এবিএম মূসার জন্য ফেইসবুকে শোকগাঁথা

আল আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : শুভাকাংখীর অকৃত্রিম প্রার্থনায় দূরারোগ্য ব্যাধি মাইলোডিসপ্লাস্টিক সিনড্রোমকে দমিয়ে রাখছিলেন বারবার। কয়েকবার লাইফ সাপোর্টে গিয়েও ফিরে আসছিলেন। কোন এক অভিমানে এবার বোধহয় মনস্থির করেছিলেন চলে যাবেন। অবশেষে চলেই গেলেন এবিএম মূসা।

বর্ষীয়ান, শ্রদ্ধেয়, গণমাধ্যম কর্মীদের অভিভাবক হিসেবে সর্বজনগ্রাহ্য এ সাংবাদিকের জন্য ফেইসবুকসহ সামাজিক মাধ্যমগুলো ও গণমাধ্যমের সর্বত্র গভীর শোক, শ্রদ্ধা ও স্মৃতির কথা ভেসে বেড়াচ্ছে দিনভর।

বুধবার বেলা একটা ১৫ মিনিটে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে বর্ষীয়ান এ সাংবাদিক, সাবেক আইন প্রণেতা মারা যান। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

abm musa_techshohor

গত সোমবার রাত আড়াইটা থেকে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস ব্যবস্থার মধ্যে ছিলেন তিনি। অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায়  বুধবার দুপুরে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসব্যবস্থা সরিয়ে নেয়া হয়।

মূসার শারীরিক অবস্থা কয়েকমাস ধরে অবনতিশীল ছিল। প্রায় আট মাস আগে তিনি মাইলোডিসপ্লাস্টিক সিনড্রোমে আক্রান্ত হন, যা প্রায় ক্যানসারের সমতুল্য। গত ২৯ মার্চ তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

কথা সাহিত্যিক ও সাংবাদিক আনিসুল হক ফেইসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, এবিএম মূসা ভাই। আজকে তাঁর মৃত্যুর খবর পড়ছি। মৃত্যুর খবর লিখছি। সাংবাদিক নিজেই খবর হয়ে গেলেন। একে একে দীপ নিভে যাচ্ছে। কিন্তু আমাদের চারপাশে যে অনেক অন্ধকার। হে আলোর পথের যাত্রী, আমাদেরকে আলো দিয়ে যাবেন আপনি, আরো বহু দিন…

দৈনিক সংবাদের সাহিত্য সম্পাদক ওবায়েদ আকাশ বলেছেন, প্রিয় অগ্রজ, বর্ষীয়ান সাংবাদিক এবিএম মূসা। আপনার জন্য শোক, গভীর শ্রদ্ধা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা মুহাম্মাদ আমানুল্লাহ হায়, মূসা ভাই স্মৃতি হয়ে হয়ে গেলেন। গভীর শোক, গভীর শ্রদ্ধা।

দৈনিক মানবকন্ঠের সাংবাদিক যে কোন বিবেচনায় তিনি আমাদের অভিভাবক। তাঁকে স্মরণ করছি গভীর শ্রদ্ধায়।

ব্যবসায়ী সুব্রত ঘোষ লিখেছেন,আরো এক নত্রের পতন। যেখানেই থাকবেন, অনেক ভালো থাকবেন মুসা ভাই।

দেশের প্রয়োজনে আপনাদের মত সোজা-সাপ্টা কথা বলার লোকের যে বড়ই অভাব …।

আমাদের সময়ের সাংবাদিক মিথুন মাহফুজ এবং লুৎফর রহমান খোকন স্টাটাসে লিখেছেন,কেউ কেউ আবেগ প্রবন হয়ে বলছে মুসা ভাই অসময়ে চলে গেলেন। মুসা ভাইয়ের চলে যাবার সময় তবে কখন ছিলো? আমার মনে হয় মুসা ভাই ঠিক সময়েই চলে গেছে। সাংবাদিকতার চূড়ান্ত অধপতন,দলীয়করন, গনমাধ্যমের স্বাধীনতা হরন, গনতন্ত্র ধ্বংসের সর্বশেষ দৃশ্য দেখার আগে তার চলে যাওয়া তার জন্য মঙ্গলজনক হয়েছে।

তারা লেখেন, মুসা ভাইয়ের আত্বার শান্তি কামনা করছি। মধ্যরাতের টিভি অনুস্ঠানে হয়তো আর কেউ সাহস করে সত্য কথা বলবে না। ‘হতেও পারে, নাও হতে পারে’ এমন সব আলোচকদের ভাঁড়ামিতে ভরপুর থাকবে মধ্যরাতের টকশো। মুসা ভাই ভালো সময়ে চলে গেছেন। যখন দেশ প্রেমের নামে দেশ র্ধষনের দৃশ্য তাকে দেখতে হবে না।

১৯৩১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ফেনীর ফুলগাজী থানার ধর্মপুরে সাংবাদিক এবিএম মূসা জন্মগ্রহণ করেন। ৬০ বছরেরও বেশি সময় সাংবাদিকতা করা এই সাংবাদিকদের কলামিস্ট ও রাজনৈতিক সমালোচক হিসেবেও অনেক সুনাম ছিল।

তিনি জাতীয় প্রেসকাবের প্রতিষ্ঠাতা ও আজীবন সদস্য ছিলেন। তিনি চারবার জাতীয় প্রেসকাবের সভাপতি ও তিনবার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন । স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচনে সাংসদও হয়েছিলেন তিনি।

দৈনিক ইনসাফ পত্রিকায় ১৯৫০ সালে তিনি সাংবাদিকতা শুরু করেন। এরপর ইংরেজি দৈনিক পাকিস্তান অবজারভারে যান।

১৯৭১ সাল পর্যন্ত তিনি পাকিস্তান অবজারভারে বার্তা সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধে বিবিসি, সানডে টাইমসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধমে  প্রতিবেদন করে ভুমিকা রাখেন। স্বাধীনতার পর তিনি বিটিভির মহাব্যবস্থাপক হন। এসময় তিনি মর্নিং নিউজ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

১৯৭৮ সালে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে জাতিসংঘের পরিবেশ কার্যক্রমের (এসকাপ) এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক পদে যোগ দেন মূসা। দেশে ফিরে ১৯৮১ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের (পিআইবি) মহাপরিচালক থাকেন।

১৯৮৫ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার মহাব্যবস্থাপক ও প্রধান সম্পাদক ছিলেন। ২০০৪ সালে তিনি কিছুদিন দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন। এরপর শেষ দশকে তিনি গণতন্ত্রের অধিকার ও গণমানুষের দাবী,অধিকার নিয়ে কথা বলে গেছেন।

Related posts

*

*

Top