হুয়াওয়ে জিআর৫ : ডিজাইনের হতাশা কাটবে ডিসপ্লে, ডুয়াল ক্যামেরায়

এস এম তাহমিদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ডুয়াল ক্যামেরার হুয়াওয়ে পি৯ বাজারে বেশ সাড়া ফেলে দেয়ার পর থেকে মাঝারি মূল্যের ফোনেও সেটি যোগ করতে শুরু করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে স্বল্প মূল্যের সংস্করণ হলো হুয়াওয়ে জিআর৫ ২০১৭, যা কিছু দেশে অনার ৬এক্স নামে পরিচিত।

মাঝারি স্পেসিফিকেশনের এ ফোনের মূল আকর্ষণ হিসেবে হুয়াওয়ে ডুয়াল ক্যামেরাকে প্রাধান্য দিলেও, এটি কি আসলেই অসাধারণ ছবি উপহার দিতে পেরেছে? চলুন দেখা যাক।

এক নজরে হুয়াওয়ে জিআর৫ ২০১৭ (অনার ৬এক্স নামেও পরিচিত)

gr51

  • ৫.৫ ইঞ্চি, ১৯২০x১০৮০ পিক্সেল রেজুলেশনের এলটিপিএস এলসিডি ডিসপ্লে
  • ডুয়াল সিম, হাইব্রিড স্লট
  • হাই-সিলিকন কিরিন ৬৫৫ প্রসেসর, চারটি ২.১ গিগাহার্জ ও চারটি ১.৭ গিগাহার্জ কোর সম্বলিত অক্টাকোর সিপিউ
  • মালি টি৮৩০এমপি২ জিপিউ
  • ৩ অথবা ৪ গিগাবাইট র‌্যাম, স্টোরেজের ওপর নির্ভর করে
  • ৩২ অথবা ৬৪ গিগাবাইট স্টোরেজ, হাইব্রিড মাইক্রোএসডি স্লট
  • অ্যান্ড্রয়েড ৬ মার্শম্যালোর ওপর তৈরি ইমোশন ইউআই অপারেটিং সিস্টেম, সামনে অ্যান্ড্রয়েড ৭ আসার কথা রয়েছে
  • ডুয়াল ব্যাক ক্যামেরা। একটি ১২ মেগাপিক্সেল, অপরটি ২ মেগাপিক্সেল। ফেইজ ডিটেকশন অটোফোকাস ও এলইডি ফ্ল্যাশ রয়েছে
  • ৮ মেগাপিক্সেল সেলফি ক্যামেরা
  • ১০৮০পি, ৩০ এফপিএস ভিডিও
  • মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট, হেডফোন জ্যাক
  • ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ, জিপিএস, এফ এম রেডিও
  • ফিংগারপ্রিন্ট স্ক্যানার
  • অপরিবর্তনযোগ্য ৩৩৪০ এমএএইচ ধারণ ক্ষমতার ব্যাটারি
  • মূল্য : ২০,৫০০-২২,০০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

ডিজাইন
অ্যালুমিনিয়াম চ্যাসিস ও সামনে গ্লাস প্যানেলে তৈরি ফোনটিতে বিল্ড কোয়ালিটির দিক থেকে হুয়াওয়ে কমতি রাখেনি। হাতে নেয়ার সময় প্রথমেই নজরে আসবে এর ওজন। ১৬২ গ্রাম নেহাত হালকা নয়। তবে ওজনের কারণে এটি বেশ শক্তপোক্ত মনে হবে।

সোনালী, ধূসর ও রূপালী এ তিন রঙের মধ্যে মূলত ধূসর রঙের মডেলটি ক্রেতাদের বেশি টেনেছে।

Huawei-GR5-2017-08-1

ডিজাইনের দিক থেকে তেমন নতুনত্ব নেই, বিশেষত যারা এর আগের জিআর৫ দেখেছেন তাদের কাছে প্রায় একই ফোন মনে হবে।

কোনও ক্যাপাসিটিভ বা হোম বাটন না থাকায় এটির ফ্রন্ট প্যানেলে ডিসপ্লের ঠিক নিচে কিছুটা খালি জায়গা রয়েছে – মনে হতে পারে কিছু একটা নেই। অনার মডেলটিতে অবশ্য সেখানে লোগো থাকায় সেটি তেমন প্রকট নয়।

ডিসপ্লেতে তেমন বেজেল নেই। এর চাইতে কম বেজেল শুধু ফ্ল্যাগশিপ ফোনের কাছেই আশা করা যায়। স্ক্রিনের ঠিক ওপরে রয়েছে ইয়ারপিস, ডান পাশে সেলফি ক্যামেরা ও বামে রয়েছে বেশ কিছু সেন্সর।

একমাত্র বেজেলে সাদা রঙ ব্যবহার করা হয়েছে, ধূসর ফোনে দেওয়া হয়েছে কালো রঙ।

পেছনের অংশ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে অ্যালুমিনিয়াম। নিচে ও উপরের কিছু অংশ সিগন্যাল অ্যান্টেনার জন্য প্লাস্টিক রাখা হয়েছে। পেছনে নিচের অংশে লোগো, মাঝে ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সর ও ঠিক তার ওপরে ডুয়াল ক্যামেরা ও ফ্ল্যাশ ছাড়া কিছুই নেই।

ক্যামেরা দুটি বরাবরের মতই বডি থেকে হালকা পরিমান বেরিয়ে রয়েছে। ক্যামেরা বাম্প যাদের পছন্দ নয়, তাদের কাছে যা দৃষ্টিকটু মনে হতে পারে।

এ ছাড়া ডানে রয়েছে ভলিউম কি ও পাওয়ার বাটন, বামে সিম স্লট ও মাইক্রো এসডি কার্ড ট্রে (মেমরি কার্ড ব্যবহারের জন্য ২য় সিম স্লট ছেড়ে দিতে হবে)। ওপরে রয়েছে হেডফোন জ্যাক ও নিচে স্পিকার গ্রিল, মাইক্রোফোন ও মাইক্রোইউএসবি পোর্ট।

সব মিলিয়ে, ডিজাইন ও বিল্ডে মানের দিক থেকে কোনও সমস্যা দেখা যায়নি। ডিজাইনে ফোনটি আর দশটি মাঝারি মূল্যের চীনা ব্র্যান্ডের চাইতে আলাদা নয়। আশা করা যায়. পরের সংস্করণে হুয়াওয়ে ডিজাইনে কিছু চমক দেখাবে।

Huawei-GR5-2017-10-2

ডিসপ্লে
মাঝারি মূল্যের ফোনে সাধারণত আইপিএস এলসিডি প্যানেলের ডিসপ্লে ব্যবহার করেই নির্মাতারা ক্ষান্ত দিয়ে থাকেন। এলটিপিএস ডিসপ্লে ব্যবহারে হুয়াওয়ে এখানে বেশ ব্যতিক্রম।

কেননা রঙ ও ভিউ অ্যাঙ্গেলের দিক থেকে আইপিএস এলসিডির চাইতে তেমন তফাত না হলেও এলটিপিএস প্যানেল আরও ব্যাটারি সাশ্রয়ী, আরও উজ্জ্বল এবং আরও ভালো কন্ট্রাস্ট দিতে সক্ষম।

এলটিপিএস প্যানেল ব্যবহারের ফলে ফোনটি কড়া রোদেও বেশ ভালভাবে ব্যবহার করা সম্ভব।  কন্ট্রাস্টের দিক থেকে এ তাসের প্রায় সব ফোনের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে ও কালার অ্যাকুরেসিও খুবই ভাল।

একমাত্র সমস্যা বলা যেতে পারে এলটিপিএস প্যানেলের হোয়াইট ব্যালেন্স সবসময়ই কিছুটা নীলচে থাকে, সেটি এখানেও রয়েছে। ব্রাইটনেসেরও কোনও কমতি নেই, ৫০০+ নিট ব্রাইটনেসের ডিসপ্লেটি অন্ধকারে ৫.৫ নিট পর্যন্ত নেমে যেতে সক্ষম।

সব মিলিয়ে ডিসপ্লের দিক থেকে ফোনটি দুর্দান্ত – যার একমাত্র বাজে দিক বলা যেতে পারে পিক্সেল ঘনত্ব। ৪০১ পিপিআইর ফোনটি ভিআর কন্টেন্ট দেখার উপযোগী নয়। এ দামে সেটা আশা করাও ভুল।

পারফরমেন্স
হুয়াওয়ের নিজস্ব কিরিন ৬৫৫ প্রসেসরটি মূলত মাঝারি কাজের জন্য তৈরি, যা সহজেই কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৬০০ সিরিজ ও মিডিয়াটেক অক্টাকোরের সঙ্গে টেক্কা দিতে সক্ষম। যদিও তা স্ন্যাপড্রাগন ৬৫0+ সিরিজের প্রসেসরের চাইতে বেশ পিছিয়ে রয়েছে।

চিপটিতে চারটি হাই পারফরমেন্স ও চারটি পাওয়ার সেভিং কোর ব্যবহার করা হয়েছে, যা কোয়ালকমের প্রসেসরের মতই। মিডিয়াটেকের সবগুলো একই কোর ব্যবহার থেকে ভিন্ন। আটটি সিপিউ কোর ছাড়াও একেবারে স্বল্প কাজের জন্য একটি লো পাওয়ার কোরও চিপটির মাঝে দেওয়া হয়েছে।

প্রসেসিং ক্ষমতার দিক থেকে কিরিন ৬৫৫ একমাত্র স্ন্যাপড্রাগন ৬৫২-এর চাইতে পিছিয়ে রয়েছে – তাও খুব বেশি নয়। তবে যারা ফোনে ভারি কাজ করে অভ্যস্ত তাদের স্ন্যাপড্রাগন ৬৫২ চালিত ফোন নেওয়াই ভালো হবে। তবে সেটি খুব বেশি ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

সিঙ্গেল কোর পারফরমেন্সের দিক থেকে পিছিয়ে থাকলেও সবগুলো কোর ব্যবহারের ফলে কিরিন ৬৫৫ স্ন্যাপড্রাগন ৬৫২কে বেশ ভালোভাবেই হারিয়ে দিয়েছে।

গ্রাফিক্সের ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার লক্ষ্য করা গেছে – একমাত্র স্ন্যাপড্রাগন ৬৫২ ছাড়া বাকি সব মাঝারি মূল্যের চিপসেটকেই হারিয়ে দিয়েছে মালি টি৮৩০এমপি২।

গেইম খেলার জন্য যারা ফোন কিনতে চাচ্ছেন তাদের আশাহত হবার কোনও প্রয়োজন নেই। এটিতে সব গেইম ভালোভাবে খেলা যাবে। তবে হাই গ্রাফিক্সে খেলার আশা ছেড়ে দিতে হবে।

Huawei-GR5-2017-12-1

র‌্যামের ঘাটতি ফোনটির কোনও সংস্করণেই নেই। ৩ গিগাবাইট র‌্যামে মাল্টিটাস্কিং খুবই স্মুথ। ৪ গিগাবাইট র‌্যামের সংস্করণে স্বাভাবিকভাবেই গতি আরও বেশি।

তবে স্ন্যাপড্রাগন ৬৫২-এর চাইতে পারফরমেন্সে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও কিরিন ৬৫৫ টানা চলার সময় গরম কিছুটা কম হয়ে থাকে। বেশ কিছু অ্যাপ্লিকেশন এক সঙ্গে চালানাের ক্ষেত্রেও কিরিন ৬৫৫ বেশ এগিয়ে।

অতএব একটি অ্যাপ্লিকেশনে পারফরমেন্স জরুরি, নাকি দীর্ঘ সময় কম গরমে ফোন চালু রাখা জরুরি- সেটির উপর নির্ভর করে ব্যবহারকারীরা কোন প্রসেসর সমৃদ্ধ ফোন কিনবেন তা নির্ধারণ করা উচিৎ।

edf

ক্যামেরা
ফোনটির মূল আকর্ষন ডুয়াল ক্যামেরা। ১২ মেগাপিক্সেল মূল সেন্সরের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ায় ২ মেগাপিক্সেল ক্যামেরাটি ছবির গভীরতা নির্ণয়ের কাজ করে। এটি ব্যবহার করে ক্যামেরাটি f/0.95 থেকে f/16 পর্যন্ত ভার্চুয়াল অ্যাপার্চারে ছবি তুলতে সক্ষম।

তবে মনে রাখতে হবে এটি লেন্সের অ্যাপার্চার নয়, বরং এটি ব্যবহার করে অ্যাপার্চার কমানো বা  বাড়ানোর ইফেক্ট ছবিতে যোগ করা হয়ে থাকে।

ডুয়াল ক্যামেরার এ বিশেষ মোড ছাড়া  জিআর৫ ২০১৭ ফোনটি সাধারণ মোডেও ছবি তুলতে সক্ষম। বরং বলা যেতে পারে, ওয়াইড অ্যাপার্চার মোড ছাড়া ডুয়াল ক্যামেরার তেমন কোনও ব্যবহারই আসলে ফোনটিতে নেই।

সাধারণ অটো মোডে ছবি তোলার সময় দেখা গেছে এক্সপোজার, ডাইনামিক রেঞ্জ ও নয়েজের দিক থেকে ফোনটি বেশ পিছিয়ে রয়েছে। বিষয়টি ক্যামেরাকেন্দ্রিক একটি ফোনে ঠিক মেনে নেয়া যায় না। কেননা কাছাকাছি মূল্যে আরও ভাল ক্যামেরার ফোন বাজারে রয়েছে।

লো-লাইট বা এইচডিআর মোডের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা রয়েছে। যেখানে ডুয়াল ক্যামেরা ব্যবহারে দুটি ক্ষেত্রেই ছবিতে বেশ ভাল পরিমানে মান-উন্নয়ন করা যেত, সেখানে হুয়াওয়ে সেটি ব্যবহার না করার সিদ্ধান্তটি নিয়ে বেশ নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দিয়েছে।

একই সমস্যা ডুয়াল ক্যামেরা ব্যবহারকারী মোড ওয়াইড-অ্যাপার্চার শটেও রয়ে গিয়েছে – শুধু পার্থক্য বোকেহ যুক্ত করা বা না করা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ।

sdr
sdr

সেলফি ক্যামেরাতেও ডাইনামিক রেঞ্জের অভাব অপরিবর্তিত রয়েছে। ৮মেগাপিক্সেল রেজুলেশনের ফ্রন্ট ক্যামেরাটিতে সাবজেক্টের ডিটেইল ভালোভাবে বোঝা গেলেও, ব্যাকগ্রাউন্ড ডিটেইল ও হাইলাইটস নষ্ট হয়ে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, স্টিল ক্যামেরার প্রায় সকল সমস্যা ভিডিওর ক্ষেত্রে নেই। শার্পনেসের অল্প ঘাটতি আর স্টেবিলাইজেশনের অভাব ছাড়া ১০৮০পি ভিডিওগুলোর অন্য কোনও দিকে তেমন ঘাটতি দেখা যায় নি।

এমনকি, ক্যামেরা অ্যাপটি ভিডিওর ক্ষেত্রেও ম্যানুয়াল মোডে রেকর্ড করার সুবিধা দিচ্ছে – যা অনেক ফ্ল্যাগশিপেও নেই।

সব মিলিয়ে বলা যেতে পারে, ফোনটিতে ক্যামেরা হার্ডওয়্যারে কোনও ঘাটতি নেই। সমস্যা মূলত সফটওয়্যারে।

আশা করা যেতে পারে ভবিষ্যতের আপডেটে সেটি শুধরে নেয়া হবে। এর আগে পর্যন্ত ফোনটির ক্যামেরার কোয়ালিটি নিয়ে বেশ হতাশ হওয়া ছাড়া গতি নেই।

সাউন্ড কোয়ালিটি
সাউন্ড কোয়ালিটির দিক থেকে এটি বেশ এগিয়ে। এ দামের অনেক ফোনের হেডফোনে কম ভলিউমে সাউন্ড দেয়ার প্রবণতা রয়েছে। এক্ষেত্রে সে সমস্যাটি নেই – তবে স্টেরিও ক্রসটক ও ফ্রিকুয়েন্সি রেসপন্সের দিক থেকে কিছুটা ঘাটতি রয়ে গেছে।

সব মিলিয়ে বলা যেতে পারে, মাঝারি মূল্যের এ ফোন বেশ ভালো মিউজিক প্লেয়ার হতে পারে।

Huawei-GR5-2017-05-1

ব্যাটারি লাইফ
ক্যামেরার মতই ব্যাটারি লাইফেও কিছুটা মিশ্র পারফরমেন্স দেখা গেছে। মূলত স্ট্যান্ডবাই টাইমের দিক থেকে পারফরমেন্স খুবই ভালো। অন্তত ৬-৭ ঘন্টা বা আরও বেশি স্ক্রীন অন টাইম পাওয়ার আশা করা যেতেই পারে।

এর খারাপ দিকটি হচ্ছে, বিশাল সাইজের ব্যাটারিটি দ্রুত চার্জের কোনও উপায় নেই। হুয়াওয়ে কোনও প্রকারের ফাস্ট চার্জিং সুবিধা যুক্ত করেনি।

এক নজরে ভাল

  • বিল্ড কোয়ালিটি
  • ব্যাটারি লাইফ
  • প্রসেসিং ক্ষমতা ও মাল্টি-টাস্কিং
  • মিউজিক প্লে-ব্যাকের মান
  • ডিসপ্লে কোয়ালিটি

এক নজরে খারাপ

  • মাঝারি মানের ক্যামেরা
  • কিছুটা দুর্বল জিপিউ
  • মূল্য অনুসারে কিছুটা পানসে ডিজাইন

মূল্য: বাজারে ৩২গিগাবাইট সংস্করণটি ২১,৯০০ টাকায় ও ৬৪ গিগাবাইট সংস্করণটি ২৭,৯০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। তবে অনানুষ্ঠানিক ভাবে দেশে আসা ফোনগুলোর মূল্য এর থেকে বেশ কিছুটা কম হতে পারে, তবে সে ক্ষেত্রে ওয়ারেন্টি পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।