ওয়েবসাইট তৈরির শীর্ষ সাত ওপেন সোর্স সিএমএস

তুহিন মাহমুদ, টেক শহর স্টাফ কনটেন্ট কাউন্সিলর : ওয়েবসাইট তৈরির জন্য সবচেয়ে সহজ উপায় হলো কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিএমএস) ব্যবহার করা। সিএমএস ব্যবহারে খুব বেশি কোডিং জ্ঞান থাকার প্রয়োজন হয় না বলে বিশ্বব্যাপি সিএমএস ব্যবহার দ্রুতগতিতে বাড়ছে। বর্তমানে হাজারো সিএমএস রয়েছে। তবে ব্যবহার ও প্রয়োজনের দিক থেকে জনপ্রিয় অল্প কয়েকটি সিএমএস। এক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে ওপেন সোর্স সিএমএসগুলো। তেমনি জনপ্রিয় সাতটি ওপেন সোর্স সিএমএস নিয়ে এই লেখাটি।

ওয়ার্ডপ্রেস
বর্তমানে ব্যবহৃত সিএমএস এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হলো ওয়ার্ডপ্রেস। এটি পিএইচপি ও মাইএসকিউএল এর সমন্বয়ে তৈরি। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ি, বিশ্বব্যাপি সিএমএস ব্যবহার করে নতুন যেসব ওয়েবসাইট তৈরির হচ্ছে তার প্রায় ৬০ শতাংশ ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করছে। আর বিশ্বব্যাপি যে পরিমান ওয়েবসাইট রয়েছে তার ১৮.১ শতাংশই তৈরি ওয়ার্ডপ্রেসে। ছোট এবং মাঝারি ব্যবসা থেকে শুরু করে বড় বড় কর্পোরেট এবং বহুজাতিক কোম্পানিগুলোও এখন ওয়ার্ডপ্রেস সিএমএস দিয়ে নিজেদের ওয়েবসাইট তৈরি করছে। মজিলা, ইয়াহু, নিউ ইয়র্ক টাইমস, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, ফোর্ড, সিএনএন, নাসা, টাইম ম্যাগাজিন, টেকক্রাঞ্চ, ন্যাশনাল জিওগ্রাফিসহ বিশ্বের টপ মিলিয়ন ওয়েবসাইটের প্রায় ২০ শতাংশ ওয়ার্ডপ্রেসে তৈরি। তাই ওয়ার্ডপ্রেসকে সময়ের সেরা সিএমএস বলে অভিহিত করা হয়।

wordpress-logo_ Tech Shohor

ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করে খুব সহজেই কর্পোরেট, ব্লগ, পার্সোনাল, অনলাইন নিউজপেপার ইত্যাদি যেকোন প্রকারের সাইট তৈরি করা যায়। এমনকি কোডিং জ্ঞান ছাড়াই ওয়ার্ডপ্রেস থিম দিয়ে যে কেউ একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন। এক্ষেত্রে সময়ও লাগে কম। ওয়ার্ডপ্রেসের থিম ডিরেক্টরিতে থাকা হাজার হাজার থিম থেকে পছন্দেরটি বেছে নিয়ে যেমন একটি ওয়েবসাইট তৈরি করা যায় তেমনি যেকোন থিমকে ইচ্ছামত ডিজাইনও করে নেয়া সম্ভব। করে নেয়া যায় যেকোন ফিচার কাস্টোমাইজেশনও। রয়েছে প্রয়োজনীয় লাখো প্লাগ-ইন।

সহজ ইউজার ইন্টারফেস, ঝামেলামুক্ত কনফিগারেশন ও সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বান্ধব হওয়ায় প্রতিনিয়ত এর চাহিদা বেড়েই চলেছে। ওয়ার্ডপ্রেস থিম হচ্ছে অনেকগুলো ফাইলের সমষ্টি যা দ্বারা একটি ওয়েবসাইটের বাহ্যিক ডিজাইনের পাশাপাশি ওয়ার্ডপ্রেসের মূল ফাইলগুলো পরিবর্তন না করেই ব্যাকএন্ডের ফাংশনালিটি যোগ করা হয়, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারী খুব সহজেই ওয়েবসাইটের কাঙ্খিত পরিবর্তন করতে পারেন। ওয়ার্ডপ্রেস থিম ডিজাইনের জন্য প্রয়োজন হয় এইচটিএমএল, সিএসএস, জাভাস্ক্রিপ্ট, জেকুয়েরি ইত্যাদি। আর ফাংশনালিটি যোগ করার জন্য প্রয়োজন হয় পিএইচপি প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ এবং সাথে জানতে হয় ওয়ার্ডপ্রেসের নিজস্ব গঠনতন্ত্র। আপনি যত ভাল ডিজাইন জানবেন আপনার থিমটি তত সুন্দর হবে এবং আপনি যত ভাল পিএইচপি এবং ওয়ার্ডপ্রেস থিমের গঠনতন্ত্র জানবেন আপনি তত বেশি থিম অপশন যোগ করতে পারবেন। সম্প্রতি ওয়ার্ডপ্রেসের ৩.৭.১ সংস্করণটি উন্মুক্ত করা হয়েছে। জনপ্রিয় এই সিএমএসটি http://wordpress.org/download/ লিংক থেকে বিনামুল্যে ডাউনলোড ও ব্যবহার করা যাবে।

জুমলা
কোনো রকমের প্রোগ্রামিং এবং টেকনিক্যাল জ্ঞান ছাড়াই একটি পূর্ণাঙ্গ ওয়েবসাইট তৈরির আরেকটি জনপ্রিয় সিএমএস হলো জুমলা। এটি মডেল ভিউ কন্ট্রোলার ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ফ্রেমওয়ার্কের মাধ্যমে তৈরি যা স্বাধীনভাবে ব্যবহার করা যায়। জুমলার অসংখ্য বৈশিষ্ট্যের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে এর সহজ ব্যবহারযোগ্যতা এবং এটি দিয়ে যেকোনো ধরনের ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়। তাইতো ই-কমার্স ওয়েবসাইট থেকে শুরু করে অনলাইন ম্যাগাজিন, সংবাদপত্র, সরকারি/বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট, ছোট-বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ওয়েবসাইট তৈরি হচ্ছে জুমলা দিয়ে। ওয়ার্ডপ্রেসের মতোই জুমলা তৈরি হয়েছে পিএইচপি, মাইএসকিউএল, এমএসএসকিউএল, অবজেক্ট অরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং (ওওপি) এর সমন্বয়ে।

joomla_logo_ Tech Shohor

২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট উন্মুক্ত করা এই সিএমএসটি গত জুলাই পর্যন্ত বিশ্বব্যাপি ৩৫ মিলিয়নের অধিকবার ডাউনলোড হয়েছে। যদিও জুমলাকে সাধারণভাবে কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বলা হয়, তবে জুমলার ব্যবহার শুধু তথ্য ব্যবস্থাপনার ওপরই সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন এক্সটেনশন যোগ করে এটিকে যেকোনো ধরনের ওয়েবসাইটে রূপান্তর করা যায়। এক্সটেনশন হচ্ছে অতিরিক্ত প্রোগ্রাম যা জুমলাকে নতুন নতুন বৈশিষ্ট্য প্রদান করে। জুমলার অফিসিয়াল এক্সটেনশন ডিরেক্টরিতে ৬ হাজারের অধিক বিনামুল্যের এক্সটেনশন রয়েছে। এই এক্সটেনশনগুলো জুমলার ব্যবহারকারীরাই তৈরি করে থাকে, যা extensions.joomla.org সাইট থেকে বিনামূল্যে ডাউনলোড করা যায়। জুমলাতে একটি নতুন এক্সটেনশন যুক্ত করা খুবই সহজ, অনেকটা কোনো অপারেটিং সিস্টেমে একটি সফটওয়্যার ইনস্টল করার মতোই। এক্সটেনশনের জিপ ফাইলকে অ্যাডমিনিস্ট্রেশন প্যানেল থেকে আপলোড করে দিলেই হবে। জনপ্রিয় এই সিএমএসটি পাঁচ ধরনের এক্সটেনশন সাপোর্ট করে। এগুলো হলো- কম্পোনেন্ট, মডিউল, প্লাগইন, টেমপ্লেট এবং ল্যাঙ্গুয়েজ। বর্তমানে সিএমএসটির ৩.১ সংস্করণ রয়েছে। ওপেন সোর্স এই সফটওয়্যারটি http://www.joomla.org/download.html ওয়েবসাইট থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ডাউনলোড ও ব্যবহার করা যায়।

দ্রুপাল
দ্রুপাল ওপেন সোর্সভিত্তিক অপর একটি জনপ্রিয় কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিএমএস)। ২০০১ সালের ১৫ জানুয়ারি সর্বপ্রথম দ্রুপাল সিএমএস উন্মুক্ত করা হয়। ক্রমেই দ্রুপাল এর চাহিদা বেড়েই চলছে। বর্তমানে বিশ্বের মোট ওয়েবসাইটের প্রায় ২.১ শতাংশ দ্রুপালে তৈরি। এর মধ্যে ব্যক্তিগত ব্লগ থেকে শুরু করে কর্পোরেট, রাজনৈতিক, যুক্তরাজ্যের হোয়াইট হাইজ ও তথ্য ব্যবস্থাপনার সাইটের মতো বিশ্বব্যাপি বিভিন্ন সরকারি ওয়েবসাইট রয়েছে। নলেজ ম্যানেজমেন্ট ও বিজনের কোলাবোরেশনের জন্যও দ্রুপাল ব্যবহার করা হয়। জুমলার মত দ্রুপালেরও ডেভেলপার একক কোন ব্যক্তি নয়। দ্রুপাল প্রায় সাত লাখ ব্যবহারকারী এবং ডেভেলপারদের রক্ষনাবেক্ষনে তৈরি। সিএমএসটি পিএইচপি’র সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে। দ্রুপালের স্ট্যান্ডার্ড সংস্করণটি দ্রুপাল কোর নামেও পরিচিত।

drupal_branding_Tech Shohor

২০০৬ থেকে ২০০৯ এ ওপেনসোর্স সিএমএস অ্যাওয়ার্ড-এ প্রথম এবং ২০১০ এ দ্বিতীয় অবস্থান অর্জন করে এটি। অনলাইন সার্ভারে দ্রুপাল ইনস্টল করে ডায়নামিক ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়। এ কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে পরিসংখ্যান ও লগইন, উন্নতমানের সার্চ, ব্লগ, ফোরাম ও পোল তৈরি করা যায়। এর বিল্ট-ইন এডিটর নেই। তবে প্রয়োজনে তথ্য, ছবি, ভিডিও যোগ করার জন্য অনেক এক্সটেনশন রয়েছে। এক্সটেনশনগুলো ইন্সটল করে প্রয়োজনীয় ফিচার যোগ করা যায়। সাধারণ কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের প্রায় সব মৌলিক বৈশিষ্ট্যই যেমন ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট নিবন্ধন এবং রক্ষণাবেক্ষণ, মেনু ব্যবস্থাপনা, আরএসএস ফিড, সিস্টেম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন রয়েছে এই সিএমএসটিতে। গত আগস্টে দ্রুপালের কমিউনিটি কন্ট্রিবিউটেড অ্যাডঅন ২২ হাজারের অধিক ছাড়িয়ে গেছে, যা কন্ট্রিবিউটেড মডিউলস নামে পরিচিত। এর প্লাগইন এক্সটেনসিবিলিটির ও মডুলার নকশার জন্য একে কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক হিসেবেও বর্ণনা করা হয়। ডেভেলপারদের জন্য রয়েছে দ্রুপালের অত্যাধুনিক প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস এবং এর ইন্টারেশন ও ম্যানেজমেন্টের জন্য কোনো প্রোগ্রামিং জ্ঞান না থাকলেও চলে। পিএইচপি ও ডাটাবেজ সমর্থিত ওয়েবসার্ভারে এটি চালানো যায়। গত আগস্টে দ্রুপালের ৭.২৩ সংস্করণ উন্মুক্ত করা হয়। https://drupal.org সাইট থেকে সিএমএসটি বিনামুল্যে ডাউনলোড ও ব্যবহার করা যাবে।

ম্যাজেন্টো
ম্যাজেন্টো হলো ওপেন সোর্স ভিত্তিক ই-কমার্স ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন যা ২০০৮ সালের ৩১ মার্চ উন্মুক্ত করা হয়। এটি জেন্ড ফ্রেমওয়ার্কের মাধ্যমে তৈরি। ওপেন সোর্স কমিউনিটির প্রোগ্রামারদের সহায়তায় ভ্যারিয়েন (বর্তমানে ম্যাজেন্টো ইনকর্পোরেট) এই সিএমএসটি ডেভেলপ করেছে। সবধরনের ফিচারযুক্ত একটি পূর্ণাঙ্গ ই-কমার্স সাইট তৈরি করতে কয়েক মাসের পরিবর্তে মাত্র কয়েক দিনেই তৈরি করা যায়। এটি পিএইচপি ও মাইএসকিউএল দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। ইদানিংকালে বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে খোঁজ নিলে দেখা যাবে বেশিরভাগ ই-কমার্স সাইট তৈরি হচ্ছে ম্যাজেন্টো নির্ভর। একটি আধুনিক ওয়েবসাইটে প্রোডাক্ট ব্রাউজিং করার জন্য যে সকল ফিচার থাকে তার প্রায় সবকটিই রয়েছে ম্যাজেন্টোতে। পণ্যের একাধিক ছবি যুক্ত করা ও জুম করে দেখার পাশাপাশি প্রোডাক্ট রিভিউ, রিলেটেড প্রোডাক্ট, পণ্যের তথ্য ইমেইল করে বন্ধুকে জানানোর সুবিধা ইত্যাদি রয়েছে। রয়েছে পণ্যের ক্যাটালগ ব্যবস্থাপনার শক্তিশালী ব্যবস্থা। রয়েছে মিডিয়া ম্যানেজার যা দিয়ে পণ্যের ছবির আকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তন এবং তাতে জলছাপ দেয়া যায়।

magento_logo_ Tech Shohor

একটি অনলাইন স্টোর দক্ষভাবে পরিচালনা করার জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা ম্যাজেন্টোতে রয়েছে। একই অ্যাডমিনিস্ট্রেশন প্যানেল থেকে একাধিক স্টোরকে পরিচালনা করা যায়। ম্যাজেন্টোর নতুন ভার্সন প্রকাশ হওয়া মাত্রই তা একটা ক্লিকের মাধ্যমেই আপগ্রেড করা যায়। সাইটের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য এর সাথে বিভিন্ন ধরনের রিপোর্ট দেখার ব্যবস্থা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ঠ্য হচ্ছে সেলস রিপোর্ট, ট্যাক্স রিপোর্ট, সর্বাধিক বিক্রি হওয়া পণ্যের রিপোর্ট, স্টক রিপোর্ট, কুপন রিপোর্ট ইত্যাদি। ম্যাজেন্টোর সাথে গুগল অ্যানালাইটিকস যুক্ত আছে ফলে সাইটে আসা ব্যবহারকারীদের সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জানা যায়। ম্যাজেন্টোর সাথে পেপাল, অ্যামাজন পেমেন্ট, গুগল চেকআউট, অথরাইজ.নেট এর মত প্রায় সকল বড় বড় পেমেন্ট গেটওয়ে যুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি ক্রেডিট কার্ড, চেক এবং মানি অর্ডারেরও ব্যবস্থা রয়েছে। শিপিং বা পণ্য ক্রেতার কাছে পৌছে দেবার জন্য প্রায় সকল আন্তর্জাতিক পদ্ধতি এতে যুক্ত রয়েছে। যেগুলো দিয়ে রিয়েলটাইমে শিপিং এর মূল্য জানা যায়। রয়েছে অর্ডার ট্রেকিং, একই অর্ডারে একাধিক শিপিং যুক্ত করা, প্রতি অর্ডারে ফ্লাট শিপিং রেট, ফ্রি শিপিং, পণ্যের ওজন বা পণ্যের সংখ্যার উপর ভিত্তি করে আলাদা আলাদা রেটের ব্যবস্থা ইত্যাদি নানাবিধ সুবিধা। এছাড়া ম্যাজেন্টো দিয়ে খুব সহজেই এম-কমার্স বা মোবাইল কমার্স চালু করা যায়। অর্থাৎ মোবাইল ফোনে ওয়েবসাইটটিতে ব্রাউজ করলে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে মোবাইল ফোনকে চিনতে পারে এবং সে অনুযায়ী সাইটের লেআউটকে মোবাইলের জন্য উপযুক্ত করে তোলে। বাড়তি ফিচার ও ফাংশনের জন্য রয়েছে ম্যাজেন্টো কানেক্ট, যেখান থেকে বিভিন্ন এক্সটেনশন ইনস্টল করা যায়। ম্যাজেন্টোর ফ্রি বা কমিউনিটি ভার্সনের পাশাপাশি প্রফেশনাল ও এন্টারপ্রাইজ নামক আরো দুটি সংস্করণ রয়েছে। তবে সেক্ষেত্রে বার্ষিক ফি দিয়ে ব্যবহার করতে হয়। লেনোভো, থ্রিএম, স্যামসাংয়ের মতো বিশ্বের অনেক স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ম্যাজেন্টো ব্যবহার করে। সিএমএসটি http://www.magentocommerce.com/download লিংক থেকে ডাউনলোড করা যাবে।

ওপেনকার্ট
ম্যাজেন্টোর মতোই আর একটি শক্তিশালী ওপেন সোর্স শপিং কার্ট সিস্টেম হলো ওপেনকার্ট। যারা ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করেন তাদের কাছে এটি একটি অতি পরিচিত নাম। ওপেনকার্টের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরণের সমৃদ্ধশালী সুবিধা এবং ব্যবহারবান্ধব ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়। এটাতে এমন অনেক মডিউল রয়েছে যার মাধ্যমে ওয়েবসাইটের বিভিন্ন সেকশনে বিভিন্ন ধরণের লেখা এবং ছবি সংযুক্ত করার সুযোগ করে দেয়। এতে ডিসকাউন্ট কুপন সিস্টেম, গিফট সার্টিফিকেট, পণ্য রেটিং সুবিধা, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন, গেস্ট ভিজিটরদেরকে পণ্য প্রদর্শন সুবিধা, ইমেজ ম্যানেজমেন্ট, মাল্টিপল কারেন্সি ও ট্যাক্স রেট সাপোর্ট, অসংখ্য ক্যাটাগরি এবং পণ্য তালিকা সংযুক্ত করা, পেমেন্ট সিস্টেমসহ বিভিন্ন ফিচার যুক্ত করার সুবিধা রয়েছে।

Opencart cms logo_ Tech Shohor

আপনি যদি এমন একটি শপিং কার্ট চান যা আপনাকে শুধুমাত্র কিছু পণ্য আপলোড করা, সেখানে পেপ্যাল বা অন্য মাধ্যমের বিস্তারিত যোগ করা এবং ওপেন শপ বানানোর সুযোগ করে দিবে তবে ওপেনকার্টই হতে পারে আপনার অন্যতম পছন্দ। এটাতে রয়েছে কিছু আকর্ষনীয় টেমপ্লেট যা আকর্ষনীয় একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরিতে সহায়তা করবে। বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে হাজারো ওপেনকার্ট থিম রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ফিচার যুক্ত করার জন্য অসংখ্য ফ্রি ও প্রিমিয়াম মডিউল রয়েছে। ওপেনসোর্স হওয়ার কারণে এটাকে যেকোনো ল্যাঙ্গুয়েজে ইচ্ছামতো ব্যবহার করা যায়। ১৯৯৯ সালে সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা এই প্লার্টফর্মটি মাঝামাঝি সময়ে অনেকটা বন্ধপ্রায় হয়ে গেলেও বর্তমানে এর জনপ্রিয়তা অত্যাধিক। পিএইচপি, মাইএসকিউএল ও গুগল কোডের মাধ্যমে তৈরি ওপেনকার্টের বর্তমানে ১.৫.৬ সংস্করণ রয়েছে। http://www.opencart.com সাইট থেকে এটি বিনামুল্যে ডাউনলোড ও ব্যবহার করা যাবে।

প্লোন
জোপ কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট ফ্রেমওয়ার্কের (পাইথন কোডে তৈরি করা ফ্রেমওয়ার্ক) উপর ভিত্তি করে তৈরি হওয়া প্লোন একটি বিনামুল্যের জনপ্রিয় ওপেনসোর্স সিএমএস। সব ধরণের ওয়েবসাইট যেমন ব্লগ, ইন্টারনেট সাইট, ওয়েবশপ এবং ইন্টারন্যাল ওয়েবসাইট তৈরিতে এটি ব্যবহৃত হয়। ডকুমেন্ট পাবলিশিং সিস্টেম ও গ্রুপওয়্যার কোলাবোরেশন টুল হিসেবেও এটি জনপ্রিয়। এফবিআই, নকিয়া, নাসা সায়েন্স, অ্যামেনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, ডিসকাভার ম্যাগাজিন, ব্রাজিল সরকার, জাতিসংঘ, সিটি অব বার্ন (সুইজারল্যান্ড), নিউ সাউথ ওয়েলস গর্ভমেন্ট, ইউরোপিয়ান এনভায়রনমেন্ট এজেন্সিসহ বিশ্বের অনেক স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান প্লোন সিএমএস ব্যবহার করে। সিএমএসটি মূলত পাইথনে (৫৫ শতাংশ) তৈরি হলেও এতে অন্যান্য ল্যাঙ্গুয়েজও রয়েছে। এতে ৩২ শতাংশ জেকোয়ারি জাভাস্কিপ্ট ফ্রেমওয়ার্ক, ১১ শতাংশ এক্সএমএল এবং ২ শতাংশ সিএসএস, এক্সএসএলটিসহ অন্যান্য ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করা হয়েছে।

plone-logo-Tech Shohor

সিএমএসটি উইন্ডোজ, ম্যাক ওএসএক্স, লিনাক্সসহ অন্যান্য অপারেটিং সিস্টেমে ইনস্টল করেও ব্যবহার করা যায়। বর্তমানে এটি ৪০টি ভাষায় পাওয়া যাচ্ছে। যখন প্লোনে কাজ করা হয় তখন টেমপ্লেট ব্যবহার করে ওয়েবসাইটের আউটলুক পরিবর্তন করা যায়, এই টেমপ্লেটগুলো সিএসএস এ তৈরি। পাশাপাশি প্লোনে রয়েছে প্লাগেবল অথেনটিকেশন সার্ভিস নামে ইউজার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম যার মাধ্যমে একাধিক ব্যবহারকারীকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। সবথেকে বড় বিষয় হলো, এই ফিচারটি ব্যবহারকারীর নিরাপত্তার বিষয়টি জোরদার করে। বিশ্বব্যাপি ৩৪০ কোর ডেভেলপার, ফাউন্ডেশন মেম্বার ও প্লোন কমিউনিটির অসংখ্য ডেভেলপারের মাধ্যমে সিএমএসটির উন্নয়ন সাধন করা হয় এবং সেটি প্লোন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ব্যবহাকারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এছাড়া বাড়তি ফিচারের জন্য রয়েছে অ্যাডঅন। প্লোন ব্যবহারে বিভিন্ন সুবিধা অসুবিধার জন্য বিশ্বব্যাপি ১১৩ টি দেশে ৩৬০টি সার্ভিস প্রোভাইডার রয়েছে। জুমলা, ওয়ার্ডপ্রেস, দ্রুপালের তুলনায় এই সিএমএসটির কারিগরি ত্রুটি নেই বললেই চলে। এর বিশেষ বৈশিষ্ঠ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে- পিএইচপি৫, ক্যাচিং হেডার ম্যানেজমেন্ট, ওয়ান-ক্লিক থিম আপলোড, ইনলাইন এডিটিং, কোলাবোরেশন অ্যান্ড শেয়ারিং, ওয়ার্কফ্লো ক্যাপাবিলিটি, ডায়নামিক নেভিগেশন, ডায়নামিক সাইটম্যাপ, ভিডিও সাপোর্ট, ফটো গ্যালারি, ফিল্ড লেভেল সিকিউরিটি, লাইভ সার্চ, প্রক্সি ইন্টিগ্রেশন ইত্যাদি। বিশ্বব্যাটি মোট ওপেনসোর্স প্রজেক্টের ২ শতাংশ জুড়ে রয়েছে প্লোন। প্লোন ফাইন্ডেশনের এই সিএমএসটি http://plone.org ওয়েবসাইট থেকে বিনামুল্যে ডাউনলোড করে ব্যবহার করা যাবে।

প্রেস্তাশপ
২০০৭ সালের আগস্টে যাত্রা শুরু হওয়া প্রেস্তাশপ নামের ওপেনসোর্স ই-কমার্স সিএমএসটি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করে নিয়েছে। ২০১১ সালে সেরা ওপেন সোর্স বিজনেস অ্যাপ্লিকেশন পুরস্কার পায় প্রেস্তাশপ। বর্তমানে প্রেস্তাশপ দিয়ে তৈরি করা অনলাইন শপের সংখ্যা প্রায় দেড় লাখ। এ পর্যন্ত সিএমএসটি ২৯ লাখের অধিকবার ডাউনলোড হয়েছে। বিপণনকারীদের সম্পৃক্ত করা ও অনলাইনে পণ্য বিক্রি বাড়ানোর মাধ্যমে এই অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে বলে মনে করেন প্রেস্তাশপ সংশ্লিষ্ঠরা। আর এর ডেভেলপমেন্টের কাজ করছে ৭০ জন ডেডিকেটেড ও ৫ লাখের অধিক কমিউনিটি মেম্বার। ওপেনসোর্স হওয়ায় বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে বসে আগ্রহী যে কেউ এর ডেভেলপমেন্টে সহায়তা করতে পারে। প্রেস্তাশপের প্রধান বৈশিষ্ট হচ্ছে এর আকর্ষনীয় ডিজাইন। এতে গুগল চেক আউট, অথরাইজ ডটনেট, স্ক্রিলম পেপাল এবং পেপাল পেমেন্ট প্রোর এর মতো একাধিক পেমেন্ট গেটওয়ে সমর্থণ করে প্রেস্তাশপ। সিএমএসটি স্মার্টি টেমপ্লেট ইঞ্জিন এর উপর ভিত্তি করে পিএইচপি কোডের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। এবং মাইএসকিউএল এটির ডিফল্ট ডাটাবেজ ইঞ্জিন।

prestashop-logo-TechShohor

প্যারিসে প্রথমে প্রেস্তাশপ গ্রুপ প্রতিষ্ঠিত হয়, বর্তমাসে মিয়ামিতে এর দ্বিতীয় কার্যালয় রয়েছে। জনপ্রিয় এই সিএমএসটি বিশ্বের ৫৬ টি ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে। এসব ভাষায় প্রেস্তাশপ ব্যবহার করা যায়। তবে প্রত্যেকটি সংস্করণেই পূর্ণাঙ্গভাবে ইংরেজি ও ফ্রেঞ্চ ভাষা রয়েছে। অ্যাডমিন প্যানেলে অত্যাধিকভাবে অ্যাজাক্সের ব্যবহার করা হয়েছে, যেখাবে মডিউল ব্লকের মাধ্যমে বাড়তি ফিচার যুক্ত করা যায়। আর এসব মডিউল সাধারণত বিনামুল্যেই পাওয়া যায়। প্রেস্তাশপ অ্যাডঅনস নামে একটি অনলাইন মার্কেটপ্লেসও রয়েছে, যেখানে প্রিমিয়াম মডিউল ও থিম পাওয়া যায়। প্রেস্তাশপে ডিফল্টভাবে ৩১০ এর অধিক ফিচার রয়েছে বর্তমানে। অন-ক্লিক আপডেটের মাধ্যমে অ্যাট্রিবিউট সেট, প্রোডাক্ট শর্টলিস্ট, বাল্ক ডিসকাউন্টসহ বিভিন্ন ফিচার যুক্ত করা যায়। মাইক্রোসফট এক্সেল ফাইল আপলোডের মাধ্যমে ওয়েবসাইটে বিভিন্ন পণ্য ও তার তথ্য যুক্ত করা যায়। এছাড়া নতুন সেলস চ্যানেল তৈরির মাধ্যমে ওয়েবসাইটের পণ্য অন্য অনলাইন মার্কেটপ্লেস যেমন ইবে, অ্যামাজন, গুগল শপিংসহ বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে যুক্ত করা যায়। সার্চ ইঞ্জিনে র্যাং কিং করানোর জন্যও রয়েছে প্রয়োজনীয় সুবিধা। আরেকটি জনপ্রিয় সুবিধা হলো এই সিএমএসটির মাধ্যমে ডাউনলোডযোগ্য পণ্য যেমন সফটওয়্যার, মিউজিক, ছবি, মুভি, টিভি শো ওয়েবসাইটে সাজানো ও বিক্রি করা যায়। একাধিক পণ্যের তুলনা করার সুযোগও রয়েছে। www.prestashop.com/en/download লিংক থেকে প্রেস্তাশপ ডাউনলোড ও ব্যবহার করা যাবে সম্পূর্ণ বিনামুল্যে।

আরো কিছু ওপেন সোর্স সিএমএস
বর্তমানে হাজারের অধিক সিএমএস রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ওপেন সোর্সের সংখ্যা কম নয়। এই সিএমএসগুলো বিনামুল্যে ডাউনলোড করে ব্যবহার করা যায়। ওপেন সোর্স কমার্স বা ওএসকমার্স অন্যতম শীর্ষ অনলাইন ষ্টোর ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার। বর্তমানে অনলাইনে প্রায় ২,৬৫,৪০০ এরও বেশি অনলাইন শপ রয়েছে যেগুলো ওএসকমার্স দিয়ে বানানো। এছাড়া প্রায় সাত হাজারেরও অধিক প্লাগইন রয়েছে ওএসকমার্সের ভান্ডারে, যার সবগুলোই বিনামুল্যে ব্যবহার করা যাবে। একইভাবে ওপেন সোর্স ষ্টোর ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মধ্যে অনেকেরই পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে জেন-কার্ট সিএমএস। ওএসকমার্সের এর একটি পৃথক প্রকল্প হিসেবে ২০০৩ সালে জেন-কার্টের যাত্রা শুরু হয়। এছাড়া আরো কিছু জনপ্রিয় ওপেন সোর্স সিএমএস হলো- টাইপোথ্রি, পিএইচপি নিউক, পিএইচপি ওয়েবলগ, ডটসিএমএস, নিউক ভিয়েত, ওয়েব জিইউআই, ম্যামবো, বিটুইভোলিউশন ইত্যাদি।

Related posts

টি মতামত

*

*

Top