ব্যান্ডউইথ আমদানির যৌক্তিকতা জানতে চাইছে সরকার

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : নিজেদের ব্যান্ডউইথ অব্যবহৃত থাকার পরও আন্তর্জাতিক টেরেস্ট্রিয়াল ক্যাবল (আইটিসি) অপারেটরগুলোর মাধ্যমে তা আমদানির প্রয়োজনীয়তা জানতে চাইছে সরকার।

বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল) এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগকে এই ব্যান্ডউইথ আমদানির প্রয়োজনীতা পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে।

দেশে এখন মোট ব্যান্ডউইথের চাহিদা ৪০০ জিবিপিএস।

বর্তমানে দেশি ব্যান্ডউইথে বিএসসিসিএলের সক্ষমতা রয়েছে ৩০০ জিবিপিএস। আর আইটিসিগুলো ভারত হতে আমদানি করে ২০০ জিবিপিএস।

খুব সম্প্রতি দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলে সংযুক্ত হওয়ায় দেশি ব্যান্ডউইথে আরও ১ হাজার ৫০০ জিবিপিএস যোগ হবে ।

আর এই বিপুল পরিমাণ অব্যবহৃত দেশীয় ব্যান্ডউইথ থাকার পরও আইটিসিগুলোর ব্যান্ডউইথ আমদানির প্রয়োজনীয়তা কী, তা পরীক্ষা করে বিএসসিসিএল ও টেলিযোগাযোগ বিভাগকে সরকারের কাছে প্রস্তাব উপস্থাপন করতে নির্দেশনা দিয়েছে ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্সের নির্বাহী কমিটি।

জানা যায়, গত ২৭ মার্চ কমিটির সভায় বিষয়টি উত্থাপন করেন বেসিস সভাপতি তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার। এরপর আলোচনা শেষে নির্বাহী কমিটি এই প্রয়োজনীয়তা পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয়।

bandwidth import

ব্যান্ডউইথ আমদানিকারক কোম্পানি ফাইবার অ্যাট হোমের চিফ স্ট্রাটেজিক অফিসার সুমন আহমেদ সাবির টেকশহরডটকমকে জানান,  ইন্টারনেট আমাদের জন্য লাইফ লাইন। আমাদের কোনো বিকল্প ছিল না, অনেক সেবার জন্য এক মিনিটও ইন্টারনেট নাই সেটা আমরা ভাবতে পারি না। আইটিসিগুলো সেই ব্যাকআপ।’

‘একটা সাবমেরিন ক্যাবল কাটা পড়লে ঠিক করতে এক মাস লাগে। যখন দেশে ক্যাবল একটি ছিল তখন বাংলাদেশ ভীষণ ঝুঁকির জায়গায় ছিল। আইটিসি থাকায় আমরা ভারত হয়ে আরও ৭-৮টি সাবমেরিন ক্যাবল দিয়ে সংযোগ নিরবিচ্ছিন্ন রাখার সুযোগ পেয়েছি। আইটিসি আসার পর বাংলাদেশ কখনও শতভাগ ব্লাকআউটে যায়নি।’

ইন্টারনেট যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বিডিনগ বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান জানান, ‘এখন দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল আসার পর আইটিসিগুলোর আগে যেমন গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ছিল সেটা কমেছে তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু তারপরও দুটি সাবমেরিন ক্যাবল ইন্টারনেট নিরবিচ্ছিন্নতার জন্য যথেষ্ট নয়। দুটি সাবমেরিন ক্যাবল একসঙ্গে কেটে যাওয়ার উদাহরণ পৃথিবীতে হরহামেশা আছে। সবকিছুর পরও আইটিসিগুলো না থাকলে একটা ঝুঁকির কারণ তো থেকেই যাচ্ছে।’

এদিকে ব্যান্ডউইথ আমদানি নিয়ে আইটিসি অপারেটরগুলোও টিকে আছে কোনোমতে। ট্রাফিক না থাকা ও আমদানিকৃত ব্যান্ডউইথের চেয়ে দেশি ব্যান্ডউইথের দাম কম হওয়া, সরবরাহ ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন কারণে ধুঁকছে তারা।

ভারত হতে ব্যান্ডউেইথ আমদানি করে থাকে নভোকম লিমিটেড, ওয়ান এশিয়া-এএইচএলজেভি, বিডি লিংক কমিউনিকেশন লিমিটেড, ম্যাংগো টেলিসার্ভিসেস লিমিটেড, সামিট কমিউনিকেশন লিমিটেড এবং ফাইবার অ্যাট হোম লিমিটেড।

আইটিসিগুলো ভারত হতে ২০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ আমদানি করে। এর মধ্যে সামিট কমিউনিকেশন ৯০ এবং ফাইবার অ্যাট হোম ৮০ জিবিপিএস আনে। বাকী ৪টি কোম্পানি মিলে ৩০ জিবিপিএসের মতো আমদানি করে থাকে।

ম্যাংগো টেলিসার্ভিসেস লিমিটেড ও বিডি লিংক কমিউনিকেশন লিমিটেডের ট্রাফিক নাই বললেই চলে। ওয়ান এশিয়া-এএইচএলজেভির ট্রাফিকও কম।

২০০৬ সালে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো সাবমেরিন ক্যাবল ‘সি-মি-ইউ-৪’ এ যুক্ত হয়, যার মাধ্যমে ২০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ পাওয়ার সক্ষমতা হয়। এরপর সম্প্রতি কারিগরি উন্নতির মাধ্যমে ক্যাবলের ক্ষমতা ১০০ জিবিপিএস বাড়ানো হয়েছে।

এখন বিএসসিসিএল এর ব্যান্ডউইথের মধ্যে ১৭৬ জিবিপিএস ব্যবহৃত হচ্ছে যেখানে ভারতে রপ্তানি করা ১০ জিবিপিএসও রয়েছে।

ব্যান্ডউথের ব্যবহার ৫০ শতাংশ বেড়ে ১৩৬ জিবিপিএস

অনন্য ইসলাম, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশে ব্যান্ডউইথের ব্যবহার ৫০ শতাংশ বেড়ে ১৩৬ দশমিক ৪৫ জিবিপিএসে দাঁড়িয়েছে।

গত বছরের ডিসেম্বর শেষে এর পরিমান ছিল ৯১ দশমিক ১২ জিবিপিএস। সংশ্লিষ্টদের মতে, বছর শেষে সরকারি ও বেসরকারিভাবে সরবরাহ করা ব্যান্ডউইথের ব্যবহার আরও বেড়ে ২০০ জিবিপিএস হবে।

সম্প্রতি টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসির এক বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়।

Fibre-Optic-Cable

ব্যান্ডউইথ ব্যবহারের হার অনেক বাড়লেও এর সামগ্রিক ব্যবহার নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী এবং গবেষকদের মধ্যে।

তাদের মতে, আর্থ-সামজিক উন্নয়নের কাজে খুব কমই ব্যবহার হচ্ছে প্রযুক্তির এ সুবিধা। বরং ইন্টারনেট ডেটা হিসেবে এর যতোটা ব্যবহার হচ্ছে তার ৯০ শতাংশ চলে যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহারে।

সংশ্লিষ্টরা বলেন, থ্রিজি চালু, ব্যান্ডউইডথের মূল্য হ্রাস, ইন্টারনেট সেবার গ্রাহক বৃদ্ধি, সরকারি পর্যায়ে ইন্টারনেটভিত্তিক বিভিন্ন কার্যক্রম চালুর ফলে ব্যান্ডউইথের ব্যবহার বেড়েছে।

ব্যান্ডউইথের ব্যবহার বৃদ্ধি প্রসঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ার হোসেন বলেন, জুনের পর থেকে তিন মাসের মধ্যে মোট ব্যবহার ইতিমধ্যে দেড়শ জিবিপিএস ছাড়িয়ে গেছে। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, জুনে তাদের ব্যবহার ছিল ৩৩ দশমিক ৫ জিবিপিএস। এখন তা ৪৪ জিবিপিএস হয়ে গেছে। মূলত দাম কমানোর কারণেই তাদের সরবরাহ করা ব্যান্ডউইথের ব্যবহার এতোটা বেড়েছে।

দেশে সাবমেরিন ক্যাবলের বাইরেও ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করে থাকে ছয়টি ইন্টারন্যাশনাল টেরেস্ট্রিয়াল ক্যাবল (আইটিসি) প্রতিষ্ঠান। এ কোম্পানিগুলো ভারত থেকে ব্যান্ডউইথ এনে বিক্রি করে থাকে।

বিটিআরসির হিসাব অনুসারে, জুন পর্যন্ত এ কোম্পানিগুলো সরবরাহ করেছে ১০৩ জিবিপিএসের বেশি। এটি মোট ব্যান্ডউইডথ চাহিদার ৭৫ শতাংশ। আর বিএসসিসিএলের ব্যান্ডউইডথ ব্যবহার হচ্ছে ৩৩ জিবিপিএস, যা বছর শেষে ছিল ২৪জিবিপিএস।

বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, আইটিসিগুলোর মধ্যে ওয়ান এশিয়া অ্যালায়েন্স ৩৪ জিবিপিএস সরবরাহ করছে, যা গত বছরের শেষে ছিল ২৩ জিবিপিএস।

এর বাইরে ফাইবার অ্যাট হোম জুনের শেষে দিয়েছে ২৮ জিবিপিএস, যা গত বছরের শেষে ছিল ১৭ জিবিপিএস। ম্যাঙ্গো টেলি সার্ভিসেস ডিসেম্বর শেষে ১০ জিবিপিএসের বিপরীতে জুনে ১৩ জিবিপিএস বিক্রি করেছে। সামিট কমিউনিকেশনসের বিক্রির পরিমান জুনে ছিল ১৪ জিবিপিএস ও ডিসেম্বরে ৭ জিবিপিএস। নভোকম জুনে ৮ জিবিপিএস সরবরাহ করলেও ডিসেম্বরে ছিল মাত্র ৩ জিবিপিএসে। অন্যদিকে বিডি লিংক কমিউনিকেশন এখন ২ জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ সরবরাহ করলেও গত বছরের শেষে তারা দিয়েছিল ১ দশমিক ২ জিবিপিএস।

পরিসংখ্যান অনুযায়ি দেখা যায়, গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে ব্যান্ডউইডথের চাহিদা। ২০০৮ সালে ব্যান্ডউইডথের চাহিদা ছিল ৭ দশমিক ৫ জিবিপিএস। পরের বছর প্রায় ৮ জিবিপিএস, ২০১০ সালে ১৫ জিবিপিএস ও ২০১১ সালে প্রায় ২৩ জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ ব্যবহার হয়েছে। এ সময় পর্যন্ত বিএসসিসিএল ছিল স্থানীয় বাজারে ব্যান্ডউইথের একমাত্র জোগানদাতা।

পরে ২০১২ সালে আসে আইটিসি কোম্পানিগুলো। আর তখন থেকেই ভারত থেকে দেদারছে কম দামে ব্যান্ডউইথ আসতে থাকে। ফলে ব্যান্ডউইথের চাহিদাও বাড়তে থাকে লাফিয়ে লাফিয়ে।

বিএসসিসিএলের ব্যান্ডউইডথের দাম কমানোও এক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে। ২০০৮ সালে দেশে প্রতি মেগাবিটস পার সেকেন্ড (এমবিপিএস) ব্যান্ডউইডথের দাম ছিল ৭২ হাজার টাকা। গত বছর এপ্রিলে তা সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮০০ টাকা। এ বছরের সেপ্টেম্বরে তা আরও কমে যায়।

অন্যতম শীর্ষ আইটিসি প্রতিষ্ঠান ফাইবার অ্যাট হোমের চিফ স্ট্র্যাটেজিক অফিসার সুমন আহমেদ সাবির বলেন, প্রতিযোগিতামূলক দামে ব্যান্ডউইডথ সরবরাহ করছে আইটিসিগুলো। বিএসসিসিএলের তুলনায় কম দামে ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করায় এসব প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক বাড়ছে।

তার মতে, বছর শেষ হতে হতে দেশে ব্যান্ডউইথের ব্যবহার ২০০ জিবিপিএসের কাছাকাছি চলে আসবে।

বর্তমানে দেশে ইন্টারনেট সেবার সংযোগ আছে ৫ কোটি ২২ লাখ ২৯ হাজার। ব্যান্ডউইথের দম আরও কমলে তা ইন্টারনেট গ্রাহক বাড়াতেও ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন সবাই।

সরকারের সর্বনিম্ন দামের ইন্টারনেট কেনেনি কেউ

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সরকার নতুন করে ইন্টারনেটের দাম ব্যাপক হারে কমালেও তাতে আগ্রহ নেই ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে ( আইআইজি) কোম্পানিগুলোর।

ব্যান্ডউইথের এ পাইকারি ক্রেতারা নতুন দরে না কেনায় গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেটের দাম কমার বাস্তবতা অনেক দূরে। কেননা আইআইজিগুলোর কাছ থেকে ব্যান্ডইউথ কেনে আইএসপিগুলো, যা হাতবদল হয়ে গ্রাহাকের কাছে পৌঁছায়।

বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল) সেপ্টেম্বরের ১ তারিখ থেকে ইন্টারনেটের দাম কমিয়ে প্রতি এমবিপিএস ব্যান্ডউইথ ৬২৫ টাকা নির্ধারণ করে।

কিন্তু ১০ জিবিপিএসের বান্ডেল নেয়ার শর্তে বিএসসিসিএলের ৬২৫ টাকা এমবিপিএসের এই ব্যান্ডউইথ এখনও কেনেনি কোনো আইআইজি (ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে)।

সোমবার বিএসসিসিএল কর্মককর্তারা জানান, ৬২৫ টাকার ব্যান্ডউইথ এখনও কেউ না নিলেও ৩টি কোম্পানি আগামী তিন-চার মাসে মধ্যে তাদের ৫ জিপিবিএসের বান্ডেল থেকে ১০ জিবিপিএসে উন্নীত হবে এমন আলোচনা চলেছে। তবে বিটিসিএলসহ চারটি কোম্পানির নতুন দামে ব্যান্ডউইথ কেনার কারণে বিএসসিসিএলর মোট বিক্রি ১০ জিবিপিএস বেড়েছে।

৫ জিপিবিএস বাল্ডেলে প্রতি এমবিপিএস ব্যান্ডউইথের দাম ৬৮০ টাকা।

internet-freedom_Tech Shohor

অন্যদিকে দাম কমানোর ঘোষণার প্রথম থেকেই আইআইজি, আইএসপি ও মোবাইল অপারেটরগুলো বলে আসছিলো শর্ত সাপেক্ষে ব্যান্ডউইথ ক্রয় এবং বিপণন ব্যবস্থার কারণে গ্রাহক পর্যন্ত এই দাম কমানো সুফল পৌঁছাবে না।

আইআইজি প্রতিষ্ঠান ফাইবার অ্যাট হোম যারা ব্যান্ডউইথ আমদানিকারক  ইন্টারন্যাশনাল টেরেস্ট্রিয়াল কেবল (আইটিসি) কোম্পানিও। কোম্পানিটির চিফ স্ট্রাটেজিক কর্মকর্তা সুমন আহমেদ সাবির টেকশহরডটকমকে জানান, ১০ জিবিপিএস বান্ডেল কেনার সামর্থ্য হাতেগোনা কয়েকটি আইআইজির রয়েছে। বিষয়টি আমরা আগেই বলে আসছিলাম। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে তারাও তা কিনবে কিনা তা নিয়ে ভাববার বিষয় আছে।

তিনি বলেন, আইটিসিগুলো এখন ভারত থেকে প্রতি এমবিপিএস ব্যান্ডউইথ ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকায় কেনে। এরপর বেনাপোল থেকে ট্রান্সমিশন, ব্যবস্থাপনা সব খরচ দিয়েও তারা আইআইজিগুলোর কাছে মাত্র ৬৫০ টাকায় প্রতি এমবিপিএস বিক্রি করে। যেখানে বিএসসিসিএলর মতো শর্ত নেই। আর এ কারণেই আইটিসিগুলো বড় হচ্ছে ।

বিএসসিসিএল যদি সত্যিই গ্রাহক পর্যায়ে কম দামে ইন্টারনেট দিতে চায় তাহলে তাদের আইআরইউ এবং আইপিএলসি ব্যান্ডউইথের দাম যৌক্তিকভাবে কমাতে হবে বলে উল্লেখ করেন এই ইন্টারনেট বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তা।

bsccl-techshohor

আর দু’বছর আগেও বিএসসিসিএলের ব্যান্ডউইথের ব্যবহার ছিল ৪৩ জিবিপিএস। পরে তা কমতে কমতে ২৫ জিবিপিএসে নেমে এসেছিল। যদিও বাজারে নিম্নমুখী চাহিদাকে টেনে তুলে আগের অবস্থানে নিয়ে যেতে এখন নানা কাজ করছে কোম্পানিটি।

সাম্প্রতিক সময়ে অবস্থার অবশ্য কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে কোম্পানিটির ৩৩ জিবিপিএস স্থানীয় বাজারে ব্যবহার হচ্ছে।

দেশের বর্তমান ইন্টারনেটের চাহিদার ১২৫ মধ্যে বিএসসিসিএলের এই ৩৩ জিবি ছাড়া বাকি ৯২ জিবিই দিচ্ছে আইটিসি কোম্পানিগুলো। অথচ ২০০ জিবি ব্যান্ডউইথ রয়েছে বিএসসিসিএলের।

বিএসসিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ার হোসেন গত ৯ আগস্ট এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, ‘বাংলাদেশ একটি মাত্র সাবমেরিন কেবলে যুক্ত থাকায় বিকল্প হিসেবে ইন্টারনেট সেবা নিরবিচ্ছিন্ন রাখেতে ভারত থেকে ব্যান্ডউইথ আমদানি করা হয়।’

কিন্তু স্থানীয় বাজারের পরিসংখ্যান বলছে, আইটিসিগুলো বিকল্প হিসেবে থাকলেও তারাই এখন আমদানিকৃত ব্যান্ডউইথে বিএসসিসিএলের প্রায় তিনগুণ বাজার দখল করে রয়েছে।

আরও পড়ুন: 

আইটিসি কাটা পড়ায় ঢাকায় ইন্টারনেট সংযোগ বিঘ্নিত

অনন্য ইসলাম, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ইন্টারন্যাশনাল টেলিস্ট্রেরিয়াল ক্যাবল (আইটিসি) কাটা পড়ায় ঢাকায় ইন্টারনেট সংযোগ বিঘ্নিত হচ্ছে। মঙ্গলবার দুপুর থেকে রাজধানীর বেশিরভাগ এলাকার গ্রাহকরা এ কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন।

আইটিসি ক্যাবলের মাধ্যমে ভারত থেকে ছয়টি কোম্পানি ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করত। সাভারের অদূরে চন্দ্রার কাছে আইটিসি কাটা পড়ে। মঙ্গলবার দুপুরের দিকে এ ঘটনা ঘটে। কাটা পড়ার স্থান চিহ্নিত করার পর তা মেরামতে কাজ শুরু হয়েছে।

Fibre-optic_cable_techshohor

আইটিসির সেবা গ্রহণকারী ফাইবার অ্যাট হোমের চিফ স্ট্রাটেজিক কর্মকর্তা সুমন আহমেদ সাব্বির ক্যাবল কাটা পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে টেকশহরডটকমকে বলেন, এটি মেরামত করতে আরও দুই থেকে তিন ঘন্টা সময় লাগবে। এ ক্যাবল কাটা পড়ায় আইটিসি থেকে সেবা গ্রহণকারী ছয়টি প্রতিষ্ঠানের সংযোগ বিঘ্নিত হয়েছে। তাই ঢাকা ও আশেপাশের ইন্টারনেট সংযোগ বিঘ্নিত হচ্ছে।

ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারা জানান, সরকার সাবমেরিন ক্যাবলের বিকল্প হিসাবে ভারত থেকে ব্যান্ডউইথ আমদানির জন্য এ সংযোগ নিয়েছিল। ছয়টি কোম্পানি ব্যান্ডউইথ আনার মাধ্যমে এ সেবা দিচ্ছে। কিন্তু বর্তমানে সরকারি সাবমেরিন কোম্পানির ব্যান্ডউইথের চেয়ে এগুলোর দাম অনেক কম হওয়ায় বেশিরভাগ ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান এদের কাছ থেকে সংযোগ নিচ্ছে। এ কারণে ঢাকায় এ সমস্যা দেখা দিয়েছে।