ফটো নিয়ে কাড়িকুড়ির দারুণ অ্যাপস-কৌশল

শাহরিয়ার হৃদয়, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ডিজিটাল ক্যামেরার যুগ এখন। প্রতিদিন কত ছবি যে তোলা হচ্ছে নিজেদেরই অনেক সময় তা খেয়াল থাকে না। কিছু ছবি ফেসবুকে হয়ত শেয়ার করা হচ্ছে; কিন্তু বেশিরভাগ ছবিই হয়ত হার্ডডিস্কের কোনায় পড়ে থাকছে। তাইতো হাজারো ছবির ভিড়ে প্রয়োজনের সময় ঠিক ছবি খুঁজে পাওয়া কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে।

কিছু কাজের অ্যাপস ও পদ্ধতি অনুসরণ করে আপনার প্রিয় ফটোগুলোর পুরো সদ্ব্যবহার করতে পারেন। এতে একদিকে সময় ও স্পেস বাঁচবে, আবার ফটো অযত্নে হারিয়ে যাবে না।

photo apps_techshohor

ফটো স্লাইডশো তৈরি
ডেস্কটপ বা স্মার্টফোনে ফটো স্লাইডশো তৈরি করা এখন খুবই সহজ। প্রচুর সফটওয়্যার কিংবা অ্যাপ রয়েছে। ক্যাটাগরি কিংবা আপনার পছন্দমতো ছবি পরপর সাজিয়ে খুব সহজে স্লাইড বানিয়ে সংরক্ষণ করে রাখতে পারেন ছবিগুলো।

অ্যান্ড্রয়েডের ডেফ্রেম নামে অ্যাপটি এক্ষেত্রে অনেকের পছন্দ হতে পারে। সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করা ফটো থেকেও এটি সরাসরি স্লাইড তৈরি করতে পারে।

ফটো থেকে মুভি!
আপনার যে কোন ডিভাইসে থাকা ফটোগুলো থেকে ছোটখাটো একটি মুভি বানাতে পারেন খুব সহজে! এর জন্য কাজে আসবে ম্যাজিস্টো নামে একটি অ্যাপ। এর ব্যবহারবিধি সাধারণ হওয়ায় যে কেউ মুভি তৈরি পারবেন। সঙ্গে সাউন্ড এফেক্ট যুক্ত করা যাবে।

এ অ্যাপটি ফ্রি ভার্সনে বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে; কিন্তু পেইড ভার্সন থেকে নতুন ধরনের আনন্দ পাওয়া যাবে।

ফটো দিয়ে আয়
ফ্লিকারের মতো শীর্ষ ফটো শেয়ারিং সাইটগুলো কেবল উচ্চ রেজুল্যুশনের ডিএসএলআর ক্যামেরার ফটো সাপোর্ট করে। কিন্তু আপনি যদি ততটা পেশাদার না হন, তাহলে ফোনস্টকফটো (www.phonestockfoto.com) কিংবা রুমদ্যএজেন্সি(www.roomtheagency.com) সাইটে যেতে পারেন। এখানে সাধারণ ফটোও শেয়ার করতে পারেন। যে কেউ সে ফটো কিনতে পারবেন। বিক্রির টাকার ৪০ ভাগ ফটোগ্রাফার পাবেন।

ব্যাকআপ রাখুন
হাতে হাতে ক্যামেরা ফোন থাকায় স্বাভাবিকভাবেই আমরা এখন যে কোন সময়ের চেয়ে বেশি ছবি তুলি। তোলা যত সহজ, হারিয়ে ফেলাও কিন্তু ততটা কঠিন নয়। কিংবা শত শত ছবির ভিড়ে দরকারের সময় পছন্দের ছবি না পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

তাই অন্য কাজে লাগাতে না চাইলে কোনো ক্লাউড সার্ভিসে(ড্রপবক্স, স্কাইড্রাইভ, গুগল ড্রাইভ ইত্যাদি) সংরক্ষণ করে রাখুন সব ফটো। কম্পিউটারের জায়গা বাঁচবে, ঠিকভাবে সাজিয়ে রাখলে কম তত্ক্ষণাত যেকোন ফটো বের করতে পারবেন।

প্রিন্ট করে সংরক্ষণ
ফটো প্রিন্টিং শিল্প এখন প্রায় ধ্বংসে পথে। কিন্তু একটু চিন্তা করলেই বুঝতে পারবেন, প্রিয় কোনো মুহূর্ত অন্যদের সাথে ভাগাভাগি করার জন্য ফেইসবুক কিংবা ফোন গ্যালারির চেয়ে প্রিন্ট ফটোর আলাদা আবেদন আছে। তাই সব ফটো সেভ না করে পছন্দের ফটোগুলো প্রিন্ট করে সংরক্ষণ করতে পারেন। প্রিন্ট করার সুবিধা হচ্ছে, নানারকম ফ্রেমে সাজিয়ে আপনার ঘরের দেয়ালে লাগাতে পারেন।

এক ক্লিকে শেয়ার
ফেইসবুক ছাড়াও ফটো সম্পর্কিত বিভিন্ন সোশ্যাল সাইটের অভাব নেই এখন। যারা একাধিক সাইট ব্যবহার করেন, প্রতিটি সাইটে আলাদাভাবে ফটো আপলোড করা বেশ কষ্টদায়ক ব্যাপার তাদের জন্য। এজন্য ব্যবহার করতে পারেন এভরিপোস্ট, কুইকসোশ্যাল, মাল্টিপোস্টের মতো কিছু অ্যাপ।

আপনার বিভিন্ন সাইটে এটি একসাথে লগিন করে এক ক্লিকে ফটো শেয়ার করে দেবে। আইওএস, অ্যান্ড্রয়েড বা উইন্ডোজ ফোন—সব প্ল্যাটফর্মেই এ ধরনের বেশ কিছু অ্যাপ রয়েছে।

ফটো হার্ড ড্রাইভ
প্রতিদিন ছবি তুলতে তুলতে এক সময় দেখবেন হার্ডডিস্ক পূর্ণ হয়ে গেছে। আবার ছবির সংখ্যা এত বেশি যে কিছুতেই ঠিকভাবে গোছানো যাচ্ছে না। তখনও শুধু ফটো সংরক্ষণের জন্য একটি হার্ডডিস্ক দরকার হতে পারে। এগুলো ফটো সেভ করে রাখার পাশাপাশি ডিসপ্লেও করতে পারে। সিগেট ওয়্যারলেস প্লাস হার্ড ড্রাইভ, এলজি পকেট ফটো প্রিন্টার এমনই কিছু ডিভাইস।

Related posts

*

*

Top