ভয়ংকর পাঁচ ভাইরাস!

শাহরিয়ার হৃদয়, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বিশ্বের প্রথম কম্পিউটার ভাইরাসটি তৈরি হয়েছিল আজ থেকে ২৫ বছর আগে। মরিস ওয়ার্ম নামে সেই ভাইরাস প্রায় ৬ হাজার কম্পিউটারকে আক্রমণ করেছেন।

কে জানতো, তখন কেবল শুরু! এরপর শুরু হয়েছিল একপ্রকার ‘ভাইরাস যুগ’। হ্যাকাররা ভাইরাস ব্যবহার করত তথ্য চুরি করতে বা অন্যের কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণ করার জন্য। যদিও পরবর্তীতে অ্যান্টিভাইরাসের দাপটে এদের ক্ষতিকর প্রভাব অনেকটাই কমে আসে, তারপরও কিছু ভাইরাস কিন্তু অপূরণীয় ক্ষতি করে গিয়েছিল।

আর্থিক বিচারে হাজার কোটি ডলারের বেশি ক্ষতি করে অনেককে পথে বসিয়েছিল এসব ভাইরাস। অনেক নামকরা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধের উপক্রম হয়েছিল এগুলোর অত্যাচারে। জরুরি সেবাসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছিল এগুলো। এমনই পাঁচটি ভয়াবহতম ভাইরাসের কথা হয়ত অনেকেই ভুলে গেছেন। তাদের মনে করিয়ে দিতেই এ প্রতিবেদন।

virus_techshohor

স্ল্যামার

এটি মূলত একটি ইন্টারনেট ওয়ার্ম, যা বিভিন্ন হোস্ট সার্ভিসে ঢুকতে বাধা দিত ও ইন্টারনেটের গতি খুবই ধীর করে ফেলতো। ২০০৩ সালে ওয়ার্মটি ছড়ানো শুরু হলে প্রতি ৮.৫ সেকেন্ডে এর আকারে দ্বিগুণ হতে থাকে। অনেক খ্যাতনামা কোম্পানিকে ধরাশায়ী করেছিল এই ভাইরাস, যার মধ্যে অন্যতম ব্যাংক অফ আমেরিকার এটিএম সার্ভিস, ওয়াশিংটনের জরুরী সার্ভিস ৯১১, কন্টিনেন্টাল এয়ারলাইন্স, ওহিওর একটি পারমাণবিক কেন্দ্র ইত্যাদি। সব মিলিয়ে ২ লাখ কম্পিউটারে বিস্তার করে প্রায় ১২০ কোটি ডলারের ক্ষতি করেছিল এটি।

কোড রেড

উইন্ডোজ ২০০০ ও উইন্ডোজ এনটি চালিত কম্পিউটারগুলোর একটি দুর্বলতার সুযোগে এই ভাইরাসটি বিস্তার লাভ করে ২০০১ সালে। হোয়াইটহাউসের ওয়েবসাইটসহ বেশ কিছু সাইটকে অকেজো করে দেয় ভাইরাসটি। এর ছড়ানোর পদ্ধতিও বেশ বিচিত্র ছিল। একসঙ্গে ১০০টি আইপি অ্যড্রেস চেক করে তারপর উইন্ডোজ পিসি পেলেই ঢুকে পড়ত। প্রায় এক লাখ পিসিকে ক্ষতিকারী এ ভাইরাসটি বিশ্বেজুড়ে প্রায় ২৬০ কোটি ডলারের ক্ষতি করেছিল।

আই লাভ ইউ

মিষ্টি নামের ভাইরাসটির কাজ কিন্তু মিষ্টি ছিল না! এটি ছড়াতো ই-মেইলের মাধ্যমে। ইনবক্সে নিরীহ চেহারার ‘আই লাভ ইউ’ নামে একটি ই-মেইল আসতো, যেটি ওপেন করলেই কম্পিউটারে ঢুকে পড়ত ক্ষতিকর ম্যালওয়্যার। ইউজার ইমেজ ফাইলগুলো নষ্ট করার পাশাপাশি পাসওয়ার্ড চুরি করার জন্য এটি তৈরি করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, কোনো কম্পিউটারে ঢুকে পড়ার পর উইন্ডোজের অ্যাড্রেস বুক থেকে আরও ৫০ জনকে মেইল পাঠাতো এটি। ২০০০ সালে প্রায় ৫ লাখ পিসিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এটি, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ১৫০০ কোটি ডলার!

এসওবিজি.এফ

২০০৩ সালে ছড়িয়ে পড়া ট্রোজান গোত্রের এ ওয়ার্মটি কোনো কম্পিউটারে ঢুকে পড়ার পর নিজের ‘বংশবৃদ্ধি’ করতে পারত। এটিও কম্পিউটার আক্রমণ করত ই-মেইলের মাধ্যমে। এরপর মুহূর্তের মধ্যে অগণিত বাল্ক মেইলে চলে যেত ব্যবহারকারীর কন্ট্যাক্টে থাকা অন্য ই-মেইলগুলোতে। ওয়াশিংটন ডিসির কম্পিউটার ট্রাফিক পর্যন্ত বন্ধ করে দিয়েছিল এটি। ক্ষতি করেছিল বড় বড় অনেক কোম্পানির। প্রায় ২০ লাখ ইউজারের সর্বনাশ করে এটি। সব মিলিয়ে ক্ষতি হয় প্রায় ৩৭ হাজার কোটি ডলার।

মাইডুম

এ ওয়ার্মটি একটি ফরোয়ার্ড করা ই-মেইলের রূপে ছড়াত। এযাবতকালের অন্যতম ভয়াবহ ভাইরাস এটি। কম্পিউটারে ঢোকার পর ব্যবহারকারীর আউটলুক অ্যাড্রেস বুকে ঢুকে ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করতো এটি। পাশাপাশি অন্যদের ঠিকানাতেও নিজেকে ছড়িয়ে দিত। অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসটি প্রায় প্রায় ২০ লাখ পিসিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, ক্ষতি করে প্রায় ৩৮ হাজার কোটি ডলার।

–       ম্যাশেবল প্রতিবেদন থেকে

ট্যাগ

Related posts

*

*

Top