অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ডেভেলপ শিখুন বিনামূল্যে

মোশাররফ রুবেল, অ্যাপ ডেভেলপার  অতিথি লেখক : সাম্প্রতিক ট্রেন্ডিং ক্যারিয়ারগুলোর মধ্যে গুগলের অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট অন্যতম। আপনি হয়ত অনেকবার ভেবেছেন এ কাজটি শিখবেন। সময় ও সুযোগের অভাবের পাশাপাশি পর্যাপ্ত রিসোর্স ও গাইডের অভাবে শুরু করা হয়নি। তবে আপনার এ হতাশা কাটবে ইউডেমিতে যোগ দিলে।

এটি এমন একটি প্লাটফর্ম যেখানে যুক্ত হয়ে অ্যাপ ডেভেলপের মতো জটিল কাজও আপনি সহজে ও একেবারে বিনামূল্যে শিখতে পারবেন। ইউডেমিতে সেরা ডেভেলপাররা যুক্ত হয়ে তৈরি করেছে চমৎকার অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট কোর্স।

ইতিমধ্যে প্রায় ৪৬ হাজার শিক্ষার্থী কোর্সটি থেকে শিখেছে অ্যাপ ডেভেলপের সবকিছুই। প্রায় সাড়ে ১২ ঘন্টার এ কোর্সে রয়েছে স্ক্যার্চ থেকে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট শেখার সব উপাদান। অর্থাৎ শুরু থেকে একজন ডেভেলপার হয়ে ওঠা পর্যন্ত সবকিছুই।

learn-android-development-techshohor

১২১ লেকচারের কোর্সটিকে সাজানো হয়েছে ১৫ সেকশনে। ১৫ বছরের বেশি অভিজ্ঞতার অ্যাডাম লুপু ও অ্যাডাম শোয়েম কোর্সটি তৈরি করেছেন বেশ গবেষণা করে।

অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ডেভেলপের জন্য সবচেয়ে দরকারি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ হচ্ছে জাভা। তাই কোর্সের প্রথম সেকশনে রয়েছে জাভার সম্পর্কে লেকচার। জাভা কি, জাভার সিম্বল, ম্যাথড, ডাটা টাইপ ভ্যারিয়েবল ইত্যাদি।

মেমরি ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রামিং বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। ভালো প্রোগ্রামার কিংবা ডেভেলপার হতে গেলে আপনাকে অবশ্যই এটা জানতে হবে। ব্যতিক্রমধর্মী এ কোর্সের দ্বিতীয় অধ্যায়ে তুলে ধরা হয়েছে বিষয়টি। কম্পিউটারের মেমরি সম্পর্কেও জানা যাবে এ সেকশনে।

অ্যারে, লিস্ট, ম্যাপ ইত্যাদি নিয়ে সাজানো হয়েছে তৃতীয় অধ্যায়। মূলত ডেটা স্ট্রাকচার সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারনা মিলবে এখানে।

learn-android-development-techshohor

ইফ এলস, ফর লুপ, ডু হোয়াইল, নেস্টেড লুপ, হোয়াইল, ব্রেক, সুইচ – খুব পরিচিত কী-ওয়ার্ড প্রোগ্রামাদের কাছে। যারা নতুন কোডিং শিখছেন তাদের জন্য এ কী-ওয়ার্ডগুলো অন্যরকম উত্তেজনা নিয়ে দেখা দেয়। এসব নিয়েই ধারণা দেয়া হয়েছে চতুর্থ অধ্যায়ে।

অবজেক্ট অরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং ও ডেটা ম্যানুপুলেশন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে কোর্সটির পরবর্তী দুই অধ্যায়ে।

সপ্তম অধ্যায়ে থাকবে এক্সএমএলের বেসিক সম্পর্কে ধারণা। এক্সএমএল কি, আপনার অ্যাপের ইউজারের সঙ্গে এক্সএমএলের সম্পর্ক জানা যাবে এখানে।

অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ডেভেলপের ক্ষেত্রে ইউজার ইন্টারফেস ডিজাইনের জন্য মূলত এক্সএমএল জানা প্রয়োজন।

অ্যান্ড্রয়েডের ইন্টেন্ট, অ্যাক্টিভিটি, অ্যাক্টিভিটির লাইফ সাইকেল ও অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম সম্পর্কে জানা যাবে আট নম্বর অধ্যায়ে। সাতটি লেকচারের সাহায্যে সাজানো হয়েছে এ অধ্যায়।

লিস্ট আইটেম কিভাবে দেখানো যাবে অ্যান্ড্রয়েডে? শুধু লিস্ট ভিউ, কাস্টম লিস্টভিউ, অ্যাডাপটর, কাস্টম অ্যাডাপটর নিয়েই সেকশন নয়।

learn-android-development-techshohor

পরবর্তী অধ্যায়গুলোতে দেখানো হবে ফ্র্যাগমেন্ট, ন্যাভিগেশ, শেয়ার্ড প্রেফারেন্স, নেটওয়ার্কিং, এপিআইসহ জেসন ডেটা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা।

১১৪ নম্বর লেকচার পর্যন্ত অ্যান্ড্রয়েডের এ মৌলিক বিষয়গুলো শেখানো হবে বিনামূল্যের এ কোর্সে।

কোর্সের শেষ দিকে ১৪ নম্বর অধ্যায়ে কিভাবে অ্যাপসস্টোরে অ্যাপ পাবলিশ করতে হবে তা নিয়ে জানানো ও শেখানো হবে শিক্ষার্থীদের।

অ্যামাজন স্টোরে কিভাবে ডেভেলপার অ্যাকাউন্ট করতে হবে ও অ্যাপ আপলোড করতে হবে সেটিও দেখানো হবে এ অধ্যায়ে।

চমৎকার এ কোর্সের শেষ অধ্যায় থেকে জানা যাবে নিজেকে অ্যান্ড্রয়েড ডেভেলপার হিসবে গড়ে তোলার পদক্ষেপগুলো।

সম্পূর্ন বিনামূল্যের কোর্সটিতে প্রবেশ করা যাবে ইউডেমির এ লিংক থেকে।

rubel

 

 

 

আরও পড়ুন

সর্বকনিষ্ঠ দু’সহদর ডেভেলপারের কোম্পানি চালানোর গল্প

শামীম রাহমান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : শ্রাভান কুমারান ও সঞ্জয় কুমারান। এই দু’ভাইয়ের বয়স এখন যথাক্রমে ১৫ ও ১৪ বছর। তিন বছর আগে তাদের বয়স কত ছিল সেটা খুব সোজা অংক। অথচ ২০১২ সাল থেকে তারা একটি কোম্পানি চালাচ্ছেন, শুনলে তা খুব সহজ মনে হবে না, নিশ্চই। ভাবছেন, এই বাচ্চারা আবার কি কোম্পানি চালাবে?

অবাক লাগলেও এই দু’সহোদর মিলে ‘গো-ডাইমেনশন’ নামের একটি অ্যাপস ডেভেলপার কোম্পানি চালাচ্ছেন। এদের মধ্যে শ্রাভান ভারতের মধ্যে ও সঞ্জয় বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সি অ্যাপ ডেভেলপার।

তারা ভারতের কনিষ্টতম সিইও। এ সহদরেরা জাভাতে পারদর্শী এবং তারা এ পর্যন্ত অ্যাপল স্টোরের জন্য ১১টি অ্যাপস তৈরি করেছে, যা ২২ দেশ থেকে ৩৫ হাজার বার ডাউনলোড । তারা অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস ডেভেলপের কাজও পারেন।

27TH_WHIZZKIDS_1249231f

অ্যাপস ডেভেলপের শুরু সম্পর্কে অনুজ সঞ্জয় বলেন, ‘শুরুতে বই পড়তাম ও বইয়ে থাকা বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করতাম। এভাবে এক সময় আমরা প্রোগ্রামিং করা শিখে যাই। এখন পর্যন্ত আমরা ১১টি অ্যাপস তৈরি করেছি এবং আরও বেশ কয়েকটি উইন্ডোজ অ্যাপ বের করার পথে রয়েছি’।

মূলত বাবা কুমারান সুরেন্দ্রনের সহযোগিতায় এই দুই সহোদর অ্যাপস ডেভেলপ করার পাশাপাশি নিজেদের একটি কোম্পানি খুলে বসতে পেরেছে। এ প্রসঙ্গে শ্রাভান বলেন, বাবার সহায়তা ও অনুপ্রেরণাতেই তাদের কোম্পানি আজ এ জায়গায় পৌঁছেছে। তিনি আমাদের বিভিন্ন আইডিয়া গ্রহণ করে সেগুলো কিনে নেন।

কুমারান সুরেন্দ্রন কগনিজেন্ট টেকনোলজি সল্যুশন নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ভাইস প্রেসিডেন্ট।

এ দুই সহোদর তাদের নিজস্ব ভার্চুয়াল বাস্তবতার অ্যাপও তৈরি করেছেন। এটির প্রসঙ্গে সঞ্জয় বলেন, আমাদের হেডসেট ব্যবহার করে আপনার ফোনটিতে ভার্চুয়াল বাস্তবতা উপভোগ করতে পারেন। এ ধরনের অ্যাপ বাজারে আরও পাবেন। তবে সেগুলো বেশ দামি। ২৬ হাজার থেকে ৪০ হাজার রুপি পর্যন্ত। কিন্তু আমাদের ডিভাইসটি পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৭৯৯ রুপিতে।

তাদের প্রথম অ্যাপটি আইওএসে যুক্ত হয়ে পলাতক আসামি ধরার কাজে ব্যবহৃত হয়েছে।

তাদের তৈরি অন্যান্য আইওএস অ্যাপ হলো- ‘আলফাবেট বোর্ড’, ‘প্রেয়ার প্লানেট’, ‘কার রেসিং’, ‘সুপার হিরো জ্যাকপট’, ‘‌কালার প্লেট্টি’ ও ‘ইমার্জেন্সি ডায়ালার’।

শ্রাভান বলেন, বাবা-মা সব সময় তাদের কাজে সমর্থন দিয়ে এসেছেন। তারা না থাকলে কোম্পানিটি এতদূর নিয়ে আসতে পারত না। সে জানায়, ‌”আমি এবং আমার ভাই সব সময় চাইতাম আমাদের একটি নিজস্ব কোম্পানি দিতে, যেখানে ভিন্ন ধরনের আইডিয়া ডেভেলপ করা যাবে। বাবা সব সময় বলতেন, পড়াশোনা করে চাকরি করার মধ্যবিত্ত চিন্তা ধারা ভেঙে নতুন কিছু করতে।”

এ দুই ক্ষুদে প্রোগ্রামারের স্বপ্ন, খুব শিগগির বিশ্বের ৫০ ভাগ স্মার্টফোন কোম্পানিগুলো তাদের তৈরি অ্যাপস ব্যবহার করবে।

ছোট্ট বয়সে যারা এতকিছু করে ফেলেছেন, তাদের এ রকম স্বপ্ন না থাকাটাই অস্বাভাবিক।

দ্য ইকোনমিক টাইমস অবলম্বনে শামীম রাহমান