হার্ভার্ডে জাকারবার্গ : লড়াইটা দেশভিত্তিক নয় বরং চিন্তাভিত্তিক

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : এখন থেকে ফেইসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গকে আর কেউ ড্রপ আউট শিক্ষার্থী বলতে পারবেন না। ১২ বছর পর হলেও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পেয়েছেন সম্মানজনক ‘ডক্টর অব ল’ ডিগ্রি। সম্মানসূচক সেই ডিগ্রি নিতে বাবা-মাকে নিয়ে জাকারবার্গ হাজির হয়েছিলেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে।

বৃহস্পতিবার নিজের পুরনো ক্যাম্পাসে ফিরে এসে অনুজদের জন্য বক্তৃতাও দিয়েছেন। বক্তৃতায় তিনি বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এবং উদ্ভাবনী কাজে ঝুঁকি নেওয়ারও পরার্মশ দিয়েছেন।

mark-techshohor (2)

তার সেই দীর্ঘকায় বক্তব্য থেকে বাছাই করা ১০ কথা উল্লেখ করা হলো :

১. আপনারা এখানে এসে যা করতে পেরেছেন আমি তা পারিনি। যদি এই বক্তৃতা আমি শেষ করতে পারি তবে প্রথমবারের মতো আমি হার্ভার্ডের কোনো যাত্রা শেষ করতে পারবো।

২. হার্ভার্ডে আমার সবচেয়ে ভালো স্মৃতিগুলো আসলে প্রিসিলাকে ঘিরে। মজার ছলে ফেইসম্যাশ বানিয়েছিলাম যাতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে আমার ডাক পড়ে আর আমি প্রিসিলার চোখে পড়ি। এ থেকে সবাই ধরেই নিল আমাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হবে।

বাবা-মা আমার ব্যাগ গুছিয়ে দিতে আসলো, বন্ধুরা বিদায় জানানোর জন্য একটি পার্টির আয়োজন করলো। ভাগ্য ভালো সেখানে প্রিসিলাও এসেছিল। পার্টি চলাকালে আমরা বাথরুমে যাওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। এক পর্যায় আমি প্রিসিলার দিকে ঘুরে বললাম, তিন দিনের মধ্যে আমাকে বের করে দেওয়া হবে। তাই খুব তাড়াতাড়িই ডেটে যেতে হবে।

৩. কখনোই কোনো আইডিয়া পূর্ণাঙ্গভাবে প্রকাশ পায় না। আইডিয়াগুলো নিয়ে কাজ করতে হয়। যদি আমার আগেই জানা থাকতো, মানুষকে ভার্চুয়ালি কিভাবে যুক্ত করা যায় তাহলে ফেইসবুক তৈরি করার আগ্রহ আমার মধ্যে তৈরি হতো না।

৪. নতুন কিছু শুরু করার আগে জেনে নিন, প্রথমেই মানুষ আপনাকে ভুল বুঝবে। অনেক বড় লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে সফলতা পেতে শুরু করলেও মানুষ আপনাকে পাগল বলবে।

mark-techshohor

৫. আমাদের সিস্টেমেই কিছু সমস্যা আছে। আমি ১০ বছরেই বিলিয়নিয়ার হয়ে গেছি। কিন্তু এখানে লাখ লাখ শিক্ষার্থী আছে যারা নিজেদের ঋণগুলোই ঠিকমতো পরিশোধ করতে পারে না। ব্যবসা শুরু করা তো বহু দূরের ব্যাপার।

৬. প্রতিটি প্রজন্মের কাছে সমঅধিকারের সজ্ঞা প্রসারিত হয়। আমাদের আগের প্রজন্ম ভোট আর নাগরিক অধিকার নিয়ে লড়াই করেছে। এর ফলে চমৎকার একটি সমাজ ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে। এখন আমাদের সময় এসেছে সম্পর্ক স্থাপনের নতুন ক্ষেত্র খুঁজে বের করার।

৭. নতুন আইডিয়া যেমন, বৈশ্বিক সার্বজনিন সর্বনিম্ন আয়ের মতো বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের কাজ করা উচিত। যাতে সবাই তাদের আইডিয়াগুলো নিয়ে কাজ করার সুযোগ অন্তত পায়। শুধু গুটি কয়েক কর্মীদের জন্য নয়, সবার জন্যই নিশ্চিত করতে হবে চাইল্ড কেয়ার ও স্বাস্থ্য সেবা।

৮. পুরো বিশ্বেই আমাদের নতুন প্রজন্ম এখন নেতৃত্ব প্রদান করছে। কিন্তু বর্তমানে আমরা খুব অস্থির একটা সময় পার করছি। বিশ্বায়নের কারণে কিছু মানুষ পিছনে পড়ে যাচ্ছে। নিজের বাড়িতেই যদি আমরা অসুখী হই তাহলে চেনা পরিচিত গণ্ডির বাইরে থাকা মানুষগুলোর জন্য কিছু করা খুব কঠিন হয়ে পড়ে।

৯. ইতিহাসে মিলেনিয়ালাররা (২০০০ সালের পর যারা প্রাপ্ত বয়স্ক হয়েছে) মানুষকে সহায়তা করার দিক দিয়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছে। প্রতি ৪ জন মার্কিনির মধ্যে ৩ জনই দান করেন। প্রতি ১০ জনে ৭ জন্য অন্যের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেন।

কিন্তু সমাজসেবা বিষয়টি শুধু দান করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। চাইলে আপনি আপনার সময়ও দিতে পারেন। প্রতি সপ্তাহে যদি এক বা দুই ঘণ্টা করে সময় বের করেন তাহলেই হাত বাড়িয়ে কাউকে সহায়তা করা যায়।

১০. আমাদের সময়ে কিছু বিষয় নিয়ে বিবাদ চলছে। একদিকে আছে স্বাধীনতা, উন্মুক্ততা ও গ্লোবাল কমিউনিটিগুলো, অন্যদিকে আছে স্বৈরতন্ত্র, বিচ্ছিন্নতাবাদ ও জাতীয়তাবাদ। যারা জ্ঞান, ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ও অভিবাসনের বিরুদ্ধে তারাই সবকিছুর গতি কমিয়ে দিতে চায়। এই লড়াইটা দেশভিত্তিক নয় বরং চিন্তা ভিত্তিক।

আনিকা জীনাত

ভারতে এক হলো আইডিয়া-ভোডাফোন

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : পাশের দেশ ভারতে মোবাইল অপারেটর ভোডাফোন-আইডিয়া একীভূত হয়েছে। এর ফলে দেশটিতে এখন অপারেটর দুটি মিলে সবচেয়ে বড় টেলিকম কোম্পানিতে পরিণত হলো।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক টেলিকম জায়ান্ট ভোডাফোনের ভারত অংশ দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম মোবাইল নেটওয়ার্ক আইডিয়া সেলুলারের সঙ্গে একীভূত হয়েছে।

একীভূত নতুন কোম্পানির সম্মিলিত গ্রাহক সংখ্যা এখন ৪০ কোটি। এর ফরে দেশটির টেলিকমের ৩৫ শতাংশ বাজার এখন তাদের।

vofdafone-idea-techshohor

গত কয়েক মাস থেকেই তাদের একীভূত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছিল। অবশেষে প্রতিষ্ঠানদুটি একটি যৌথ বিবৃতি দিয়ে একীভূত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছে।

খবরটি প্রকাশের পরেই ভারতে বাজারে আইডিয়ার শেয়ারের দাম বেড়ে গেছে ৪ শতাংশ।

বাজার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ভারতে আলোড়ন সৃষ্টি করা নতুন অপারেটর রিলায়েন্স জিওকে প্রতিযোগিতায় হারাতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে কোম্পানি দুটি।

ভারতের সবচে ধনী ব্যবসায়ী মুকেশ আম্বানির মালিকানাধীন জিও বাজারে আসার পরই নানা সুযোগ সুবিধা ও অফার দিয়ে দ্রুত গ্রাহক বাড়িয়ে অন্যদের রীতিমতো উদ্বেগের মধ্যে ফেলেছে। নবাগত অপারেটরটির কারণেই ভোডাফোন ইন্ডিয়া এবং আইডিয়া সেলুলার একই সাথে ভারতের বৃহত্তম অপারেটর ভারতি এয়ারটেল কল ও ডাটা চার্জ কমাতে বাধ্য হয়েছে।

এদিকে একীভূত হওয়ার ঘোষণার পরপরই মুম্বাই শেয়ারবাজারে আইডিয়ার শেয়ার দর ৪ শতাংশ বেড়েছে।
তবে জিও’র আগমনে ভারতের মোবাইল অপারেটরগুলো বর্তমানে ‘ভয়ঙ্কর মূল্য যুদ্ধে’ অবতীর্ণ হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।

ভারতে ১০টিরও বেশি অপারেটর কোম্পানি দেশটির একশ কোটি মোবাইল ব্যবহারকারীকে আকৃষ্ট করতে রীতিমতো যুদ্ধ করে যাচ্ছে।

এটি করতে গিয়ে প্রতিযোগিতা করে ট্যারিফ কমিয়ে আনছে তারা। এতে কোম্পানির মুনাফায় উল্লেখযোগ্য রকম প্রভাব পড়ছে।

বিবিসি অবলম্বনে

শিশু-নারীর সুরক্ষায় অ্যাপসের ধারণা দিয়ে সিফাত-নওশীনের চমক

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বাড়ির পাশে পুকুর, ডোবা বা নদী থাকলে অভিভাবকদের চিন্তার শেষ নেই। সেটি শহর বা গ্রাম যেখানেই হোক না কেন। কোথায় বেড়াতে গেলে এমন পরিবেশে আদরের শিশুকে সবসময় চোখে চোখে রাখতে হয়।

কিন্তু এরপরও ঘটতে পারে বিপদ। অভিভাবকের চোখ ফাঁকি দিয়ে পানিতে ডুবে যায় শিশুরা। অনেক ক্ষেত্রে যথাসময়ে তাদের খুঁজে না পাওয়ায় করুণ পরিণতি ঘটে।

কিন্তু এমন বিপদ থেকে সুরক্ষার কোনো উপায় আছে কি? এমন ভাবনা থেকে একটি অ্যাপ বানানোর ধারণা তৈরি করেছেন বুয়েটের শিক্ষার্থী আশরাফুল হক সিফাত।

telinor

ডুবে যাওয়া শিশুদের রক্ষা করতে ‘ডিজিটাল মাদুলি : কিপিং কিডস সেইফ নিয়ার ওয়াটার’ নামে একটি অ্যাপ তৈরির পথ বাতলে দিয়েছেন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এ শিক্ষার্থী।

 

জিওগ্রাফিক্যাল ইনফরমেশন সিস্টেম, সিমকার্ডসহ কম খরচের মনিটরিং সিস্টেম, সিগন্যালের মাধ্যমে তৈরি এ উদ্ভাবনের মাধ্যমে অভিভাবক অথবা উদ্ধারকর্মীরা ডুবে যাওয়া শিশুর অবস্থান নির্ণয় করতে পারবেন। সহজেই শিশুদের জীবন রক্ষা করা যেতে পারে। তবে শিশুটিকে মাদুলি আকারের ডিভাইসটি পরিয়ে রাখতে হবে।

 

এটাতো গেল শিশুদের নিয়ে দরকারি একটা অ্যাপ। এবার আসা যাক নারীদের কথায়। রাতে তো বটেই অনেক সময় দিনেও নারীরা নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হন।

 

কঠোর আইনের পরও বখাটেদের হাত থেকে তরুনী ও নারীরা নিস্তার পাচ্ছেন না। এমন পরিস্থিতিতে তাদের নিরাপত্তায় কার্যকরি একটি অ্যাপ বানানোর ধারণা দিয়েছেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নওশীন মেহজাবিন চৌধুরী।

 

তার অ্যাপটির নাম ‘ফার্স্ট লেডি: এনসিওরিং আ সেফ সোসাইটি ফর উইমেন’। এটি ঘরে-বাইরে সহিংসতা প্রতিরোধে নারীদের সহায়তা করবে। এর মাধ্যমে নারীরা নিবন্ধন করে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তথ্য আদান প্রদান করতে পারবেন।

 

এ ছাড়া জরুরি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে হেলপ লাইন ব্যবহারও করা যাবে। বিপদে পড়লে অ্যাপটির মাধ্যমে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে সিগন্যাল পাঠানো যাবে।

 

টেলিনর ইয়্যুথ সামিট প্রতিযোগিতার অংশ হিসাবে সিফাত ও নওশীন এ দুটি ধারণাপত্র তৈরি করেন। তাদের ধারণা অন্যদের থেকে অধিক কার্যকর হওয়ায় তারা সেরা নির্বাচিত হয়েছেন।

 

বাংলাদেশ পর্যায়ের চার ফাইনালিস্টের মধ্যে জয়ী হয়ে তারা পাচ্ছেন নরওয়ের ওসলোতে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে নিজেদের উদ্ভাবন তুলে ধরার সুযোগ।

 

অপর দুই ফাইনালিস্ট ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পারাশার সাহা এবং আহমেদ ইসতেহাদ শৌমিক।

 

ডিজিটাল কমিউনিকেশনের সাহায্যে সমাজ পরিবর্তন এবং সুযোগ সৃষ্টির জন্য তরুনদের উৎসাহিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

 

২০১৪ সালের আগস্ট থেকে এবারের তিনস্তরের এ প্রতিযোগিতা শুরু হয়। প্রথম পর্বে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে থেকে নির্বাচিতরা দ্বিতীয় পর্বে অংশগ্রহণের সুযোগ পান।

 

চুড়ান্ত পর্বের বিচারক ছিলেন গ্রামীণফোনের চিফ স্ট্র্যটেজি অফিসার এরল্যান্ড প্রেস্টগার্ড, বেসিসের মহাসচিব ও সিইও চ্যাম্পস ২১-এর সিইও রাসেল টি আহমেদ এবং এমপাওয়ারে প্রতিষ্ঠাতা মৃদুল চৌধুরী।

 

সম্প্রতি রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন টেলিনরের মালিকানাধীন কোম্পানি গ্রামীণফোন।