ইউটিউবে টি-২০ থিম সং : প্রশংসার চেয়ে নিন্দাই বেশি

আল আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বাংলাদেশে মার্চে অনুষ্ঠিতব্য আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপের অফিশিয়াল ইভেন্ট সং চার ছক্কা হইহই সম্প্রতি ইউটিউবে ছাড়া হয়েছে।

দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ হবে তাই গানটি নিয়ে অনেকের আগ্রহ ছিল। এ কারণে গানটি রিলিজ হওয়ার পর থেকে অনেকেই দেখেছেন তা। রোববার ইউটিউবে ছাড়ার পর এখন পর্যন্ত হাজার হাজার বার দেখা হয়েছে।

গানটি নিয়ে ইউটিউব ও ফেইসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড়ও বয়ে গেছে। যেখানে থিম সংটির ভাগ্যে প্রশংসার চেয়ে নিন্দাই জুটে বেশি। অনেকেই এটিকে রুচিহীন তকমাও দিয়েছেন।

T 20 WC theme song_techshohor

চার ছক্কা হইহই, বল গড়াইয়া গেল কই শিরোনামের গানটির অডিও শনিবার থেকে ইউটিউবে ছাড়া হয়। আর পরদিন রোববার রিলিজ দেওয়া হয় মিউজিক ভিডিওটি।

রেফায়াত আহমেদ ও অনম বিশ্বাসের কথায় গানটিতে সুর করেছেন ফুয়াদ আল মুক্তাদির ও কৌশিক। সংগীতায়োজন করেছেন ফুয়াদ এবং মিউজিক ভিডিও বানিয়েছেন আশিকুর রহমান।

ইউটিউবে ভিডিও লিংকের শেষে শহিদ খান লিখেছেন বাংলাদেশের গান, অথচ বাংলাদেশের পতাকাই খুঁজে পেলাম না।

হালুম হালুম মন্তব্য করেছেন, মিউজিক ভিডিওটিকে যারা জনপ্রিয় বলে প্রচার করার চেষ্টা করেন তাদের রুচিবোধ নিয়ে প্রশ্ন জাগে। বিশ্বকাপের থিম সং মানুষ এমনিতেই আগ্রহ নিয়ে দেখে। সুতরাং ইউটিউবের ভিউ সংখ্যা এ গানকে জনপ্রিয় বানিয়ে দিতে পারে না। আমি নিজে এক মিনিট দেখার পর আর সহ্য করতে পারি নাই।

এত বড় একটা ইভেন্টের থিম সং এর দায়িত্ব অবশ্যই যোগ্য কাওকে দেয়া উচিত ছিল। নির্মাতারা সম্ভবত পাশ্চাত্য সংস্কৃতি অনুসরন করার চেষ্টা করেছেন। সেই কাজটাও তারা যদি ঠিকভাবে করতে পারতেন তাহলে অন্তত গানটা শোনা যেত। ঘোড়া আর গাধার মিলনে ঘোড়াও হয়না, গাধাও হয়না। যা হয় তার নাম খচ্চর।

রাশেদুল আলম লিখেছেন, তুমুল জনপ্রিয়!!! আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপের অফিশিয়াল ইভেন্ট সং না হলে গানটা কেউই ইচ্ছে করা গানটা শুনতে যেতো না। মানুষ গানটা ২বারের বেশি বোধ হয় ৩বার কেউ শুনবে না। ফুয়াদ এর কাছে কখনোই এতো বাজে গান আশা করার মতো না। ফুটবল বিশ্বকাপের থিম সং এর মিউজিক ভিডিও টা ফুয়াদের আগে দেখা উচিত ছিলো। যে গানে কনো ব্যাট- বলের সম্পর্ক দেখলাম না, সেটা নাকি আবার আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপ এর থিম সং !!!

রাশেদ ইমাম লিখেছেন, এটা জগাখিচুরি কী হয়েছে?

এ ডব্লিই হক বলেছেন, পান্থ কানাইয়ের ফেক ফেসিয়াল এক্সপ্রেশন দেখলে মনে হয়ে যেন তিনি গভীর দরদ দিয়ে উচ্চমার্গের কোন গান গাওয়ার অভিনয় করছেন! অন্যান্য শিল্পীদের অবস্থাও নাজুক। ইউটিউবে সর্বোচ্চ ভিউজ তো ৩৭০০০ + তাও এক তৃতীয়াংশ ডিস লাইক দেওয়া।

সাকলাইন লিখেছেন, বাংলাদেশের সংস্কৃতি বা ক্রিকেটের সাথে কোনো যোগসুত্র নাই, ১০০ % নরতন কুরদন – এই হয় টি-২০র গান! সেটা তুমুল জনপ্রিয়! কাউকে আজতক ভালো বলতে শুনলাম না – ফেসবুকে শুধুই নিন্দা।

মোহাম্মদ সিরাজুম মুনির বলেছেন, মিউজিক ভিডিওটা দেখে মনে হল যে আমাদের সত্যি শিক্ষা হয় নি। যেখানে গুন্ডে ছবি নিয়ে এত সমালোচনার ঝড়।সেখানে আমরা এরকম একটা মিউজিক ভিডিও কিভাবে বানাই? গানের ভিডিওর শুরু দেখেই মনে হয় এটা কোন আমেরিকান রক ব্যান্ডের গানের ভিডিও। শুধু তাই নয়,ভিডিও-র কোথাও ক্রিকেট ব্যাট-বল, মাঠ-পিচ, গ্যালারি নাই। গানের সাথে মিউজিক ভিডিওটা মানানসই হয়নি।

ইউটিউবের একটি লিংকে রুবায়েত মন্ত্রব্য করেছেন, গানটিতে আমাদের সংস্কৃতিকে একদমই রিপ্রেজেন্ট করা হয়নি। ভাল কিছু করা যেত এত বড় একটি আয়োজন নিয়ে।

সুধীর লিখেছেন, ভাল কাজ হয়নি। এভাবে জগাখিচুরী না করলেই হতো। ক্রিকেটের কোনো উপকরণ নেই।

*

*

Top