্থপথ কার্যালয়ে বর্তমানে প্রায় ১ ডজন ইঞ্জিনিয়ার ও অন্যান্য সাপোর্ট স্টাফ কাজ করছেন।

সংবাদ সম্মেলেনে স্টিভেন ইয়েসিয়েছ বলেন, আমাদের বাংলাদেশ টিমের মান নিয়ে আমরা খুবই খুশি এবং তারা অগমেডিক্সের উন্নয়নে অনেক অবদার রাখছে।

আহমাদুল হক বলেন, বাংলাদেশ থেকে দেশের গন্ডি পেরিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা দিয়ে ব্যাপক সন্তোষজনক মতামত পাওয়া যাচ্ছে।

২০১৬ সালের ডিসেম্বরে অরবিমেড ২৩ মিলিয়ন ইউএস ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে স্ট্রাটেজিক পার্টনার হিসেবে অগমেডিক্সের সাথে কাজ শুরু করে।

অডমেডিক্স যুক্তরাষ্ট্রের বড় পাঁচটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রায় ১৭ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পেয়েছে। বর্তমানে অগমেডিক্স যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ টিরও বেশি স্টেটে প্রাইমারি কেয়ার ডক্টর, স্পেশালিস্ট ও সার্জনদের সেবা দিয়ে আসছে যারা প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার রোগী দেখেন।

আল-আমীন দেওয়ান

আউটসোর্সিংয়ে ৭ হাজার মেডিকেল সহকারী নেবে অগমেডিক্স

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর :  চিকিৎসাসেবায় গুগল গ্লাসভিত্তিক বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্টার্টআপ অগমেডিক্স আউটসোর্সিং কাজে বাংলাদেশ হতে ৭ হাজারেরও বেশি মেডিকেল সহকারী নেবে।

আমেরিকার সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক এই স্টার্টআপটির অপারেশনের প্রায় পুরোটাই পরিচালিত হয় ঢাকা হতে। দেশে বেসরকারি পর্যায়ে সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক হিসেবেও তারা কাজ করছে। ভারত ও বাংলাদেশ থেকে প্রতিষ্ঠানটি বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং (বিপিও) করে থাকে।

অগমেডিক্সে বাংলাদেশি কর্মীরা কাজ করলেও সম্প্রতি স্টার্টআপটি আরও কর্মী নিতে চায়। আগামী পাঁচ বছরে ৭ হাজারেরও বেশি কর্মী নেয়ার ঘোষণা দিতে যাচ্ছে তারা।

Augmedix-techshohor

শুক্রবার বিকালে রাজধানীর পান্থপথে অগমেডিক্স ভবনে এই কর্মী নেয়ার ঘোষণা দেবেন অগমেডিক্সের সহ-প্রতিষ্ঠাতা পেলু ট্র্যান ও মেডিকেল খাতে বিনিয়োগকারী অরবিম্যাডের ভেঞ্চার পার্টনার স্টিভেন ইয়েসিয়েছ।

এ জন্য এক সংবাদ সম্মেলনেরও আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের ইয়ান শাকিল ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা পেলু ট্র্যান অগমেডিক্সের উদ্যোক্তা। এ উদ্যোগ ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বড় পাঁচটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রায় ১৭ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পেয়েছে।

এটি বিশ্বের সর্ববৃহৎ স্টার্টআপ হিসেবেও পুরস্কৃত হয়েছে। স্টার্টআপ হলেও এখন এটি প্রায় ৪০ মিলিয়ন ডলারের প্রতিষ্ঠান।

অগমেডিক্স বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং বা বাক্যের সভাপতি  আহমাদুল হক ববি।

আল-আমীন দেওয়ান

‘বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সারদের সস্তায় কাজ বিশ্ববাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে’

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বাংলাদেশ আউটসোর্সিংয়ে খুব ভাল করছে। কিন্তু এখানকার ফ্রিল্যান্সাররা কম বাজেটে কাজ করে, যা বিশ্ববাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তথ্যপ্রযুক্তিতে ইত্যেমধ্যেই বাংলাদেশের সম্মানজনক অবস্থান তৈরি হয়েছে। তাই এখানেও এখন দেশের আইটি প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত গুনগতমানের কাজ করা।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বেসিস সফটএক্সপোর তৃতীয় দিন শুক্রবারে ‘এক্সপোর্ট মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি টু অবটেইন ফাইভ বিলিয়ন বাই ২০২১’ শীর্ষক সেমিনারে দেশ-বিদেশের বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধে উপস্থাপনকালে ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড সেন্টারের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মার্টিন ল্যাব্বি বলেন, ‘বাংলাদেশ আউটসোর্সিংয়ে খুব ভালো করছে। কিন্তু এখানকার ফ্রিল্যান্সাররা কম বাজেটে কাজ করে। যা বিশ্ববাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই ফ্রিলান্সারদের উচিত মানসম্মত বাজেটে কাজ করা।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্ববাজারে সফটওয়্যার রপ্তানি বৃদ্ধি করতে প্রয়োজন দক্ষ জনবল। আর দক্ষ জনবল তৈরি করতে অবশ্যই সরকার ও বেসরকারি খাতকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

অ্যামটবের মহাসচিব টিআইএম নরুল কবিরের সঞ্চালনায় সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটির নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম।

Freelancer.techshohor

সেমিনারে অফিসএক্সট্রাক্টসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রবীর সরকার বলেন, নতুন সফটওয়্যার ডেভেলপাররা সার্টিফিকেশন অর্জন করেই বিশ্ববাজারে কাজের জন্য নেমে পড়ে। তাদের উচিত নিজেদের দক্ষতা আরও বৃদ্ধি করা। অনেক প্রতিষ্ঠান আইটি প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকলেও তাদের অনেক দুর্বলতা রয়েছে। বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে গুনগতমানের ট্রেনিং প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে হবে।

বক্তারা বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্যমাত্রা ২০২১ সালের মধ্যে আইটি খাত থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করা। এর জন্য সরকার নিজ উদ্যোগে আইটি ট্রেনিং দেয়ার ব্যবস্থা করেছে। সরকার আইটি এক্সপার্ট ও উদ্যোক্তা তৈরি করছে।

সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন বেসিসের সহ-সভাপতি এম রাশিদুল হাসান ও ফারহানা এ রহমান, এলআইসিটি প্রকল্পের কমপোনেন্ট টিম লিডার সামি আহমেদ, গ্রাফিক পিপল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইমতিয়াজ এলাহী, রাইট ব্রেইন সল্যুউশনের প্রধান নির্বাহী নূর মোহাম্মদ খান।

আল-আমীন দেওয়ান

পেওনিয়ারের ‘বিশৃঙ্খল’ অনুষ্ঠান, ক্ষুব্ধ অনলাইন পেশাদাররা

তুসিন আহমেদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : রাতভর বাসযাত্রায় সিলেট হতে ঢাকায় এসেছেন রুমান সরকার। উদ্দেশ্য ঢাকা রিজেন্সি হোটেলে অনলাইন আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান পেওনিয়ারের ‘পেওনিয়ার ফোরাম ঢাকা’ অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া।  কিন্তু নির্ধারিত সময়ের এক ঘন্টা আগে অনুষ্ঠানস্থলে এসেও প্রবেশ করতে পারেননি তিনি।  কারণ ভেতরে জায়গা নেই।

এবার চেয়ে দেখেন তিনি একা নন। নিবন্ধিত হয়ে আমন্ত্রণ নিয়ে পেওনিয়ারের এই ফোরাম ঢাকায় অংশ নিতে পারছেন না আরও অনেক অনলাইন পেশাদাররা। আনুমানিক তা তিন শতাধিক। আর এক পর্যায়ে পরিস্থিতি এমন যে অতিথিদের ‘তাড়াতে’ গেইটে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।

রুমান সরকার টেকশহরডটকমকে জানান, পেওনিয়ারের নিয়ম মেনে  অনুষ্ঠানে অংশ নিতে নিবন্ধন করেন তিনি। পেওনিয়ার কর্তৃপক্ষ তা নিশ্চিতও করে। অথচ বিকাল ৩টার অনুষ্ঠানে ২টার আগে  আসলেও ঢুকতে দিল না। আমন্ত্রণ জানিয়ে আমাদের তাড়িয়ে দিলো পেওনিয়ার।

আউটসোসিংয়ের কাজ করেন জসিম উদ্দিন। তিনিও নিবন্ধন করে আমন্ত্রিত ছিলেন এই অনুষ্ঠানে। নিজের ক্ষুব্ধ হয়ে নিয়ে অভিজ্ঞতা জানাতে বলেন, ‘শনিবার দুপুর ২টা হয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। তিন’শর বেশি মানুষ দাঁড়িয়ে ছিলো হোটেলের বাইরে। হোটেলের নিরাপত্তা কর্মীরা অনলাইন পেশাদারদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছে।’

‘পেওনিয়ার আমাদের দাওয়াত দিয়ে অপমান করল। যদি ওনাদের আসন সংখ্যা কম থাকে তাহলে কেনো সবাইকে কনফার্ম করবে? এটা অনেকটা বাড়িতে অতিথি ডেকে ঘাড় ধাক্কা দেয়ার মত আচরণ।’

অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে হেনস্থা হন ইমরান মন্ডল। ফেইসবুকে তিনি জানান, ‘আমি ঢাকা রিজেন্সির হেড অব সিকিউরিটির ধাক্কা খেয়েছি। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে জীবনে আর কোনো ফ্রি ইভেন্টে জয়েন করবো না।

Payoneer-Bangladesh-techshohor

পেওনিয়ারের এসব বিষয় নিয়ে অনলাইন পেশাদার ও মার্কেটএভারের প্রতিষ্ঠাতা আল-আমিন কবির টেকশহরডটকমকে জানান, ‘পেওনিয়ার আন্তজার্তিক নিয়ম মেনে অনুষ্ঠানটি করতে চেয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্র কিছুটা ভিন্ন সেটা তারা বুঝতে পারেনি। আসন সংখ্যা থেকে অধিক মানুষকে আমন্ত্রণ জানানোর কারণে এই ঘটনা হয়েছে। পেওনিয়ার কর্তৃপক্ষের বিষয়টি নিয়ে আরও বেশি সচেতন থাকা দরকার ছিল।’

পেওনিয়ার বাংলাদেশ ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর শোয়েব মোহাম্মদ টেকশহরডটকমকে জানান, ‘পেওনিয়ার অনেকগুলো দেশে কার্যক্রম চালাচ্ছে এবং নিয়মিত অনুষ্ঠান করছে। সেই নিয়ম মেনেই বাংলাদেশে অনুষ্ঠানটি হয়েছে। সবগুলো দেশে গড় হিসাব করে একটা ডাটা থাকে যাকে ‘শো আপ রেশিও’ বলা হয়। এর মানে হল নিবন্ধন করার পরে কত শতাংশ মানুষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারে। অন্য দেশে এই রেশিও ১০ থেকে ২০ শতাংশর মত। সেই হিসেবে পেওনিয়ার আসন সংখ্যা নিধারণ করেছিল। কিন্তু শনিবারের আয়োজনে সেই রেশিও ৬০ শতাংশে বেশি হয়ে যায়। তাই এই অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়েছে।”

তিনি জানান, ‘নিবন্ধন করার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া পেওনিয়ার কর্তৃপক্ষ পরিচালনা করেছেন। ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে আমরা অনুষ্ঠানে সাহায্য করেছি। সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিল পেওনিয়ার কর্তৃপক্ষের কাছে।’

শোয়েব মোহাম্মদ জানান, ইভেন্টের আগের দিন (শুক্রবার) রাত ১টায় সবাইকে মেইল করেছে পেওনিয়ার। গভীর রাতের ওই মেইলে ‘আগে আসলে আগে আসন পাবেন’ জানানো হয়েছে। যদি অাসন পূর্ণ হয়ে যায় তাহলে হোটেলের গেইট বন্ধ করে দেয়ার কথাও বলা হয়েছে।

পেওনিয়ার বাংলাদেশের ব্যবসায় উন্নয়ন বিভাগের প্রধান ও সাবেক ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর রিফাত আহমেদ টেকশহরডটকমকে জানান, ‘আমি এই অয়োজন করিনি। তাই আয়োজন সম্পর্কে কোনো অফিসিয়াল বক্তব্য নেই আমার। এ বিষয়ে পেওনিয়ার কর্তৃপক্ষের অফিসিয়াল বক্তব্য সোমবার দেয়া হবে।’

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের নিয়ন্ত্রণ করতে হোটেলের গেটের সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশের সাথে কয়েকজনের ধাক্কাধাক্কির ঘটনার ঘটেছে-এসব নিয়ে ফেইসবুকে স্ট্যাটাসে রিফাত আহমেদ বলেন, ‘যারা অনুষ্ঠানে প্রবেশ করতে পারেনি তাদের মধ্যে ৯৫% লোক শান্ত ছিলেন।কিন্তু কিছু লোক পেছন থেকে উস্কানি দিচ্ছিল। একটা সময় হোটেল কতৃপক্ষ তাদের প্রপার্টি সেইফ রাখার জন্য হোটেল থেকে পুলিশকে কল দেয়, সাথেই খিলক্ষেত থানা, সাথেসাথেই বেশ কিছু পুলিশ আসে। হোটেল কর্তৃপক্ষের জন্য যারা দায়িত্বে নিয়জিত থাকে যাতে হোটেল এর কোনো ক্ষতি না হয়।’

তবে যারা প্রবেশ করতে পেরেছেন তারা অনুষ্ঠান কক্ষে আসন পেয়েছেন।

অনলাইন পেশাদার মোহম্মদ আসিফ টেকশহরডটকমকে জানান, ‘ভাগ্যবান যারা অনুষ্ঠানে প্রবেশ করতে পেরেছিল তারা ঠিকভাবে আয়োজন উপভোগ করেছে।’

কয়েকদিন আগে অনলাইন পেশাদারদের নিয়ে খুলনায় এমন অনুষ্ঠান করেছিল পেওনিয়ার। সেখানেও একই ঘটনা ঘটেছিল। নিবন্ধন নিশ্চিত করে আমন্ত্রণ পাওয়ার পরেও অনেকেই অনুষ্ঠানে প্রবেশ করতে পারেনি। একই ঘটনা আবারও ঘটায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পেওনিয়ারকে নিন্দা জানাচ্ছে অনেক অনলাইন পেশাদাররা।

অনলাইন লেনদেন : প্রতিবার আনা যাবে ৫০০০ ডলার

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : অনলাইন গেটওয়ের মাধ্যমে বিদেশ থেকে আউটসোর্সিং কাজের অর্থ সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার ডলার পর্যন্ত আনতে পারবেন দেশের ফ্রিল্যান্সররা। আগে এই অর্থ আনার সীমা ছিল দুই হাজার ডলার। নতুন করে তিন হাজার ডলার বাড়ানো হলেও রপ্তানিকারকদের কোনো পূর্বানুমতির প্রয়োজন হবে না।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংক অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে প্রোভাইডারদের মাধ্যমে দেশে রপ্তানি অর্থ আনার পরিমাণ বাড়ানো সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিভিন্ন ব্যাংকে পাঠিয়েছে।

ফ্রিল্যান্সররা বিভিন্ন দেশে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ডাটা এন্ট্রি, ডাটা প্রসেসিং, বিজনেস প্রসেসিং, বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিংসহ নানা ধরনের তথ্য প্রযুক্তি সেবা রপ্তানি করে থাকে। আর এসব অনলাইনে কাজের অর্থ দেশে আনা হয় অনলাইন পেেমন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে। বর্তমানে ফ্রিল্যান্সারদের আয় দেশে আনা-নেওয়ায় সরকার মাসে এ থেকে প্রায় এক লাখ ডলার আয় করে থাকে। অর্থ আনার পরিমাণ বাড়িয়ে সেই আয় আরও বাড়াতে এমন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

international-credit-cards
পাশের দেশ ভারতে অবশ্য আউটসোর্সিং থেকে একবারে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ডলার অনলাইন গেটওয়ের মাধ্যমে নিয়ে আসতে পারে।

আগে আউটসোর্সিং কাজের জন্য যেকোনো পরিশাণ অর্থ আনতেই বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতির প্রয়োজন হতো। কিন্তু সেটা ২০১১ সালে সংশোধন সি ফর্মের মাধ্যমে ৫০০ ডলার পর্যন্ত আনতে পারতো ফ্রিল্যান্সাররা। তবে সেখানেও বেশ অসুবিধা হওয়ায় নীতিমালা সংশোধন করে সর্বোচ্চ দুই হাজার ডলার করা হয়েছিল।

দেশে আউটসোর্সিং কাজের পরিধি বেড়ে যাওয়ায় এই আয় বেড়েছে। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন করে নীতিমালায় সংশোধন এনে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার ডলার আনার এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলো। তবে যেসব ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রায় এমন লেনদেন করে তাদেরকে এই অর্থ আনার হিসাব প্রতিমাসেই বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে দিতে হবে বলেও শর্ত দিয়েছে।

ইমরান হোসেন মিলন

বাড়ছে ক্লিক বাণিজ্য, বেআইনি আউটসোর্সিংয়ে জব্দ হচ্ছে সাইট

ইমরান হোসেন মিলন, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : চটকদার শিরোনাম ও আকর্ষণীয় ছবি দেখে লিংকে গেলেন। আসল ঘটনা জানতে আরও কয়েকটি ক্লিক করতে হলো। এরপরও মূল জিনিস অজানাই থেকে গেল। কেননা আপনি তখন হয়ত পৌঁছে গেছেন ‘নিষিদ্ধ’ কােনো ওয়েসবাইটে। এ ফাঁকে অবশ্য বেশ ক্লিক বাণিজ্যে পকেট গরম হয়ে গেছে অন্য কারও।

ব্যাপারটা যে কয়েকটি ক্লিকেই শেষ হয় এমনও নয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ভেসে আসা অনেকটাই নিখুঁত সম্পাদনার ছবি বা ভিডিও দেখতে প্রায়ই নিজের ই-মেইল ঠিকানাও জানাতে হয়। যারা এ ফাঁদে পা দেন, তারা নিজের অজান্তে তার ই-মেইলকেও অবৈধ এসব ফ্রিল্যান্সারদের ব্যবসার হাতিয়ার বানিয়ে দিলেন।

এই বেআইনি কাজকেই তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ‘ফ্রিল্যান্সিং’ কিংবা ‘আউটসোর্সিং’ হিসেবে প্রচার করে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়াতে কাজ করছে একটি চক্র। বিভ্রান্ত হয়ে নগদ লাভের আশায় এ পথে পা বাড়াচ্ছেন অনেকেই। তবে শেষ পর্যন্ত খুব একটা সুবিধা করতে পারছেন না গুগল ও সাইবার নিরাপত্তাদানকারী প্রতিষ্ঠান এসব ওয়েবসাইট জব্দ করে দেওয়ায়। এতে ফ্রিল্যান্সিং পেশা নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠছে ‘আসল-নকলের’, তেমনি ক্ষতি হচ্ছে দেশের আউটসোর্সিং খাতের।

Illigal-outsourching

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ফেইসবুক ব্যবহার করেই এসব লিংক ছড়ানো হয়। বিভিন্ন গ্রুপে স্প্যামিং করা হয় আকর্ষণীয় ছবি কিংবা ভিডিওর এসব লিংক। বানানো খবর পরিবেশন করেও অশ্লীল ছবি বা ভিডিওর শেয়ার করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশে বেশকিছু সাইটও এ ধরনের বেআইনি আউটসোর্সিংয়ে জড়িয়ে পড়ছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে পেপারসবিডি ডটনেট, আপটুবিডি ডটকম, ম্যাঙ্গোটল ডটকম, সুব্রত ডটকম, নিউজআপডেট২৪বিডি ডটকম, ডিএলনিউজ২৪ ডটকম, বিডিটিপসঘর ডটকম, হটসেলব ডটকম, এইজীবন ডটকম, ডেইলিহেরথটিউনস ডটকমের মতো অসংখ্য সাইট।

এগুলোর বেশিরভাগই দেখা যায় দু-তিন মাস কাজের পর জব্দ হয়ে যায়। ইদানিং এমন ওয়েবসাইট জব্দ হওয়ার সংখ্যাও বাড়ছে। চক্রটি তখন আবার নতুন ওয়েবসাইট তৈরি করে।

অনেক ক্ষেত্রে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রেও অনেকে মৌলিক কনটেন্টের বদলে কপি পেস্ট করে কাজ করেন। ইউটিউবি চ্যানেলও অন্যের ভিডিও দিয়ে মার্কেটিং বা আয়ের চেষ্টা চালান। তবে কিছু দিন পরেই তা ধরা পড়ে যাওয়ায় সাইট বন্ধ হয়ে যায়।

illegal outsourcing-techshohor

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, চটকদার শিরোনাম দেখে এগুলোতে ঢুকলেও শিরোনামের সঙ্গে কোনো মিল থাকছে না। আরও কয়েক ক্লিকের পর মেলে কোনো পর্ন সাইটের ঠিকানা। এটুকুতেই অবশ্য কাজ হয়ে যায় ওই চক্রের।

সংশ্লিষ্টদের মতে, কেননা একদিকে আপনার অ্যাকটিভিটির ওপর নির্ভর করে ফেইসবুক আবারও ওই ব্যক্তির আইডি থেকে শেয়ার করা নতুন লিংক যেমন ওয়ালে দেখায়, তেমনি চক্রটি ই-মেইল ও ক্লিক থেকে আয় করে ফেলে নিমিষেই।

তবে কাজটিকে সরাসরি বেআইনি (ই-লিগ্যাল) আউটসোর্সিং বলছেন ফিল্যান্সিং পেশায় যুক্ত ব্যক্তিরা। মূলত কিছু ব্যক্তি টাকার লোভ দেখিয়ে তরুণদের এ কাজে ভিড়িয়ে অশ্লীল ছবি বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে।

বিষয়টি অনেক দিন থেকে নজরে রেখেছেন এমন অনেকের অভিযোগ, একটি সক্রিয় চক্র রংপুর ও দিনাজপুর থেকে এ কাজ বেশি মাত্রায় করছে। তবে সম্প্রতি চক্রটি ঢাকাসহ অন্যান্য এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়েছে।

এ বেআইনি আউটসোর্সিং করা হচ্ছে সিপিএ বা কস্ট পার অ্যাকশনের সুবিধা কাজে লাগিয়ে। এর মাধ্যম প্রতি ক্লিক থেকে অর্থ আয় হয়। ক্ষেত্র বিশেষে একটি ভিডিও একবার দেখা হলেই ৭০-৮০ সেন্ট পর্যন্ত আয় হয়।

আবার দেখা যায় প্রকৃত ই-মেইল আইডির বিপরীতে এক ডলার সমপরিমাণ অর্থও হাতিয়ে নিচ্ছে ওই চক্র।

একটি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী রাফায়েত হোসেন রাফু টেকশহরডটকমকে বলেন, ওই চক্রটি টার্গেট করে উঠতি বা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়া তরুণদের। ফ্রিল্যান্সিং কাজ দেবে বলে চক্রটি গোপনে কিছু ফটোশপ ও লিংক কপি-পেস্টের কাজ শেখাচ্ছে।

মূলত সাইটে ট্রাফিক বাড়ানো ও বিভিন্ন পণ্যের বিজ্ঞাপন দেখানো তাদের উদ্দেশ্য। এ ছাড়াও ভিজিটরদের ই-মেইল আইডি নেওয়াও একটি উদ্দেশ্য থাকে বলে জানান রাফায়েত।

সাইবার সিকিউরিটি নিয়ে কাজ করা এ নির্বাহী বলেন, গোপনে কাজ করতে ব্রাউজার হিসেবে ভিপিএন বা প্রক্সি আইপি ব্যবহার করে তারা। মার্কেটিং পলিসি হিসেবে সিপিএ, এসইওর পাশাপাশি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংও কাজে লাগায়।

অনলাইন পেশাজীবীদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্টারনেট প্রফেশনাল কমিউনিটির (বিআইপিসি) সাবেক আহবায়ক আবুল কাশেম টেকশহর ডটকমকে বলেন, “এ ধরনের কাজকে ‘গ্রে মার্কেটের’ সঙ্গে তুলনা করা হয়। তবে এটা সম্পূর্ণ ই-লিগ্যাল কাজ। এক ধরনের ক্রাইমও বলা চলে।”

Illigal-outsourching2

ফ্রিল্যান্সিং ও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে অভিজ্ঞ এ ফ্রিল্যান্সার বলেন, সরকারের সঙ্গে মিলে যখন দেশে ফ্রিল্যান্সিং পেশার একটা ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে। তখন ফ্রিল্যান্সিংয়ের নামে এ ধরনের বেআইনি কাজ মেনে নেওয়া যায় না।

বিডিহায়ারের প্রধান নির্বাহী কাশেম বলেন, যেসব এলাকায় এটা হচ্ছে সেখানকার প্রসাশনকে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে প্রযুক্তি খাতের ফ্রিল্যান্সিং পেশার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে বাধ্য।

আউটসোর্সিং কাজের দেশীয় মার্কেটপ্লেস বিল্যান্সারের প্রতিষ্ঠাতা শফিউল আলম বলেন, অনেকেই এটিকে আউসোর্সিং হিসেবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এটা আউটসোর্সিং বা ফ্রিল্যান্সিং নয় বরং সম্পূর্ণ অবৈধ এক কাজ। এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে এখনই ব্যবস্থা না নিলে দেশের ফ্রিল্যান্সিং খাতে নেতিবাচক প্রভাব জোরালো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন: 

দ্বিতীয় বিপিও সম্মেলন জুলাইয়ে

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ২০১৬ সালের জুলাই মাসে হবে বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিংয়ের (বিপিও) দ্বিতীয় সম্মেলন। দেশে ২৮ ও ২৯ জুলাই দ্বিতীয়বারের মতো দুইদিনব্যাপী ওই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

গত ৯-১০ ডিসেম্বর প্রথমবারের মতো দেশে বিপিও সামিটের আয়োজন করেছিল সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কলসেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্য)।

সেই সম্মেলনের সফলতা তুলে ধরতে বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে আয়োজকরা।

BPO

সংবাদ সম্মেলনে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, হাইটেক পার্ক ও বিপিও খাতে ২০২১ সালের আগেই দেশে একলাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, প্রথম বিপিও সামিট উপলক্ষে আমরা ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাক্টিভেশন কার্যক্রম করেছি। সেখান থেকে প্রায় ১০ হাজার জনের সিভি সংগ্রহ করা হয়েছিল। যার মধ্যে ২৩৫ জনকে ইতোমধ্যে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অন্যদের পর্যায়ক্রমে নিয়োগ দেওয়া হবে।

বিশ্বে প্রায় ৫শ বিলিয়ন ডলারের বিপিও বাজার আছে জানিয়ে পলক বলেন, আমরা যেভাব বিপিও আউটসোর্সিংয়ে উন্নতি করছি তাতে ২০২১ সালের মধ্যে তিন বিলিয়ন ডলারের বাজার ধরতে পারবো। এই লক্ষ্যে দেশে ৫৫৪টি বিপিও সেন্টার স্থাপন করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বাক্য সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ হোসেন বলেন, সামিটের মাধ্যমে দেশি-বিদেশী বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের বিপিও খাতের অবস্থান সম্পর্কে একটা স্পষ্ট ধারণা দেওয়া হয়েছে। একই সাথে দেশর তরুণদেরও এই খাত সম্পর্কে আগ্রহী করে তোলার কাজ করেছি আমরা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাক্যের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওয়াহিদ শরীফ, আইসিটি বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদারসহ আরো অনেকে।

ইমরান হোসেন মিলন

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের নতুন সম্ভাবনার জানান দেবে বিপিও সামিট

বাংলাদেশের বিপিও শিল্পের সম্ভাবনা, সমস্যা, করণীয় ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ‘বিপিও সামিট-২০১৫’ এর গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেছেন প্রথম এই সামিটের অন্যতম আয়োজক বাক্য’র সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ হোসেন। সাক্ষাতকার নিয়েছেন আল-আমীন দেওয়ান।

বিপিও বা বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং। শিল্প হিসেবে বিশ্বব্যাপী যথেষ্ট সম্ভবনার। আগামী দিনের টেকসই শিল্পগুলোর মধ্যে বলতে গেলে উপরের দিকেই অবস্থান থাকবে বিপিও’র।  বাংলাদেশে এই খাতটি একেবারে নতুন না হলেও অনেকাংশেই নবীন।

এই বিপিও খাতটি নিয়ে দেশে প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হয়েছে আন্তর্জাতিক সামিট।  তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্য) সামিটের যৌথ আয়োজক।  ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ৯ ডিসেম্বর হতে দুই দিনের এই ‘বিপিও সামিট বাংলাদেশ-২০১৫’ ।

বাংলাদেশের বিপিও শিল্পের শুরু, বর্তমান অবস্থা, সম্ভাবনার ক্ষেত্র, সরকারের ভূমিকা, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজার, জনশক্তি ও শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে টেকশহরের সাথে খোলামেলা আলোচনা করেছেন এই খাতের অন্যতম উদ্যোক্তা, টেলিকম খাত বিশেষজ্ঞ ও বাক্য’র সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ হোসেন।

টেকশহর : বিপিও খাতে বাংলাদেশের শুরুটা কেমন ছিল?

তৌহিদ হোসেন : বাংলাদেশে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে মাত্র ২০০৮ সালের গোড়ার দিকে। ২০০৮ সালের মার্চে বিপিও খাতের জন্য লাইসেন্স দেয়া শুরু করে সরকার। তখন মাত্র পাঁচ হাজার টাকায় লাইসেন্স দেয়া হয়। তাতে করে যাকে বলে বলে সস্তার তিন অবস্থা হয়। ৪০০ এর বেশি প্রতিষ্ঠান বুঝে না বুঝেই লাইসেন্স নেয়। এদের বেশিরভাগই ভুল ধারণার বশবর্তী হয়ে লাইসেন্স নিয়ে কাজ শুরু করে। সেই সময়ে কাজে নামা ৪৫-৫০টি প্রতিষ্ঠানের ধারণা ছিল ব্যবসাটা খুব সহজ। কিন্তু তাতো একেবারেই নয়। এখানে অবকাঠামো থেকে অপারেশনস সব মিলিয়ে বিনিয়োগ যথেষ্টই। উদ্ভুত পরিস্থিতি তাদের কেবল ভুলই ভাঙায় না মোহভঙ্গও ঘটায়।

টেকশহর : বর্তমানে বিপিও খাতে কতদূর এগিয়েছে বাংলাদেশ?

তৌহিদ হোসেন : এখনও পর্যন্ত এর অগ্রগতিকে তুলনামূলকভাবে মন্থরই বলতে হবে। বস্তুত বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার মানসে নেয়া পদক্ষেপ এই শিল্পখাতের জন্য আশীর্বাদ হয়েছে। ফলে অল্প সময়েই আশাব্যঞ্জক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

মাত্র ৭০০ কর্মচারী নিয়ে শুরু করে বর্তমানে এই খাতে কর্মীসংখ্যা অন্তত ২৫ হাজার। শুরু হয়েছিল কল সেন্টার দিয়ে। আজ এই খাত আর সেখানে দাঁড়িয়ে নেই। বরং সেবায় বৈচিত্র এসেছে। প্রতিনিয়ত যোগ হচ্ছে নানা ধরণের আউটসোর্সিংয়ের কাজ। দেশে যেমন বাজার বিস্তার ঘটছে তেমনি আন্তর্জাতিক বাজারও বাড়ছে। বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ আকর্ষণীয় বিপিও গন্তব্য হিসাবে স্বীকৃত হতে শুরু করেছে। এই খাতের আর্ন্তজাতিক র‌্যাঙ্কিংয়ে ক্রমেই উপরের দিকে উঠে আসছে। বিশ্বের বিভিন্ন জরিপ প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশকে নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে চলেছে।

টেকশহর : বিপিও খাতে বাংলাদেশের সম্ভাবনার ক্ষেত্রগুলো কি কি?

তৌহিদ হোসেন : বাংলাদেশের অনেকগুলো বিশেষ ইতিবাচক দিক রয়েছে । এক. বর্তমানে বিশ্বের উদীয়মান বিপিও দেশগুলোর মধ্যে তুলনামূলকভাবে ব্যয় সাশ্রয়ী। দুই. এই খাতের চালিকাশক্তি তরুণ প্রজন্ম। বাংলাদেশে এখন তাদের সংখ্যা সাড়ে পাঁচ কোটি। তিন. সরকার এই শিল্পখাতকে অগ্রাধিকার তালিকায় রেখেছে। চার. টাইম জোনের দিক থেকে বাংলাদেশ ভৌগলিক অবস্থানভাবে সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে।

এখন প্রশ্ন হলো, এই সম্ভাবনা এবং সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে দেশি এবং বিদেশী ভোক্তাদের সেবা দেয়ার মতো অবকাঠামোগতভাবে (নেটওয়ার্ক, কানেকটিভিটি, লজিস্টিকস আর স্পেস) শক্তিশালী অবস্থানে আমরা আছি কিনা। কিংবা এই শিল্পখাত পরিচালনায় আমরা কতটা পারঙ্গম। এখন এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যৌক্তিক এবং বাস্তবিকভাবে পর্যালোচনার এখনই সঠিক সময়।

আগামী দশককে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে এগোতে পারলে আন্তর্জতিক বিপিও বাজারে বাংলাদেশ একটা অবস্থান করে নিতে পারবে। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আমাদের উপস্থিতি উল্লেখ করার মতো নয়। বিশ্বজুড়ে এখন ৫০ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি এই বাজারে আমাদের অংশীদারিত্ব মাত্র ০.০৪ শতাংশ। যেখানে ভারত আমাদের চেয়ে ১৮৫ আর ফিলিপাইন ১৬৫ গুণ এগিয়ে। শ্রীলঙ্কাও বেশ এগিয়ে আছে আমাদের থেকে। তাদের বার্ষিক টার্নওভার ২০০ কোটি ডলার। আমাদের আপাতত লক্ষ্য ২০২১ সালের মধ্যে ১০০ কোটির শিল্পখাত হিসাবে আত্মপ্রকাশ করা।

BACCO T

টেকশহর : ঠিক এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের করণীয় কি হওয়া উচিত বলে মনে করেন?

তৌহিদ হোসেন : আপাতত আমাদের করণীয় হবে- এক. নতুন নতুন উদ্ভাবন আর বেস্ট প্র্যাকটিসগুলোকে গ্রহণ করা, সঠিক মূল্যমান প্রস্তাবনা আর পরিবেশের নিশ্চয়তায় দেশি ও বিদেশী বিনিয়োগকারী এবং ভোক্তাদের আকৃষ্ট করা। ২. মধ্যম আয়ের ক্যারিয়ার হিসাবে এই খাতটি কতখানি উপযুক্ত সেটা স্পষ্ট করে তরুণদের বোঝানো এবং গণমাধ্যমের সহায়তায় এই খাত সম্পর্কে প্রচারণা চালানো। ৩. ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নে বিপিও কতটা কার্যকর আর উপযোগী হতে পারে সে বিষয়ে দেশজুড়ে সচেতনতা সৃষ্টি। এবং ৪. নানা উপলক্ষ্য আর উদযাপনের মধ্যে দিয়ে নিয়মিতভাবেই আমাদের বিপিও ইন্ডাস্ট্রির সাফল্যকে দেশে এবং বিদেশে তুলে ধরা। বিপিও মহাসম্মেলন এক্ষেত্রে একটা বড় প্ল্যাটফর্ম, সন্দেহ নেই।

টেকশহর : বিপিও খাতের উন্নয়নে সরকার কীভবে সহযোগিতা করতে পারে?

তৌহিদ হোসেন : বিপিও খাতের শীর্ষ উদ্যোক্তারা এর ভবিষ্যত বাজার বৃদ্ধির ব্যাপারে স্থির নিশ্চিত। তবে ভবিষ্যতের ব্যবসা পরিচালনা এবং তা থেকে সুফল তোলার জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিটি বিষয়কে নিশ্চিত করতে হবে সরকারকে। এখানে ঘুরেফিরে আবারও অবকাঠামোর কথা আসে। এটা গুছিয়ে দেয়ার দায়িত্ব অবশ্যই সরকারের। বিশ্বায়নের চলমান প্রক্রিয়ায় সরকারকে আরো সক্রিয় হয়ে আধুনিক মনোভাব নিয়ে দ্রুত এগোতে হবে। বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের অবকাঠামো, বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালাকে ভালো বলার আগেই তা নিশ্চিত করে রাখতে পারলে অর্ধেক কাজ হাসিল হয়ে যাবে বলেই মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। ঠিক এই কাজটা অন্যান্য দেশ করছে। ভারত আর ফিলিপাইনের কথা না হয় বাদই দেয়া গেল। এক্ষেত্রে বরং শ্রীলঙ্কা হতে পারে আমাদের জন্য যুতসই উদাহরণ।

তবে আশার কথা সরকার অবশ্য বাংলাদেশের বিপিও খাতের অগ্রযাত্রাকে নির্বিঘ্ন করার ব্যাপারে যথেষ্ট তৎপর। ইতোমধ্যে প্রাইভেট সেক্টর ডেভেলপমেন্ট সাপোর্ট প্রজেক্ট (পিএসডিএসপি)-এর আওতায় ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের কাছ থেকে স্পেসিফিক ইনভেস্টমেন্ট লোন (এসআইএল) নিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নের কাজ সরকার বেশ আগেই শুরু করে দিয়েছে। অত্যাধুনিক অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি, তথ্যপ্রযুক্তিগত সেবা ও হাইটেক ম্যানুফ্যাচারিংয়ে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি তৈরির পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ চলছে গৃহীত ঋণের অর্থে। অন্যদিকে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক অথরিটি (বিএইচটিপিএ) হাইটেক পার্ক ও দেশের বিভিন্ন স্থানে আইটি পার্ক গড়ে তোলার দায়িত্ব নিয়েছে। কালিয়াকৈরে ২৩২ একর জমিতে প্রথম হাইটেক পার্ক নির্মাণের কাজ চলছে। সেখানে যাতায়াতের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। ঢাকা থেকে কালিয়াকৈর ট্রেন লাইন হচ্ছে। পাশাপাশি কাওরান বাজারের জনতা টওয়ার, যশোর, সিলেট, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আইটি পার্ক গড়ে তুলবে সরকার। গত বছরের সেপ্টেম্বরে এসব পদক্ষেপ নেয়ার পর তা দ্রুত বাস্তবায়নের কাজ চলছে। বাজার উপযোগী এবং প্রস্তুত জনবল তৈরিও সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে। এজন্য বিভিন্ন ধরণের ট্রেনিং কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

সরকারের আরও দায়িত্ব রয়েছে। অবকাঠামো তৈরি করে দিয়ে যেমন এই খাতের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাজ তৃতীয়পক্ষ দিয়ে করিয়ে এই আউটসোর্সিং শিল্পখাতে অগ্রযাত্রায় সক্রিয় শরিক সরকার হতে পারে। জনগণকে উন্নত সেবা দেয়ার জন্য ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারণাকে বাস্তবসম্মত উপায়ে কাজে লাগাতে হলে সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাজকে তৃতীয়পক্ষকে দিয়ে করানো ছাড়া সত্যিই বিকল্প নেই। তাতে করে সময়, অর্থ দুটোই বাঁচবে, সিস্টেম লস হ্রাস পাবে।  সরকারের ভোক্তাসেবা আরও সহজ এবং অবাধ হওয়ার মধ্যে দিয়ে জনগণের হয়রানি কমবে। সাধারণ মানুষ খুশি থাকবে।

T-2

টেকশহর : বিপিও শিল্পের দেশীয় বাজার সম্পর্কে বলুন।

তৌহিদ হোসেন : বাস্তবতা বলছে সরকারের কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের কাজ দিয়েই অসংখ্য বিপিও প্রতিষ্ঠান দাঁড়িয়ে যেতে পারে। সত্যিই এই মুহুর্তে সরকারের প্রচুর কাজও রয়েছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের অভিমত, আগামী দশ বছরে অভ্যন্তরীন বিপিও বাজারে অন্তত ৬০ শতাংশ কাজ আসা উচিত সরকারের কাছ থেকে। সরকার ছাড়াও তো রয়েছে অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানসহ অন্যরা। তারপরও থেকে যায় বিদেশী বাজার। সেটা ধরার জন্য সরকারকে দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল স্থাপনের ব্যাপারে আরও সক্রিয় হতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারকেই যে এ কাজে হাত লাগাতে হবে তেমনটা মনে করেন না বিশেজ্ঞরা। বরং তারা মনে করছেন সরকারের উদ্যোগটাই মূল। যেকোনো আগ্রহী প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে কাজ করিয়ে নেয়া যেতে পারে। সেক্ষেত্রে তারা তাদের লাভ বুঝে নিলেও অবকঠামোটা আমাদেরই থেকে যাবে। অবাধ তথ্যপ্রবাহের উত্তরোত্তর সুবিধা আউটসোর্সিং খাতের উন্নয়ন এবং বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করবে।

এদিকে বলার অপেক্ষা রাখে না, বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ব ও বেসরকারি ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কোর ব্যাংকিংটা নিজেদের কাছে রেখে বেশিরভাগ কাজ তৃতীয়পক্ষকে দিয়ে করিয়ে নিতে। বাইরের দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এভাবেই তাদের অপারেশনস চালাচ্ছে। আসলে কার্যকর এই পদ্ধতি সেবার মান বাড়ায়। সেবা দ্রুততর হয়। ভোক্তা খুশি থাকে। পরিচালনা ব্যয় কমার ফলে মুনাফা বাড়ে। ফলে কম সুদে ঋণ সম্ভবপর হয়। অন্যদিকে ভোক্তাকে অধিক সুদ দিয়ে আরেকভাবে সন্তুষ্টও রাখা যায়।

এখনও পর্যন্ত যেসব খাত বিপিও সেবা গ্রহণ করেছে তার মধ্যে সর্বাগ্রে আছে টেলিকমিউনিকেশন। এছাড়া ট্র্যাভেল অ্যান্ড টুরিজম, মিডিয়া অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্ট, হেলথকেয়ার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, এনার্জি অ্যান্ড ইউলিটি, ইন্টারনেট সার্ভিব প্রভাইডার, ওয়েবপোর্টাল, সরকার, পরিবহন ইত্যাদি।

এসব খাতের মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নাম করা যেতেই পারে। যাদেরকে বাক্য এর সদস্যরা সফলভাবে সেবা দিয়েছে। এই তালিকায় আছে সবকটি মোবাইল ফোন অপারেটর- এয়ারটেল, বাংলালিংক, গ্রামীণফোন, রবি, সিটিসেল, টেলিটক, ব্রিটিশ অ্যামেরিকান টোবাকো, ইউনিলিভার, নেসলে, কিউবি, বিকাশ, বিক্রয় ডটকম, স্যামসাং, ইউএনডিপি, আইএফসি, প্রাণ, বিমান বাংলাদেশ, ট্রান্সকম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও আকিজ গ্রুপ।

car_bacco

টেকশহর : বিপিও শিল্পের উন্নয়নের সাথে শিক্ষা ব্যবস্থার ভূমিকা কেমন হওয়া উচিত?

তৌহিদ হোসেন : বর্তমানে বাংলাদেশে ৯৬টি (৩৪ সরকারি ও ৬২ বেসরকারি) বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতি বছর অন্তত দুই লাখ গ্রাজুয়েট বের হচ্ছে। এদের মধ্যে কম করে হলেও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে গ্রাজুয়েট এবং পোস্ট গ্রাজুয়েট হচ্ছে ১৫ হাজার। আর অন্তত হাজার পাঁচেক ছাত্র রয়েছেন যারা সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো বিশেষায়িত ডিগ্রি অর্জন করছেন। মোট গ্রাজুয়েটদের ৪৭ শতাংশই বিজ্ঞান, ডাক্তারি, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং কৃষিতে। বাংলাদেশের বেশিরভাগ ছেলেমেয়েরাই বাংলা মাধ্যমে পড়ে থাকে। ইংরেজি এদের দ্বিতীয় ভাষা। এরাই কিন্তু বাংলাদেশের বিপিও ইন্ডাস্ট্রির জন্য তৈরি জনশক্তি। এদেরকে কোয়ালিটি রিসোর্স হিসাবে গণ্য করা যেতে পারে।

আমাদের দেশে গতানুগতিক শিক্ষার প্রতি অদ্ভুত আকর্ষণ লক্ষ্য করা যায়। অথচ এদের একটা বড় অংশেরই শিক্ষাটা কোন কাজে আসে না। এমনকি যে খাত নিয়ে আমরা কথা বলছি, ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছি সেই খাতের জন্যও তারা সেই অর্থে উপযোগী নয়। বরং তাদেরকে পুনরায় দক্ষ করে তুলতে হবে নানান ক্যাপাসিটি বিল্ডিং ট্রেনিংয়ের মধ্য দিয়ে।

এই খাতের জন্য প্রয়োজন আসলে আইটি ও ম্যানেজমেন্ট স্কিল, ফাস্ট ট্র্যাক ফিউচার লিডারশিপ, সি লেভেল ম্যানেজমেন্ট ট্রেনিং (লোকাল ও ইন্টারন্যাশনাল)। এই বিষয়গুলোতে দক্ষ করে তোলা সম্ভব বৃত্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থায়। বর্তমানে সরকার দাতাসংস্থাদের অর্থায়নে বিশেষ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। সেখানে ৭টি অগ্রাধিকার খাতের মধ্যে রয়েছে আইটি এবং আইটিইএস। ৫০ লাখ মার্কিন ডলার ব্যয়ে ১৫ লাখ তরুণকে টপ আপ এবং ম্যানেজমেন্ট ট্রেনিং দেয়া হবে।

তবে এসবের প্রয়োজন হয় না যদি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের শিক্ষাক্রমে আইটি ও সফটস্কিলকে অন্তর্ভূক্ত করে। এই খাতের একটি স্তম্ভই হলো ট্রেনিং ইনস্টিটিউট। তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ এমন ট্রেনিং কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। বাক্য এটাকেই নীতিগতভাবে ট্রেনিং ইন্সটিটিউটের ফ্রেমওয়ার্ক হিসাবে গণ্য করছে। ভার্চুয়াল ট্রেনিং, প্র্যাকটিকাল ট্রেনিং, বিডিআইটি ইঞ্জিনিয়ার্স এগজামিনেশন (আইটইই) বা অন্যান্য দেশী ও বিদেশী সার্টিফিকেশন আর ট্রেনারদের ট্রেনিং দিতে হবে।

বাংলাদেশে বিপিও সেক্টরে যে ধরণের ওয়ার্কফোর্স প্রয়োজন তারা উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় শেষ করা বা গ্রাজুয়েট হলেই চলে। এই সংখ্যাটাই সবচেয়ে বেশি। অন্তত ৫০ শতাংশ। এর বাইরে এসএসসি, গ্রাজুয়েট, মাস্টার্স ডিগ্রি আর ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী মিলিয়ে বাকী ৫০ শতাংশ।

তবে বাংলাদেশে বেশ কিছু বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান তাদের কাজের বেলায় গ্রাজুয়েট বা ডিপ্লোমাধারীদের অগ্রাধিকার দেয়। অনেকে আবার টোফেল স্কোরকে বাধ্যতামূলক করেছে।

টেকশহর : আপনাকে ধন্যবাদ।

তৌহিদ হোসেন : টেকশহরকেও ধন্যবাদ।