একজন ব্লগারের যে তিন সুপারপাওয়ার থাকতে হবে

মোশাররফ রুবেল, অ্যাপ ডেভেলপার  অতিথি লেখক : একজন ভাল ব্লগার হতে হলে আপনার অবশ্যই গল্প বলার ক্ষমতা থাকতে হবে। ভালো গল্প বলার কৌশল আপনাকে ভালো ব্লগার হতে সাহায্য করবে।

প্রথমত, আপনাকে গল্প বলার কাঠামোর উপর মনোযোগী হতে হবে। কিভাবে একটা ভালো কাঠামোর মাধ্যমে গল্পটাকে এগিয়ে নেয়া যায় এবং আপনি তা দিয়ে একটা আকর্ষনীয় ব্লগ পোষ্ট তৈরি করতে পারেন।

যে তিনটি সুপারপাওয়ার একজন ব্লগারের থাকা দরকার ও আপনি তা কিভাবে আয়ত্ত করতে পারেন তা নিয়ে এ টিউটোরিয়াল।

সুপারসনিক হিয়ারিং
লেখকদের একটা অবিশ্বাস্য বিষয় আছে যা সত্যি অবাক করার মতো। আপনাকে অন্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। আড়িপাতার গুণ থাকলে সেটিও মাঝে মধ্যে কাজে লাগাতে হবে।

আপনি বিষয়টা নিয়ে জনপ্রিয় লেখকের সঙ্গে কথা বলে দেখতে পারেন। আমার মনে হয় তারা তা অকপটে স্বীকার করবে। যারা সত্যি ভালো লেখক তারা সব জায়গাতেই, যেমন-  বাসে, ট্রেনে, লঞ্চে ও ক্যাফেতে মানুষের আলোচনা মনোযোগ দিয়ে শোনেন।

এর কারণ সেখান থেকে গল্প ও ব্লগ লিখতে দারুণ সব আইডিয়া সংগ্রহ করেন তারা। লেখকদের অন্যের কথা বেশি বেশি শোনার ক্ষমতা থাকতে হবে। এতে নতুন আইডিয়া আসবে। চারিদিকে কি ঘটছে তারা তা জানতে পারবেন। অন্যেরক মনোজগতে কি চলছে তা বুঝতে পারবেন।

এটি আপনার জন্য কিভাবে কার্যকরি হবে
আপনাকে মনোযোগী শ্রোতা হতে হবে। দেখতে হবে যে আপনার আশেপাশের মানুষ কি বিষয় নিয়ে কথা বলে, তাদের কি ধরণের সমস্যা আছে। তারা সেটা নিয়ে কিভাবে ভাবছেন। তা থেকে আপনি আপনার কাঙ্খিত লেখার টপিক খুঁজে নিতে পারেন।

তাছাড়া আরও একটা বিষয় আপনাকে সাহায্য করতে পারে তা হলো আপনার আইডিয়াগুলো পিসিতে লিখে রাখতে পারেন। প্রতিদিন সেটা নিয়ে কাজ করতে পারেন এবং নতুন কিছু যোগ করতে পারেন।

blogger-techshohor

ব্যাটম্যান ভয়েস
আমাদের সকলেরই একটা ব্যাটম্যান ভয়েস আছে। আপনারও আছে। আজকে থেকে চেষ্টা করুন সেটাকে টেনে বের করে নিয়ে আসার।

একটা বিষয়ে বিশ্বে মিলিয়ন ব্লগ পোষ্ট আছে। তবে আপনি যখন সে বিষয় নিয়ে লিখবেন তখন সেটা আপনার নিজস্ব স্টাইলে লিখবেন। নতুন কিছু যোগ করবেন, আপনার মতামত তুলে ধরবেন যাতে সেটা কারো কপি না হয়ে যায়।

আপনি লিখবেন শুধু আপনার মতো করে, যা নিজস্ব স্টাইল তৈরি করতে সাহায্য করবে। এ গুণ আপনাকে অন্যদের থেকে আলাদা করবে।

এটি আপনার জন্য যেভাবে কার্যকরি হবে
নিজের মতামতকে প্রতিষ্ঠিত করার সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে লেখা। আপনাকে লেখার জন্য অনেক আন্তরিক হতে হবে। ভাবতে হবে এটার সঙ্গে অনেক বেশি সংযুক্ত হতে হবে। আপনি একটা ডায়েরি রাখতে পারেন যাতে প্রতিদিনের চিন্তাগুলো লিখে রাখতে পারেন।

চারপাশে ঘটে যাওয়া সব ঘটনা লিখে রাখা বা মনে রাখার দরকার নেই, তবে এর মধ্য থেকে দু’একটি ঘটনা নিয়ে লিখতে থাকুন। এভাবেই চর্চা চালিয়ে যান। এটা আপনার মধ্যে ভয়ংকর সুপারপাওয়ার তৈরি করবে।

সাহসিকতা
‘যে কোনো কিছু করা সম্ভব যদি আপনার পর্যাপ্ত নার্ভ থাকে’- জনপ্রিয় লেখক জে কে রাউলিংয়ের এ কথা একবারে বাস্তব। প্রত্যেক সফল ব্লগার ও লেখকের প্রচন্ড সাহসিকতা নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। হেরে যাবার ভয় থাকলে চলবে না।

আপনার সাহসিকতাই সাহায্য করবে ভালো কিছু লিখতে ও তা ব্লগ পোষ্টের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে।

ভালো ব্লগার হতে নিজের মধ্যেকার গুণতে নিজেই বাইরে নিয়ে আসার চেষ্টা করতে হবে। আপনার মধ্য থেকে আপনাকেই বের করে নিয়ে আসতে  হবে। প্রথমত, সবাই আপনার সাথে একমত নাও হতে পারে, কেউ কেউ এটাকে অপছন্দই করতে পারে। কিন্তু বিশ্বাস করুন এর মধ্য দিয়েও আপনি কিছু শিখতে পারবেন প্রতিমূহর্তে।

এটি আপনার জন্য যেভাবে কার্যকরি হবে
এখানে একমাত্র উপায় হচ্ছে সবকিছুর ভেতর দিয়ে লেখাটকে চালিয়ে যাওয়া। আপনি যদি সমালোচনার ভয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকেন তাহলে কখনও এগুতে পারবেন না। ধৈর্য নিয়ে লিখতে হবে। এর ফলস্বরূপ ভালো কিছু আপনি পাবেনই।

আরও ভালো হতে পারে আপনি যদি কমিনিউটিতে যেসব ভালো লেখক আছেন তাদের সঙ্গে গেটটুগেদার করেন ও আইডিয়া নেন।

একই সঙ্গে নিয়মিত হ্যাশট্যাগ চেক করুন। এ থেকে জানতে পারবেন চারিদিকে কি ঘটছে। ট্রেন্ডিং বিষয়গুলো কী। এগুলো থেকে আইডিয়া নেওয়ার চেষ্টা করুন।

rubel

আরও পড়ুন

অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ডেভেলপ শিখুন বিনামূল্যে

মোশাররফ রুবেল, অ্যাপ ডেভেলপার  অতিথি লেখক : সাম্প্রতিক ট্রেন্ডিং ক্যারিয়ারগুলোর মধ্যে গুগলের অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট অন্যতম। আপনি হয়ত অনেকবার ভেবেছেন এ কাজটি শিখবেন। সময় ও সুযোগের অভাবের পাশাপাশি পর্যাপ্ত রিসোর্স ও গাইডের অভাবে শুরু করা হয়নি। তবে আপনার এ হতাশা কাটবে ইউডেমিতে যোগ দিলে।

এটি এমন একটি প্লাটফর্ম যেখানে যুক্ত হয়ে অ্যাপ ডেভেলপের মতো জটিল কাজও আপনি সহজে ও একেবারে বিনামূল্যে শিখতে পারবেন। ইউডেমিতে সেরা ডেভেলপাররা যুক্ত হয়ে তৈরি করেছে চমৎকার অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট কোর্স।

ইতিমধ্যে প্রায় ৪৬ হাজার শিক্ষার্থী কোর্সটি থেকে শিখেছে অ্যাপ ডেভেলপের সবকিছুই। প্রায় সাড়ে ১২ ঘন্টার এ কোর্সে রয়েছে স্ক্যার্চ থেকে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট শেখার সব উপাদান। অর্থাৎ শুরু থেকে একজন ডেভেলপার হয়ে ওঠা পর্যন্ত সবকিছুই।

learn-android-development-techshohor

১২১ লেকচারের কোর্সটিকে সাজানো হয়েছে ১৫ সেকশনে। ১৫ বছরের বেশি অভিজ্ঞতার অ্যাডাম লুপু ও অ্যাডাম শোয়েম কোর্সটি তৈরি করেছেন বেশ গবেষণা করে।

অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ডেভেলপের জন্য সবচেয়ে দরকারি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ হচ্ছে জাভা। তাই কোর্সের প্রথম সেকশনে রয়েছে জাভার সম্পর্কে লেকচার। জাভা কি, জাভার সিম্বল, ম্যাথড, ডাটা টাইপ ভ্যারিয়েবল ইত্যাদি।

মেমরি ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রামিং বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। ভালো প্রোগ্রামার কিংবা ডেভেলপার হতে গেলে আপনাকে অবশ্যই এটা জানতে হবে। ব্যতিক্রমধর্মী এ কোর্সের দ্বিতীয় অধ্যায়ে তুলে ধরা হয়েছে বিষয়টি। কম্পিউটারের মেমরি সম্পর্কেও জানা যাবে এ সেকশনে।

অ্যারে, লিস্ট, ম্যাপ ইত্যাদি নিয়ে সাজানো হয়েছে তৃতীয় অধ্যায়। মূলত ডেটা স্ট্রাকচার সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারনা মিলবে এখানে।

learn-android-development-techshohor

ইফ এলস, ফর লুপ, ডু হোয়াইল, নেস্টেড লুপ, হোয়াইল, ব্রেক, সুইচ – খুব পরিচিত কী-ওয়ার্ড প্রোগ্রামাদের কাছে। যারা নতুন কোডিং শিখছেন তাদের জন্য এ কী-ওয়ার্ডগুলো অন্যরকম উত্তেজনা নিয়ে দেখা দেয়। এসব নিয়েই ধারণা দেয়া হয়েছে চতুর্থ অধ্যায়ে।

অবজেক্ট অরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং ও ডেটা ম্যানুপুলেশন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে কোর্সটির পরবর্তী দুই অধ্যায়ে।

সপ্তম অধ্যায়ে থাকবে এক্সএমএলের বেসিক সম্পর্কে ধারণা। এক্সএমএল কি, আপনার অ্যাপের ইউজারের সঙ্গে এক্সএমএলের সম্পর্ক জানা যাবে এখানে।

অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ডেভেলপের ক্ষেত্রে ইউজার ইন্টারফেস ডিজাইনের জন্য মূলত এক্সএমএল জানা প্রয়োজন।

অ্যান্ড্রয়েডের ইন্টেন্ট, অ্যাক্টিভিটি, অ্যাক্টিভিটির লাইফ সাইকেল ও অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম সম্পর্কে জানা যাবে আট নম্বর অধ্যায়ে। সাতটি লেকচারের সাহায্যে সাজানো হয়েছে এ অধ্যায়।

লিস্ট আইটেম কিভাবে দেখানো যাবে অ্যান্ড্রয়েডে? শুধু লিস্ট ভিউ, কাস্টম লিস্টভিউ, অ্যাডাপটর, কাস্টম অ্যাডাপটর নিয়েই সেকশন নয়।

learn-android-development-techshohor

পরবর্তী অধ্যায়গুলোতে দেখানো হবে ফ্র্যাগমেন্ট, ন্যাভিগেশ, শেয়ার্ড প্রেফারেন্স, নেটওয়ার্কিং, এপিআইসহ জেসন ডেটা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা।

১১৪ নম্বর লেকচার পর্যন্ত অ্যান্ড্রয়েডের এ মৌলিক বিষয়গুলো শেখানো হবে বিনামূল্যের এ কোর্সে।

কোর্সের শেষ দিকে ১৪ নম্বর অধ্যায়ে কিভাবে অ্যাপসস্টোরে অ্যাপ পাবলিশ করতে হবে তা নিয়ে জানানো ও শেখানো হবে শিক্ষার্থীদের।

অ্যামাজন স্টোরে কিভাবে ডেভেলপার অ্যাকাউন্ট করতে হবে ও অ্যাপ আপলোড করতে হবে সেটিও দেখানো হবে এ অধ্যায়ে।

চমৎকার এ কোর্সের শেষ অধ্যায় থেকে জানা যাবে নিজেকে অ্যান্ড্রয়েড ডেভেলপার হিসবে গড়ে তোলার পদক্ষেপগুলো।

সম্পূর্ন বিনামূল্যের কোর্সটিতে প্রবেশ করা যাবে ইউডেমির এ লিংক থেকে।

rubel

 

 

 

আরও পড়ুন

ব্লগে আকর্ষণীয় শিরোনাম লেখার ৯ টিপস

মোশাররফ রুবেল, অ্যাপ ডেভেলপার  অতিথি লেখক : একজন ব্লগার খুব ভালো ব্লগ লিখছেন। নিয়মিত সেটি আপলোডও করছেন। অনেকেই তার প্রশংসা করছেন। তবে খুব বেশি সংখ্যক পাঠকের কাছে তা পৌঁছাচ্ছে না। ব্লগের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে তা পাঠক পড়ছেন কিনা কিংবা সেটির র‍্যাংক।

ব্লগ তখনি মানুষ পড়বে ও ভাল র‍্যাংক করবে, যখন ব্লগের আর্টিকেলগুলোর শিরোনাম খুব আকর্ষণীয়ভাবে লেখা হবে। একটি চমৎকার শিরোনাম অনেক অচেনা পাঠককেও লেখার মধ্যে টেনে আনবে। এ কারণে দারুণ একটি শিরোনাম লেখার বেলায় অনেক কিছু খেয়াল রাখতে হয়।

শিরোনাম কত বড় হবে, কতগুলো শব্দ ব্যবহার করা যাবে, কোন শব্দগুলো পরিহার করতে হবে ও মূল বিষয়বস্তুর সঙ্গে সেটির মিল কতটুকু তা মাথায় রাখতে হবে। এসব বিষয় মেনে শিরোনাম লিখতে খুব সহজ একটা ফর্মুলা নিয়ে আলোচনা করব- যা আপনাদের আকর্ষণীয় শিরোনাম লিখতে সাহায্য করবে।

bloging-techshohor

কার্যকরি শিরোনাম দিয়ে শুরু করুন
একটা কার্যকরি শিরোনাম হবে একেবারে সুনির্দিষ্ট। এটি আপনাকে সাহায্য করবে একটি সিংগেল ব্লগ পোস্ট তৈরি করতে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, শিশুদের স্বাস্থ্যকরভাবে বেড়ে ওঠা বিষয়বস্তু থেকে আপনি অনেকগুলো কার্যকরি শিরোনাম তৈরি করতে পারেন। যেমন-

ক) কিভাবে সঠিক পুষ্টি আপনার শিশুর হাড়কে শক্তিশালী করে

খ) শিশুদের আচরণগত শিক্ষায় পিতা-মাতাদের করণীয়

গ) শিশুদের জন্য মজাদার রেসিপি

এখানে দেখুন, প্রতিটি শিরোনাম একটির থেকে অন্যটি ভিন্ন। অথচ মূল বিষয়বস্তু শিশুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রিক। এগুলোর প্রতিটি কার্যকরি শিরোনাম হতে পারে। এগুলো ব্লগ পোস্ট লেখার জন্য সুনির্দিষ্ট ও যথেষ্ট। পরে বিভিন্ন কৌশলের মাধ্যমে এগুলোকে ক্লিক ও সার্চফ্রেন্ডলি করে তুলতে হবে।

শিরোনামে বাহুল্য শব্দ ও বিশেষণ বাদ দিন
পরিমাণমত লেখা খুবই কঠিন হয়ে পড়ে, যখনই আপনি সেখানে কোনো চালাকি করার চেষ্টা করছেন। যদি কোনো আর্টিকেল এমনভাবে লেখা হয় যেটিতে বলা হচ্ছে, ১০টি বিটুবি কোম্পানি ফেইসবুকে এমন ভাইরাল হচ্ছে যে এগুলোর আলাদা কোনো মার্কেটিং চ্যানেল দরকার নেই। তাহলে অনেকেই এ লিংকে ক্লিক করবে।

তবে এর আগে আপনার অবশ্যই নিশ্চিত হতে হবে, খবরটি সত্য। চাইলে শিরোনামের পাশে ব্র্যাকেট ব্যবহার করতে পারেন ও তাতে কিছু শব্দ লিখতে পারেন যা মূল কনটেন্টকে রিফ্লেক্ট করে। যেমন ইনফোগ্রাফিক আর্টিকেলের জন্য টাইটের পাশে ব্র্যাকেটে ইনফোগ্রাফিক কথাটি ব্যবহার করা যায়।

bloging-techshohor

ছন্দ মিলিয়ে লিখুন

ব্লগ পোষ্টের টাইটেল ছন্দ মিলিয়ে লিখতে পারেন। ব্যাপারটি পাঠককে পড়তে উত্সাহিত করে।

শক্তিশালী ভাষা ব্যবহার করুন

ভালো প্রবাদ বা ফ্রেইজ ব্যবহার করুন।

ছবির মাধ্যমে স্পষ্ট করা আছে তা লিখুন

পোস্টে কোনো ছবি যুক্ত করা হলে তা আর্টিকেলটিকে ভিন্ন মাত্রা দেয়। ছবির মাধ্যম অনেক বেশি কথা প্রকাশ করা যায়। আর্টিকেলে ছবির গুরুত্ব বেশি হলে তাহলে কৌশলে শিরোনামে তুলে ধরুন।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, এ কৌশল ৩৭% বেশি কার্যকরি হয় অন্য যে কােনো শিরোনামের চেয়ে।

পাঠককে ধরে রাখতে ফোকাস করুন ‘কে’- এর উপর, ‘কেন’-এর উপর নয়। যেসব টাইটেলে ‘কে’ আছে সেগুলো ২২% বেশি কার্যকরি।

blogging-464042_960_720

শিরোনাম সংক্ষেপে লিখুন
পোস্টটাকে ভালো র‍্যাংকে রাখতে শিরোনামে ৭০ ক্যারেক্টারের বেশি লিখবেন না। এর বেশি লিখলে আপনার টাইটেল সার্চ ইঞ্জিন দ্বারা অনেকাংশ কাটা যাবে।

হাব স্পট গবেষণা অনুসারে, যেসব টাইটেল/হেডলাইন ৮-১২ শব্দের মধ্যে সেগুলো গড়পড়তা বেশি শেয়ার পেয়েছে টুইটারে। ফেইসবুকে যেসব হেডলাইন ১২-১৪ শব্দের তা সবচেয়ে বেশি লাইক পেয়েছে। তা ছাড়া, যেসব শিরোনামে আটটি শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে সেগুলো অন্যগুলোর তুলনায় ২১% কার্যকরি।

সার্চ ও সোশ্যাল মিডিয়ায় অপটিমাইজের চেষ্টা করুন
সবসময়ই আপনার শিরােনামকে অপটিমাইজ করতে চেষ্টা করবেন। এটাই স্বাভাবিক। তবে একই সঙ্গে যদি সার্চকে অপটিমাইজ করতে চেষ্টা চালান তাহলে সেটা আরও ভালো হবে।

এ ক্ষেত্রে আপনি ওই কিওয়ার্ডগুলোকে ফোকাস করার চেষ্টা করুন, যেগুলো মানুষ হরহামেশা সার্চ করে। কিওয়ার্ডের জন্য সার্চ ভলিউমের সাহায্য নিতে পারেন।

ব্রেইনস্ট্রোম করুন
উপরের টিপসগুলো অনুসরন করে বিষয়বস্তু অনুযায়ী কম শব্দে দারুণ একটি হেডলাইন লেখার চেষ্টা করুন। হুট করে কিছু মনে আসলো আর লিখে অনলাইনে পাবলিশ করে দিলেন- সেটা ভালো কাজের উদাহরণ নয়। শিরোনাম লিখতে একটু মাথা খাটান।

ফাইনাল পাবলিশ দেওয়া আগে ব্রেনস্ট্রোমিং করেন। একই শিরোনামে বিভিন্ন শব্দ যোগ করে, ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখেন কোনটি ভালো শোনায় ও দেখায়। সঠিক কি ওয়ার্ড কোনটিতে বেশি আছে সেটিকে বাছাই করার চেষ্টা করেন।

অন্যদের সঙ্গে আলোচনা করুন
প্রয়োজেন শিরোনাম চূড়ান্ত হলে পাশের সহকর্মীর সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন। তার মতামত নিতে পারেন। অনলাইনে থাকা আপনার বন্ধুর সঙ্গে কথা বলতে পারেন। কাজের জন্য অনলাইনে গড়ে তোলা সিক্রেট গ্রুপেও এক দফায় আলোচনা সেরে নিতে পারেন। সবার পরামর্শে দারুণ একটি শিরোনাম তৈরি হবে যা ব্লগে ব্যাপক হিট হবে।

rubel

আরও পড়ুন

ব্লগিংয়ে ব্যর্থ হওয়ার ৫ কারণ

মোশাররফ রুবেল, অ্যাপ ডেভেলপার  অতিথি লেখক : অনেক আশা ও উত্তেজনা নিয়ে শুরু করেছেন ব্লগিং। অন্যরা এ কাজ থেকে অনেক আয় করছে সে অনুপ্রেরণায় আপনিও নাম লিখিয়েছেন ব্লগার হিসেবে। প্রথম দিকে নবীন এসব ব্লগার যতটা উদ্যোমী থাকেন পরে নানা কারণে তাতে ভাটা পড়ে।

নবীনরা যখন ব্লগিং সাইট খোলার সিদ্বান্ত নেয়, তখন নানা রকম জড়তা তাদের আকড়ে ধরে। যার কারণে তারা সফল হতে পারে না কিংবা অনেকে এ কাজে ইস্তফা দেন। এক গবেষণায় দেখা গেছে, বেশিরভাগ ব্লগই শুরুর চার মাসের মাথায় বন্ধ হয়ে যায়।

বিশ্বে প্রতিদিন ১ লাখ ৭২ হাজারের বেশি ব্লগ সাইট খোলা হয়। তাহলে এত ব্লগ ঝরে পড়ে কেন- তার কিছু কারণ নিয়ে আজকের টিউটোরিয়াল।

blog-laptop-techshohor

কঠোর পরিশ্রম করার ভয়
ব্লগিং করাটা প্রচুর পরিশ্রমের কাজ। এখানে ভালো কিছু করতে হলে আপনাকে অবিশ্বাস্যভাবে পরিশ্রম করতে হবে। প্রথমে অনেক সময় ব্যয় হবে কনটেন্ট তৈরি ও প্রমোশনের কাজে।

আপনি যদি ব্লগটাকে একটা ভাল পর্যায়ে দাঁড় করাতে চান তাহলে এসইও নিয়ে কাজ করতে হবে। অন্যান্য ব্লগারদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতে হবে ও অবশ্যই ভালো পোষ্ট লিখতে হবে। প্রথমে যখন অনেকে ব্লগিং শুরু করেন, তখন তারা ভাবেন যে এটা ডালভাতের মতো ব্যাপার। তবে কিছু সময় যাওয়ার পর রেসপন্স কমে গেলে তারা বোঝেন বিষয়টি মোটেও সহজ নয়। তখন অনেকেই ভয় পেয়ে তা ছেড়ে দেয়।

যারা কম পরিশ্রমে বেশি ফল আশা করেন তারা সাধারণত সহজ ও ফানি কাজ খুঁজে থাকেন। তবে সফল ব্যক্তিরা হন এর উল্টো। তারা চ্যালেঞ্জিং কাজ খোঁজেন, নিয়ম মেনে যথাসময়ে তাদের কাজ শেষ করেন এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তাদের কাক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছেন।

ব্লগিংয়ের জন্য কিছু সংখ্যক ভালো আইডিয়া জেনেরেটের মাধ্যমে আপনি সবসময় ফোকাসড থাকতে পারেন। মাঝেমধ্যে অন্যান্য স্থানীয় ব্লগারদের সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন। তাদের নিয়ে একটি মাস্টারমাইন্ড গ্রুপ তৈরি করতে পারেন।  সমমনা ব্যক্তিদের সাথে বেষ্টিত থাকাটা আপনার অনেক কাজে আসবে।

আপনাকে অবশ্যই আপনার ব্লগের সফলতার প্রতি কমিটেড হতে হবে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণের মাধ্যমে আপানার কাজ শেষ করতে হবে। নিয়ম মেনে এ কাজগুলো করতে থাকলে ব্লগিংকে খুব বেশি কঠিন মনে হবে না। আর সাফল্য ধরা দিতে থাকলে তখন এতটুকু পরিশ্রমকে কিছুই মনে হবে না, কেননা দীর্ঘমেয়াদীতে ব্লগিং অনেক ভালো কিছু দিয়ে থাকে।

তীব্র প্রতিযোগিতার ভয়
অনেকে ব্লগিংয়ের শুরুতে চিন্তা করেন, তারা যা লিখছেন পাঠক সহজেই তা খুঁজে পেয়ে যাবেন । কিছু দিন পরেই অবশ্য তাদের এ ভুল ভেঙ্গে যায়। তারা বোঝেন তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে পাঠক তাদের সহজেই খুঁজে পান না।

প্রতিযোগিতার মধ্যে খেই হারিয়ে নবীন ব্লগাররা ভয় পেয়ে যান এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা ছেড়ে দেন। এদের অনেকের জানা নেই বর্তমানে যারা প্রভাবশালী ব্লগার এদের অনেকেই বছরের পর বছর সময় ব্যয় করেছেন শুধু বিশাল আকারের পাঠক শ্রেণী তৈরির পেছনে। সে সময়টা নবীনদের কাছে রীতিমত ভীতিকর কিছু হতে পারে।

নবীনদের মধ্যে এমন ভাবনা তৈরি হতে হবে তারাও প্রতিযোগিতায় ভালো করতে পারবেন। বর্তমানে যেসব কনটেন্ট আছে ও প্রমোশন কৌশল রয়েছে সেগুলোর চেয়ে তিনি ভালো কিছু করতে পারবেন।

সফল ব্লগাররা জানেন তার যথেষ্ট ভালো মান আছে পাঠকদের নতুন কিছু দেওয়ার মতো। যতই প্রতিযোগিতা থাকুক না কেন, তারা ঠিকই পাঠক তৈরি করার কৌশল বের করে নেন।

ব্লগে সেল করার ভয়
অনেক ব্লগারই মনে করেন আর্টকেলের সঙ্গে কিছু বিজ্ঞাপন ও অ্যাফিলিয়েট লিংক দিলে তিনি অর্থ উপার্জন  করতে পারবেন। এ প্রক্রিয়া যখন কাজ করে, তখন এটা প্রচুর ট্রাফিক নিয়ে আসে।

তাই আপনিও পণ্য, সেবা বা  নিজস্ব কোর্স বিক্রি করতে পারেন পাঠকদের কাছে। তখন আপনার অডিয়েন্স অনেক কম থাকলেও এটি আপনার ব্লগকে মনেটাইজ করার একটি কার্যকর উপায়।

আপনার মধ্যে সৃষ্টিশীল মানসিকতা তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে বিনামূল্যে অনেক তথ্য দেওয়ার মত চিন্তা থাকতে হবে। তথ্য বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করার আইডিয়াটা আপানার কাছে ‘অস্বাভাবিক’ মনে হতে পারে।

তবে তথ্য বিক্রি করার দক্ষতা ব্লগিং থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে এ দক্ষতা আপনাকে শিখতে হবে। আর হ্যাঁ, আপনাকে বুঝতে হবে, কোন তথ্য পাঠকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ এবং তারা কখনও কখনও তা কিনতে চাইতে পারে।

Girl-Blogger-techshohor

পরিবর্তনের ভয়
কিছু মানুষ আছে যারা পরিবর্তনকে ভয় পায়। একজন সফল ব্লগার হতে হলে আপনাকে পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলানোর জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। ঘন ঘন পরিকল্পনা ও কনটেন্ট বদল করতে হলে অনেকে ভেবে থাকেন লেখার মান ঠিক রাখা যাবে না। পাঠকদের খুশি রাখতে পারবেন না বলেও অনেকের মধ্যে আশংকা থাকে।

এ ক্ষেত্রে একজন সফল ব্লগার হতে আপনাকে অবশ্যই আপনার মূল বৈশিষ্ট্য ঠিক রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে, অতীতে যেভাবে আপনি খাপ খাইয়ে নিয়েছেন ভবিষ্যতেও সেভাবে করবেন।

ব্যর্থ হওয়ার ভয়
যখন কেউ ব্লগিং শুরু করে, তখন তার সবচেয়ে বেশি ভয় থাকে ব্যর্থ হওয়ার। খুবই প্রচলিত একটি প্রবাদ আছে, ব্যর্থতাই সফলতার চাবিকাঠি। তাই ব্যর্থ হওয়ার ভয় পাবেন না। কারণ ব্যর্থতাও ক্ষণস্থায়ী।

বারবার চেষ্টার পর দেখবেন আপনার ব্যর্থতা থেকেই দারুণ কিছু তৈরি হয়েছে। ওই অভিজ্ঞতা আপনাকে সফলতার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাবে।

rubel

 

 

 

আরও পড়ুন

ব্লগ লেখায় অমনোযোগী : জেনে নিন ৫ টিপস

মোশাররফ রুবেল, অ্যাপ ডেভেলপার  অতিথি লেখক : কথায় আছে, সহজ কথা যায় না বলা সহজে। একটা ভালো লেখা পড়তে যতটা সহজ ও সুখপাঠ্য মনে হয়, লেখালেখিটা তেমন সহজ নয়। আনন্দের সঙ্গে লেখালেখি করতে পারলেই শুধু এটা সম্ভব। কেননা লেখার মধ্যে সুখ খুঁজে না পেলে বুঝতে হবে অমনোযোগিতা তৈরি হয়েছে। তখন লেখালেখি করা আরও কঠিন হয়ে যায়।

অনলাইনে লেখালেখির সময় অনেক কিছু আপনার মনোযোগ কেড়ে নিতে পারে, যেমন -ফেইসবুক নোটিফিকেশন, ই-মেইল ইত্যাদি। আপনি হয়তো বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছেন সমস্যাটা দূর করার জন্য।

এর সঙ্গে যোগ করে নিন কারিগরি দিক বিবেচনায় এ টিউটোরিয়ালের কিছু টিপস। এগুলো আপনাকে সহায়তা করবে। তবে হ্যাঁ, আপনাকে বলে রাখি লেখালেখিতে মনোযোগ ধরে রাখার মূল বিষয় হলো আনন্দের সঙ্গে কাজটি করা ও লেখালেখিটাকে প্রচন্ডভাবে ভালবাসা।

blogging-336376_1280

নিজের ওয়ার্ডপ্রেস সাইটে লিখুন ব্লগওয়ার্ডপ্রেস ডিসট্রাকশন ফ্রি লেখার মোড ব্যবহার করুণ নিয়মিত। কেননা লেখালেখিতে অনেক বেশি মনোযোগ দিতে হয়। অথচ আপনি যখন ওয়ার্ডপ্রেসে লিখছেন, তখন সাইডবারের লেখা/অপশনগুলো আপনার মনোযোগ বিচ্যুত করতে পারে।

লেখার জন্য ওয়ার্ডপ্রেসে জায়গা থাকে অল্প একটু, বাকি জায়গায় অন্য অপশনে ভরপুর থাকে। তাই আপনাকে ডিসট্রাকশন ফ্রি লেখায় সাহায্য করতে ওয়ার্ডপ্রেস নতুন ভার্সনে ডিসট্রাকশন ফ্রি লেখার মোড অপশনটি নিয়ে এসেছে।

এ অপশনে আপনি শুধু একটি ডিসট্রাকশন ফ্রি ইন্টারফেস পাবেন, সেখানে শুধু আপনি কার্সর ছাড়া বাকি সব পরিষ্কার দেখতে পাবেন। কার্সরকে যদি একটু নাড়াছাড়া করেন তাহলে একটা ছোট টুলবার দেখতে পাবেন, যেখানে কিছু বাটন আছে।

হ্যাঁ, আপনি হয়তো ভাবছেন সাইডবার দেখতে না পওয়ায় এডিট করার অপশনটা হারিয়ে ফেলছেন, কিন্তু না আপনি এ অপশন থেকেই লেখা এডিট করতে পারবেন। তবে বেশিরভাগ ভালো লেখকরা বলে থাকেন- লেখার সময় এডিট না করাই ভালো। কারণ, তা ভালো লেখার ধারাকে নষ্ট করে।

আরও মনোযোগী হয়ে লিখতে মাল্টি-ট্যাব ব্রাউজিংকে বন্ধ রাখুন। আপনি যখন অনলাইনে থাকায় অবস্থায় ব্লগ পোষ্ট লিখছেন, তখন অনলাইনের অন্যান্য কার্যক্রম অনেক বেশি সময় নিয়ে। এটি লেখার মাঝে বিরতি তৈরি করছে।

আপনি বারবার করে সোস্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলো চেক করছেন, যা আপনার লেখায় মারাত্নক ক্ষতি করছে। তাই, খুব বেশি ভালো হয় আপনি লেখার সময় যদি ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রাখেন।

bloger-women-techshohor

এমন পরিস্থিতিতে লেখার সময় আপনার টিউটোরিয়াল পোষ্ট দেখার প্রয়োজন হলে ইন্টারনেট ছাড়া অন্য উপায় বের করতে হবে। এ পদক্ষেপ আপনাকে ইন্টারনেট ব্যবহার থেকে দূরে রাখবে।

এমন ক্ষেত্রে আপনি কন্ট্রোলড মাল্টি-ট্যাব ব্রাউজিং ক্রোম এক্সটেনশন ব্যবহার করতে পারেন। যারা ফায়ারফক্স ব্যবহার করেন তারা উইন্ডো অ্যান্ড ট্যাব লিমিটার এডঅন ব্যবহার করতে পারেন।

আপনি লিখতে বসা মাত্রই ঠিক করে ফেলুন, আপনার লিখতে কয়টা ট্যাব লাগবে। তারপর শুধু তাই খুলুন।

নির্বিঘ্নে লেখালেখির জন্য করতে পারেন টাইম সেট। আপনি যখন কোনো কাজের জন্য নির্দিষ্ট সময় সেট করে নেবেন, তখন তা এক্সট্রা মটিভিশিন হিসাবে কাজ করবে । আপনি তখন সময়মত শেষ কাজটা শেষ করে ফেলতে পারবেন ।

কারণ, লেখার জন্য সময় সেট করে নিলে আপনি শুধু তখন লেখার কাজই করবেন। অন্যদিকে মনযোগ কম যাবে।

ধরুন, আপনি একটি লেখার জন্য ২৫ মিনিট ঠিক করে নিলেন। এ সময়ে তা হয়ে গেলে পরের ৫ মিনিট ব্রেক নিয়ে আরেকটি লেখা শুরু করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে, ফোকাস বুষ্টার টাইমার সফটওয়্যারটা আপনাকে সাহায্য করতে পারে। এটার অনলাইন ও অফলাইন দুই ভার্সনই আছে।

rubel

আরও পড়ুন: 

প্লেস্টোর থেকে ডেভেলপাররা আয় করেন যেভাবে

মোশাররফ রুবেল, অ্যাপ ডেভেলপার  অতিথি লেখক : বিশ্বজুড়ে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা ব্যবহার করছেন গুগল প্লেস্টোরের বিভিন্ন অ্যাপ। প্রতিনিয়ত এসব অ্যাপ ডেভেলপ করছেন বিভিন্ন কোম্পানি ও ফ্রিল্যান্স ডেভেলপাররা। তারা প্লে স্টোরে অ্যাপ আপলোড করে কিভাবে আয় করেন তা নিয়ে অনেকের কৌতুহল।

ডেভেলপার হিসেবে যারা কাজ করতে আগ্রহী তারাও জানতে চান কিভাবে আয় আসে প্লে স্টোর থেকে।

এ ক্ষেত্রে ডেভেলপারদের আয়ের অনেক পন্থা হয়েছে। একটি মার্চেন্ট খোলার মাধ্যমে তারা নিজেদের অ্যাপ থেকে আয় করতে পারেন।

আরও পড়ুন : অ্যাপ থেকে আয় আসে যেভাবে

playstore-techshohor

ফ্রি অ্যাপ মনেটাইজেশন
ব্যবহারকারীরা সবসময় ফ্রি অ্যাপ পেতে পছন্দ করেন। তাই প্লে স্টোর তাদের ফ্রি অ্যাপ দিয়ে তা মনেটাইজেশন করার সুযোগ দিয়েছে ইন অ্যাপ বিলিং ব্যবহারের মাধ্যমে। এ সুবিধা ব্যবহার করে ডিজিটাল পণ্য বিক্রি করা যাবে।

ক) ডিউরেবল ( Durable ) – একবার কিনে ফেলার পর ওই ফিচার ব্যবহারকারীর কাছে সবসময় থাকবে।   যেমন- অ্যাপের কোনো এডিশনাল ফিচার।

1

খ) কনজিউমেবল ( Consumable ) – কোনো আইটেম কেনার পর প্রোগ্রেসিভলি ব্যবহার করা যাবে কিংবা তা এক্সপায়ার হয়ে যাবে কিছু সময় পর। যেমন- কিনে নেওয়া কোনো গেম বুস্টার।

প্রিমিয়াম
এ পদ্ধতিতে একজন ডেভেলপার ব্যবহারকারীর কাছে সম্পূর্ণ অ্যাপটি বিক্রি করতে পারবেন। ডাউনলোডের সময় ইউজারকে নির্দিষ্ট পরিমান পে করতে হবে। তারপর থাকছে ইন অ্যাপ বিলিং- যার মাধ্যমে অ্যাপের মধ্যে ফিচার, কনটেন্ট বিক্রি করার বিশেষ সুবিধা রয়েছে।

সাবস্ক্রিপশন
সাবস্ক্রিপশন এমন একটি পদ্ধতি যার সাহায্যে ডেভেলপারের জন্য চলমান আয়ের একটি সুযোগ তৈরি হয়। সাবস্ক্রিপশন ব্যাপারটা অনেকটা উপরে বর্ণিত ডিজিটাল ফিচার বা কন্টেন্ট বিক্রির মতো।

তবে এ ক্ষেত্রে মাস কিংবা বার্ষিকভিত্তিতে পেমেন্ট নেওয়া যাবে ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে। ডেভেলপার যদি অ্যাপে সাবস্ক্রিপশন ফিচার সেট করে থাকেন তাহলে পেমেন্ট ও চেকআউটের মতো বিষয়গুলো গুগল প্লে হ্যান্ডেল করে থাকে খুবই স্মার্টলি।

2

অ্যাডমব অ্যাড
গুগলের আরেকটি সেবা হচ্ছে অ্যাডমব, যা মোবাইল অ্যাপ মনেটাইজেশনের জন্য দারুণ জনপ্রিয়। এ ক্ষেত্রে অ্যাপটি ফ্রি হলেও এর মধ্যে অ্যাডমবের বিভিন্ন সাইজের বিজ্ঞাপন থাকে।

ব্যবহারকারীরা এসব অ্যাপ দেখলে কিংবা ক্লিক করলে সেটির ভিত্তিতে অ্যাডমব ডেভেলপারকে পে করে থাকে। মাসে ১০০ ডলারের উপর আয় করলে গুগল থেকে পরের মাসে তা ডেভেলপারের অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেয় গুগল।

ই-কমার্স
এ সেবা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ডেভেলপারদের জন্য। এটি অ্যান্ড্রয়েড পে-এর সাহায্যে বিভিন্ন পণ্য যেমন ঘড়ি, টিভি ইত্যাদি বিক্রির সুবিধা দিচ্ছে। ব্যবহারকারী ডেবিট কার্ড বা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে কেনার সুযোগ পাবেন এ ফিচার ব্যবহার করে।

এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে এটি ব্যবহারকারীদের কেনাকাটা অনেক সহজ করে দেয় ।খুব কম ডেটা ব্যবহার করে পণ্য কেনার অর্থ পরিশোধের সুযোগ করে দেয়। একইভাবে ডেভেলপারদেরও রাজস্ব আয়ের পথও মৃসন করেছে।

আরও পড়ুন

এসইওতে ক্ষমা নেই যে ৪ ভুলের

মোশাররফ রুবেল, অ্যাপ ডেভেলপার  অতিথি লেখক : অনেক ওয়েবসাইটের স্বত্বাধিকারী গুগলে উপরের দিকে র‍্যাংক করতে চান। এ জন্য তারা বেশ বেশ কাজও করেন। এ ক্ষেত্রে কেউ কেউ খুব বেশি টেকনিক ফলো করেন। এতে হিতে বিপরীত ফল হয়। ভালো র‍্যাংক তো করতেই পারেন না বরং অনেক নিচে পড়ে যান।

এমন পরিস্থিতিতে কিভাবে সঠিকভাবে এসইও করতে হয় তা জানা থাকা দরকার। বিশেষ করে কোন ভুলগুলো একদম করা যাবে না সেগুলোর জ্ঞান থাকতে হবে।

আজকের টিউটোরিয়ালে অতিরিক্ত এসইও কমানোর উপায় ও সবচেয়ে বেশি চারটি ভুল কিভাবে পরিহার করবেন তা নিয়ে আলোচনা করা হলো।

আরও পড়ুন : প্রযুক্তির শীর্ষ ১০ চাকরি

shutterstock_145549093

টাইটেল পেইজে বেশি কিওয়ার্ড ব্যবহার না করা
গুগল প্রতিটা পেইজের টাইটেল দেখে ভেতরের বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করে। তাই কিভাবে র‍্যাংক করা হবে সেটিতে টাইটেলের অনেক বড় একটা ভূমিকা থাকে।

আপনি খুব বেশি জনপ্রিয় না হলে টাইটেল পেজ আপনার কোড হিসাবে কাজ করবে। আসলে এটাকে ওয়েবপেইজে দেখা যায় না; কিন্তু আপনি যদি একটা ব্রাউজার খোলেন তাহলে উপরের দিকে বামপাশে আপনি টাইটেলটাকে দেখতে পাবেন।

টাইটেলে অনেক বেশি কিওয়ার্ড থাকলে বেশিরভাগ সময় গুগলের টাইটেল অনুমান করতে অসুবিধা হয় । অনেকে কিওয়ার্ডগুলোকে বারবার তাদের টাইটেলে ব্যবহার করে থাকেন। এতে কাঙ্খিত র‍্যাংকিং থেকে বঞ্চিত হন তারা।

এক সময় টাইটেলে প্রচুর কিওয়ার্ড ব্যবহার পেইজকে অনেক উপরের র‍্যাংকে নিয়ে যেত; কিন্তু বর্তমানে এটি আপনার জন্য উল্টাে হওয়ার আশঙ্কাই বেশি।

টাইটেলে কিওয়ার্ড ব্যবহার করা খুবই জরুর বিষয়। তবে আপনি যদি একই ওয়ার্ড বারবার করে ব্যবহার করেন তাহলে সেটা আপনার পেইজ র‍্যাংকিংকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। কেননা গুগল একই শব্দের ব্যবহারকে অপ্রয়োজনীয় বলে মনে করবে।

মানুষ যখন সার্চ করবে তখন আপনার টাইটেলটাই নীল আন্ডারলাইন আকারে দেখাবে। কিন্তু সেখানে যদি বেশি ওয়ার্ডে ভরপুর থাকে তাহলে তা স্প্যামের মতো দেখাবে।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, যদি কোনো লিংক কনফিউজিং মনে হয়- তাহলে আমি সেটা পরিহার করি।

ওয়েব পেইজ কপিতে কিওয়ার্ড কপিং ফোর্স করা
আগের পয়েন্টে বলেছিলাম টাইটেলে অতিমাত্রায় কিওয়ার্ড ব্যবহারের কথা। সেটির অনেক নেতিবাচক দিক থাকলেও আপনি কোনমতে বেঁচে যেতে পারেন। কারণ ভিজিটর যখন ওয়েবসাইটে থাকেন, তখন তিনি বিষয়টা খুব একটা খেয়াল করে না।

তবে আপনি যদি প্রত্যক্ষভাবে কিওয়ার্ডগুলো ওয়েবপেজে লিখে দেন, তাহলে তা খুব বেশি চোখে পড়ে। পেইজে অতিমাত্রায় কিওয়ার্ড দেওয়া থাকলে আপনার ভিজিটর সেগুলো পড়তে থাকবেন। এতে মূল বিষয়টি দূরে সরে যাবে।  

অন্যদিকে লেখাগুলো স্প্যামের মতো দেখাবে, যা হবে খুবই বিরক্তিকর ও বিভ্রান্তিকর। এ ছোট বিষয়গুলো আপনাকে মার্কেটিংয়ের মূল লক্ষ্যে পোঁছাতে বিরত রাখবে।   

আসলে এসইসিওর সর্বোচ্চ লক্ষ্য কি? শুধু র‍্যাংকিংয়ে উপরে থাকা নয়। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে কনটেন্ট সর্ম্পকে মানুষকে জানানো ও বিক্রি বাড়ানো। অথচ আপনার ওয়েবসাইটে যদি কনটেন্ট স্প্যামিংয়ের মতো দেখায় তাহলে তা দু:খজনক হবে।

তা ছাড়া অতিমাত্রায় কিওয়ার্ড ওয়েবপেজে ব্যবহারের কারণে গুগল তা স্প্যামিংয়ের মতো ভাববে। এটি এসইসিওকে মারাত্নকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তাই এদিকে খেয়াল রাখতে হবে ও অতিমাত্রায় কিওয়ার্ড এড়িয়ে যেতে হবে।

কাছাকাছি কোনো ডুপ্লিকেট পেইজ তৈরি না করা
এ বিষয়কে একটা উদাহরণ দিতে স্পষ্ট করা যেতে পারে। ধরুন, আপনি একজন দাঁতের চিকিৎসক। আপনি একটা পেইজ খুলেছেন ‘ঢাকা সিটি ডেন্টিস্ট’ নামে। সেজন্য আপনি এর আশেপাশের পেইজগুলো ব্যবহার করেছেন।

এরপর আপনি কাছাকাছি নামে আরেকটা পেইজ খুললেন আরও বাড়তি ভিজিটর পাবার আশায়। সেটা হতে পারে ‘ধানমন্ডি সিটি ডেন্টিস্ট’ নামে। এখানেও আপনি আগের পেইজগুলো ও কনটেন্ট ব্যবহার করেলেন।

এ প্রসেস আপনাকে অতীতে এসইসিও র‍্যাংকিংয়ে উপরে থাকতে সাহায্য করলেও এখন সময় বদলেছে। এ কৌশলে আজকের দিনে কাজ হওয়ার সম্ভবনা কম।

কেননা বর্তমানে গুগল খুব বেশি স্মার্ট ও তাদের সক্ষমতা খুব বেশি বেড়েছে। সার্চ জায়ান্টটির ইঞ্জিন সহজেই সনাক্ত করতে পারে কোনটা সিনোনিমস ও একই সার্চ কনটেন্ট। এ কারণে আপনার একই বিষয়ে দুটি পেইজ দরকার নেই।

সার্চে সময় গুগল বুঝতে পারে, দুটি পেইজের সার্চ একই। এক্ষেত্রে একই সার্চ ফলাফল দেখায়। সুতরাং দুটি পেইজ তৈরি না করে আপনার সেরা কিওয়ার্ড ও পেইজগুলো দিয়ে খুব ভাল একটা পেইজ তৈরি করতে পারেন।

 SEO Concepts-techshohor

অতিমাত্রায় অপটিমাইজেশন অ্যাংকর টেক্সট ব্যবহার না করা
যখন থেকে আপনার ওয়েবসাইটটি এসইসিওতে আসতে শুরু করেছে, তখন থেকে ওয়েবসাইট ‘অথর প্যানেল’ (author pannel)  গঠন করতে হবে। অথর প্যানেলের কাজ হবে অন্য ওয়েবসাইটের লিংকগুলোর গুণগত ও পরিমানগত মান যাচাই করা, যেগুলো আপনার ওয়েবসাইটের সাথে সংযুক্ত থাকবে।

অন্য ওয়েবসাইটের লিংককে আপনার অনুকূলে ভোট হিসাবে ভাবতে পারেন।

অন্য সাইটের লিংক যেটা আপনার সাথে সংযুক্ত সেটাকে বলা হয় অ্যাংকর টেক্সট, যে টেক্সটাকে ক্লিক করা যায়। এই অ্যাংকর টেক্সটগুলো গুগলকে বুঝতে সাহায্য করে আপনার সাইটটির কনটেন্ট কী হতে পারে।

মনে করুন, আপনার ওয়েবসাইট ‘ধানমন্ডির ডেন্টিস্ট’ কিন্তু আপনি গুগল র‍্যাংকে সেরা হতে চান ‘ঢাকা সিটির ডেন্টিস্ট’ ওয়েবসাইট হিসাবে। তখন অনেকগুলো অ্যাংকর টেক্সট আপনার সাইটের সঙ্গে সংযুক্ত হবে, যেটা আপনার সাইটকে র‍্যাংকে উপরে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে।

অনেক কোম্পানি আছে যারা অসংখ্য অ্যাংকর টেক্সট খুলে রাখে তাদের এসইওর কাজে সাহায্য করার জন্য।

যখন এসইও অডিট করা হয়, তখন ওয়েবসাইটের লিংক প্রোফাইল দেখা হয়। কতগুলো লিংক সংযুক্ত আছে তা যাচাই করা হয়। তারা কোথায় থেকে এসেছে সেটি বিবেচনায় নেওয়া হয় এবং অবশ্যই ওই সাইটের অ্যাংকর টেক্সট দেখা হয়।

প্রায়ই দেখা যায় ওয়েবসাইটটি অনেক বেশি অ্যাংকর টেক্সটকেন্দ্রিক। সবগুলো লিংকে একই কিওয়ার্ড পেইজ ব্যবহার করা হয়েছে। যেটা সাধারণত খুব বেশি অনুপযোগী।

গুগল জানে এটা তাদের জন্য অনেক বড় রেড সিগন্যাল। যখন গুগল দেখে আপনি এ ধরনের পন্থা ব্যবহার করে র‍্যাংকিং করার চেষ্টা করছেন, তখন তা আপনার জন্য হিতে বিপরীত হয়ে দাঁড়ায়।

গুগল পেঙ্গুইন আপডেট করে ‘আনন্যাচারাল লিংক’ এর শাস্তি দেয়। এর অর্থ হচ্ছে সাইটগুলোকে অবমূল্যায়ন করা।

সুতরাং,আপনাকে অনেক বেশি অ্যাংক টেক্সট যুক্ত করার চিন্তা বাদ দিতে হবে। আপনি যদি দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসা করতে চান, তাহলে আপনাকে অবশ্যই এসইও’র টপ র‍্যাংকে থাকতে হবে। এ জন্য অবশ্যই আপনাকে এ চার ভুল পরিহার করতে হবে। তাহলে আপনি ভাল র‍্যাংক করতে পারবেন এবং তা অনেকদিন ধরেও রাখতে পারবেন।

rubel

আরও পড়ুন 

ব্যতিক্রমী ভালো ব্লগ লেখার চার বেসিক

মোশাররফ রুবেল, অ্যাপ ডেভেলপার  অতিথি লেখক : ব্লগিংয়ের শুরুটা একটু জটিল মনে হতে পারে। কেমন হবে লেখা, কি করলে পাঠক আকৃষ্ট হবেন কিংবা কিভাবে লিখলে পাঠক ফিরে আসবেন আবার এসব নিয়ে নানান জিজ্ঞাসা তৈরি হয় নবীন ব্লগারের মধ্যে। কোন ব্যপারগুলোতে বেশি দৃষ্টিপাত করতে হবে ও পাঠক কি চাইছে তা নিয়ে ভাবতে হয় বেশ। এ প্রশ্নের উত্তর লেখার মধ্যে থাকলে তার ব্লগ গ্রহণযোগ্যতা পায় অনেক বেশি।

মনে রাখতে হবে আর্টিকেল লেখার উদ্দেশ্য হলো পাঠকের মনে তৈরি হওয়া প্রশ্নের সমাধান জানিয়ে দেওয়া। এর বাইরে আরও কি প্রশ্ন হতে পারে সেগুলোর বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে পাঠককে দরকারি তথ্য দেওয়া।

এ নিয়মগুলো মেনে চললে ব্যতিক্রমী ও চমৎকার ব্লগিং করা যাবে। এ কাজ করতে অনুসরণ করতে হবে ব্লগিংয়ের চারটি মূল বিষয়কে। এগুলো নিয়ে আজকের আলোচনা।

bloging-techshhor

স্তম্ভ ১ : লেখুনি হোক খুবই উপকারী
অনেকের কাজে লাগবে এমন লেখার ক্ষেত্রে প্রথমেই গুরুত্বপূর্ণ ব্যপার হচ্ছে কি বিষয় নিয়ে লিখছেন আপনি। খেয়াল রাখতে হবে আপনার আর্টিকেল যেন পাঠকের জন্য খুবই উপকারী হয়। তা হলে ওই পাঠকগোষ্ঠী বারবার আপনার লেখা পড়তে ব্লগে আসবেন।

আপনার লেখার লক্ষ্য যেন শুধু বন্ধুদের প্রশংসা লাভ, বিজ্ঞাপন কিংবা সরাসরি আয়ের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ না থাকে। পাঠকের চাহিদা, প্রয়োজন, ইচ্ছে-আকাংখা, স্বপ্ন নিয়ে লিখতে হবে আপনাকে। এ ব্যপারগুলোতে আপনি কি সমাধান দিচ্ছেন সেটা গুরুত্বপুর্ণ হয়ে উঠবে।

টপিক পছন্দ করার পর ঠিক করুন কি থাকবে সেখানে। কিভাবে সেই লেখা টিপস, লিঙ্ক, রিসোর্স কিংবা আইডিয়া দিয়ে পাঠককে সাহায্য করবে।

প্রথমে আপনাকে ভেবে দেখতে হবে আপনার এ আর্টিকেলে ব্যবহার করা রিসোর্স, লিঙ্ক, ইমেজ, টিপস পাঠকের সমস্যার সমাধান করছে কিনা।

আপনার টিপস বা সাজেশন যতো যুগোপযুগী হবে ততই তা কার্যকরী হবে। লেখা যেন খুবই সাধারণ না হয়। যেমন পিসিতে ভাইরাসে আক্রান্ত হলে কি করতে হবে আপনি তা নিয়ে লিখছেন।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ভাইরাসে আক্রান্ত হলে অ্যান্টি ভাইরাস ইনস্টল করে স্ক্যান করতে হবে-শুধু যদি এটুকু মেসেজ থাকে লেখায় এটা খুবই সাধারণ একটা ব্যপার হবে। আপনার লেখা আর্টিকেল যেন এমন সাধারণ ব্যাপার নিয়ে না হয়। আরও কার্যকর ও চমৎকার সমাধান যেন উঠে আসে আপনার লেখুনি থেকে। সেটাই ভালো লেখার প্রথম স্তম্ভ।

CreatingHeadlines-1

স্তম্ভ ২ : আকর্ষনীয় শিরোনাম লিখুন
টপিক ঠিক হয়ে যাওয়ার পরের স্তম্ভ হচ্ছে হেডলাইন ( শিরোনাম ) । হেডলাইন হচ্ছে আপনার আর্টিকেলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু শব্দ, যা পুরো আর্টিকেলে কি আছে তা রিফ্লেক্ট করে। তাই চিন্তা ভাবনা করে হেডলাইন দিতে হবে। আর্টকেল লেখা শেষে আপনি চাইলে আপনার সেটি পুনরায় ঠিক করে নিতে পারেন।

অধিকাংশ পাঠক আপনার আর্টিকেলের হেডলাইন নিউজ ফিডে দেখতে পাবে। সেটা হতে পারে ব্লগের হোম পেইজে, হতে পারে ফেইসবুক হোম পেইজে কিংবা গুগল প্লাস বা ডিগের মত সাইটে। তাই আপনার ব্লগের শিরোনাম এমন হতে হবে যেন হেডলাইন দেখেই পাঠক পড়তে আগ্রহী হন।

আর্টিকেলের শিরোনাম দেখেই পাঠক সিদ্ধান্ত নেন তিনি সেটি পড়বেন কিনা। যদি শিরোনাম আকর্ষণীয় না হয়, তবে আপনি সাথে সাথে সেই পাঠককে হারালেন। তাই খুবই দৃষ্টিনন্দন শিরোনাম লেখার বিকল্প নেই।

স্তম্ভ ৩: লেখা যেন সহজবোধ্য হয়
আপনার লেখাটি যেন সহজেই বুঝতে পারা যায়। ধরুন, আপনি খুব ভালো টপিক পছন্দ করলেন লেখার জন্য, চমৎকার শিরোনামও লিখলেন। আপনার টপিক ও হেডলাইন থেকে পাঠক সিদ্ধান্ত নিলেন এখন আপনার আর্টিকেল পড়বেন।

তবে পড়া শুরুর পর যদি এমন হয় আর্টিকেলের শুরুতে কম দরকারি বা অপ্রাসঙ্গিক কথায় পরিপূর্ণ থাকে তাহলে পাঠক দুটি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। একটি হচ্ছে লেখাটি না পড়ে তিনি চলে যাবেন অন্য লেখায় অথবা আর্টিকেলের প্যারাগ্রাফগুলোতে এক নজর চোখ বুলিয়ে তা থেকে বের হয়ে যাবেন।

মনে রাখতে হবে আপনার পাঠক খুবই ব্যস্ত। একটা আর্টিকেল পড়ার জন্য তার হাতে অনেক সময় নেই। তাই এমন কিছু লেখা ঠিক হবে না যাতে পাঠক সেটি না পড়েই চলে যান কিংবা প্যারাগ্রাফগুলোতে চোখ বুলিয়ে চলে যান।

আর্টিকেলে যেন সহজেই বুঝতে পারা যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এজন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক অনুসরন করা দরকারি। যেমন, সাব হেডলাইন বা উপ-শিরোনাম, ছোট ছোট প্যারা, কোটেশান থাকলে কোটেশান ব্লক ব্যবহার করা, বোল্ড, ইতালিক ব্যবহার করা লিস্ট আইটেমে, ইমেজ, গ্রাফিকাল রিসোর্স দিয়ে সহজ করে তোলা।

পুরো আর্টিকেলে এ ব্যপারগুলো ব্যবহারে তা পাঠকের কাছে সহজেই স্ক্যানবল হয়।

Blogging-techshohor

স্তম্ভ ৪: কমন সেন্স মেনে পরিমান মত লিখুন
আপনার আর্টিকেল লেখায় সরলতা বজায় রাখতে হবে। যখন পাঠক লেখাটি পড়ার সিদ্ধান্ত নেবেন, তখন যেন তিনি নিরাশ না হন। আপনার লেখা আর্টিকেল থেকে পাঠককে যেন কিছু অনুসন্ধান করে নিতে না হয়। তাই লেখা খুব সহজভাবে উপস্থাপন করতে হবে। কমন সেন্স ব্যবহার করে পরিমানমতো লিখতে হবে।

অপ্রাঙ্গিক ব্যপারগুলো আর্টিকেলকে জটিল করে তুলবে, তাই মূল বিষয়বস্তুকে কেন্দ্র করে লেখা শেষ করতে হবে।

rubel

আরও পড়ুন: 

ব্লগিংয়ে ভালো করার ১০ টিপস

মোশাররফ রুবেল, অ্যাপ ডেভেলপার  অতিথি লেখক : এমনটি ভাবার কারণ নেই আপনি লেখালেখির প্রথম দিক থেকেই খুব ভালো লিখবেন। যারা আজকে অনেক বড় ও জনপিয় ব্লগার হয়েছেন তারাও একদম প্রথমে খুব ভাল লেখেননি। নিয়মিত চর্চার মাধ্যমেই ভালো লেখা ও জনপ্রিয় ব্লগ তৈরি হয়। আপনাকেও সেই পথ অনুসরণ করতে হবে।

বাংলায় একটা প্রবাদ আছে, গাইতে গাইতে গায়েন। তেমনি আপনি লিখতে লিখতে লেখক হয়ে যেতে পারেন। প্রথম পর্যায়ে আপনার লেখা বিখ্যাত বা জনপ্রিয় ব্লগারদের তুলনায় অনেক খারাপ মনে হতে পারে। সাড়াও মিলবে কম। এটাকে স্বাভাবিক হিসেবেই নিতে হবে।

আপনি যদি নিয়মিত অনেক বেশি মৌলিক কনটেন্ট লিখতে থাকেন তাহলে সেটা পরে ভালো লিখতে সাহায্য করবে। নিজের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে হবে। ব্লগিং থেকে আমি ভালো কিছু করতে পারি- এমন বিশ্বাস আপনাকে সফলতা দেবে। আরও ভালো করতে ১০ টিপস আপনাকে অনুপ্রেরণা যোগাবে।

blogging-464042_960_720

গুগুল এলার্ট সেট আপ
কি লিখবেন- লেখার বিষয় খুঁজে পাচ্ছেন না তাহলে গুগুল এলার্ট সেট করে নিতে পারেন। এটি আপনাকে সমসাময়িক বিষয় ও ঘটনাগুলো জানতে সাহায্য করবে।

এতে করে আপনি জানতে পারবেন বর্তমানে কোন বিষয়গুলো ট্রেন্ডিং আছে এবং কোনগুলো লেখার টপিক হতে পারে। মানুষ কোন বিষয় জানতে আগ্রহী তা বুঝতে সহায়তা করবে এটি। এভাবে পেতে পারেন লেখার জন্য কাঙ্খিত বিষয়।

একই রকম ব্লগ সাবস্ক্রাইব
আপনি যে রকম ব্লগে লিখছেন সেটির মতো ব্লগ সাবস্ক্রাইব করা। এর মাধ্যমে আপনি একই বিষয়ে সমসাময়িক কি ঘটছে সেটি জানতে পারবেন। অন্যদের সর্বশেষ ব্লগিংয়ের বিষয়ে খোঁজখবর রাখতে তা সহায়তা করবে।

এতে করেও আপনি ধারণা পাবেন, আপনার কি লেখা উচিত। একটা বিষয় অবশ্যই মনে রাখতে হবে, আপনার প্রতিযোগী ব্লগার যা লিখছেন তা নিয়ে হবহু লিখতে যাবেন না। তাদের লেখা যদি কোনো সমসাময়িক বিষয়ের উপর হয়, তাহলে আপনি সেটির অন্য দিক নিয়ে আলোচনা করতে পারেন।

উদাহরণ  হিসেবে বলা যেতে পারে, অন্য ব্লগ যদি বর্তমানে কোনো সমস্যা নিয়ে লেখে তাহলে আপনি সেটির সমাধান নিয়ে লিখতে পারেন। কারণ মানুষ তখন তা পড়তে আগ্রহী হবে।

পাঠক জরিপের ব্যবস্থা রাখা
আপনার লেখা যেসব পাঠক পড়বেন তারা সবসময় চান মতামত দিতে। তাই সে ব্যবস্থা রাখা ভালো। আপনি যদি ফিডব্যাক রাখার ব্যবস্থা রাখেন তাহলে সেটা পাঠক ও লেখক উভয়ের জন্য ভালো হবে। উভয়ের মধ্যে একটি যোগসূত্র তৈরি হবে।

কারণ ভালো ফিডব্যাক আপনাকে আরও ভালো লিখতে উৎসাহী করবে। অন্যদিকে পাঠক ব্লগের কার্যক্রমে অংশ নিতে পেরে আনন্দিত হবেন।

আপনি সপ্তাহে একটি করে প্রশ্ন করতে পারেন- পাঠকরা কি ধরণের লেখা চায়। এতে আপনার টপিক বাছাই করা সহজ হবে।

গেস্ট লেখককে আমন্ত্রণ জানানো
আপনার ব্লগের জন্য পোস্ট লিখতে গেস্ট ব্লগারকে আমন্ত্রণ জানাতে পারেন। এর ফলে পাঠক নতুন লেখককে পেয়ে আনন্দ পাবে। এই ফুরসতে আপনি লেখার জন্য নতুন আইডিয়া তৈরি করতে পারবেন। এখন অনেকেই ব্লগ লিখতে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। তাই গেস্ট লেখক পাওয়া কঠিন কিছু হবে না।

bloging-techshohor

জিজ্ঞাসার মাধ্যমে টপিক বাছাই
আপনি শুধু নিজে চিন্তাভাবনা করে কিংবা নেট সার্চ করে ভালো টপিক সংগ্রহ করে নিতে পারেন, তা নয়। মাঝে মাঝে বন্ধু-বান্ধব, আত্নীয় স্বজনকে জিজ্ঞাসা করেও তারা কি পড়তে ভালোবাসেন তা জেনে নিতে পারেন। তাদের কাছ থেকেও পেতে পারেন দারুণ সব টপিক।

নিজের ভুল নিয়ে লেখা
মানুষ সাধারণত ভুল নিয়ে লেখা পড়তে বেশি পছন্দ করে। কারণ তারা সেটা থেকে শিখতে পারে। তা ছাড়া, একটা কথা তো আছেই ব্যর্থতাই সফলতার চাবিকাঠি। তাই আপনার করা শেষ ভুলটাই হয়ে যেতে পারে লেখার টপিক।

হ্যাঁ, তবে অবশ্যই পাঠকদের জানাতে ভুলবেন না যে সে ভুল থেকে আপনি কিভাবে শিখেছেন।

সমাধানের জন্য আলোচনা করা
লেখালেখি করাটা আপনার সম্পূর্ণ নিজস্ব কাজ। এটা নিয়ে বাইরে আলোচনা না করলে মানুষ জানতেও পারবে না, কি নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে আপনার মধ্যে। তাই যে বিষয় নিয়ে চিন্তাভাবনা করছেন এবং সেটির সমাধানে পৌঁছাতে পারছেন না, তা নিয়ে বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করতে পারবেন।

আপনি যেসব আইডিয়া নিয়ে ভেবেছেন বা ভাবছেন সেগুলো কেমন হতে পারে কিংবা এসব ভাবনার সমাধান খুঁজে পাচ্ছেন না সেটি নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। এমন আলোচনা আপনার সৃজনশীলতাকে বিকশিত হতে সহায়তা করবে।

অনেক সময় এমনও দেখা যায় ব্লগারদের ব্যক্তিগত ঝুট ঝামেলার কারণে চিন্তাভাবনা এলোমেলো হয়ে পড়ে কিংবা লেখায় মনোযোগ দিতে পারেন না। আপনার ভিতরের এমন সংকট নিয়ে কাছের বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন। এতে সমস্যাগুলোর সমাধান বের হয়ে আসবে। আপনি ভিন্ন ভাবে চিন্তা করতে শিখবেন।

বিতর্কিত বিষয় নিয়ে লেখা
আপনি যদি কোনো হট টপিক নিয়ে লিখতে চান, তাহলে বর্তমান সময়ের বিতর্কিত বিষয় নিয়েও লিখতে পারেন। বিতর্কিত বিষয় মানুষের মনোযোগ টানতে সাহায্য করে। এ কারণে সমসাময়িক আলোচিত বা বিতর্কিত বিষয়ের বিভিন্ন দিক আপনার লেখার আইডিয়া হতে পারে।

পাঠকদের প্রশ্ন করুণ
আপনার আশেপাশে যদি কোনো বিতর্কিত বিষয় থাকে এবং সেটির সমাধান নিয়ে আপনি সন্দিহান থাকেন তাহলে সেটা নিয়ে পাঠকদের প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে পারেন । পাঠক এ বিষয়ে কি মনে করেন তা আপনাকে নতুন কিছু লিখতে সহায়তা করবে।

একই সঙ্গে আপনার প্রতিযোগী ব্লগাররা কি সমাধান দিয়েছে তা পাঠকদের সামনে তুলে ধরতে পারেন। এভাবে পাঠকদের আপনার চিন্তার সঙ্গে সংযুক্ত করতে পারেন এবং প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যেতে পারেন।

ঘোরাঘুরির মাধ্যমে আইডিয়া পাওয়া
আপনার ভ্রমণপ্রিয় স্বত্তাকে জাগিয়ে তুলুন। টানা কাজে বিরতি দিয়ে দূর-দূরান্তে ঘুরতে চলে যান। এতে নতুন  তখন খেয়াল করা যে কে কি করছে এবং তার থেকে কি টপিক পাওয়া যেতে পারে লিখার জন্য। আমাদের আশে পাশে অসংখ্য মানুষ তাই তাদের কাজ -কর্মও ভিন্ন । এইসব কিছু খেয়াল করে আপানার ব্লগের টপিক হতে পারে।

rubel

আরও পড়ুন    

আপনার ব্লগকে আরও জনপ্রিয় করার ৫ টিপস

মোশাররফ রুবেল, অ্যাপ ডেভেলপার  অতিথি লেখক : এখন অনেকেই ব্লগিং করছেন। লেখা বা অন্যান্য কনটেন্টও ভালো হচ্ছে। এরপরও আহামরি ভিজিটর মিলছে না ব্লগে। ছোট কিছু ব্যাপার পরিহার করায় ভিজিটর হারাতে হচ্ছে অধিক সংখ্যায়। ছোট ছোট কিছু টিপস অনুসরন করলে অনায়েসে ব্লগে যেমন পাওয়া যাবে ভিজিটর, তেমনি পুরনোদেরও ধরে রাখা যাবে।

শুধু কি তাই, আরও জনপ্রিয় করতে কি করা উচিত সেটা নিয়েও কাজ করতে হবে। একজন ভিজিটর যেন একবার ব্লগে এসে চলে না যায় সেদিকেও দৃষ্টি রাখতে হবে।

ভিজিটরকে বার বার ফিরিয়ে আনা, একটির পর একটি ব্লগের আর্টিকেলের দিকে আকৃষ্ট করার জন্য করতে হবে কিছু কাজ। সেগুলো তুলে ধরতেই এ টিউটোরিয়াল।

আরও পড়ুন : ব্লগিংয়ে অ্যাডসেন্সের বিকল্প আয়ের পথ

blogging-girl-techshohor

ব্লগ শুধু আপনার কথা নিয়ে নয়
হ্যাঁ- ব্লগ শুধু আপনার চিন্তাকে ঘিরে যেন না হয়। ব্লগিং করার সময় আমরা অনেক সময় নিজের চিন্তা দিয়ে শুরু করি। ভিজিটরের সংখ্যা বেশি হলে এদের অনেকেই আপনার চিন্তা গ্রহণ নাও করতে পারে। ভিন্ন মতের ভিজিটর বেশি হলে তারা যাতে চলে না যান সেজন্য কৌশলী হতে হবে।

আপনার ব্লগ যদি ৫০ হাজার মানুষ অনুসরণ করেন, সেক্ষেত্রে তাদের এমন কিছু দিতে হবে যাতে সেটা তাদের কাছে উপকারী হয়, পড়তে আনন্দ পায় এমন কিছু নিয়ে হয়। আপনি সেলিব্রেটি না হলে এরা কেউ আপনার চিন্তার কথা শুধু শুনতে চাইবে না। তাই তাদের উপযোগী কনটেন্ট থাকতে হবে।

পাঠকদের ব্লগ পড়ার গুরুত্ব বোঝানো
মূলত এই ব্যপারটা হচ্ছে পাঠককে এমন কিছু টনিক দেয়া যাতে তাকে আপনার ব্লগ পড়তে আসতে হয়। যেমন ধরুন আপনি লিখছেন তথ্য ও প্রযুক্তি নিয়ে, এখন একজন সাহিত্য প্রেমী বা ফুড লাভার কেন আপনার ব্লগ পড়বে- সে তো প্রযুক্তির মানুষ নয়।

তাই এ ধরনের পাঠকরা আপনার ব্লগে এলে তাদের ধরে রাখা যাবে এমন কনটেন্ট দিতে হবে। তাদের ভালো লাগার বিষয় বা ব্লগে আসার কারণ খুঁজে পায় তেমন কিছু থাকতে হবে।

এ বিষয়ের পাশাপাশি খেয়াল রাখতে হবে সব ধরনের অডিয়েন্স টার্গেট করতে গিয়ে যেন মূল টপিক থেকে ব্লগ সরে না যায়। তবে তথ্যপ্রযুক্তির ব্লগ যেন তথ্যপ্রযুক্তি নিয়েই পাঠকদের সব দিতে পারে তা সর্ব প্রথমে নিশ্চিত করতে হবে।

ফ্রেন্ডলি হতে হবে
খেয়াল রাখতে হবে সব কিছু যাতে একদম পানসে মনে না হয়। পাঠক যাতে মনে না করেন মানুষ নয়, রোবট লিখেছে এ আর্টিকেল। তাই একটু ফ্রেন্ডলি হতে হবে অবশ্যই।

তবে এ ক্ষেত্রে প্রথম পয়েন্টও খেয়াল রাখতে হবে সব কিছু আপনি কেন্দ্রিক না হয়ে যায়। এক্ষেত্রে পাঠকদের অনুরোধের টপিক নিয়ে লেখা, পাঠকদের মন্তব্যের উত্তর দেওয়াও ফ্রেন্ডলি হওয়ার অংশ।

পাঠকদের সাথে ব্লগার এর ফ্রেন্ডলি সম্পর্ক ব্লগকে জনপ্রিয় করতে বেশ অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।

আরও পড়ুন : ব্লগিংয়ের জনপ্রিয় ৭ বিষয়, শুরু করুন এখনই

blogging-techshohor

ম্যাটেরিয়ালস যেন সময় উপযোগী হয়
আপনি ব্লগের জন্য যা কিছু ব্যবহার করছেন, যেসব ম্যাটেরিয়ালস অনুসরণ করছেন- খেয়াল রাখতে হবে তা যেন সময় উপযোগী হয়। সময় উপযোগী বা টাইমিং ব্লগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যপার।

আপনি কি বোঝাতে চাচ্ছেন তা পাঠক যদি নিজের সঙ্গে মেলাতে না পারেন, তাহলে বুঝতে হবে আপনার আর্টিকেল সময় উপযোগী হচ্ছে না।

পাঠক যে ব্যপারটা যে সময় আশা করছে সেটির উপর নির্ভর করে আপনি যেন সরবরাহ করতে পারেন সেই ব্যপারটি নিশ্চিত করতে হবে।

পাঠক আগ্রহের চুম্বকাংশ যেন প্রথমেই থাকে
শিরোনাম দেখার পর আর্টিকেল পড়ার জন্য পাঠকের মনে এক ধরনের প্রত্যাশা তৈরি হয়ে যায়। তারপর পাঠক যখন মূ আর্টিকেল পড়া শুরু করে তখন যেন প্রথম দুই লাইন পড়েই বুঝতে পারে লেখাটি গুরুত্বপূর্ণ।

এ অংশেই পাঠককে বোঝাতে হবে সে যা চাচ্ছে সেটি কিংবা তার চেয়েও ভালো কিছু পেতে যাচ্ছে এ লেখায়। প্রথম দুই লাইন যদি ভালো কিছুর প্রতিফলন না ঘটায় তাহলে শুরুতেই পাঠক আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন।

তাই খেয়াল রাখতে হবে পাঠককে পুরোটি কনটেন্টে ধরে রাখতে শুরুতেই তার মনোযোগ আকর্ষণ করতে হবে। তিনি যা চাচ্ছেন তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ যেন প্রথমেই থাকে- যা তাকে পুরো লেখা বা পরের লেখাগুলো পড়তে আগ্রহী করে তুলবে।

rubel

আরও পড়ুন: 

অ্যান্ড্রয়েড ডেভেলপারদের কাজের দারুণ ৫ টুল

মোশাররফ রুবেল, অ্যাপ ডেভেলপার  অতিথি লেখক : অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ডেভেলপ করতে গেলে প্রয়োজন হয় অনেক রকমের ওয়েবসাইট। ডেভেলপারদের কাছে এসব সাইট টুল হিসেবে পরিচিত। এসব সাইট থেকে প্রয়োজনীয় কনটেন্ট সংগ্রহ কাজকে সহজ করে দেয়। নিজে থেকে অনেক জিনিস তৈরির করার প্রয়োজন হয় না।

ডেভেলপারদের জন্য তেমনি পাঁচটি অতি প্রয়োজনীয় টুল নিয়ে এ টিউটোরিয়াল। এগুলোর বহুল ব্যবহার করে থাকেন ডেভেলপাররা। সম্পূর্ণ বিনামূল্যের এসব সাইটের কথা নতুনদের অনেকেরই অজানা।

নিনজা মক (NinjaMock)
অ্যাপ তৈরির আগে প্রয়োজন হয় ডিজাইন ও মক আপ তৈরি করা। নিনজা মক হচ্ছে সেই প্ল্যান বা মক তৈরি করে দেওয়ার চমৎকার একটি ফ্রি সাইট।

অ্যাপের কাজ শুরু করার আগে নিনজা মকে যদি আপনার অ্যাপের স্কেচ তৈরি করে নেন তাহলে খুব সহজেই কাজটি করা যাবে। মাত্র কয়েক মিনিটে নিনজা মকে সানআপ করে তৈরি করে ফেলতে পারেন আপনার অ্যাপের প্ল্যান।

শুধু অ্যান্ড্রয়েড নয়, আইওএস, উইন্ডোজসহ আরও কিছু প্ল্যাটফর্মের জন্য নিনজা মকে কাজ করা যাবে।

অ্যান্ড্রয়েড ডেভেলপমেন্টের বিভিন্ন টুল রয়েছে এখানে, যেমন- লিস্টভিউ, ইমেজভিউ, টেক্সটভিউ, বাটন ইত্যাদি। যুক্ত করতে পারবেন আপনার নিজের ছবিও। মক তৈরির জন্য নিনজা মক অন্যতম সেরা একটি টুল।

আরও পড়ুন : অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ডেভেলপ শেখার জরুরি ৬ সাইট

NinjaMock-techshohor

অ্যান্ড্রয়েড স্টুডিও অ্যাসেট (Android Asset Studio)
অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ডেভেলপ করতে গেলে অনেক ধরনের অ্যাসেট দরকার হয়। সেসব অ্যাসেট জেনারেট করতে রয়েছে অ্যান্ড্রয়েড স্টুডিও অ্যাসেট সাইটটি।

লাঞ্চার আইকন, টুলবার আইকন, নোটিফিকেশন আইকন ইত্যাদি জেনারেট করা যাবে এ টুল দিয়ে। এ ছাড়া জেনেরেট করা যাবে নাইন প্যাচ ইমেজও। ফরগ্রাউন্ড, কালার, শেপ, ব্যাকগ্রাউন্ড, ইফেক্ট ইত্যাদি ঠিক করেই আইকন জেনেরেট করা যাবে।

এসব আইকন বা অ্যাসেট সাপোর্ট করবে সব ধরনের ডিভাইসে। সব ধরনের ডিভাইসের জন্যই আইকন বা অ্যাসেট জেনারেট হবে।

 Ando-techshohor

গুগল ম্যাটেরিয়াল আইকন (Google Material Icons)
ম্যাটেরিয়াল ডিজাইন বর্তমানে জনপ্রিয়তার শীর্ষে। গুগলের প্রায় সব অ্যাপে এখন ম্যাটেরিয়াল ডিজাইন ব্যবহার করা হয়েছে। এর জন্য দরকার হয় ম্যাটেরিয়াল আইকনগুলো। এসব আইকন পাওয়া যাবে গুগলের সাইটেই।

লিঙ্কে গিয়ে আপনার দরকারি আইকন পছন্দ হলে তা সিলেক্ট করলে আসবে নতুন অপশন। সেখানে দেখা যাবে আইকনের সাইজ কি হবে, সাদা নাকি কালো আইকন, কোন ফরম্যাটে ডাউনলোড করতে চান ইত্যাদি।

সব ডিভাইসের জন্য সাপোর্টেড আইকন ডাউনলোড হয়ে যাবে নিমিষেই। চমৎকার এসব আইকন পাওয়া যাবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।

অ্যান্ড্রয়েড আর্সেনাল (Android-Arsenal)
অ্যান্ড্রয়েড আর্সেনাল হলো অ্যান্ড্রয়েড ডেভেলপারদের জন্য বিশাল লাইব্রেরির সংগ্রহশালা। যেমন অ্যাপে ছবি দেখার জন্য আপনি চাচ্ছেন ভালো কিছু ব্যবহার করতে। সেক্ষেত্রে অ্যান্ড্রয়েড আর্সেনালে রয়েছে চমৎকার সব ছবি দেখানোর জন্য ইমেজ ভিউয়ার লাইব্রেরি। এগুলো থেকে পছন্দেরটি ব্যবহার করতে পারবেন নিজের মতো করে।

এ ওয়েবসাইটের সবচেয়ে ভালো ব্যপার হচ্ছে এটা প্রতি নিয়ত আপডেট হচ্ছে, প্রতিদিন চমৎকার কিছু, দারুণ কিছু আসছে। সুন্দরভাবে অর্গানাইজ করা আছে লাইব্রেগুলো।

GenyMotion-techshohor

জেনিমোশন (GenyMotion Emulator)
জেনিমোশন ব্যবহার করা হয় ইম্যাল্যুয়েটর হিসেবে অ্যান্ড্রয়েড স্টুডিওয়ের সঙ্গে।সাধারণত অ্যান্ড্রয়েড স্টুডিওয়ের সঙ্গে অ্যাম্বেডেড যে ভার্চুয়াল ডিভাইস থাকে তা বুট হতে বেশ সময় নেয়। সে ক্ষেত্রে জেনিমোশন অনেক দ্রুত কাজ করে।

জেনিমোশন সেট আপ দেয়া বেশ সহজ ও সিম্পল। সম্পূর্ণ বিনামূল্য ব্যবহার করতে পারবেন জেনিমোশন।

rubel

আরও পড়ুন: