ফেইসবুক পোস্টে ধর্মঘটের নিন্দা, ক্ষোভ

টেক শহর কনেটন্ট কাউন্সিলর : প্রাচীনকালে ছিল মগের মুল্লুক। এখন শাজাহানের…। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে পরিবহন ধর্মঘট ও বিভিন্ন স্থানে রাস্তা অবরোধের কারণে চলমান জনদুর্ভোগ নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে এমন কথা লিখেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রফিকুল ইসলাম।

দ্বিতীয় দিনের ধর্মঘটে পুরো দেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার করুণ চিত্রই সামনে আসছে। দলে দলে লোক হেঁটে গন্তব্যে যাচ্ছে। কিংবা যারা অটোরিক্সা বা  রিক্সো করে যাচ্ছেন তাদের গুণতে হচ্ছে কয়েকগুণ ভাড়া।

দ্বিতীয় দিনে ধর্মঘটে দুর্ভোগের এমন খণ্ডচিত্র ফেইসবুকে উঠে আসছে পোস্টে, ছবিতে। তাই শুধু রফিকুল ইসলাম নন, এমন অনেক ফেইসবুক ব্যবহারকারীই ধর্মঘট নিয়ে কথা বলেছেন। প্রশ্ন তুলেছেন ধর্মঘটের বিভিন্ন দিক নিয়ে।

bus-Esik-techshohor

গণমাধ্যমে সকালে অনেকেই খবরে দেখেছেন একজন মন্ত্রীর বাড়িতে বসে দেশে এমন পরিবহন ধর্মঘট ডাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেখানে ওই মন্ত্রীর প্রত্যক্ষ সমর্থন রয়েছে বলেও বলা হচ্ছে।

সেই খবর দেখার পর সেটি শেয়ার করে আহমেদ মাহফুজ নামের একজন লিখেছেন, সরকার দলীয় মন্ত্রীর বাসা থেকে যখন এমন সিদ্ধান্ত আসে তখন বোঝায় যায় জনগণ আসলে তাদের কাছে নস্যি। ওই মন্ত্রীল বিরুদ্ধে দলীয় বা সরকারি কোনো সিদ্ধান্ত (জনগণের জন্য ইতিবাচক) আশা করতে পারি কি?

ঢাকাসহ সারাদেশে কোনো পাবলিক পরিবহন চলেনি। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে এমন আন্দোলনে নামায় অনেকেই সামাজিক মাধ্যমটিতে প্রশ্ন  তুলছেন, যারা এখন গাড়ি রাস্তায় নামায়নি, তাদের গাড়ির লাইসেন্স বাতিলের ক্ষমতা কি রাষ্ট্রের আছে কিনা।

চৌধুরী আকবর হোসেন নামের একজন লিখেছেন, বাস মালিকরা রাস্তায় গাড়ি না নামালে লাইসেন্স বাতিলের ক্ষমতা কি রাষ্ট্রের নেই?

এই একই প্রশ্ন করে পোস্ট দিয়েছেন অনেকেই।

পরিবহন শ্রমিকরা দেশের ১৬ কোটি মানুষকে জিম্মি করায় এমন ভোগান্তি নিয়ে বদরুদ্দোজা মাহমুদ তুহিন লিখেছেন, মাত্র ২ জনের জন্য দেশের ১৬ কোটির অধিক মানুষ অবর্ণনীয় ভোগান্তির শিকার! আমরা কি সত্যিই পরিবহন শ্রমিক-মালিকদের কাছে অসহায়?

এমন ধর্মঘটের কলকাঠি নাাড়ায় নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানের দিকে ইঙ্গিত করে একজন লিখেছেন, এক ছিল পাকিস্তানি খান। এবার দেখছি বাংলাদেশি খান। কোন সে খান?

কাজী আনিস নামের এক ফেইসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ড্রাইভাররা শুধু গাড়িই চালায় না। দেশও চালায়।

আর দুপুর গড়াতেই ঘোষণা আসলো ধর্মঘট প্রত্যাহারের। আর সেই সঙ্গে পোস্টেও চলে আসছে ধর্মঘট প্রত্যাহারের খবর।

এর আগে ২০১৩ সালে মানিকগঞ্জে বাসচাপায় চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ, সাংবাদিক মিশুক মুনিরসহ পাঁচজন নিহত হন। ২২ ফেব্রুয়ারি সেই মামলার রায়ে আদালত ঘটনাটিকে ‘সড়ক দুর্ঘটনা’ বলেননি। আদালতের পরিভাষায় এটা হলো ‘কালপাবল হোমিসাইড নট অ্যামাউন্টিং টু মার্ডার।’ এর মানে হলো, ‘দণ্ডনীয় নরহত্যা, কিন্তু খুন নয়।’

রায়ের পর গতকাল মঙ্গলবার থেকে পরিবহণ শ্রমিকরা সারাদেশে ধর্মঘটের ডাক দেন।

Related posts

*

*

Top