Maintance

থ্রিজিতে বিনিয়োগ ৩০ হাজার কোটি টাকা, ফোরজিতে অনীহা

প্রকাশঃ ৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, এপ্রিল ১৮, ২০১৭ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, এপ্রিল ১৮, ২০১৭

আর এস হুসেইন, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : থ্রিজির জন্য অপারেটররা প্রায় ত্রিশ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছে বলে জানিয়েছে মোবাইল ফোন অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটব।

কিন্তু সেই অর্থের বিনিময়ে তারা কেউই এখনও থ্রিজি হতে লাভ ঘরে তুলতে পারেনি।

সে কারণে সম্প্রতি টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমকে লেখা চিঠিতে নানা কথা বলার মাঝেও ফোরজির বিষয়ে তাদের খানিকটা অনিহা ধরা পড়েছে।

তারা বলছেন, এতো বিনিয়োগ করেও যেখানে লাভ পাওয়া যাচ্ছে না সেখানে ফোরজির জন্য বাজার কতটা তৈরি আছে সেটিও দেখতে হবে।

অপারেটরগুলো বলছে, বাজারে এ মুহূর্তে খুব কম হ্যান্ডসেট আছে যেখানে ফোরজির সুবিধা রয়েছে। তাছাড়া নূন্যতম গ্রাহক প্রতি আয়, উচ্চ মাত্রার ট্যাক্সও তাদের জন্য ফোরজিতে বিনিয়োগ করা বড় প্রতিবন্ধকতা।

tower-techshohor

সম্প্রতি ফোরজির জন্য বিটিআরসি একটি প্রস্তাবিত নীতিমালা সরকারের অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছে। যা ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে এখন বিবেচনার জন্যে রয়েছে। সেখানে ফোরজি সেবার ক্ষেত্রে রাজস্ব ভাগাভাগির পরিমাণ বৃদ্ধি করে ১৫ শতাংশে উন্নীত করতে বলেছে বিটিআরসি।

বর্তমানে সকল সেবার ক্ষেত্রে রাজস্ব ভাগাভাগি করা হয় সাড়ে পাঁচ শতাংশ। আরও এক শতাংশ অপারেটররা দেয় সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলে।

এক লাফে রাজস্বের এত বড় ভাগ অপারেটরা ছাড়তে নারাজ। তারা বলছেন, তাদের মোট আয়ের ৪৭ শতাংশই সরকারের কোষাগারে চলে যায়। এটি আরও বাড়াতে বললে তাদের আর কিছুই থাকবে না।

এর আগে অ্যামটব মহাসচিব টিআইএম নূরুল কবীর টেকশহরডটকমকে বলেন, ‘আমরা পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে যেটা জেনেছি তাতে যে ধরণের নীতিমালা করা হচ্ছে সেখানে বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।’

ফোরজির স্পেকট্রামের জন্য এত ফি দিয়ে বিষয়টি সম্ভব হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এত ফি সম্ভব না, বিজনেস কেইস কোথায়? আমি থ্রিজি নিলাম এত টাকা দিয়ে, থ্রিজি ব্যবহার করার সুযোগ নিতে পারলাম না। বাংলাদেশে এখন ফোরজি হ্যান্ডসেট আছে ৩ হতে ৪ শতাংশে। আমার ইকোসিস্টেম তো রেডি হতে হবে। এটা না হলে কীভাবে হবে?’

‘আমি অকশনে যাবো, অকশনে যাওয়ার জন্য আমাদের বিজনেস কেইসটাও দেখা দরকার, আমাদের পেন্ডিং সে সমস্যাগুলো আছে সেগুলো সরকারের কনসিডার করা উচিত। ইনভেস্টররা যাতে উৎসাহিত হয় সেই জিনিসগুলোকে বিবেচনায় নিয়ে অকশন গাইডলাইন তৈরি করা উচিত।’

নূরুল কবীর বলেন, ‘যে নীতিমালার কথা আমরা শুনছি তা বিনিয়োগ বান্ধব নয় এবং এখানে ব্যবসায়িক অবস্থাও নেই, এটা অবাস্তব। আমরা বরং সরকারকে বলবো টেকনোলজি নিউট্রালিটি এবং শেয়ারিংয়ের জায়গাগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে এবং এতেই কোয়ালিটি অব সার্ভিস বাড়বে।’

চিঠিতেও এই বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

*

*

Related posts/